আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন

 করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন
করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন

করোনাভাইরাসের কারণে চরম দুর্দশায় পড়েছেন শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত পাটিকররা। ঝালকাঠির ৩ শতাধিক পাটিকর পরিবারে আগের মতো অবস্থা নেই। বিক্রি নেই বলে বেশিরভাগই আর্থিক অনটনে রয়েছেন। পাটি তৈরি করে রাখলেও লকডাউনের ফলে ভরা মৌসুমে কেউ এখন কিনছে না। তারপরও তারা প্রাণপণ চেষ্টা করছেন পূর্বপুরুষের এ ঐতিহ্যবাহী পেশায় টিকে থাকতে।

জানা যায়, শীতলপাটি ঝালকাঠি জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য। একসময় গরমের দিনে মানুষকে অনাবিল শ্রান্তি এনে দিতো শীতলপাটি। মোর্তা, পাটিবেত বা মোস্তাক নামক গুল্মজাতীয় উদ্ভিদের ছাল দিয়ে তৈরি করা হয় এ পাটি। কোথাও কোথাও একে ‘নকশিপাটি’ হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়। এ নিপুণ হস্তশিল্প শহর-গ্রামে মাদুর বা চাদরের পরিবর্তে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, এ শীতলপাটি বুনে ৩ শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়। তাই ঝালকাঠির সচেতন মহলের দাবি, সরকারের উচিত এ শিল্প সংশ্লিষ্টদের প্রণোদনা দেওয়া। পাটি বিক্রির মৌসুমে পাটিকরদের জন্য বিনা সুদে ঋণের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের পুনর্বাসনও করা হয় না। তাই সরকারকে এ বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে।

 করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন
করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন

রাজাপুর উপজেলার হাইলাকাঠিসহ কয়েকটি গ্রামে ৩ শতাধিক পরিবার পাটি তৈরি করে। বিক্রির মৌসুম হলেও করোনার প্রভাবে শীতলপাটি বিক্রি করতে পারছেন না পাটিকররা। ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত পাটির চাহিদা বেশি। অথচ করোনার ভয়ে খুচরা ও পাইকাররা আসতে পারছেন না পাটি কিনতে। বাজারের এ অবস্থার কারণে পাটিকর পরিবারগুলো কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, কিভাবে সংসার চালাবে তারা?

এ প্রসঙ্গে তপন ও বিজয় পাটিকর বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতায় অল্প সুদে ঋণ পেলে ভালো হতো। এ ছাড়া সরকার বাজারজাত করার উদ্যোগ নিলে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটির বাজার আবার ফিরে পাওয়া যাবে।’

মঠবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সিকদার বলেন, ‘শীতলপাটির চাহিদা না থাকায় পাটিকররা এমনিতেই মানবেতর জীবনযাপন করছে। করোনার কারণে তারা আরও ক্ষতির মধ্যে পড়বে। যতদূর সম্ভব তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।’

 করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন
করোনায় কষ্টে কাটছে পাটিশিল্পীদের জীবন

জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী বলেন, ‘পাটি বিপণন ত্রুটি থাকায় বছরের একটি সময় তাদের বসে থাকতে হচ্ছে। আমরা সরকারের অতিদরিদ্র্য কর্মসৃজন কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র পাটিশিল্পীদের কাজের আওতায় আনার চেষ্টা করছি। হয়তো এটি অচিরেই সম্ভব হবে।’

করোনার কারণে পাটিকরদের পাটি বিক্রি বন্ধ থাকায় তাদের সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

চীন

বাম্পার ফলনেও চীনে খাদ্য অপচয় রোধের চেষ্টা যে কারণে

আমি চীনে আসি ২০১২ সালে, অগাস্টের মাঝামাঝিতে। বিমানবন্দরে আমাকে ও আমার স্ত্রীকে রিসিভ করেছিলেন চীন আন্তর্জাতিক বেতারের বাংলা বিভাগের পরিচালক ইয়ু কুয়াং ইয়ুয়ে আনন্দি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ‘মুক্তার কথা’-র মুক্তা। মুক্তার চীনা নাম ছাই ইয়ুয়ে। তাঁরা আমাদেরকে বিমানবন্দর থেকে সোজা নিয়ে এলেন আমাদের নতুন ঠিকানায়। ‘নতুন ঠিকানা’ মানে এক রুমের একটি ফ্ল্যাট। চীন আন্তর্জাতিক বেতারের খুব কাছেই সেটি।

পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়েছিল, মনে আছে। চীনে সন্ধ্যা মানে ডিনার বা রাতের খাবারের সময়। ম্যাডাম আনন্দি আর মুক্তা আমাদের নিয়ে গেলেন রেস্টুরেন্টে। মেনু দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। কোন খাবারের কী স্বাদ তাও জানি না। খাবার পছন্দের দায়িত্ব তাই চাপিয়ে দিলাম আমার দুই নতুন চীনা সহকর্মীর ওপর। তারা অকৃপণভাবে খাবার অর্ডার করলেন। বেশ কয়েক পদ, পরিমাণও কম নয়। বলা বাহুল্য, চীনা জীবনের প্রথম দিনে আসল চীনা খাবার আমার ও আমার স্ত্রীর মুখে তেমন একটা রুচলো না।

ফলাফল: বেশকিছু খাবার বেঁচে গেল। মনে আছে, মুক্তা বেঁচে-যাওয়া কিছু চিংড়ি প্যাক করে নিয়ে গিয়েছিলেন বাসায়। ম্যাডাম আমাকেও কিছু খাবার সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন। আমি লজ্জায় ‘না’ করি। সেই লজ্জার কথা চিন্তা করলে আমার এখন হাসি পায়। বিগত ৮ বছরে আমি চীনাদের কাছ থেকে নতুন যাকিছু শিখেছি, তার একটি হচ্ছে রেস্টুরেন্টে খাওয়াশেষে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়া। অবশ্য, রেস্টুরেন্টে আমার খুব কমই খাওয়া হয়।

রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা চীনাদের মধ্যে আজকাল বেড়েছে। সেদিন আমার এক চীনা সহকর্মীকে দেখলাম সকালে ক্যান্টিন থেকে কেনা নাস্তার একটা অংশ বিকেলে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন। আমি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই একগাল হেসে বললেন: ‘খাদ্যের অপচয় রোধে ভূমিকা রাখছি।’ প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং খাদ্যের অপচয় রোধ করতে নতুন করে আহ্বান জানানোর পর চীনাদের মধ্যে এ ব্যাপারে সচেতনতা অনেক বেড়েছে। এই সচেতনতার কারণেই চীনাদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট থেকে উদ্বৃত্ত খাবার বাসায় নিয়ে যাওয়ার প্রবণতাও বেড়েছে।

সম্প্রতি চীনে একটি জরিপ চালানো হয়। জরিপের ফল প্রকাশিত হয়েছে ‘চায়না ইয়ুথ ডেইলি’-তে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯১.২ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর উদ্বৃত্ত খাবার প্যাক করে বাড়ি নিয়ে যান। তাদের মধ্যে আবার ৩০.৯ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা কমবেশি যা-ই উদ্বৃত্ত থাকুক, বাসায় নিয়ে যান। আর ৬০.৩ শতাংশ বলেছেন, উদ্বৃত্ত খাবার যদি পর্যাপ্ত ও ভালো অবস্থায় থাকে, তবে তাঁরা তা প্যাক করে নিয়ে যান। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৯২ শতাংশ মনে করেন, খাদ্য সাশ্রয় করা একটা সদ্গুণ। আর ৮৫.৭ শতাংশ মনে করেন, খাদ্যের অপচয় রোধ করা জীবনমানের আধুনিক ধারণার সঙ্গে মানানসই।

চীনে ‘ফুড ব্যাংক’ কোনো নতুন ধারণা নয়। তবে, প্রেসিডেন্ট সি’র খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বানের পর ফুড ব্যাংকও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চীনে প্রথম ‘ফুড ব্যাংক’-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল শাংহাইয়ে, ২০১৪ সালে। এই ব্যাংক প্রায়-মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বিভিন্ন সুপার মার্কেট থেকে দান হিসেবে গ্রহণ করে। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের উদ্বৃত্ত খাদ্যও তারা সংগ্রহ করে। তারপর সেগুলো বিলিয়ে দেয় গরিবদের মাঝে। শুধু খাদ্যের অপচয় রোধ করা বা গরিবদের সাহায্য করাই এই ব্যাংকের একমাত্র উদ্দেশ্য নয়, পরিবেশ রক্ষা করাও তাদের কাজের একটা অন্যতম লক্ষ্য।

যাত্রা শুরুর পর এই ব্যাংকের শাখা বিস্তৃত হয়েছে চীনের কমপক্ষে ১১টি প্রদেশ বা প্রদেশ পর্যায়ের অঞ্চলে। বেইজিং, সিছুয়ান, সিনচিয়াং ও লিয়াওনিংয়েও আছে এই ফুড ব্যাংকের শাখা। ২০১৯ সালের শেষ নাগাদ পর্যন্ত এই ফুড ব্যাংক দেশব্যাপী প্রায় ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার মূল্যের খাদ্য সংগ্রহ করে এবং প্রায় আড়াইশ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ও বিদ্যালয়ের মাধ্যমে সাড়ে সাত লাখ মানুষের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। বলা বাহুল্য, ফুড ব্যাংক সংগ্রহ না-করলে, খাবারগুলো নষ্ট হতো।

নিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না, তবে ধারণা করি, এই ‘ফুড ব্যাংক’-ও যাত্রা শুরু করেছিল প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের একটি আহ্বানের কারণে। ২০১২ সালে তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। আর ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানান। কিন্তু তখন সেই আহ্বান তেমন একটা প্রচার পায়নি। তখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির অভ্যন্তরে সংস্কারের কাজ জোরেশোরে চলছিল। হতে পারে, এ কারণে খাদ্যের অপচয় রোধের বিষয়টি তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছিল। আর এ কারণে দেশে-বিদেশে সেটির খুব একটা প্রচারও হয়নি। কিন্তু এবার মহামারি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে যখন তিনি খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানালেন ও এ ব্যাপারে দৃঢ় নির্দেশনা জারি করলেন, তখন বিষয়টি দেশের ভিতরে ব্যাপক প্রচার পায়।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো খাদ্যের অপচয় রোধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, শিক্ষাঙ্গনগুলোতে বিশেষ বার্তা প্রচারিত হতে থাকে, বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ খাদ্যের অপচয়ের ব্যাপারে আরও সচেতন হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এ নিয়ে তুমুল আলোচনা চলতে থাকে, শুরু হয় ‘চেটেপুটে খাও’ আন্দোলন। চীনে কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে, আর সেটা পাশ্চাত্যের সমালোচনার দৃষ্টিতে পড়বে না, তা তো হয় না! পাশ্চাত্যের কেউ কেউ বলতে শুরু করলেন যে, মহামারি ও বন্যার কারণে চীনে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে বা অচিরেই দেবে। আর সেকারণেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের নির্দেশনা দিয়েছেন।

আপাত দৃষ্টিতে কারণটা সহিহ মনে হলেও, বাস্তবতা কিন্তু ভিন্ন। চীনে বিগত কয়েক বছরে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। ২০১৯ সালে চীনে রেকর্ড ৬৬ কোটি ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়। আগের ১৫টি বছরও দেশটিতে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হয়েছে টানা। এমনকি, চলতি বছরের গ্রীষ্মকালে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয়েছে রেকর্ড ১৪ কোটি ২৮ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ০.৯ শতাংশ বেশি। এদিকে, চীনে হেমন্তে খাদ্যশস্য উৎপন্ন হয় সারা বছরের মোট উৎপাদনের ৭০ শতাংশ। যেমনটি পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে, তাতে হেমন্তেও উৎপাদনের রেকর্ড ভাঙবে। মোদ্দাকথা, মহামারির এই বছরেও চীনে খাদ্যশস্যের বাম্পার ফলন হতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, একথা ঠিক যে, বন্যায় বেশকিছু ফসলের ক্ষেত ভেসে গেছে। কিন্তু সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আছে চীনের কৃষিখাতের। তাছাড়া, এবারের বন্যা যথেষ্ট দক্ষতার সঙ্গেই মোকাবিলা করা হয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব হয়েছে।

এটা ঠিক যে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদন করেও চীনকে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি করতে হয়। মহামারির কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই আমদানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে খাদ্যশস্যের অপচয় রোধে প্রেসিডেন্ট সি’র নির্দেশনার পেছনে এটা একটা কারণ হতে পারে। মহামারি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। চীনে মহামারি নিয়ন্ত্রণে এলেও, বাইরের দুনিয়ায় মহামারির তাণ্ডব চলছে। কবে নাগাদ এই তাণ্ডব শেষ হবে বলা মুশকিল। মহামারি যতো দীর্ঘায়িত হবে, বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের সরবরাহ চেইনের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব তত বাড়বে। এ অবস্থায়, খাদ্যের অপচয় রোধ করা, খাদ্যের সাশ্রয় করা, আগের যে-কোনো সময়ের তুলনায় বেশি জরুরি। যথাসম্ভব ভবিষ্যতের আরও খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই সময়।

কিন্তু এটা একমাত্র কারণ নয়। প্রেসিডেন্ট সি ২০১৩ সালে খাদ্যের অপচয় রোধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। হতে পারে, খাদ্যের অভাবসম্পর্কিত তার নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সবসময়ই খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে তাড়িত করে। তিনি মাত্র ১৬ বছর বয়সে পার্টির কর্মী হিসেবে গরিব গ্রামাঞ্চলে কাজ শুরু করেছিলেন। তাকে তখন গ্রামের সাধারণ কৃষকদের সঙ্গে মাঠে কাজ করতে হতো। তখন কাজের উপর নির্ভর করতো খাবারের পরিমাণ। শুরুতে তিনি নিজে বেশি কাজ করতে পারতেন না। ফলে তার ভাগ্যে কম খাবার জুটতো। তাকে প্রায়ই অভুক্ত অবস্থায় রাত কাটাতে হতো। পাশাপাশি, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন গরিব কৃষকদের অভাব-অনটন; দেখেছেন তাদের দিনের পর দিন অনাহারে-অর্ধাহারে থাকার করুণ দৃশ্য। বোধকরি একারণেই খাদ্যের অপচয় তাকে পীড়া দেয়। সমৃদ্ধ চীনে যখন তিনি দেখেন, চারিদিকে বেশুমার খাদ্য নষ্ট করা হচ্ছে, তখন তিনি এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন, এটাই তো স্বাভাবিক!

তবে, শুধু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই তাকে খাদ্যের অপচয়ের বিরুদ্ধে মাঠে নামিয়েছে, তা আমার মনে হয় না। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি ও অন্যতম বড় দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তার চোখের সামনে আছে বৈশ্বিক চিত্রটাও। এই চিত্রটা কিন্তু মোটেই প্রীতিকর নয়! বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-এর হিসাব অনুসারে, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ৩০ শতাংশ নষ্ট (লস্ট) ও অপচয় হয়, যার আনুমানিক ওজন ১৩০ কোটি টন ও মূল্য এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার তথা ৮৫ লাখ কোটি টাকা (বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি বার্ষিক বাজেটের সমান!)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর যে খাদ্য অপচয় হয়, তার মূল্য ১০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার।

ইউরোপে যে পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়, তা দিয়ে ২০ কোটি মানুষের এক বছরের ক্ষুধা নিবারণ করা সম্ভব। আর চীনে প্রতিবছর বিভিন্ন রোস্তোরাঁয় যে পরিমাণ খাবার অপচয় হয়, তার পরিমাণ দেড় থেকে দুই কোটি টন, যা দিয়ে ৩ থেকে ৫ কোটি মানুষের এক বছরের খাদ্যচাহিদা মিটতে পারে। আর এর বিপরীত চিত্রটা হচ্ছে: বিশ্বে প্রতিদিন প্রায় ৮২ কোটি মানুষ অভুক্ত বা অর্ধভুক্ত অবস্থায় রাত কাটায়। আরেক হিসাব মতে, বিশ্বে প্রতিদিন ৮ হাজার শিশু মারা যায় স্রেফ পুষ্টিহীনতায়।

এমন নয় যে, খাদ্যের অপচয় রোধ করা গেলে সেসব খাদ্যের সবটুকুই বিশ্বব্যাপী গরিব মানুষগুলোর প্লেটে চলে যাবে। পুরোটা না-হলেও, একটা অংশ তো অবশ্যই যাবে! শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো নষ্ট হওয়া খাদ্যের একটা অংশও যদি উদ্ধার করতে পারে, তবে সেটাও কম না। তা ছাড়া, খাদ্যের অপচয় মানে কিন্তু শুধু না-খেতে পেরে ফেলে দেওয়া নয়! অতিরিক্ত খেয়েও খাদ্যের অপচয় করা হয়। আর অতিরিক্ত খাদ্য মানে অতিরিক্ত ওজন, অতিরিক্ত ওজন মানে বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ; আর অসুখ-বিসুখ মানে কাজের দক্ষতা হ্রাস ও চিকিৎসার ব্যয় বৃদ্ধি।

এক হিসাব মতে, চীনের ৩০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজনদার। যুক্তরাষ্ট্রে তো ওবিসিটি আরেকটি মহামারির মতো। শুনেছি, বাংলাদেশের মতো গরিব দেশেও অতিরিক্ত ওজন সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। মুসলিমঅধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যেও এই সমস্যা প্রকট। অথচ ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা) বলেছেন: ‘তোমরা যখন খাবে তখন পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাদ্য দিয়ে পূর্ণ করবে, এক ভাগ পানি দিয়ে পূর্ণ করবে, এবং বাকি এক ভাগ খালি রাখবে।’ তিনি আরও বলেছেন: ‘পেটে খানিকটা ক্ষুধা থাকতে খাওয়া বন্ধ কর।’

খাদ্যের অপচয় ও নষ্টের পরিবেশগত মূল্যও কিন্তু কম নয়! এক হিসেব অনুসারে, বিশ্বে প্রতিবছর যে-পরিমাণ খাদ্য অপচয় ও নষ্ট হয়, তা উৎপাদন করতে ৮ শতাংশ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ করতে হয়। অন্যভাবে বললে, প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীবাসী নিঃসরণ করে থাকে, তার ৮ শতাংশ নিঃসরণ হয় অপচয় ও নষ্টকৃত খাদ্যের উৎপাদনের সময়।

২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট সি খাদ্যের অপচয় রোধের ডাক দিয়েছিলেন বোধকরি এই বৈশ্বিক চিত্রটাকে সামনে রেখেই। তখন বিষয়টা নিয়ে তেমন একটা আলোচনা হয়নি। আমি তখন চীনে নতুন এসেছি। এ নিয়ে আলোচনা শুনেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু এখন চীনের সর্বত্র এ নিয়ে শুধু আলোচনা চলছে, তা নয়, সমাজের সকল পর্যায়ে চলছে খাদ্য অপচয় রোধে বিভিন্ন চেষ্টা। কিন্তু এই চেষ্টা চলা উচিত বিশ্বব্যাপী। বাংলাদেশেও খাদ্যের অপচয় হয়; বাংলাদেশেও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা উদ্বৃত্ত খাদ্য সংগ্রহ করে শাংহাইয়ের ফুড ব্যাংকের মতোই গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দেয়। এ ধরনের কাজ আরও হওয়া দরকার।

পাশাপাশি, একটা সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে দেশজুড়ে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। না, খাদ্যের অপচয় রোধে শুধু চীনা প্রেসিডেন্টই ডাক দিয়েছেন, তা নয়, ডাক দিয়েছে খোদ জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (ফাও)-ও। সংস্থাটি চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বরকে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক খাদ্য নষ্ট ও অপচয়বিরোধী প্রচারণা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। দেখার বিষয় এই দিবস বিশ্বব্যাপী কতোটা জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দেশ বাঁচাতে কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশকে বাঁচাতে হলে কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারই ধারাবাহিকতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি চলছে।

মুজিববর্ষ-২০২০ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে মঙ্গলবার বৃক্ষরোপণকালে তিনি এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এক কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদ ভবন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করেন।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যে স্বপ্ন বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত করা, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে আরও অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের সদস্য সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী। তিনি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সারাদেশে চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা নতুন প্রজন্মকে এই কাজে উৎসাহিত করবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও পিডব্লিউডি’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সারাদেশে এক কোটি বৃক্ষের চারা রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কৃষকরাই করোনাকালে সাহসী ভূমিকা রাখছেন

করোনা মহামারিতে সবকিছু থমকে গেলেও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামের কৃষকরাই সাহসী ভূমিকা রাখছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু।

তিনি বলেন, কৃষি এবং কৃষকই যে আমাদের অর্থনীতির প্রাণ, তা এই দুর্যোগকালে ফের প্রমাণিত হলো।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর এ সদস্য বলেন, ‘করোনাকালে অনেক কিছুই হারাতে হচ্ছে। আরও হারাতে হবে হয়তো। মানুষ বেঁচে থাকার লড়াই করতে গিয়ে গোটা পৃথিবীকে থমকে দিয়েছে। আবার বেঁচে থাকার প্রশ্নেই নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। কারণ অর্থনীতি টিকলে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সহজ হবে। আমি দেখছি, কৃষকরাই সে চ্যালেঞ্জ বেশি মোকাবিলা করছে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কৃষকরা দমে যাননি। তারা মাঠে-প্রান্তে কাজ করে খাদ্যের জোগান দিচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। করোনার বিশ্বপরিস্থিতি সবার জানা। ইউরোপ-আমেরিকায় অর্থনীতির ধস, উন্নয়ন থমকে গেছে। বাংলাদেশ কিন্তু এখনও সেই জায়গায় যায়নি। সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ মানুষকে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করছে। করোনাকালে বাজেটে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার আওতায় কৃষক, শ্রমিকরাও আছেন। এই প্রণোদনার সুফল তারা পাচ্ছেন। হয়তো, সামনে প্রণোদনার বিষয়ে আরও ভাবতে হবে।’

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরতে শুরু করেছে। মানুষ কাজে ফিরছে। হয়তো, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবই স্বাভাবিক হবে। তবে স্বাভাবিকতায় ফিরলেও নানা চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। বাণিজ্য-অর্থনীতি নিয়ে ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগের অনেক ধারাই বাতিল হবে। নতুন নিয়মে সম্পৃক্ত হতে হবে আমাদের। বিশ্ববাণিজ্যে মনোযোগ বাড়াতে হবে। কৃষিজাত পণ্যে বিশ্ববাজার ধরতে হবে। তাহলেই কৃষক বাঁচবে। কৃষক বাঁচলে দেশও বাঁচবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

শেষ পর্যন্ত ব্যর্থই হলো বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা

শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ। সাড়ে ১৯ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ দিন পর্যন্ত ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯০২ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করা গেছে। ঘাটতি রয়েছে ১০ লাখ ৬ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি রোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কোনো খাদ্য সংকট হবে না। তারা বলছেন, সাড়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল মজুত রয়েছে।

চলতি বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৩১ আগস্ট ছিল শেষ দিন। তবে ২৬ এপ্রিল থেকে শুরু করে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও সংগ্রহ করতে পারেনি সরকার। এ কারণে সময় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। সর্বশেষ সময় পার হলেও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি রয়েছে ১০ লাখ ৬ হাজার ৯৪ মেট্রিক টন।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের গাফিলতি, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লটারি করতে করতেই প্রায় দেড় মাস সময় পার হওয়া, গুদামে ধান দিতে গিয়ে নানা ঝক্কি ঝামেলায় কৃষকের আগ্রহ হারানো, উৎকোচ দেয়া, করোনা, লাগাতার বৃষ্টি, বন্যার কারণে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, সরকার ১৯ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করার জন্য গত ২৬ এপ্রিল থেকে বোরো ধান এবং ৭ মে থেকে চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন। তবে শেষদিন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোরো ধান সংগ্রহ করা হয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন। সিদ্ধ চালের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে ৬ লাখ ৩২ হাজার ৫৩৭ মেট্রিক টন। আর আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন। সংগ্রহ হয়েছে ৯৪ হাজার ৩৪৭ মেট্রিক টন।

জানা গেছে, আপৎকালীন মজুতের জন্য সরকার প্রতি বছর আমন ও বোরো মৌসুমে স্থানীয় চালকল মালিকদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যে চাল সংগ্রহ করে থাকে। তবে এবার মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার এ সংগ্রহ অভিযানকে আরও বেশি গুরুত্ব দেয়। এজন্য এবার ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অন্যবারের চেয়ে আরও বেশি ধরা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের লটারি করতে করতেই প্রায় দেড় মাস চলে যায়। এর মধ্যেই কৃষকের হাত থেকে ধান মজুতদারদের গুদামে চলে গেছে। ফলে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সফল হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার কারণে যেকোনো দুর্যোগের সময় চাল সরবরাহে বিপদে পড়তে পারে সরকার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা, আগাম বন্যা ও সারাবিশ্বে দুভিক্ষের আভাস পেয়ে অনেক গৃহস্থ এবার ধান হাতছাড়া করেননি। যারা মজুতদার তারাও ধান কাটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধান ক্রয় করা শুরু করেন। মিলাররাও এ সময় ধান মজুত করেন। ফলে যেসব কৃষক ধান বিক্রি করেছেন, সেগুলো ইতোমধ্যে মজুতদারদের গুদামে চলে গেছে। মিলারদের সঙ্গে চালের জন্য সরকারের যে চুক্তি হয়েছে, সে চুক্তি অনুযায়ী অনেক মিলাররাও চাল দিতে পারেননি।

চাল কেনার জন্য কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। তবে একই চাল বাজারে ৪০-৪২ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। মিলাররা বলছেন, বেশি দামে ধান কেনার কারণে কম দামে সরকারকে চাল সরবরাহ সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় কর্তব্যরত খাদ্য নিয়ন্ত্রক, কর্মকর্তা ও গুদাম ইনচার্জদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ধান-চাল সংগ্রহের সময় প্রায় ১০ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক, বেশকিছু উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও গুদাম ইনচার্জকে বদলি করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের এই সময় তাদের বদলি করার কারণে অনেক জায়গায় ধান-চাল সংগ্রহ করা যায়নি। কারণ একজন খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে স্থানীয় মিলার এবং ধান সরবরাহ কৃষকসহ অনেকের একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তাদের নিজস্ব সম্পর্কের কারণেই তারা ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারেন। কিন্তু এই সময় হঠাৎ বদলির ঘটনা সবকিছু থমকে দিয়েছে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, নীলফামারী, গাজীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের বদলি করা হয়েছে। ধান-চাল সংগ্রহের সময় আগে কখনো এমন বদলির ঘটনা ঘটেনি। নতুন একজন কর্মকর্তা যোগদান করেই তার সফলতা দেখানো অনেকটা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া কিছু কিছু জেলার খাদ্য কর্মকর্তারা ধান-চাল সংগ্রহের চাইতে অন্য দিকে মনোনিবেশ করায় যেমন-ভালো চাল গুদাম থেকে বের করে দিয়ে গুদামে নিম্নমানের চাল ঢোকানো, নতুন বস্তার পরিবর্তে পুরাতন বস্তা ঢোকানোসহ নানা পরিকল্পনায় ব্যস্ত থাকা এবং উপরি কামাইয়ের কারণেও অনেক জেলায় ধান-চাল সংগ্রহ করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।

খাদ্যসচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম এক প্রশ্নের জবাবে জাগো নিউজকে বলেন, ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা আমরা পূরণ করতে পারিনি। সাড়ে ১৯ লাখ মেট্রিক টনের কাছে সাড়ে ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারলেও সেটা সন্তোষজনক হতো।

তিনি বলেন, কৃষক এবার ধানের ভালো দাম পাওয়ার কারণে বাইরে ধান বিক্রি করে দিয়েছে। ফলে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও কোনো সমস্যা মনে করছেন না খাদ্যসচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের খাদ্যের কোনো সংকট হবে না। ফুড সিকিউরিটিতে আমরা ভালো অবস্থানে আছি। কারণ সাড়ে ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল আমাদের স্টকে আছে। তাছাড়া আর কিছুদিন পরেই আমনের মৌসুম শুরু হবে। আমন মৌসুমে আমরা ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারলে খাদ্যের ব্যাপারে কোনো ক্রাইসিস সৃষ্টি হবে না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক সারওয়ার মাহমুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার টার্গেট অনেক বেশি। তার মধ্যে বৈরী আবহাওয়া ও করোনার মতো দুর্যোগ। এটা নরমাল বছরের মতো সময় নয়। এমতাবস্থায় টার্গেট ফিলআপ হওয়া সম্ভব নয়। তবে আমরা কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টায় ছিলাম।’

তিনি বলেন, ‘কৃষক এবার ধানের ভালো দাম পাওয়ার কারণে বাজারেই ধান বিক্রি করে দিয়েছে। কৃষক ধানের ন্যায্য মূল্য পেয়েছে-এটাও সরকারের বড় অ্যাচিভমেন্ট।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

রাজশাহীতে পাম চাষে সাফল্যের হাতছানি

রাজশাহীতে পাম চাষে সাফল্যের হাতছানি

বাংলাদেশে অপার সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে বাণিজ্যিক পাম চাষ। রাজশাহীতে পরীক্ষামূলক পাম চাষে মিলেছে সাফল্যের হাতছানি। রাস্তা কিংবা রেললাইনের ধারে, পতিত ও অনাবাদি জমি পাম চাষের আওতায় আনার সুপারিশ করেছেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বড় প্রকল্প নেওয়া জরুরি। যাতে যন্ত্রপাতি সমৃদ্ধ ল্যাব স্থাপন, বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পাম চাষ, তেল উৎপাদন ও বাজারজাত করা যায়। এতে ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে। রফতানি করেও আয় করা সম্ভব প্রচুর বৈদেশিক মুদ্র। সম্ভাবনাময় পাম পাল্টে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির গতিধারা।

জানা গেছে, গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাজশাহীতে বিসিএসআইআর গবেষণা কেন্দ্রে পাম চাষ শুরু করে। দেশে পাম গাছের প্রজনন, বৃদ্ধি, উৎপাদন এবং ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতেই এ গবেষণা প্রকল্প। তিন বছরের মধ্যেই ফল এসেছে ৩ একর জমিতে রোপণ করা ৩শ পাম গাছে। গবেষকরা বলছেন, পুরোদমে উৎপাদনে আসতে আরও বছরদুয়েক সময় লাগবে।

তবে এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে প্রকল্পের মেয়াদ। গতমাসে প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক বিসিএসআইআরের অয়েল, ফ্যাট অ্যান্ড ওয়েক্সেস রিসার্চ ডিভিশনের প্রিন্সিপ্যাল সায়েন্টিফিক অফিসার মো. মইনউদ্দিন প্রকল্পের চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। তাতে রাজশাহী অঞ্চলে পাম চাষ নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে অপার সম্ভাবনার কথা।

মইনউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু পাম গাছের জন্য খুবই উপযোগী। সঠিকভাবে পামের চাষাবাদ, উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে দেশে ভোজ্য তেলের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব। সেই সাথে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও পাম তেল রফতানি করে তেল উৎপাদনশীল দেশের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান সম্ভব।

বিসিএসআইআর বলছে, এশিয়া ও আফ্রিকান দেশগুলোতে পাম গাছ প্রচুর পরিমাণে থাকায় তারা দীর্ঘদিন যাবৎ এ পাম ওয়েল সিড থেকে তেল নিঃসরণ করে সেটি ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করছে। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড ও কোলেস্টরেল থাকলেও তাতে ক্ষতি হচ্ছে না।

তাছাড়া পামে আছে ভিটামিন ই। যা ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই শক্তিশালী ও কার্যকর। আবার পুষ্টিমানের দিক থেকে গাজরের তুলনায় পামে রয়েছে ১৫ গুণ এবং টমেটোর তুলনায় ৩০০ গুণ বিটা-ক্যারোটিন। যা মানবদেহে ভিটামিন এ উৎপাদনে সহায়তা করে। সঙ্গত কারণেই পাশ্চাত্যে এখন পাম তেলের ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণে।

এ ছাড়া পামের বীজ থেকেও তেল উৎপাদন সম্ভব। কিন্তু এ বীজ থেকে সামান্যই তেল পাওয়া যায়। ফলে বীজ ব্যবহার হয় সাবান ও প্রসাধনী তৈরির কোম্পানিগুলোয়। কাজেই পামের প্রতিটি উপাদানেই রয়েছে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ।

মইনউদ্দিন আরও বলেন, ‘বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের মাটি, আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও গড় বৃষ্টিপাত পাম গাছের বৃদ্ধির জন্য খুবই উপযোগী। এ ছাড়া দেশের দক্ষিণাঞ্চল, চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ বিভাগীয় অঞ্চলগুলোর অনাবাদি জমিতেও পাম চাষে যেমন সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার পাম ফল মালেশিয়ায় উৎপাদিত পাম ফলের চেয়ে আকারে বড়। উৎপাদনও প্রায় দ্বিগুণ। আবার পাম গাছে বছরে ৩ বার ফল নামানো যায়।’

তিনি জানান, প্রথমে রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল সেনা ক্যাম্প থেকে পাম গাছের চারা ও ফল সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তিনি সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাম গাছ ও তার ফল সংগ্রহে নেমে পড়েন। রাজশাহীর বেলপুকুর এলাকায় মহাসড়কের পাশে লাগানো পাম গাছ থেকে পাম সংগ্রহ করে প্রথম গবেষণায় ভালো ফলাফল পান। পরবর্তীতে নওগাঁর ফজলুল হক নামের এক কলেজ শিক্ষকের কাছ থেকে ৩শ চারা এনে গবেষণাগারের পতিত জমিতে বাগান তৈরি করেন। ৩ বছর বয়সী পাম গাছে ফল এসেছে। পুরোদমে উৎপাদনে আসতে আরও অন্তত ২ বছর সময় লাগবে।

প্রথমে ফল থেকে তেল সংগ্রহের বিষয়টি বেশ কঠিন ছিল জানিয়ে মইনউদ্দিন বলেন, ‘পাম ফলের বীজ ও উপরের মাংসল অংশ থেকে ভোজ্য তেল পাওয়া যায়। মালয়েশিয়ান ও আফ্রিকান স্থানীয়রা ব্লিচিং পদ্ধতিতে পাম ফল থেকে তেল বের করেন। গুগল ও ইউটিউবে বিভিন্ন তথ্যের মাধ্যমে ল্যাবেও প্রাথমিকভাবে ব্লিচিং পদ্ধতিতে তেল বের করেন তারা। এখন ইঞ্জিনিয়ারিং মেশিন পদ্ধতিতে তেল উৎপাদনের অপেক্ষা। এ ধাপে তাদের সাথে যুক্ত হয়েছে ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। মেশিনটি তৈরি হলেই সঠিকতা যাচাই করে পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধাপে পাম তেল উৎপাদনে যাওয়া যাবে।’

বাংলাদেশের পাম তেলের সম্ভাবনার বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সরকার ১২-১৫ হাজার কোটি টাকার তেল আমদানি করে। আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের ৬০ শতাংশই পাম ওয়েল। এ ছাড়াও ভোজ্য তেলের দিক থেকে বিশ্বে প্রথম পাম তেল। তাছাড়া আবহাওয়া ও জলবায়ুগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ ও বিশ্বের শীর্ষ পাম তেল উৎপাদনকারী দেশ মালয়েশিয়ার খুব একটি পার্থক্য নেই।

মালয়েশিয়ার চেয়ে বাংলাদেশের জমির উর্বরতা শক্তিও বেশি। এ উপযোগিতা ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে অনাবাদী, পতিত জমি এবং রাস্তা কিংবা রেল লাইনের ধার ঘেঁষে পাম চাষ করা যায়। এতে পাম তেলে শুধু সমৃদ্ধই হবে না বরং বিদেশে তেল রফতানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এটি কেবলই আশাব্যঞ্জক নয় উৎসাহব্যঞ্জকও বটে।

সম্ভাবনাময় পাম চাষ গবেষণায় সফলতায় আশাবাদী রাজশাহী বিসিএসআইআরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘এ গবেষণা প্রকল্পের ফলাফল খুবই ভালো এসেছে। প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ ও সহযোগিতা পেলে হয়তো এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশও হতে পারে ভোজ্য তেল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশ।’

তাছাড়া বহু বাংলাদেশি মালয়েশিয়ায় গিয়ে সেখানকার বাণিজ্যিক পাম বাগানে শ্রম দেন। এদের দেশে ফিরিয়ে এনে বাণিজ্যিক পাম চাষে কাজে লাগানো যায়। বাণিজ্যিক পাম চাষ, ভোজ্য তেল উৎপাদন ও বিপণন সম্ভব হলে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিধারা পাল্টে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com