আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

এগ্রোবিজ

কাঁচা মরিচের দামেই ঝাল বেশি, সবজির দামও চড়া

ঢাকার বাজারে এখন ভালো মানের আড়াই শ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ৫০ টাকা। প্রতি কেজি দাম পড়ে ২০০ টাকা। মরিচের দামের এই ‘ঝাল’ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে মরিচখেত তলিয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। ফলে দাম বেড়েছে।

শুধু কাঁচা মরিচ নয়, বৃষ্টি ও বন্যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সবজির দামেও। দুই সপ্তাহ আগে বাজারে বেশির ভাগ সবজির কেজি ছিল ৩০ থেকে ৫০ টাকা, এখন তা ৪০ থেকে ৭০ টাকা।

রাজধানীর কাজীপাড়া বাজারে গতকাল বৃহস্পতিবার দুই ধরনের কাঁচা মরিচ দেখা গেল। একধরনের মরিচকে দেশি উল্লেখ করে বিক্রেতারা ২০০ টাকা কেজি চাইলেন। আরেক ধরনের মরিচের দাম চাওয়া হলো ১৬০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও কাঁচা মরিচের কেজি ১০০ টাকার মধ্যে ছিল।

মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনের বাজারে গতকাল বেগুন ৮০ টাকা, ঝিঙে ৭০ টাকা, বরবটি, ঢ্যাঁড়স ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, ছোট লাউ প্রতিটি ৬০ টাকা এবং জালি কুমড়া প্রতিটি ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। সবজির দাম এত বেশি কেন জানতে চাইলে ব্যবসায়ী শফিউর রহমান বলেন, সব জায়গা তো তলিয়ে যাচ্ছে। সবজি আসবে কোথা থেকে?

চড়া দামের পণ্যের তালিকার শুরুর দিকে রয়েছে ডিম। ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। ছোট বাজার বা পাড়ার দোকানে একই ডিম কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকায়। আর একটি-দুটি কিনলে হালি ৪০ টাকা।

ডিমের মতোই ব্রয়লার মুরগির দামও বেশি। কেজি ১৪০ টাকার আশপাশে। এক সপ্তাহ আগেও তা ১২৫-১৩০ টাকা ছিল। দেশি পেঁয়াজ কিনতে প্রতি কেজি খরচ পড়বে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজ ৩০ টাকার আশপাশে।

এগ্রোবিজ

ছোটরা মাঠে, বড়রাও নামছেন

  • ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন থেকেই বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা।
  • ভারত সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পরদিন থেকেই বিশ্ববাজারে খোঁজখবর নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তি করতে শুরু করেন ছোট ব্যবসায়ীরা।
  • এদিকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিলেও শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত যদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাহলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

ভারত রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পরদিন থেকেই বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন দেশের ছোট ব্যবসায়ীরা। এক চালানে ১০০, ২০০, ৫০০ টন বা ১ হাজার টন করে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিও সংগ্রহ করেছেন এ রকম চার শতাধিক ব্যবসায়ী। তাঁরা প্রতিদিনই ঋণপত্র খুলে চলেছেন।

কিন্তু ছোটরা সরব হলেও পেঁয়াজ আমদানিতে বড় শিল্প গ্রুপগুলো এখনো সেভাবে এগিয়ে আসেনি। অবশেষে চারটি বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, সরকারের অনুরোধে তারা আমদানির উদ্যোগ নিচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই তারা আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান গত বছরে সংকটের সময় পেঁয়াজ আমদানি করেছিল।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি গত বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের জানান, গতবারের মতো এবারও বড় বড় শিল্প গ্রুপকে পেঁয়াজ আমদানির অনুরোধ জানানো হয়েছে। তারা সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

ভারত সরকার হঠাৎ করে গত সোমবার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করে। পরদিন থেকেই বিশ্ববাজারে খোঁজখবর নিয়ে রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তি করতে শুরু করেন ছোট ব্যবসায়ীরা। গত বছর ভারতের বিকল্প বাজারের খোঁজ নিয়ে চুক্তি করতে সময় লাগলেও এবার তাৎক্ষণিকভাবেই যোগাযোগ করা গেছে। কারণ, দুই পক্ষই এখন পরিচিত। ফলে খুব দ্রুতই আমদানির উদ্যোগ নেওয়া গেছে। ফলে ভারতের রপ্তানি বন্ধে গতবার যেমন সংকট হয়েছিল, এবার তা হবে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা।

ছোটরা এগিয়ে
পেঁয়াজ আমদানির ঋণপত্র খোলার আগে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে আমদানির অনুমতি (আইপি) নিতে হয়। ভারত রপ্তানি বন্ধের পরের দুই দিন মঙ্গল ও বুধবার চট্টগ্রাম ও ঢাকার উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি সংগ্রহ করেছেন ছোট ২০০ ব্যবসায়ী। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় ২০০টি প্রতিষ্ঠান পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেতে আবেদন করেছে। বিকেল পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামেও বৃহস্পতিবার প্রায় ২২ হাজার টন আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ছোট ব্যবসায়ীরা।

পেঁয়াজ আমদানিকারক ছোট প্রতিষ্ঠান খাতুনগঞ্জ ট্রেডিংয়ের কর্ণধার খায়রুল বাশার গতকাল প্রথম আলোকে জানান, গত বছরের অভিজ্ঞতায় বিকল্প বাজারে জানাশোনা ছিল। এ কারণে ভারত রপ্তানি বন্ধের পরই আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হয়নি। বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আসবে।

ঢাকার উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক মো. আজহার আলী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীরা যে হারে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতিপত্র নিচ্ছেন, তা আগে কখনো দেখা যায়নি। অনুমতি অনুযায়ী পেঁয়াজ বাজারে এলে সংকট থাকবে না।

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক আসাদুজ্জামান বুলবুল জানান, চীন, মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস থেকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে ব্যাপক আমদানির খবরে বাজারও পড়তির দিকে। খাতুনগঞ্জে তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কমে প্রতি কেজি ৬৫ থেকে ৫৫ টাকায় নেমেছে। খুচরায় ৮০ টাকা থেকে কমে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

উদ্যোগ নিচ্ছে বড় শিল্প গ্রুপ
গত বছর সংকটের সময় সবচেয়ে সক্রিয় ছিল বড় শিল্প গ্রুপগুলো। সরকারের অনুরোধে মেঘনা, এস আলম, সিটি ও বিএসএম গ্রুপ দ্রুত পেঁয়াজ আমদানির প্রক্রিয়ায় নেমে পড়ে।

জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বুধবার রাতে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিকল্প দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। এখন আমদানির উদ্যোগ নেব। বিদেশের দূতাবাসগুলো যদি এ ক্ষেত্রে সহায়তা করে তাহলে দ্রুত আমদানি করা যাবে। প্রসঙ্গত, গ্রুপটি গত বছর সব পেঁয়াজ কেনা দরে সরকারকে হস্তান্তর করেছে।

গত বছর সিটি গ্রুপ ও এস আলম গ্রুপ পেঁয়াজ আমদানি করে সরকারি সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছে। সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহাও পেঁয়াজ আমদানিতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এস আলম গ্রুপের বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান মহাব্যবস্থাপক আখতার হাসান জানান, পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন তাঁরা। আগামী সপ্তাহে ঋণপত্র খোলার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান।

ব্যবসায়ীদের শঙ্কা
এদিকে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিলেও শঙ্কায় আছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত যদি রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাহলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। কারণ, ভারতের চেয়ে বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম এবং আনার খরচ বেশি পড়ে।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তা খুবই ইতিবাচক। এতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। সরবরাহও বাড়বে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজের ট্রাক ছাড়ার অনুমতি দিল ভারত

অবশেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে আটকে থাকা পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য শুল্ক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। গতকাল সন্ধ্যায় এ নির্দেশ দেওয়া হয়।  
ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি এবং উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় গত সোমবার এক নির্দেশে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত সরকারের বাণিজ্য বিভাগের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা। নিষেধাজ্ঞার ফলে পশ্চিমবঙ্গের বেনাপোল-পেট্রাপোল, ঘোজাডাঙ্গা, মহদিপুর, হিলিসহ বিভিন্ন স্থল সীমান্তে আটকে পড়ে প্রায় এক হাজার পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক।

পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ক্ষুব্ধ হন ভারতের রপ্তানিকারক ও বাংলাদেশের আমদানিকারকেরা। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানান। বাংলাদেশ থেকেও পেঁয়াজ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অনুরোধ আসে।

এদিকে দিল্লিতে গতকাল ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সীমান্তে যেসব পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে রপ্তানির পথে আটকে পড়েছে, সেসব ট্রাক অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়ার। এ–সংক্রান্ত নির্দেশও দেওয়া হয় ভারতের শুল্ক বিভাগকে।
নির্দেশনায় বলা হয়, ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে দৃঢ় রাখার জন্য ২৫ হাজার টন পেঁয়াজ বাংলাদেশে রপ্তানির বিশেষ অনুমতি দিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

শীতের সবজি যাচ্ছে বিদেশে

ঠাকুরগাঁওয়ের মাঠজুড়ে এখন সবজি আর সবজি। ফুল ও বাঁধাকপি, মুলা, করলা, বেগুনসহ নানা তরিতরকারি। খেত থেকে তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন কৃষক-শ্রমিকেরা। সেখান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকারেরা। ট্রাকে করে এ সবজি চলে যাচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

কৃষকেরা জানান, ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকেরা একটু আগেভাগে শীতের সবজির চাষ শুরু করেন। এবার অনেক কৃষক সবজি আবাদ করছেন। ফলন ভালো হয়েছে। দামও পাওয়া যাচ্ছে বেশ। এখন সবজিতে বাজার ভরে গেছে। উদ্বৃত্ত সবজি যাচ্ছে বাইরের জেলায়, এমনকি বিদেশেও।

সবজি থেকে শুধু কৃষকেরাই লাভবান হচ্ছেন, তা নয়। এলাকার অনেক নারীও নিয়মিত কাজ পাচ্ছেন। এ বিষয়ে বড়দ্বেশ্বরী গ্রামের মাহমুদা বেগম বলেন, কিছুদিন আগে এলাকায় নিয়মিত কাজ ছিল না। এখন সবজি খেতে সারা বছরই কাজ পাওয়া যায়। এতে তাঁর সংসার খরচ স্বাচ্ছন্দ্যে চলে যায়।

গত কয়েক দিন সদর উপজেলার বড়দেশ্বরী, পাটিয়াডাঙ্গী, আকচা, গড়েয়া ও নারগুন এবং রানীশংকৈলের রাউতনগর, নেকমরদসহ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, খেতে নানা জাতের শাকসবজি। কৃষক ও শ্রমিকেরা খেত থেকে সবজি তুলে সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখছেন। সেখান থেকে পাইকারেরা নগদ টাকায় তা কিনে নিচ্ছেন। পরে তাঁরা সেগুলো ট্রাকে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বিভিন্ন জেলায়।

সদর উপজেলার চামেশ্বরী গ্রামের মেহেদী আহসান উল্লাহ চৌধুরী ১৪ বিঘা জমিতে জৈব পদ্ধতিতে করলা, লাউ, শসা ও বেগুনের আবাদ করেছেন। কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য তিনি ২০১৮ সালে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ পেয়েছেন। তিনি বলেন, বাজারে জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজির চাহিদা একটু বেশি। এ মৌসুমে সবজি চাষ করে তাঁর পাঁচ লাখ টাকার ওপরে আয় হয়েছে। তাঁর উৎপাদিত সবজি দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি এজেন্সির মাধ্যমে ইংল্যান্ড, দুবাই, বাহরাইন, সৌদি আরব, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, হংকংসহ ১০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

এ উপজেলার ইয়াকুবপুর গ্রামের রজনীকান্ত রায় বলেন, ‘এ বছর এক একর জমিতে লাল ও নাপাশাক লাগিয়েছি। এ পর্যন্ত বিক্রি করে ৯০ হাজার টাকা পেয়েছি। খেতে যে পরিমাণ শাক আছে, তা বিক্রি করে কমপক্ষে আরও লাখখানেক টাকা পাওয়া যাবে।’

একই উপজেলার নারগুন এলাকার মো. সামসুদ্দিন চার বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। প্রতিমণ বেগুন উৎপাদনে খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকার ওপর।

গত মঙ্গলবার শহরের সবজি আড়তে এক মণ বেগুন নিয়ে এসেছিলেন নারগুন গ্রামের হুরমত আলী। তিনি বলেন, কেজিপ্রতি ২০ টাকা দরে পাইকারি ব্যবসায়ীর কাছে সব বেগুন বিক্রি করে দিয়েছেন। এ দরে বেগুন বিক্রি করে খুশি তিনি। বললেন, যে দরে বেগুন বিক্রি হচ্ছে, তাতে ভালো লাভ থাকবে।

রানীশংকৈলের রাউতনগর গ্রামে সড়কের পাশে ফুলকপি ও বেগুন কিনছিলেন ঢাকা থেকে আসা পাইকার আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তিনি ঢাকার শ্যামবাজারের সবজির দর জেনে নেন। এরপর ওই দামের চেয়ে কিছুটা কমে খেতের পাশ থেকে সবজি কিনে নেন। এতে সবজি পরিবহনের খরচ ও লাভের টাকা উঠে যায়। তিনি আরও জানান, কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ফুলকপি ১ হাজার ২০০ টাকা দরে কিনেছেন। শ্যামবাজারে এক ট্রাক ফুলকপি বিক্রি করে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা হাতে থাকে।

এ উপজেলার রাউতনগর গ্রামের মাইকেল টুডু লাখ দু-এক টাকা খরচ করে চার বিঘা জমিতে ফুলকপি আবাদ করেছেন। উৎপাদিত ফসল খেত থেকে বিক্রি করেই পেয়েছেন চার লাখ টাকার ওপরে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ হাজার ২৪৮ হেক্টর জমিতে শীতের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭৫৭ মেট্রিক টন।

জানতে চাইলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, এ জেলার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় প্রয়োজন মিটিয়ে শুধু দেশের বিভিন্ন জায়গায় নয়, বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সব সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী

উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় সবজির পাইকারি মোকাম বগুড়ার মহাস্থান হাটে সবজির বাজার এখন বেশ চড়া। হাটে শীতের নতুন সবজি উঠলেও তা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা কঠিন।

মহাস্থান হাটে গতকাল রোববার পাকড়ী জাতের নতুন আলু বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২০০ টাকা করে। এর প্রভাব পড়েছে পুরোনো আলুর বাজারেও। পুরোনো আলুর দাম গত তিন দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে ২২ থেকে ২৯ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। সবচেয়ে বড় আগুন লেগেছে শসার বাজারে। গতকাল প্রতি কেজি শসা ২০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছে। দুই দিন আগেও শসা বিক্রি হয়েছে ৭ টাকা কেজি দরে। অন্যান্য সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী।

সারা দেশে পেঁয়াজের দাম এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলেও এই হাটে এই পণ্যটি তেমন বিক্রি হয় না। এটি মূলত মৌসুমি সবজির পাইকারি মোকাম। হঠাৎ প্রায় সব সবজির ঊর্ধ্বমুখী দাম প্রসঙ্গে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টিতে অনেক সবজির আবাদ নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদনে ঘাটতি পড়েছে।

গতকাল মহাস্থান হাট ঘুরে জানা গেছে, দুই দিনের ব্যবধানে ফুলকপি ও মুলার দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বেড়েছে অন্যান্য সবজির দাম। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় সবজির দাম দুই দিন ধরে বেড়েছে। কৃষকেরাও সরবরাহ কম থাকার বিষয়টি জানিয়েছেন।

আবদুস সালাম নামে হাটের এক ক্রেতা বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে দেশে বিভিন্ন দ্রব্যের দাম সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন পেঁয়াজের বাজারে আগুন। আলুতে হাত দেওয়া যাচ্ছে না। এক কেজি শসার দাম ২০০ টাকা। এটা কল্পনা করা যায়!’

শিবগঞ্জের ডোমনপুকুর এলাকার কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, এবার আগাম সবজির উৎপাদন খারাপ হয়েছে। নতুন করে কিছু সবজি এর মধ্যে বাজারে উঠবে। তখন দাম কমতে পারে। বাজারের অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বৃষ্টির কারণে তাঁদের অনেকের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কাশেম আজাদ উৎপাদন কমের বিষয়টি মানতে চাননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বৃষ্টির পরেই চাষিরা সবজির চাষ বড় আকারে শুরু করেছেন। সেই সবজি বাজারে আসা শুরুও হয়েছে। ফলে বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কম হওয়ার কথা নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক

আচমকা পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত কি রাজনৈতিক? প্রশ্নটা সরাসরি তুলে দিয়েছে অল ইন্ডিয়া কিষান সভা। কমিউনিস্ট প্রভাবিত এই কৃষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালের অভিযোগ, বিহার বিধানসভা ভোটের আগে সরকার পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে। তাই রপ্তানি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস দলের (এনসিপি) নেতা শারদ পাওয়ারও। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলকে তিনি বলেছেন, অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হোক। না হলে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তিই শুধু নষ্ট হবে না, পাকিস্তানের বিপুল লাভ হবে।

দেশে পেঁয়াজের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গত সোমবার কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্ত পেঁয়াজ উৎপাদকদের ক্ষুব্ধ করেছে। বর্ষায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতির পর সবে কৃষকেরা কিছুটা দাম পেতে শুরু করেছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হয়ে গেলে পেঁয়াজের বাড়তি দাম কমে যাবে। তাতে পেঁয়াজচাষিদের ক্ষতি মিটবে না। এ বছর বর্ষায় মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও কর্ণাটকে পেঁয়াজ চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

শারদ পাওয়ার গতকাল মঙ্গলবার পেঁয়াজ নিয়ে একাধিক টুইট করেন। তাতে তিনি এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। পাওয়ার বলেন, রাজ্যের পেঁয়াজচাষিরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সমস্যার কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীকেও জানিয়েছেন। শারদ পাওয়ার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আরজি জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছেন, উপসাগরীয় অঞ্চল, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় ভারতের অবস্থান এর ফলে নষ্ট হবে। উপকৃত হবে পাকিস্তান।

ভারতের বৃহত্তম পাইকারি পেঁয়াজের বাজার মহারাষ্ট্রের লাসালগাঁও। সেখানে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরে পেঁয়াজের পাইকারি দাম কেজিতে ২০ থেকে বেড়ে ৩৫–৪০ রুপি হয়ে যায়। এতে চাষিরা তাঁদের ক্ষতি কিছুটা মেটাতে পারছিলেন। রপ্তানি বন্ধ হওয়ায় এখন দেশে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হয়ে যাবে। চাষিদের উপকার হবে না।

কমিউনিস্ট সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষান সভা এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বলে মনে করছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজিত নাভালে বলেছেন, এই সিদ্ধান্তে শুধু মহারাষ্ট্র নয়, সারা দেশের সব পেঁয়াজচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কৃষকেরা এখন রাস্তায় নেমে রপ্তানি বন্ধের প্রতিবাদ করছেন। সবাই বুঝতে পারছেন, বিহারের ভোটের দিকে তাকিয়েই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, ভোটের আগে সরকার চাইছে না পেঁয়াজের দাম বাড়ুক।

রপ্তানি বন্ধের আগে দেশে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের কেজি মানভেদে ৪০–৪৫ রুপিতে দাঁড়িয়েছিল। গত বছর দাম দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছিল। তখনও সরকার রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল। বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ কেনে ভারতের কাছ থেকে। গত বছর হুট করে রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর অক্টোবরে ভারত সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময় তিনি পেঁয়াজের প্রসঙ্গটি তুলেছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com