আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

কাঠগোলাপের সাদার মায়ায়

এখন এই বাদলের দিনে রাজশাহী নগর ভবনের সামনের সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় মনে পড়ে যাবে কণ্ঠশিল্পী অর্ণবের গাওয়া ‘কাঠগোলাপের সাদার মায়া মিশিয়ে দিয়ে ভাবি’ গানটির কয়েকটি চরণ। বৃষ্টিতে শহরের প্রকৃতিতে এই ফুলের জন্য মায়া যেন বেড়ে গেছে । ঘন সবুজ পাতার সঙ্গে ফুটে আছে কাঠগোলাপ। প্রায় ২০০ গাছে ফুটেছে ফুল।

কাঠগোলাপ আমাদের চেনা ফুল। তবে গুলাচি, কাঠচাম্পা, গোলকচাঁপা, গৌরচাম্পা, গুলঞ্চ নামেও পরিচিত। কাঠগোলাপ মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় দ্বীপ এলাকার উদ্ভিদ। এশিয়ার নানান দেশে শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে আগমন ঘটেছে। বাংলাদেশের মূলত শহর এলাকায় রোপণ করা হয়েছে। বিশেষ করে শহরের পার্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে।বিজ্ঞাপন

কাঠগোলাপ (Plumeria obtusa) ১০ থেকে ২৫ ফুট উঁচু হতে পারে। কাণ্ড নরম, ভঙ্গুর। পাতা বড়। শীতে পাতা ঝরে যায়। বসন্তে ফুল ফোটা শুরু হয়। দেশে আরও কয়েক প্রজাতির কাঠগোলাপ রয়েছে। প্রজাতিভেদে রঙের ভিন্নতা রয়েছে। কলম ও কাটিং থেকে বংশ বৃদ্ধি করা যায়। P. lutea জাতের গাছই রাজশাহীতে হয়েছে। তবে এই জাতের অল্প কিছু গাছও আছে।

রাজশাহী নগরের শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে সিঅ্যান্ডবি মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে ২০১২ সালে প্রায় ২০০ কাঠগোলাপের গাছ লাগানো হয়। সড়ক বিভাজকের গাছগুলো ইতিমধ্যে শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে নগরবাসীর নজর কাড়ছে। দু-তিন বছর থেকেই এই গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। এবার ফুল এসেছে সবচেয়ে বেশি। রাজশাহী নগরের গ্রেটার রোড দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় কেউ এই সৌন্দর্যের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। আষাঢ় মাসের প্রথম দিন থেকেই রাজশাহী শহরে দিনের কোনো না কোনো সময় বৃষ্টি হচ্ছেই। এত দিন এই গাছের ঘন সবুজ পাতা ধুলায় ধূসর হয়ে থাকত। এখন বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে পাতার সবুজ রংটা যেন আরও উজ্জ্বল, আরও প্রাণপ্রাচুর্যের সম্ভার হয়ে উঠেছে।

রাজশাহী শহরের বেড়ে ওঠা তরুণী মায়িশা মাহজাবিন বলেন, ‘কাঠগোলাপ আমাদের অতিচেনা একটি গাছ।’ কিন্তু কণ্ঠশিল্পী অর্ণব কাঠগোলাপ নিয়ে ‘তোমার জন্য’ শিরোনামে গানটি করার পর তরুণ-তরুণীদের মধ্যে একধরনের মাতামাতি শুরু হয়। রাজশাহী শহরে এত কাঠগোলাপ ফুটে আছে যে গ্রেটার রোড দিয়ে যাওয়ার সময় গানটি গুনগুন না করে পারাই যায় না।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামানের নির্দেশনায় এই গাছ লাগানো হয়েছিল, জানালেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মাহমুদ-উল-ইসলাম। নতুন আরেকটি সড়কে আরও প্রায় ৪০০ গাছ লাগানো হয়েছে। মাহমুদ-উল-ইসলাম বলেন, প্রায় সারা বছরই এই গাছে ফুল থাকে। বড় বড় পাতাগুলো সবুজ। শুধু শীতে পাতা ঝরার সময় ছাড়া সব সময়ই গাছগুলো শহরে সবুজ মায়া তৈরি করে রাখে।

তবে পরিবেশবিদদের কারও কারও ভাষ্য, কাঠগোলাপ দেশি কোনো বৃক্ষ নয়। রোপণের জন্য এটি সড়কের পাশে বা সড়ক বিভাজকে মানানসই হয় না। প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক সৌরভ মাহমুদ বললেন, ‘এটি মূলত শোভাবর্ধনের জন্য পার্কে, বাড়ির বাগানে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সীমিত পরিসরে লাগানো যেতে পারে। সড়ক বিভাজকে গুল্মজাতীয় দেশি উদ্ভিদ লাগানো ভালো। তেমনি আমাদের শহরের সড়কের পাশে দেশি প্রজাতির ফুলের ও পাখিবান্ধব গাছ লাগানো উচিত।’

ফুল

যশোরের গদখালীতে ফেরি করে ফুল বিক্রি

ফুলের রাজধানীখ্যাত যশোরের গদখালী গ্রামের ফুলচাষী সুমন বিশ্বাস। দুই বিঘা জমিতে গোলাপ আর দুই বিঘা জমিতে জারবেরা চাষ করেছিলেন। প্রতি মাসে গড়ে ৭০ লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতেন তিনি। গত বছর করোনার প্রকোপের সময় মোটেও ফুল বিক্রি করতে পারেননি তিনি। ঘূর্ণিঝড় আম্পানে তার জারবেরা ক্ষেতের পলিশেড উড়ে যায়। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে শেডটি মেরামত করেন। গত বছর আগস্ট থেকে ঘুরে দাঁড়ায় ফুলের বাজার। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন সুমন। তার সেই স্বপ্ন আবার ভেঙে গেল করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে।

ফুল বিক্রিতে বিপর্যয় চলছে। করোনা ও লাগাতার লকডাউন-বিধিনিষেধে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে জমিতে ফোটা ফুল। স্থানীয় বাজারে ফুল বেচাকেনা ও চাহিদা না থাকায় বাধ্য হয়ে গ্রাম থেকে ৩৫ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে যশোর শহরে পানির দরে ফেরি করে ফুল বিক্রি করছেন তিনি। শুধু সুমন বিশ্বাস নন; গদখালী এলাকার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ফুলচাষী জমি থেকে ফুল কেটে শহর কিংবা গ্রামে সাইকেল বা ভ্যানে ফেরি করে ফুল বিক্রি করছেন। আবার অনেকেই সেটা করতে না পারায় ক্ষেতের ফুল কেটে গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে জোগান দিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সূত্রমতে, যশোরের ঝিকরগাছা ও শার্শা উপজেলার ৭৫টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করা হয় হরেক রকমের ফুল। ঝিকরগাছার পানিসারা-গদখালী গ্রামগুলোর রাস্তার দুই পাশে দিগন্ত বিস্তৃত জমিতে সারা বছরই থাকে ফুলের সমাহার। শত শত হেক্টর জমিতে গাঁদা, গোলাপ, গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধা, জারবেরা, কসমস, ডেইজ জিপসি, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চাষ হয় এখানে। এলাকায় উৎপাদিত ফুল বিক্রির জন্য গদখালীতে যশোর রোডের দুই ধারে রয়েছে ফুলের বাজার। প্রতিদিন উপজেলার গদখালী-পানিসারার শত শত ফুলচাষীর আনাগোনা শুরু হয় গদখালী বাজারে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছোট-বড় পাইকাররাও সেখান থেকে ফুল কিনে নিয়ে যান। এরপর বিভিন্ন হাতবদল হয়ে পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে ফুল ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে, এমনকি দেশের বাইরেও। তবে করোনার কারণে এ কার্যক্রমে ছেদ পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর ৩০০ কোটি টাকার ফুল উৎপাদন হয় এসব মাঠে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে প্রায় ২০ হাজার ফুলচাষী রয়েছেন। এর মধ্যে শুধু যশোর জেলায় প্রায় ছয় হাজার চাষী চাহিদার সিংহভাগ সরবরাহ করেন। এজন্য যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ অঞ্চলের কৃষকের প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে ফুলই স্বীকৃত। সেই ফুলের রাজধানীতে চাষীরা ভালো নেই। মহামারী ও ঘূর্ণিঝড়ের ধকলে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে। এরপর গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশের করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সামাজিক অনুষ্ঠান ঘিরে ফুলের চাহিদা বাড়ে। বেচাকেনাও মোটামুটি ভালো হয়। তখন চাষীরা ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু মার্চে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। এপ্রিল থেকে কয়েক দফায় লকডাউন-বিধিনিষেধ দেয়ায় ফুলের বাজারে ধস নামে।

শমজেদ নামে এক ফুলচাষী বলেন, এখন ফুলের বাজার নেই। করোনার আগে প্রতিটি ফুল যে দামে বিক্রি করতাম, সেই দাম পেতে এখন ১০০টি ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ১০০ গোলাপ ১০ টাকা, অথচ করোনার আগে প্রতিটি ফুল বিক্রি করেছি দেড় থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত। এখন ১০০ গ্লাডিওলাস ২০ টাকা, করোনার আগে প্রতিটি ফুলের দাম ছিল ২০ টাকা। ১০০ ভুট্টাফুল ২০ টাকা, যা করোনার আগে বিক্রি করেছি ১০০-১৫০ টাকায়। ফুল বেচাকেনা না থাকায় ভ্যানে করে বিক্রি করে বেড়াচ্ছি।

যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের প্রায় ৬২৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে দেশী-বিদেশী নানা জাতের ফুল চাষ হচ্ছে। ফুল চাষের সঙ্গে এখানকার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কৃষক এবং প্রায় এক লাখ শ্রমিক সম্পৃক্ত। করোনার কারণে ফুলের বাজার বন্ধ রয়েছে। ক্ষেতে ফুল নষ্ট হচ্ছে। ফুলচাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে আউশ ধানের বীজ, টমেটোর চারা দিয়েছি।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম বলেন, দেশের চাহিদার শতকরা ৬০-৭০ ভাগ ফুল যশোর থেকে সরবরাহ করা হয়। করোনার কারণে গত বছর পাঁচ মাস এবং এ বছরের তিন মাসে ফুল বিক্রির সুযোগ না থাকায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকার ফুল নষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে শুধু যশোর অঞ্চলে অন্তত ৩০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ পর্যন্ত ৩০০ চাষীকে ২ কোটি টাকার মতো ঋণ দেয়া হয়েছে। করোনার কারণে চাষীদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার স্বপ্ন শেষ। ফুলচাষীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

নীলবাসকের কথা

অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা ছিলেন চার্লস ডারউইনের ভাবশিষ্য। এতটাই যে ডারউইনকে ঘিরে রচনা করেছিলেন তিন-তিনটি বই। এমন অনুরক্তি থেকেই তিনি গিয়েছিলেন সাড়া জাগানো এই প্রকৃতিবিদের জন্মভিটা ইংল্যান্ডের শ্রুসব্যারিতে। কিন্তু আমার সাধ থাকলেও সাধ্যে ততটা কুলায়নি। আমি গিয়েছি আমার উদ্ভিদবিদ্যার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার প্রকৃতিদর্শনের আঁতুড়ঘর পাথারিয়া পাহাড়ে।

পারিবারিক সূত্রে পাওয়া একটি অনুচ্চ টিলা ও লাগোয়া পাহাড়ে ছেলেবেলায় দিনমান ঘুরে বেড়ানো দ্বিজেন শর্মার বাস্তুবিদ্যার হাতেখড়িও এখানেই। পাথারিয়ার এই স্বপ্নবোনা প্রকৃতির আবেগঘন বয়ান তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে। এই বন আমৃত্যু তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিল। ‘কতিপয় সুদর্শন বনবৃক্ষ’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘আমার কৈশোর কেটেছে সিলেটের পাথারিয়া পাহাড়ের লাগোয়া অরণ্যঘেরা অঞ্চলে। সেখানকার গাছগাছালি-পাখপাখালি যে মনের গভীরে কতটা ছায়া বিস্তার করেছিল, একদিন টের পেলাম, যখন হঠাৎ মনে পড়ে, কবে কখন একটি লাল রঙের পাখি দেখেছিলাম ওই জঙ্গলে, নিশ্চিতই আলতাপরি, স্কারলেট মিনিভেট, আর সারা দিন সে আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখল, কোনো কাজেই মন বসানো গেল না। আরেক দিন মনে পড়ল একটি গাছের কথা, বেশ বড়সড়, লম্বা চ্যাপ্টা পাতা, ফুলগুলোও ঢাউস, বহু পাপড়ির, হয়তো ম্যাগনোলিয়ার কোনো প্রজাতি। বুনো ম্যাগনোলিয়া? অবিশ্বাস্য। বইপত্র খুঁজে হদিস মেলে। হ্যাঁ, বুনো ম্যাগনোলিয়াই বটে, দুলিচাঁপা, যার খোঁজ দীর্ঘদিন পাইনি।’ সুতরাং এমন একটি প্রকৃতি–তীর্থভ্রমণ আমাদের জন্য কতটা অপরিহার্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বর্ণখচিত এই পাহাড়ে না গেলে উদ্ভিদ অনুসন্ধানে অপূর্ণতা থেকেই যেত।

টিলায় ওঠার আগে সরু পথের ধারে রামবাসকের বনে যে অগ্নিরাঙা শোভায় চোখ জুড়িয়েছি, তার কোনো তুলনা হয় না। রামবাসকের এমন প্রাচুর্য আর কোথাও দেখিনি। ঢালে পেলাম দুর্লভ কালিকোরা এবং ঢাকিজামের গাছ। অনেক অচেনা গাছের ভিড়ে চোখ খুঁজছিল বড় পাতার সুউচ্চ এক বৃক্ষ। টিলার অন্য প্রান্তে পেয়ে গেলাম সেই গাছ, দুলিচাঁপা। তখন বনতলে অজস্র তৃণগুল্মের ভিড়ে চোখ আটকে গেল স্নিগ্ধ শোভার এই মায়াবী ফুলে। একেবারেই অচেনা। পাপড়ির গড়ন অনেকটা নয়নতারা ফুলের মতো। তবে রং ও পাতার গড়ন আলাদা। টিলার এক প্রান্তে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি গাছ দেখা গেল। আসলে প্রস্ফুটন মৌসুম ব্যতীত উদ্ভিদটি সাধারণত আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। ফুলের ছবি দেখে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন জানালেন, এটি অ্যাকেথাসিয়া পরিবারের ইরানথেমাম এসপিপি প্রজাতির উদ্ভিদ। ইংরেজি নাম ইস্ট-হিমালয়ান ইরানথেমাম। স্থানীয়ভাবে নীলবাসক নামেও পরিচিত।

পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের ঝোপালো এই উদ্ভিদ তিন থেকে চার ফুট উঁচু হতে পারে। কাণ্ড ঈষৎ লোমশ। এক থেকে দুই ফুট উঁচু ফুলের একক স্পাইক খাড়া ধরনের। শাখাগুলো তীক্ষ্ণভাবে ৪-পার্শ্বযুক্ত। পাতা ফ্যাকাশে সবুজ, প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, মসৃণ, চকচকে, প্রান্ত কুঁচকানো বা ঢেউখেলানো এবং শিরাযুক্ত। গাঢ় নীল রঙের ফুলগুলো বড়, বিকল্প জোড়াগুলোর বিপরীতে থাকে, যা স্পাইকটি দীর্ঘায়িত হয়ে দূরবর্তী হয়ে যায়। শাখাবর্তী মঞ্জরি ঢাকনা গাঢ় সবুজ এবং প্রায় আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। গোড়ার দিকে নলাকার, পাতলা, মখমল-লোমশ এই ফুলের মুখের দিকে সামান্য বাড়ানো এবং বাইরের খাঁজ দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ হতে পারে। নীলবাসকের প্রাকৃতিক আবাস হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুল ফোটার মৌসুম জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

ফুল তো আর মানুষের কথা শোনে না

করোনা নিয়ন্ত্রণে ‘কঠোরতম’ বিধিনিষেধে শুক্রবার ঢাকার সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। বিশেষ প্রয়োজনে চলেছে দু–একটা গাড়ি ও কিছু রিকশা। প্রয়োজন ছাড়া মানুষের বাইরে বেরোনো ঠেকাতে পুলিশ–আর্মির টহল ও নজরদারি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এর মধ্যেও বেপরোয়া আচরণ করেছেন অসচ্ছল–অসহায় মানুষগুলো। তেমনই একটি ঘটনা দেখা গেল একজন ফুল বিক্রেতার।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুল শুকিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে থাকা ওই ব্যক্তি বললেন, এ ছাড়া তাঁর আর কোনো ‘উপায় ছিল না’। বিধিনিষেধের জন্য ফুল তো আর না শুকিয়ে বসে থাকবে না।

আবারও হাসিহাসি মুখে বললাম, ‘আজ যে কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে জানেন না? ধরলে তো জরিমানা হবে।’ প্রশ্নের বিপরীতে তিনি যে প্রশ্ন করেন, তাতে আর উত্তর দেওয়ার কিছু থাকে না।

কিশোরগঞ্জের স্বপন বেশ কয়েক বছর ধরেই রাজধানীতে আছেন জীবিকার তাগিদে। আগে থাকতেন আদাবরে। কিছুদিন হলো ফার্মগেটের মনিপুরী পাড়ায় মেসে উঠেছেন।

কথা বলে সময় নষ্ট হচ্ছে, আবার আমিও পিছু ছাড়ছি না দেখে একপর্যায়ে আবার সেই গ্রিলের কাছে যান তিনি। শিস বাজিয়ে কেউ একজনকে ডাকেন। মুহূর্তের মধ্যে ওপাশ থেকে এগিয়ে আসে ছোট ছোট দুটি হাত। এপাশ থেকে এগিয়ে যান তিনি। এরপরে তাঁর হাতে উঠে আসে কয়েকটি বালতি আর গামলা। গামছা আর কাপড়ে ঢাকা। তখন স্পষ্ট হয় ব্যাপারটা।

স্বপনের একজন খুদে সহযোগী আছে। দুজন মিলে এতক্ষণ পুলিশের ভয়ে চন্দ্রিমা উদ্যানের গাছপালার ভেতর বসে ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বেরিয়ে আসেন। তাঁর সঙ্গে বেরিয়ে আসে তিনটি পাত্রভরা ফুল। দোলনচাঁপা প্রতি তোড়ায় ১০টি করে। এক তোড়ার দাম ১০০ টাকা। এক রঙের গোলাপ হলুদগুলোর তোড়া ২০০ টাকা। আছে ১৫ থেকে ১৮টি করে। তবে এগুলো লিচু কেনার মতো গুনে নেওয়ার সুযোগ নেই। তাতে ফুল নষ্ট হবে। ফুল ক্রেতাকে নিতে হবে বিশ্বাস করেই। গোলাপের তা–ও বেশ কিছুক্ষণ টিকে থাকার সক্ষমতা আছে, কিন্তু দেশীয় দোলনচাঁপার তা নেই। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই ফুল মিইয়ে যাবে, তাই যত বেশি পাতা দিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখা যায়, সেই চেষ্টায়ই তাঁরা করছিলেন।

লকডাউনের এমন কড়াকড়ি পরিস্থিতির মধ্যেও স্বপন আজ আট হাজার টাকার ফুল এনেছেন। বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত একটি তোড়াও বিক্রি করতে পারেননি তিনি।

বিধিনিষেধের শুরুতে কাজটা কেন করলেন জানতে চাইলে তিনি বললেন, টাকা ঈদের আগেই দিয়ে বায়না করেছিলেন। ভেবেছিলেন বিধিনিষেধ আরেকটু দেরিতে শুরু হবে। ফুল সকালে সাভার থেকে আগারগাঁও এসেছে। সেখান থেকে রিকশায় করে এখানে নিয়ে এসেছেন।

নিরুপায় এই ফুল বিক্রেতা বলেন, ‘সমস্যা হইল এমন গরমে বেশিক্ষণ ভালো রাখা যাইতেছে না। বায়না করা থাকলে না নিয়া তো উপায় নাই।’

এতক্ষণে স্বপনের সেই সহযোগী আরও একটু সাহসী হয়। ওপাশের গাছপালার ভেতর থেকে ছোট ছোট চোখে তাকিয়ে ছিল আমার দিকে। জিজ্ঞেস করলাম কে হয়? আমতা আমতা করে স্বপন জানান, কেউ হয় না, হেল্পার আর থাকে খায় তাঁর সঙ্গেই। ওপাশ থেকে ছোট হাতে এগিয়ে আসে পানির বোতল। স্বপন সে বোতল নিয়ে ফুলে ছিটিয়ে দিলেন। বললাম, গরমে তো সেদ্ধ হচ্ছে। কাল ভোরে ভোরে নিয়ে বের হলেই পারতেন।

পাল্টায় স্বপন বলেন, ‘আট হাজার টাকার ফুল। আমি বললেই না শুকায়া বইসা থাকব লকডাউন বইলা? ফুল কি মানুষের কথা শোনে?’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

বর্ষার ফুলের হাসি

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গানে গানে বন্দনা করেছেন বর্ষার, আর বর্ষার ফুলের, ‘এই শ্রাবণ-বেলা বাদল-ঝরা/ যূথীবনের গন্ধে ভরা/…বাদল-সাঁঝের আঁধার-মাঝে/ গান গাবে প্রাণ-পাগল-করা।’

করোনার অতিমারিতে জবুথবু মানবকুল। জীবন ও জীবিকা টিকিয়ে রাখার অবিরত লড়াই চারদিকে। এর মধ্যেই প্রকৃতি আপন আলোয় উদ্ভাসিত। কখনো চড়া রোদ, কখনো অবিশ্রান্ত ধারায় বৃষ্টির নাচন। ঋতুর নাম যে বর্ষা। আষাঢ় মাস পেরিয়ে শ্রাবণের দ্বিতীয় সপ্তাহ শুরু হয়েছে। বিকেলের আকাশে সাদা মেঘের ভেলা বলে দেয় শরৎ সমাগত।

আষাঢ়ের প্রকৃতিতে কদম ফুল বর্ষার প্রতীক হয়ে আমাদের মনে দোলা দেয়। কবিরাও করেছেন কদমের জয়গান, ‘বাদল-দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান/ আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’। আষাঢ়ের প্রথম দিবসে কদম যেন ফুটতেই হয়! বর্ষার দূত কদমের সৌরভ এখন কিছুটা কমে এসেছে বটে। তবে শ্রাবণেও গ্রামের যেকোনো ঝোপের প্রান্তরে বা জলাশয়ের ধারে দেখা যায় কদমের হাসি। আমাদের শহরগুলোতে কদমের ঠাঁই হয়েছে উদ্যানে।

বর্ষাপ্রেমীরা বলে থাকেন, বর্ষাকালে কদম ফুল যদি দেয় দৃশ্যের আনন্দ, কেয়া ফুল তবে দেয় সৌরভের গৌরব। যৌবনের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কথায়, ‘রিমি ঝিম রিমি ঝিম ঐ নামিল দেয়া/ শুনি শিহরে কদম, বিদরে কেয়া।’

বসন্ত যদি হয় ঋতুরাজ, বর্ষা তবে প্রকৃতির রানি। বর্ষায় প্রকৃতি নিজেকে ধুয়ে-মুছে সজীব ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

অতিসম্প্রতি রমনা পার্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ধানমন্ডি লেক লাগোয়া অঞ্চল, হাতিরঝিল ঘুরে বর্ষার ফুলের সৌন্দর্য দেখার সুযোগ ঘটল। চোখ ও মনের এ এক পরম তৃপ্তি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরে আষাঢ়ের শুরুতে আকারে বড়, সাদা বর্ণের পাপড়ি ও হলদে পরাগকেশরের সমাহারে দৃষ্টিনন্দন যে চালতা ফুল দেখা গিয়েছিল, এখন তাতে এসেছে ছোট ছোট কচি ফল। রমনা উদ্যানেও আছে চালতা গাছ, তবে এখন ফলবতী হওয়ার মতো বড় হয়নি গাছগুলো।

সোনালু গ্রীষ্মের ফুল। জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন সড়কে প্রতিবছর সোনালু ফোটে হলুদের পসরা সাজিয়ে। ফুলের রেশ থাকে আষাঢ় অবধি। প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম রূপে সাজাতে জুড়ি নেই সোনালুর।

গ্রীষ্মকালে ফোটা কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য বর্ষাতেও উপভোগ্য। এই শহরের জন-উদ্যানে, ক্যাম্পাসের সুপরিসর চত্বরে—কোথায় নেই কৃষ্ণচূড়া? রঙিন কৃষ্ণচূড়া বর্ষার প্রকৃতিতেও নাগরিক সুখের অনন্য উৎসরূপে বিরাজ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে যেন প্রেমিকের হলুদ খামের চিঠির অপেক্ষায় বসে আছে বিরহী রাধাচূড়া।

তবে ৪১১ বছর বয়সী রমনা উদ্যানে গেলে আপনাকে সহাস্যে স্বাগত জানাবে বেলি, টগর, বকুল, নাগকেশর, রঙ্গন, গন্ধরাজ, কাঞ্চন, চন্দ্রমল্লিকা, বাগানবিলাস, মোরগফুলসহ কত না ফুল। আপনার হৃদমাজারটা পূর্ণ হবে অনির্বচনীয় সুখানুভূতিতে।
শহরে শাপলা-শালুক, পদ্মের দেখা না মিললেও তা দেখতে আপনাকে যেতে হবে ঘর হতে মাত্র দু পা ফেলে দিগন্তবিস্তৃত আড়িয়ল বিলে।

করোনাকালে বড় হয়েছে রাজধানীর নাগরিক-ছাদবাগানগুলো। এই বর্ষায় সেখানে ফুটেছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, জবা, হাসনাহেনা, দোলনচাঁপা, কামিনী, জুঁই, লিলি, নয়নতারা, দোপাটি, মোরগঝুঁটি, কলাবতীসহ কত না ফুল। এসব ফুল একদিকে হাঁসফাঁস করতে থাকা নাগরিক মনে

খানিকটা হলেও আনন্দের উপলক্ষ নিয়ে আসে, অন্যদিকে ফুলের রং-ঘ্রাণে আপনার অন্দরের ভেতর-বাহির যেন পায় নবজীবন।
বর্ষার সময়ে ছাদবাগানে খুব একটা পানি দেওয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। কেবল খেয়াল রাখতে হয় টবে গাছের গোড়ায় যেন পানি না জমে। টবে পানি জমলে তাতে আশ্রয় নিতে পারে এডিস মশা, যা মারাত্মক ডেঙ্গু রোগের কারণ।

মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। কমছে বৃক্ষের। কারণে-অকারণে অনবরত কাটা পড়ছে বৃক্ষ। লাভের অঙ্কের হিসাব মেলাতে অনেকেই কদম, চালতা সৃজনে অনীহা প্রকাশ করছেন। অথচ কদম, চালতা ছাড়া বর্ষা বেমানান। আবহমান কাল ধরে আমাদের প্রকৃতিকে বর্ষার ফুল সাজিয়ে চলেছে অকৃত্রিম উদারতায়। জনমনে তাই বোধোদয় আসুক। দিন দিন বিস্তৃত হোক বর্ষার ফুলের হাসি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

নীলবাসকের কথা

অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মা ছিলেন চার্লস ডারউইনের ভাবশিষ্য। এতটাই যে ডারউইনকে ঘিরে রচনা করেছিলেন তিন-তিনটি বই। এমন অনুরক্তি থেকেই তিনি গিয়েছিলেন সাড়া জাগানো এই প্রকৃতিবিদের জন্মভিটা ইংল্যান্ডের শ্রুসব্যারিতে। কিন্তু আমার সাধ থাকলেও সাধ্যে ততটা কুলায়নি। আমি গিয়েছি আমার উদ্ভিদবিদ্যার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার প্রকৃতিদর্শনের আঁতুড়ঘর পাথারিয়া পাহাড়ে।

পারিবারিক সূত্রে পাওয়া একটি অনুচ্চ টিলা ও লাগোয়া পাহাড়ে ছেলেবেলায় দিনমান ঘুরে বেড়ানো দ্বিজেন শর্মার বাস্তুবিদ্যার হাতেখড়িও এখানেই। পাথারিয়ার এই স্বপ্নবোনা প্রকৃতির আবেগঘন বয়ান তাঁর লেখায় বারবার ফিরে এসেছে। এই বন আমৃত্যু তাঁর ছায়াসঙ্গী ছিল। ‘কতিপয় সুদর্শন বনবৃক্ষ’ প্রবন্ধে তিনি লিখেছেন, ‘আমার কৈশোর কেটেছে সিলেটের পাথারিয়া পাহাড়ের লাগোয়া অরণ্যঘেরা অঞ্চলে। সেখানকার গাছগাছালি-পাখপাখালি যে মনের গভীরে কতটা ছায়া বিস্তার করেছিল, একদিন টের পেলাম, যখন হঠাৎ মনে পড়ে, কবে কখন একটি লাল রঙের পাখি দেখেছিলাম ওই জঙ্গলে, নিশ্চিতই আলতাপরি, স্কারলেট মিনিভেট, আর সারা দিন সে আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখল, কোনো কাজেই মন বসানো গেল না। আরেক দিন মনে পড়ল একটি গাছের কথা, বেশ বড়সড়, লম্বা চ্যাপ্টা পাতা, ফুলগুলোও ঢাউস, বহু পাপড়ির, হয়তো ম্যাগনোলিয়ার কোনো প্রজাতি। বুনো ম্যাগনোলিয়া? অবিশ্বাস্য। বইপত্র খুঁজে হদিস মেলে। হ্যাঁ, বুনো ম্যাগনোলিয়াই বটে, দুলিচাঁপা, যার খোঁজ দীর্ঘদিন পাইনি।’ সুতরাং এমন একটি প্রকৃতি–তীর্থভ্রমণ আমাদের জন্য কতটা অপরিহার্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বর্ণখচিত এই পাহাড়ে না গেলে উদ্ভিদ অনুসন্ধানে অপূর্ণতা থেকেই যেত।

টিলায় ওঠার আগে সরু পথের ধারে রামবাসকের বনে যে অগ্নিরাঙা শোভায় চোখ জুড়িয়েছি, তার কোনো তুলনা হয় না। রামবাসকের এমন প্রাচুর্য আর কোথাও দেখিনি। ঢালে পেলাম দুর্লভ কালিকোরা এবং ঢাকিজামের গাছ। অনেক অচেনা গাছের ভিড়ে চোখ খুঁজছিল বড় পাতার সুউচ্চ এক বৃক্ষ। টিলার অন্য প্রান্তে পেয়ে গেলাম সেই গাছ, দুলিচাঁপা। তখন বনতলে অজস্র তৃণগুল্মের ভিড়ে চোখ আটকে গেল স্নিগ্ধ শোভার এই মায়াবী ফুলে। একেবারেই অচেনা। পাপড়ির গড়ন অনেকটা নয়নতারা ফুলের মতো। তবে রং ও পাতার গড়ন আলাদা। টিলার এক প্রান্তে বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি গাছ দেখা গেল। আসলে প্রস্ফুটন মৌসুম ব্যতীত উদ্ভিদটি সাধারণত আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। ফুলের ছবি দেখে বাংলাদেশ ন্যাশনাল হারবেরিয়ামের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরদার নাসির উদ্দিন জানালেন, এটি অ্যাকেথাসিয়া পরিবারের ইরানথেমাম এসপিপি প্রজাতির উদ্ভিদ। ইংরেজি নাম ইস্ট-হিমালয়ান ইরানথেমাম। স্থানীয়ভাবে নীলবাসক নামেও পরিচিত।

পূর্ব হিমালয় অঞ্চলের ঝোপালো এই উদ্ভিদ তিন থেকে চার ফুট উঁচু হতে পারে। কাণ্ড ঈষৎ লোমশ। এক থেকে দুই ফুট উঁচু ফুলের একক স্পাইক খাড়া ধরনের। শাখাগুলো তীক্ষ্ণভাবে ৪-পার্শ্বযুক্ত। পাতা ফ্যাকাশে সবুজ, প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা, মসৃণ, চকচকে, প্রান্ত কুঁচকানো বা ঢেউখেলানো এবং শিরাযুক্ত। গাঢ় নীল রঙের ফুলগুলো বড়, বিকল্প জোড়াগুলোর বিপরীতে থাকে, যা স্পাইকটি দীর্ঘায়িত হয়ে দূরবর্তী হয়ে যায়। শাখাবর্তী মঞ্জরি ঢাকনা গাঢ় সবুজ এবং প্রায় আড়াই সেন্টিমিটার লম্বা। গোড়ার দিকে নলাকার, পাতলা, মখমল-লোমশ এই ফুলের মুখের দিকে সামান্য বাড়ানো এবং বাইরের খাঁজ দৈর্ঘ্যের দ্বিগুণ হতে পারে। নীলবাসকের প্রাকৃতিক আবাস হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত। ফুল ফোটার মৌসুম জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com