আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

কাজুবাদামে সাফল্যের গল্প

বাংলাদেশে এই প্রথম কাজুবাদামের সমন্বিত কারখানা। গত বৃহস্পতিবার বেলা একটায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডেইল পাড়া এলাকায়
বাংলাদেশে এই প্রথম কাজুবাদামের সমন্বিত কারখানা। গত বৃহস্পতিবার বেলা একটায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডেইল পাড়া এলাকায়

এক দশক আগেও কাঁচা কাজুবাদাম ছিল ফেলনা। পাহাড়িদের কেউ কেউ তা কুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে বিক্রি করত। ২০১০ সালে বান্দরবানে বেড়াতে গিয়ে এই বাদাম দেখে অবাক হন শাকিল আহমেদ। বাগান থেকে কুড়িয়ে নেওয়ার খরচ দিয়ে দুই ট্রাক কাঁচা বাদাম চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। পরে সিঙ্গাপুরে পরিচিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তায় রপ্তানিও করেন ভারতে। প্রথম চালান হাতে পেয়ে বিদেশি ক্রেতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কাজুবাদাম রপ্তানি হবে না। এগুলো রপ্তানির কথা ভুলে যাও।’ ব্যর্থতার এমন কাহিনি দিয়ে শুরু হয়েছিল দেশের প্রথম কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতের সমন্বিত কারখানা গড়ে তোলার পেছনের গল্প।

২০১৬ সালের জুনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ডেইলপাড়ায় ‘গ্রিনগ্রেইন কেশিও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি’ নামে কারখানা গড়ে তোলেন শাকিল আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন সহ–উদ্যোক্তা ইকরাম মোরশেদ। শুরুতে মাত্র ১০ জন কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করেন। এখন কারখানায় কাজ করছেন ৬৫ জন, যাঁদের ৫৫ জনই নারী কর্মী। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে এই সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিন এই কারখানা থেকে বড় বড় হোটেল–রেস্তোরাঁয় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম। দেশ থেকে প্রথমবারের মতো রপ্তানিও হচ্ছে এই কারখানার বাদাম।

কারখানার উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত করার বড় কারখানা হতে পারে, তা কারও ধারণায় ছিল না। পাগলামি বলে উড়িয়ে দিয়েছিল অনেকে। কারখানা করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছেন। দমে যাননি। এই উদ্যোগের কথা জেনে কৃষি মন্ত্রণালয়ও এখন সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির স্বপ্ন পূরণ হতে পারে এই কাজুবাদামে। কাজুবাদামের কারখানা শ্রমনির্ভর হওয়ায় কর্মসংস্থানেরও সুযোগ আছে। ভিয়েতনামের চেয়ে এখানে শ্রমিকদের মজুরি কম।

কাঁচা বাদাম রপ্তানি দিয়ে শুরু

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সুইডেনের সেন্টন এবি কোম্পানির সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ছেড়েছেন তিনি। বিশ্বখ্যাত ভোগ্যপণ্য বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেও মন বসছিল না তাঁর। আবার রপ্তানির শুরুতেও ছিল ব্যর্থতার গল্প। সেখান থেকে কীভাবে সাফল্যের দেখা মিলল? চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ডেইলপাড়ার কারখানায় যাওয়ার পথে গাড়িতে বসে গল্প শোনালেন শাকিল আহমেদ। বললেন, ‘প্রথমবার হতাশ হয়ে গেলাম। দমে না গিয়ে কাজুবাদামের বাণিজ্য নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কারখানার সহ–উদ্যোক্তা ইকরাম মোরশেদ ২০১৪ সালে পাহাড় থেকে আনা কাঁচা কাজুবাদাম বিক্রি হচ্ছে বলে খবর দেন। তা দেখে কিনে নিই। এবার আবার ভারতে রপ্তানির জন্য সিঙ্গাপুরের ওই পরিচিত ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হই। বিনা মূল্যে দিলেও তারা নেবে না বলে জানিয়ে দেয়। রাজি করাতে না পেরে অন্তত চট্টগ্রামে এসে সরেজমিনে দেখার অনুরোধ জানাই।’

তাঁর পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত ভারতের কেরালার কল্যাম থেকে কাজুবাদাম বিশেষজ্ঞ নন্দকুমার এক দিনের জন্য চট্টগ্রামে আসেন। মাঝিরঘাটে গুদামে একটানা তিন ঘণ্টা কাঁচা কাজুবাদাম পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে দেখেন। পরীক্ষার পর হাততালি দিয়ে নন্দকুমার বলেন, ‘কিছুটা হবে এবার।’ তখনই নন্দকুমারের পরামর্শ অনুযায়ী বড় ও ছোট দানা আলাদা করা হলো। বড় দানা ভিয়েতনামে ও ছোট দানা ভারতে রপ্তানির জন্য ঠিক হলো। কিন্তু সমস্যা বাধল, এই বাদামও দুই দেশের কোনো ক্রেতাই নিতে চায় না।

শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকি নেয়। বাদাম পাওয়ার পর ভিয়েতনাম থেকে প্রথম সুখবর এল। এরপরই পাহাড় থেকে কাজুবাদাম কিনে রপ্তানি করতে থাকেন তিনি। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া কাঁচা কাজুবাদামের ৭৫ শতাংশ বা ১২ লাখ ২৩ হাজার ডলার রপ্তানি আয় আসে তাঁর হাত ধরে।

প্রতিটি বাদামে হাতের ছোঁয়া

গল্প শুনতে শুনতে গাড়ি এসে থামে পতেঙ্গার ডেইলপাড়ায় গ্রিনগ্রেইন কেশিও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে। সেখানে ভেতরে চলছে কর্মযজ্ঞ। প্রথম শেডে মেশিনে ছোট–বড় দানা আলাদা করে পানির বাষ্পে সেদ্ধ করা হচ্ছে। ঠান্ডা হওয়ার পর কারখানার আরেক শেডে নারী কর্মীরা একমনে বাদাম প্রক্রিয়াজাতের কাজ করছেন। প্রথম সারিতে একদল নারী কর্মী হস্তচালিত যন্ত্রে প্রতিটি বাদামের খোসা ভেঙে চলেছেন। এই খোসা টেবিলের ওপর আরেক দলের সামনে রাখা হচ্ছে। সেখানে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে খোসা ছাড়িয়ে শুধু বাদাম আলাদা করা হচ্ছে। আলাদা করা বাদামের ওপর তখনো ডোরাকাটা হালকা আবরণ। এই হালকা আবরণ আলাদা করার জন্য আবার বিশেষায়িত যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হচ্ছে। পরের ধাপে আবার কর্মীরা হাতে এই আবরণ ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। এরপর সাদা কাজুবাদাম আলাদা করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

কারখানার নারী কর্মী মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকেই কাজ করছি। কাজের পরিবেশ ভালো।’ আরেক নারী কর্মী নাসরিন বেগম জানান, এখানে কাজে খুব বেশি চাপ নেই।

কারখানার সহ–উদ্যোক্তা ইকরাম মোরশেদ বললেন, কারখানায় শুধু বাদামই নয়, বাদামের খোসা প্রক্রিয়াজাত করে তেল বের করার যন্ত্রপাতিও আনা হয়েছে। তাতে যে তেল পাওয়া যাবে, তা এনামেল পেইন্টে ব্যবহার করা যায়। রপ্তানিরও সুযোগ আছে। আবার তেল পাওয়ার পর খোসার গুঁড়া জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এখন বাদামের কোনো কিছুই আর ফেলনা নয়।

বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির স্বপ্ন

বিশ্বে গত বছর কাজুবাদাম রপ্তানির বাজার ছিল প্রায় ছয় বিলিয়ন ডলার। এর ৬০ শতাংশই বা ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে ভিয়েতনাম। ২০৩০ সালে সাড়ে ১০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন দেখছে তারা। অথচ ১৯৮৮ সালে দেশটি প্রথম কাজুবাদাম চাষ শুরু করে। অন্যদিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়তে থাকায় তাদের রপ্তানি কমছে।

দেশে কাজুবাদাম আমদানি হয় পুরোটাই ভিয়েতনাম থেকে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গত বছর ৬ লাখ ৮০ হাজার কেজি কাজুবাদাম আমদানি হয়, যার বাজারমূল্য ৭০ কোটি টাকা। প্রক্রিয়াজাত কারখানা না থাকায় শুরুতে কাঁচা বাদাম রপ্তানিই ছিল ভরসা। রপ্তানির পর বিদেশের কারখানায় প্রক্রিয়াজাত বাদামই আবার উচ্চ মূল্যে আমদানি হয়।

কাজুবাদামের উৎপাদন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন ‘বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প’–এর পরিচালক মেহেদী মাসুদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরকার বাণিজ্যিক কৃষি উন্নয়নে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করছে। প্রক্রিয়াজাত কারখানার উদ্যোক্তারা তাতে পথ দেখিয়ে দিচ্ছেন। এতে যেমন কাঁচা কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত করে দেশের চাহিদা মেটানো যাবে, তেমনি রপ্তানি করেও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন খাত তৈরি হবে।

এগ্রোবিজ

আরও কমেছে পেঁয়াজের দাম

লেখক

আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের দামে। বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৬০ থেকে ৬২ টাকা। গত সপ্তাহে ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের দর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজ আরও কম দামে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

অক্টোবরের প্রথম থেকেই বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। ৬ অক্টোবর আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়েছে যা তার আগের সপ্তাহে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছিল। আর দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হয় যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। রাজধানীর খুচরা বাজারগুলোতেও   ক্রেতাদের এই দামে পেঁয়াজ কিনতে হয়। 

যদিও এই সময়ে পাশের দেশ মিয়ানমার ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দাম স্বাভাবিক রাখতে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি বাড়িয়েছে টিসিবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

নিম্ন আয়ের মানুষের কপাল থেকে উঠে যাচ্ছে মাংস!

সপ্তাহের ব্যবধানে নতুন করে দাম না বাড়লেও রাজধানীর বাজারগুলোতে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। সেই সঙ্গে মুরগির দাম নিয়ে অস্বস্তিতো রয়েই গেছে। ফলে সবজি ও মুরগির দাম নিম্ন আয়ের মানুষদের বেশ ভোগাচ্ছে। এমন কী কেউ কেউ অভিযোগ করছেন ব্রয়লার মুরগির অস্বাভাবিক দামের কারণে তারা মাংস খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা। পাকিস্তানি কক বা সোনালী মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর লাল লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে মুরগির দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।

অবশ্য আগেই অস্বাভাবিক দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির দাম শুনে হতাশ হচ্ছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। রামপুরা বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসা হাসিবুল বলেন, মাসে এক-দুদিন পরিবার নিয়ে মাংস ভাত খাওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের পক্ষে তো গরু বা খাসির মাংস কেনা সম্ভব না। তাই ব্রয়লার মুরগিই ভরসা। তবে এটাও মনে হচ্ছে কপাল থেকে উঠে যাবে।

তিনি বলেন, গত শুক্রবার বাজারে এসে দেখি ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা। দামাদামি করে কেউ কেউ ১৮৫ টাকা কেজি বিক্রি করছেন। এমন দাম হওয়ায় গত সপ্তাহে মুরগি না কিনে ফিরে গিয়েছিলাম। আজও মুরগির দাম একই চাচ্ছে। অনেকদিন মাংস খাওয়া হয় না। বাসার সবাই মাংসের জন্য অপেক্ষা করে আছে। তাই বাড়তি দাম দিয়েই একটি মুরগি কিনে নিয়ে যাচ্ছি।

মালিবাগ বাজারে ব্রয়লার মুরগি কিনতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন রিকশা চালক সালাম। তিনি বলেন, অনেকদিন মাংস খাওয়া হয়নি। তাই বাজারে এসেছিলাম একটা মুরগি কিনতে। কিন্তু ব্রয়লার মুরগির দামও অস্বাভাবিক। তাই মুরগি না কিনে ফিরে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, গরু ও খাসির মাংস কিনে খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি কয়েক বছর হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত কোরবানির ঈদে কিছু মাংস পেয়েছিলাম। এরপর আর গরুর মাংস খাওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে ব্রয়লার মুরগি কিনে খাই। এখন ব্রয়লার মুরগির দামও অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। মনে হচ্ছে মাংস আমাদের মতো গরিব মানুষের কপালে নেই।

মুরগির পাশাপাশি সবজির দামও বেশ ভোগাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আগের মতই সব থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন গাজর ও টমেটো। মান ভেদে এক কেজি গাজর ১০০ থেকে ১৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজি দুটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

এই দুই সবজির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে অন্যান্য সবজি। শীতের আগাম সবজি শিম গত সপ্তাহের মতো কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ঝিঙের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ছোট ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। মুলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা। এ সবজিগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে খুব একটা হেরফের হয়নি।

এছাড়া চিচিঙ্গা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল, করলার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে। করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি, পটলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়সের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে, বরবটির কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা।

এছাড়া কাঁচকলার হালি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, লালশাকের আঁটি ১০ থেকে ২০ টাকা, মুলাশাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাক, কলমিশাকের আঁটি ৫ থেকে ১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এগুলোর দাম সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে।

কারওয়ানবাজারে সবজি কিনতে আসা শহিদুল ইসলাম বলেন, বাজারে কোনো কিছুতে এখন স্বস্তি নেই। সবকিছুর দাম চড়া। তবে মহল্লার বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে সবজি পাওয়া যায়। তাই একটু কষ্ট করে এখানেই সবজি কিনতে আসি।

তিনি বলেন, চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন সবকিছুর দাম অস্বাভাবিক। মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ী কারসাজি করে এমন দাম বাড়াচ্ছে। পেঁয়াজের দামের ওঠা-নামা বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। দেখেন কোনো কারণ ছাড়াই পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। সরকার শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা দিতেই এখন ৬০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। এটা কি ভাবে স্বাভাবিক হতে পারে। আসলে বাজারে কারো কোনো নজরদারি নেই, যার সুযোগ নিচ্ছে মুনাফালোভী ব্যবসায়ীরা।

এদিকে গত সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা কমে পেঁয়াজের কেজি ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় নেমে আসে। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা কমে এখন ৬০ থেকে ৬৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের অভাব নেই। কিন্তু ভারত থেকে পেঁয়াজ কম আসায় হুট করে দাম বেড়ে যায়। তবে সরকার আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করায় দাম কিছুটা কমেছে। নতুন আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসলে দাম আরও একটু কমতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজের দাম কমলেও অন্য পণ্যে আগুন

টানা দ্বিতীয় সপ্তাহে কমেছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকা কেজিতে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন বিকোচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। তবে মাছ-মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম কমেনি। শুক্রবার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম ছাড়িয়ে গিয়েছিল ৮০ টাকা।

গত সপ্তাহের মতো এ সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছে ৩৫০ টাকা প্রতিকেজি, লেয়ার মুরগি ২৩০ টাকা। এই দাম শীঘ্রই কমার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। গরু ও খাসির মাংসের কেজিপ্রতি দাম আগের সপ্তাহের মতোই যথাক্রমে ৬৫০ এবং এক হাজার টাকা।

পেঁয়াজের দাম কমলেও অন্য পণ্যে আগুন

সবজির মধ্যে সবচেয়ে দামি এখন শীতের আগাম সবজি। শিমের দাম কেজিতে এখনো ১০০ টাকার আশেপাশে, টমেটো ও গাজর বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। ফুলকপি প্রতি পিস বিকোচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়, করলা ও পটোল ৬০ টাকায়।

গত সপ্তাহের দামই এখনই ধরে আছে মাছবাজার। এক কেজি থেকে ১ হাজার ২০০ গ্রাম ওজনের রুইমাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজিতে। দেড় কেজির আশপাশের বোয়াল মাছের কেজি চাওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা। কাতল মাছ ৪০০ টাকা। এমনকি ছোট আকারের পাঙ্গাস মাছের দামও দুইশ ছুঁই ছুঁই।

বেসরকারি চাকরিজীবী মুশফিকুর রহমান ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, শীতের সবজির দাম কেন বেশি বুঝলাম না। দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলেই সবজি তোলা শুরু হয়ে গেছে, বাজারেও আছে। তবুও দাম কমছে না।

মুরগির ব্যবসায়ী হাসান আলি বলেন, মুরগির সরবরাহ এখনো কম থাকায় দাম বেশি। সাপ্লাই কবে বাড়বে তা বলা যাচ্ছে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

সরবরাহ সংকটে বিশ্বব্যাপী নিত্যপণ্যের দাম মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি হারে বেড়েছে জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দাম। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে গত বছরের তুলনায় জ্বালানির দাম গড়ে ৮০ শতাংশ বেড়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল। এখন কিছুটা কমে আসলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে।

এ বছর ব্যারেল প্রতি অপরিশোধিত জ্বলানি তেলের দর গড়ে ৭০ ডলার থাকলেও আগামী বছর গড়ে ৭৪ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। গতকাল প্রকাশিত ‘কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। প্রতি ত্রৈ-মাসিক ভিত্তিতে সংস্থাটি এ পূর্বাভাস প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবারের প্রতিবেদনে অবশ্য আশা করা হয়েছে আগামী বছর নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির ফলে শিগিগরই বিশ্বে মূল্যস্ফীতির উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি হবে। যদি দাম বাড়তেই থাকে সেক্ষেত্রে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে চাপ বাড়বে। করোনার কারণে নিত্যপণ্যের দাম যে হারে কমেছিল এখন সেটি খুব দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য অস্থিতিশীল থাকলে দেশগুলোর নীতি নির্ধারণে চাপ বাড়বে।

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছর কিছু নিত্যপণ্যের দাম ২০১১ সালের তুলনায় বেশি লক্ষ্য করা গেছে। উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তাছাড়া বিদ্যুতের চাহিদা এখন করোনার আগের পর্যায়ে ফিরেছে, তাই জ্বালানির চাহিদাও বেড়েছে। আগামী বছর অর্থাত্ ২০২২ সালে চাহিদা স্বাভাবিক হলে দাম স্থিতিশীল হয়ে আসবে। তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত কমে আসা এবং সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে জ্বালানির দাম আরো বেড়ে যেতে পারে।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দর (ব্রেন্ট, ডব্লিউটিআই এবং দুবাই) এ বছর গড়ে ৭০ ডলার (প্রায় ৬ হাজার টাকা) পর্যন্ত থাকতে পারে। আগামী বছর এই দাম গড়ে ৭৪ ডলার (প্রায় ৬ হাজার ৩০০ টাকা) থাকতে পারে। উল্লেখ্য, করোনার প্রকোপ শুরুর পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম তর তর করে নামতে থাকে। চাহিদা না থাকায় এক পর্যায়ে ঋণাত্মক পর্যন্ত হয়ে যায়। গত বছর গড়ে যে দামে বিক্রি হয় এবছর সেটি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ফিরে এসেছে। তবে দ্রুত দর বৃদ্ধির প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক। করোনার প্রকোপ কমতে থকায় এখন বিশ্ব অর্থনীতি ঘুড়ে দাঁড়াচ্ছে। সরবরাহ সংকট কেটে গেলে আগামী বছর বিশ্ববাজারে ধাতব পণ্যের দাম ৫ শতাংশ কমে আসতে পারে। তবে এ বছর ধাতব পণ্যের মূল্য গড়ে ৪৮ পর্যন্ত বেড়েছে। অবশ্য আগের পূর্বাভাস প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছিল গড়ে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে ধাতব পণ্যের দাম। গত বছর ব্যাপক হারে কমে যাওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিল এ বছর চাহিদা বাড়বে। কিন্তু ধারণার চেয়েও বেশি হারে চাহিদা বেড়েছে।

দ্রব্যমূল্য সীমা ছাড়িয়েছে

বিশ্বব্যাংকের জেষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ জন বাফেস উল্লেখ করেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায়। তাছাড়া জ্বালানির দাম বাড়লে সার উত্পাদনের খরচও বেড়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদনে খরচও বাড়ে। উত্পাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে এলুমিনিয়াম এবং জিংকের উত্পাদন কমে গেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

আবারও বাড়লো সয়াবিন তেলের দাম

লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে এখন থেকে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬০ টাকা দরে

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও অপরিশোধিত পাম তেলের দাম বাড়ায় দেশে আবারও বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। লিটারপ্রতি ৭ টাকা বেড়ে প্রতি লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হবে ১৬০ টাকা দরে।

বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তেলের এই দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতি।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ কথা জানায় সংগঠনটি।

নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ৫ লিটারের এক বোতল তেল পাওয়া যাবে ৭৬০ টাকায়। পূর্বে যা ছিল ৭২৮ টাকা। এছাড়া, লিটারপ্রতি খোলা সয়াবিন তেল ১৩৬ টাকা ও বোতলজাত পাম সুপার তেল ১১৮ টাকায় কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

অবিলম্বে নতুন মূল্য কার্যকর করা হবে বলে জানানো হয়েছে বাংলাদেশ ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী ও বনস্পতি উৎপাদক সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। তবে পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে পুরনো মজুতের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হবে না।

২০২০ সালের পর থেকে ভোজ্য তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতির জন্য দেশে কয়েক দফায় সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে। এর আগে গত ২৭ মে  লিটারপ্রতি সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা বাড়ানো হয়। তবে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সয়াবিন তেলে লিটারপ্রতি ৩ টাকা ছাড় দেওয়ায় সেবার সব মিলিয়ে দাম বাড়ে ১২ টাকা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com