আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

খাতা-কলম ও মাঠের চিত্রে ‘মিলছে না’ চাল উৎপাদনের হিসাব

চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমদানি শুল্ক কমিয়ে দিয়েছে সরকার

কৃষি বিভাগের দাবি, চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ, চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদন হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝেই অস্থির হয়ে উঠছে চালের বাজার। লাগামহীন চালের দাম দুর্ভোগে ফেলছে সাধারণ মানুষকে। তাই চাল উৎপাদনের তথ্য নিয়ে ‘প্রশ্ন’ উঠেছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হলে কেন চাল আমদানিতে যেতে হচ্ছে? মাঠ পর্যায় থেকে ফসল উৎপাদনের সঠিক চিত্র আসছে না বলে সম্প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায় থেকে নমুনা নিয়ে তারা উৎপাদনের তথ্য দেন। যদিও লোকবলের সংকট আছে। করোনাভাইরাসের কারণে তারা এবার মাঠ পর্যায়ে সেভাবে যেতে পারেননি। চালের চাহিদার তথ্য সঠিক না হলে প্রকৃত উৎপাদনের তথ্য দিয়েও সঠিক চিত্র পাওয়া যাবে না বলেও জানিয়েছেন তারা।

গত বছরের আগস্টে চালের মজুত নিয়ে এক সেমিনারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, চাহিদা মেটানোর পরও সাড়ে ৫৫ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। নভেম্বরের (২০২০ সালের) মধ্যে আউশ ও আমনের উৎপাদন যুক্ত হলে খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কায় থাকবে না।

পরে ডিসেম্বরে ব্রি এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা পূরণ করেও আগামী বছরের (২০২১) জুন পর্যন্ত  কমপক্ষে ৩০ লাখ টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। একই সঙ্গে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) উৎপাদনের তথ্য দেয়।

চলতি মৌসুমে এক কোটি ৫৬ লাখ টন আমন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। কিন্তু এবার আমনের ভর মৌসুমে মোটা চালের কেজিপ্রতি দাম ৫০ টাকায় পৌঁছেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে চাল আমদানি শুল্ক কমিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানি করা হচ্ছে ।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় বলেন আর বিসিএস-ই বলেন, তারা প্রতি জেলায় ৫ কাঠা, ১০ কাঠার ডেমোনেস্ট্রেশন (প্রদর্শন) ফার্ম করেন, প্লট করেন। সেই প্লটে যে প্রোডাকশন হয়, এর ওপরই তারা হিসাব দিয়ে দেয়। এই হিসাবে তো আমাদের চলবে না।’

উৎপাদনের যে হিসাব আসছে তা সঠিক কি-না, এ বিষয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তা জোর গলায় বলব না। সেটা এগ্রিকালচার ও বিসিএসই বলুক।’

মাঠ প্রশাসন থেকে চাল উৎপাদনের সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ

গত ৭ জানুয়ারি কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মাঠ প্রশাসন থেকে চাল উৎপাদনের বিষয়ে সরকারকে সঠিক তথ্য না দেয়ার অভিযোগ ওঠে। অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ তথ্যের কারণে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বলে জানান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ-৯ আসনের সাংসদ আনোয়ারুল আবেদীন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘গত মিটিংয়ে এটা (উৎপাদনের ত্রুটিপূর্ণ তথ্য) নিয়ে কথা হয়েছে। মাঠ থেকে যে তথ্য আসে সেই তথ্যের সাথে বাস্তবের অমিল খুঁজে পেয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এ কারণে কমিটির সভাপতি (মতিয়া চৌধুরী) ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, বাস্তব ও মাঠের চিত্রের মধ্যে অনেক অমিল, এটা ঠিক রাখার চেষ্টা করুন। এত চাল উদ্বৃত্তের কথা যদি আপনারা বলেন, তবে সরকারকে চাল আমদানি করতে হবে কেন? পরবর্তী সময় এটা যাতে আর না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বলেছেন তিনি (সভাপতি)।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমিও মনে করি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরসহ যারা আছে তারা আসলে উৎপাদনের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেয়নি। উদ্বৃত্তের কথা বলা হচ্ছে আবার কিনতে হচ্ছে, কথা তো দিনরাত তফাৎ হয়ে গেল! এ বিষয়টি এবার ধরা পড়ল।’

অনেক ব্যবসায়ী লাভের আশায় ধান ধরে রাখছেন

উৎপাদনের তথ্যের বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের জনবল সঙ্কট রয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমরা সঠিক হিসাব দেয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমনের উৎপাদনের হিসাব এখনও আমরা চূড়ান্ত করিনি। ফসল কাটা এখনও শেষ হয়নি। এবার উৎপাদন তো কম হবেই, বন্যায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে– এটা তো আমরা বলেছি। এক লাখ ৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এবার আমনে এক কোটি ৪০ থেকে ৪২ লাখ টন চাল উৎপাদন হতে পারে বলে আমরা মনে করছি। আমাদের হিসাবের পর আবার বিসিএসের সঙ্গে মিলিয়ে থাকি।’

মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা একভাবে রিপোর্ট তৈরি করি, বিবিএস আরেকভাবে করে। আমাদের স্যাম্পল (নমুনা) নেয়ার পরিমাণ বেশি, কারণ আমাদের মাঠ পর্যায়ে লোক আছে। স্যাম্পল বেশি নেয়ার কারণে আমাদের হিসাবটা যুক্তিসঙ্গত মনে করি।’

আসাদুল্লাহ বলেন, ‘আমরা এই (উৎপাদনের হিসাব) প্রক্রিয়াটায় আরও কাজ করব। যাতে আরও বেশি স্যাম্পল নিয়ে অ্যাভারেজ (গড়) করে উৎপাদনের হিসাবটা দিতে পারি।’

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘উৎপাদন বেশি হলেই যে চালের দাম বাড়বে না, এমন তো কোনো কথা নেই। মজুত করেও তো দাম বাড়ানো যায়। মজুতের মাধ্যমে বাজারে চালের সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাবে। অনেকে লাভের আশায় ধান ধরে রাখছেন। এটা তো একটা ফ্যাক্ট।’

চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় আমদানি নিয়ে প্রশ্ন

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উৎপাদনের হিসাবের প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নমুনা হিসেবে কিছু কৃষকের সঙ্গে কথা বলি– এক বিঘা জমিতে কত মণ ধান হয়েছে। আমরা ১০-১২ জন মানুষ আমাদের পক্ষে তো সারাদেশে যাওয়া সম্ভব নয়। যাদের কাছ থেকে তথ্য নিচ্ছি তারা যদি ভুল তথ্য দেয় সেটা ধরা তো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে তথ্য নেই। কোথাও ফোনে কথা বলি। আমরা কোনো কোনো স্থানে ধান কেটে মেপে, ময়েশ্চার অ্যাডজাস্ট করে হিসাব করি। এবার করোনার কারণে তো মাঠ পর্যায়ে যাওয়া যায়নি, অনলাইনে কাজ করতে হয়েছে।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘জনসংখ্যা যেটা ধরে হিসাব করি, প্রকৃত সংখ্যা সেটার থেকে বেশি হলেও সমস্যা থাকবে, হিসাব মেলানো যাবে না। এবার আমনের উৎপাদন কম হয়েছে এটা সরকার স্বীকৃত। ১০ শতাংশ কম হলেও ১৫ লাখ টন কম হবে। যেটুকু নষ্ট হয় তা বাদ দিলেও তো খাদ্যের অভাব হওয়ার কথা নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন প্রতিজন ৩৬৭ গ্রাম চাল খায়। করোনার কারণে অনেক মানুষ বিদেশ থেকে এসেছে। তারা খাচ্ছে। জনসংখ্যার হিসাব অনেক দিন আগের। হিসাব ঠিকঠাক থাকলে ২০ থেকে ২৫ লাখ টন খাবার উদ্বৃত্ত থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

রাবার তৈরি হয় যেভাবে

শেখ আনোয়ার
রাবারের ব্যাপারে মানুষ শুরু থেকেই উৎসুক ছিল। কারণ রাবার হলো ওয়াটার প্রুফ। পানি চোয়ায় না। টেনে লম্বা করা যায়। তাপে গলিয়ে যে কোনো আকৃতিতে পরিণত করা সম্ভব। প্রথমদিকে রাবার ব্যবহারে কতগুলো মৌলিক অসুবিধা ছিল। যেমন- ঠান্ডা আবহাওয়ায় রাবার শক্ত হয়ে সংকুচিত হয়। আবার গরমে গলে নরম আঠালো হয়ে যায়।

রাবার থেকে তৈরি জিনিস ২৪ ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করা যেত না। হাজার হাজার বছর ধরে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার মানুষ বিভিন্ন আকারের রাবারের জিনিস তৈরি করতো। এর মধ্যে ছিল জুতা, বল, পানি ধারক পিপাসা নিবারনী আলখাল্লা ইত্যাদি।

রাবার পাওয়া যায়, রাবার গাছের রস থেকে। এ রস দেখতে সাদা। একদম দুধের মতো। রাবার গাছের সাদা কষ রাবারের মূল উপাদান। রাবারের এ কষকে বলা হয় সাদা সোনা। রাবার গাছ জন্মে পৃথিবীর নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের দেশগুলোতে।

বাংলাদেশের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ভাটেরা, সাতগাঁও শাহজীবাজার ও রূপাইছড়া রাবার বাগান রয়েছে। রাবার গাছের কাণ্ড চেছে কাঠের অংশটি ছিলে দেয়া হয়। সেই চাছা অংশ থেকে রস টপ টপ করে পড়তে থাকে। দেখা যায় যে, চাছা অংশে যদি একটি কাঠি পুতে দেয়া হয়, তবে রস ফোঁটায় ফোঁটায় পরতে থাকে। রস এভাবে সংগ্রহ করাটিই উত্তম।

রাবার আবিষ্কার হওয়ার পর এবং তরল রাবারকে শক্ত করার পদ্ধতিও বের করে মানুষ। এদিকে শক্ত রাবারকে ইউরোপীয়রা পুনরায় তরলে পরিণত করার একটি উপায়ের কথা ভাবতে শুরু করে। ক’দিন আগেও ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট আলোকিত করার জন্য ব্যবহার করা হতো কয়লা গ্যাস। এর প্রধান উপজাত হলো ন্যাফথা।

ন্যাফতা শক্ত রাবারকে গলে দেয় এবং রাবারকে তরল করে। চার্লস স্যাকিনটোল দু’টুকরো কাপড়ের মাঝখানে তরল রাবারের দ্রবণ সেটে সে সময় সুন্দর রেইনকোট বানান। যদিও এই রেইনকোট খুব ভারি এবং শক্ত ছিলো। তবে এটিই হলো পৃথিবীর প্রথম রেইনকোট বা বর্ষাতি।

এই সময় লন্ডনে, টমাস হ্যানকক দক্ষিণ আমেরিকা থেকে কিছু রাবার সংগ্রহ করেন। সে রাবার দিয়ে তিনি রাবার ব্যান্ড, দস্তানা, বুট জুতা ইত্যদির সম্প্রসারণ (ইলাস্টিক) অংশগুলো তৈরি করেন। তবে রাবার তাপে গরম করলে বা পুনরায় তরল করলে আগের যে শক্তি তা নষ্ট হয়ে যেতো এবং বিকৃত হতো তাড়াতাড়ি।

তাই রাবারকে অনেককাল পর্যন্ত নানাভাবে রদবদল করলেও কি করে শক্ত, মজবুত, মসৃণ, সম্প্রসারণশীল, আঠালো, অর্থাৎ এর স্বাভাবিক গুণাবলী অক্ষুণ্ন রাখা যায় এ নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হলো।

আমেরিকায় ওভারশু প্রচলন হবার পর আমাজানের ভারতীয়রা ওইসব ওভারশু তৈরি করে রফতানি করতো। খুব শিগগিরই পানি নিরোধী কোট, জীবন রক্ষাকারী টিউব, ওয়াগনের ঢাকনা, হোস পাইপ ইত্যাদিও রাবার দিয়ে তৈরি শুরু হলো। বাজার ছেয়ে গেলো রাবারের জিনিসে। তবে রাবার শক্ত হওয়া, আঠালো, চটচটে, বিশ্রী গন্ধ ইত্যাদি সমস্যা কিন্তু তখনো ছিলো।

গরম ঠান্ডায় রাবারের দোষগুলো কাটিয়ে নেয়ার উপায় বের করার চেষ্টা বিভিন্ন সময়ে নানানজন করেছেন। চার্লস গুডইয়ার হলেন এদের মধ্যে সবচে সার্থক। গুডইয়ারের কথা বলবার আগে অন্যান্যদের কথা কিছু বলে নেয়া উচিত।

চার্লস গুডইয়ার নিউইয়র্কের এক দোকানে একদিন রাবারের তৈরি লাইফ প্রিজারভার দেখেন। জিনিসটি তার খুব ভালো লাগলো। এটি আরো উন্নত করার জন্য উন্নতমানের একটি ভাল্ব তৈরি করে দোকানদারকে দেন। গুডইয়ারের আর্থিক অবস্থা তখন খুব খারাপ। ভেবেছিলেন এ থেকে কিছু পয়সা পাবেন। কিন্তু দোকানদার গুডইয়ারকে বললো, রাবারই ভালো নয়, তো ভালো ভাল্ব দিয়ে কি হবে?

সেই থেকে শুরু। গুডইয়ার রাবার স্বাভাবিক গুণাবলি অক্ষুণ্ন রাখার কৌশল আবিষ্কারে মনোনিবেশ করলেন। রসায়নের কোনো জ্ঞান তার নেই। যন্ত্রপাতি সমন্ধেও কোনো ধারণা নেই। সবচে বেশি যা দরকার- টাকা। তাও নেই তার। তবু চললো গবেষণা।

পরবর্তী পাঁচ বছরে বিস্তর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন। নানা রকম বাঁধা বিপত্তির পর নিজের একক প্রচেষ্টায় রাবার সমস্যার সমাধান করলেন। নিজের আবিষ্কারকে বললেন, মেটালিক গাম ইলাস্টিক। এটিই পরবর্তীকালে ভলকানাইজেশন নামে পরিচিত হয়। অগ্নিদেবতার নাম ভলকান। তার থেকেই এই নামের উৎপত্তি।

ভলকানাইজিং আবিষ্কার হবার পর রাবার থেকে বুট জুতা, কাপড়, ডাক্তারি যন্ত্রপাতি, প্রকৌশল যন্ত্রপাতি ইত্যাদিসহ গাড়ির টায়ার সবই তৈরি সহজ হয়ে গেলো। সেই থেকে শুরু। এখনো গুডইয়ারের ভলকানইজড রাবার সেরা রাবার হিসেবে বিখ্যাত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ঘন কুয়াশায় রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা

রবি মৌসুমে যেভাবে ঘন কুয়াশা পড়তে শুরু করেছে তাতে রবি শস্যের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা। ঘন কুয়াশা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে রবি শস্য বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করছেন তারা।

সদর উপজেলা কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে এ আবহাওয়ার কারণে বোরো ধানের চারা হলদে রং হয়ে যাবে।

সরিষা, টমেটো ও আলু খেতে লেট রাইট রোগের প্রকোপ বাড়বে। শাক-সবজির সাধারণ বৃদ্ধি ব্যাহত হবে। আম ও কুল গাছ রোগাক্রান্ত হয়ে যাবে। কারণ কুয়াশায় সবুজ পাতার স্ট্রোমা ছিদ্র হয়ে যায়।

এতে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করতে পারে না। কুয়াশার কারণে আমের মুকুলে এনথ্রাক্স ও পাউডারি মিলভিউ রোগ দেখা যায় এবং পাউডারি মিলভিউ রোগে মুকুল পচে যায়।

এছাড়া আম গাছের হোপার পোকার আক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। এধরনের আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে কুলেও এনথ্রাক্স রোগ দেখা দিতে পারে। এ রোগে কুলের বহিরাবরণে কালো দাগের সৃষ্টি হবে এবং এক সময় কুল পচে যাবে।

কৃষিবিদ কামরুন্নাহার তামান্না জানান, ঘন কুয়াশার কারণে ঘটিত রোগ প্রতিরোধে টমেটো, আলু ও শীতকালীন লতা সবজিতে রেডোমিন গোল্ড স্প্রে করে দিতে হবে।

আমের মুকুল ও কুল ফসলে ভালো করে পানি স্প্রে করে দিতে হবে যাতে করে কুয়াশার পানি ও থেমে থাকা জীবাণু ধুয়ে ফেলতে হবে। যাতে করে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হবে বলে জানান কৃষিবিদ কামরুন্নাহার তামান্না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

যেভাবে ঘরে বসে মাশরুম চাষ করবেন

ঘরে বসে মাশরুম চাষ করা যায় খুব সহজেই। করোনাকালে যারা ঘরে বসে দিন কাটাচ্ছেন তারা এটি চাষ করতে পারেন। মাশরুম অনেক পুষ্টিকর খবার। এই সময়ে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন হাই প্রোটিনযুক্ত ডায়েটের। মাশরুম হাই প্রোটিনযুক্ত। হজম হয় তাড়াতাড়ি। প্রোটিন ছাড়াও এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজপদার্থ।

বিশ্বজুড়ে চাষ করা হয় নানা জাতের মাশরুম। তবে আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এবং তুলনামূলক সহজ পদ্ধতিতে ঘরে ফলানোর জন্য উপযুক্ত অয়েস্টার, মিল্কি, প্যাডি স্ট্র জাতীয় মাশরুম। অয়েস্টার মাশরুম ফলানোর পক্ষে আবার শীতকাল উপযুক্ত। বাকি দুটোর উপযুক্ত সময় মার্চের পর থেকে, যখন ঠান্ডা কমে যায়।

জেনে নিন ঘরে বসে যেভাবে মাশরুম চাষ করবেন,-
অয়েস্টার মাশরুম চাষের উপকরণ: প্রধানত তিনটি উপকরণ দরকার এই ধরনের মাশরুম চাষ করার জন্য। এগুলো হচ্ছে,- স্পন বা মাশরুমের বীজ, খড় ও পলিথিনের ব্যাগ।

চাষের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায় এমন দোকানে, মাশরুম প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এবং অনলাইন শপিং সাইট থেকে মাশরুমের বীজ কিনতে পাওয়া যাবে। বাকি উপকরণগুলো সহজে জোগাড় করা যায়।

পদ্ধতি: চাষের জন্য প্রথমে আধ থেকে এক ইঞ্চি মাপের খড় কেটে জীবাণুমুক্ত করার জন্য ফুটন্ত গরম পানিতে প্রায় ২০ মিনিট ফুটিয়ে নিন অথবা ব্লিচিং পাউডার ও চুন মেশানো পরিষ্কার পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। ফোটানো বা ভেজানোর পরে পানি এমনভাবে ঝরিয়ে নেবেন, যাতে হাত দিয়ে খড় চাপলে পানি না পড়ে অথচ হাতে একটা ভেজা ভাব থাকবে। এরপর একটি পলিব্যাগের মধ্যে দু’ইঞ্চি পুরু করে খড় বিছিয়ে তার উপর ব্যাগের ধার ঘেঁষে বীজ ছড়িয়ে দিতে হবে।

বীজের উপরে আবার খড় ও খড়ের উপর আবার বীজ, এইভাবে প্রায় সাত-আটটা স্তর তৈরি করে পলিব্যাগের মুখ কয়েকটা প্যাঁচ দিয়ে কষে বন্ধ করে দিন। খড় বিছানোর সময় প্রতিবার হাত দিয়ে ভালো করে চেপে দিন, যাতে খড়ের ভিতর হাওয়া জমে না থাকে।

এরপরে প্যাকেটে দশ থেকে বারোটা ছোট ছোট ছিদ্র করে তুলা দিয়ে ছিদ্রের মুখ বন্ধ করে দিলে স্বাভাবিক হাওয়া চলাচল বজায় থাকবে, আবার তুলা থাকায় ধুলাও ঢুকতে পারবে না। প্যাকেটটি সাত থেকে দশ দিনের জন্য কোনও অন্ধকার জায়গায় রেখে দিন।

খেয়াল রাখবেন, অন্ধকার হলেও জায়গাটিতে যেন হাওয়া চলাচল করে। জায়গাটি যাতে পরিষ্কার ও পোকা-মাকড়মুক্ত থাকে, সে খেয়ালও রাখতে হবে। মাছি কিন্তু মাশরুম চাষে ভয়ানক ক্ষতি করে।

কয়েক দিনের মধ্যেই সেই প্যাকেটে বীজের জায়গায় সাদা আস্তরণ দেখা দেবে, যাকে মাইসেলিয়াম বলে। অল্প কয়দিনের মধ্যে পুরো ব্যাগটাই মাইসেলিয়ামে ভরে গেলে তুলো সরিয়ে ফেলে আরও কয়েকটি ছিদ্র করে ব্যাগটিকে কিছুটা আলোর মধ্যে রাখতে হবে।

তবে সরাসরি রোদে নয়, ঘরের ভিতর যেটুকু আলোয় বই পড়া যায়, তেমন আলোয়। বাতাসে আর্দ্রতা বুঝে প্রয়োজন মাফিক প্যাকেটের উপরে মাঝে মাঝে জল স্প্রে করবেন। এর কয়েক দিনের মধ্যেই ছিদ্র দিয়ে মাশরুমের পিনহেড উঁকি দেবে। সাধারণত পঁচিশ থেকে তিরিশ দিনের মধ্যে মাশরুম খাওয়ার মতো পরিণত হয়ে যায়। একটি ব্যাগ থেকে তিনবার ফলন পাওয়া যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ক্যাপসিকাম চাষে ৪ লাখ টাকা আয়ের আশা

কম খরচে অধিক লাভ হওযায় ভোলার চরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ। আর বিদেশি এ সবজি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে চাষিদের। সরকারিভাবে ক্যাপসিকাম চাষে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেয়ে ভোলার চরাঞ্চলে এ সবজি চাষের বিপ্লব ঘটানো সম্ভব বলে দাবি করছেন চাষিরা। অন্যদিকে রপ্তানীতেও সুবিধা চান তারা।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ভোলার সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠা মাঝের চর ও দৌলতখান উপজেলার চর মদনপুর ইউনিয়নের চর মদনপুরে প্রায় ৭ থেকে ৮ বছর আগে মনির পাঠান নামে এক কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করে।

প্রথম বছর সফলতা পেয়ে পরবর্তী বছর বাণিজ্যিকভাবে বিদেশি এ সবজির চাষ শুরু করেন। কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় গত ৩ বছরে এ সবজির চাষ ও চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪ গুণ। বর্তমানে ভোলার সদরের মাঝের চর ও দৌলতখানের চর মদনপুরে প্রায় ১৫০ একর জমিতে প্রায় ৩০০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরের ক্যাপসিকাম চাষি মো. তছির ফরাজী জানান, গত ৫ বছর ধরে এ চরে তিনি ক্যাপসিকাম চাষ করছেন। এবছরও তিনি ১ একর জমিতে চাষ করেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১ লাখ টাকা। খেতে প্রচুর ফলন হয়েছে।

যা গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ ফলন হয়েছে। এ পর্যন্ত ৫০ হাজার টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন আর খেতে যে পরিমাণ ফলন আছে তাকে আরো ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি আরো জানান, গত বছর খেতে কিছুটা পোকা-মাকড়ের আক্রমণ থাকলেও এবছর সময় মত কিটনাশক ব্যবহার করায় পোকার আক্রমণ নেই।

দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চর মদনপুরের ক্যাপসিকাম চাষি মো. শেখ ফরিদ জানান, আমার এক বন্ধুর ক্যাপসিকাম চাষ করে অধিকলাভবান হয়েছে। এটা দেখে আমি তার সাথে আলাপ করে গত ৩ বছর ধরে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু করি। ক্যাপসিকাম চাষ করে আমিও লাভবান হয়েছি।

তিনি আরো জানান, এ চরে আমরা আগে ২০থেকে ৩০ জন চাষি ক্যাপসিকাম চাষ করতাম। অধিক লাভজনক হওয়ায় দিন দিনই চাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্যাপসিকাম চাষে কোন লোকসান নেই।

একই এলাকার ক্যাপসিকাম চাষি আব্দুল রব জানান, খেত থেকে আমরা ক্যাপসিকাম তুলে প্যাকেট করি। এরপর লঞ্চে করে ঢাকায় নিয়ে পাইকারী আড়তে বিক্রি করি। যদি ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করা যেতো তাহলে আমাদের কষ্ট কম হতো ও আরো অধিক লাভ করতে পারতাম।

১নং চর মদনপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. আলাউদ্দিন জানান, চর মদনপুর ও কাচিয়ার মাঝের চরে বর্তমানে ১০০ কানি (১৬০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হচ্ছে। কিন্তু সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ বা সহায়তা পাই না। যদি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পাই তাহলে আগামীতে আমরা দুই চরে ৫০০ কানি (৮০০ একর) জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ করব। ভোলার চরাঞ্চলে ক্যাপসিকামের বিপ্লব ঘটনাতে পারবো।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ জানান, ভোলা জেলায় গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১৫ হেক্টর, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৭ হেক্টর এবং ২০২০-২১ অর্থ বছরে অনেক বেড়ে হয়েছে ৭০ হেক্টর। অথাৎ গত তিন বছরের পরিসংখানে বোঝা যায় লাভজনক এ সবজি চাষ ভোলায় দিন দিনই বাড়ছে।

তিনি আরো জানান, ক্যাপসিকাম বীজ বপনের তিন মাসের মধ্যে বিক্রির উপযোগী হয়। আমরা আগামীতে ভোলা জেলায় ক্যাপসিকাম চাষ বাড়াতে কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন ধরণের সহায়তা প্রদান করব। আশা করছি আগামী বছর ক্যাপসিকাম চাষ ৪ গুণ বাড়বে।

এছাড়াও কৃষকরা ভোলার বাজারে ক্যাপসিকাম বিক্রি করলে ভালো দাম পাবে না। কারণ ঢাকায় অনেক পাইকারি আড়ৎ রয়েছে সেখানে বিক্রি করে কৃষকরা অধিক টাকা আয় করতে পারছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com