আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে কি বিছানার গদি, খাবারের পাত্র কিংবা কাটলারিতে রূপ দেয়া সম্ভব?

জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগুলো আধুনিক জীবনের মূল উপাদান প্লাস্টিক উৎপাদন জন্য নতুন উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানকে পরিচালিত করছে।
জীবাশ্ম জ্বালানীর ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগুলো আধুনিক জীবনের মূল উপাদান প্লাস্টিক উৎপাদন জন্য নতুন উপায় খুঁজতে বিজ্ঞানকে পরিচালিত করছে।

প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য একটি বিশাল সমস্যা – প্রায় সাত লাখ ২৫ কোটি টন প্লাস্টিক আমাদের ভূমিতে ছেয়ে আছে এবং সমুদ্রকে ভরাট করে রেখেছে। এবং এই সমস্যা এখন সর্বত্র।

তবে প্লাস্টিকের একটি ভালো দিকও রয়েছে – কেননা আমাদের প্লাস্টিকের প্রয়োজন এবং প্লাস্টিক যে বিংশ শতাব্দীতে মানুষের জীবনে বিপ্লব ঘটিয়েছে, তা নিয়ে কোন প্রশ্ন নেই।

প্লাস্টিক ছাড়া সংগীত এবং সিনেমা রেকর্ড করা সম্ভব হত না।

আধুনিক ওষুধপত্র সম্পূর্ণরূপে প্লাস্টিকের উপর নির্ভরশীল – ভেবে দেখুন রক্তের ব্যাগ, টিউবিং এবং সিরিঞ্জ, পাশাপাশি গাড়ি এবং বিমানের অংশ – সব কিছুই প্লাস্টিকের উপর নির্ভরশীল – যা আমাদের পৃথিবী জুড়ে দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ করে দিয়েছে।

এবং অবশ্যই: কম্পিউটার, ফোন এবং সব ধরণের ইন্টারনেট প্রযুক্তি সম্ভব হয়েছে প্লাস্টিকের কারণে।

 প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় পরিবেশগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে এর পেছনে কার্বন ডাই অক্সাইডের জড়িত থাকাকে অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়।
প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় পরিবেশগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তবে এর পেছনে কার্বন ডাই অক্সাইডের জড়িত থাকাকে অনেক সময় এড়িয়ে যাওয়া হয়।

প্লাস্টিক তৈরির অর্থ হল জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, এবং কার্বন ডাই অক্সাইডের মতো গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ, যা কিনা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী।

তবে আমরা যদি কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত না করে প্লাস্টিকের গদি, ফোম ইনসিউলেশন, প্লাস্টিকের কাটলারি, বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য খাবারের পাত্র তৈরি করার কোন উপায় খুঁজে পাই – বা এমন কিছু বের করা যায়, যেটা বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন অক্সাইড সরিয়ে ফেলবে, তাহলে কেমন হয়?

নতুন প্রযুক্তিগুলো, নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইডকে প্লাস্টিকে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, যেন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে যে পরিমাণ গ্যাস ছাড়া হয় সেটা কমানো যায়। কিন্তু এই রূপান্তর কিভাবে সম্ভব?

এর পিছনে যে বিজ্ঞান কাজ করছে সেদিকে নজর দেয়া যাক।

 প্লাস্টিক হল টেকসই, নমনীয়, জীবাণুমুক্ত এবং বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য উপাদান
প্লাস্টিক হল টেকসই, নমনীয়, জীবাণুমুক্ত এবং বহুমুখী ব্যবহারযোগ্য উপাদান

কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে নাইলন

প্লাস্টিক হল সিনথেটিক পলিমার – এটি এক ধরণের লম্বা আকারের অণু। যা চেইনের মতো একটার সাথে একটা যুক্ত থাকে।

ইউকে সেন্টার ফর কার্বন ডাই অক্সাইড ইউটিলাইজেশন (সিডিইউইউকে)-এর গবেষকরা, কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে কীভাবে নাইলন তৈরি করা যায় সেটার উপায় বের করেছেন।

নাইলন হল অ্যাক্রিলামাইড নামক এক ধরণের পলিমার- যা কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে তৈরি।

“আপনি কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে নাইলন তৈরি করতে পারবেন- এটা ভাবতে সত্যিই অদ্ভুত বলে মনে হতে পারে, তবে আমরা এটি করেছি,” – সিডিইউইউকের পরিচালক এবং শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ও রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ডঃ পিটার স্টাইরিং এ কথা বলেছেন।

“জীবাশ্ম জ্বালানীকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার না করে আপনি এই শিল্পটি পুরো উল্টে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনি রাসায়নিক উপায়ে কার্বন ডাই অক্সাইডের বর্জ্য ব্যবহার করতে পারেন। যা পেট্রোকেমিক্যাল খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটাবে,” তিনি বলেন।

বর্তমানে, বেশিরভাগ কার্বন ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কার্বনের ব্যবহার থেকে আসে না – এর পরিবর্তে, এই গ্যাস উৎপন্ন হয় অনেক রাসায়নিকের বাই প্রোডাক্ট হিসেবে।

তবে গবেষকদের লক্ষ্য হল কারখানা থেকে নিঃসরিত কার্বনকে ধরে রাখা।

 বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরণের গদি তৈরি করেছেন যা আংশিকভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে তৈরি।
বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরণের গদি তৈরি করেছেন যা আংশিকভাবে কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে তৈরি।

গ্যাসের ওপর ঘুমাচ্ছে পৃথিবী

কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে প্লাস্টিক তৈরি করতে হলে বিজ্ঞানীদের পরিশীলিত অনুঘটক ব্যবহার করতে হবে, অর্থাৎ এমন কিছু পদার্থ ব্যবহার করতে হবে যা রাসায়নিক বিক্রিয়ার হারকে ত্বরান্বিত করবে।

জার্মানির পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ কোভেস্ট্রোতে গবেষকরা কার্ডিয়ন ব্র্যান্ড নামে ২০% কার্বন ডাই অক্সাইড দিয়ে তৈরি গদি তৈরি করেছেন।

তারা একটি ক্যাটালিস্ট বা অনুঘটক আবিষ্কার করেছেন যা কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যান্য যৌগগুলোর মধ্যে একটি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, ফলস্বরূপ একাধিক রাসায়নিক উৎপন্ন হয়- যা থেকে তৈরি হয় পলিইউরেথেন। এই উপাদানটি গদি, কুশন এবং ফ্রিজ ইনসুলশেনে পাওয়া যায়।

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ১৫ কোটি টনেরও বেশি পলইউরেথেন তৈরি হয়।

এর কাঁচামাল হিসাবে কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করা হলে কার্বন নিঃসরণ কমানোয় বড় ধরণের প্রভাব ফেলা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়।

বিজ্ঞানীরা পলিইউরেথেন ইনসুলেশন জাতীয় প্লাস্টিকের পণ্য দিয়ে কাজ করে যা এই শিল্পে কার্বন নির্গমন ঠেকাতে পারে
বিজ্ঞানীরা পলিইউরেথেন ইনসুলেশন জাতীয় প্লাস্টিকের পণ্য দিয়ে কাজ করে যা এই শিল্পে কার্বন নির্গমন ঠেকাতে পারে

পরিষ্কার বাতাস

বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীরা কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের প্লাস্টিক তৈরি করছেন।

কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে পলিইউরেথেন উৎপাদনকারী আরেক কোম্পানি যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ইকোনিক আশা করে যে, তারা দুই বছরের মধ্যে ফোমের পণ্যগুলো বাজারে তুলতে পারবে।

পাশাপাশি থাকবে, কোটিং, সিলেন্টস এবং ইলাস্টোমার জাতীয় পলিমার যা রাবারের মতো স্থিতিস্থাপকতা সম্পন্ন।

কোম্পানির হেড অফ সেলস, লেই টেয়লর বলেছেন যে এই উপাদানগুলো প্রচলিত প্লাস্টিকের মানের সাথে মিলে যায়, কিছু ক্ষেত্রে সেই প্লাস্টিকের মানকেও ছাড়িয়ে যায়।

“আমরা আবিষ্কার করছি যে আমাদের কিছু উপকরণের পারফরম্যান্স আগের চাইতে উন্নত হয়েছে, যেমন এসব পণ্য স্ক্র্যাচ প্রতিরোধী আবার অনেক ক্ষেত্রে শিখা নিয়ন্ত্রণকারী।”, তিনি বলেন।

ইকোনিকের ধারণা, সমস্ত পলিওলের ৩০% (ক্রস লিঙ্কিং এজেন্ট হিসাবে ব্যবহৃত অণু) যদি কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে তৈরি হয়, তাহলে এর ব্যবহারের ফলে বায়ুমণ্ডল থেকে নয় কোটি টন কার্বন নির্গমন ঠেকানো সম্ভব – যা কিনা চার লাখ গাছ লাগানো কিংবা রাস্তা থেকে দুই লাখ গাড়ি সরিয়ে ফেলার সমান।

তাহলে আরও কী চাই, কারণ মানসম্মত কাঁচামাল থেকে এই কার্বন ডাই অক্সাইড অনেক সস্তা- এক টন প্রপিলিন অক্সাইডের জন্য যেখানে ২০০০ ডলার গুনতে হয় সেখানে প্রতি টন কার্বন ডাই অক্সাইডের দাম মাত্র ১০০ ডলার – তাই এই প্রক্রিয়াটি উৎপাদকদের প্রচুর অর্থ সাশ্রয় করতে সাহায্য করবে।

চিনি ভিত্তিক পলিকার্বোনেটগুলো শিশু পণ্য যেমন বোতল এবং সিপ্পি কাপগুলোতে ব্যবহার করা যেতে পারে
চিনি ভিত্তিক পলিকার্বোনেটগুলো শিশু পণ্য যেমন বোতল এবং সিপ্পি কাপগুলোতে ব্যবহার করা যেতে পারে

উচ্চাভিলাষী ভবিষ্যৎ

অন্যদিকে, বিজ্ঞানীরা পলিকার্বোনেট বিকাশের জন্যও কাজ করে যাচ্ছে। এই পলিকার্বোনেট পুনরায় ব্যবহারযোগ্য খাবারের পাত্র এবং শিশুর বোতল তৈরির জন্য ব্যবহার হয়।

এগুলো তৈরি করা হয় কার্বন ডাই অক্সাইডের সঙ্গে চিনি মিশ্রণ ঘটিয়ে। যেমন-জাইলোস, যা ব্যবহৃত কফির গুড়ো থেকে তৈরি হয়।

বিপিএ ব্যবহার করে তৈরি করা বর্তমান পণ্যগুলির তুলনায় এই সুগার ভিত্তিক সমাধানটি যথেষ্ট নিরাপদ।

২০১০ সালে কানাডায় বেবি বোতল এবং সিপ্পি কাপে বিপিএ নামের রাসায়নিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

আরও উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য হতে পারে কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে ইথিলিন উৎপাদন করা।

বিশ্বব্যাপী আমরা যে প্লাস্টিক তৈরি করি তার প্রায় অর্ধেক ইথিলিন দিয়ে তৈরি, যার কারণে এই ইথিলিন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালে পরিণত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সোয়ানসি ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এনরিকো আন্দ্রেওলি, পানি এবং বিদ্যুতের সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড যুক্ত করে এমন একটি অনুঘটক বিকাশের চেষ্টা করছেন, যা থেকে ইথিলিন তৈরি করা যায়।

কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে উৎপাদিত ইথিলিন এবং সেটা দিয়ে তৈরি প্লাস্টিকের পলিথিন বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে প্রায় ২০ বছর সময় লাগতে পারে।

তবে অধ্যাপক আন্দ্রেওলি বলেছেন যে এই লক্ষ্যটি অর্জন করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া ফলপ্রসূ হবে।

“আমরা ৩০ বা ৪০ বছরেও জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে ইথিলিন তৈরি করতে পারব না – তাই কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে এই ইথিলিন তৈরির অন্যান্য উপায় আমাদের খুঁজতে হবে।”

 বায়োপ্লাস্টিক পরিবেশবান্ধব হলেও, এটি উৎপাদনে প্রচুর কার্বন নির্গত হয়।
বায়োপ্লাস্টিক পরিবেশবান্ধব হলেও, এটি উৎপাদনে প্রচুর কার্বন নির্গত হয়।

বায়োপ্লাস্টিকস কি সমস্যার সমাধান নাকিসমস্যা উদ্রেককারী?

তবে প্লাস্টিককে ঘিরে কিছু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা পরিবেশের আরও ক্ষতি করেছে।

তার একটি হল বায়োপ্লাস্টিকস -এরমধ্যে রয়েছে আলু দিয়ে তৈরি ডিসপোজেবল কাটলারি তেমনি ভুট্টা, জঞ্জালের ব্যাগ, খাদ্য বর্জ্য থেকে তৈরি বোতল ইত্যাদি – যা নিয়ে সম্প্রতি প্রচুর লেখালেখি হয়েছে।

তবে এই পণ্যগুলোকে যতো দ্রুত পচনশীল হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল। এগুলো সে অর্থে এতো সহজে পচে না।

এগুলো প্রক্রিয়াজাত করার জন্য সাধারণত শিল্প কারখানার কমপোস্টারের প্রয়োজন হয়।

এবং কার্বন নিঃসরণের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবেশবান্ধব বলে দাবি করা পণ্যগুলো উৎপাদন করতে আরও বেশি জীবাশ্ম জ্বালানির প্রয়োজন হয়।

কার্বন নিঃসরণের পেছনে, যন্ত্রের সাহায্যে ফসল তোলা কিংবা কারখানায় কাঁচামাল প্রক্রিয়াকরণের বিষয়টিকে আমলে নেয়ার আগে এটা দেখা প্রয়োজন যে প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় বায়োপ্লাস্টিক তৈরিতে আরও বেশি হারে কার্বন নির্গত হয়।

যা কার্বন ডাই অক্সাইড থেকে প্লাস্টিক তৈরির দিকে আমাদের আবার ফিরিয়ে নেবে – এটি হয়তো পৃথিবীর দূষণ সমস্যা সমাধান করবে না, তবে এটি অন্যান্য উপায়ে পৃথিবীকে আরও সবুজ করে তুলতে সাহায্য করবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কাল আসছে হেমন্ত

প্রথম ফসল গেছে ঘরে/ হেমন্তের মাঠে মাঠে ঝরে/ শুধু শিশিরের জল/ অঘ্রানের নদীটির শ্বাসে/ হিম হয়ে আসে/বাঁশ পাতা- মরা ঘাস-আকাশের তারা/ বরফের মতো চাঁদ ঢালিছে ফোয়ারা/ ধানক্ষেতে মাঠে-জমিছে ধোঁয়াটে/ ধারালো কুয়াশা/ ঘরে গেছে চাষা/ঝিমায়াছে এ-পৃথিবী’—কবি জীবনানন্দ দাশ হেমন্তের এমন বর্ণনা দিয়েছেন তাঁর ‘পেঁচা (মাঠের গল্প)’ কবিতায়। প্রকৃতিতে বছর ঘুরে আগামীকাল আসছে হেমন্ত।

কার্তিক-অগ্রহায়ণ দুই মাস হেমন্তকাল। বিকেলগুলো এখন স্বল্পায়ু। ৪টার পর থেকেই ছায়া ঘনিয়ে আসে। ৫টার পরই সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। দিন আরো ছোট হয়ে আসবে ক্রমেই। শরতের পরে আর শীতের আগে এ ঋতু এখন যেন কাগুজে ঋতুতে পরিণত হয়েছে। বাস্তবে এ ঋতুর আবেশ বাঙালির ঐতিহ্য থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।

গবেষকদের মতে, কৃষি প্রথা চালু হওয়ার পর থেকে নবান্ন উৎসব পালন হয়ে থাকে বাংলাদেশে।  কিন্তু ৪৭-এ দেশভাগের পর এই উৎসব ধীরে ধীরে কদর হারাতে থাকে। এখন সেটি প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে।

বাংলাদেশ উৎসবের দেশ। বারো মাসে তেরো পার্বণ। এটি ছিল বাঙালির একটি অন্যতম ঐতিহ্য। প্রচলিত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব ছিল অন্যতম। হেমন্তকালে এ উৎসব ছিল সর্বজনীন। নবান্ন ঘিরে (নতুন ধান ঘরে তোলা উৎসব) গ্রামে গ্রামে চলত পিঠা-পুলি ও ক্ষীর-পায়েসের উৎসব। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে যোগ হতো সারি সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। মাঠে মাঠে কৃষকরা দল বেঁধে ধান কাটা উৎসবে যোগ দিতেন। আর গেয়ে উঠতেন জারি-সারি, ভাটিয়ালিসহ নানা ধরনের গান। এককথায় গ্রামীণ জীবনে হেমন্তের আবহ ছিল অন্তপ্রাণে গাঁথা।

হেমন্তে এখন উৎসব যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। গ্রামের পিঠা এসে যোগ হয়েছে শহরের হোটেল ও ফাস্ট ফুডের দোকানে। পিঠা উৎসবও এসে যোগ হয়েছে শহরের মেলা প্রাঙ্গণে। কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্য থেকে। হেমন্তে ধান কাটা উৎসবে আর দেখা মেলে না সারি-সারি গরু ও মহিষের গাড়ি। এখন সেখানে যোগ হয়েছে ইঞ্জিনচালিত যান বা রিকশা ভ্যান। কিন্তু এখন আর সেই ঐতিহ্য নেই।

রাজশাহীর দুর্গাপুরের আমগাছী গ্রামের শতবর্ষী ছলেমান আলী বলেন, ‘কার্তিকে আগে অনেক মানুষ না খেয়ে থাকত। নতুন ধান উঠলে সেই কষ্ট দূর হতো। নতুন ধানের আলো চাল ও সেই চালের আটা দিয়ে মুড়ি-মুড়কি, খৈ, পাটিসাপটা, ভাপাপিঠা, পায়েসসহ নানা ধরনের পিঠার আয়োজন হতো। এখন আর হয় না। কিন্তু এখন আর না খেয়ে কাউকে থাকতে দেখি না। সবাই অন্তত তিন বেলা খেতে পারছে। এটা দেখে খুব ভালো লাগে।’

তিনি আরো বলেন, ‘অগ্রহায়ণে শীতের সকালে খেজুর রসের সঙ্গে দুমুঠো মুড়ি মুখে দিয়ে  কৃষক নেমে পড়ত কাজে। এখন সেখানে যোগ হয়েছে ভাত বা রুটি। পেট পুরে খেয়ে-দেয়ে মানুষ অনেক বেলা করে উঠেও দেখি কাজে বের হয়।’  

রাজশাহীর ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী লেখক মাহবুব সিদ্দিকীর মতে, ‘একসময় কার্তিক মাসে আশ্বিনের স্বল্প-উৎপাদনশীল আউশ ধান চাহিদার তুলনায় অনেক কম পেতেন কৃষকরা। কিন্তু এখন সেখানে যোগ হয়েছে উচ্চ ফলনশীল জাতের নানা ধরনের ধান। ফলে এখন কোনো কোনো এলাকায় ছোট ছোট আকারে কার্তিকের শুরুতেই ধান কাটার মাধ্যমে নবান্ন উৎসব দেখা গেলেও আগের সেই জৌলুস যেন নেই। আবার অগ্রহায়ণে একমাত্র আমনের একসময় বাঙালি কৃষকদের ভরসা থাকলেও এখন প্রায় সারা বছরই উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান উৎপাদন হচ্ছে। ফলে ধান কাটা ঘিরে গ্রামীণ উৎসব এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। যাতে করে পিঠা-পুলির আসরও তেমন বসছে না। সেসব আসর শীতের শহরের বিভিন্ন মেলা প্রাঙ্গণে এসে যোগ হয়েছে। আর শহরের বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট বা ফাস্ট ফুডের দোকানে সারা বছর মিলছে পাটিসাপ্টা-পুলি পিঠা। শীতে শহরের মোড়ে মোড়ে বিক্রি হয় এখন ভাপাপিঠা, যা আগে হেমন্তকালে খেজুরের নতুন গুড়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেত বাঙালি। নবান্ন উৎসবে যোগ দিতে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ানো হতো আত্মীয়-স্বজনকে। মেয়ে-মেয়েজামাই, নাতি-নাতনিতে ভরে উঠত কৃষকের ঘর।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারিদের ১১ দফা দাবি

লেখক

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে প্রান্তিক খামারি সভায় এসে এসব কথা জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দেশের পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কার্যকরী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান সংকট দূরীকরণে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। খামারিরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়াসহ নানামুখী সিন্ডিকেট সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পোলট্রি খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। তাহলে বেকাররা কীভাবে এগিয়ে আসবে আর খামারিরা টেকসইভাবে এ ব্যবসা করবে বলে প্রশ্ন করেন তারা। আরও

 এ জন্য এ খাতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিড ও বাচ্চার দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে জোর দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী,  বিশেষ অতিথি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চাষি মামুন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে আগত করোনা ও অন্যান্য সংকটে বিপর্যস্ত প্রান্তিক খামারিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দ্রব্যমূল্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর নেই

লেখক

কয়েকমাস ধরেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। সোমবার (১১ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এতে এনবিআর, টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।।


পেঁয়াজসহ সভায় ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডালের মূল্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


সভার শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয় সভায়।


আগামী চার মাসের জন্য পেঁয়াজের ওপর থেকে শুল্ক এবং চিনি ও তেলে ওপর থেকে অ্যাডভান্স ট্যাক্স প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন বাণিজ্য সচিব।




দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের সংকট থাকবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চারদিক থেকেই চেষ্টা করছি যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে আমরা যত দিন পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ হব না, ততদিন কখনো কখনো ক্রাইসিসের মধ্য পড়তে হবে।
 

বাণিজ্য সচিব বলেন, পরিস্থিতি এ থেকে আর বেশি খারাপ হবে না। তবে আগামী একমাস পরিস্থিতি একটু নাজুক থাকবে উৎপাদনের দিক থেকে চিন্তা করলে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিবি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সারা দেশে ৪০০ ট্রাকে ৪০০ থেকে ১০০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া ভারত ও তুরস্ক থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রতিবছর একই সময়ে কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

লেখক

হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে কেনার আগে ভাবতে হয় ভোক্তাদের। এর কারণ স্পষ্ট। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবেই গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
 কয়েক বছর ধরে এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমদানি নির্ভরতাকে দায়ী করছেন কমিশন এজেন্ট ও আমদানিকাররা।
 কমিশন এজেন্ট মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ভারতের রপ্তানিকারকরা যে বাজার নির্ধারণ করে, সেই বাজারটাই বাংলাদেশে নির্ধারণ হয়।
 পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. মোশারফ শিকদার বলেন, দেশে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় সেটা যথেষ্ট না। আরেক পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনলে আমাদের দেশে দাম কম পড়ে।
 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে পেঁয়াজের ৩৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। যা আগের বছরের চেয়ে ৮ লাখ টন বেশি।


 সংরক্ষণ দুর্বলতায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নষ্ট ধরলেও টিকে যায় ২৫ লাখ টনের বেশি। সেক্ষেত্রে আমদানি করতে হচ্ছে ১০ লাখ টন। অথচ আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঘাটতি দেখিয়ে ফায়দা লুটতে চায় বিশেষ একটি শ্রেণি।
 বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যারা ঘাটতি বলে তারা আসলে ব্যবসা করতে যায়।
 কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে নেই চাহিদা-যোগান আর উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আমদানি বন্ধেই রয়েছে এর আসল সমাধান।
 কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. মো. সদরুল আমিন বলেন, আমাদের আসল উৎপাদন কত আর আমাদের চাহিদা কত এখানে একটু রঙ্গরস আছে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কারসাজি আর কিছু সরকারি ব্যক্তি পর্যায়ের অনাগ্রহ। সমাধান হলো, আমাদের একটা প্যাকেজ আছে উৎপাদন করব আমদানি করব না।
 কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও মৌসুমের শুরুতে নায্যমূল্য না পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা। যার প্রভাব পড়ছে মৌসুমের শেষে।


 কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মৌসুমে পেঁয়াজের দাম যদি ৪০ টাকা হয়, তাহলে তারা লাভ করতে পারবে। কিন্তু আমরা মৌসুমে সেই দাম দিতে পারি না। যার ফলে পরবর্তী সময় বিভিন্ন হাত ঘুরতে ঘুরতে এটার দাম বেড়ে যায়।
 পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নেয়া চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে বার্ষিক চাহিদা অপরিবর্তিত রাখা হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় জমজমাট মাছ ধরার ফাঁদ চাই-এর হাট

লেখক

জেলায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। খাল-বিল ও নদী প্রধান এই  জেলার অন্তত ২৫টি হাটবাজরে বিক্রি হচ্ছে মাছ ধরার এই বিশেষ ফাঁদ।


জেলার চান্দিনা, তিতাস, মুরাদনগর, মেঘনা উপজেলার হাটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বসেছে চাইয়ের হাট। সপ্তাহে দুই দিন করে হাট বসে। বর্ষায় পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলে পানির মধ্যে এই যন্ত্রটি রেখে দেয়া হয়। চলাচলের সময় ছোট-ছোট মাছগুলো বাঁশের তৈরি এই ফাঁদের ভিতরে আটকা পড়ে। এটি গ্রামাঞ্চলের মাছ ধরার খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এই সময়ে জেলার সব জায়গায় মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
কুমিল্লার মাধাইয়া ও দোল্লাই, নবাবপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চাই আকার ভেদে ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দোল্লাই নবাবপুর বাজারের চাই ব্যবসায়ী আনু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতি হাটে ৬০-৭০ টি চাই বিক্রি করি। বহু দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে আমার কাছে এসে চাই কিনে নিয়ে যায়। বর্ষার শেষ দিকে এসে আমাদের এলাকায় চাই বিক্রি বেড়ে যায়। কারণ এই সময়ে ছোট-ছোট মাছগুলো পানি কমার সময় চাইগুলো জমির আইলে বিশেষ কাদায় পুঁতে রাখলে ফাঁদে মাছগুলো আটকা পড়ে।


মহিচাইল গ্রাম থেকে চাই কিনতে মাধাইয়া হাটে আসা নুরু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজি মাছ ধরতাম, তা বিক্রি করতাম ৩ থেকে ৪ শত টাকা। আমি প্রতি মৌসুমে পানি কমার সময় ৫ থেকে ৬ চাই কিনে নিয়ে যাই। এগুলো দিয়ে যে মাছ পাওয়া যায়, তা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করি। দেশীয় পদ্ধতিতে এই সময়ে মাছ ধরায় মেতে উঠে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে ছোট মাছ ধরার ধুম পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com