আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস: আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে?

করোনাভাইরাস: আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে?
করোনাভাইরাস: আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে?

গত বছরের ডিসেম্বরে করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রথম জানা গেলেও এরই মধ্যে এই ভাইরাস এবং এর ফলে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর মহামারি সামাল দিতে হচ্ছে বিশ্বকে।

অধিকাংশ মানুষের জন্যই এই রোগটি খুব ভয়াবহ নয়, কিন্তু অনেকেই মারা যায় এই রোগে।

ভাইরাসটি কীভাবে দেহে আক্রমণ করে, কেন করে, কেনই বা কিছু মানুষ এই রোগে মারা যায়?

‘ইনকিউবেশন’ বা প্রাথমিক লালনকাল

এই সময়ে ভাইরাসটি নিজেকে ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত করে।

আপনার শরীর গঠন করা কোষগুলোর ভেতরে প্রবেশ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়ার মাধ্যমে কাজ করে ভাইরাস।

 ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে (ফাইল ফটো)
ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে (ফাইল ফটো)

করোনাভাইরাস, যার আনুষ্ঠানিক নাম সার্স-সিওভি-২, আপনার নিশ্বাসের সাথে আপনার দেহে প্রবেশ করতে পারে (আশেপাশে কেউ হাঁচি বা কাশি দিলে) বা ভাইরাস সংক্রমিত কোনো জায়গায় হাত দেয়ার পর আপনার মুখে হাত দিলে।

শুরুতে এটি আপনার গলা, শ্বাসনালীগুলো এবং ফুসফুসের কোষে আঘাত করে এবং সেসব জায়গায় করোনার কারখানা তৈরি করে। পরে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় নতুন ভাইরাস ছড়িয়ে দেয় এবং আরো কোষকে আক্রান্ত করে।

এই শুরুর সময়টাতে আপনি অসুস্থ হবেন না এবং কিছু মানুষের মধ্যে হয়তো উপসর্গও দেখা দেবে না।

ইনকিউবেশনের সময়ের – প্রথম সংক্রমণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়ার মধ্যবর্তী সময় – স্থায়িত্ব একেকজনের জন্য একেকরকম হয়, কিন্তু গড়ে তা পাঁচদিন।

নিরীহ অসুখ

অধিকাংশ মানুষের অভিজ্ঞতায় করোনাভাইরাস নিরীহ অসুখই মনে হবে।

দশজনে আটজন মানুষের জন্যই কোভিড-১৯ একটি নিরীহ সংক্রমণ এবং এর প্রধান উপসর্গ কাশি ও জ্বর।

শরীরে ব্যাথা, গলা ব্যাথা এবং মাথাব্যাথাও হতে পারে, তবে হবেই এমন কোনো কথা নেই।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করার ফলে গায়ে জ্বর আসে।

রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটিকে শত্রুভাবাপন্ন একটি ভাইরাস হিসেবে শনাক্ত করে এবং বাকি শরীরে সাইটোকাইনস নামক কেমিক্যাল পাঠিয়ে বুঝিয়ে দেয় কিছু একটা ঠিক নেই।

এর কারণে শরীরে ব্যাথা ও জ্বরের মত উপসর্গ দেখা দেয়।

করোনাভাইরাস আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে
করোনাভাইরাস আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে

প্রাথমিকভাবে করোনাভাইরাসের কারণে শুষ্ক কাশি হয়। কোষগুলো ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ার কারণে অস্বস্তিতে পড়ার কারণে সম্ভবত শুকনো কাশি হয়ে থাকে।

তবে অনেকের কাশির সাথেই একটা পর্যায়ে থুতু বা কফ বের হওয়া শুরু করবে যার মধ্যে ভাইরাসের প্রভাবে মৃত ফুসফুসের কোষগুলোও থাকবে।

এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম, প্রচুর তরল পান করা এবং প্যারাসিটামল খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়ে থাকে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজন হয় না।

এই ধাপটি এক সপ্তাহের মত স্থায়ী হয়। অধিকাংশ মানুষই এই ধাপের মধ্যেই আরোগ্য লাভ করে কারণ ততদিনে তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসের সাথে লড়াই করে সেটিকে প্রতিহত করে ফেলে।

তবে কিছু কিছু মানুষের মধ্যে কোভিড-১৯ এর আরো ক্ষতিকর একটি সংষ্করণ তৈরি হয়।

এই রোগ সম্পর্কে হওয়া নতুন গবেষণায় ধারণা প্রকাশ করা হয়েছে যে রোগটির এই ধাপে আক্রান্তদের সর্দিও লাগতে পারে।

ভয়াবহ ব্যাধি

এই ধাপের পর যদি রোগ অব্যাহত থাকে, তা হবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভাইরাসটি সম্পর্কে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়াশীল হওয়ায়।

যেই কেমিক্যালগুলো শরীরে বার্তা পাঠাতে থাকে, সেগুলোর প্রতিক্রিয়া তখন শরীরের বিভিন্ন জায়গায় প্রদাহ হয়।

লন্ডনের কিংস কলেজের ডক্টর নাথালি ম্যাকডরমেট বলেন, “রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় ভাইরাসটি। এর ফলে শরীর অতিরিক্ত মাত্রায় ফুলে যায় শুরু হয়। কীভাবে এটি ঘটছে, তা আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না।”

ফুসফুসে প্রদাহ তৈরি হওয়াকে নিউমোনিয়া বলে।

করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে
করোনাভাইরাস: বিস্তার ঠেকাতে নতুন অ্যাপ কীভাবে কাজ করবে

আপনার মুখ দিয়ে প্রবেশ করে শ্বাসনালী দিয়ে ফুসফুসের ছোট টিউবগুলোয় যদি যাওয়া যেত, তাহলে আপনি হয়তো শেষপর্যন্ত ক্ষুদ্র আকারের বায়ুথলিতে গিয়ে পৌঁছাতেন।

এই থলিগুলোতেই রক্তে অক্সিজেন যায় এবং কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়। কিন্তু নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষুদ্র থলিগুলো পানি দিয়ে ভর্তি হতে শুরু করে এবং ফলস্বরুপ শ্বাস নিতে অস্বস্তি তৈরি করা, শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যার মত উপসর্গ তৈরি করে।

কিছু মানুষের শ্বাস নিতে ভেন্টিলেটরও প্রয়োজন হয়।

চীন থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী, এই ধাপে ১৪% মানুষ আক্রান্ত হয়।

 করোনাভাইরাস আক্রান্ত ফুসফুসের স্ক্যান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করা রয়েছে
করোনাভাইরাস আক্রান্ত ফুসফুসের স্ক্যান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করা রয়েছে

অতি জটিল রোগ

এখন পর্যন্ত ধারণা করা হচ্ছে যে প্রায় ৬% করোনাআক্রান্ত ব্যক্তির রোগ অতি জটিল পর্যায়ে যায়।

এই ধাপে শরীর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে অসক্ষম হয় এবং মৃত্যুর বড় ধরনের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

মূল সমস্যাটা হয়, এই ধাপে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে শুরু করে এবং সারা শরীরেই বিভিন্ন রকম ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করে।

রক্তচাপ যখন মারাত্মকভাবে নেমে যায় তখন এই ধাপে সেপটিক শক পেতে পারেন আক্রান্ত ব্যক্তি, এমনকি তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করা বন্ধ হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে।

শ্বাস-প্রশ্বাসে তীব্র সমস্যা হওয়ার উপসর্গ দেখা দেয় ফুসফুসে প্রদাহ ছড়িয়ে পড়লে, কারণ সেসময় শরীরকে টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট অক্সিজেন পুরো শরীরে প্রবাহিত হতে পারে না। এর ফলে কিডনি রক্ত পরিশোধন ছেড়ে দিতে পারে এবং অন্ত্রের দেয়াল ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

ডাক্তার ভারত পঙ্খানিয়া বলেন, “ভাইরাসটি এত বড় পরিসরে প্রদাহ তৈরি করে যে শরীর পুরো ভেঙ্গে পড়ে, একসাথে একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ফেইল করে।”

এ পর্যায়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা যদি ভাইরাসের সাথে পেরে না ওঠে তাহলে তা শরীরের সব প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং আরো বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি করে।

এ পর্যায়ে আক্রান্তকে চিকিৎসা দিতে ইসিএমও বা এক্সট্রা-কোর্পোরেয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হতে পারে।

এই পদ্ধতিতে একটি কৃত্রিম ফুসফুস দ্বারা টিউবের মাধ্যমে শরীর থেকে রক্ত বের করে নিয়ে সেই রক্ত অক্সিজেনপূর্ণ করে আবার শরীরে প্রবেশ করানো হয়।

তবে ক্ষতির মাত্রা বেশি হলে কখনো কখনো অঙ্গ প্রত্যঙ্গ শরীরকে আর বাঁচিয়ে রাখতে সক্ষম হয় না।

 ইসিএমও মেশিন দিয়ে এক রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে
ইসিএমও মেশিন দিয়ে এক রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে

প্রথম মৃত্যু

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও অনেকসময় রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

চীনের উহান শহরের জিনইনতান হাসপাতালে মারা যাওয়া প্রথম দু’জন আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তি ছিলেন, যদিও তারা দু’জনই দীর্ঘসময় ধরে ধূমপান করতেন।

প্রথম যিনি মারা গিয়েছিলেন, ৬১ বছর বয়সী এক পুরুষ, তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় তার তীব্র নিউমোনিয়া ছিল।

তার শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা ছিল, এবং ভেন্টিলেটরে রাখা হলেও তার ফুসফুস বিকল হয়ে যায় এবং হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়।

হাসপাতালে ১১ দিন থাকার পর ঐ ব্যক্তি মারা যান।

৬৯ বছর বয়সী দ্বিতীয় যে ব্যক্তি মারা যান তারও শ্বাস প্রশ্বাসে ব্যাপক সমস্যা ছিল।

তাকেও একটি ইসিএমও মেশিনের সহায়তা দেয়া হয়, কিন্তু তবুও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। রক্তচাপ কমে যাওয়ার পর তীব্র নিউমোনিয়া ও সেপটিক শকে মারা যান তিনি।

  • ইসিএমও মেশিন দিয়ে এক রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে

    ইসিএমও মেশিন দিয়ে এক রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে

  • করোনাভাইরাস আক্রান্ত ফুসফুসের স্ক্যান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করা রয়েছে

    করোনাভাইরাস আক্রান্ত ফুসফুসের স্ক্যান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করা রয়েছে

  • করোনাভাইরাস আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে

    করোনাভাইরাস আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে

  • ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে (ফাইল ফটো)

    ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে (ফাইল ফটো)

  • করোনাভাইরাস: আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে?

    করোনাভাইরাস: আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে?

  • ইসিএমও মেশিন দিয়ে এক রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে
  • করোনাভাইরাস আক্রান্ত ফুসফুসের স্ক্যান, নিউমোনিয়া আক্রান্ত অংশ চিহ্নিত করা রয়েছে
  • করোনাভাইরাস আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে
  • ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে (ফাইল ফটো)
  • করোনাভাইরাস: আপনার শরীরকে কীভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করে?
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

তথ্য মহিলারা তথ্য-পরিষেবা বিপ্লব নিয়ে আসে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

করোনাভাইরাস: অতিরিক্ত ওজন কেন কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি বাড়ায়?

আইসিইউতে থাকা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা ও কিডনির কার্যক্রম চালানোর জন্য সহায়তা বেশি প্রয়োজন হয়।

স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে হৃদরোগ, ক্যান্সার এবং টাইপ টু ডায়াবেটিস সহ বেশ কিছু রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানা গেছে। প্রাথমিক গবেষণা থেকে জানা যায় যে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকলে তাদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কিন্তু এরকম হওয়ার কারণ কী?

স্থূলতা কি আসলেই করোনাভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ায়?

বেশ কিছু গবেষণাতেই এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করেছেন গবেষকরা।

  • যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রায় ১৭ হাজার কোভিড-১৯ রোগীকে নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায় অপেক্ষাকৃত কম ওজনের ব্যক্তিদের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে যাদের, – বডি ম্যাস ইনডেক্স ৩০ এর ওপর – তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ৩৩% বেড়ে যায়।
  • যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের ইলেকট্রনিক রেকর্ডের তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা থাকা ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ এ মারা যাওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ বেড়ে যায়। আর ঐ রোগীর যদি ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মত সমস্যা থাকে তাহলে ঝুঁকি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • যুক্তরাজ্যের আইসিইউ’তে থাকা জটিল ভাবে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে করা এক গবেষণায় দেখা যায় আইসিইউ’তে থাকা রোগীদের ৭৩% অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছিলেন।

যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ৬৪% মানুষের অতিরিক্ত ওজনের সমস্যা রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির ওজন এবং উচ্চতার অনুপাতে পরিমাপ করা হয় তার বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই।

স্থূলতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি ফাউন্ডেশন আগেই সতর্ক করেছিল যে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হওয়া ব্যক্তিদের একটা বড় অংশের ‘বিএমআই ২৫ এর বেশি হবে।’

যুক্তরাষ্ট্র, ইটালি ও চীনও প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনা করে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

এছাড়াও বয়স বেশি হলে, অন্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে এবং পুরুষদের জন্য কোভিড-১৯ এ জটিলভাবে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কি প্রভাবিত হয়?

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার যে সক্ষমতা শরীরের থাকে – যেটিকে আমরা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হিসেবে জানি – সেই ক্ষমতা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় স্থূলকায় ব্যক্তিদের শরীরে কম থাকে।

আমাদের শরীরের চর্বিতে থাকা ম্যাক্রোফেইজ নামক কোষ যখন অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যায়, তখন এই সমস্যা তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এর ফলে শরীরে ‘সাইটোকাইন ঝড়’ তৈরি হতে পারে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার এক ধরণের প্রতিক্রিয়া যার ফলে মানুষের মৃত্যুও হতে পারে।

ডাক্তার সেলায়া বলেন, “অতিরিক্ত ওজনের মানুষের মধ্যে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ নিষ্ক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হয়তো এর ফলেই কৃষ্ণাঙ্গ, এশিয়ান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের মধ্যে ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার হার বেশি দেখা যাচ্ছে।”

শরীরের অ্যাডিপোস টিস্যুতে চর্বির কোষ

কেন অতিরিক্ত ওজন ঝুঁকি তৈরি করছে?

আপনার ওজন অতিরিক্ত হওয়া মানে আপনি দেহে অতিরিক্ত চর্বি বহন করছেন। অর্থাৎ আপনি শতভাগ ফিট নন।

আর আপনার ফিটনেস যত কম হবে, আপনার ফুসফুসের কর্মক্ষমতা তত কমবে। এর ফলে আপনার রক্তে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হবে। এর ফলে শরীরে রক্ত চলাচল এবং আপনার হৃৎপিণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাভিদ সাত্তার বলেন, “অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা বেশি থাকে। তার মানে, তাদের শরীর যথেষ্ট চাপের মধ্যে দিয়ে কাজ করে।”

করোনাভাইরাসের মত একটি ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের সময় এই বিষয়টি গুরুতর হতে পারে।

রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার ডিয়ান সেলাইয়াহ বলেন, “শরীরের প্রধান অঙ্গগুলোয় যথেষ্ট অক্সিজেন না যাওয়ায় স্থূল দেহ এক পর্যায়ে চাপ নিতে পারে না।”

এ কারণে আইসিইউতে থাকা স্বাভাবিক ওজনের মানুষের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা ও কিডনির কার্যক্রম চালানোর জন্য সহায়তা বেশি প্রয়োজন হয়।

স্থূলতার সাথে সাধারণত দুর্বল হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস, যথাযথভাবে কাজ না করা কিডনি এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হয়।

অন্য সমস্যা থাকার সম্ভাবনা কতটা?

স্থূলতার সাথে সাধারণত দুর্বল হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুস, যথাযথভাবে কাজ না করা কিডনি এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মত অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যাও তৈরি হয়।

কিন্তু কোভিড-১৯ এর মত রোগে আক্রান্ত হলে ঐ স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো প্রাধান্য পায় না এবং শরীরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে তারা।

স্থূল দেহে রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনাও তৈরি হয়, তবে এর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে জানা যায় না।

হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে কী সমস্যা হয়?

অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রেও নানারকম চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তিদের শরীরে টিউব বা ভেন্টিলেটর প্রবেশ করানোতে অনেকসময় সমস্যা তৈরি হয়।

আবার ওজনের মাত্রা নির্দিষ্ট থাকার কারণে তাদের স্ক্যান করার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

অপেক্ষাকৃত বেশি ওজনের রোগীদের শ্বাস প্রশ্বাসে সহায়তা করার জন্য পাশ ফিরিয়ে শোয়ানো অথবা উপুড় করে শোয়ানোর ক্ষেত্রেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয় চিকিৎসকদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন

 করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন
করোনায় কৃষিই হতে পারে একমাত্র অবলম্বন

করোনাভাইরাসের থাবায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সবচেয়ে ভয়ঙ্করতম বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় স্থবির হয়ে যাওয়ার প্রভাব সারা বিশ্বেই পড়তে শুরু করেছে। বড় বড় বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান, বিমান পরিবহন সংস্থা দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে। পর্যটন ও ভারি শিল্প সমৃদ্ধ দেশগুলো একদিকে যেমন প্রতিদিন লোকসান দিচ্ছে; সাথে সাথে শেয়ার বাজারে ক্রমাগত দর পতনে মূলধন পুনর্গঠনও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী অর্থনৈতিক পরামর্শক সংস্থা ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির মতে, করোনা সংকটের পর বৈশ্বিক বিমান পরিবহন, জ্বালানি এবং তৈরি পোশাক খাত তার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে পেতে বেশ কয়েক বছর সময় লেগে যাবে। প্রাইসমার্কের মতো ইউরোপের তৈরি পোশাক বাজারজাতকরণ প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে গেছে। মূলধন সংকটে দেউলিয়ত্বের পথে আরও ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের মতে, বিশ্বের প্রতিটি দেশ তার জিডিপির ১০ শতাংশ লোকসানের সম্মুখীন হবে। এই হিসাবে বাংলাদেশর ক্ষতি হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকারও বেশি।

বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দার ঢেউ বাংলাদেশেও লাগতে শুরু করেছে। রেমিটেন্স আয় কমে গেছে। এপ্রিলে আরও কমবে। আগামী দিনগুলোতে যে এই আয় কমতে থাকবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রবাসীরা দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। মন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে দেশের তৈরি পোশাক রফতানি খাতও।

বিজিএমইএ’র তথ্যমতে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল করেছে তৈরি পোশাক রফতানি প্রতিষ্ঠানগুলো। সামনে ইউরোপ-আমেরিকার অবস্থার উন্নতি না হলে সংখ্যা আরও বাড়বে। পঞ্চাশ লাখ লোকের কর্মসংস্থানের খাত কর্মী ছাটাইয়ের ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। বন্ধ হয়ে যাবে অনেক ছোট-বড় কারখানা।

বৈশ্বিক অর্থনীতির উপর করোনা ঝড়ের মধ্যেও আমাদের টিমটিম করে আশার আলো দেখাচ্ছে কৃষি খাত। একদা দেশের মোট জিডিপির ৬৫ ভাগ জোগান দেওয়া এই খাত বর্তমানে ১৩ থেকে ১৪ ভাগ জিডিপি জোগান দিলেও করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কৃষি খাত হতে পারে আমাদের অন্ধের যষ্টি।

কৃষি ব্যবস্থার হালচাল: আদিকাল থেকে কৃষি এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আমাদের অর্থনীতির বড় হাতিয়ার হলেও বরাবরই এ খাত চরম অবহেলার শিকার। দালাল ও মুনাফা ভোগী লোভী ব্যবসায়ী চক্রের যাতাকলে পিষ্ট হয় দরিদ্র কৃষক। বর্তমান যুগের আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায়ও এর খুব উন্নতি হয়নি। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় কৃষকের সামাজিক অবস্থা দিনকে দিন উন্নত হওয়ার পরিবর্তে খারাপ হয়েছে।

চলমান লকডাউনে সব উৎপাদন খাত হুমকির মুখে পড়লেও কৃষকের কোনো নিস্তার নেই। কৃষক ঠিকই তার উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রেখেছে। পরিবহন ব্যবস্থা স্থবিরতার জন্য বিপণনে ব্যাঘাত ঘটছে। খামারে উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে না পারায় ফেলে দিতে হচ্ছে। ডিম ও পোল্ট্রি খামারে নামমাত্র মূল্যে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় পথে বসেছে প্রান্তিক ক্ষুদ্র খামারী। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোয় উৎপাদিত সবজি ঢাকায় আসতে পারছে না। ঢাকার পাইকাররা পণ্য সংগ্রহ করে সরবরাহে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।

ফলে একদিকে যেমন খাদ্যদ্রব্যের মূল্য বেড়েই চলেছে; অপরদিকে লোকসানের সম্মুখীন হয়ে উৎপাদন খরচ তুলতেও হিমশিম খাচ্ছে কৃষক। মধ্যস্বত্ত্বভোগী দালাল, ফড়িয়া বা আড়তদার কেন্দ্রীক কৃষি বিপণন ব্যবস্থার ফলে কৃষক তার ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পরিবহন সংকটের জন্য উৎপাদিত পণ্য পচে নষ্ট হচ্ছে। তাই আধুনিক ও সময়োপযোগী কৃষি বিপণন ব্যবস্থা সময়ের দাবি।

করোনা পরবর্তী সম্ভাবনা: করোনায় অধিকাংশ দেশে উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো চরম খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। উৎপাদনমুখী অর্থনীতির জন্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশ চীনের উপর অধিকতর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল। করোনা পরবর্তী অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় একক চীন নির্ভরশীলতা অনেকাংশেই হ্রাস পাবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ, ভারত বা ভিয়েতনামের মতো উদীয়মান রাষ্ট্রগুলোর জন্য এটি বড় সুযোগ হতে পারে।

বৈশ্বিক দুর্যোগের এই ধাক্কা আমাদের দেশে লাগলেও সরকারের সময়োপযোগী এবং কৃষি বান্ধব পদক্ষেপের ফলে দুর্যোগকালীন সার, বীজ ও কীটনাশকের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় আমাদের উৎপাদন ব্যবস্থা থমকে যায়নি। আগামী দিনগুলোতে কৃষককে উপযুক্ত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যদি ইউরোপীয় মানের খাদ্যশস্য, সবজি আমরা উৎপাদন করতে পারি। তবে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বৈশ্বিক খাদ্য ঘাটতির সুযোগে রফতানিমুখী বিপণন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হবে; তেমনি বছর বছর মৌসুমে উদ্ধৃত পণ্য পচনের হাত থেকে বাঁচানো যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কৃষকের দিশা ‘মাটির হাসপাতাল’

দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীগঞ্জ থেকে মোকলেসুর রহমান এসে ঢুকলেন মৃত্তিকা ভবনে। হাতে মাটিভর্তি চারটি পলিব্যাগ। প্রতিটি ব্যাগে নাম–ঠিকানা লেখা চিরকুট। জানালেন, এবার তিন বিঘা জমিতে মিষ্টিকুমড়ার চাষ করবেন। তাই জমির বতর্মান অবস্থা জানতে মাটি পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে এসেছেন দিনাজপুর মৃত্তিকা গবেষণাগারে। সঙ্গে নিয়ে এসেছেন আরও তিনজনের জমির মাটি।

ভবনে ঢুকতেই চোখে পড়ে টেবিলের ওপর সাজানো মাটিভর্তি শ খানেক পলিথিনের ব্যাগ। মোকলেসুর রহমানের মতো অনেকেই আসেন এখানে তাঁদের জমির মাটি পরীক্ষা করাতে। দিনাজপুর শহর থেকে সাত কিলোমিটার দূরে দিনাজপুর–রংপুর মহাসড়কের পাশে সাত মাইল এলাকায় এক একর জমির ওপরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেবা ও গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট। অনেক কৃষকের কাছে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ‘মাটির হাসপাতাল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানে কৃষকেরা আসেন তাঁদের জমির মাটি নিয়ে। চিরকুটে লিখে দেন নিজের নাম–পরিচয় আর কোন ফসলের চাষ করতে চান তা। সেই মোতাবেক মাটি পরীক্ষা করে এক সপ্তাহ পরে মৃত্তিকা ইনস্টিটিউট থেকে দেওয়া হয় পরামর্শ কার্ড।

দেশের সীমিত ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদের যুক্তিযুক্ত ও লাভজনক ব্যবহার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এই প্রতিষ্ঠানটি কাজ করে যাচ্ছে। মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, মাটি হলো ফসলের খাদ্যভান্ডার। কিন্তু অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে মাটির উর্বরতা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। মাটির উর্বরতা সংরক্ষণসহ ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর তাই জোর দেওয়া হচ্ছে।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সফিনুর রহমান বলেন, কৃষক প্রথমে জমির আইল থেকে তিন-চার হাত ভেতরে সমদূরত্ব বজায় রেখে নয়টি স্থান থেকে মাটি সংগ্রহ করে পলিব্যাগে করে গবেষণাগারে নিয়ে আসেন। তারপর সেই মাটিকে গুঁড়ো করে শুকানো হয়। শুকনো মাটি পরিমাণমতো নিয়ে এতে বিদ্যমান ১৩টি উপাদান যেমন নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, জিংক, বোরন, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, মলিবডেনাম, কোবাল্ট, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জৈব পদার্থ—এই উপাদানগুলো পৃথকভাবে পরীক্ষা করা হয়। কয়েকটি যন্ত্রে মাটি পরীক্ষা করে তার ফলাফল নমুনা প্রদানকারীর নামে প্রস্তুতকৃত সুপারিশ কার্ডে উল্লেখ করা হয়। মৃত্তিকা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের নথি থেকে জানা যায়, ২০০২ সাল থেকে গেল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কৃষকদের নিয়ে আসা ৩৬ হাজার ২৫৬টি নমুনা পরীক্ষা করে সুপারিশ কার্ড দেওয়া হয়েছে। সাধারণত তিন ধরনের উপকারভোগী এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাটি পরীক্ষা করার জন্য আসে। বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কৃষক। আর এই মাটি পরীক্ষা করার জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নমুনাপ্রতি নেওয়া হয় ৬১৫ টাকা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১ হাজার ২১০ টাকা ও সাধারণ কৃষকের কাছ থেকে ৬৩ টাকা। চিরিরবন্দর উপজেলার আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের বড়গ্রাম এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, ‘তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করে সুফল পাই। আগে যেখানে বিঘাপ্রতি ১০০ মণ আলু পেতাম, গেল মৌসুমে পেয়েছি ১৬০ মণ। আগে বিঘাপ্রতি আমন পেতাম ২৫ মণ, এবার সেখানে ৪০ মণেরও বেশি ধান পেয়েছি।’

ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সফিনুর রহমান বলেন, গবেষণায় দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গার মাটিতে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সালফার, জিংক, বোরন, ম্যাগনেশিয়াম ও জৈব পদার্থের অভাব দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া, এ এলাকার মাটিতে অম্লত্বের অভাব রয়েছে। তাই যেকোনো ফসলের চাষের আগে কৃষক মাটি পরীক্ষা করে জমিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করলে ভালো ফলন পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

পেয়ারা অন্যতম জনপ্রিয় ফল। দেশের সর্বত্রই এ ফল জন্মে। তবে বাণিজ্যিকভাবে বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, ঢাকা, গাজীপুর, কুমিল্লা, মৌলভীবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এলাকায় চাষ হয়ে থাকে। পেয়ারা গাছ কম সময়ের মধ্যে ফল দেয় এবং চাষের জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনায় দু’একটি গাছ থাকলে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বিক্রিও করা যায়।

পুষ্টিমান: পেয়ারাকে অনেকে বলে থাকেন ‘গরিবের আপেল’। পেয়ারার গুণাগুণ আপেলের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়। পেয়ারায় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ছাড়াও প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ থাকে, যা মানবদেহের গঠন ও বৃদ্ধিতে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। পেয়ারা পরিণত হলে কাঁচা ও পাকা উভয় অবস্থাতেই খাওয়া যায়। টাটকা অবস্থায় পরিপক্ক পেয়ারা থেকে সালাদ, পুডিং প্রভৃতি তৈরি করা যায়। ভিটামিন ‘সি’সহ অন্যান্য পুষ্টিমানের বিবেচনায় আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারা উৎকৃষ্ট। নিচের ছকে আপেল ও কমলার সাথে পেয়ারার পুষ্টিমান তুলনা করে দেখানো হলো-

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

তাই পেয়ারা উৎপাদনে যত্নবান হতে হবে এবং এর আহরণ মৌসুম দীর্ঘায়িত করতে সচেষ্ট হতে হবে।

ব্যবহার: পেয়ারার শিকড়, গাছের বাকল, পাতা এবং অপরিপক্ক ফল কলেরা, আমাশয় ও অন্যান্য পেটের পীড়া নিরাময়ে ভালো কাজ করে। ক্ষত বা ঘাঁয়ে থেতলানো পাতার প্রলেপ দিলে উপকার পাওয়া যায়। পেয়ারা পাতা চিবালে দাঁতের ব্যথা উপশম হয়। পেয়ারায় প্রচুর পেকটিন থাকায় জ্যাম, জেলি তৈরিতে অদ্বিতীয়। তৈরি জেলী সংরক্ষণ করে অমৌসুমে খেয়ে ভিটামিন ‘সি’র অভাব পূরণ করা যায়। শহর ও গ্রামের নারীরা ঘরে বসে পেয়ারার জেলি তৈরী করে পরিবারের চাহিদা মিটানোর পর বাজারে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করতে পারে। প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে পেয়ারা থেকে তৈরি হয় সুস্বাদু শরবত, আচার, আইসক্রিম প্রভৃতি। জাপানে পেয়ারার পাতা থেকে চা তৈরি করা হচ্ছে এবং তা ব্যাপক জনপ্রিয়তাও পেয়েছে।

পেয়ারার রোগবালাই: পেয়ারা উৎপাদনের মূল অন্তরায় হচ্ছে পোকামাকড়ের আক্রমণ যা উৎপাদনকে ব্যহত করে। তাই গাছ থেকে শতভাগ উৎপাদন পেতে গাছের ক্ষতিকর পোকামাকড় থেকে বাঁচার উপায় জানা প্রয়োজন। নিচে পেয়ারা গাছের কিছু রোগ, ক্ষতিকর পোকামাকড় এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বর্ণনা করা হলো-

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

উইল্ট রোগ: এ রোগের কারণ ছত্রাক। রোগাক্রান্ত গাছের পাতা এবং ডগা উপর থেকে প্রথমে হলুদ হয়ে শুকিয়ে মারা যায় এবং ১০-১৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ গাছ ঢলে পড়ে। অম্লীয় মাটিতে এ রোগের আক্রমণ বেশি হতে দেখা যায়।

দমনব্যবস্থা:
ক. পেয়ারার বাগান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
খ. মাটিতে ব্রাসিকল প্রয়োগ করে জীবাণুমুক্ত করলে এ রোগের আক্রমণ কিছুটা কমানো যেতে পারে।
গ. পলি, আঙুর ও স্ট্রবেরি জাতের পেয়ারার ওপর যে কোন জাত গ্রাফটিং করলে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে দমন সম্ভব।

স্যুটি মোল্ড রোগ: এ রোগের কারণ ছত্রাক। সাধারণত পাতায় এ রোগ হয়ে থাকে। পাতার উপরিভাগ কালো পাউডারি আস্তরণে ঢেকে যাওয়াই হচ্ছে এ রোগের লক্ষণ। সাদামাছি পোকা নিঃসৃত মধুতে ছত্রাক এঁটে যায়। ওই অবস্থায় ছত্রাক কর্তৃক উৎপাদিত প্রচুর কালো স্পোর পত্র পৃষ্ঠে লেগে যায় এবং কালো আস্তরণের সৃষ্টি করে। সবুজ পাতা কালো আবরণে ঢাকা থাকে বিধায় সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হয়। পাতা ক্রমশ শুকিয়ে ঝরে পড়ে এবং গাছ উপর থেকে শুকাতে থাকে।

পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা
পুষ্টিমানে আপেল ও কমলার চেয়ে পেয়ারাই সেরা

সাদা মাছি পোকা: ১-২ সে.মি. লম্বা পোকাটি পেয়ারা গাছের পাতায় আক্রমণ করে। পাতার নিচের পিঠে প্যাঁজা তুলার মতো সাদা থোকা থোকা পোকা দেখা যাবে। বয়স্ক ও বাচ্চা পোকা পাতার রস চুষে খায়। গাছের পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ে। চারাগাছে আক্রমণ বেশি হলে গাছ মারাও যেতে পারে। বয়স্ক গাছ আক্রান্ত হলে ফুল ও ফলের সংখ্যা কমে যায়। বয়স্ক পোকা ও নিষ্ফ (বাচ্চা) প্রচুর পরিমাণে মধু নিঃসরণ করে, যার জন্য পাতার ওপর কালো আবরণ পড়ে। একে স্যুটি মোল্ড বলে। এতে গাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটে। অর্থ্যাৎ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যবহৃত হয় এবং গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।

দমনব্যবস্থা: প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম ডিটারজেন্ট পাউডার মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা সহজেই দমন করা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com