আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ’ লিটার সুগন্ধি!

মহামারি করোনায় কাবা শরিফে দীর্ঘদিন ওমরাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকার পর এখন সবার নামাজের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ওমরাহ পালনকারী ও মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নিরাপত্তার জন্য বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। প্রতিদিন ৪ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী এ কাজে নিয়োজিত। প্রতিদিন স্প্রে করা হয় ১ হাজার ২০০ লিটার সুগন্ধি। খবর আল-আরাবিয়া আরবি।

প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসে দীর্ঘ সাড়ে ৭ মাস ওমরাহ বন্ধ থাকার পর গত ৪ অক্টোবর থেকে প্রথম ধাপে সীমিত পরিসরে তা আবার শুরু হয়েছে। এখন চলছে দ্বিতীয় ধাপে ওমরাহ পালন। এ ধাপে ওমরাহকারীদের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে তৃতীয় ধাপে বহির্বিশ্বের ওমরাহ পালনকারীদের গ্রহণে সৌদি আরব প্রস্তুত বলেও জানা গেছে।

বর্তমানে কাবা শরিফে সবার জন্য নামাজ পড়ার সুযোগ রয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে চলছে ওমরাহ কার্যক্রম। ওমরাহ পালনকারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হারামাইন কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সচেতনার সঙ্গে কাজ করছে। ওমরাহ পালনকারী ও মুসল্লিদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে মসজিদের হারাম এলাকায় প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ লিটার আতর স্প্রে করছে। পরিচ্ছন্নতার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে ৪ হাজার কর্মী।

হারামাইন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মসজিদে হারামে ওমরাহ আদায়ের লক্ষ্যে আগত মুসল্লিদের আনাগোনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে।


বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, মসজিদুল হারামের অভ্যন্তর, বহিরাংশ ও মাতআফসহ পুরো এলাকা পরিচ্ছন্নতায় এবং সুগন্ধি ছিটানোর কাজে ৪ হাজার কর্মী নিয়োজিত। বিশাল এ বহরে পুরুষের পাশাপাশি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীও রয়েছেন। বিশাল কর্মী বাহিনী পরিচালনায় ১৮০ জন সুপারভাইজার নিরলস তদারকির কাজ করে যাচ্ছেন। সুপারভাইজারদের দক্ষ পরিচালনায় তিন শিফটে ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা এ সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

প্রতিদিন কাবা শরিফ তথা পুরো মসজিদে হারাম এলাকা রাত-দিন মিলিয়ে ১০ বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার এ কাজে ডিজিটাল মেশিনে পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত উন্নত প্রযুক্তির ডিটারজেন্ট এবং জীবাণুনাশকও ব্যবহার করা হয়। সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন ১২ লিটার বিভিন্ন দামি ব্র্যান্ডের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পবিত্র সুগন্ধি ছিটানো হয়।

উল্লেখ্য, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পরিচালক জাবের ওদাআনি জানান, পুরো মসজিদে হারাম এলাকা ছাড়াও পবিত্র কাবা শরিফ, মাতআফ, রোকনে ইয়ামেনি, হাজরে আসওয়াদ, মুলতাজেম, হাতিমে কাবা, মাকামে ইবরাহিম, সাফা-মারওয়া পাহাড় সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অব্যাহত রয়েছে।

  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

    কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

    কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

    কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি! হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

    কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!

  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!
  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!
  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!
  • কাবা শরিফে প্রতিদিন ছিটানো হয় ১২শ' লিটার সুগন্ধি!
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

দয়াশীল আচরণে বিশ্বনবির অতুলনীয় শিক্ষা

 এসেছে-

– হজরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে দয়া প্রদর্শন করবে, রহমান আল্লাহ তার প্রতি দয়া করবেন। তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি দয়া কর, তাহলে ঊর্ধ্বালোকবাসী তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ)

– হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের দিন বলবেন- ‘হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ ছিলাম তুমি আমার সেবা-শুশ্রুষা করনি’।
বান্দা বলবে- ‘হে আমার প্রভু, তুমি সারা বিশ্বের প্রতিপালক। আমি তোমার সেবা-শুশ্রুষা কীভাবে করতে পারি’?
আল্লাহ তাআলা বলবেন- ‘আমার এক বান্দা অসুস্থ ছিল; তুমি তা জানার পরও তার সেবা-শুশ্রুষা করনি। তুমি তার শুশ্রুষা করলে তুমি আমাকে তার পাশে পেতে। এটি কি তুমি জানতে না’?
‘হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, তুমি দাওনি’। এটি শুনে আদম সন্তান বলবে-
‘হে আমার প্রভু! তুমি তো বিশ্বপ্রতিপালক। আমি কীভাবে তোমাকে খাওয়াতে পারি’?
আল্লাহ তাআলা বলবেন- ‘তোমার কি মনে নেই? আমার এক বান্দা খাবার চেয়েছিল; তুমি তাকে খাবার খাওয়াওনি। তুমি যদি তাকে খাবার খাওয়াতে তাহলে তুমি আমার কাছে এর প্রতিদান পেতে, তুমি কি এটি জানতে না’?
‘হে আদম সন্তান! আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, তুমি আমাকে পানি পান করাওনি’।
আদম সন্তান বলবে- ‘হে আমার প্রভু! তুমিই তো সারা বিশ্বের প্রতিপালক। তোমাকে আমি কীভাবে পানি পান করাতে পারি’?
এতে আল্লাহ তাআলা বলবেন- ‘আমার এক পিপাসার্ত বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল কিন্তু তুমি তাকে পানি পান করাওনি। তুমি তাকে পানি পান করালে এর প্রতিদান তুমি আমার কাছে পেতে।’ (মুসলিম)

– হজরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘সকল সৃষ্টি-প্রাণীকূল আল্লাহর পরিবার-পরিজন। অতএব, আল্লাহ তাআলার কাছে তার সৃষ্টজীবের মাঝে সে-ই প্রিয়ভাজন, যে তার অধীনস্ত ও সৃষ্টজীবের সঙ্গে দয়াশীলআচরণ করে এবং তাদের প্রয়োজনের প্রতি যত্নবান থাকে।’ (মিশকাত)

হাদিস অনুযায়ী আমাদের কিছু করণীয়-
হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘একজন মুসলমানের কাছে অপর মুসলমানের ৬টি অধিকার প্রাপ্য রয়েছে। তাহলো-
– তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলা।
– সে হাঁচি দিলে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা।
– সে অসুস্থ হলে তার শুশ্রুষার জন্য যাওয়া।

আল্লাহ্ তাআলার ফজলে অনেকেই নিজে থেকেই এ বিষয়ে লক্ষ্য রাখেন এবং হাসপাতালে গিয়ে পরিচিত-অপরিচিত রোগীর সেবা-শুশ্রুষা করেন। তাদের জন্য ফলফলাদি নিয়ে যান, ফুল নিয়ে যান। এটি সত্যিই খুব ভাল অভ্যাস। আর খেদমতে খালকের (সৃষ্টির সেবার) এই পদ্ধতি খুবই ভাল।
– সে ডাকলে তার ডাকে সাড়া দেওয়া।
– সে মারা গেলে তার জানাযায় শামিল হওয়া।
– নিজের জন্য যা পছন্দ কর, অপরের জন্যও তা-ই পছন্দ করা। আর তার অবর্তমানে তার কল্যাণ কামনা করা।’ (দারেমি)

তাই আসুন, আমরা মানুষের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকি এবং অন্যের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করি। আমরা যদি অন্যের প্রতি দয়াশীল হই; তবে পরকালে আল্লাহ আমাদের সঙ্গেও অনুরূপ দয়াশীল আচরণ করবেন এবং আমাদের অস্থিরতা এবং সমস্যাসমূহ দূর করে দেবেন।

আল্লাহ তাআলা বিশ্ব মানবতার সবাইকে পরস্পরের প্রতি উত্তম আচরণ ও দয়াশীল হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আয়-রোজগারে বরকত আসবে যেভাবে

মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় অনুগ্রহ হলো জীবন ও সম্পদের বরকত লাভ। বর্তমানে একটি হাহাকারই বেশি শোনা যায় যে, ঘরে বরকত নেই; রিজিকে বরকত নেই। খাবার ও রুজিতে বরকত নেই। বরকত নেই আয়-রোজগারে। তাহলে সব কাজে বরকত লাভে কী করবেন?

সব বরকতহীন কাজে বরকত লাভের উপায় বলে দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এমনকি অযথ সময় ব্যয় করার ফলে আয়-রোজগার ও সময়েও বরকত পায় না মানুষ। এ নিয়ে মানুষের মাঝে হা-হুতাশের শেষ নেই।

জীবন ও সম্পদে তথা আয়-রোজগারে বরকত লাভে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়ে গেছেন অসংখ্য উপদেশ ও দিকনির্দেশনা। তিনি বলেছেন, বিশুদ্ধ নিয়তে যথাযথ কাজ। তা হোক কম-বেশি। আর তাতে দুনিয়া কিংবা পরকালে সমস্যার সমাধান পাবে মুমিন। অল্প বিশুদ্ধ কাজগুলো মুক্তি কিংবা সমাধানে যথেষ্ট। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ ছোট্ট আমলটি সব কাজে বরকত লাভে যথেষ্ট কার্যকরী। তাহলো হলো-
> প্রতিটি কাজের শুরুতে বলা-
بِس‍ْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْم
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’
অর্থ : পরম করুনাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

একবার এক সাহাবি নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে অনুযোগের স্বরে বললেন- ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা খাবার খাই, কিন্তু পেট ভরে না। খাবারে তৃপ্ত হতে পারি না। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- ‘সম্ভবত তোমরা আলাদা আলাদা খাও; তাই না?
ওই সাহাবা বললেন, ‘জি হ্যাঁ’; ঠিক তাই! তিনি বললেন-
– ‘এক সঙ্গে খাবার খেতে বসবে।’
– আল্লাহর নাম নিয়ে (بِس‍ْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْم বলে) শুরু করবে।’
তবে আল্লাহ তাআলা বরকত দেবেন।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)।

ছোট ছোট নড়াচড়া, ঐক্য, সামান্য মেহনতের সব কথা ও কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ’র আমল করলে বড় বড় সাফল্য অর্জিত হয়। আল্লাহর স্মরণে যেন হয় মুমিন মুসলমানের প্রতিটি কাজ। আল্লাহর স্মরণে মাধ্যমে প্রতিটি কাজ শুরু হলে তাতে মিলবে বরকত। অথচ মানুষ ছোট্ট ও সহজ এ আমলটি থেকেই হর-হামেশা বিরত থাকে।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে এ আমল করেছেন। সাহাবায়ে কেরাম এ আমলের হুবহু বাস্তবায়ন করে গেছেন। যার বরকত তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পেয়েছেন। এখনও যারা এ আমল জারি রেখেছেন; তারাও বিসমিল্লাহ’র বরকত থেকে বঞ্চিত হন না। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উঠে এসেছে-

– রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে খাদ্যে বিসমিল্লাহ পড়া হয় না, সে খাদ্যে শয়তানের অংশ থাকে।’ (মুসলিম)

– রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে খাবারের মজলিসে এক সাহাবি ‘বিসমিল্লাহ’ ব্যতিত খাওয়া শুরু করে। পরে যখন স্মরণ হয় তখন বলেন- ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালিহি ও আখিরিহি` তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ অবস্থা দেখে হাসতে লাগলেন এবং বললেন, ‘শয়তান যা কিছু খেয়েছিল তিনি (সাহাবি) বিসমিল্লাহ পাঠ করার সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে সব বমি করে দিয়েছে।’ (আবু দাউদ)

– হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, বিসমিল্লাহ যখন নাজিল হয়, তখন মেঘমালা পূর্ব দিকে দৌড়াতে লাগল, সাগরগুলো উত্তাল অবস্থায় ছিল, সব প্রাণীজগত নিস্তব্ধভাবে দাঁড়িয়ে শুনতে ছিল, শয়তানকে দূরে বিতাড়িত করা হয়েছিল এবং আল্লাহ তাআলা নিজ ইজ্জত ও জালালিয়াতের কসম খেয়ে বলেছেন, যে জিনিসের ওপর বিসমিল্লাহ পড়া হবে, ঐ জিনেসে অবশ্যই বরকত দান করব। (তাফসিরে মারদুওয়াই)

– হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বিপক্ষে শত্রু যুদ্ধের ময়দানে অপেক্ষা করছিল। হজরত খালিদ ইবনে ওয়ালিদের ধর্মে সত্যতা পরীক্ষার জন্য বিষে ভরা একটি শিশি তাঁকে দেয়া হলো। তিনি শিশির সম্পূর্ণ বিষ বিসমিল্লাহ পড়ে পান করেছেন। কিন্তু বিসমিল্লাহ`র বরকতে বিষের বিন্দুমাত্র প্রভাবও তার ওপর পড়েনি। (তাফসিরে কাবির)

– হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘কোনো ব্যক্তি যদি পায়খানায় (টয়লেটে) প্রবেশকালে বিসমিল্লাহ পড়ে, তবে জিন ও শয়তানদের দৃষ্টি ওই ব্যক্তির গুপ্তাঙ্গ পর্যন্ত পৌছতে পারে না।’ (তিরমিজি)

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সব কাজে বরকত লাভে শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া। তবে লোক দেখানো, কু-ধারনা, কল্পনা ও অবিশ্বাস থেকে বিরত হয়ে খালেছ নিয়ত, সুদৃঢ় বিশ্বাস, আল্লাহর সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক এবং পরিপূর্ণ ঈমান রাখার নিয়তে সব কাজে বিসমিল্লাহ পড়া জরুরি। তবেই সব কাজে বরকত লাভ করবে মুমিন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ছোট্ট আমলের মাধ্যমে সব কাজে বরকত লাভের তাওফিক দান করুন। হাদিসের উপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দিন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কর্মসংস্থান তৈরি ও দারিদ্র্য দূর করবে জাকাত

হাফেজ মো. হাসানুর রহমান

ইসলামের মৌলিক ৫ স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম একটি ফরজ ইবাদত জাকাত। নির্ধারিত নিসাবের মালিক ধনী মুসলিমের ওপর নামাজ, রোজা ও হজের মতো এটিও অবশ্য পালনীয়। কিন্তু বর্তমান সমাজের চিত্র হলো এই, আমরা নামাজ, রোজা ঠিকই আদায় করছি, কিন্তু জাকাত আদায়ের ব্যাপারে উদাসীন। অথচ প্রতিবছর একবার জাকাত আদায় করতে হয়।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমের ৩২ স্থানে জাকাত দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। নামাজের নির্দেশের পরপরই ২৮ জায়গায় জাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে। এ নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্যই হলো নামাজের মতোই জাকাত অবশ্য পালনীয় ইবাদত। আল্লাহ তাআলা একাধিক আয়াতে বলেন-
‘তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠা করো এবং জাকাত আদায় করো।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৩)
‘তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ তাঁর রাসুল এবং মুমিনগণ- যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে, জাকাত দেয় এবং বিনম্র।’ (সুরা মায়েদা : আয়াত ৫৫)

জাকাত দেয়ার সময়
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে বছর শেষে ইসলামি শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত অংশ গরিব মুসলিমকে প্রদান করতে হয়। এ জাকাত দান নয় বরং এটি ধনীর সম্পদে গরিবের অধিকার।

বর্তমান সমাজের অর্থব্যবস্থার একটি লক্ষ্যণীয় দিক হলো-
একদিকে মুষ্টিমেয় মানুষের কাছে অধিক সম্পদ রক্ষিত; আবার অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ মিলে ভোগ করছে সামান্য সম্পদ। অর্থাৎ ধনীরা আরও ধনী হচ্ছে আর গরীব আরও নিস্ব হচ্ছে।

জাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থা
ইসালামের ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় ইসলামি রাষ্ট্র ব্যবস্থা চালু করার পর সেখানে জাকাতভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ফলে কিছুদিনের মধ্যেই দারিদ্র্য ও বৈষম্যমুক্ত মানবিক রাষ্ট্রে রূপ নেয় মদিনা মুনাওয়ারা।

ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু জাকাত আদায়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যারা একটি উটের রশি পরিমাণ সম্পদও জাকাত দিতে অস্বীকার করবে; তাদের বিরুদ্ধে আমি যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।’ (বুখারি) খলিফার এ ঘোষণার মর্মার্থই ছিল, গরিবের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি সম্পদ জমা করে রাখা পুঁজিপতির ব্যাপারে ইসলামের কঠোর অবস্থান কেমন হবে, তা সুস্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া।

জাকাত না দেয়ার পরিণাম
জাকাত মানে পবিত্রতা, শুদ্ধি ও বৃদ্ধি পাওয়া। জাকাত আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পদ পবিত্র হয়ে যায়। সম্পদের বরকত বেড়ে যায়। শারীরিক ইবাদতের মধ্যে যেমন নামাজ শ্রেষ্ঠ; তেমনই আর্থিক ইবাদতের মধ্য জাকাত সর্বাধিক শ্রেষ্ঠ। জাকাত আদায় না করার শাস্তি বা পরিণাম খুবই ভয়াবহ। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে বলেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! পণ্ডিত ও সংসারবিরাগীদের অনেকে লোকদের মালামাল অন্যায়ভাবে ভোগ করে চলছে এবং আল্লাহর পথ থেকে লোকদের নিবৃত রাখছে। আর যারা স্বর্ণ ও রুপা জমা করে রাখে এবং তা ব্যয় করে না আল্লাহর পথে, তাদের কঠোর আজাবের সুসংবাদ শুনিয়ে দিন। সেদিন জাহান্নামের আগুনে তা উত্তপ্ত করা হবে এবং তার দ্বারা তাদের ললাট, পার্শ্ব ও পৃষ্ঠদেশকে পোড়ানো হবে আর (সেদিন বলা হবে) এগুলো (সেই সম্পদ) যা তোমরা নিজেদের জন্যে জমা রেখেছিলে। সুতরাং এখন জমা করে রাখা সম্পদের স্বাদ গ্রহণ কর।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩৫)

জাকাতের বিধান দেয়ার কারণ
ধনী-গরিবের সমতা আনতে ইসলামে জাকাতের সুন্দর বিধান প্রদান করা হয়েছে। সমাজের মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে সব সম্পদ যাতে জমা হতে না পারে। সমাজের সব মানুষের মধ্যে একটা সমতা যাতে আসে। এ কারণেও জাকাতের ভূমিকা অপরিসীম।

অধ্যাপক বেনহাম ভালো রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, ‘যে রাষ্ট্র ব্যাপকভাবে জনগণের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তা-ই কল্যাণ রাষ্ট্র।’

আর সামাজিক নিরাপত্তা বলতে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের ন্যূনতম অর্থনৈতিক প্রয়োজন পূরণের নিশ্চয়তাকেই বোঝায়। আর তাই জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে ইসলামে জাকাত ব্যবস্থার বিকল্প নেই। জাকাতভিত্তিক রাষ্ট্র চালু হলে সুদভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা দূর হবে।

দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের অধিকাংশ ধনী জাকাত দেয় না। জাকাত দিলেও সঠিক হিসাব করে প্রকৃত ব্যক্তিকেও দেয় না। আর যারা জাকাত দেয়; তাদের অধিকাংশই লোক দেখানো প্রচার সর্বস্ব দান করে।

কুরআনুল কারিমের ঘোষণা মতে, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জাকাত আদায় এবং বণ্টনের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা জরুরি। কিন্তু কোনো রাষ্ট্র যদি ইসলামি রাষ্ট্র না হয়, তাহলে সেখানকার জাকাতদাতারা নিজ উদ্যোগে তার উদ্বৃত্ত সম্পদের হিসাব করে জাকাত দিতে হবে।

জাকাত যেভাবে দিতে হয়
জাকাত এমনভাবে দেয়া উচিত যেন জাকাত পাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি দ্রুতই স্বাবলম্বী হয়ে যেতে পারে। প্রতিবছর যেন এক ব্যক্তিকে জাকাত দিতে না হয়। আর জাকাত গ্রহণকারী ব্যক্তিও যেন আর জাকাত গ্রহণ না করে। ন্যূনতম ২-৩ বছরের মধ্যে যেন স্বাবলম্বী হয়ে নিজেও জাকাত দিতে সক্ষম হয়ে উঠতে পারেন।

আমাদের দেশে দেখা যায়, অনেক সম্পদশালী লোক দেখানোর জন্য হাজার হাজর মানুষ জড়ো করে কম দামি লুঙ্গি আর মানহীন শাড়ি দিয়ে বিদায় করেন। অথচ এতো লোক জড়ো না করে প্রতিবছর নির্ধারিত সংখ্যক লোককে বড় অঙ্কের মূলধন দিলে; তারা নিজেরাও তার মাধ্যমে অল্প দিনেই স্বাবলম্বী হতে পারতেন। আর জাকাতের এ অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বপ্রথম নিকটাত্মীয়দের প্রাধান্য দেয়া উত্তম।

মনে রাখা জরুরি
জাকাত দেয়ার সময় আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, আমার সম্পদের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের ওপর গরিবের অধিকার রয়েছে। আমি কেবল সেই অধিকারটি পালন করছি। বিষয়টি এমন, জাকাতদাতা হচ্ছেন দেনাদার আর গ্রহীতা হচ্ছেন পাওনাদার। পাওনাদারকে যেভাবে সম্মানের সঙ্গে সময়মতো অর্থ পরিশোধ করতে হয়, ঠিক তেমনিভাবেই জাকাতের অর্থও হকদারকে পরিশোধ করতে হবে। আবার কর্মঠ গরিবদের আত্ম-কর্মসংস্থানে সহায়তা করে স্বাবলম্বী করার জন্য জাকাতের অর্থ ব্যয় করার মাধ্যমেই দারিদ্র্যমুক্ত রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব হবে।

দ্বীনের প্রচার-প্রসার ও দ্বীনি শিক্ষার বিস্তারেও জাকাতের অর্থ ব্যয় করা যায়। যথার্থ কারণে ঋণগ্রস্ত এবং ঋণ পরিশোধে অক্ষম হয়ে পড়লে, তাদের ঋণমুক্তির জন্যও জাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যাবে।

মুসাফির যদি আর্থিক অসুবিধায় পড়েন, তবে তাকে জাকাতের অর্থ দিয়ে সাহায্য করা যাবে, যদিও তার বাড়ির অবস্থা ভালো থাকে।

পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায়-
ইসলামের সোনালি যুগের শাসনব্যবস্থায় জাকাত নেয়ার মতো লোক পাওয়া যেত না। তখন মুসলিম, খ্রিষ্টান, ইয়াহুদিসহ সব জাতি-গোষ্ঠীর নাগরিক বৈষম্যহীন সামজের গর্বিত সদস্য হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতো।

শাসকবর্গ জাকাতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা রাখতেন। জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা তো দূরের কথা, একটা শাড়ি-লুঙ্গি নিতে গিয়ে মানুষ ২ দিন ৩ রাত ধনীর দরজার সামনে বসে থাকতে হতো না।

দেশে এত বেশি বৈষম্য লক্ষণীয় যে, কোটিপতির সংখ্যা লক্ষাধিক হলেও ১০ লাখেরও বেশি পথশিশু রাস্তায় ঘুমায়। জাকাত ব্যবস্থা চালু হলে এ দেশের একটি শিশুরও মাথা গোজাবার জন্য আকাশ নামক খোলা ছাদকে বেছে নিতে হতো না।

বৈষম্যহীন মানবিক রাষ্ট্র গড়তে হলে জাকাত ব্যবস্থার বিকল্প কিছুই হতে পারে না। তাই সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং ফরজ বিধান পালন করতে সব বিত্তবান মুসলিমকে সঠিকভাবে জাকাত প্রদানে এগিয়ে আসতে হবে। তবেই অসহায় ব্যক্তিদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিরাজ করবে সুখ ও শান্তি।

লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রাতের যে দোয়া ও ইবাদতে ক্ষমা পায় মুমিন

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন তোমাদের কেউ রাতে জেগে আল্লাহর কাছে দোয়া করে, আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করেন। আর যদি ওই ব্যক্তি ওজু করে এবং নামাজ আদায় করে তবে সে নামাজও কবুল করা হয়।’ (বুখারি, মিশকাত)

আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে রাতের ইবাদতের বিকল্প নেই। সৃষ্টি জগতের সব প্রাণীকূল যখন ঘুমিয়ে পড়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা তখন তার নৈকট্য লাভের উপায় খুঁজে। কখন মাওলাকে একান্ত আপন মনে ডাকার সুযোগ পাবে। মুমিন মুসলমানের সেই সময়টি হচ্ছে গভীর রাত। যে সময়ে সবাই ঘুমালেও আল্লাহর আশেক বান্দারা ঘুমায় না।

বান্দা যখন গভীর রাতে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেয় এবং প্রশাংসা করে, তখন আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা করে দেয়; একান্ত আপন করে নেয়। আল্লাহর প্রিয় বান্দারা গভীর রাতে এভাবে আল্লাহর গুণগান গায়-
لا إلهَ إلاَّ اللَّه وحْدهُ لاَ شَرِيكَ لهُ، لَهُ المُلْكُ، ولَهُ الحمْدُ، وَهُو عَلَى كُلِّ شَيءٍ قَدِيرٌ – سُبْحَانَ اللهِ، وَالْحَمْدُ للهِ، وَلَا إلَهَ إلّا اللهُ، وَاللهُ أكْبَر – وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِالله
উচ্চারণ : ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহানাল্লাহি ওয়াল হামদু লিল্লাহি ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার; ওয়া লা হাওলা ওয়া লা কুয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।’

অর্থ : ‘আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁর জন্যই সকল রাজত্ব ও তাঁর জন্যই সকল প্রশংসা এবং তিনিই সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। মহা পবিত্র আল্লাহ। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন ক্ষমতা নেই কোন শক্তি আল্লাহ ব্যতীত।

এ প্রশংসা ও একত্ববাদের ঘোষণার পর বান্দা যখনই বলবে-
رَبِّى اغْفِرْلِىْ
‘রাব্বিগফিরলি’
অর্থ : ‘হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন।

তখনই মহান আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত দান করেন।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রাতের ইবাদত ও দোয়া করার মাধ্যমে তাঁর একান্ত নৈকট্য অর্জন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

নামাজ যেভাবে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন গঠনের উপায়

নামাজ ইসলামের প্রধান ইবাদত। পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয়। শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবন গঠনে জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের বিকল্প নেই। আল্লাহর সামনে আনুগত্য ও বিনয় প্রকাশের শ্রেষ্ঠ মাধ্যমও নামাজ। এ আনুগত্য ও বিনয়ের মাধ্যমেই আল্লাহর সঙ্গে বান্দার একান্ত সুসম্পর্ক তৈরি হয়। দুনিয়ার যাবতীয় অশ্লীলতা ও গর্হিত কাজ থেকেও বিরত থাকে মুমিন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘নিশ্চয়ই নামাজ (মানুষকে) অশ্লীল ও ফাহেশা কাজ থেকে বিরত রাখে।’

জামাআতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব শুধু হাদিসেই আসেনি বরং কুরআনুল কারিমের নির্দেশও এমনই। কেননা জামাআতে নামাজ আদায় মানুষকে শৃঙ্খলাবোধ, সময়ানুবর্তিতা, কর্তব্যপরায়ণসহ বহু গুণে সমৃদ্ধ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সুসম্পর্ক এবং সাম্য গড়ে তোলে।

এ কারণেই ফরজ নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন মহান আল্লাহ তাআলা। তিনি বলেন-
‘তোমরা রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু কর।’ (সুরা বাকারা : আয়াত ৪৩)

এ আয়াতের মাধ্যমে ফরজ নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কুরআনের নির্দেশ, প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ ও অনুকরণে জামাআতে নামাজ পড়ায় রয়েছে অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত। হাদিসের বর্ণনায় তা উঠে এসেছে-

– রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘একাকি নামাজ আদায় করার চেয়ে জামাআতের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে ২৭গুণ বেশি সাওয়াব হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)

জামাআতে নামাজ আদায়কারীকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম খুবই পছন্দ করতেন। জীবনে তিনি কখনো জামাআত ত্যাগ করেননি। আবার কেউ জামাআতে না আসলেও তিনি তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। জামাআতে উপস্থিত না হলে তিনি খুবই অসন্তুষ্ট হতেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে নির্ধারিত সময়ের প্রতি গুরুত্ব, পরস্পরের আন্তরিকতাবোধ, ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ়, শৃঙ্খলাবোধ শেখাতে, ধনি-গরিব ও সাদা-কালোর পার্থক্য দূর করে সাম্য ও ন্যয় প্রতিষ্ঠায় মানবতাকে জাগ্রত করতেই জামাআতে নামাজের নির্দেশ ও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, নিজের দুনিয়া ও পারকালীন জীবনের শান্তি ও মুক্তির লক্ষ্যে জামাআতে নামাজ পড়ার প্রতি গুরুত্ব দেয়া। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী ফরজ নামাজ জামাআতের সঙ্গে আদায় করা জরুরি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুন্দর জীবন ও সাওয়াব লাভে জামাআতে নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

মনোসেক্স তেলাপিয়া: কবে, কোথা থেকে, কী করে বাংলাদেশে এসে জনপ্রিয় হয়ে গেলো এই বিদেশি মাছ?

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

ইলিশ সংরক্ষণে নেয়া উদ্যোগ যেভাবে নদীতে বাড়ালো পাঙ্গাস মাছ

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুলেছেন সাহিদা বেগম

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

ঔষধি গাছ: চেনা যে একুশটি বৃক্ষ, লতা, গুল্ম, পাতা, ফুল ও ফলের রয়েছে রোগ সারানোর ক্ষমতা

উভলিঙ্গদের কাহিনি: 'আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন' মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

উভলিঙ্গদের কাহিনি: ‘আমি ছেলে, কিন্তু আমার পিরিয়ড হয় কেন’ মানসিক যন্ত্রণা ও পরিচয় খোঁজার লড়াই যাদের

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসায় নতুন ওষুধের সম্ভাবনা দেখছেন বাংলাদেশের একদল গবেষক

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

নেক্রোফিলিয়া, সেক্সুয়াল স্যাডিজম, পেডোফিলিয়া, ক্লেপটোম্যানিয়াসহ যে সাত মানসিক ব্যাধি মানুষকে বানাতে পারে অপরাধী

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনা ভাইরাস: ঠাণ্ডার সঙ্গে কোভিডের কী সম্পর্ক?

করোনাভাইরাস: 'বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে'

করোনাভাইরাস: ‘বাংলাদেশে সংক্রমণ ঠেকানোর ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে’

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

মেডিক্যাল শিক্ষার জন্য মানুষের কঙ্কাল যেভাবে সংগ্রহ করা হয়

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

পোলট্রি: ব্রয়লারসহ বিদেশি মুরগি যেভাবে খাবারের টেবিলে জায়গা করে নিলো

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

করোনা ভাইরাস: বাংলাদেশে কি দ্বিতীয় ধাপ শুরু হতে যাচ্ছে? সরকারের প্রস্তুতি কতটা?

ফ্রান্সের মুসলিমদের 'প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ' মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

ফ্রান্সের মুসলিমদের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধ’ মেনে চলতে আলটিমেটাম দিলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

বাবা নিখোঁজ মা মানসিক ভারসাম্যহীন, তবুও স্বপ্ন দেখে রুবিনা

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

ইঁদুরের ধান বেচে শীতের পোশাক!

কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ঘুরে দাড়িয়েছেন ঘিওরের রকিবুল ইসলাম…

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

চলে গেলেন ফুটবলের মহানায়ক ম্যারাডোনা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

শখের বাগানে লাখপতি মারুফ এখন যুবকদের অনুপ্রেরণা

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

প্যারালাল ইউনিভার্স রহস্য [ভিডিও]

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

বিশ্বের দীর্ঘতম সামুদ্রিক ব্রিজ (ভিডিও)

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com