আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ

বিভিন্ন কারণে দেশে জলাশয় কমে যাচ্ছে আর তাই কমছে মাছ চাষের জমি। যেহেতু মাছ চাষের জমি কমছে তাই কম জায়গাতেই কীভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায় তা নিয়ে কাজ করছে মৎস বিভাগ। মাছের উৎপাদন বাড়াতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মাছের মিশ্র চাষ। সঠিক উপায় জানা থাকলে একটি জলাশয়েই অনেক ধরনের মাছের চাষ করা যাবে।

দেশীয় কার্প জাতীয় মাছগুলোকে এক সঙ্গে চাষ করা সম্ভব। যে যে প্রজাতির মাছ রাক্ষুসে স্বভাবের নয়, জলাশয়ের বিভিন্ন স্তরে বাস করে এবং বিভিন্ন স্তরের খাবার গ্রহণ করে এসব গুণাবলির কয়েক প্রজাতির মাছকে এক সঙ্গে চাষ করা যাবে। তার উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কার্প জাতীয় মাছ, কার্প জাতীয় মাছ বলতে দেশি ও বিদেশি রুই জাতীয় মাছকেই বুঝায়। দেশি কার্পের মধ্যে কাতলা, রুই, মৃগেল, কালীবাউশ এবং বিদেশি কার্পের মধ্যে সিলভার কার্প, গ্রাস কার্প, বিগহেড কার্প, ব্ল্যাক কার্প, কমন কার্প অন্যতম। মাছের স্বভাবজাত কারণে পুকুরের বিভিন্ন স্তরে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে।

এসব মাছ একত্রে চাষ করার উপায়, নিয়ম, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্চা সম্পর্কে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার মৎস কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, সাধারণত পুকুরে তিনস্তরে মাছ আলাদাভাবে অবস্থান করে খাবার খায়। এজন্য সেভাবে তাদের যত্নআত্তি করতে হয়। উপরের স্তরে কাতলা, সিলভার কার্প এবং বিগহেড জলাশয়ের উপরের স্তরের খাবার খায়। উপরের স্তরে এসব মাছ সবুজ উদ্ভিদকণা (ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন) এবং প্রাণিকণা (যুপ্ল্যাঙ্কটন) খেয়ে থাকে। মধ্য স্তরের রুই মাছ এ স্তরে থাকে এবং ক্ষুদ্র প্রাণিকণা, ক্ষুদ্রকীট, শেওলা খাবার খায় এবং নিম্নস্তরের মৃগেল, কালীবাউশ, মিরর কার্প বা কার্পিও, ব্ল্যাক কার্প অধিকাংশ সময়েই জলাশয়ের নিম্নস্তরে বিচরণ করে। এরা তলদেশের ক্ষুদ্র কীটপতঙ্গ, শেওলা, শামুক, ঝিনুক, ক্ষুদ্র উদ্ভিদকণা ও প্রাণিকণা এদের প্রধান খাবার। গ্রাস কার্প ও সরপুঁটি সব স্তরেই অবস্থান করে। জলজ উদ্ভিদ, নরম ঘাস, শেওলা, কচুরিপানা, টোপাপানা, হেলেঞ্চা, ঝাঁঝি এসব গ্রাস কার্পের প্রধান খাবার। কচুরিপানা ও টোপাপানা সরপুঁটির প্রধান খাবার। তাই কোনো জলাশয়ের তলদেশে বেশি পরিমাণ আগাছা, ঘাস, হেলেঞ্চা জন্মালে গ্রাস কার্প ছেড়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

 জাতীয় মাছ জলাশয়ের বিভিন্ন স্তরের খাবার খায়। খাদ্য ও জায়গায় জন্য একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয় না। এরা রাক্ষুসে স্বভাবের নয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো। খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে বা দ্রুতবর্ধনশীল। সহজে পোনা পাওয়া যায়। অল্প মূল্যের সম্পূরক খাদ্য খায় খেতে সুস্বাদু এবং বাজারে চাহিদা আছে। অর্থনৈতিক মূল্য আছে। কৃত্রিম প্রজনন দ্বারা পোনা উৎপাদন করা যায়। এসব বৈশিষ্ট্যে সম্পন্ন মাছ নির্বাচন করতে হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিবেশে ও উপকরণের প্রাপ্যতা, চাষির আর্থিক অবস্থা এবং জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে এক এক রকম পদ্ধতি গড়ে উঠেছে। যেমন- ১. সনাতন পদ্ধতির মাছ চাষ ২. আধানিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ ৩. নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ।

সনাতন পদ্ধতির মাছ চাষ হলো কম খরচে জলাশয়ের প্রাকৃতিক খাদ্যের ওপর নির্ভর করে যে পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হয়। এ পদ্ধতিতে কম অথবা বেশি ঘনত্বে পোনা মজুদ করা হয়। পুকুরের রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা হয় না। পুকুরে বাহির থেকে কোনো খাবার ও সার দেয়া হয় না। এ পদ্ধতিতে হেক্টর প্রতি উৎপাদনও অনেক কম হয়। আধানিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ হলো বৈজ্ঞানিক নিয়মে পুকুর প্রস্তুত করে। নিয়মিত সার এবং সম্পূরক খাদ্য ব্যবহার করে।

মধ্যম ঘনত্বে পোনা মজুদ করে মাছ চাষে পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক খাবার যাতে বেশি উৎপাদন হয় তার জন্য সার ব্যবহার করা হয়। পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপন্ন খাবার যাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় তার জন্য খাদ্যাভ্যাসের ভিত্তিতে প্রজাতি নির্বাচন করে পুকরে নির্দিষ্ট ঘনত্বে পোনা মজুদ করা হয়। এসব মাছের প্রাকৃতিক খবারের চাহিদা পূরণ না হলে বাহির থেকে চাহিদা মাফিক খাবার দেয়া হয়। আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা হয়।

নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ হলো অল্প জায়গায়, অল্প সময়ে, অধিক উৎপাদনের উদ্দেশ্যে সার ব্যবহার করে প্রাকৃতিক খাদ্য বৃদ্ধি ও বাহির থেকে উন্নতমানের পরিপূর্ণ সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করে উচ্চতর ঘনত্বে পোনা মজুদ করা হয়। এ পদ্ধতিতে প্রযুক্তির সর্বাধিক সুযোগ ব্যবহার করা হয়। তাই অন্য দুই পদ্ধতির চেয়ে অনেক বেশি ঘনত্বে পোনা মজুদ ছাড়া ও নিয়মিত পানি বদল ও বায়ু সঞ্চালনের আধুনিক ব্যবস্থা করা হয়।

পুকুরের স্থান নির্বাচন খনন

পুকুর নির্বাচন ঠিকমতো করা না হলে মাছ চাষে সমস্যা হয়। মাছ ঠিকমতো বাড়ে না, মাছ চুরি হতে পারে। পোনা পরিবহনে অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে। লাভজনক চাষ করতে হলে খেয়াল রাখতে হবে পুকুরের মালিকানা নিজস্ব এবং একক হলে ভালো। লিজ পুকুর হলে তার মেয়াদ ৫ বছরের বেশি বা দীর্ঘমেয়াদি হতে হবে। পুকুরটি অবশ্যই বন্যামুক্ত হওয়া। পুকুরের পানির গভীরতা ২-৩ মিটার ও দো-আঁশ মাটি পুকুরের জন্য সবচেয়ে ভালো। পুকুরের তলার কাদার পরিমাণ কম হওয়া। তবে কোনো মতেই ১০-১৫ সেন্টিমিটারের বেশি না হয়। পুকুরের পাড়ে পাতাঝরা গাছপালা না থাকে। পুকুরটি যেন খোলামেলা ও প্রচুর আলো-বাতাস থাকে। দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা সূর্যালোক যেন পুকুরে পড়ে। পুকুর ২০-৫০ শতাংশের মধ্যে হলে ব্যবস্থাপনায় সুবিধা হয়। পুকুর বসতবাড়ির কাছাকাছি হলে পুকুরের ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার সুবিধা হয় মাছ চুরির ভয় থাকে না। পুকুর খনন বা নতুন পুকুর খনন করতে হলে যেসব বিষয়াদি বিবেচনায় রাখতে হবে তা হলো-পুকুর খননের সময় পুকুরটি যেন আয়তাকার হয়। আয়তন ৩৩ শতক থেকে ৫০ শতক হলে ব্যবস্থাপনায় সুবিধা। পুকুরের গভীরতা এমনভাবে করা দরকার যাতে শুকনা সময়ে ১.৫-২ মিটার পানি থাকে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পেলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্ভিদ কণা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে পুকুরের মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করে। পুকুরে বাতাস চলাচল করলে পানির ওপরের স্তরে ঢেউয়ের মাধ্যমে পানিতে অক্সিজেন দ্রবীভূত হয়।

পুকুর প্রস্তুতকরণ

পুরনো পুকুর হলে প্রথমে রাক্ষুসে মাছ নিধন করতে হবে। পুকুর সেচের মাধ্যমে শুকিয়ে ফেলে রাক্ষুসে মাছ ও অবাঞ্ছিত মাছ ধরে ফেলা উত্তম। চাষযোগ্য মাছ থাকলে তা অন্য পুকুরে সরিয়ে ফেলতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পুকুরের তলায় পানি জমে না থাকে। কারণ এতে রাক্ষুসে মাছ লুকিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু নানাবিধ কারণে পুকুরের পানি নিষ্কাশন সম্ভব নাও হতে পারে। পুকুর থেকে পানি নিষ্কাশন করা হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুনরায় পানি সরবরাহ করার মতো পানির উৎস ও ব্যবস্থা থাকে না। তাই পুকুরে ওষুধ প্রয়োগ করে রাক্ষুসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা ভালো। রোটেনন, চা বীজের খৈল, তামাকের গুঁড়া এসব ওষুধ দিয়ে পুকুরের রাক্ষুসে মাছ দূর করা যায়। প্রখর সূর্যের তাপে রোটেননের কার্যকারিতা বেশি। রোটেন মাছের ওপর বিষ ক্রিয়ার মেয়াদকাল প্রায় ৭ দিন। তবে রোটেনন দিয়ে মারা মাছ খাওয়া যায়। তামাকের গুঁড়া প্রয়োগে মাছ, শামুক ও ঝিনুক মারা যায় কিন্তু চিংড়ি মরে না। এটি পরে সার হিসেবে কাজ করে। একটি পাত্রে পানির মধ্যে এক রাত ১২-১৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার পর সূর্যালোকিত দিনে পুরো পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। মাছের ওপর বিষ ক্রিয়ার মেয়াদ থাকে ৭-১০ দিন।

জাল টানা-পুকুরের পানি নিষ্কাশন এবং ওষুধ প্রয়োগ ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে শুষ্ক মৌসুমে যখন পুকুরে পানি কম থাকে তখন ঘন ঘন জাল টেনে রাক্ষসে ও অবাঞ্ছিত মাছ দূর করা যায়। তবে এতে অনেক সময় কাদার মধ্যে রাক্ষুসে মাছ লুকিয়ে থাকতে পারে।

আগাছা দমন-ভাসমান ও শিকড়যুক্ত পানির উপরে ভাসমান জলজ আগাছা পুকুরে সরবরাহকৃত সার গ্রহণ করে। ফলে ফাহটোপ্ল্যাঙ্কটন প্রয়োজনীয় সার গ্রহণ করার সুযোগ পায় না। এ কারণে আগাছাপূর্ণ পুকুরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন তৈরির জন্য বেশি সার প্রয়োজন হয়। এ জন্য পুকুর থেকে আগাছা সম্পূর্ণ রূপে অপসারণ করা দরকার। আগাছা পুকুরের উৎপাদন ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পুকুর পাড় ও তলদেশ উন্নয়ন-পুকুরের তলদেশে অত্যধিক কাদা, আবর্জনা, পচা জৈব পদার্থ থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে। পুকুরের তলদেশ অসমান, পাড় ভাঙা কিংবা ছিদ্রযুক্ত থাকলে তা মেরামত করে নিতে হবে। পুকুরের তলদেশে বিভিন্ন রোগ জীবাণু, বিষাক্ত গ্যাস থাকতে পারে। চুন প্রয়োগের মাধ্যমে এসব দূর করা যায়। তাছাড়া চুন প্রয়োগে পুকুরের পানির পিএইচ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। পুকুরে শতাংশ প্রতি ১ কেজি কলিচুন প্রয়োগ করতে হয়। কলিচুন প্রথমে পানির সঙ্গে মিশিয়ে তারপর ঠাণ্ডা করে পুরো পুকুরে ছিটিয়ে জাল টেনে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। যদি পুকুরে পানি না থাকে তা হলে পুকুরের তলদেশে চুন পাউডার করে তা ছড়িয়ে দিতে হবে। পুকুরের তলদেশের মাটির প্রকারভেদ, পুকুরের বয়স ও পানির পিএইচের ওপর চুনের মাত্রা নির্ভর করে। এঁটেল মাটি, কাদা মাটি ও লাল মাটির পুকুরে চুন একটু বেশি দরকার হয়।

সার ব্যবস্থাপনা

পুকুরের পানিতে সূর্যের আলোর সহায়তায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে এক ধরনের উদ্ভিদকণা প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হয়। এসব উদ্ভিদকণা প্রাথমিক উৎপাদক হিসেবে পরিচিত। এগুলো রুই জাতীয় মাছের খাদ্য। প্রাণিকণাও এ মাছের প্রিয় খাদ্য। তাই উদ্ভিদ ও প্রাণিকণা প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরির জন্য সার প্রয়োগ করতে হয়। পুকুরের প্রতি শতাংশ হারে সার ব্যবহার করতে হয়। পুকুরে মাটি ও পানির গভীরতা ভেদে সারের মাত্রা কমবেশি হতে পারে। পুরনো পুকুরের তুলনায় নতুন পুকুরে জৈব সারের পরিমাণ বেশি লাগে। চুন প্রয়োগের অন্তত ৫-৭ দিন পর রাসায়নিক সার ব্যবহার করা উচিত। চুন প্রয়োগের পরপরই টিএসপি সার ব্যবহার করা যাবে না। কারণ চুনের সঙ্গে টিএসপি সারের রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে বলে সারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। টিএসপি সহজে পানিতে গলে না বলে ব্যবহারের ১০-১২ ঘণ্টা আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। শুকনা পুকুরে জৈব ও অজৈব সার প্রয়োগ করতে হলে পুরো পুকুরে সার ছিটিয়ে লাঙল বা আঁচড়ার সাহায্যে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হবে। সার দেয়ার পর পরই পুকুরে পানি সরবরাহ দিতে হবে। তা না হলে জৈব সারের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান নাইট্রোজেনের কার্যকারিতা কমে যায়। পুকুরে পানি থাকলে জৈব ও অজৈব সার পুরো পুকুরে ছিটিয়ে দিয়ে জাল টেনে পানির সঙ্গে সারা পুকুরে ছড়িয়ে নিতে হবে। পুকুরে সার প্রয়োগের আগে সেকি ডিস্কের রিডিং দেখতে হবে। সেকি ডিস্কের রিডিং ৩০ সেন্টিমিটারের বেশি হলে সার প্রয়োগ করতে হবে।

পানি সংগ্রহ ও পোনা মজুদ

জৈব সারের মূল উপাদান নাইট্রোজেন ও ফসফরাস। শুকনো পুকুরে ব্যবহারে এসব সারের উপাদান বাতাসে চলে যায়। তাই সার দেয়ার পরপর পুকুরে পানি সরবরাহ করতে হবে। এতে সার গলে গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক উপাদান পানিতে মিশতে পারবে। তবে পানি প্রবেশের সময় যাতে রাক্ষুসে মাছ কিংবা অবাঞ্ছিত মাছ পুকুরে প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে খুব সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এজন্য পানি প্রবেশর পথে ঘন ফাঁসের জাল দিয়ে আটকে দিতে হবে। পুকুরে এমন প্রজাতির মাছের চাষ করতে হবে যেগুলো একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না। মিশ্র চাষের উদ্দেশ্যই হলো পুকুরের সব স্তরের খাদ্যকে সমানভাবে ব্যবহার করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। সার দিলে পুকুরের বিভিন্ন স্তরে প্রাকৃতিক খাদ্যের জন্ম হয়। খাদ্যগুলো হলো উদ্ভিদকণা, প্রাণিকণা এবং পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী প্রাণিগুলো। এ প্রাকৃতিক খাদ্যমালা পুকুরে সর্বত্র ছড়িয়ে থাকে। মিশ্রচাষের আসল উদ্দেশ্যই হলো পুকুরের সব স্তরের খাদ্য ব্যবহার করে অধিক উৎপাদন লাভ করা। তবে পুকুরে একাধিক প্রজাতির মাছ মজুদ করলেই লাভবান হওয়া যাবে না। খাদ্য ও পরিবেশ নিয়ে প্রতিযোগিতা করে না এমন দুই বা ততোধিক প্রজাতির পোনা নির্বাচন করা প্রয়োজন। পুকুরে পোনা মজুদের আগে নিচের কাজগুলো করতে হয়।

বিষাক্ততা পরীক্ষা

পুকুরে পোনা মজুদের আগে পানিতে ওষুধের বিষক্রিয়া জেনে নেয়া উচিত। বিষক্রিয়া জানার জন্য পুকুরে একটি হাপা টাঙিয়ে তার মধ্যে ১০-১৫টি পোনা ছেড়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত দেখতে হবে। যদি পোনা মারা না যায়। তবেই পুকুরে পোনা মজুদ করা যাবে। বালতি বা ডেকচির মধ্যেও এ কাজটি করা যায়। পোনা মারা গেলে পানি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্য পর্যবেক্ষণে পোনা মজুদের আগেই পুকুরের প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা করতে হবে। পুকুরের পানির রঙ হবে সবুজাভ, লালচে অথবা বাদামি সবুজ। হালকা সবুজ। হালকা সবুজ, ঘন সবুজ, তামাটে লাল বা পরিষ্কার রঙের পানি কার্প জাতীয় মাছ চাষের জন্যে ভালো নয়। তাই পানির রঙ ঠিক আছে কিনা তা যেসব পরীক্ষা দ্বারা দেখতে হবে তা হলো-

সেকি ডিস্ক : সেকি ডিস্ক একটি লোহার থালা। এর ব্যাস ২০ সে.মি. রঙ সাদা-কালো। এটি ৩ রঙের প্লাস্টিকের সুতা দ্বারা ঝুলানো থাকে। গোড়া থেকে প্রথম সুতার রঙ লাল ২০ সেন্টিমিটার, দ্বিতীয় সুতার রঙ সবুজ ১০ সেন্টিমিটার এবং হাতে ধরার সর্বশেষ সুতার রঙ সাদা ১০০-১২০ সেন্টিমিটার।

লাল সুতা : পানিতে লাল সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পর থালার সাদা অংশ দেখা না গেলে বুঝতে হবে পুকুরে অতিরিক্ত খাদ্য আছে। তবে পানি ঘোলা থাকলেও এ অবস্থা হতে পারে। এ অবস্থায় রেণু ছাড়া, সার ও সম্পূরক খাদ্য ব্যবহার করা ঠিক নয়।

সাদা সুতা : সাদা সুতা পর্যন্ত নামানোর পরও থালার সাদা অংশটি দেখা গেলে বুঝতে হবে খাদ্য কম আছে। এ অবস্থায় আরও সার দিতে হবে। পুকুরে পোনা থাকলে খাদ্য প্রয়োগ বহাল রাখতে হবে। সবুজ সুতা-পানিতে সবুজ সুতা পর্যন্ত ডুবানোর পর থালার সাদা অংশটি দেখা না গেলে বুঝতে হবে খাদ্য পরিমিত আছে। এ অবস্থায় রেণু ছাড়া যাবে, সার না দিলেও চলবে। সেকি ডিস্ক সূর্য উঠার পর (বেলা ১১-১২টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে।

মজুদ ঘনত্ব ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা : পুকুরে পোনার মজুদ ঘনত্ব নির্ভর করে চাষ পদ্ধতির ওপর। খাদ্য ব্যবহার, পুকুরের পানি পরিবর্তনের সুযোগ এবং পানিতে অক্সিজেনের জোগানের জন্য এজিটেটর ব্যবহারের সুযোগ থাকলে অধিক ঘনত্বে পোনা মজুদ করা যায়। সম্পূরক খাদ্য সরবরাহ পুকুরে পোনা মজুদের পর থেকেই দৈনিক নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ করতে হয়। সরিষার খৈল, চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, ফিশমিল এসব মাছের সম্পূরক খাদ্য।

গ্রাস কার্পের খাদ্য

গ্রাস কার্প ঘাসখেকো মাছ। তাই গ্রাস কার্পের খাবার সরবরাহের জন্য পুকুরে চার ফুট লম্বা, চার ফুট প্রস্থ বিশিষ্ট আবেষ্টনীতে ফিডিং রিং কচুরিপানা-কলাপাতা-সবুজ নরম ঘাস প্রতিদিনি সরবরাহ করতে হবে। লাঠি পুঁতে ফিডিং রিংটিকে আটকে দিতে হবে যাতে ফিডিং রিংটি একই স্থানে অবস্থান করে। ফিডিং রিংটি সব সময় পরিপূর্ণ রাখতে হবে। কেননা গ্রাস কার্প ও সরপুঁটি ক্ষুদ্রাকৃতির পাকস্থলী বিশিষ্ট। তাই ক্ষুধা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যাতে সামনে খাবার পেতে পারে সেজন্যে ফিডিং রিংটি সর্বদা ঘাসে পরিপূর্ণ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। পুরনো বা ভাঙা রিং পরিবর্তনেরও ব্যবস্থা নিতে হবে। একটি গ্রাস কার্পের বিষ্ঠা ৫টি কার্পের খাবারের জোগান দিতে

সম্পূরক খাদ্য ব্যবস্থাপনা

পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রাচুর্যতা ভেদে সম্পূরক খাদ্যের মাত্রা নির্ভর করে। তবে সাধারণত মজুদ পুকুরে প্রতিদিন মাছের ওজনের ৩-৫ শতাংশ হারে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শীতকালে মাছের জৈবিক পরিপাকক্রিয়া কমে যায়, ফলে তাদের খাদ্য গ্রহণের মাত্রা কমে যায়। এজন্য শীতকালে মাছের ওজনের শতকরা ১-২ ভাগ হারে খাবার দিলেই চলে। খাদ্যের সঙ্গে সরিষার খৈল ব্যবহার করা হলে পরিমাণমতো একটি পাত্রে সমপরিমাণ পানির সঙ্গে ১২-১৫ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। তারপর পচা সরিষার খৈলের সঙ্গে পরিমাণমতো অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে আধা শক্ত গোলাকার বলের মতো তৈরি করতে হবে। এ খাদ্য দিনে দুইবার অর্থাৎ সকালে ও বিকালে পুকুরের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করতে হবে। সম্ভব হলে খাদ্য পাত্রের মধ্যে সরবরাহ করলে ভালো হয়। শুকনো গুঁড়া খাবার সরাসরি পুকুরের পানিতে ছড়িয়ে দিলে খাদ্যের অপচয় হয়। এতে মাছের ভালো ফলন পাওয়া যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ খাদ্যের পচন ক্রিয়ায় পুকুরের পরিবেশ দূষিত হবে।

সার প্রয়োগ
মজুদ পুকুরে সার প্রয়োগের আগে প্রাকৃতিক খাদ্যের অবস্থা জেনে নেয়া ভালো। কারণ সম্পূরক খাদ্য ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে পানি দূষণ হতে পারে। সার প্রয়োগের আগে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্যের অবস্থা জেনে নিতে হবে। এতে সঠিক মাত্রার সার ব্যবহার করা যাবে এবং পুকুরে পানির পরিবেশও ঠিক রাখা সম্ভব। তিনভাবে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা করা যায়। সেকি ডিস্ক ব্যবহার করতে হবে। এটি পানিতে ডুবানোর পর যদি থালাটি ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দেখা যায় তবে বুঝতে হবে প্রাকৃতিক খাদ্য কম আছে। সার দেয়া প্রয়োজন।

নমুনা সংগ্রহকরণ

পুকুরে মাছের বৃদ্ধি ঘটছে কিনা অথবা রোগ বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব পরীক্ষা করা এবং পুকুরে মজুদ মাছের পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য মাসে অন্তত দুইবার জাল টেনে মজুদ মাছের শতকরা ১০ ভাগ ধরে তার গড় ওজন বের করতে হবে। এ গড় ওজন দ্বারা পুকুরের মজুদ মাছের সংখ্যার সঙ্গে গুণ করে মোট মজুদ মাছের পরিমাণ নির্ণয় করে পরবর্তী সম্পূরক খাদ্যের প্রয়োগ মাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। একই সময় মাছের দেহের রোগ বালাই আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া ও জাল টানা হলে পুকুরের তলদেশে জমে থাকা মিথেন, অ্যামনিয়া ক্ষতিকর গ্যাস বের হয়ে যাবে। অন্যদিকে জাল টানার ফলে মাছ ছুটাছুটি করেবে। এতে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে।

আংশিক আহরণ : মাছ বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাদের দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুততর হয় না। ফলে নির্দিষ্ট বয়সের পরে পুকুরে প্রতিপালন করার প্রয়োজন নেই। কাজেই পুকুরে বড় মাছ রাখা হলে অধিক লাভ পাওয়া যায় না। তাই বাজারজাতকরণ উপযোগী মাছ ধরে ফেলতে হয়। এছাড়া পুকুরে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার বেশি মাছ মজুদ রাখা হলে ছোট মাছের দৈহিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। তাই পুকুর থেকে নিয়মিত বড় মাছ ধরে ছোট মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। বড় মাছ ধরে ফেললে পুকুরে বেশি জায়গা হওয়াতে ছোট মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিঘাপ্রতি কার্প জাতীয় মাছের পুকুরে ধারণক্ষমতা ২২৪ কেজি। কাজেই বিঘা প্রতি ২২৪ কেজির বেশি মাছ আহরণ করে বিক্রয় করতে হবে। সাধারণত অতিরিক্ত মাছ আহরণের সময় পুকুরের বড় মাছ আহরণ করে ছোট মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ করে দেয়া উত্তম। তবে একমাসে যে কয়টি মাছ আহরণ করা হবে। সমান সংখ্যক সে প্রজাতির মাছের পোনা পুকুরে মজুদ করতে হবে। এভাবে আহরণ ও মজুদের মাধ্যমে মৎস্য চাষ করলে অনেক বেশি উৎপাদন পাওয়া যায়। মাছকে পুকুরে বেশি দিন না রেখে বছর শেষে পুরাপুরি আহরণ করে পরবর্তী বছরের জন্য পুকুর তৈরি করা ভালো। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে পুকুরে যখন পানি কম থাকে তখন মাছ ধরে ফেলতে হবে।

দৈনন্দিন

কত রকম চা

>করোনার এ সময়টা লেবু চা, মসলা চাসহ নানা রকম চা পানের পরামর্শ আমরা পাচ্ছি। এক কাপ চা যে নিমেষেই সতেজ করে দিতে পারে, তা তো কমবেশি জানাই। কয়েক রকম সুস্বাদু চায়ের রেসিপি দিয়েছেন ফারাহ্ সুবর্ণা

তুলসী ও মধুর চা

উপকরণ: চা পাতা ১ চা-চামচ অথবা টি ব্যাগ প্রতি কাপে ১টা করে, তুলসী পাতা ১০–১২টা, লেবুর রস স্বাদমতো, মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: ফুটন্ত পানিতে তুলসী পাতা দিয়ে মিনিট পাঁচেক ফুটিয়ে নিন। চা পাতা দিয়ে আরও কয়েক মিনিট ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। স্বাদমতো লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে পান করতে হবে।

কালোজিরা ও গোলমরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা ২ চা-চামচ, কালোজিরা আধা চা-চামচ, আস্ত গোলমরিচ আধা চা-চামচ, আদাকুচি এক চা-চামচের তিন ভাগের এক ভাগ, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পানি ফুটিয়ে চা, কালোজিরা, আস্ত গোলমরিচ আর আদাকুচি দিয়ে ৫/৭ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে নিতে হবে। কাপের ওপরে ছাঁকনি রেখে তাতে চা পাতা দিয়ে তার ওপরে ফুটন্ত কালোজিরা, গোলমরিচ ও আদা জ্বাল দেওয়া পানি ধীরে ধীরে ঢেলে ছেঁকে নিয়ে চিনি বা মধু মিশিয়ে নিয়ে গরম থাকা অবস্থাতেই পান করুন।

মাল্টা ও মরিচের চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, মাল্টা ১টি, কাঁচা মরিচ ১টি, চিনি বা চিনির বিকল্প স্বাদমতো ও পানি ৫০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি ফুটিয়ে তাতে চা পাতা ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে ৫/৬ মিনিট ফুটিয়ে নিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে তাতে স্বাদমতো চিনি (কিংবা চিনির বিকল্প), মাল্টার রস ও পাতলা গোল করে কাটা মাল্টা দিয়ে দিন। চামচ দিয়ে চিনি ও মাল্টার রস মিশিয়ে গরম গরম পরিবেশন করতে হবে। ঝাল খেতে না চাইলে কাঁচা মরিচ বাদ দিয়ে শুধু মাল্টা চা-ও তৈরি করা যেতে পারে।

লবঙ্গ চা

উপকরণ: চা পাতা আধা চা-চামচ, লবঙ্গ ১৫টি, চিনি বা মধু স্বাদমতো ও পানি ৭০০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি দিয়ে চুলায় জ্বাল দিন। পানি ফুটে উঠলে তাতে লবঙ্গ দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ মিনিট ফোটাতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পর চা পাতা দিয়ে আরও ৭–৮ মিনিট জ্বাল দিয়ে নামিয়ে নিন। ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে কাপে বা মগে নিয়ে স্বাদমতো চিনি বা মধু মিশিয়ে গরম গরম পান করতে হবে।

গুড়ের চা

উপকরণ: চা পাতা ৩ চা-চামচ, গুঁড়া দুধ ৩ টেবিল চামচ, খেজুরের গুড় স্বাদমতো, আস্ত এলাচি ৩টি ও পানি ৭৫০ মিলিলিটার।

প্রণালি: পাত্রে পানি হালকা গরম করে তাতে দুধ গুলিয়ে দিয়ে জ্বাল দিতে হবে। সেই সঙ্গে এলাচিও দিয়ে দিন। দুধ ভালোমতো ফুটে উঠে একটু ঘন হলে চা পাতা দিয়ে আরও বেশ কিছুক্ষণ ফোটাতে হবে। চায়ের সুন্দর রং আর সুঘ্রাণ বের হলে তাতে স্বাদমতো পাতলা করে কোরানো গুড় বা বাসায় ঝোলা গুড় মিশিয়ে দিন। চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মাথার ত্বকের নানা সমস্যা

মাথার ত্বক বিশেষ ধরনের। কারণ, এতে হেয়ার ফলিকল, স্বেদগ্রন্থিসহ নানা বাড়তি উপাদান থাকে। এই ত্বকে কিছু বিশেষ ধরনের সমস্যাও হতে পারে।

খুশকি: খুশকি বা ড্যানড্রাফ হলো মাথার ত্বকের একটি বিশেষ সমস্যা। এ সমস্যায় ত্বকের মৃত কোষগুলো সাদা সাদা গুঁড়া অথবা অনেক সময় টুকরার মতো উঠে আসে। ছত্রাকের সংক্রমণ থাকতে পারে এর সঙ্গে। চুলকানি হতে পারে অথবা ত্বক লাল হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে কিটোকোনাজল শ্যাম্পু ও অন্যান্য চিকিৎসা নিলে ভালো থাকা যায়।

সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: খুশকি আরও তীব্র আকার ধারণ করলে, মাথার ত্বক লাল ও ক্ষতের মতো হয়ে গেলে, ত্বক টুকরার মতো উঠে এলে, তাকে সেবোরিক ডার্মাটাইটিস বলে। ভ্রু ও মুখের ত্বকেও এ সমস্যা হতে পারে। এ সমস্যায় তৈলাক্ত ত্বক বা ব্রন বেশি দেখা যায়।

রিং ওয়ার্ম: শিশুদের মাথার ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়ে ছোট জায়গায় গোল বা ছোপ আকারে চুল উঠে আসতে পারে। লাল রাশের মতো হয়। এটি সংক্রামক। আক্রান্ত ব্যক্তির তোয়ালে, টুপি, হ্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করলে অন্যরাও আক্রান্ত হতে পারে। অনেক শিশু পোষা প্রাণী থেকে সংক্রমিত হয়। এ সমস্যা কাটাতে ছত্রাকরোধী মলম ও মুখে খাবার ওষুধ লাগে।

ফলিকুলাইটিস: চুলের গোড়ায় বা হেয়ার ফলিকলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে তাকে ফলিকুলাইটিস বলে। এতে মাথার ত্বকের বিভিন্ন জায়গায় পুঁজভর্তি ছোট দানা হয়। শেভ বা ওয়াক্স করা থেকে এমনটা হতে পারে। এর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের দরকার হয়।

সোরিয়াসিস: সোরিয়াসিস শরীরের অন্যান্য স্থানের মতো মাথার ত্বককেও আক্রান্ত করতে পারে। এটি একটি জটিল ও মাল্টিসিস্টেম রোগ। এ সমস্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

উকুন: মাথার ত্বকে উকুন বা লাইস একটি পরিচিত সমস্যা। বিশেষ করে শিশুরা এতে ভোগে বেশি। বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা না হলেও এটি বিরক্তিকর ও বিব্রতকর। পারমিথ্রিন ক্রিম বা শ্যাম্পু, আইভারমেকটিন ইত্যাদি ব্যবহার করে উকুন নিধন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনা শনাক্তে অ্যান্টিজেন টেস্টের অনুমোদন

স্বল্প সময়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড-১৯) শনাক্ত করার জন্য দেশের সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল, সরকারি পিসিআর ল্যাব এবং সব স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়ে আজ সোমবার আদেশ জারি করেছে। তবে আদেশে তারিখ দেওয়া হয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর। অবশ্য শর্ত হলো, যাচাই-বাছাইয়ের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রক্রিয়াধীন কোভিড-১৯ ল্যাব সম্প্রসারণ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হলে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

অনুমতিপত্রে বলা হয়, সারা দেশে অ্যান্টিজেন টেস্টের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে অতি স্বল্প সময়ে কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রস্তাবনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুসরণ করে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের প্রধান সুবিধা হলো ৩০/৪০ মিনিটের মধ্যে টেস্টের ফলাফল পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়ন্ত্রিত যাপন

পুষ্টিকর খাবার আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সঠিক থাকলে সহজে রোগ ও সংক্রমণ থেকে বাঁচা যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ভূমিকা কতখানি, সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হলো এসকেএফ জিঙ্ক নিবেদিত ‘এই সময়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’র দ্বিতীয় পর্বে। এবারের বিষয় ছিল ‘রোগ প্রতিরোধে পুষ্টিবিদের পরামর্শ’। ডা. ফাইজা রাহলার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে ছিলেন বিআরবি হাসপাতাল লিমিটেডের পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান। অনুষ্ঠানটি ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এবং এসকেএফের ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

খাবার তো আমরা সব সময়ই খাচ্ছি। সব খাবারই যে শরীরের উপকারে আসছে, সে ধারণা ঠিক নয়। সুস্থ থাকতে যেসব পুষ্টি উপাদান দরকার, তা কেবল ‘সঠিক খাবার’ থেকেই আমরা পেয়ে থাকি। শুধু সঠিক খাবার নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারি। আর এটি বৃদ্ধি পেলে যেকোনো রোগ–জীবাণুর বিরুদ্ধের লড়াই করা সম্ভব হবে। তাই শরীরের ‘ফাইটিং মোড’ সচল রাখতে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই কিছু পুষ্টি উপাদান রাখতেই হবে

কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন ও মিনারেলস—এই উপাদানগুলো শরীর সচল ও সুস্থ রেখে থাকে। কিন্তু আমাদের বেশির ভাগ মানুষের খাদ্যাভ্যাস এমন যে দেখা যায় এই পুষ্টি উপাদানগুলোর যেকোনো একটি বেশি গ্রহণ করা হয়ে যায়। তখন শরীরে অন্য পুষ্টি উপাদানের চাহিদা অপূর্ণ থেকে যায়। তাই শরীরে সব পুষ্টি উপাদানের চাহিদা মেটাতে সুষম বা ব্যালেন্স ডায়েট মেনে খাবার খেতে হবে।

খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি জীবনযাপনের পদ্ধতিও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। কারণ, শুধু খাবার খেলেই চলবে না, খাবারটি যাতে শরীরে কাজে লাগে, সে জন্য আমাদের চলাফেরা ও বিশ্রামের দিকে নজর দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞের মতে, সন্ধ্যার পর কোনো ভারী খাবার খাওয়া উচিত নয়। কারণ, এ সময়ে শরীরে মেটাবলিজম ধীরগতিতে হয়। সূর্যাস্তের পর খেলে খাবার মেটাবোলাইজড না হয়ে ডিপোজিট হয়, অর্থাৎ জমে যায়। এতে ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ, টাইপ–টু ডায়বেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ জন্য রাতে হালকা খাবার খেতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই সময়ে বেশির ভাগ মানুষ ঘরে বন্দী। এ জন্য আমাদের রুটিন বদলে গেছে। অনেকে রাত জেগে কাজ করছেন বা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন। আবার সকালে দেরি করে ঘুম থেকে উঠছেন। এ সময়ে লেট নাইট স্ন্যাক হিসেবে ‘স্টোরড ফুড’, যেমন: বিস্কুট, চিপস, ড্রিংকস—এ ধরনের খাবার খেতে মানুষ বেশি পছন্দ করে। এসব খাবারে আছে উচ্চ ক্যালরি ও কার্বোহাইড্রেট। এসব খাবার গ্রহণে শরীরে ফ্যাট ডিপোজিট হয় এবং নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ে।

একটি মেশিন বিরামহীনভাবে চলতে থাকলে আস্তে আস্তে সেটার কার্যক্ষমতা কমতে থাকে। মানুষের শরীরও মেশিনের মতো। শরীরে বিশ্রামের প্রয়োজন আছে এবং সেটি নিতে হবে সঠিক সময়ে অর্থাৎ রাতে ঘুমের মাধ্যমে। এ জন্য এ সময়ে রাত না জেগে সবারই উচিত অন্তত ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো।

এ ছাড়া রন্ধনপ্রক্রিয়ার দিকে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন বিশেষজ্ঞ। কারণ, সঠিকভাবে খাবার রান্না না করলে অনেক পুষ্টি উপাদান পাতে আসার আগেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যেমন, বেশির ভাগ সময় আমরা শাকসবজি কেটে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে থাকি। এতে পানির সঙ্গে মিশে অনেক পুষ্টি উপাদান বের হয়ে যায়। আবার রান্না করার সময়ও কিছু উপাদান নষ্ট হয়। তাই সবারই উচিত সঠিক রন্ধনপ্রক্রিয়া জেনে রান্না করা, যাতে খাবারের পুষ্টিমানের কোনো পরিবর্তন না ঘটে।

আমাদের দেশে মানুষের খাদ্যাভ্যাসের জন্য দেখা যায়, শরীরে কোনো না কোনো পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থেকেই যায়। এ ঘাটতি পূরণের জন্য ভিটামিন বা মিনারেল সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। এখন এমন অনেক সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়, যাতে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই বলে নিজের ইচ্ছেমতো দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যাবে না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো হয় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।

অনুষ্ঠানের শেষ দিকে পুষ্টিবিদ ইসরাত জাহান দর্শকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা–সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

টিকা পেতে ৫ দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের পথে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরীক্ষায় থাকা বিশ্বের নয়টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পাঁচটির সঙ্গে সরকারের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেছেন, ‘এই টিকাগুলো থেকে সঠিক টিকা, সঠিক সময়ে পেতে চাই আমরা।’

আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আধুনিকায়ন ও উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা এবং শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ছিল এ আয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশে ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হলে আমরাও বসে থাকব না। এ বিষয়ে আর্থিক ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য সব কার্যক্রম সম্পন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব ধরনের নির্দেশনা রয়েছে।’

করোনার ‘সেকেন্ড ওয়েভ’ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী মানুষ করোনাকে অবহেলা করছে। এর ফলে আমেরিকা, ইউরোপসহ অনেক দেশেই করোনায় সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও শীতকালে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ শুরুর আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলে তার জন্য কী কী করণীয়, সে ব্যাপারে আমাদের সব প্রস্তুতি এখনই নেওয়া হচ্ছে।’

করোনা মোকাবিলায় দেশের স্বাস্থ্য খাত ইতিমধ্যে সক্ষমতা দেখিয়েছে দাবি করে জাহিদ মালেক বলেন, ‘আক্রান্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সেকেন্ড ওয়েভ শুরু হলেও দেশের স্বাস্থ্য খাত এভাবেই মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছে।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল) মহিবর রহমান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনিযুক্ত পরিচালক কর্নেল নাজমুল হক, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ইউছুফ ফকির প্রমুখ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com