আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

কাঁঠালের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা দমন করবেন যেভাবে

 কাঁঠালের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা দমন করবেন যেভাবে
কাঁঠালের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা দমন করবেন যেভাবে

আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল। খেতেও সুস্বাদু। তাই সবার প্রিয় ফল এটি। দেশের প্রায় সব জায়গাতেই কাঁঠাল পাওয়া যায়। এখন চলছে কাঁঠালের মৌসুম। তাই জেনে নেই কাঁঠালের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ সম্পর্কে-

<script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”></script>

রোগের নাম: কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ

লক্ষণ: দুই ধরনের লক্ষণ দেখলেই বোঝা যায়-
১. এ পোকার আক্রমণ হলে গাছের কাণ্ডে ছিদ্র দেখা যায়।
২. কাণ্ডে মালার মতো ঝুল লেগে থাকে বা ঝুলতে থাকে।

প্রতিকার: কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ হলে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে-

১. গর্ত পরীক্ষা করে পোকা মেরে ফেলা।
২. গর্তের ভেতর প্যারাডাইক্লোরোবেনজিন ঢেলে গর্তের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া।
৩. সিরিঞ্জ দিয়ে গরম পানি গর্তের ভেতর ইনজেক্ট করেও পোকা মারা যায়।


৪. চিকন ধাতব তার গর্তের ভেতর ঢুকিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে মারা।
৫. কটন বাডের মাথা কেরোসিন বা পেট্রলের মধ্যে ভিজিয়ে গর্তে ঢুকিয়ে মুখ বন্ধ করে দেওয়া।

ফল

মাল্টা গাছের রোগবালাই ও চিকিৎসা

লিভ মাইনার মাল্টা গাছে একটি মারাত্মক ক্ষতি কারি পোকা । এ পোকা আক্রমণ করে গাছের ছোট এবং কচি সবুজ পাতা খেয়ে ফেলে। এছাড়া এটি ফলের উপর আঁকা বাঁকা সূরঙগের মত দাগ সৃষ্টি করে। প্রথম অবস্থায় আক্রমণ কৃত পাতা গুলো ছিড়ে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। হলুদ ফাঁদ তৈরি করে এই পোকা দমন করা সম্ভব। কিন্তু আক্রমণের পরিমাণ অতিরিক্ত বেশি হলে লিফ মাইনার পোকা দমন করতে কিনালাক্স ২ এমএল প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এই ওষুধ টি প্রতি ১৫ দিন অন্তর অন্তর গাছে স্প্রে করলে এধরনের পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

মাল্টা গাছের ডাম্পিং অফ রোগ

মাল্টা গাছে ড্যাম্পিং অফ রোগ হলে গাছের গোড়া পচে যায়। এটি মূলত বর্ষার সময় দেখা যায়। এছাড়া অতিরিক্ত পানি সেচ দেয়ার কারণে অনেক সময় এ সমস্যাটি হয়ে থাকে। এটি দূর করতে রেডোমিল্ড গোল্ড ২ গ্ৰাম ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় স্পে করতে হয়।

মাল্টা গাছের গেমোসিস রোগ

গেমোসিস রোগ হলে গাছের কান্ড ও পাতা বাদামি বর্ণ ধারণ করে। গাছের কান্ড মাঝ বরাবর ফেটে যায়। ও সেখান দিয়ে কস বের হতে থাকে। এ রোগটির অতিরিক্ত প্রাদুর্ভাব এর ফলে গাছটি উপর থেকে কান্ড শুকিয়ে মারা যেতে থাকে। মাল্টা গাছে গেমোসিস রোগ দেখা দিলে আক্রান্ত ডালের অংশটি কেটে ফেলে দিতে হবে এবং কাটা অংশে বোর্দো পেস্ট এর মিশ্রণ লাগিয়ে দিতে হবে। বোর্দো পেস্ট তৈরি করার জন্য ১৪০ গ্রাম চুন ও ৭০ গ্ৰাম তুতে আলাদা আলাদা পাত্রে নিয়ে পরবর্তীতে 1 লিটার পানির সাথে মিশিয়ে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

পেয়ারার চাষে পুষ্টি অর্থ দুটোই আসে

পেয়ারা ফলটি স্বাদ ও আকৃতিতে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এ ফলের স্বাদের পরিধি মিষ্টি থেকে অম্ল টক পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া এ ফলের কস্তরির মতো গাঢ় গন্ধ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জাতে দেখতে পাওয়া যায়। এ রসালো ফলটির উপরের চামড়াটি দেখা যায় পাতার সবুজ রঙ্গের বলয় দিয়ে ঘেরা রয়েছে। এজন্য এ ফলকে বাংলাদেশের আপেল বলা হয়। এ ফলের আকার কখনো গোলাকৃতি আবার কখনো ডিম্বাকৃতি হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। পেয়ারার আকার সাধারণত ৪ থেকে ১২ সেঃ মিঃ পর্যন্ত দীর্ঘ হয়ে থাকে।

এ ফলের বাহিরের অংশের রং হালকা সবুজ থেকে গাঢ় হলূদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ ছাড়া পেয়াারার ভিতরের শাঁসযুক্ত মাংসাল অংেশের পরিমাণ বিভিন্ন জাতে বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এর রংও কোনো ফলে সাদা বা হলুদ আবার কোনো ফলে লাল বা গোলাপী হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়। এ ফলের বীজগুলো শাঁসের সাথে খুবই দৃঢ়ভাবে গেঁথে থাকে। পেয়ারা ফলের ভিতরে প্রচুর পরিমাণে হলুদাভ শক্ত বীজ থাকে। এসব বীজের আকার ৩ থেকে ৫ মি. মি. এবং এর সাথে একটি বাকানো ভ্রুণও দেখতে পাওয়া যায়।

পেয়ারা ফলটির মাংসাল অংশে এবং বীজে সাধারণত শতকরা ৮০ ভাগ পানি, এক ভাগ আমিষ, ১৩ ভাগ শ্বেতসার এবং প্রায় ৬ ভাগ আঁশ থাকে। এছাড়া পেয়ারা ফলে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি থাকে। এতে ভিটামিন-সি পাওয়া যায় ১৪৬ থেকে ৪৯২ মিঃ গ্রঃ পর্যন্ত যার গড় পরিমান প্রায় ২৬০ মিঃ গ্রাম। ভিটামিন-সি ছাড়াও পেয়ারাতে ভিটামিন-এ, ক্যালসিয়াম, লোহা এবং ফরফরাস ও অনেক পাওয়া যায়। পেয়ারা ফলের ভিতরে শাঁসালো অংশ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন খাবার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পেকটিন। তা দিয়ে বীজগুলো ছাড়ানোর পর এ থেকে জ্যাম, , জেলি এসব তৈরি করা যায়।

এছাড়া পেয়ারার পাতার অনেক ভেষজগুণ ও রয়েছে। পেয়ারা পাতা সাধারণত ডায়রিয়া রোগের প্রতিষোধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার অনেক সময় পেয়ারা পাতা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং রং শিল্পেও ব্যবহৃত হয়। পেয়ারার বৈজ্ঞানিক নাম Psidium guajava এবং এ ফলটি Myrtaceae পরিবার ভুক্ত। পেয়ারা আমাদের গ্রীষ্ম মন্ডলীয় এলাকা বিশেষ করে বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে বাংলাদেশে উৎপাদিত ফলসমূহের মোট আবাদকৃত জমি ও মোট উৎপাদনের পরিমান বিশ্লেষণে পেয়ারার অবস্থান রয়েছে পঞ্চম স্থানে। বিগত কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষ পুস্তিকা- থেকে দেখা যায় বাংলাদেশে পেয়ারার আবাদকৃত জমির পরিমাণ প্রায় ২৪.৫১৫ হেক্টর এবং এর সর্বমোট উৎপাদন হয় ৪৫.৯৯০ মেট্রিক টন।

উৎপত্তি ও বিস্তার: আমেরিকা মহাদেশের উষ্ণ তাপযুক্ত এলাকা পেয়ারার উৎপত্তিস্থান বলে চিহ্নিত। সাথে সাথে অষ্ট্রেলিয়ার উষ্ণ অঞ্চলেও বিভিন্ন জাতের পেয়ারা হয়ে থাকে। ইতিহাসে দেখা যায়, আমেরিকা মহাদেশ থেকে প্রাচীনকালের নাবিকদের মাধ্যমে আমাদের দেশে পেয়ারা চাষের বিস্তার ঘটে থাকে। বাংলাদেশসহ ভারত, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে বর্তমানে প্রচুর পরিমাণে পেয়ারার উৎপাদন হয়ে থাকে। এখন বাংলাদেশের সব জেলাতেই পেয়ারার আবাদ হয়। তবে এর মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম গাজীপুর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার উন্নতজাতের পেয়ারার ফলন বেশি হয়ে থাকে।

জাতঃ পেয়ারার জাত বিচারকালে যে বিষয়গুলোকে মুখ্য উপাদান হিসেবে ধরা হয় তাহলে বিভিন্ন গাছের বৃদ্ধি, ফলের উপাদন এবং এর সার্বিক গঠন প্রণালী। দেশে বিদেশে পেয়ারার প্রচুর জাত রয়েছে। তবে বাংলাদেশে বর্তমানে যেসব উন্নতজাতের আবাদ হয়ে থাকে, তা হচ্ছে কাঞ্চন নগর, স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরি, লালশাঁক, কাজি পেয়াারা, বারি পেয়ারা-২, ইপসা পেয়ারা এসব। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএ আর আই) উদ্ভাবন করেছে কাজি পেয়ারা এবং বারি পেয়ারা-২ জাতটি এবং বঙ্গবন্ধু এস, এম, আর কৃষিবিশ্ববিদ্যালয় (ইপসা) সালনা উদ্ভাবন করেছে ইপসা পেয়ারা জাতটি। এসব উন্নতজাতের পেয়ারা দেশের বিভিন্নস্থানে জাতভেদে খবই ভাল ফলন দিয়ে থাকে। এর মধ্যে এজন্য কাঞ্চন নগর জাতটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের জন্য আবাদ করতে সুপারিশ করা হয়েছ্ েএছারা কুমিল্লা ও বি, বাড়িয়া এলাকায় আবাদ করার জন্য স্বীকৃত দেয় হয়েচে মুকুন্দপুরি জাতকে। অপরদিকে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলে চাষ করতে বলা হয়ে:েছ স্বরূপকাঠি জাতটিকে। তবে বাংলাদেশের সব এলাকাতেই বিশেষ করে লবণাক্ত অঞ্চল বাদে বি এ আর আই উদ্ভাবিত পেয়ারার জাত দুটি (কাজি পেয়ারা ও বারি পেয়ারা-২) আবাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

পেয়ারার জাতের গুণাবলি ও উৎপাদনঃ বাংলাদেশের উন্নতজাতের পেয়ারার গুণাবলি এবং উৎপাদন বৈশিষ্ট্য এ দেখানো হলো।

ff

১। কাঞ্চননগর ১০৮.৬ ১৩১০ ১৪২.২৭
২। মুকুন্দপুরি ১০০.৮ ১০৯৫ ১১০.৩৭
৩। স্বরূপকাঠি ১১৬.৬ ১২২০ ১৩৬.১৫
৪। কাজি পেয়ারা ৩৬৬.৬ ৩৪৭ ১২৭.২২
৫। বারি পেয়ারা-২ ২৫০.১ ৪০৫ ১০১.২৫

মাটি ও আবহাওয়াঃ পেয়ারা ফলটি বেশ জলবায়ু সহনশীল। এছাড়াও এ ফলের খরা সহিষ্ণুতা ও লবনাক্ততা সহ্য শক্তি রয়েছে। পানি নিকাশের উত্তম ব্যবস্থা যুক্ত উর্বর দো-আশ পলিমাটি পেয়ারা চাষের জন্য খুবই উপযোগী।

সারণি-১ঃ উন্নতজাতের পেয়ারার গুণাবলি ও উৎপাদন
জলাবদ্ধতা পেয়ারার আবাদের জন্য ক্ষতির করণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া এ ফলটি অম্ল বা ক্ষার এ উভয় ধরনের মাটিতেই ভাল ফলন দিয়ে থাকে।

উষ্ণ বা নাতিশীতোষ্ণ উভয় অঞ্চলেই পেয়ারার আবাদ ভাল হয়ে থাকে । এছাড়া পেয়ারা ফলটি সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে শুরু করে প্রায় ১৫০০ মিটার উচ্চতায়ও আবাদ করা যায়। যেসব এলাকায় বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাত ১০০০ মি. মি. থেকে ২৫০০ মি.মি. পর্যন্ত সেসব জায়গা এমনকি ৩৫০০ মি. মি. থেকে ২৫০০ মি.মি পর্যন্ত সেস্ব জায়গা এমনকি ৩৫০০ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয় এমন এলাকাতেও পেয়ারার আবাদ হয়ে থাকে। এছাড়া পেয়ারার আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৩ ডিগ্রি থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগেডের মধ্যে। তবে পেয়ারার চারা বা ছোট ছোট গাছ খরা ও ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রতি খুবই সংবেদনশীল। পেয়ারা ফল গছের ফুল ধরা এবং ফলের বৃদ্ধির সময় শুনো আবহাওয়ার প্রয়োজন হলেও, ফলের বৃুদ্ধকালে তাপমাত্রার আধিক্যতা আবার কখনো ফল ঝরার কারণ হয়ে দাড়াতে পারে। এছা ফল বৃুদ্ধর প্রাক্কালে অনেক সময় আর্দ্র আবহাওয়ায় ফলের মিষ্টতাও হ্রাস পায়।

বংশ বিস্তার: পেয়ারার বীজ বা কলমের চারা ঊভয় পদ্ধতিতেই গাচের বংশবিস্তার হয়ে থাকে। বীজ থেকে যেসব গাছ হয় , সেগুলেঅতে সাধারণত দেরীতে ফুল আসে। এছাড়া এ সব রোগে বিভিন্ন আকারের বা বিভিন্ন ধরনের ফল ধরে। তবে এ ধরনের গাছগুলো বেশির ভাগই দীর্ঘজীবী হয়ে থাকে। সাধারণত বীজতলায় বা পলিথিন ব্যাগে চারা উৎপাদনের জন্য চলতি বৎসরের সম্পূর্ণ পরিপক্ব বীজ ব্যবহার করতে হয়। এরপর এসব চারা গাছে যখন ৬ থেকে ৮টি পরিপক্ব্ পাাতা থাকে, তখন তা মূল জমিতে রোপণ করতে হয়।
গাছে কলম তেরির মাধ্যমে চারা করা হলে সেসব গাছের মাতৃ গুণাগুণ পুরোপুরি বজায় থাকে। এছাড়াও কলমের গাছে তাড়াতাড়ি ফুল আসে, আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় আবার অপরদিকে গাছ ছোাট থকে। বেশ কয়েকটি কলম পদ্ধতিতে পেয়ারার চারা ুৎপাদন করা যায়। সেগুলো হচ্ছে-

ক) কাটিং বা অঙ্গচ্ছেদন পদ্ধতি- এটি সবচেয়ে সহজ বা সরল পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সব আবহাওয়াতেই গাছ থেকে কাটিং করা সম্ভব। তবে এর উন্নত কৌশল বের হবার কারণে বর্তমানে এ পদ্ধতিটি খুব বেশি কার্যকর নয়।

খ) লেয়ারিং বা গুটি কলম পদ্ধতি- এ পদ্ধতির মাধ্যমে মাতৃগােছের ডালে শিকড় গজানো হয় এবং তা সময়মত আলাদা করে অন্যত্র রোপণ করা হয়। পেয়ারার আবাদের জন্য এ পদ্ধতিটি বর্তমানে খবই জনপ্রিয়। সাধারণত বর্ষাকারৈই অন্যান্য সমেেয়ের চেয়ে এভাবে চারা উৎপাদনের জন্য উত্তম।

গ) গ্রাফটিং বা জোড়কলম পদ্ধতি- জোড়কলম পদ্ধতিটি ব্যবহার করে বর্তমানে আরো একটি উন্নত পদ্ধতি। এ পদ্ধতিটি ব্যবহার করে এ থেকে প্রায় শতকরা ৯৫ ভাগ সুফল পাাওয়া যায়। তাবে এসবের মধ্যে ক্লেফট গ্রাফটিং করা খুব বেশি সহজ ও সরল।

চাষ পদ্ধতি- জমিতে চারা রোপণের জন্য খুবই ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে সমান করে নিতে হবে। এরপর চাষ করা জমিতে পেয়ারার চারা রোপনের জন্য গর্ত বা গিট তৈরি করতে হয়। প্রতিটি গর্ত থেকে গর্তের দুরত্ব থাকবে ৫-৬ মিটার। এর পর প্রতিটি গর্তের চওড়া রাখতে হবে ৬০ সে. মি. হিসেবে এবং গভীরতা রাখতে হবে ৪৫ সে; মিটার করে। চারা রোপণের জন্য এভাবে গর্ত তৈরি করে নিয়ে এসব গর্ত প্রায় ১৫-২০ দিন পর সার মিশানো মাটি দিয়ে ভরাট করতে হবে। প্রতিটি গর্ত এসব সার সহ মাটি দিয়ে ভরাট করার প্রায় ১০ ১৫ দিন পর এতে চারা রোপণ করতে হয়। এসব গর্তে যেসব সার মিশানো মাটি দেয়া হয়। তাহলো ১০-১৫ কেটি গোবর, ১-২ কেজি খৈল এবং ০.৫ কেজি পটাশ। পেয়ারার চারা রোপণের উপযুক্ত সময় হচেছ বর্ষার শুরতে অর্থাৎ বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে তবে চারা শ্রাবণ মাসে পর্যন্তও রোপণ করা যায়।

জৈব ও রাসায়নিক সার পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, পেয়ারা গাছে জৈব সারের সাথে রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হলে ভাল ফলন দিয়ে থাকে। গাছে সার প্েরয়াগ করা হলে শুধুমাত্র পেয়ারার উৎপাদনই বৃদ্ধি হয় না এ সাথে ফলের গুণাগুণও উন্নত করে। প্রতি বছরেই পেয়ারা গাছে সার প্রয়োগ করতে হয়। তবে এসব সার দু কিস্তিতে প্রতি বছরে দু’বার হিসেবে প্রতি গাছে প্েরয়াগ করতে হবে। বছরে এভাবে প্রয়াগের নিয়ম হচ্ছে প্রথম অর্ধেক সার প্রয়োগ করতে হবে চৈত্র -বৈশাখ মাসে এবং বাকী অর্ধেক প্রয়োগ করতে হবে শ্রাবণ ভাদ্র মাসে। প্রতি গাছে সার প্রয়াগের আগে গাছের চার পাশে কোদাল বা ছোট লাঙ্গল দিয়ে জমি কুপিয়ে নিতে হবে। তারপর এভাবে শিকড়ের চারপাশের মাটির সাথে এ সার মিশিয়ে মাটিতে সেচ দিয়ে দিতে হবে। দসার ব্যবহারের বাৎসরিক মাত্রাঃ বছর প্রতিটি পেয়ারা গাছে সুপারিশকৃত জৈব ও রাসায়নিক সার ব্যবহার।

পরিমান সারণি-২ বছরওয়ারি জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগমাত্রা

াি

উৎস: প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল, জুলাই/ ২০০২, সমম্বিত উদ্যান ও পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প, খামার বাড়ি।

পেয়ারা গছে থেকে যে বছর নতুন শাখা গজায় তাতেই ফু-ফল ধরে। এজন্য গাছে যেনো নতুন গাল ঠিকতো গজায় এবং সেসাথে এসব ডালে যাতে বেশি বেশি ফুল আসে সেদিকে লক্ষ্য রাকতে হবে। তবে ফুল ধরার অন্তত একমাসে আগে গাছে সার প্রয়াগ করতে হয়।
পানি সেচ ঃ জমিতে চারা রোপণের প্রথমদিকে পেয়ারা গাছে ৮-১০ বার সেচ দিতে হয়। পেয়ারা গছে চৈত্র -জ্যৈষ্ঠ মাসে প্রতি সপ্তাহেই এ সেচ দেয়া প্রয়াজন। এভাবে সেচ দেয়া হলে এতে গাছের ফল ঠিকমতো ঘরে এবং সাথ সাথে ফল ঝরাও রোধ হয়। গাছে এভাবে সেচ দেয়া হলে শীত মৌসুমে পেয়ারা ফল আকারেও বড় হয়।

পোকামাকড় ও এর দমন: পেয়ারা গাছ ও ফল পোকা মাকড় দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে মাছি পোকা ফলের গা ছিদ্র করে সেখানে ডিম পাড়ে। পরে ডিম থেকে মাছির কীড়া পেয়ারা ভিতরের অংশ খেয়ে ফেলে। এভাবে মাছি আক্রান্ত ফলে প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলিলিটার হিসেবে কিটনাশক মিশিয়ে স্প্রে করা হলে এ পোকা দমন করা যায়। এ জন্য যেসব কীটনাশক ছিটানো হয়, তাহলো রক্রিয়ন. পারফেকথিয়ন মার্শাল/ এজেড্রিন/ নুভাক্রন এসব। মিলিবাগের আক্রমণে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া পাতাও ঝরে যায়। এ পোকা দেখতে অনেকটা সাদা তুলার মত এরা পাতার সাথে জড়িয়ে থকে এবং এ থেকে রস চুষে খায়। এ পোকা দমনের জন্য প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি লিটার করে ডায়াজিনন ৬০ ইসি ভালভাবে স্প্রে করতে হয়।

রোগবালাই দমন: পেয়ারা গাছ পোকা মাকড় ছাড়া রোগবালাই দিয়েও আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ্যান্থ্রাকনোজ পেয়ারা গাছের একটি মারাত্মক রোগ। এ রোগে গাছ আক্রান্ত হলে ডায়াথেন এম ৪৫ প্রতি লিটার পানিতে ২.৫৪ গ্রাম অথবা টিল্ট প্রতিলিটার পানিতে ২ মিলি লিটার হারে ¯েপ্র করা হলে এ রোগ থেকে গাছকে বাঁচানো যায়। এছাড়া উইল্টা ঢলে পড়া রোগেও অনেক সময় পেয়ারা গাছ আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত হলে গাছের পাতা বাদামি রং হয়ে পুরো গাছ ঢলে পড়ে। এ ছাড়া কান্ডের রং এর পরিবর্তন হয়। পরে আস্তে আস্তে গাছ মারা যায়। এটা একটা মাটি বাহিত রোগ। এ রোগের এখনো কোন ভাল দমন ব্যবসথা নেই। এজন্য গাছ এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে তা তুলে নষ্ট করে ফেলা ভাল।

গাছে ফুল ধরার নিয়ম: পেয়ারা গাছে সাধারণত বছরে দু’বার ফুল ধরে। একবার ধরে শ্রাবণ মাসে এবং আরেকবার ফুল ধরে পৌষ মাসের দিকে। বছরে পেয়াারা গাছে দু’বারই ফুল ধরে তবে এসময় গাছের পরিচর্যা সঠিকভাবে করতে হয়।

গাছের ফল হ্রাস করা: পেয়ারার অনেক জাত যেমন কাজি পেয়ারা বারি পেয়ারা-২ ধরনের জাতগুলো আকারে অনেক বড় এবং ওজনেও বেশি হয়। তাই গাছে এসব পেয়ারা ধরলে সময় মতো গাছ থেকে কিছু পেয়ারা ফেলে দিতে হয়। এতে পেয়ারার আকার বড় হবে। এছাড়া সে সাথে অতিরিক্ত ফল ধরার কারণে গাছের ভেঙ্গে পড়া এবং গাছ বাকানো রোধ হবে।

গাছে ফল বেঁধে দেয়া: পেয়ারা ফলকে রোগ বালাই বা পোকা মাকড় থেকে রক্ষা করতে হলে ফলকে প্রাথমিক অবস্থায়ই বেঁধে দিতে হয়। এতে ফল তার সুবিধামতো ভাবে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয। সাধরণত বাদামি রংয়ের কাপড় দিয়ে পেয়ারা ফলকে এভাবে বেঁধে রাখতে হয়।

পেয়ারা ফল সংগ্রহ: সাধারণত পেয়ারা পাকার সময় ফলের রং এর পরিবর্তন হয়। এসব ফলের রং হলদাভ সবুজ থেকে হলুদ পর্যন্ত হয়ে থাকে। এধরণের রং ধরার সময়েই গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করতে হয়।

পেয়ারার উৎপাদন: পেয়ারা চারা রোপণের ১-২ বছরের মধ্যেই গাছে ফল দিয়ে থাকে। এছাড়া পেয়ারা প্রায় ১৫-২০ বছর পর্যন্ত গাছে ভাল ফলন দিয়ে থাকে। পেয়ারা গাছে ফুল আসার পাঁচ মাসের মধ্যেই ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। ফল সংগ্রহের সময় লক্ষ রাখতে হবে যাতে ফল মাটিতে না পড়ে। এতে গাছ থেকে ভাল ফল সংগ্রহ করা সহজ হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

জেনে নিন চালতা চাষের সহজ ও সঠিক পদ্ধতি

চালতা ফল হিসেবে যতটা পরিচিত-তার থেকেও বেশি পরিচিত আচার হিসেবে। কিন্তু চালতার ঔষধিগুনও চমৎকার, চালতার টক খেলে সর্দি-জ্বর সেরে যায়, এছাড়া এটি শক্তি-বর্ধক, রক্ত-আমাশয় নিরাময়েও বেশ কার্যকরী। খুব সহজেই চালতা চাষ করে লাভবান হওয়া যায় | এই নিবন্ধে চালতা চাষ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,

মাটি ও জলবায়ু(Soil & climate):

চালতা চাষ সাধারণত ভেজা স্যাঁত-স্যাঁতে মাটিতে ভালো হয়। এছাড়া পাহাড়ী ও সমতল মাটিতেও ভালো হয়। চালতা চাষে তেমন কোন সার লাগেনা। আবার জলাবদ্ধতা কিংবা প্রখর রোদেও তেমন প্রভাব ফেলে না এ গাছের উপর। তাই এটি অনেক লাভজনক ফলন হিসেবে গণ্য।

বীজ বা চারা রোপণ পদ্ধতি:

চালতার বীজ থেকে চারা করা যায়, আবার গুটি কলমের মাধ্যমেও চারা তৈরী করা যায়। তবে কলমের চারায় ফলন তাড়াতাড়ি আসে এবং ভালো মানের ফলন পাওয়া যায়। চারা তৈরী করার পর যথাস্থানে রোপন করার পূর্বে গর্তে জৈব সার ১৫-২০ কেজি, ইউরিয়া ১ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম, এমওপি ২৫০ গ্রাম দিয়ে মাদা তৈরী করে ১৫-২০ দিন রেখে তারপর, সেখানে গাছ রোপণ করতে হবে এবং গাছগুলো ১৫-২০ ফিট দূরত্বে রোপণ করতে হবে । কারণ চালতা গাছগুলো সাধারণত ২০-২৫ ফিট উঁচু হয়ে থাকে আর দূরত্ব ঠিক হলে গাছের ফলন ভালো হবে। চারা রোপণ করে বাঁশের খুঁটি দিয়ে ভালো করে বেঁধে দিতে হবে। তাহলে গাছ সোজাভাবে বড় হবে ।

পরবর্তী পরিচর্যাঃ

এ গাছে তেমন কোন সার কিংবা বালাইনাশক লাগে না। তবে এ গাছ বর্ষা কালে রোপণ করলে ভালো । গাছ রোপণ করার পর গাছ বড় হতে থাকলে সে সময় ডালপালা ছেঁটে নির্দিষ্ট আকৃতি দেয়া যায়। আর আগাছা জন্মালে তা পরিষ্কার করে দিতে হয়। তাহলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় ।

রোগবালাই দমনঃ

চালতা গাছে তেমন কোন রোগ বালাইর আক্রমন হয় না। তারপরও এক ধরনের ফল ছিদ্রকারী পোঁকার আক্রমন হয়, সেক্ষেত্রে সুমিথিয়ন ২ মিলি. ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে  ২-৩ বার স্প্রে করলে, এ রোগ থেকে পরিত্রান পাওয়া যাবে।

ফল সংগ্রহঃ

চালতা দেখতে সবুজ প্রকৃতির হলেও পাকলে কিন্তু হালকা হলুদ ও ফ্যাঁকাসে সবুজাভ দেখা যায়। সাধারণত শীতের শুরুতে চালতা পাকতে আরম্ভ করে। পাকার পর গাছ থেকে পেড়ে বাজারজাত করা যেতে পারে। যেহেতু চালতা সহজে পঁচনশীল ফল নয় তাই কিছুদিন রেখেও খাওয়া যায়। আবার দুরবর্তী স্থানেও নেয়া যায়। একটি ২০-২৫ ফিট গাছ থেকে, বছরে ৩০০০ থেকে ৪০০০ হাজার চালতা পাওয়া যায়। তাই এটি অনেক লাভজনক একটি ফসল।

চালতা যেহেতু সহজেই কোন কষ্ট ছাড়া ফলানো যায় তাই আমরা বসত-বাড়ির আশে পাশে কিংবা পতিত জমিতে এর চাষ করতে পারি । এছাড়াও সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালতার আচার বাজারজাত করা যেতে পারে, আর এটি লাভজনক ব্যাবসায় বটে । গ্রামীণ অর্থনীতিতে চালতার এক বিশেষ ভূমিকাও রয়েছে | কৃষকবন্ধুরা চালতা চাষ করে অধিক উপার্জন করতে পারেন | এমনকি, বেকার সমস্যা দূরীকরণেও এই চাষের জুড়ি মেলা ভার |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

স্মৃতিশক্তি বাড়ায় ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় বেদানা

একাধিক গবেষণার পর চিকিৎসা বিজ্ঞানিরা জানিয়েছেন, আজকের ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে শরীর বাঁচাতে বেদানার রসের কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে বেদানার ভিতরে উপস্থিত ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং আরও নানাবিধ শক্তিশালী উপাদান দেহে প্রবেশ করা মাত্র প্রতিটি কোষ, শিরা এবং উপ-শিরাকে, সেই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর ক্ষমতাকেও বাড়িয়ে তোলে। ফলে যে ছোট বা বড় কোনও রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। শুধু তাই নয়, শরীর এতটাই চাঙ্গা হয়ে ওঠে যে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো। 

তবে এখানেই শেষ নয়, প্রতিদিনের ডায়েটে এই ফলের রসকে জায়গা করে দিলে আরও নানাবিধ উপকার মেলে। চলুন আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নেওয়া যাক সেগুলো-অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ক্যানসার বিরোধী বৈশিষ্ট্য- 

বেদানার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা দূষিত ও তামাক জাতীয় জিনিস থেকে পরিবেশগত বিষাক্ত পদার্থ থেকে কোষকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, ডিএনএ এর ক্ষতি রোধ ও ক্যানসার হওয়া থেকে রক্ষা করে। হার্ভার্ড রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গবেষণায় দেখা গেছে যে বেদানার রস ক্ষতিকারক এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে-

প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকার কারণে বেদানা রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। ফলে স্ট্রেস এবং টেনশন কমে, হার্টের অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে। যদি উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাহলে নিয়মিত বেদানা খাওয়ার অভ্যাস করুন উপকার পাবেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়-

বেদানার  ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী গুণ আছে। শরীরের ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় বেদানার রস।

হজমশক্তি বাড়ায়-

বেদানায় দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় দুই ধরনের ডায়াটারি ফাইবার বা আঁশ থাকায় এটি হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়-

বেদানা দেহের ক্ষতিকর কোলস্টেরল বৃদ্ধির ঝুঁকি কমায়। এতে রক্তচলাচল বৃদ্ধি পায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

স্মৃতিশক্তি বাড়ায়-

বেদানা স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। আর এ কারণে এটি অ্যালঝেইমার্সের মতো রোগীদের জন্যও উপকারি।

রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়-

আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ (ফাইবার) সমৃদ্ধ বেদানা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে দেহে রক্ত চলাচল সচল রাখে। এতে অ্যানেমিয়া ও রক্তের নানা সমস্যা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী-

বেদানা ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী। এটি মিষ্টি হলেও সাধারণত ডায়াবেটিস রোগীদের কোনও সমস্যা হয় না। বেদানার রসে ফ্রুক্টোজ থাকলেও এটি অন্য ফলের রসের মতো রক্তে চিনির মাত্রা বাড়ায় না।

ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে-

বেদানা ত্বক সুস্থ রাখতে অনেক ভূমিকা পালন করে। ফলিক অ্যাসিড, ভিটামিন সি, সাইট্রিক আসিড ও ট্যানিন সমৃদ্ধ বেদানা ত্বকের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে বিশেষ উপকারী। এটি ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধ করে।

ব্যথা দূর করতে ডালিম-

বাত, অস্টিওআর্থারাইটিস, পেশির ব্যথা কমাতে সাহায্য করে বেদানা। তরুণাস্থির ক্ষয় রুখতেও উপকারী বেদানা। এছাড়া এটি হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা উপশম করতে সহায়তা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

বাংলাদেশে আরবি খেজুর চাষ

আরবি খেজুর পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম ফল। প্রধানত পূর্ব ও উত্তর আফ্রিকা দেশগুলোতে এ ফলের চাষ প্রচলন বেশি। অনেকের মতে ইরাক অথবা মিসর খেজুর ফলের আদি স্থান। প্রাচীনকাল থেকে খেজুর ফলের বাগান সৃষ্টি করা এবং তা থেকে প্রাপ্ত খাদ্য ও ফলের উৎস হিসেবে খেজুর মানুষের জীবন ধারণের অন্যতম অবলম্বন ছিল। আরব দেশগুলোর মরুভূমি এলাকায় যেখানে অন্য কোনো গাছপালা জন্মানো সহজ হয় না সেখানে খেজুর বাগান সৃষ্টি করে মরুদ্যান সৃষ্টি করা হতো। আরবি খেজুর যেসব দেশে বেশি চাষ হয় তার মধ্যে মিসর, সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, সুদান, ওমান, লিবিয়া ও তিউনেশিয়া অন্যতম। অধুনা চীন, ভারত ও আমেরিকার কিছু অংশে সফলভাবে খেজুর চাষ করা হচ্ছে। রমজান মাসে সৌদি খেজুর দিয়ে ইফতারি করার প্রচলন মুসলিম দেশগুলোতে আছে। বাংলাদেশসহ সব মুসলিম দেশ প্রচুর খেজুর আমদানি করে অথবা নিজেদের উৎপাদন থেকে রমজান মাসে প্রচুর খেজুরের চাহিদা পূরণ করে থাকে।

বাংলাদেশের বৃহত্তর ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশালসহ সারা দেশে কম-বেশি খেজুর চাষ করা হয় মূলত রস ও গুড় তৈরির কাজে। দেশি জাতের খেজুর গাছে যে পরিমাণ ফল ধরে তা উন্নত মানের নয়, তাই ফল হিসেবে খাওয়ার তেমন প্রচলন নেই। গত ১৫-২০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকার কিছু আগ্রহী চাষি সীমিত আকারে খেজুর চাষ করে সফল হয়েছে। তারা বীজ থেকে তৈরি বাগান করায় তাতে জাতের গুণাগুণ রক্ষা হয় না। আধুনিক সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরাগায়নে সক্ষমতার অভাবে খেজুর গাছ থেকে তারা কম ফলন পায়।

ডিএই সরকারিভাবে প্রথম আরব দেশ থেকে উন্নত জাতের খেজুর কলম আমদানি করে বিভিন্ন জেলার হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে এজাতের খেজুরের বাগান সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক গাছ ফুল ধরা অবস্থায় এনে ফেব্রুয়ারি-২০১৭ মাসে রোপণ করা হয়েছে, তাতে ফল ধরা আরম্ভ করেছে। অচিরেই বাংলাদেশ আরবি খেজুর উৎপাদনে সফলতা অর্জন করবে।

আবহাওয়া ও মাটি : পর্যাপ্ত রোদ, কম আর্দ্রতা, শুকনা ও কম বৃষ্টিপাত, উষ্ণ আবহাওয়া এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। বেশি শীত এবং সাময়িক জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ত সহিষ্ণু গুণাগুণ এ গাছের আছে। ফুল ফোটা ও ফল ধরার সময় বেশি বৃষ্টিপাত ভালো না। একই কারণে এ দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এবং পার্বত্য জেলাগুলোতে সৌদি খেজুর চাষ সম্প্রসারণ করার সুযোগ আছে। বেলে-দো-আঁশ মাটি এ জাতের খেজুর চাষের জন্য বেশি উপযোগী। তবে মাটি অনুকূল না হলে রোপণের আগে গর্তের মাপ র্৬দ্ধর্৬ দ্ধর্৩ তৈরি করে তাতে জৈবপদার্থ ও বেলে মাটি দিয়ে তা ভরাট করে নিয়ে খুব সহজেই মাটিকে উপযোগী করে নেয়া যায়। পানি নিকাশের সুবিধাযুক্ত উচ্চ জমি এ ফল চাষের জন্য উপযোগী। মাটির উপরের স্তরে র্৬-র্৭ ফুটের মধ্যে হাডপ্যান থাকলে গর্ত তৈরিকালে শাবল দিয়ে ভেঙে দিতে হবে।

পুষ্টিমান : খেজুর অতি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ ফল। এতে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেলস ও ক্যালোরি সমৃদ্ধ। সুষম খাদ্য হিসেবে খেজুরের জুড়ি নেই। এ ফলের ঔষধিগুণ খুব বেশি। আহারে হজম শক্তি বাড়ায়, রক্ত স্বল্পতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, এলার্জি ও ক্যান্সার রোধক হিসেবে কাজ করে। খেজুর দেহে শক্তি জোগায়, হার্টকে সুস্থ রাখে, দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে, দেহের হাড় ও দাঁতকে মজবুত রাখে। রক্তশূন্যতা, গলাব্যথা, ডায়রিয়া, সুস্থ গর্ভধারণে এ ফল অতি উপকারী।

জাত : পৃথিবীতে প্রায় এক হাজারের বেশি খেজুরের জাত রয়েছে। সৌদি দেশগুলোতেই এ জাতের সংখ্যা চার শতাধিক। যেহেতু তাল ও লটকন গাছের মতো খেজুরের পুরুষ-স্ত্রী গাছ আলাদাভাবে জন্মায়, এজন্য বীজ থেকে তৈরি গাছে প্রাকৃতিকভাবে নতুন জাতের সৃষ্টি হয়। তবে বীজ থেকে তৈরি চারায় প্রকৃত জাতের গুণাগুণ থাকে না। ফল ধরতে বেশি সময় লাগে, ফলের পরিমাণ ও মান আশাপদ হয় না। যেসব জাতের খেজুরের জনপ্রিয়তা বেশি এগুলোর মধ্যে বারহি, মেডজল, সামরান, খাতরাই, জাহেদি, খালাস, মরিয়ম, নিমেশি, আনবারাহ, জাম্বেলি, শিশি, লুলু, সুলতানা, আজুয়া, ইয়াবনি, ডিগলিটনূর, আসমাউলহাসনা অন্যতম। ডিএই এ পর্যন্ত ১৭টি আধুনিক উন্নত জাতের খেজুর কলম আমদানি করে বিভিন্ন জেলার হটিকালচার সেন্টারে বাগান সৃষ্টি করছে।

বংশবিস্তার : আরব দেশগুলো আগে পছন্দমতো জাতের কা- থেকে গজানো সাকার বা চারা সংগ্রহ করে তা দিয়ে বাগান সৃষ্টি করতেন। এছাড়া বীজের চারা দিয়েও খেজুর বাগান সৃষ্টি করার প্রচলন ছিল। তবে অধুনা টিস্যুকালচার পদ্ধতি অবলম্বনে উন্নত জাতগুলোর প্রচুর কলম তৈরি করে তা ব্যবহার জনপ্রিয়তা বেড়ে চলেছে। পুরনো পদ্ধতিতে কা- থেকে চারা কম পাওয়া যেত। বীজ থেকে তৈরি চারার গাছে ফল দিতে প্রায় ৬ বছর সময় লাগে। খেজুর গাছের কা- থেকে প্রাপ্ত চারা এবং টিস্যুকালচারের মাধ্যমে তৈরি চারা রোপণের ৩ বছর পর থেকেই গাছে ফুলফল ধরা শুরু হয়। এখন টিস্যুকালচারের মাধ্যমে খেজুর চারা উৎপাদন কাজে কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত থাকার কারণে উন্নত জাতের বাগান সৃষ্টি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অন্যান্য দেশগুলোও এর সুফল ভোগ করছে। এ দেশে ১৫-২০ বছর ধরে অনেকেই সীমিত আকারে খেজুর চাষ করছে তা বীজের তৈরি চারা দিয়ে, এতে ভালো জাতের প্রকৃত গুণাগুণ বজায় থাকে না, ফলের মান ও ফলন ভালো হয় না।

জমি নির্বাচন ও রোপণ : পানি নিষ্কাশন সুবিধাযুক্ত অপেক্ষাকৃত উঁচু প্রচুর আলো-বাতাস পায় এমন জমি খেজুর বাগানের জন্য নির্বাচন করা দরকার। বাগান তৈরির জন্য ২০ ফুট দূরত্বে সারি করে ২০ ফুট দূরে দূরে চারা রোপণের জন্য খেজুর বাগান নকশা তৈরি করে নেয়া প্রয়োজন। এক বা দুই সারি গাছ লাগানোর প্রয়োজনে ১৫-১৭ ফুট দূরত্ব দিলেই চলবে। বর্ষাকালে ১০-১২ ইঞ্চি পানি জমে থাকে এমন নিচু স্যাঁতসেঁতে জমিতে সর্জান পদ্ধতি অবলম্বনে বাগান সৃষ্টি করা সহজ। এ ক্ষেত্রে দুই সারির মাঝে ৭-৮ ফুট চওড়া এবং ২-৪ ফুট গভীর নালা কেটে উভয় পাশে গর্তের মাটি উঠিয়ে দিয়ে ১০-১২ ফুট চওড়া উঁচু বেড তৈরি করে নিয়ে সে বেডে খুব সহজেই সফলভাবে খেজুর বাগান সৃষ্টি করা যায়। বরিশাল জেলার রহমতপুর হর্টিকালচার সেন্টারে এ পদ্ধতি অবলম্বনে ৭২টি খেজুর গাছ বিশিষ্ট খেজুর বাগান সৃষ্টি করা হয়েছে। এ বাগানের গাছের বাড়-বাড়ন্ত খুব উৎসাহজনক, যা আগামী দিনে উপকূলীয় জেলাগুলোতে আরবি খেজুর চাষ সম্প্রসারণে উল্লেখযোগ্য মডেল হিসেবে কাজ করবে।

গর্ত তৈরি ও তা ভরাটকরণ : রোপিত গাছের শিকড় যেন ঠিকমতো ছড়াতে পারে এজন্য ৬ ফুট চওড়া ও ৩ ফুট গভীর করে গর্ত তৈরি করে নিয়ে তা এক সপ্তাহ রোদে রেখে গর্তে সার ও মাটি দিয়ে পুনরায় ভরাট করে নেয়া প্রয়োজন। তৈরিকৃত গর্তে খড়কুটা দিয়ে ভরাট করে তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলে গর্তের মাটি শোধন করা যাবে। খেজুর চারা রোপণের আগে যেসব সার ও উপাদান মিশানো প্রয়োজন তা হলো মোটাবালু (সিলেট স্যান্ড) ৩০%, পচা গোবর বা আবর্জনা পচা সার ৪০% এবং ভিটে মাটি বা বেলে দো-আঁশ মাটি ৩০%। এছাড়াও এতে আরও মেশাতে হবে ১০-১৫ কেজি কোকোডাস্ট বা নারিকেলের ছোবড়ার গুঁড়া, সমপরিমাণ কেঁচো সার। হাড়ের গুঁড়া ১ কেজি, ইউরিয়া-৩০০ গ্রাম, টিএসপি-৪০০ গ্রাম, এমওপি-৫০০ গ্রাম। এছাড়া জিঙ্ক সালফেট, ম্যাগসালফেট, ফেরাস সালফেটে ও বোরন- প্রতি গাছে ১০০ গ্রাম করে মোট ৪০০ গ্রাম মেশানো প্রয়োজন। রোগবালাই প্রতিহত করার জন্য উপযোগী ছত্রাক নাশক ও দানাদার কীটনাশক ১০০ গ্রাম করে মোট ২০০ গ্রাম মেশাতে হবে। এসব একত্রে মিশেয়ে গর্ত ভরে পানি দিয়ে কয়েক দিন ভিজিয়ে রাখতে হবে। এভাবে গর্ত ভরাট করার দুই সপ্তাহ পর তা গাছ রোপণের জন্য উপযোগী হবে।

চারা রোপণ : খেজুরের চারা সমতল থেকে এক ফুট ওপরে রোপণ করতে হবে। এজন্য গর্ত ভরাট করা মাটি উঠিয়ে মধ্যভাগ উঁচু করে নিতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে তা বাইরের দিক ঢালু করে নালা বরাবর মিলাতে হবে। গাছ রোপণ করা হলে গাছের গোড়া থেকে ২.৫ ফুট দূরে বৃত্তাকার করে ১০-১২ ইঞ্চি চওড়া ও ১২ ইঞ্চি গভীর নালা তৈরি করে এ নালার মাটি বাইরের দিক সুন্দরভাবে বৃত্তাকারে উঁচু আইল বেঁধে দিতে হবে। গাছ রোপণ শেষে নালায় ৮-১০ দিনের ব্যবধানে পানি দিয়ে নালা ভর্তি করে দিতে হবে। গাছ এ নালার পানি শুষে নেবে।

সেচ ও নিকাশ : বর্ষাকালে যেন বাগানে কোনো মতেই পানি না জমে এজন্য পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে। খরা মৌসুমে নিয়মিত গাছের গোড়ায় সেচ দিয়ে ভেজাতে হবে। মাটিতে রসের অবস্থা বুঝে ৭-১৫ দিনের ব্যবধানে নালা ভর্তি করে পানি সেচ দিয়ে গাছের রসের অভাব দূর করতে হবে। ভালোভাবে গাছের বৃদ্ধি, বেশি উন্নত মানের ফল প্রাপ্তি, প্রয়োজনীয় পানি সেচ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে। বয়স্ক খেজুর গাছের শিকড় গোড়া থেকে প্রায় ৪-৫ ফুট বৃত্তাকারে চারদিকে ৩-৪ ফুট গভীরতায় প্রবেশ করে। এজন্য শুকনা মৌসুমে এ শিকড় ছড়ানো এলাকায় রসের অভাব দূরীকরণের ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মালচিং ও ট্রেনিংপ্রুনিং : শুকনা মৌসুমে গাছের গোড়ার চারধারে ২-৩ ফুট দূর পর্যন্ত বৃত্তাকারে খড়, লতাপাতা বা কচুরিপানা দিয়ে মালচিং দিতে হবে। তাতে মাটির রস সংরক্ষিত থাকে এতে ঘন ঘন সেচ দেয়ার প্রয়োজন হবে না। মালচিং দেয়ার ফলে গাছের গোড়ার চারদিক আগাছামুক্ত থাকবে, পরিবেশ অনুকূল হবে, পরে এসব লতা-পাতা পচে জৈবসার হিসেবে কাজ করবে। গাছ বড় হলে উপরি ঊর্ধ্বমুখী গাছের পাতা রেখে নিচে ঝুলে পড়া পুরনো মরা পাতাগুলো কা-ের গোড়া থেকে ৭-৮ ইঞ্চি ছেড়ে ছেঁটে দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়াও উপরের দিকের অফলন্ত ফলের ছড়া ও ফুল-ফলের শক্ত ঢাকনা সাবধানে অপসারণ করতে হবে। সাথে সাথে কাটা অংশে ছত্রাকনাশক বা বোর্দ মিক্সার পেস্ট দিয়ে প্রলেপ দেয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিচর্যা : গাছ রোপণ করে তা কাঠি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে সম্ভাব্য সোজা রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রথম কয়েক বছর পাতা শুকালে তা কেটে দিতে হবে। কোন মতেই গাছের কাঁচা পাতা কাটা যাবে না। তবে বছরে একবার ফল সংগ্রহ শেষে নিচের দিকে ঝুলে পড়া বয়স্ক অপ্রয়োজনীয় পাতা অপসারণ করতে হবে। গাছের গোড়া ও কা- থেকে গজানো শাখা বাড়তে দিলে গাছে ফলদান ক্ষমতা কমে যাবে। তবে চারা সংগ্রহের প্রয়োজনে গোড়ার কাছাকাছি গজানো কিছু সাকার রেখে অবশিষ্ট সাকারগুলো নিয়মিত ছেঁটে দিতে হবে। সংগৃহীত চারা বেশি ছায়ায় সংরক্ষিত থাকার কারণে চারা রোপণের পর সূর্যের তাপে খেজুর চারা ঝলসে না যায় এজন্য রোপণের প্রথম ১০-১৫ দিন উত্তর-পূর্ব দিক উন্মুক্ত রেখে পাতলা ছালা দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক ভালোভাবে ঢেকে দিয়ে গাছকে হালকা ছায়া দেয়া প্রয়োজন হবে। বিকল্প ব্যবস্থায় গাছগুলোকে ১৮ ইঞ্চি বিশিষ্ট মাটির টবে উপযোগী পটিং মিডিয়া দিয়ে আধাছায়ায় ২-৩ মাস সংরক্ষণ করে পরে সেগুলো বাগানে রোপণ উপযোগী হবে।

সার প্রয়োগ : আরবি খেজুর গাছে ৪ মাসের ব্যবধানে নিয়মিত সার প্রয়োগ করা জরুরি। তাতে গাছ ভালোভাবে বাড়বে, বেশি ফল দানে সক্ষম হবে। নারিকেল, সুপারির মতো এরা পামী গোত্রীয় বলে পটাশ পছন্দ করে। বিভিন্ন বয়সের গাছে যে সার প্রয়োগ করা প্রয়োজন তা হলো-

প্রতি বছরের জন্য সুপারিশকৃত সারগুলো ৩ ভাগে ভাগ করে নিয়ে প্রতি ডোজ মে-জুন মাসে একবার এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ও ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে আরও দুইবার প্রয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়াও অনু খাদ্যগুলো বিশেষ করে জিঙ্কসালফেট, ম্যাগসালফেট, ফেরাল সালফেট ও বোরন ও আইরোল বছরে একবার করে গাছের বয়স বিবেচনায় প্রতিষ্ঠাতে ২০০-৩০০ গ্রাম করে প্রয়োগ করা প্রয়োজন। সার প্রয়োগ করার পরপরই ভালোভাবে সেচ দিতে হবে। গাছের গোড়া ছেড়ে যে অংশে শিকড় ছড়ায় সে অংশে সার প্রয়োগ ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন সার প্রয়োগকালে গাছের শিকড় কম আঘাতপ্রাপ্ত হয়। ভালো ব্যান্ডের ঘচক বা ঘচকঝ মিশ্র সার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে গাছের প্রথম অবস্থার তুলনায় নাইট্রোজেন জাতীয় সার প্রয়োগ কিছু বেশি প্রয়োজন হয়। ফুল-ফল ধরা আরম্ভ করলে পটাশ ও ফসফরাসের পরিমাণ বাড়াতে হবে। অনেকে অনুখাদ্যসমৃদ্ধ কোনো কোনো সার পানিতে গুলে যায় এমন সার প্রয়োগ করে গাছকে সুস্থ রাখে।

পোকা ও রোগ দমন : নারিকেল, তাল ও খেজুর গাছের শিকড়ের অগ্রভাগ নরম ও মিষ্টি, যা উঁই পোকাসহ মাটিতে অবস্থানকারী বিভিন্ন পোকা ও নিমাটোডকে আকৃষ্ট করে। এ জন্য মাটিতে ব্যবহার উপযোগী দানাদার কীটনাশক ও তরল কীটনাশক (ইমিডাক্লোরোপিড/ডার্সবান) দু-তিন মাসের ব্যবধানে নিয়মিত ব্যবহার করে মাটিতে অবস্থানকারী পোকা দমন ব্যবস্থা নিতে হবে। খেজুর গাছেও রাইনো বিটেল (গ-ার পোকা), রেড পাম উইভিল, স্কেল পোকার উপদ্রব বেশি দেখা যায়। এজন্য বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং ইমিডাক্লোরোপিড অথবা ক্লোরোপাইরিফস দলীয় কীটনাশক দিয়ে ২-৩ সপ্তাহের ব্যবধানে কচি পাতা ও পাতার গোড়ার অংশ ভালোভাবে স্প্রে করে গাছকে রক্ষা করা যাবে। খেজুর গাছে মাইটের উপদ্রব মাঝে মধ্যে দেখা যায়। এ জন্য ২-৩ সপ্তাহের ব্যবধানে মাইটনাশক ব্যবহার করে গাছকে সুস্থ রাখা উচিত হবে।

রোগ : মাটিতে অবস্থানকারী ছত্রাক, প্রুনিং করার কারণে ক্ষত স্থানে রোগ এবং গজানো পাতার পুরো অংশে কাল-বাদামি দাগ পড়া রোগের আক্রমণ খেজুর গাছে বেশি দেখা যায়। এজন্য ম্যানকোজেভ/কার্বোন্ডাজিম বা বোর্দমিক্সচার দিয়ে ছত্রাকনাশক দিয়ে ১০-১৫ দিনের ব্যবধানে নিয়মিত পাতা, কা- ও মাটিতে স্প্রে করে গাছকে সুস্থ রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে।
খেজুর গাছে পরাগায়ন : খেজুর গাছের পুরুষ ও স্ত্রী গাছ আলাদাভাবে জন্মে। এজন্য সুস্থ, বড় ও ভালো মানের খেজুর ফলের জন্য ফুটন্ত স্ত্রী ফুলের ছড়া বের হওয়ার সাথে সাথে পুরুষ গাছের পরাগরেণু দিয়ে সময়মতো পরাগায়ন করা অত্যাবশ্যক। সুস্থ সবল বড় আকারের পুরুষ ফুল দানে সক্ষম এমন গাছ থেকে পুরুষ ফুল সংগ্রহ করে সাধারণ ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হলে তা দুই বছর পর্যন্ত পরাগায়নের কাজে ব্যবহার করা যায়। তবে তাজা পরাগ রেণু ব্যবহার করা ভালো। সৌদি খেজুর গাছে জানুয়ারি-মার্চ মাসে ফুল ফুটে। উভয় প্রকার ফুলের কাঁদি একটা শক্ত আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। আবরণের ভেতরে ফুল বড় হয়ে পরাগায়নের উপযোগী হলে বাইরের আবরণটা আস্তে আস্তে ফাটা শুরু হয়। এ অবস্থায় পুরুষ ফুলের কাঁদির আবরণ অপসারণ করে নিয়ে হালকা রোদে শুকিয়ে নিয়ে এ পরাগ রেণু সাবধানে আলাদা করে নিয়ে কাগজে মুড়িয়ে তা পলিথিন কভার দিয়ে ফ্রিজের নরমাল চেম্বারে সংরক্ষণ করতে হয়।

এরপর স্ত্রী খেজুর গাছের ফুলের কাঁদি বড় হয়ে বাইরের শক্ত আবরণে ফাটল ধরা আরম্ভ করলে তা পরাগায়ন করার উপযোগী হয়। এ সময় ফাটল ধরা শক্ত আবরণ ধারালো ছুরি দিয়ে অপসারণ করে ছড়ার ভেতরের অংশ বের করে দামি নরম তুলি বা ব্রাশ দিয়ে সামান্য পরিমাণ পরাগ রেণু দিয়ে স্ত্রী ফুলে এ পরাগ রেণু হালকাভাবে ছুয়ে বা ঝেড়ে দিতে হয়। এ ছাড়া পুরুষ ফুলের দু-একটা ছাড়া স্ত্রী ফুলের আগায় বেঁধে রাখতে হয়। পরাগায়ন করা ফুলের ছড়া পাতলা ব্রাউন কাগজের ঠোঙা দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে দিতে হয়। এর ৩-৪ সপ্তাহ পর আবরণটা সরিয়ে ফেলতে হয়। পরাগায়নকালে ছড়ার কাছাকাছি খেজুরের ছুঁচালো কাঁটাগুলো সিকেচার দিয়ে অপসারণ করে নিলে কাঁটার আঘাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। বাগানে প্রতি ১৫-২০টা স্ত্রী গাছের জন্য একটা করে পুরুষ গাছ রাখার কারণে বাতাসের ও মৌমাছি বা উপকারী কীটপতঙ্গের মাধ্যমে পরাগায়ন কাজ সমধা হয়। এতে ৬০-৮০% পর্যন্ত ফল ধরানো সম্ভব।

ফল সংগ্রহ : পরাগায়ন করার ৩-৪ মাস পর খেজুর ফল সংগ্রহের উপযোগী হয়। কতগুলো জাতের পুষ্ট কাঁচা-পাকা ফল উভয় অবস্থায় খাওয়া যায়। অন্য জাতের ফল পরিপক্ব অবস্থায় বাদামি/গাঢ় বাদামি/কালো রঙ ধারণ করলে তা সংগ্রহ, সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াজাত করে ব্যবহার বা বাজারজাত করা হয়। একটা সুস্থ সবল গাছ থেকে বছরে জাতভেদে ৭০-১৫০ কেজি খেজুর ফল পাওয়া যায়। উত্তম ব্যবস্থাপনায় কোনো কোনো জাতের গাছে প্রায় ৩০০ কেজি পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে। পরাগায়নের পর ৭-১০টা সুস্থ সবল কাঁদি রেখে অবশিষ্ট কাঁদিগুলো শুরুতেই অপসারণ করা দরকার। এ ব্যবস্থায় অবশিষ্ট কাঁদিগুলো থেকে বেশি আকর্ষণীয় বড় আকারের ফল পাওয়া নিশ্চিত হবে। খেজুর ফল ধীরে ধীরে বড় হওয়া আরম্ভ করলে তা ফলের ভারে ঝুলে পড়ে। এ ফলন্ত ছড়া পাতার ডগায় বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফল বড় হতে বাধা সৃষ্টি করে, তাতে ফলন কমে যায়। খেজুর ফলের থোকা যেন অবাধে আংশিকভাবে ঝুলতে পারে এজন্য কাঁটা পরিষ্কার করে দিয়ে ফলকে অবাধে বাড়তে দেয়া দরকার। খেজুরের ভারে একেকটা কাঁদি যেন ভেঙে না পড়ে এজন্য কাঁদির ফুল ধরা শুরু অংশে হালকাভাবে দড়ি বেঁধে দিয়ে ফলের কাঁদিকে উপরের ডালায় বেঁধে দিলে ভেঙে যাওয়া বা বেশি ঝুলে পড়া রোধ ব্যবস্থা নিতে হয়। ফল কিছুটা বড় হলে এক ধরনের মাছি পোকা ও পাখির উপদ্রব বাড়তে থাকে। এজন্য ঘন মশারি দিয়ে ঢিলা ব্যাগ তৈরি করে ফলগুলোকে সুন্দরভাবে ঢেকে দিতে হয়।

এছাড়া লম্বা ব্যাগের নিচে ফল পুষ্ট হলে বা পাকলে নিচে জমা হয় এবং নিচের গিট ফুলে ফল গ্রহণ করা হয়। বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় আরব দেশ থেকে উন্নত জাতের খেজুর কলম সংগ্রহ করে আধুনিক প্রযুক্তি অবলম্বনে এ জাতের খেজুর ডিএই’র আওতাধীন বিভিন্ন হর্টিকালচার সেন্টারে ও আগ্রহী কৃষক পর্যায়ে বাগান সৃষ্টির যে মহতি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তার সফলতা বয়ে আনুক এবং এ দেশে হাইভ্যালু অতি লাভজনক খেজুর ফল চাষ সম্প্রসারণের গতি বেগবান হোক পরিশেষে এটাই একান্তভাবে কাম্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com