আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

কলা, বালি, কক্ষপথের জায়গা এবং আরো তিনটি জিনিস বিশ্ব থেকে যে কারণে দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে

 পানির মতো অনেক জরুরি সম্পদ দ্রত কমে যাচ্ছে, কিন্তু অনেক বিষয়ে আমরা সচেতন নই
পানির মতো অনেক জরুরি সম্পদ দ্রত কমে যাচ্ছে, কিন্তু অনেক বিষয়ে আমরা সচেতন নই

ঘাটতি তৈরি হওয়া বা অভাব বোধ করা এমন একটি অনুভূতি, আমাদের যার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

আপনি হয়তো শুনেছেন যে, পানি, তেল বা মৌমাছির মতো নানা জিনিসের ঘাটতি ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু পৃথিবীর আরো অনেক সম্পদ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে অথবা ঠিকমতো ব্যবহার না হওয়ায় বিলুপ্ত হতে বসেছে। কিন্তু এগুলো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে।

এখানে সেরকম ছয়টি বিষয়ের বর্ণনা করা হলো।

১. কক্ষপথে জায়গা কমে যাচ্ছে

কক্ষপথে আবর্জনার সংখ্যা যত বাড়বে, আমাদের দরকারি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সেগুলোর সংঘর্ষ হয়ে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে
কক্ষপথে আবর্জনার সংখ্যা যত বাড়বে, আমাদের দরকারি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সেগুলোর সংঘর্ষ হয়ে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে

২০১৯ সাল পর্যন্ত কক্ষপথে প্রায় পাঁচ লাখ বস্তু পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে।

এর মধ্যে মাত্র ২০০০ আসলে কার্যক্ষম-স্যাটেলাইট, যা আমরা যোগাযোগ, জিপিএস বা আমাদের প্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোর দেখার কাজে ব্যবহৃত হয়।

বাকি জিনিসগুলো রকেট নিক্ষেপণ এবং কক্ষপথে আগের নানা সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া আবর্জনা।

কিন্তু তাতে সমস্যা কোথায়?

এই পাঁচ লাখ বস্তু এখন পর্যন্ত সনাক্ত করা হয়েছে-সেই সঙ্গে প্রতিদিনই কক্ষপথে নতুন নতুন জিনিস নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, কক্ষপথে কোন কিছু পাঠানো ততই সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু কক্ষপথে কোন ট্রাফিক কন্ট্রোলের ব্যবস্থা নেই এবং কক্ষপথে থাকা এসব অপ্রয়োজনীয় এবং উচ্ছিষ্ট জিনিসপত্র পরিষ্কার করারও এখন পর্যন্ত কোন প্রযুক্তি নেই। ফলে এ ধরণের জিনিসে পৃথিবীর চারদিকের কক্ষপথ ক্রমেই ভরে যাচ্ছে।

এগুলোর সংখ্যা যত বাড়বে, কক্ষপথে ব্যস্ততা যত বেশি হবে, তখন এসব বস্তুর সঙ্গে আমাদের দরকারি উপগ্রহগুলোর, যা আমাদের কাজে, নকশায়, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ, আবহাওয়া নজরদারি কাজ করে-সেগুলোর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়ে ক্ষতির ঝুঁকি বাড়বে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত এই সমস্যার কোন সমাধান কারো কাছে নেই।

২. বালি

প্রাকৃতিকভাবে যতটা তৈরি হচ্ছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে আমরা বালু ব্যবহার করছি
প্রাকৃতিকভাবে যতটা তৈরি হচ্ছে, তার চেয়ে দ্রুত গতিতে আমরা বালু ব্যবহার করছি

আপনি হয়তো ভাবতে পারেন, বালির ঘাটতি তৈরি হওয়া কিভাবে সম্ভব যেখানে আমাদের সৈকত আছে, মরুভূমি ভর্তি বালু আছে?

কিন্তু সত্যিটা হলো, বালি হচ্ছে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে বেশি তুলে নেয়া কঠিন পদার্থ- যার সঙ্গে নুড়িও থাকে। জাতিসংঘ বলছে, প্রাকৃতিকভাবে যে হারে বালু তৈরি হয়, আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি হারে এর ব্যবহার করছি।

প্রাত্যহিক নির্মাণ, ভূমি পুনরুদ্ধার, পানি বিশুদ্ধিকরণ, এমনকি কাঁচ ও মোবাইল ফোন তৈরিতে বালি ব্যবহার করা হচ্ছে।

যেহেতু বালি কমে যাওয়ার ফলে ভঙ্গুর ইকো-সিস্টেমকে হুমকিতে ফেলছে, এ কারণে বিশ্বব্যাপী দাবি উঠেছে যে, এই নাজুক পদার্থটির অত্যধিক ব্যবহারের ব্যাপারে নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

৩. হিলিয়াম

 শুধু বেলুনে নয়, চিকিৎসায় দরকারি অনুসঙ্গ হিলিয়াম গ্যাস
শুধু বেলুনে নয়, চিকিৎসায় দরকারি অনুসঙ্গ হিলিয়াম গ্যাস

উৎসব করার সময় যখন বাতাস ভর্তি বেলুন আকাশে ছেড়ে দেন, সেটা নিয়ে খানিকটা অনুশোচনা করার সময় সম্ভবত এসে গেছে।

হিলিয়াম গ্যাস সীমিত একটি সম্পদ, যা মাটির অনেক নীচ থেকে বের করে আনা হয়। আমাদের হাতে আর মাত্র কয়েক দশক সময় রয়েছে, যার মধ্যে এই গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে যাবে।

কোন কোন বিশেষজ্ঞ ধারণা করেন, এই গ্যাসের আর মাত্র ৩০ থেকে ৫০ বছরের মজুদ রয়েছে।

হয়তো মনে হতে পারে, এতে না হয় বাচ্চাদের অনুষ্ঠানের মজা খানিকটা কমে যাবে। কিন্তু এর ক্ষতি আরো বড়।

হিলিয়াম গ্যাস চিকিৎসায় খুব জরুরি একটি অনুসঙ্গ : এমআরআই করতে ব্যবহৃত চুম্বককে এই গ্যাস ঠাণ্ডা রাখে।

এমআরআই হচ্ছে এমন একটি যুগান্তকারী রোগ নির্ণয়কারী ব্যবস্থা, যা ক্যান্সার, মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডের আঘাত নির্ণয় করতে পারে।

৪. কলা

কলা বিহীন ভবিষ্যত কি চিন্তা করতে পারেন?
কলা বিহীন ভবিষ্যত কি চিন্তা করতে পারেন?

বাণিজ্যিক উদ্দেশে যে কলার চাষ করা হয়, তার বেশিরভাগই এখন ‘পানামা ডিজিজ’ নামের একটি ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

আমরা যে কলা খাই, তার বেশিরভাগ ক্যাভেন্ডিস জাতের, যা সরাসরি এসেছে একটি মাত্র গাছ থেকে-বাকিগুলো সব ক্লোন হয়ে এসেছে। ফলে কলা গাছের ভেতর পানামা রোগটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অতীতেও এরকমটা ঘটেছে। ১৯৫০ সালে ঠিক একই রকমের একটি রোগে বিশ্বের কলা চাষ বন্ধ হয়ে যায়। তখন চাষিরা গ্রস মাইকেল জাত থেকে সরে এসে ক্যাভেন্ডিস জাতের কলা চাষ করতে শুরু করেন।

বিজ্ঞানীরা এখন কলার নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন, যা এই ফাঙ্গাস প্রতিরোধ করতে পারবে, সেই সঙ্গে কলার স্বাদও বজায় থাকবে।

৫. মাটি

খাদ্য উৎপাদনে ভূমির ওপরের অংশ জরুরি
খাদ্য উৎপাদনে ভূমির ওপরের অংশ জরুরি

যদিও আমাদের পৃথিবীর মাটি হঠাৎ করে পৃথিবী থেকে কোথাও পড়ে যাবে না, তবে অব্যবস্থাপনার কারণে এটি নিয়েও উদ্বেগের কারণ আছে।

মাটির সবচেয়ে উপরের অংশ থেকে গাছপালা বা উদ্ভিদ তাদের প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ সংগ্রহ করে।

ডব্লিউডব্লিউএফ নামের একটি এনজিও- যারা বিশ্বের প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করে- ধারণা করছে যে, গত ১৫০ বছরে বিশ্বের মোট ভূমির অর্ধেকের মতো উপরের মাটি হারিয়ে গেছে। কিন্তু এক ইঞ্চি জমি প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হতে পাঁচশো বছর লাগে।

নদী বা সাগরের ভাঙ্গন, ব্যাপক মাত্রায় কৃষিকাজ, বনভূমি উজাড় করা এবং বিশ্বের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলেই ওপরের মাটি হারিয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়, যার ওপর বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের বড় অংশটি নির্ভর করে।

৬. ফসফরাস

ফসফরাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে, ভবিষ্যতে হয়তো কাঠি ঘষে আগুন জ্বালানো সহজ হবে না
ফসফরাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে, ভবিষ্যতে হয়তো কাঠি ঘষে আগুন জ্বালানো সহজ হবে না

প্রথমে শোনার পর মনে হতে পারে যে, ফসফরাস কীভাবে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে জরুরি হতে পারে?

কিন্তু মানব ডিএনএ গঠনের জন্য এটা শুধুমাত্র জীববিজ্ঞানের দৃষ্টিতেই যে গুরুত্বপূর্ণ তা নয়, বরং এটি কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত দরকারি একটি সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যার কোন বিকল্প এখনো জানা নেই।

মাটি থেকে এসে উদ্ভিদ এবং পশু বর্জ্যের মাধ্যমে এটি আবার এটি মাটিতে ফিরে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন ফসলের সঙ্গে সঙ্গে ফসফরাস শহর এলাকায় চলে আসছে এবং শেষপর্যন্ত সেটি আমাদের পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে সাগরে গিয়ে মিশছে।

যেভাবে এখন চলছে, তাতে ধারণা করা হচ্ছে যে, আমাদের বর্তমান ফসফরাসের খনিগুলো আর ৩৫ থেকে ৪০০ বছর পর্যন্ত যোগান দিতে পারবে। তারপরে হয়তো আমাদের বেশি ক্ষুধার্ত বোধ করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর
চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

বানরের বুদ্ধিমত্তা মন্দ নয়। মাঝে মাঝেই তাই সংবাদে উঠে আসে বানরের নানাবিধ কর্মকাণ্ড। এই তো কিছুদিন আগেও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে ফল খেতে দেখা যায় বানরের দলকে। ইতোমধ্যেই এমন ঘটনার বহু প্রমাণ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। তবে এবার ঘটলো আরেকটি অবাক করা কাণ্ড।

জানা যায়, মানুষের মতো না হলেও বানরের মস্তিষ্ক বেশ উন্নত। তাই কোন সময় কী করা উচিত, তা এরা জানে। এবার তেমনই একটি ঘটনা ঘটলো ভারতের কর্ণাটকের ডান্ডেলিতে। সেখানকার আহত হওয়া একটি বানর নিজে নিজেই চলে গেল একটি হাসপাতালে।

সে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের দরজায় বসে আছে একটি বানর। বাইরে রোগীদের লম্বা লাইন। বানরটিও অন্যদের মতো লাইন দিয়েছে হাসপাতালের আউটডোরে। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের এক কর্মী এসে বানরটির গায়ে হাত দেন।

হাসপাতালের কর্মী দেখেন, বানরটি আহত। চিকিৎসার জন্যই হাসপাতালে এসেছে। তাই দেরী না করে তিনি বানরটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে ক্ষতগুলো পরিষ্কার করে প্রয়োজনমতো ওষুধ দেন। এরপর হাসপাতাল থেকে চলে যায় বানরটি। কারো কোনো ক্ষতি করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অসংখ্য বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। লাইক এবং শেয়ারের সংখ্যাও কম নয়। নেটিজেনরা আহত বানরের চিকিৎসা করার জন্য হাসপাতালের কর্মীদের প্রশংসা করেছেন।

উপরের ভিডিওটি দেখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

এখন ঘরে ঘরে ফসল তোলার মৌসুম। ইরি-বোরো ধান, ভুট্টাসহ নানাবিধ ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। তাছাড়া জমিতে চাষ হচ্ছে আঁখ, পাট প্রভৃতি। তবে এ মৌসুমে ঝড়-তুফানের আশঙ্কাও প্রচুর। তাই আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেই উপায়গুলো-

১. বিভিন্ন জাতের ধানবীজ সংগ্রহ করে রাখা যেতে পারে।
২. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চারা উৎপাদন করে উঁচু বা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা যায়।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৩. ঝড়ের আগে তোলা যায় এমন দ্রুতবর্ধনশীল ফসল চাষ করা।

৪. আমন ধান নষ্ট হলে এবং পর্যাপ্ত সময় থাকলে পুনরায় চারা উৎপাদন করা।

৫. বিভিন্ন স্থানীয় উন্নত জাত এবং ব্রি ধান-৪৫, নাজিরশাইল ইত্যাদি রোপণ করা যেতে পারে।
৬. দ্রুত বর্ধনশীল শাকসবজি চাষ করে খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করা।
৭. উচ্চ মূল্যের শীতকালীন শাকসবজি আগাম চাষ করা যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৮. ফসল নষ্ট হয়ে গেলে ডাঁটা, লালশাক, গিমাকলমি, ঢেড়শ, পুঁইশাক ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে।
৯. কৃষি জমিতে বাতাসের বেগ প্রতিরোধী গাছ যেমন- তাল, নারিকেল রোপণ করতে হবে।

১০. ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলকে পুনরায় স্থাপন করা।
১১. বনজ ও ফলদ গাছের ছোট চারা প্রধান মূলসহ রোপণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আফ্রিকার বতসোয়ানায় শত শত হাতির মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্য অজানা

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে
বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে

সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো কারো কারো কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে!

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। হাতির মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি।

আফ্রিকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে ডক্টর নিয়াল ম্যাককান জানান, মে মাসের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে।

হাতিগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সেসম্পর্কে কেউ কোন ধারণা দিতে পারছে না। দেশটির সরকার বলছে প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে, যেই রিপোর্ট আরো সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে।

আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা নিয়াল ম্যাককান বিবিসিকে জানায় যে স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মে মাসের শুরুর দিকে ব-দ্বীপের ওপর দিয়ে বিমান ভ্রমণ করার সময় কিছু হাতির মরদেহ চোখে পড়লে বসতোয়ানার সরকারকে বিষয়টি জানায়।

তিনি বলেন, “তারা ঐ অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখে। তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ঐ পরিমাণ হাতির মরদেহ দেখতে পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।”

মৃত হাতি
মৃত হাতি

“ঐ ঘটনার এক মাস পর আরো তদন্ত করে তারা আরো অনেকগুলো মরদেহ দেখতে পান। মোট সংখ্যাটি ৩৫০এর ওপর।”

মি. ম্যাককান বলেন, “যেই বিপুল সংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোন একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।”

বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ফিস’এর খবর অনুযায়ী, এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে চোরাশিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানার সরকার কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেয়া হয়নি।

ড. ম্যাককান বলেন, “সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোন প্রাণী নয়। যদি চোরাশিকারিদের দেয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেতো, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেতো।”

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ড. ম্যাককান। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০’র বেশি হাতি মারা গিয়েছিল।

মৃত হাতি
মৃত হাতি

তবে বিষক্রিয়া বা কোন রোগের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দিতে পারছেন না তারা।

ড. ম্যাককানের মতে যেভাবে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে – অনেকগুলো হাতিকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে – এবং অন্য হাতিগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া কোন ধরণের আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা না যাওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে কোন রোগ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে কিনা, সেই সম্ভাবনাও বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না – বিশেষ করে যখন জানা যাচ্ছে না যে পানির উৎস বা মাটি থেকে কোন ধরনের বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা।

কোভিড-১৯ মহামারি এখন প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে – এই বিষয়টিরও উল্লেখ করেন ড. ম্যাককান।

তিনি বলেন, “এটি পরিবেশগত বিপর্যয় – তবে এটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগেও পরিণত হতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গাছের রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি

আমাদের দেশে তাল, খেজুর, গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। যে রস থেকে আমরা চিনি বা গুড়ের অভাব পূরণ করতে পারি। এছাড়া পাম গাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখন আমাদের জানতে হবে কীভাবে সংগ্রহ করা যায় এগুলো। আসুন জেনে নেই রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি।

তাল গাছের রস

তাল এবং খেজুর রসের গুরুত্ব একই। কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণ খেজুরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষ তাল গাছ থেকে মার্চ-মে মাস রস সংগ্রহ করা যায়। পুরুষ তাল গাছের লম্বা জটা বের হওয়ার পর অর্ধেক জটার গোড়া কেটে অবশিষ্ট জটাগুলো চট বা শক্ত কাপড় দিয়ে ৬-৭ দিন ভালো করে ঘঁষে নরম করতে হয়। তারপর জটার আবরণ তুলে মাথা কেটে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। স্ত্রী তাল গাছ থেকে এপ্রিল-জুন মাস রস সংগ্রহ করা যায়। স্ত্রী তাল গাছের পুষ্পমঞ্জুরি বের হওয়ার ১০-১২ দিন পর কাঠের দণ্ড দ্বারা কয়েক দিন পুষ্পমঞ্জুরিকে পিটিয়ে হালকাভাবে থেতলে দিতে হয়। এরপর পুষ্পমঞ্জুরির মাথা কেটে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি তাল গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৬০-৫০০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে ৬০-৭০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

খেজুর গাছের রস

খেজুর ফলের চেয়ে রস সংগ্রহের গুরুত্ব বেশি। নভেম্বর মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। ৫-৬ বছর বয়সের গাছের উপরে বা মাথার দিকে ধারালো দা দিয়ে এক পাশে ২৪-২৫ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা স্থান ঠ আকৃতি করে সুন্দরভাবে কাটতে হয়। তারপর ৪-৫ দিন শুকানোর পর কর্তিত স্থানে আবার ধারালো দা দিয়ে পাতলা করে চেঁচে দিয়ে নিচের দিকে বাঁশের চুঙ্গি লাগিয়ে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ২২০-২৫০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

গোলপাতার রস

তাল ও খেজুর গাছের মতোই গোলপাতা গাছ থেকেও বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রস সংগ্রহ করা যায়। মাত্র ৩০টি গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ কেজি গুড় উৎপাদন করা যায়। গুড় প্রতি কেজি একশ’ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। 

পাম তেল

বাংলাদেশে পামওয়েলের চাষ প্রাথমিক পর্যায়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে এর চাষ শুরু হয়েছে। পাম গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে গরম পানিতে সেদ্ধ করতে হয়। সেদ্ধ পাম ফলগুলো পরিষ্কার পাত্রের মধ্যে রেখে দুই হাতে চাপ প্রয়োগ করলে তেল বের হয়ে পাত্রের মধ্যে জমা হবে। এরপর ছোবলা ও বীজ আলাদা করে ছাঁকনি দ্বারা তেলগুলো ছেঁকে নিতে হবে। তেলের সঙ্গে কিছু পরিমাণ পানি মিশ্রিত থাকে। তাই চুলায় জ্বাল দিলে পানি বাষ্পাকারে শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিষ্কার পাম তেল পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা
নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দু’পাশে গাছের সারির সৌন্দর্য পথচারী ও যাত্রীদের নজর কাড়ছে। মেজর এমএ জলিল সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে জয়শ্রী (আটিপাড়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত) ৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় ১১ হাজার গাছ রোপণ করে বনবিভাগ।

দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কে গাছের সারি ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জনপদটি এক অনন্য দৃশ্য ধারণ করে। নান্দনিক এ অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ক্ষণিকের জন্য হলেও গাড়ি থামান। এছাড়া গাছের সারির কারণে প্রখর রোদে পথচারী ও কৃষকদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ২৬ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে মেহেগনি, রেইনট্রি, আকাশমণি, শিশু, চাম্বুল, ইপিল-ইপিল, পিকরাশি, তেলসুর, পাহাড়ি নিম, বট, পাপড়ি, আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জলপাই, আমলকি, বিলাতি গাব, অর্জুন, উলটকম্বল, লটবিপল, দেশি নিম, শিমুল, ডেউয়া, বকুল, কাঞ্চন, তেুঁতলসহ ৫৫০টি তালগাছ রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্য থেকে ১১০ জন উপকারভোগী সদস্য রয়েছে।

বৃক্ষরোপণকালে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় আড়াই বছর প্রতি ১ হাজার চারার পরিচর্যা ও পাহারার জন্য ১ জন করে মোট ১১ জন পাহারাদারকে ৬ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫৫ জন উপকারভোগীকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকল্প এলাকার আশপাশের ৬টি গ্রামের ১১০ জন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরণ নামক এনজিও’র মাধ্যমে বিকল্প জীবিকায়নের জন্য সবজি চাষ, ফলের চারা রোপণ, হাঁস-মুরগি পালন, সঞ্চয় জমা করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় উপকারভোগী সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাছগুলো এখন বেশ বড় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বনবিভাগের সচিব, প্রধান বনরক্ষক, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা স্থানটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক বনায়নের গাছ কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত অর্থ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com