আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনায় মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা গভীর হচ্ছে

স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকরিজীবী। মে মাসের মাঝামাঝি স্ত্রীর করোনা শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করানো হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে পড়ে। সংক্রমণের ভয়ে স্বামী এক দিনের জন্যও স্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে যেতে পারেননি। উদ্বিগ্ন স্বামী বাসাতেই থাকতেন। একসময় স্বামীর করোনা শনাক্ত হয়। হাসপাতালে স্ত্রী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। দুজন করোনামুক্ত হলেও পরিবারটির বিপর্যয় কাটেনি। আত্মীয়রা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন কি না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।

মানসিক বিপর্যয় শুধু এই দম্পতির ক্ষেত্রে দেখা গেছে তা নয়। চিকিৎসক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, বিচারক, রিকশাচালক, দিনমজুর, গৃহিণী, ছাত্র-শিক্ষক সব পেশা-শ্রেণির মানুষের ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছে মহামারি। গণমাধ্যমে এসেছে, সন্তানের আক্রান্তের খবরে মানসিক চাপে হঠাৎই বাবার মৃত্যু হয়েছে নারায়ণগঞ্জে। গণমাধ্যমে প্রচার পেলেও এমন ঘটনা কমাতে সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে, তা জানা যাচ্ছে না। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে হয়তো দুই লাখ মানুষ। কিন্তু সারা দেশের মানুষ মানসিক চাপে আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মহামারির প্রভাব ইতিমধ্যে মারাত্মক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা, সংক্রমণভীতি, পরিবারের সদস্য হারানোর দুঃখ-কষ্ট—এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপার্জন ও চাকরি হারানোর ভয়।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, মহামারির আগের অবস্থার তুলনায় এপ্রিলে দেখা গেছে ইথিওপিয়ার মানুষের মধ্যে বিষণ্নতা তিন গুণ বেড়েছে। কানাডায় ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মদ্য পান বেড়েছে ২০ শতাংশ। যুক্তরাজ্যে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারীদের ৩২ শতাংশ জানিয়েছে মহামারি মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি খারাপ করেছে। ইতালি ও স্পেনে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে।

দেশের পরিস্থিতি

দেশে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার তুলনায় চিকিৎসার আয়োজন ও চিকিৎসক কম। মহামারির কারণে মানসিক চিকিৎসাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের বহির্বিভাগে মহামারি শুরুর আগে দৈনিক গড়ে ৩০০ রোগী চিকিৎসার জন্য আসতেন। এখন তা অর্ধেকের কম বলে জানিয়েছে ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও একই প্রতিষ্ঠানের সহযোগী অধ্যাপক মেখলা সরকার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর ও তাঁর সহকর্মীদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও রোগী কম আসছে।

একদিকে মানসিক রোগীরা সেবা নেওয়া থেকে বিরত থাকছে, অন্যদিকে করোনা নতুন মানসিক সমস্যা তৈরি করছে। তবে এ নিয়ে একাধিক গবেষণা শুরু হলেও তার চূড়ান্ত ফলাফল এখনো প্রকাশ পায়নি। এ রকম একাধিক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলের উদ্ধৃতি দিয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার প্রথম আলোকে বলেন, শহরের শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির মধ্যে করা অনলাইন জরিপে দেখা গেছে, করোনার কারণে ৪০ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপে আছে। এই চাপের কারণে মেজাজ ঠিক থাকে না, উদ্বেগ বাড়ে, বিষণ্নতা বাড়ে, খাওয়ায় রুচি থাকে না, কাজে মনোযোগ থাকে না।

>

আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ। করোনা মানসিক চাপ ফেলেছে সারা দেশের মানুষের ওপর। অনেকে এই চাপে বিপর্যস্ত।

মনোরোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার প্রভাব বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ওপর ভিন্ন ভিন্নভাবে পড়ছে। বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘যার ভাতের সংস্থান আছে তিনি হয়তো করোনার কারণে ঘুম না হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যার দারিদ্র্য বেড়েছে তিনি ভাতের চিন্তায় পড়েছেন।’

মহামারি শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষকে নতুন বাস্তবতা, নতুন মানসিক সংকটের মধ্যে ফেলেছে। এই বাস্তবতায় অফিসের কাজ করতে হচ্ছে ঘরে বসে। শিশুরা স্কুল করছে বাড়িতে। পরিবার সদস্য, প্রিয়জন, বন্ধু বা সহকর্মীদের সঙ্গে শারীরিকভাবে মেলামেশা করা থেকে মানুষ দূরে থাকছে সংক্রমণের ভয়ে। এই ভয় দূর করে নতুন ব্যবস্থায় সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরে অনেকে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছেন বলে ধারণা করছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

গণমাধ্যমে এসেছে, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ভান্ডারগাঁও গ্রামের মুকুন্দ বড়ুয়া ৩০ জুন রাতে কিশোরী দুই মেয়েকে মেরে ভোরে নিজে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। এক দিন পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। বিপত্নীক মুকুন্দ বড়ুয়া খুলনার একটি লাইটার জাহাজে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। মার্চে লকডাউন শুরু হলে তিনি খুলনা থেকে চট্টগ্রাম চলে যান। চাকরি চলে যাওয়ার কারণে এটি ঘটেছে বলে আত্মীয়দের ধারণা।

অন্যদিকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মেখলা সরকার বলেন, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি সরাসরি মানসিক চাপে পড়ছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির কাছের মানুষও মানসিক চাপে পড়ছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিদের যাঁরা চিকিৎসা দিচ্ছেন, তাঁদের ওপরও চাপ কম নয়।

জেনেশুনে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসতে হচ্ছে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৫ হাজার ৫৪৪ জন সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক ১ হাজার ৯৪৬ জন, নার্স ১ হাজার ৫০২ জন এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী ২ হাজার ৯৬ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৮০ জনের।

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নারী চিকিৎসক প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘কখন কীভাবে সংক্রমণ ঘটছে, তা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে না। পিপিই (ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী) পরা থাকলেও সারাক্ষণ সংক্রমণের ভয়ে থাকি। আমার মাধ্যমে বাসায় বাচ্চারাও আক্রান্ত হয় কি না, সেই ভয়ে থাকি। ২৪ ঘণ্টা যেন মাথা ধরা অবস্থায় থাকে।’

মহামারি মোকাবিলার সামনের সারির কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তথ্য দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তাতে দেখা যাচ্ছে, চীনে করোনা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে ৫০ শতাংশ বিষণ্নতার রোগে, ৪৫ শতাংশ উদ্বেগজনিত রোগে এবং ৩৪ শতাংশ ঘুম না আসার সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আর কানাডার স্বাস্থ্যকর্মীদের ৪৭ শতাংশের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার প্রয়োজন হয়েছে।

পদক্ষেপ জরুরি

মহামারির মতো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাটিও বৈশ্বিক। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে: মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা, উন্নতি ও যত্নে গোটা সমাজকে যুক্ত করতে হবে; মানসিক স্বাস্থ্যের জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকতে হবে; করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চিত ব্যবস্থা করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে নীতিগত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশিকাও তৈরি করেছে। এই সময়ে শিশু মনের যত্ন মা-বাবা কীভাবে নেবেন বা মানসিক স্বাস্থ্যসংকটে ভোগা মানুষ কী করবেন, তার নির্দেশনা তারা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও করোনাকালে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত মাসের ২৭ তারিখে এ বিষয়ে ১১ সদস্যের একটি কমিটি করেছে। কমিটি সূত্র জানায়, তারা গতকাল রোববার পর্যন্ত আটটি সভা করেছে। কমিটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির খতিয়ান তৈরি করেছে, পজিটিভ রোগীদের রিপোর্ট দেওয়ার সময় মুঠোফোনে কাউন্সেলিং করার সিদ্ধান্ত হয়েছে, চিকিৎসকদের জন্য নির্দেশিকা তৈরির কাজ চলছে।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি ও করোনাবিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ সহিদুল্লা প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে সৃষ্ট মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার বাস্তব পরিস্থিতি জানতে দ্রুত একটি গবেষণা হওয়া দরকার। এ ছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গণমাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি পেশাজীবীদের নিয়ে একটি মঞ্চ গড়ে তোলা দরকার। এই মঞ্চ থেকে টেলিফোনের মাধ্যমে যেন বিনা মূল্যে ২৪ ঘণ্টা সেবা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ

বিদায়ের জন্য বন্ধুর মৃত্যুর তারিখকেই বেছে নিলেন ম্যারাডোনা!

বয়সের পার্থক্য যাই হোক, দু’জনের বন্ধুত্বের কথা জানা ছিল সবার। আর্জেন্টিনার দিয়েগো আরমান্ডো ম্যারাডোনা আর কিউবার এক নায়ক ফিদেল ক্যাস্ত্রো- দু’জন ছিলেন একে অপরের জানের দোস্ত। ফিদেল ক্যাস্ত্রোর মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন ম্যারাডোনা।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, নিজের সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর দিনটিকেই নিজের বিদায়ের জন্য বেছে নিলেন দিয়েগো ম্যারডোনা! ২০১৬ সালের ২৫ নভেম্বর, ৯০ বছর বয়সে কিউবার রাজধানী হাভানায় মৃত্যুবরণ করেন ফিদেল ক্যাস্ত্রো। ঠিক একই দিন, চার বছর পর নিজের বাড়ি, বুয়েন্স আয়ার্সের তিগ্রেতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন ফুটবলের অবিসংবাধিত সম্রাট দিয়েগো ম্যারাডোনা।

দুই বিশ্ব সমাজতন্ত্র আর পুঁজিতন্ত্র। লড়াই চিরকালীন। এই লড়ইয়ের এক অধিনায়ক ফিদেল কাস্ত্রো, অপরজন ম্যারাডোনা ছিলেন তার সহযোদ্ধা। মনেপ্রাণে ফিদেল অনুরাগী- ফিদেলিস্তা। সময়ের কী আশ্চর্য সমাপতন, সেই ২৫ নভেম্বর প্রিয় ‘কমরেড’ ফিদেল মৃত্যু বরণ করেছিলেন। ম্যারাডোনাও বেছে নিলেন প্রিয় বন্ধুর মৃত্যুর দিনটিকে।

কিউবা পুরোপুরি কড়া কমিউনিস্ট শাসনের দেশ। যদিও সেখানে বারবার সিআইএ ষড়যন্ত্র পাকিয়েছিলো ফিদেলকে পরাজিত করতে। উল্টো সিআইএ পরাজিত হয়েছে। আর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনায় বারবার সিআইএ ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটিয়েছে, সমাজতন্ত্র হটিয়ে দিয়ে তারা কায়েক করেছে পুঁজিতন্ত্রের শাসন।

ম্যারডোনার ফিদেল কাস্ত্রোর অনুরাগী হওয়ার মূলত কারণ, তার স্বপ্ন পুরুষ যে তারই দেশের কিংবদন্তি কমিউনিস্ট নেতা বিশ্বজনীন বিপ্লবী বলে পরিচিত চে গুয়েভারা!

সেই চে গুয়েভারা কিন্তু ছিলেন কিউবায় বিপ্লবী সমাজতান্ত্রিক সরকার গড়ার অন্যতম রূপকার- ফিদেল কাস্ত্রোর সহযোদ্ধা। কিশোর বয়স থেকেই ম্যারাডোনা ছিলেন গুয়েভারার খাঁটি সৈনিক। কোনো অন্ধ আবেগ নয় রীতিমতো সমাজতান্ত্রিক সমর্থন থেকেই চে’র উল্কি হাতে একে পুঁজিবাদি দুনিয়াকে কটাক্ষ করে গেছেন দশকের পর দশক। বারবার চলে যান কিউবায়। ছিলেন বন্ধুর সান্নিধ্যে।

কিংবদন্তি ফিদেল কাস্ত্রোর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল নিবিড়। সেই নিবিড়তা ম্যারাডোনাকে ক্রমশ পুঁজিবাদি শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদি করে তুলেছিল। একই সঙ্গে পায়ের জাদুতে বিশ্ব কাঁপিয়ে স্বপ্নের ফুটবল উপহার দিয়েছেন তিনি।

তবে বিতর্কও কম নেই। মাদকাসক্ত হয়েছেন। যদিও অভিযোগ রয়েছে, এই আসক্তির পেছনেও সিআইএ ষড়যন্ত্র কাজ করেছিল। কিন্তু বিতর্ক সরিয়ে ম্যারাডোনা বারবার মাঠে এসেছেন। বল নিয়ে শিশুর মতো হেসেছেন।

এখন সবই অতীত। কিউবা ছিল তার দ্বিতীয় দেশ। আবার দক্ষিণ আমেরিকারই সমাজতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলার সরকারে থাকা হুগো শাভেজ বা পরবর্তীতে নিকোলাস মাদুরোর মতো নেতৃত্বের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে তার।

মূলতঃ যেখানেই সমাজতন্ত্র কায়েম হয়েছে, সেখানেই স্বচ্ছন্দ ম্যারাডোনা। যদিও খেলোয়াড়ি জীবন কেটেছে ইতালির মতো চরম পুঁজিতান্ত্রিক দেশের ক্লাব নেপোলি তে; কিন্তু ইতালিকে তেমন গ্রহণ করেননি তিনি। বরং ফুরসত পেলেই কমরেড ফিদেল কাস্ত্রো, কমরেড রাউল কাস্ত্রোর দেশ কিউবা ছিল তার গন্তব্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বাঁশের যত পুষ্টিগুণ

চীনারা ঠিকই এর মর্ম জানে। তারা বাঁশের কোড়লকে “স্বাস্থ্যকর খাবারের রাজা” বলে জানে। দৈহিক সুস্থতায় এর কোনো জুড়ি নেই

সবচেয়ে লম্বা ঘাস, দ্রুত বর্ধনশীল চিরহরিৎ উদ্ভিদ হলো বাঁশ। গৃহস্থালির কাজে বাঁশের ব্যবহার সবারই জানা। কিন্তু সবার হয়ত জানা নেই যে, এটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং উপকারী খাবারও? বাঁশের কোড়ল পাহাড়ি আদিবাসীদের একটি অতি পরিচিত ও উপাদেয় খাদ্য।

সদ্য অঙ্কুরিত বাঁশের চারাকে কোড়ল বলা হয়। হালকা হলুদ এবং সবুজের মিশ্রণে এটি দেখতেও বেশ। কোড়ল খুব নরম ও আর্দ্র। বাংলাদেশে সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি আদিবাসীরা এটি বেশি খেয়ে থাকেন। তবে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও হিমাচল প্রদেশ, নেপাল, ভুটান, চীন, কোরিয়া ও জাপানে বাঁশের কোড়ল খুব জনপ্রিয়।            

কোড়লের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমরা অতটা পরিচিত না হলেও চীনারা ঠিকই এর মর্ম জানে। তারা বাঁশের কোড়লকে “স্বাস্থ্যকর খাবারের রাজা” বলে জানে। দৈহিক সুস্থতায় এর কোনো জুড়ি নেই।

বাঁশের পুষ্টিমান:

পানি: ৮৮ – ৯৩%

প্রোটিন: ১.৪ – ৫%

চিনি: ০.৭৮ – ৫.৮৬%

চর্বি : ০.২৫ – ০.৯৫%

সেলুলোজ: ০.৬০ – ১.৩৪%

খনিজ পদার্থ: ১.১%

এছাড়াও আছে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন।  

বাঁশের কোড়লের উপকারিতা:

হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: মানবদেহে হৃদরোগের অন্যতম কারণ রক্তে কোলেস্টেরলের অত্যাধিক মাত্রা। তবে নিয়মিত বাঁশের কোড়ল খেলে দেহে কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় থাকে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: কচি বাঁশ দেহে উচ্চরক্তচাপ কমিয়ে আনে। এর পাশাপাশি এটি ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বাঁশের কোড়ল দারুণ কার্যকরী একটি খাবার। যারা এ সমস্যায় ভুগছেন তারা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এটা রাখুন।

এছাড়াও কোড়ল খেলে ডায়াবেটিস, হাঁপানী, মৃগী রোগ, মূর্ছা ও তীব্র জ্বরের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এর কোনো খারাপ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই নিশ্চিন্তে খেতে পারেন এই উদ্ভিদ।          

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ফল খাওয়ার সঠিক সময়

রাতে খাওয়ার পর ফল না খাওয়াই ভালো

ফল খাওয়া নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলে থাকেন। একেকজনের মত এক্ষেত্রে একেকরকম। অনেকে বলেন, খালি পেটে পানি, আর ভরা পেটে ফল খেতে হয়। অনেকে আবার বলেন, সন্ধ্যার আগেই ফল খেয়ে নেওয়া উচিত। এত মতের মধ্যে কোনটা মানবো আমরা? জেনে নেওয়া যাক পুষ্টিবিদদের পরামর্শ থেকে। 

পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের কথায়, ফল হচ্ছে প্রচুর প্রাকৃতিক ভিটামিন, মিনারেল আর ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার। প্লেটের অর্ধেকটা যদি ফল, আর অর্ধেকটা সবজিতে ভরা থাকে তাহলে এমনিতেই পেট ভরবে। তাই ভরা পেটে না খালি পেটে ফল খাবেন সেই দ্বন্দ্বও থাকবে না।

এছাড়া পুষ্টিবিজ্ঞানীদরা দাবি করেন, খাওয়ার আধঘণ্টা আগে যদি কয়েক টুকরো ফল খেয়ে নেওয়া যায় তাহলে বেশি খাওয়ার সমস্যা থেকে আপনি রেহাই পাবেন। বাঁচবেন স্থূলতার সমস্যা থেকেও। তবে যেসব ফলে শর্করা বা চিনির মাত্রা বেশি, সেগুলো দিনের মূল খাবারের সময় গ্রহণ করা উচিৎ নয়। এতে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। সবসময়েই ফল ও মূল খাবার খাওয়ার মধ্যে কমপক্ষে আধঘণ্টা ব্যবধান রাখা উচিৎ। নাহলে খাবার বা ফল, কোনোটাই হজম হবে না। কারণ, ফল নিজেই একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ খাবার।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে একগ্লাস পানি খাওয়ার পর ফল খেলে শরীর দূষণমুক্ত হবে, হজম ক্ষমতা বাড়বে, আরও বেশি পুষ্টি পাবেন আপনি। তবে সাধারণত, সকালের নাস্তা আর দুপুরের খাওয়ার মাঝের সময়ে ফল খাওয়া যেতে পারে। সেইসঙ্গে বিকাল বা সন্ধ্যায় স্ন্যাকস হিসেবেও ফল বেছে নেওয়া যেতে পারে। 

এছাড়া খাওয়ার আগে কয়েক টুকরো ফল খেলে পাকস্থলীতে ফাইবার যায়, যা অন্য খাবার হজম করতে সাহায্য করে। আবার পেটও ভর্তি রাখে। বেশি ফাইবারযুক্ত ফল হচ্ছে আপেল, নাশপাতি, কলা।

তবে রাতে খাওয়ার পর ফল না খাওয়াই ভালো। কারণ, ফলের মধ্যে থাকা চিনি শরীরে বাড়তি এনার্জি এনে ঘুমের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। তাই ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত ঘণ্টা দুই আগে ফল খেতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমালে কী হয়?

ঘুমানোর সময় আমরা শরীরে লেপটিন নামের একটি হরমোন তৈরি করি

সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুমানো আসলে কোনো বিলাসিতা নয়, বরং স্বাস্থ্যকর রুটিনের একটি অপরিহার্য অংশ। অপর্যাপ্ত ঘুম আপনার মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে মারাত্বকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। চলুন দেখে নেওয়া যাক আপনি যদি কম ঘুমান তাহলে কী ঘটে থাকে শরীরে। 

দ্রুত শিখতে পারেন নতুন কিছু

পর্যাপ্ত ঘুমের পর সকালে আপনার দেহ ও মন দুটিই বেশ ফুরফুরে থাকে। আপনি যখন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন তা খুব দ্রুতই আয়ত্ত করতে সক্ষম হন। বিজ্ঞানিরা বলছেন, ঘুমের মধ্যে আমরা নতুন তথ্য প্রক্রিয়া করি। আপনি যদি পর্যাপ্ত না ঘুমান, তাহলে এটি আপনা্র ওপর খুব খারাপ প্রভাব ফেলে। যার কারণে নতুন কোনো দক্ষতায় মনোনিবেশ করতে অথবা নতুন কিছু মনে রাখার ক্ষেত্রে আপানাকে বেশ বেগ পেতে হতে পারে। 

সচেতনতা বৃদ্ধি করে

নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমের ফলে আপনার মনোযোগ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা আরও বেশি সক্রিয়ভাবে কাজ করে। এটি স্পষ্টভাবে কোনো চিন্তা করতে বা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে। 

ওজন নিয়ন্ত্রণ করে 

সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে, ঘুমানোর সময় আমরা শরীরে লেপটিন নামের একটি হরমোন তৈরি করি। এই হরমোন আমাদের শরীরকে বলে দেয়, এই মূহুর্তে আমাদের কতোটুকু খাবার গ্রহণের প্রয়োজন। আমরা যখন পর্যাপ্ত না ঘুমাই, তখন এই হরমোন তৈরির প্রক্রিয়া ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং আমাদের ক্ষুধা বাড়িয়ে তোলে। ফলে আমরা মাত্রাতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করি এবং আমাদের ওজন বেড়ে যেতে থাকে। 

নিরাপদ ড্রাইভ করা 

দেখা গেছে, চালকদের মধ্যে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব রয়েছে তারা অ্যালকোহল গ্রহণকারী চালকদের মতো আচরণ করছেন। অপরদিকে যারা আট ঘণ্টা ঘুমিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, তারা বেশ নিরাপদে রয়েছেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

রক্তে চর্বি জমতে দিলেই হয় স্ট্রোক

বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট নামে পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের চর্বি পরিমাপ করাতে হবে

যুগের সাথে পাল্লা দিয়ে যেন সমান হারে বেড়েই চলছে অসুখ-বিসুখ। তার ওপর আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষই তেমন স্বাস্থ্য সচেতন নন। কিন্তু ক্ষতিকর ও ভয়াবহ কিছু রোগে আশঙ্কা থাকে প্রানহানির। এসব রোগের মধ্য অন্যতম স্ট্রোক। 

স্ট্রোকের কারণ হলো রক্তে জমে থাকা চর্বি। আর রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে গেলেই তা চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহণ এবং ব্যায়াম না করা। 

চিকিৎসকরা বলেন, রক্তে চর্বি বেশি হলে ধমনীর গায়ে সেগুলো জমা হতে থাকে। ফলে ধমনী ক্রমশঃই সরু হতে থাকে। ধমনী সরু হয়ে গেলে রক্তের সঞ্চালনও সীমিত হতে থাকে। কখনো কখনো রক্ত সঞ্চালন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই বন্ধ হওয়া যদি হার্টের করোনারি ধমনীতে হয় তখন দেখা দেয় হার্ট অ্যাটাক। হার্ট অ্যাটাকের কারণে বিভিন্ন জটিলতাসহ তাৎক্ষণিক মৃত্যুও ঘটতে পারে। আর যদি মস্তিষ্কের মধ্যে এই ঘটনা হয় তবে তাকে বলা হয় স্ট্রোক। যেহেতু চর্বির আধিক্যের কারণেই বিভিন্ন জটিলতা ঘটে তাই চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ এবং শরীরের বাড়তি চর্বির ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।

এক্ষেত্রে সমাধান হতে পারে প্রচুর টাটকা ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া। কমিয়ে দিতে হবে তেলে ভাজা খাবার। বছরে অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট নামে পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তের চর্বি পরিমাপ করাতে হবে। 

আমাদের রক্তে বিভিন্ন রকমের চর্বি থাকে। এর মধ্যে আছে ট্রাইগ্লিসারাইড, কোলেস্টেরল, এলডিএল ও এইচডিএল। রক্তে এসবের নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। প্রতি বছর পরীক্ষা করে দেখতে হবে এই মাত্রা স্বাভাবিক আছে কি না। এগুলোর আদর্শ মাত্রা হচ্ছে   ট্রাইগ্লিসারাইড ১৫০ মিলি গ্রামের কম,  কোলেস্টেরল ২০০ মিলি গ্রামের কম, এলডিএল ১০০ মিলি গ্রামের কম এবং এইচডিএল ৪০ মিলিগ্রামের বেশি।

মাত্রাধিক্য দেখা দিলেই স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, হৃদরাগ, ফ্যাটি লিভারসহ নানারকম রোগ দেখা যায়। তাই সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আবার হোটেল-রেস্টুরেন্টের খাবার, দাওয়াতের খাবারে প্রচুর তেল চর্বি থাকে। এসব বেশি খেলে রক্তের চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

এছাড়াও অনেক পরিবারে বংশানুক্রমিকভাবে বাড়তে থাকে চর্বির মাত্রা। মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খেলেও রক্তে চর্বি বেড়ে যায়। স্ট্রোক এবং হৃদেরাগের হাত থেকে বাঁচতে অবশ্যই চর্বি গ্রহণ কমাতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনার আশংকা বাড়তেই থাকে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com