আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

কাঞ্চনলতার স্নিগ্ধ শোভা

কাঞ্চন ফুলের সহজলভ্য কয়েকটি রকমফের ভালোই চেনা। কিন্তু কাঞ্চনলতা ছিল একেবারেই অচেনা। আগেই জেনেছি, মধুপুরের বনে পাওয়া যায় গাছটি। তবে যেতে হবে ফুলের মৌসুম হিসাব করে। টাঙ্গাইলে মধুপুরের বন বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকবারই দেখা হয়েছে। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এই বনও বছরে কয়েকবার বদলে যায়। ফলে সারা বছরই সেখানে আমাদের জন্য নানান বৈচিত্র্য অপেক্ষা করে। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে মে মাস পর্যন্ত সেখানে ফুলের আধিক্য থাকে। কারণ, কয়েক মাসের শীতঘুমের পর তখন জেগে ওঠে বন। এমন একটি সময়েই বনের ভেতর ঘুরতে ঘুরতে কাঞ্চনলতার দেখা পেলাম। বানরকলার স্নিগ্ধ লাল ফুলগুলোর ছবি তুলে কিছু দূর এগোতেই চোখে পড়ল ফুলটি। অদূরে হাড়গজা গাছের পত্রহীন ডালে অজস্র নবীন ফল ঝুলছে। মধ্য দুপুরেও বনের ভেতর আলোর স্বল্পতা অনুভূত হলো। তাই ছবি তুলতে বেশ কসরত করতে হলো। ছবি তুলতে তুলতে মন ভরে দেখে নিয়েছি ফুলটি। প্রকৃতিজুড়ে কত বৈচিত্র্যই না আছে। যে কাঞ্চন রীতিমতো বৃক্ষ, সে কাঞ্চনই আবার লতা!বিজ্ঞাপন

প্রায় দেড় শ বছর আগে বাংলা সাহিত্যে উপমা হিসেবে এই ফুলের ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ১৮৭৫ সালে নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর সরোজিনী নাটকে কাঞ্চনলতার উল্লেখ করেছেন। নাটকের একটি চরিত্রের নাম উর্ম্মি, তিনি বলছেনÑ‘তা আর বলতে আবার? সরোজ আমার যেমন কাঞ্চনলতা, তেম্নিœসহকার তরুটীও যুটেচে।’ তবে আরও আগে ষোড়শ শতাব্দীতে কবি গোপাল দাসের ‘বৈষ্ণব পদাবলী’ ও মহাকবি কালিদাসের রচনায়ও কাঞ্চনলতার প্রসঙ্গ রয়েছে। কালিদাস বলছেনÑ‘মারী।Ñবৎস! চিরং জীবন্ তবে কাঞ্চনলতা ঋতুসমাগমের চিহ্নস্বরূপ কুসুম ধারণ করুন॥’ এসব সংলাপ থেকে অনুমেয়, কাঞ্চনলতা একসময় বেশ পরিচিত একটি ফুল ছিল।

উদ্ভিদটি স্থানীয়ভাবে চেহুর, তাউ, চিহুল ইত্যাদি নামেও পরিচিত। এটি মধুপুর ছাড়া অন্যান্য শালবন এবং পাহাড়ি বনে পাওয়া যায়। তবে সংখ্যায় কম। কাঞ্চনলতা (Bauhinia vahlii) বেশ বড় আকারের কাষ্ঠল আরোহী, ৯ মিটারের বেশি লম্বা হতে পারে, কাণ্ড পুরু। সুউচ্চ বৃক্ষে বিশৃঙ্খলভাবে ঠাসাঠাসি করে বেড়ে ওঠে। তরুণ বিটপ আকর্ষী যুক্ত। পাতা বেশ বড়, সরল, আগার দিকে গভীরভাবে দুভাগে বিভক্ত। একসময় পাতায় মুড়িয়ে সওদাপাতি বিক্রি হতো। মঞ্জরিদণ্ড লম্বা, ফুল ছোট, ঘিয়ে-সাদা রঙের। তবে পরিণত ফুল ঈষৎ হলদে। ফল শিমের মতো। বর্তমানে গাছটিকে বিপন্ন মনে করা হয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সহজলভ্য। দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় এবং চওড়া ও ঘনবদ্ধ পাতার আচ্ছাদনের কারণে মাটির ক্ষয় রোধে এই গাছের ভূমিকা অনন্য। আঁশ, খাদ্য, পানীয় ও ভেষজগুণের জন্যও গাছটি গুরুত্বপূর্ণ। এর বীজ বলকারক ও কামোদ্দীপক। শ্লেষ্মাযুক্ত পাতার রস প্রশান্তিদায়ক। কাণ্ডের বাকল ট্যানিনযুক্ত। ভারতের কোনো কোনো সম্প্রদায় এই গাছের পাতা থালা, পেয়ালা ও ছাতা হিসেবে ব্যবহার করে। ভুটান ও বাংলাদেশে বাকলের আঁশ থেকে শক্ত দড়ি তৈরি করা হয়। স্বাদের দিক থেকে কিছুটা কাজুবাদামের মতো হওয়ায় উত্তর ভারতের আদিবাসীরা এর বীজ খেতে পছন্দ করে। সাধারণত বীজ থেকেই বংশ বৃদ্ধি।

ফুল

লালপিঠ ফুলঝুরি

পুঁচকে পাখিটার ডাক শুনে, উপকরণ মুখে বারবার যাতায়াত দেখে ও উঁচু পেয়ারাগাছটার সরু প্রশাখায় দুলতে-ঝুলতে আর বসতে দেখে শেখ মামুনুর রহমান বুঝে ফেলল পাখিটা বাসা বাঁধছে। ফোন করল আমাকে। আমি ওকে বললাম পাখিটাকে শনাক্ত করতে ও হিসাব রাখতে বাসাটা শেষ করল কত দিনে! মামুন বাংলাদেশ ওয়াইল্ড লাইফ ক্লাবের সদস্য, চাকরি করে বন বিভাগে।

মধ্যসুন্দরবনের আদাচাই বন টহল ফাঁড়ি থেকে মামুন আবারও ফোন করে ছয় দিন পর। জানায় বাসাটি বাঁধা শেষ। কদিন পর ফাঁড়ির তিনতলা ভবনের ছাদে উঠে সে বাসায় বসা পাখিটার ছবি তুলে সেদিনই আমাকে পাঠায়। দিনটি ছিল গত বছরের ৫ জুলাই।বিজ্ঞাপন

এই পাখিদের বাসার উপকরণ হয় সরু শিকড়, ঘাস, বিভিন্ন নরম গাছের আঁশ, মাকড়সার জাল ইত্যাদি। মামুন লক্ষ করে দেখে, হরিণের ঝরে পড়া লোম, গোলপাতা-কেয়াপাতার ফালিও আছে। ঝুলন্ত-দুলন্ত বাসাটি দেখতে অনেকটাই ছোট আকৃতির লম্বাটে পেঁপের মতো। মামুন তার চোখের মাপে জানাল, বাসাটি ইঞ্চি চারেক লম্বা আর ইঞ্চি তিনেক চওড়া হবে।

সিঁদুরে টুনি, লাল ফুলঝুরি, সিঁদুরে পিঠ ফুলঝুরি ও লালপিঠ ফুলঝুরি নামে পরিচিত পাখিটি। ইংরেজি নাম স্কারলেট-বেকড ফ্লাওয়ারপেকার। বৈজ্ঞানিক নাম Dicaeum cruentatum. দৈর্ঘ্য সাত সেমি মাত্র। ওজন ৬.০৩ গ্রাম। এদের বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্য ফুলঝুরিদের মতো। উঁচু দিয়ে উড়বে। দু-চার সেকেন্ড অন্তর ‘ধাতব ছিপ ছিপ’ ‘ঠিক ঠিক’ স্বরে ডাকবে। গাছের মগডালে বসেও ডাকবে। খাবার খেতে খেতেও ডাকবে। তবে প্রজনন মৌসুমে (বসন্ত-শরৎকাল) মিষ্টি ‘টিসিট টিসিট’ সুরে শিসের ধ্বনির মতো গান গায়। উঁচু দিয়ে ওড়ে, উঁচুতেই থাকে, উঁচুতেই বাসা করে।

তাই বলে নিচের দিকে, এমনকি ফুল-ফসলের খেতে যে নামে না, তা কিন্তু নয়। খাবারের জন্য নামেই। এদের মূল খাবার নানান রকম ফল, বিশেষ করে লোহাজাম, খুদিজাম, গোলাপজাম, পাকা তাল, সফেদা, পেঁপে, পেয়ারা, আতা ও পাকা আমের প্রতি লোভ বেশি। পাকা আমের বোঁটায় ঝুলে-দুলে যখন আম খায়, তখন দারুণ লাগে দেখতে। সাধারণ ফুলঝুরিদের মতো এরাও হাভাতের (নাকি হা-ফল!) মতো পাকা পেঁপে-পেয়ারা ইত্যাদি ফল ঠুকরে ঠুকরে গেলে। ছোট ফল আস্ত গেলার সময় এদের দমবন্ধ দশা হয়। এরা পেঁপে খেতে খেতে পেঁপের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বাগেরহাটে এরা তাই ফলটুনি নামেও পরিচিত।

ফল ছাড়াও পোকামাকড়, ফুলের মধুরেণুসহ পান করে তাল-খেজুরের রস। ফক্সটেইল অর্কিড ফুলে যখন দুলুনি-ঝুলুনি খেয়ে খাবার খোঁজে এরা, তখন আশ্চর্য সুন্দর রঙের কম্বিনেশন দেখা যায়। দেখাবে না! পুরুষ পাখিটি যা সুন্দর! মাথা-পিঠ আলতা-লাল বা সিঁদুরে লাল, চোখের ওপরে যেন লেপটানো কালো কাজল, যা ডানার উপরিভাগেও লেগে গেছে। গলা-বুক ও পেটের তলা সাদা। লেজের ওপরের প্রান্ত আবার কালো। পা ও ঠোঁট কালো। স্ত্রী পাখি ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছানা দেখতে প্রায় একই রকম। স্ত্রী পাখির মাথার তালু-পিঠ ও ডানার উপরিভাগ বাদামি, লেজের গোড়া সিঁদুররঙা, আগাটা কালো।বিজ্ঞাপন

এই পাখিরা ডিম পাড়ে ২টি। ডিম ফুটে ছানা হয় ৯ থেকে ১১ দিনে। বাসাটির নেংটুপুটু একটি ছানাকে মামুন খুব কাছ থেকে দেখেছিল পেয়ারার ডাল টেনে কাছে এনে। ওই সময়ে দুটি পাখি মিলে যা শোরগোল করছিল না!

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

টিউলিপ দেখার অনির্বচনীয় আনন্দ

জার্মানির হামবুর্গ এয়ারপোর্ট থেকে আমি ও আমার স্ত্রী জিনাত চড়ে বসলাম টার্কিশ এয়ারলাইনসের প্লেনে। গন্তব্য সুলতান সুলেমানের দেশ, তুরস্ক। এক সপ্তাহের এই সফরে আমরা আনাতোলিয়া, ইস্তাম্বুল ও কাপাডোসিয়া ভ্রমণের পরিকল্পনা করি। ভ্রমণে এমনিতেই মন প্রফুল্ল থাকে। তার ওপর এবার যাচ্ছি ইউরোপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দেশে। প্লেনের জানালা দিয়ে মেঘেদের ভেসে বেড়ানো দেখতে বেশ ভালোই লাগছিল। জানালার বাইরেই দৃষ্টি স্থির হলো, হঠাৎই চোখ পড়ল সামনের সিটের পেছনে থাকা পকেটে। ভেতর থেকে একটা ম্যাগাজিন উঁকি দিচ্ছে।

এই লেখাটিই উদ্বুদ্ধ করে লেখককে
এই লেখাটিই উদ্বুদ্ধ করে লেখককে

এই ম্যাগাজিনগুলো সাধারণত এয়ারলাইনসের ডিউটি ফ্রি প্রোডাক্টের বিজ্ঞাপনে ভর্তি থাকে। ফ্লাইটে তেমন কোনো কেনাকাটার ইচ্ছা না থাকায়, অনেকটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে ম্যাগাজিনটা হাতে নিলাম। খুলতেই চোখ ধাঁধানো সব ঘড়ি, পারফিউমসহ নানা ধরনের লোভনীয় পণ্যের রঙিন বিজ্ঞাপন। প্রায় চার ঘণ্টার ফ্লাইট তাই সময় কাটানোর জন্য অলস হাতে পাতা উল্টে যাচ্ছি। কিছুক্ষণ পর একটা আর্টিকেলের শিরোনাম দেখে থামলাম। যেখানে লেখা ইস্তাম্বুলের টিউলিপ পার্ক নিয়ে। বিজ্ঞাপন

টিউলিপ নামটা শুনলে, ইউরোপে বসবাসকারী যে কারও, প্রথম যে দেশটির কথা মনে পড়বে তা হলো নেদারল্যান্ডস বা হল্যান্ড। আমারও মনে পড়ল কয়েক বছর আগের কথা। সেবার ঠান্ডায়, আমরা বন্ধুরা মিলে নেদারল্যান্ডসের রাজধানী আমস্টারডাম গিয়েছিলাম ঘুরতে; কিন্তু জানুয়ারি মাসের সে সময়টা টিউলিপের সিজন না হওয়ায়, দেখা হয়নি কিউকেনহফের বিশ্বখ্যাত টিউলিপ বাগান। পরে আরও কয়েকবার যাব যাব করেও যাওয়া হয়নি। মনের কোণে লুকিয়ে থাকা সে আক্ষেপ থেকেই হয়তো খুব আগ্রহের সঙ্গে পড়া শুরু করলাম টিউলিপ পার্কের আর্টিকেলটা। জানতে পারলাম, প্রতিবছর এপ্রিলে ইস্তাম্বুলেও টিউলিপ ফেস্টিভ্যাল হয়। বসন্তের সেই সময়টায় নাকি পুরো শহর ছেয়ে যায় নানা রঙের লাখ লাখ টিউলিপে। পড়তে না পড়তেই মস্তিষ্কের আলস্য কেটে গিয়ে কিছুটা উত্তেজনা ভর করল। জিনাতকে বললাম ব্যাপারটা, শোনার পর সে–ও আগ্রহী হয়ে উঠল। হাতের ম্যাগাজিনটা গুটিয়ে দুজনে একমত হলাম, এবার আর মিস করা যাবে না, টিউলিপের বাগান এ যাত্রায় দেখবই দেখব।

তুরস্কে আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল সাগরকন্যা আনাতোলিয়া। মোটামুটি সকালের দিকে আমরা ইস্তাম্বুল এয়ারপোর্টে নামি। আমাদের হোটেল ছিল তাকসিম স্কয়ারের কাছে। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যাওয়ার জন্য একটা ট্যাক্সি নিই এবং প্রতারণার শিকার হই। এ নিয়েও বিস্তারিত লিখব হয়তো কোনো দিন। যাহোক, ট্যাক্সি বিদায় করে আমরা হোটেলে চেকইন করি। ইস্তাম্বুল তো এসে পড়লাম এবার টিউলিপ বাগান দেখার পালা। তবে আগে কিছু খেয়ে নেওয়া প্রয়োজন। কাঁধের ব্যাগটা নামিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম অন্নের সন্ধানে। তাকসিম স্কয়ারে চকচকে দেখতে একটা রেস্টুরেন্টে বেশ আয়েশ করেই মধ্যাহ্নভোজ সারলাম। এরই মধ্যে জেনে নিলাম, ইস্তাম্বুলের বৃহত্তম টিউলিপ পার্ক এমিরগান পার্কে যাওয়ার উপায়।

বসফরাসের তীর ঘেঁসে জনবসতি
বসফরাসের তীর ঘেঁসে জনবসতি

রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে এমিরগান যাওয়ার বাস খুঁজে পেতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি। বাসে উঠেই বেশ ফুরফুরে লাগছিল। সকালের বাজে অভিজ্ঞতা যেন একেবারেই ভুলে গেলাম। বাস ছুটে চলল জগদ্বিখ্যাত বসফরাস প্রণালির তীর ঘেঁষে। কী সুন্দর আর বিশাল এই গাঢ় নীল প্রণালি! এটার ঠিক যে পাশটায় আমাদের বাস চলছে, ইস্তাম্বুলের এই অংশটিকে বলা হয় ইউরোপের শেষাংশ আর বসফরাসের অপর প্রান্ত থেকে এশিয়ার শুরু। ইস্তাম্বুল পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তম শহর। এবং অন্যতম ট্রান্সকন্টিনেন্টাল শহর। যে শহরগুলো একাধিক মহাদেশের সংযোগস্থলে অবস্থিত, তাদের ট্রান্সকন্টিনেন্টাল শহর বলা হয়।

বেশির ভাগ মসজিদের নকশায় অটোমান শাসনামলের ছাপ বিদ্যমান
বেশির ভাগ মসজিদের নকশায় অটোমান শাসনামলের ছাপ বিদ্যমান

এ রকম শহর পৃথিবীতে কেবল পাঁচটিই আছে। এদিকে বাস ছুটে চলছে আর আমরা বাসের জানালা দিয়ে উপভোগ করছি ইস্তাম্বুলের অবর্ণনীয় সৌন্দর্য। ইস্তাম্বুলের সৌন্দর্যের প্রধান আকর্ষণ বলা যায় এখানকার নজরকাড়া মসজিদগুলো। বেশির ভাগ মসজিদের নকশায় অটোমান শাসনামলের ছাপ বিদ্যমান। অটোমান নির্মাণশৈলীর মসজিদগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, মসজিদের মধ্যখানে একটা অর্ধচন্দ্রাকার গম্বুজ থাকে, যার চার কোনায় থাকে চারটা সুউচ্চ মিনার। পৃথিবীর যেখানেই আপনি এমন মসজিদ দেখতে পাবেন, নিঃসন্দেহে ধরে নেবেন সেখানে হয় অটোমান সাম্রাজ্যের বিস্তার ছিল নতুবা ওটা টার্কিশদের হাতে গড়া।বিজ্ঞাপন

প্রায় ৪০ মিনিট বাসযাত্রার পর আমরা এমিরগান পার্কের সামনে নামলাম। পার্কের গেট দিয়ে ঢুকতেই আমাদের স্বাগত জানায় একটা সবুজ ঘাসে নকশা করা দেয়াল, যাতে টার্কিশ ভাষায় লেখা EMIRGAN KORUSU। দেয়ালটির গায়ে একটি বিশাল আকৃতির টিউলিপের কারুকাজ দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে ঠিক জায়গাতেই এসে পৌঁছেছি আমরা।

চলছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি
চলছে ওয়েডিং ফটোগ্রাফি

পার্কে প্রবেশের পর যতই ভেতরের দিকে যাই, ততই মুগ্ধ হতে থাকি আমরা। প্রায় ১১৭ একরের ওপর নির্মিত এই বিশাল পার্কটিতে রয়েছে প্রচুর পাইনগাছসহ বিচিত্র প্রজাতির বিভিন্ন গাছগাছালি, স্বচ্ছ পানির লেক, ঝরনা ইত্যাদি। সঙ্গে লাখ লাখ রংবেরঙের টিউলিপ। শেষ বিকেলের আলোয় সারিবদ্ধ লাল, হলুদ, সাদা, বেগুনিসহ আরও কত শত রঙের টিউলিপগুলো অনেকটা রঙিন কার্পেটের মতো দেখাচ্ছিল। ক্যামেরায় ছবি তুলেই যাচ্ছি কিন্তু কোনো ছবিই যেন মনমতো হচ্ছে না। চোখের সামনের মায়াবী দৃশ্য কিছুই যেন ফ্রেমবন্দী করতে পারছিলাম না।

এমিরগান পার্ক থেকে দেখা রসফরাস; এর এপারে ইউরোপ, ওপারে এশিয়া
এমিরগান পার্ক থেকে দেখা রসফরাস; এর এপারে ইউরোপ, ওপারে এশিয়া

বসফরাসের নীল পানি ছুঁয়ে আসা বাতাসে আন্দোলিত হয়ে যাচ্ছিল বাগানের সব গাছগাছালি, যেন তারা সব মনের সুখে আনন্দে দুলে যাচ্ছে এদিক–সেদিক। আহা কী সুন্দর সেই দৃশ্য! বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম টিউলিপ উৎপাদনকারী দেশ নেদারল্যান্ডস বা হল্যান্ড। প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক নেদারল্যান্ডসের শহর কিউকেনহফে আয়োজিত টিউলিপ ফেস্টিভ্যালে অংশ নেন। কিন্তু ইস্তাম্বুলে এসে আমরা জানতে পারলাম এপ্রিলের শেষ তিন সপ্তাহজুড়ে এখানেও বসে টিউলিপের মন মাতানো উৎসব। আমরা যেদিন এমিরগান পার্কে গেলাম, সেদিন ছিল এপ্রিলের ২৭ তারিখ, উৎসবের একদম শেষের দিকে তাই আমেজটাও কমে এসেছিল। তারপরও যা দেখতে পেয়েছি, আমরা তাতেই মুগ্ধ। এখানে না এলে জানাই হতো না টিউলিপের সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কটা আসলে কতটা গভীর।

টিউলিপের আদি জন্মস্থান মধ্য এশিয়ায়, বিশেষ করে তিয়ান শাহ ও হিমালয় পর্বতমালার পাদদেশের দেশগুলোতে। যেমন কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, ইরান ইত্যাদি। শীতকালের তীব্র শীত পড়ে আবার গরমকালের প্রখর শুষ্ক আবহাওয়াকে টিউলিপের জন্য আদর্শ বলা চলে। ওই দুর্গম এলাকায় এভাবেই বছরের পর বছর লোকালয় থেকে দূরে বহু দূরে পাহাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন করে আসছিল বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফুল টিউলিপ। সময়টা প্রায় এক হাজার বছর আগে, এই দিকটায় তখন অটোমানদের জয়জয়কার। শোনা যায়, পাহাড়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অটোম্যান সৈন্যদলের চোখে পড়ে শত শত টিউলিপের বর্ণিল সমারোহ। টিউলিপের রূপে বিমোহিত সৈন্যদল তাদের সুলতানের জন্য উপহার হিসেবে নিয়ে যায় বেশ কিছু ফুল।

টিউলিপের মতেই আকর্ষক এর জন্ম ইতিহাস
টিউলিপের মতেই আকর্ষক এর জন্ম ইতিহাস

সুলতান এত সুন্দর উপহার পেয়ে মুগ্ধ হয়ে যান এবং ইচ্ছা প্রকাশ করেন যেন এই ফুলগাছগুলো তাঁর বাগানে শোভা পায়। ইতিহাস বলে, ষোড়শ শতকের দিকে সুলতান সুলেমানের শাসনামলে প্রথম টিউলিপের চাষাবাদ শুরু হয়। সেই থেকে লোকালয়ে বিস্তার শুরু হয় টিউলিপের। খুব অল্প সময়েই টিউলিপ হয়ে ওঠে আভিজাত্য, রাজকীয় এমনকি পবিত্রতার প্রতীক। টিউলিপের মর্যাদা এতটাই উচ্চমুখী ছিল যে সুলতানরা তাঁদের মিত্র ইউরোপীয় রাজ্যগুলোতে উপহার হিসেবেও টিউলিপ পাঠানো শুরু করেন। অনেক রাজ্যেই বেশ সমাদৃত হয় এই ফুল। এর মাঝে ডাচরা এই ফুল একটু বেশিই ভালোবেসে ফেলেন। এ ভালোবাসা দিনে দিনে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকে। তখন কেবল উপহারে আর পোষাচ্ছিল না। অচিরেই নেদারল্যান্ডসেও শুরু হয়ে যায় টিউলিপের চাষাবাদ।

বণিক হিসেবে ডাচদের আছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি, মূলত তারাই টিউলিপকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়। এদিকে চাহিদার লাগাম যেন কোনোভাবেই টেনে রাখা যাচ্ছিল না, ফলে টিউলিপের দামও ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছিল। এমনও দিন ছিল যখন সোনার চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল টিউলিপের কন্দ বা বাল্ব। কিছু কিছু দুর্লভ জাতের টিউলিপের মূল্য দিয়ে নাকি বাড়িঘরও কেনা যেত। ইতিহাসে এই উন্মাদনাকে ‘টিউলিপ ম্যানিয়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। সে সময়ের একটি ঘটনা ছিল অনেকটা এমন, অতিরিক্ত লাভের আশায় দেখা গেল, সদলবলে লোকজন টিউলিপ ব্যবসায় নেমে পড়ল। পথেঘাটে, রাস্তায় বাজারে সবখানে কেবল টিউলিপ বিক্রেতা কিন্তু এবার আর ক্রেতার দেখা মিলে না। অতঃপর যা ঘটার তাই ঘটল, নিমেষেই ধসে পড়ল টিউলিপ নিয়ে যত সব বাণিজ্য।

নানা রঙের টিউলিপ দেখে মুগ্ধ লেখকের স্ত্রী জিনাত
নানা রঙের টিউলিপ দেখে মুগ্ধ লেখকের স্ত্রী জিনাত

কিন্তু বণিক ডাচরা হাল ছাড়েনি বরং কীভাবে আরও সুন্দর ও বিচিত্র টিউলিপ উৎপাদন করা যায়, তারা সে গবেষণা করতে লেগে গেল। এদিকে ইউরোপের আনাচকানাচে টিউলিপ ছড়িয়ে পড়লেও তারা বুঝতে পেরেছিল বহির্বিশ্বে এর আকর্ষণ ও চাহিদা বাড়বে। এর মূল কারণ টিউলিপ চাষ করার জন্য যে ধরনের আবহাওয়া প্রয়োজন, তা বিশ্বের সবখানে নেই। আস্তে আস্তে তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের প্রিয়তমা টিউলিপ সময়ের স্রোতে স্থান করে নেয় ইউরোপের নেদারল্যান্ডসে। দুর্গম পাহাড়ের দুষ্কর ও অদ্ভুত সুন্দর এই ফুলটিকে আমাদের মতো সাধারণের দৃষ্টিসীমানায় নিয়ে আসার জন্য অটোমান ও ডাচদের প্রতি একটা জোরালো ধন্যবাদ দেওয়াই যায়। নিজেদের ভ্রমণের গল্প করতে এসে দেখি টিউলিপের ভ্রমণ কাহিনিও বলে গেলাম। আমার মনে হয়, একটা নতুন জায়গায় গিয়ে সে জায়গার ইতিহাস, সংস্কৃতি জানার মধ্যেই রয়েছে ভ্রমণের সর্বোচ্চ আনন্দ।বিজ্ঞাপন

শেষ বিকেলের আলোয় এমিরগান পার্কের টিউলিপগুলো যেন আরও জ্বলজ্বল করছিল। নানা রঙের বিচ্ছুরণে আর হালকা বাতাসে দোদুল্যমান সারি সারি রংবেরঙের ফুল গাছগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন আজ তাদের প্যারেড হচ্ছে, ঠিক যেমন কার্নিভালে হয়। টিউলিপ বাদেও হরেক রকমের গাছপালায় ভর্তি এই পার্ক। আছে বাচ্চাদের খেলার জায়গা, ফোয়ারা, পিকনিক স্পট, রেস্টুরেন্ট, টেরেস ভিউ পয়েন্ট ইত্যাদি ইত্যাদি। পার্কের একটা বিশাল অংশ শুধুই বাচ্চাদের জন্য তৈরি করা, যেখানে ট্রি হাউস থেকে শুরু করে রয়েছে খেলাধুলার নানা আয়োজন। এত এত দর্শনীয় স্থান থাকায় পার্কটি ওয়েডিং ফটোগ্রাফির জন্যও বেশ জনপ্রিয়। আমাদের অল্প সময়ের ভ্রমণেই আমরা দেখেছি বেশ কয়েকটি সুসজ্জিত যুগলের ফটোগ্রাফি দলের ফটোসেশন।

টিউলিপদের সান্নিধ্যে লেখক
টিউলিপদের সান্নিধ্যে লেখক

কেউ যদি কোথাও না থেমে হেঁটে হেঁটে পুরো পার্কটি চক্কর দিতে চায়, তারও বোধ হয় ঘণ্টা দুই লেগে যাবে। হাঁটতে গিয়ে ক্লান্তি ভর করলে সে জন্যও আছে বিশ্রাম নেওয়ার আয়োজন। পছন্দমতো যেকোনো বেঞ্চিতে বসে অবলোকন করুন সুবিশাল বসফরাসের ওপর ব্যস্ত নৌযানের ছোটাছুটি। দৃষ্টি আরেকটু দূরে নিলেই দেখা যাবে বসফরাসের ওপারের ইস্তাম্বুল, যা এশিয়া মহাদেশের অন্তর্ভুক্ত। ইউরোপে বসে এশিয়া দেখার যে অনুভূতি, তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

যখন ফোটে কুলাঞ্জন

তাকে কোনো দিনই দেখিনি বনে! দেখেছি গ্রামের পথে-প্রান্তরে, গ্রামীণ নিচু জমির ঝোপের কাছে। আপন মনে অনাদরে বেড়ে ওঠে কুলাঞ্জন। একদিন তার মিষ্টি ঠোঁটগোলাপি রং দেখিয়ে ডাক দিয়ে যায় আমাদের। কাছে নিয়ে আসে মৌমাছি, ভোমরা ও মধুপায়ী মৌটুসি পাখিদের। প্রশস্ত ও লম্বা সবুজ পাতার সঙ্গে গোলাপি রঙের ফুল দেখতে আকর্ষণীয়। লম্বা পুষ্পমঞ্জরিতে অসংখ্য অসম ফুল। রোদের আলোয় নীল আকাশের নিচে মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের অবতারণা হয়। আদা গোত্রের এ উদ্ভিদকে কেউ চেনেন জংলি আদা নামে। পাহাড়িরা একে বলে ‘তারা’। আমাদের পাহাড়ে আরও কয়েক প্রজাতির তারা আছে। এরা মূলত কন্দজ গুল্ম।

গ্রামের পাতিশিয়াল, বনবিড়াল, মেছো বাঘ, বাগডাশ কুলাঞ্জন উদ্ভিদের ঝোপে বসবাস করে। প্রশস্ত পাতা এবং ঘনবদ্ধ কাণ্ড নিশাচর এসব বন্য প্রাণীকে দিনের বেলায় আড়াল করে রাখে।বিজ্ঞাপন

দুঃখজনক হলো, এ উদ্ভিদ গ্রামবাংলা থেকে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। বড় কোনো ঝোপ চোখে পড়ে না। সেসব ঝোপ এখন মেহগনির বাগান! পুরো বাংলাদেশের গ্রামবাংলা থেকে বন্য গাছপালার প্রজাতিগুলো এবং তাদের আবাস রয়েছে সংকটের মধ্যে। এ প্রজাতিগুলোর বসতি টিকিয়ে না রাখলে আমাদের বন্য গাছপালানির্ভর বন্য প্রাণীগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। পক্ষান্তরে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া বাড়বে। বাস্তুতন্ত্রের ব্যাঘাত ঘটলে পুরো খাদ্যজাল ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। বেড়ে যাবে শস্যখেতে ক্ষতিকর পোকামাকড়। জগৎজুড়ে বাস্তুসংস্থানের এমন সংকট আমরা কিন্তু স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছি।

কুলাঞ্জন (Alpinia nigra) বহুবর্ষজীবী বীরুৎ-জাতীয় গুল্ম। কাণ্ড প্রায় তিন মিটার হয়। পাতা অবৃন্তক, আয়তাকার থেকে বল্লমাকার। পুষ্পবিন্যাস প্যানিকেল। ফুল ফোটে মে থেকে জুন মাসে। গ্রামীণ অনাবাদি প্রান্তর, নিম্নাঞ্চল ও পাহাড়ি ঝরনাতীরবর্তী স্থানে জন্মে। নদী ও খালপাড়ের আর্দ্র জমিতে ভালো বেড়ে ওঠে। বর্তমানে এটি দেশের একটি দুর্লভ উদ্ভিদ। বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, ঝালকাঠি ও ভোলা এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে দেখা যায়। সুনামগঞ্জে একবার দেখেছি। বান্দরবান, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বনেও আছে।

এটি মূল্যবান ভেষজ উদ্ভিদ। গ্রন্থিকন্দ শ্বাসনালির শ্লেষ্মাজনিত রোগ, বহুমূত্র, বাত ও যকৃতের সমস্যায় উপকারী। রাইজোম টনিক ও বেদনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। চর্মরোগ ও ছত্রাকজনিত রোগ নিরাময়ে উপকারী। ত্রিপুরার ক্ষুদ্র জাতিসত্তার অধিবাসীরা সবজি হিসেবে রাইজোমের কচি অংশসহ গাছের অঙ্কুরিত অংশ ব্যবহার করে। আমাদের পাহাড়ের মানুষ মহামূল্যবান এ উদ্ভিদের নানা অংশ ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহার করে। সেদ্ধ করা শিকড় পেটের পীড়ায় ভালো কাজ করে।

ভূগর্ভস্থ রাইজোম ও বীজ থেকে চারা গজায়। ফল বেরি এবং বহুবীজী। ভেষজ গুরুত্ব ছাড়াও কুলাঞ্জন শোভাবর্ধনকারী উদ্ভিদ হিসেবে শহর ও গ্রামের ফুলবাগানে, বাড়ির প্রান্তরে রোপণ করা যেতে পারে। শহরের ছাদবাগানেও মাঝারি থেকে বড় টবে লাগানো যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

তুষারশুভ্র স্যাম্বুকাস

বছর দুই আগের কথা। জয়পুরহাটের হিলি থেকে অন্যান্য গাছের সঙ্গে গাছটি কিনেছিলেন এক বাগানি। বিক্রেতা তখন গাছটির নাম বলতে পারেননি। শুধু বলেছিলেন, এটা বিদেশি ফুলগাছ। এখন গাছটির উচ্চতা প্রায় ছয় ফুট। ফুল ফুটেছে এবারই। এবার নাম না জানা গাছটির পরিচয় বের করতে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন বাগানি। ফুলসহ গাছের ছবি তুলে পাঠান প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেনের কাছে। তিনি ছবি দেখে বলেছেন, এটা Sambucus বা elder tree।

এই বাগানির নাম মাহবুবুল ইসলাম। বাড়ি সিরাজগঞ্জের বাজারভদ্রঘাট কামারখন্দ গ্রামে। সেখানে এই গাছের অজস্র ফুল শোভা পাচ্ছে।

মোকারম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এটা বাগানের শোভাবর্ধনকারী বাইরের দেশের একটি গাছ। একজন শৌখিন বাগানি তাঁর বাগানের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সীমিত আকারে এই গাছ রাখতেই পারেন। তাঁরা রমনা পার্কে এই গাছ লাগিয়েছেন। সেটাতেও ফুল ফুটেছে। আরেকটি রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে। তিনি বলেন, মাহবুবুল ইসলাম তাঁকে ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছবি দেখে তিনি গাছটি শনাক্ত করেছেন।বিজ্ঞাপন

বাংলায় আপাতত নাম নেই। ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার স্থানীয় ফুলের গাছের একটি প্রজাতি। গাছটি শোভাময় ঝোপঝাড় বা ছোট গাছ হিসেবেও ব্যাপকভাবে জন্মায়। আবার লম্বা ও প্রশস্ত হয়। এ গাছ ২০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছটির উচ্চতা এখন প্রায় আট ফুট।

মাহবুবুল ইসলাম বর্তমানে রাজশাহীতে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। বাগান করা তাঁর শখ। তিনি বলেন, দুই বছর আগে ভিয়েতনাম ও কেরালার খাটো জাতের নারকেলগাছের চারার সঙ্গে তিনি গাছটি পেয়ে যান। অচেনা গাছ হলেও বিদেশি ফুলের গাছ হিসেবে তিনি শখ করে ৫০০ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন। গাছের পাতাগুলো দেখতে কিছুটা নিমগাছের মতো, তবে পাতা নিমপাতার চেয়ে চওড়া। এটি দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। ফুলের জন্য তাকে দুই বছর অপেক্ষা করতে হয়। এবার মে মাসের শুরুর দিকে গাছে ফুল এসেছে। কৃষ্ণচূড়ার মতো গুচ্ছ গুচ্ছ তুষারশুভ্র ফুলে গাছের সবুজ পাতা অনেকটাই ঢেকে ফেলেছে।

২০১২ সালে বন বিভাগ ৪৫ প্রজাতির গাছকে দেশে বিলুপ্ত ঘোষণা করে। এর ৪৩টিই মাহবুবের বাগানে আছে। দেশে মহাবিলুপ্ত বাঁশপাতিগাছ রয়েছে এই বাগানে। বাগানের অন্যান্য দুর্লভ কিছু গাছের মধ্যে ঢাকিজাম, উড়িয়াম, সিভিট, মাইলাম, ভুঁইকদম, কন্যারী, বান্দরহুলা, গুডগুটিয়া, হুলদু, সিদাজারুল, রক্তন, রাতা, তুন, দুদকুরুজ, বিহদারুল, ধূপ, লোহা, লুকলুকি, কিছু দুর্লভ ফুলগাছের মধ্যে কুসুম, ঝুমকোবাদি, জ্যাকটোভা, ট্যাবাবুয়া, অনন্তলতা, নীলমণি লতা উল্লেখযোগ্য। একটি গাছের নাম সিঁদুর। একটি গাছের নাম পানমসলা। পাতা মুখে দিলে চমৎকার একটা স্বাদ পাওয়া যায়। আরেকটি গাছের নাম গান্ধীগজারি। দুর্গন্ধে আবার এ গাছের কাছে ঘেঁষা দায়। চা ও কফিগাছও রয়েছে বাগানে। তিন ধরনের গর্জনগাছ আছে—তেলিগর্জন, ধলিগর্জন ও শ্বেতগর্জন। এগুলোর মধ্যে শ্বেতগর্জন উপকূলীয় এলাকা ছাড়া হয় না।

দুর্লভ গাছগুলো যাতে প্রকৃতি থেকে হারিয়ে না যায়, সে জন্য মাহবুবের প্রচেষ্টা। ২০০৩ সাল থেকে তিনি নিজের বাড়ির আঙিনা থেকে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন শুরু করেন। এখন তাঁর পাঁচ বিঘার বাগান। বাগানে রয়েছে ৩৪৫ প্রজাতির দুর্লভ গাছ। এই গাছ প্রকৃতিতে ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। তিনি উপহার হিসেবে তাঁর বাগানের দুর্লভ গাছগুলো বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানিক্যাল গার্ডেন, শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চিড়িয়াখানা ও কেন্দ্রীয় উদ্যান, রাজশাহী কলেজ ও বিভিন্ন উৎসাহী ব্যক্তিকে দিয়েছেন। সুন্দরী ও গোলপাতাগাছ তিনি টবে চাষ করে সফল হয়েছেন। টবের গাছ তিনি ‘গিফট আইটেম’ হিসেবে প্রিয়জনদের উপহার দিয়ে থাকেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

জলে ভাসা হিজলের রূপ

ওখানে হিজল গাছ ছিল এক পুকুরের জলে

বহুদিন মুখ দেখে গেছে তার; তারপর কি যে তার মনে হল কবে

কখন সে ঝরে গেল, কখন ফুরাল, আহা¾চলে গেল কবে যে নীরবে

—জীবনানন্দ দাশ

গ্রীষ্মকাল এলেই গাঢ় রঙের ফুলে ছেয়ে যায় কয়েক প্রজাতির বৃক্ষের ডালপালা। হলুদ, বেগুনি, গোলাপি কিংবা লাল রং। ঝরে পড়া ফুলে ছেয়ে যায় কোনো সবুজ মাঠ বা গাছতলা।

কিন্তু কোন স্থির জলের পুকুরে কাছে থাকা হিজলগাছে ফুল ফুটলে, ঝরা ফুল এক অনন্য আলপনা তৈরি করে পানিতে। জলে ভাসা সে হিজল ফুলের আবেদন নিঃসন্দেহে ভালো লাগার এবং দারুণ উপভোগ্য। এ রূপ দেখার জন্য খুব সকালে যেতে হবে সে জলাশয়ের কাছে। সারা রাত ধরে ঝরে পড়া ফুলগুলো জমা হয় পানির ওপর এবং ছড়িয়ে পড়ে। পুকুর, ছোট মজা জলাশয় যেখানে বাতাসের গতি কম, সেখানেই এ দৃশ্যের অবতারণা হয়। বাতাসের গতি বেশি থাকলে ফুলগুলো কিনারে চলে আসে। বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা ও জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানের লেকের কাছে কিছু হিজলগাছ আছে। ফুল ফোটার মৌসুমে জলে ভাসা হিজলের রূপ দেখতে চাইলে সেখানে যেতে হবে আপনার।

সবুজ পাতাসমেত হিজলের রূপ এবং গাছভরা ফুলসমেত হিজল দুই–ই সমানভাবে সৌন্দর্যমণ্ডিত। হিজল আমাদের মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া এমন এক বৃক্ষ, যাকে ভুলে থাকা কঠিন। প্রিয় কবি জীবনানন্দ দাশ হিজলের কথা বলেছেন বহুবার। আমাদের হাওর এলাকার অন্যতম গাছ হিজল। হিজল দেশের সব

জেলায় আছে। বসতি সংকোচনের ফলে কোন কোন জেলায় হিজলের সংখ্যা কমে গেছে। দেশে দুই রঙের হিজল ফুল চোখে পড়ে। একটি লাল-মেরুন এবং অন্যটি হালকা–কমলা। রঙের এ ভিন্নতা নিয়ে কোনো গবেষণা হয়নি। ঢাকা শহরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি হিজল আছে, যেটির ফুলের রং হালকা কমলা। প্রতিবছর ফুল ফোটে। দেশের অন্যত্রও কিছু কিছু আছে।বিজ্ঞাপন

হিজল (Barringtonia acutangula) চিরসবুজ বৃক্ষ। প্রায় ১৫ মিটার লম্বা হতে পারে গাছ। গাছ ধীরগতিতে বেড়ে ওঠে। শোভাবর্ধন, ছায়া প্রদানকারী, বন্য প্রাণীর আবাস এবং জলাশয়ের মাছের আশ্রয়ের জন্য হিজল উপকারী। শিকড়ের নির্যাস রক্তের শর্করার পরিমাণ কমায় ও রেচক। বীজ রেচক ও বলকারক। পাতার রস ডায়রিয়ায় উপকারী। ছেলেবেলায় দেখেছি অনেক পাখি রাতে হিজলগাছে আশ্রয় নিত। তা ছাড়া হিজলগাছের কাণ্ডের ফোকরে শালিক, প্যাঁচা, দোয়েল নিয়মিত বাসা বানায়। দাঁড়াশ সাপও বাস করে হিজলের কোটরে। গ্রামের পুকুরপাড়ে ও শহরে লেকের দুই পাশে হিজলের বীথি হতে পারে। গ্রীষ্মে ফুল ফুটলে সে দৃশ্য মানুষের মনকে আনন্দ দেবে। অন্য বন্য প্রাণীদের জন্যও উপকার হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com