আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

করোনা ভাইরাস: সংক্রমণের জন্য বাদুড় আসলে কতটা দায়ী?

করোনাভাইরাস বিস্তারের জন্য এক প্রজাতির বাদুড়কে দায়ী করা হয়
করোনাভাইরাস বিস্তারের জন্য এক প্রজাতির বাদুড়কে দায়ী করা হয়

বাদুড়ের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী ইরোরো তানশি।

“ওরা এক অসাধারণ সৃষ্টি” – বলেন তিনি। বাদুড়ের প্রসঙ্গ উঠলে তার চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস টেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ডক্টরেটের জন্য কাজ করছেন নাইজেরিয়ান বিজ্ঞানী তানশি।

তার মতো আরো বেশ কয়েকজন বিজ্ঞানী আছেন যাদের প্রয়াসের লক্ষ্য বাদুড়ের নেতিবাচক ইমেজ দূর করা। বিশেষ করে এই সময়টায়, করোনাভাইরাস মহামারি ছড়ানোর পেছনে বাদুড়ের একটা ভূমিকা আছে – এরকম কথাবার্তা বাদুড়ের ইমেজ আরো বেশি খারাপ করে দিয়েছে ।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত নানা জায়গায় গণহারে বাদুড় হত্যা এবং তাড়ানোর খবর পাওয়া গেছে। সংরক্ষণবাদীরা বিচলিত হয়ে পড়েছেন এসব খবরে।

কিন্তু বাদুড়কে এ মহামারির জন্য দোষ দেবার ফলে যা হচ্ছে তা হলো – আসল যে অপরাধী সে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে।

কোভিড-১৯ মহামারির জন্য বাদুড়কে দায়ী করা হচ্ছে কেন?

সারা পৃথিবীতে ১৪ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি আছে
সারা পৃথিবীতে ১৪ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি আছে

এর কারণ হলো: সার্স-কোভ টু ভাইরাস যা কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণ – তার সাথে আগেকার একটি ভাইরাসের ৯৬% মিল আছে, এবং সেই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল হর্সশু ব্যাট নামে এক প্রজাতির বাদুড়ের দেহে।

তানশি বলছেন, “এর ফলে সব প্রজাতির বাদুড়ই সন্দেহের পাত্র হয়ে পড়েছে। কিন্তু সত্যি হলো এর বিরুদ্ধে বাদুড়ের একটা খুব শক্ত বৈজ্ঞানিক যুক্তি আছে।“

“বিবর্তন বা ইভোলিউশনের ওপর সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে ৪০ থেকে ৭০ বছর আগে হর্সশু বাদুড়ের দেহে যে ভাইরাস পাওয়া গিয়েছিল – তার থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল সার্স-কোভ-টু ভাইরাস“ – বলছেন তানশি।

তার কথায়, এতে আরো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে বাদুড় হয়তো সরাসরি সার্স-কোভ-টু ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

কেনিয়ার মাসাই মারা বিশ্ববিদ্যালয়ে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত জীববিজ্ঞানের শিক্ষক হলেন ড. পল ওয়েবালা। তিনিও তানশির সাথে একমত।

ইন্দোনেশিয়ার একটি বাজারে বাদুড় বিক্রি হচ্ছে
ইন্দোনেশিয়ার একটি বাজারে বাদুড় বিক্রি হচ্ছে

ড. ওয়েবালা বলছেন, “বিবর্তনের দিক থেকে বলতে গেলে, মানুষ ও বাদুড়ের মধ্যে পার্থক্য অনেক। কাজেই সার্স-কোভ-টু ভাইরাস যদি বাদুড় থেকেই এসে থাকে – তাহলেও তাকে সম্ভবত: মাঝখানে অন্য আরেকটা প্রাণী বা ‘হোস্ট‌’ – এর মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল।“

তার অর্থ হলো বাদুড়ই যদি ভাইরাসের উৎস হয়ে থাকে – তার পরেও তারা সরাসরি মানুষের মধ্যে এটা ছড়ায় নি। অনেকে সন্দেহ করেন, মানুষ ও বাদুড় এই দুইয়ের মাঝখানে ছিল আরেকটি প্রাণী – সম্ভবত: প্যাংগোলিন, বাংলায় যাকে বলে বনরুই।

তাহলে দোষ কার?

মি. তানশি এবং তার সহযোগী বৈজ্ঞানিকেরা জোর দিয়ে বলেন, তারা একমত যে এই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব এবং মানব জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ার জন্য মানুষই দায়ী ।

ড. ওয়েবালা বলছেন, মানুষের কর্মকান্ড এই মহামারির বিস্তারের জন্য আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

“বন্যপ্রাণীর আবাসভূমিতে মানুষের অনুপ্রবেশ, আবাসস্থল ধ্বংস বা বিনষ্ট হওয়া, মানুষ কর্তৃক বন্যপ্রাণীর ব্যবসা, এক জায়গায় আটকে রাখা, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া, – এ ধরণের কাজ অন্য প্রজাতির মধ্যে রোগসৃষ্টিকারী জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আদর্শ পরিস্থিতি তৈরি করে। এবং এটা ঘটছে এমন সব প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে – যারা আগে কখনো একে অপরের সংস্পর্শে আসেনি।“

“একাধিক দিক থেকে অনুসন্ধান করে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে প্রাণীদের আবাসস্থল ধ্বংস করা হলে‌ ‘জুনটিক’ রোগ বিস্তার অর্থাৎ প্রাণীর দেহে সৃষ্ট রোগ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়“ – বলছেন তানশি।

কাজেই বাদুড় হত্যা আমাদের করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা করতে পারবে না। বরং উল্টোটাই হতে পারে।

গণহারে তাদের হত্যা এবং তাদের আবাসস্থল থেকে তাদের উচ্ছেদ করার ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে – একথাই বলছেন সংরক্ষণবিদরা।

সারা পৃথিবীতে ১৪ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি আছে, যার মধ্যে ৭০ শতাংশই কীটপতঙ্গ-পোকামাকড় খেয়ে বাঁচে।

বাদুড় যে সমস্ত পোকামাকড় খায় সেগুলোর এক বড় অংশই উড়তে পারে এবং নিশাচর। এগুলো অনেক রকম রোগসৃষ্টিকারী অণুজীব বহন করে যা মানুষকে সংক্রমিত করে। যেমন ডেঙ্গু জ্বর এবং ম্যালেরিয়া।

কাজেই বাদুড়কে আক্রমণ করলে তা হয়তো অন্য নানা রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দেবে।

বাদুড় কীভাবে মানুষের উপকার করে?

“আপনি যদি আজ তুলো থেকে তৈরি অর্থাৎ সূতীর কাপড় পরে আছেন, চা বা কফি পান করেছেন, শস্য থেকে তৈরি খাবার খেয়েছেন, খামারে উৎপন্ন অনেক খাবারের একটি খেয়েছেন – তাহলে আপনার দিনটির সাথে ইতোমধ্যেই বাদুড়ের একটা সংযোগ ঘটে গেছে” – বলছেন ড. ওয়েবালা।

প্রকৃতি, প্রাণী ও উদ্ভিদ মিলিয়ে আমাদের চারপাশের যে ইকোসিস্টেম – তাতে বাদুড় পরাগায়ন, বীজ ছড়ানো এবং পোকামাকড় ধ্বংসের ক্ষেত্রে একটা বড় ভূমিকা পালন করে। তাই খাদ্য থেকে শুরু করে প্রসাধন সামগ্রী, আসবাবপত্র এবং ওষুধ – সবকিছুতেই বাদুড়ের শ্রম আছে।

বাদুড় ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার বনাঞ্চল টিকে থাকতে পারতো না। মাদাগাস্কারের বাওবাব গাছ অদৃশ্য হয়ে যেতো, ম্যাকাডামিয়ার আবাদ বিপর্যয়ের মুখে পড়তো।

পাখীর মাধ্যমে যত বীজ ছড়ায় – বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায় তার দ্বিগুণ” – বলছেন ড. ওয়েবালা – “এর ফলে উষ্ণমন্ডলীয় এলাকায় বিচ্ছিন্ন নানা বনভূমিতে গাছের বংশবৃদ্ধি এবং জিনের প্রবাহ সম্ভব হচ্ছে।“

একাধিক জরিপে দেখা দেখা গেঝে, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বাদুড়ের কারণে শস্য বিনষ্ট হওয়া কমে যাচ্ছে, এবং কৃষকদের শত শত কোটি ডলারের খরচ বেঁচে যাচ্ছে –যা তাদের কীটনাশকের পেছনে খরচ করতে হতো।

বাদুড় কেন এক “অনন্য” প্রাণী?

প্রকৃতি জগতে টিকে থাকার দিক থেকে বাদুড় এক বিস্ময়কর রকমের সফল প্রাণী। এ্যান্টার্কটিকা ছাড়া আর সকল মহাদেশেই বাদুড় পাওয়া যায়।

তানশি বলছেন, “একজন বাদুড় গবেষক হিসেবে আমি বহু গুহা, জংগল, পাহাড় পর্বত এবং তৃণভূমি অনুসন্ধান করেছি। দেখেছি, বাদুড় প্রকৃতির সাথে মানিয়ে নেবার জন্য চমৎকারভাবে বিবর্তিত হয়েছে। “

“বাদুড়ের ক্ষেত্রে আঙুল পরিণত হয়েছে পাখায়। তারা প্রতিধ্বনিকে ব্যবহার করে অবস্থান নির্ণয় করে পথ চলতে পারে। তাদের দৃষ্টিশক্তি দারুণ। এবং এগুলো দিয়ে বাদুড় রাতের আকাশে তাদের উপনিবেশ কায়েম করতে পেরেছে। স্তন্যপায়ী প্রাণী হওয়াকে যদি একটা আর্ট বলা হয়, তাহলে বাদুড়কে বলতে হবে মাস্টারপিস অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ শিল্পীর কাজ।“

ড. ওয়েবালাও বাদুড়ের ব্যাপারে একই রকম উৎসাহী এবং তিনি তাদের সংরক্ষণের পক্ষে কিছু বাস্তব যুক্তি তুলে ধরছেন।

‍“আমরা এখন ধীরে ধীরে জানতে পারছি যে বাদুড়ের দেহে হয়তো খুবই উন্নত রোগ প্রতিরোধী ব্যবস্থা আছে যা রোগ এবং রোগ-সৃষ্টিকারী অণুজীবকে সহ্য করতে পারে।

তিনি বলছেন, “মানুষের ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর নতুন কোন চিকিৎসাপদ্ধতির আবিষ্কারের ক্ষেত্রে হয়তো বাদুড়ের এই প্রতিরোধী শক্তির রহস্য কাজে লাগতে পারে।“

  • ইন্দোনেশিয়ার একটি বাজারে বাদুড় বিক্রি হচ্ছে

    ইন্দোনেশিয়ার একটি বাজারে বাদুড় বিক্রি হচ্ছে

  • সারা পৃথিবীতে ১৪ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি আছে

    সারা পৃথিবীতে ১৪ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি আছে

  • করোনাভাইরাস বিস্তারের জন্য এক প্রজাতির বাদুড়কে দায়ী করা হয়

    করোনাভাইরাস বিস্তারের জন্য এক প্রজাতির বাদুড়কে দায়ী করা হয়

  • ইন্দোনেশিয়ার একটি বাজারে বাদুড় বিক্রি হচ্ছে
  • সারা পৃথিবীতে ১৪ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের প্রজাতি আছে
  • করোনাভাইরাস বিস্তারের জন্য এক প্রজাতির বাদুড়কে দায়ী করা হয়
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

এই সময়ে সুস্থ থাকতে চান? ডায়েটে অবশ্যই রাখুন কিসমিস

আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান তবে শীঘ্রই আপনার ডায়েটে কিসমিস অন্তর্ভুক্ত করুন। প্রত্যেকেরই প্রতিদিন সীমিত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া উচিত। এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। কিসমিস খাওয়ার ফলে অনেক রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আজ আমরা এই নিবন্ধে কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করব।

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে –

কিসমিস খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও দৃঢ় হয়, তাই আপনি যদি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে চান, তবে প্রতিদিন এটি গ্রহণ করুন।

শরীরে শক্তি যোগান দেয় –

কিসমিসে পর্যাপ্ত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট থাকে। এই কার্বোহাইড্রেট আর এর মিষ্টত্ব শরীরকে শক্তি জোগায়। এতে কর্মক্ষমতা বাড়ে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী –

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

ডায়াবেটিস রোগীদের কিসমিস খাওয়া উচিত। এটি তাদের জন্য খুব উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে মনে রাখবেন, ডায়াবেটিক রোগীদের সীমিত পরিমাণে কিসমিস খাওয়া উচিত। যাদের রক্তাল্পতা রয়েছে, সেই সকল মানুষের প্রতিদিন কিসমিস খাওয়া উচিত। এর দ্বারা অ্যানিমিয়া কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবেন আপনি।

ক্যান্সার কোষ বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে সহায়ক –

script data-ad-client=”ca-pub-3140114751019908″ async=”” src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”>

প্রতিদিন কিসমিস খেলে ক্যান্সারের কোষের বৃদ্ধি রোধ হয়। আপনি যদি সুস্থ ও ফিট রাখতে চান তবে অবশ্যই আপনার ডায়েটে কিসমিস অন্তর্ভুক্ত করুন। এর প্রতিদিনের গ্রহণ অনেক রোগ প্রতিরোধ করে।

যকৃতের জন্য উপকারী –

কিসমিস লিভারের জন্য খুব উপকারী। এটি লিভারকে সুস্থ রাখে, তাই লিভারের রোগীদের প্রতিদিন কিসমিস খাওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ফুলকপির মজাদার রেসিপি

ফুলকপিতে আছে ওজন কমানো ও হজমশক্তি বাড়ানোর জন্য ফাইবার; আছে কোলাইন, যা স্মৃতিশক্তির জন্য প্রয়োজন। এ ছাড়া অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে পূর্ণ এই ফুলকপি। এতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধী গুণ। ফলে প্রতিদিনের খাবারে শীতকালীন এই সবজির গুরুত্ব আছে অনেক।

বিভিন্নভাবে ফুলকপি খাওয়া যায়। শুধু একটু উদ্ভাবনী চিন্তার প্রয়োগেই ফুলকপি দিয়ে বানানো যায় সুস্বাদু সব খাবার। ফুলকপি দিয়ে বানানো খাবার একই সঙ্গে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ।

রেসিপি দিয়েছেন জিনাত নাজিয়া, সেলিনা আক্তার ও শুভাগতা গুহরায়।বিজ্ঞাপন

ফুলকপির ভাজা ভাত

উপকরণ

ফুলকপি ১টি (মাঝারি), ডিম ৩টি (তেলে দিয়ে ঝুরি করে নিন), মুরগির বুকের মাংস ১ কাপ (কিউব করে কাটা), বরবটি ১ কাপ, গাজর ১ কাপ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, পেঁয়াজপাতা পরিমাণমতো, লবণ পরিমাণমতো, তেল/ঘি/বাটার অয়েল ৩ টেবিল চামচ, ম্যাগি সস ২ চা-চামচ।

ফুলকপির ভাজা ভাত
ফুলকপির ভাজা ভাত

প্রণালি

ফুলকপি পরিষ্কার করে ধুয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। প্যানে তেল দিয়ে মুরগির মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। গাজর ও বরবটি দিতে হবে। সয়া সস, গোলমরিচের গুঁড়া দিয়ে লবণ দিন। ভালো করে মেশাতে হবে। তারপর ব্লেন্ড করা ফুলকপি দিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়ুন। ভালো করে মিশিয়ে পেঁয়াজপাতা ছড়িয়ে পরিবেশন করতে হবে।

বেকড ফুলকপির রোস্ট

উপকরণ

আস্ত ফুলকপি ১টি, মিহি থেঁতলানো রসুন ১ টেবিল চামচ, জলপাইয়ের তেল সিকি কাপ, শর্ষে পেস্ট ২ টেবিল চামচ, লেবুর মিহি খোসা ১ চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, পাপরিকা আধা চা-চামচ, মেশানো হার্বস ১ চা-চামচ, লেবুর রস ২ চা-চামচ, মধু দেড় টেবিল চামচ, গ্রেট করা পনির সিকি কাপ, লবণ সিকি চা-চামচ।

বেকড ফুলকপির রোস্ট
বেকড ফুলকপির রোস্ট

প্রণালি

আস্ত ফুলকপির পাশের ডাঁটাগুলো কেটে ধুয়ে রাখুন। একটি বড় হাঁড়িতে অনেকটা পানি দিয়ে চুলায় বসান। ২ টেবিল চামচ লবণ দিন এবং পানি ফুটে উঠলে আস্ত ফুলকপি দিয়ে দিন। ২ মিনিট রেখে তুলে নিন। কিচেন টাওয়েল দিয়ে খুব ভালো করে মুছে নিন। ওভেন ২২০ ডিগ্রিতে ১০ মিনিটের জন্য প্রিহিটে দিন। একটি বাটিতে থেঁতলানো রসুন, জলপাইয়ের তেল, শর্ষে পেস্ট, গোলমরিচগুঁড়া, মেশানো হার্বস, লেবুর রস, মধু, পাপরিকা, লেবুর খোসা, লবণ একসঙ্গে খুবভালো করে মিশিয়ে ড্রেসিং তৈরি করে নিন। ফুলকপির ওপর ড্রেসিং ব্রাশ করে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। এবার ফুলকপির ওপর গ্রেট করা চিজ ছড়িয়ে প্রিহিটেড ওভেনে বেক করুন ৪০ মিনিট। ওভেন থেকে বের করে ওপরে ড্রেসিং ছড়িয়ে গরম-গরম পরিবেশন করুন।বিজ্ঞাপন

ফুলকপির ক্রিম স্যুপ

উপকরণ

চিকেন স্টক ৩ কাপ, ফুলকপির টুকরা ২ কাপ, মাশরুমকুচি ২ টেবিল চামচ, রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ৩ টেবিল চামচ, দুধ আধা কাপ, ময়দা ২ টেবিল চামচ, মাখন ৫০ গ্রাম, কুকিং ক্রিম এক কাপের ৩ ভাগের ১ ভাগ, সাদা গোলমরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, লেবুর রস সামান্য ও পার্সলেকুচি ১ টেবিল চামচ।

ফুলকপির ক্রিম স্যুপ
ফুলকপির ক্রিম স্যুপ

প্রণালি

প্রথমে চুলায় অর্ধেক মাখন দিয়ে রসুন সামান্য ভেজে নিন। পেঁয়াজকুচি দিয়ে একটু ভেজে ফুলকপির টুকরাগুলো দিয়ে দিতে হবে। ফুলকপি খুব ভালো করে ভেজে নিন। ভালো করে ভাজা হলে ১ কাপ চিকেন স্টক দিয়ে দিন। ফুলকপি নরম হয়ে এলে নামিয়ে একটু ঠান্ডা করে ব্লেন্ড করে পেস্ট করে রাখুন। আবার প্যান দিয়ে বাকি মাখন ও মাশরুম দিয়ে একটু ভেজে নিন। ময়দা দিয়ে ভেজে নিন। ময়দার রং পরিবর্তন হলে দুধ দিয়ে খুব ঘন ঘন নাড়তে থাকুন। এরপর একে একে চিকেন স্টক, ফুলকপির পেস্ট দিয়ে দ্রুত নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলে ক্রিম ও গোলমরিচের গুঁড়া দিন। হয়ে এলে নামানোর আগে পার্সলেকুচি ও লেবুর রস দিয়ে নামিয়ে নিন। পরিবেশন করুন গরম-গরম।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো, চিলি ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

মচমচে ফুলকপি
মচমচে ফুলকপি

প্রণালি

ফুটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির পাকোড়া

উপকরণ

ফুলকপি ১টা, চালের গুঁড়া সিকি কাপ, বেসন সিকি কাপ, মরিচগুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া সিকি চা-চামচ, গোলমরিচের গুঁড়া সিকি চা-চামচ, ব্রেড ক্রাম্ব ২ টেবিল চামচ, লবণ স্বাদমতো ও তেল প্রয়োজনমতো (ডুবোতেলে ভাজার জন্য)।

ফুলকপির পাকোড়া
ফুলকপির পাকোড়া

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো একটা একটা করে খুলে নিন এবং লবণপানিতে ভাপিয়ে নিন। একটা চালনিতে ফুলকপির টুকরাগুলো ঢেলে পানি ঝরতে দিন। এবার একটা পাত্রে সব মসলা, চালের গুঁড়া ও বেসন নিয়ে আন্দাজমতো পানি মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। ফুলকপিগুলো চালের মিশ্রণে ভালো করে মেখে নিন। এবার বিস্কুটের গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে নিন। একটা কড়াইয়ে তেল গরম করে ফুলকপির টুকরাগুলো ভাজুন। গাঢ় বাদামি রং হলে তেল থেকে তুলে নিন এবং সসের সঙ্গে গরম-গরম পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ওজন নিয়ন্ত্রণে ফুলকপির ভাত

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে সুস্থ ও সুন্দর দেহ-মন অর্জন করা এবং বজায় রাখার তাগিদ এখন সারা বিশ্বে সবার মধ্যেই। হৃদ্‌রোগ, ডায়বেটিস, উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুরু করে শরীরের ব্যথাবেদনা, হাড়ক্ষয়, বাতের সমস্যা—এসব রোগের প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়ও ওজন কমানো ও নির্দিষ্ট মাত্রায় রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। এমনকি করোনা মহামারিতেও দেখা যাচ্ছে মরবিড অবেসিটি বা বিপজ্জনক রকমের বেশি ওজন এই রোগের ভয়াবহতা ও প্রকারান্তরে মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ।বিজ্ঞাপন

ওজন নিয়ন্ত্রণে লো কার্ব ডায়েট ও কলিফ্লাওয়ার রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত
কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপির ভাত

নিজের শরীর স্লিম আর ফিট রাখতে যুগে যুগে বহু বিশেষায়িত ডায়েট বা নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের দ্বারস্থ হয়েছে মানুষ। এরই ধারাবাহিকতায় কম শর্করা গ্রহণের মূলমন্ত্র নিয়ে বহু ধরনের লো কার্ব ডায়েট অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করে অনেকেই দ্রুত সুফল পেয়েছে। এসব লো কার্ব ডায়েটের মধ্যে আছে একসময়ে সাড়া জাগানো এটকিন্স ডায়েট, প্যালেও ডায়েট আর হাল আমলে সবার মুখে মুখে ফেরা বিখ্যাত কিটোজেনিক ডায়েট বা কিটো ডায়েট। কম শর্করাযুক্ত খাবারের সমন্বয়ে করা লো কার্ব ডায়েট মানে কিন্তু না খেয়ে থাকা নয়। এ ক্ষেত্রে শর্করাজাতীয় খাবারের বিকল্প বিভিন্ন খাবার খেয়ে অত্যন্ত কার্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। তবে আমাদের মতো ভেতো বাঙালিসহ আরও যেসব দেশের মানুষ ভাত না খেয়ে থাকতে পারে না, তাদের জন্য ভাতের এক চমৎকার বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস বা ফুলকপি ভাত।

কলিফ্লাওয়ার রাইস কী

গোটা ফুলকপি কুরিয়ে বা গ্রেট করে দানাদার চালের মতো তৈরি করে তা ভাতের বিকল্প কলিফ্লাওয়ার রাইস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সবজি কুরানোর যন্ত্রে হাতে গ্রেট করে অথবা ব্লেন্ডারে হালকাভাবে ফুলকপির ফুলগুলো ব্লেন্ড করে নিলেই হয়ে গেল ফুলকপির চাল। এবার এই চাল দিয়ে অনায়াসে রান্না করা যায় ফ্রাইড রাইস, পোলাও, বিরিয়ানি। নিজস্ব খুব কড়া কোনো স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ না থাকায় চাল দিয়ে তৈরি করতে হয়—এমন যেকোনো রেসিপিতেই সুন্দরভাবে খাপ খেয়ে যায় কলিফ্লাওয়ার রাইস।আরও পড়ুনচাল ছাড়াই ফ্রায়েড রাইস

কলিফ্লাওয়ার রাইসের ইতিকথা

সেই ১৮৬৩ সালে লো কার্ব বা কম শর্করার ডায়েটের ওপরে বই লিখে ওজন সচেতন মানুষের মনে সাড়া জাগিয়েছিলেন ব্রিটিশ এক ফিটনেস এক্সপার্ট। এরপর ২০০২ সালের দিকে ব্যায়ামবিজ্ঞানী লরেইন কোর্ডেনের ‘প্যালেও ডায়েট’ বইয়ে প্রথম চালের ভাতের বদলে কলিফ্লাওয়ার রাইস খাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হয়। আর এখন তো কলিফ্লাওয়ার রাইস সারা বিশ্বেই সমাদৃত।বিজ্ঞাপন

কলিফ্লাওয়ার রাইস বনাম চালের ভাত

দানাদার ও সাদা ফুলকপি ভাত দেখতে ও খেতে কিছুটা হলেও ভাতের আমেজ দেয় আমাদের। অথচ এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে। নেট শর্করার পরিমাণও ভাতের তুলনায় প্রায় ১৮ ভাগের ১ ভাগ। এ ছাড়া ফুলকপির পুষ্টিগুণের ব্যাপারটা তো আছেই!

এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে
এক কাপে ভাতের তুলনায় প্রায় ৮০ ভাগ কম ক্যালরি থাকে ফুলকপির ভাতে

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপকারিতা

কলিফ্লাওয়ার রাইসের উপাদান হচ্ছে গোটা তাজা ফুলকপি। শীতকালের এই ভরা মৌসুম মানেই ফুলকপির বড়া, ফুলকপির তরকারি, ফুলকপির শিঙাড়া। কিন্তু এই অভিনব কলিফ্লাওয়ার রাইস খেলে কম শর্করা খাওয়ার উপকারের পাশাপাশি ফুলকপির অনন্য পুষ্টিগুণ পাব বাড়তি পাওনা হিসেবে। ফুলকপির গুণের কথা তো বলে শেষই করা যায় না। তাও দেখে নেওয়া যাক এর প্রধান উপকারিতা আর উপযোগিতাগুলো।

পুষ্টিকর সবজি ফুলকপিতে আছে অপ্রত্যাশিত পরিমাণে ভিটামিন সি। তবে উচ্চতাপে নষ্ট হয়ে যায় বলে একমাত্র কাঁচা কলিফ্লাওয়ার রাইসেই যথার্থ ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পানি না দিয়ে অল্প তাপে তাড়াতাড়ি নেড়েচেড়ে কোরানো ফুলকপি স্টারফ্রাই করলেও কিছুটা অক্ষুণ্ন থাকে ভিটামিন সি। এ ছাড়া এতে আছে যথেষ্ট ভিটামিন বি৬, ভিটামিন কে, ম্যাংগানিজ ও পটাশিয়াম। তবে কোলিন নামের আধুনিক কালে আবিষ্কৃত এক বিশেষ পুষ্টি উপাদান উদ্ভিজ্জ উৎসের মধ্যে একমাত্র ফুলকপিতেই পাওয়া যায় খুবই ভালো পরিমাণে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই কোলিন আমাদের হার্ট, লিভার, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ক্যানসার গবেষণায় উঠে এসেছে, ব্রকলি ও ফুলকপির বিশেষ অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট ক্যানসারের জন্য দায়ী কারসিনোজেনের বিরুদ্ধে ভালো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।

ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি
ফুলকপি ভাতের মূল উপাদান ফুলকপি

আমাদের বাঙালি স্বাদগ্রন্থির পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি আর গলা অবধি উদরপূর্তির অভ্যাসের নিরিখে দেখতে গেলে ফুলকপি ভাতের ভবিষ্যৎ আপাতদৃষ্টিতে খুব উজ্জ্বল মনে না হলেও বাস্তবতা কিন্তু অন্য কথা বলে। কলিফ্লাওয়ার রাইসের ফাইবার আর পানির উপস্থিতির কারণে ভাতের বদলে খেলে কিছুটা হলেও পেট ভরে আর তৃপ্তি মেলে। আর বর্তমান সময়ে যখন অতিরিক্ত ওজনের ফলে বিভিন্ন মারাত্মক রোগ বেড়েই চলছে হু হু করে আমাদের দেশে, তখন শর্করার বিকল্প হিসেবে এই ফুলকপি ভাতের গুরুত্ব ও আবেদন স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে অবশ্যই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, বিশেষত পশ্চিমা দেশগুলোয় এর জনপ্রিয়তার কারণেও আমরা ধীরে ধীরে এই কিটোজেনিক লো কার্ব রাইসের দিকে আগ্রহী হচ্ছি। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমাদের সমাজের ফিটনেস–সচেতন মানুষের প্লেটেও ঘরে ঘরে নিত্যদিন শোভা পাবে ফুলকপি চালের পোলাও অথবা ফ্রাইড কলিফ্লাওয়ার রাইস।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উপকারী ফুলকপির পাঁচ পদ

চলছে শীতকাল। বাজারে গেলেই এখন দেখা যায় টাটকা ফুলকপি। বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজিটি আমাদের রান্নাঘরে দীর্ঘদিনের বন্ধু। ভেজে, ভাপিয়ে, ঝোল ঝোল করে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে, বিভিন্নভাবেই খাওয়া যায় এটি। ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন খাদ্য উপাদান আমাদের সর্দি-কাশি, জ্বর জ্বর ভাব থেকে যেমন বাঁচায়, তেমনি বাঁচায় অকালে দাঁত লাল হয়ে যাওয়া, মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকেও। এ ছাড়া এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

তাই এই শীতকালে যত ইচ্ছা ফুলকপি খান। এখন এটি দামেও সস্তা। রেসিপি দিয়েছেন কবিতা গোস্বামীজিনাত নাজিয়া

ফুলকপির ফুলকারি

উপকরণ:

মাঝারি আকারের ফুলকপি ১টি, আলু ২টি, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, জিরা ২ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ২টা, তেজপাতা ২টা, জিরাবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, কাজু বাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, কাঁচা মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, পানি পরিমাণমতো, সাজানোর জন্য কিশমিশ ও ভাজা কাজুবাদাম।

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো সমানভাবে কেটে লবণপানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর লবণ ও হলুদ দিয়ে মেখে নিন।

কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে লবণ-হলুদ মাখানো ফুলকপির টুকরা লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ওই তেলে শুকনা মরিচ, জিরা, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে আলু ভাজতে হবে। লবণ ও হলুদ দিয়ে এরপর জিরা, ধনে, আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, শুকনো মরিচগুঁড়া, চিনি এবং অল্প পানি দিয়ে কষাতে হবে। কপি নরম হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে কাজুবাদামবাটা, গরমমসলা দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে ভাজা কাজু দিয়ে সাজিয়ে নিন।

মালাই ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপি ১টি, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, কাজুবাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, টমেটোকুচি আধা কাপ। হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ করে। এলাচ ও কাঁচা মরিচবাটা আধা চা-চামচ করে। তেজপাতা ও দারুচিনি ২-৩টি করে, দুধ দেড় কাপ, ক্রিম আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, টক দই আধা কাপ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, কিশমিশ অল্প পরিমাণে।

প্রণালি

ফুলকপির ফুল ছাড়িয়ে নিন। প্যানে অল্প ঘি দিয়ে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার এতে বাকি ঘি দিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি ভেজে নিন। এতে কাজুবাদাম ছাড়া অন্য সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তিন মিনিট পর দই দিন। আরেকটু কষিয়ে অল্প দুধ দিন। মসলা ভাজা-ভাজা হলে টমেটো ও ভাজা ফুলকপি দিয়ে আবার একটু দুধ দিয়ে কষান। একটু পর বাকি দুধ দিয়ে ঝোল ঝোল করে নিন। ফুটে উঠলে অল্প দুধে কাজুবাদামবাটা গুলে দিন। এই রান্নায় পানি দেওয়া যাবে না। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে এলে ক্রিম দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে চিনি ও কিশমিশ দিয়ে নামান।

ফুলকপির ফুলবাহার

উপকরণ:

ছোট করে কাটা ফুলকপির ফুল ৩ কাপ, কালোজিরা ১ চা-চামচ, শুকনো মরিচ ২-৩টি, মাখন ৪ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ করে। টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ। লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, জিরার গুঁড়া সামান্য, ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালি

অল্প মাখনে ফুলগুলো এক মিনিট ভেজে নামান। এবার মাখনে শুকনা মরিচ ও কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে আদা ও রসুনকুচি ভেজে নিন। এতে ফুলগুলো দিয়ে লবণ দিন। আধা সেদ্ধ হয়ে এলে সস ও সয়া সস দিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে দিন। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরার গুঁড়া দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওপরে একটু মাখন দিয়ে নামান।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো সস, চিলি সস ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

ফোটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির রাজ কোফতা

উপকরণ:

কুচি করা ফুলকপি ৪ কাপ, গরু বা খাসির মাংসের কিমা বাটা ১ কাপ, মিহি পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, আদাকুচি ১ চা-চামচ। কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও লবণ স্বাদমতো। গোলমরিচ গুঁড়া ও চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে। টমেটোকুচি আধা কাপ, ব্রেড ক্রাম্ব ও কর্নফ্লাওয়ার আধা কাপ বা পরিমাণমতো। ডিম ২টি, কাজুবাদাম ও কিশমিশকুচি ২ টেবিল চামচ করে, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

তেল ছাড়া সব উপকরণ ফুলকপির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে অল্প তেল নিয়ে কোফতা বানিয়ে ডুবোতেলে মচমচে করে ভেজে তুলুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ভেষজ উদ্ভিদের চাষঃ গুরুত্ত ও সম্ভাবনা

সৃষ্টির শুরু থেকেই পৃথিবীতে মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ভেষজ ওষুধ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর প্রায় সর্বত্রই যুগ যুগ ধরে বিভিন্নরূপে ও বিভিন্ন নামে মানুষের স্বাস্থ্য পরিচর্যায় ভেষজ ওষুধ ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলিত ও প্রযুক্তি বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষতার কারণে বর্তমান যুগে ভেষজ ওষুধের উপযোগিতা শেষ হয়েছে বলে অনেকে মনে করলেও সে ধারণা দিনে দিনে ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। নব নব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারে ভেষজ ওষুধ প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ হচ্ছে। ভেষজ ওষুধ অবশ্যই বিজ্ঞানসম্মত ও কার্যকরী ওষুধ। এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ বা বিতর্কের অবকাশ নেই। ভেষজ ওষুধের গুণাগুণ ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত সামগ্রিকভাবে ওষুধ বিজ্ঞান তথা আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধও সমভাবে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে। কারণ এসব ওষুধের আদি ও মূল ভিত্তিও ভেষজ উদ্ভিদ এবং এখনো অসংখ্য আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ সরাসরি উদ্ভিজ্জ দ্রব্য এবং সেগুলোর নিষ্কাশিত রাসায়নিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়ে থাকে।

ভেষজ উদ্ভিদ চাষের যৌক্তিকতা
• ভেষজ ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল বিভিন্ন ঔষধি উদ্ভিদ উৎস থেকে সংগ্রহ বা আহরণ করা হয়। সাধারণত বনে-জঙ্গলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মে থাকা ঔষধি উদ্ভিদ থেকেই ভেষজ ওষুধের কাঁচামাল সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে জমিতে চাষকৃত উৎস থেকে ঔষধি উদ্ভিদ সংগ্রহ বাঞ্ছনীয়, নাহলে একসময় প্রকৃতি ভেষজ উদ্ভিদশূন্য হয়ে পড়বে। তাছাড়া চাষকৃত ভেষজ উদ্ভিদের গুণগতমান অনেক উন্নত হয়ে থাকে। চাষের আওতায় ঔষধি উদ্ভিদের উৎপাদন ও আহরণ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণ করে সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে তা সংগ্রহ করার সুযোগ থাকে। বন্য উৎস থেকে সংগৃহীত কাঁচামালের ক্ষেত্রে এ ধরনের নিশ্চয়তা থাকে না। এ ক্ষেত্রে ভুল উদ্ভিদ ও দ্রব্য আহরণের যেমন আশঙ্কা থাকে তেমনি অসময়ে আহরিত নিম্নমানের কাঁচামাল সরবরাহেরও প্রচুর সুযোগ থাকে। অসময়ে, অপ্রাপ্ত বয়সে ও ভ্রান্ত পদ্ধতিতে সংগৃহীত ঔষধি উদ্ভিদ দ্বারা ভেষজ ওষুধ তৈরি হলে তা কখনো গুণগত মানসম্পন্ন হয় না।

• ভেষজ উদ্ভিদ যথেষ্ট মাত্রায় পরিবেশবান্ধব। প্রায় সব ভেষজ উদ্ভিদেরই পরিবেশ বিশুদ্ধকরণের ৰমতা রয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ বাতাসে বিরাজমান বিভিন্ন রোগ জীবাণুকে প্রাকৃতিকভাবে বিনষ্ট করতে সক্ষম। তাই অধিকহারে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ আমাদের ক্রমশ দূষিত হয়ে পড়া পরিবেশ বিশুদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

• অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদ চাষে কৃত্রিম কীটনাশক ও সার প্রয়োজন হয় না। অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদ থেকে সারা বছর ধরে অথবা খুব অল্প সময়ে ফল বা প্রয়োজনীয় অংশ সংগ্রহ করা যায়। এ কারণে তুলনামূলকভাবে ভেষজ উদ্ভিদ চাষে বিনিয়োগ অনেক কম কিন্তু লাভ বেশি।
• মাশরুমসহ আরো বেশ কিছু ভেষজ উদ্ভিদ রয়েছে যা চাষে জায়গা খুবই কম লাগে, তাই ভূমিহীন বা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ভেষজ উদ্ভিদ চাষ উপযোগী।
• আর্থিক বিশ্লেষণে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ অন্য যেকোনো কৃষির চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক।
• দেশে-বিদেশে ভেষজ উদ্ভিদের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে ভেষজ উদ্ভিদ বিক্রি বা বাজারজাতকরণে কৃষককে তেমন বেগ পেতে হযনা। এ কারণে ভেষজ উদ্ভিদের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে ভেষজ উদ্ভিদ বিক্রি বা বাজারজাতকরণে কৃষককে তেমন বেগ পেতে হয় না। এ কারণে ভেষজ উদ্ভিদ চাষে ঝুঁকি কম।
• ভেষজ উদ্ভিদ চাষ অপেক্ষাকৃত কম শ্রমসাধ্য। ভেষজ উদ্ভিদে খুব বেশি পরিচর্যা প্রয়োজন হয় না, তাই নারীর অংশগ্রহণে পারিবারিক পর্যায়ে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ সম্ভব।
• দেশে ব্যাপকভাবে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ সম্ভব হলে ভেষজ চিকিৎসা ও ভেষজ ওষুধ আরো বেশি সহজলভ্য হবে, ফলে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে।

ভেষজ উদ্ভিদের ব্যবহার
বাংলাদেশে বার্ষিক কী পরিমাণ ভেষজ উদ্ভিদ ব্যবহৃত হয় তার কোনো সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তবে আমাদের দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ শতাধিক ইউনানী ও ২ শতাধিক আয়ুর্বেদিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে বহু ভেষজ প্রসাধনী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে বছরে ২০ হাজার টনেরও বেশি ভেষজ কাঁচামালের চাহিদা রয়েছে বলে জানা যায়। বাংলাদেশে প্রতি বছর সাড়ে ৩০০ থেকে পৌনে ৪০০ কোটি টাকার ভেষজ সামগ্রী আমদানি করা হয়। এগুলো সাধারণত ভেষজ ওষুধ ও প্রসাধন সামগ্রী তৈরির কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

ভেষজ উদ্ভিদ চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
ভেষজ উদ্ভিদ চাষ অন্য যেকোনো ফসল চাষের চেয়ে বহুগুণ বেশি লাভজনক এবং নিরাপদ। সমগ্র বিশ্বে ভেষজ উদ্ভিদের বিপুল চাহিদা রয়েছে। ভেষজ উদ্ভিদ রপ্তানি করে চীন প্রতি বছর আয় করে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারত আয় করে ৬ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়ার আয় ২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। শতভাগ রপ্তানি সম্ভাবনা ছাড়াও ভেষজ উদ্ভিদের চাষ করে কৃষক তুলনামূলক অধিক লাভ করতে পারেন। অধিকাংশ ভেষজ উদ্ভিদের চাষ প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। ভেষজ উদ্ভিদ চাষের ৰেত্রে সার ও কীটনাশকের ভূমিকা অত্যন্ত গৌণ, এ কারণে কৃষকের উৎপাদন খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। গুল্মজাতীয় ভেষজ প্রায় বিনা পরিচর্যা ও বিনা খরচে উৎপাদন সম্ভব, অথচ এসব উদ্ভিদের বাজারদর বেশ চড়া।

বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগেও বাণিজ্যিক আকারে ভেষজ উদ্ভিদের চাষ শুরু হয়নি। এর অন্যতম কারণ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। বর্তমানে আমাদের দেশে কৃষি ব্যবস্থায় যথেষ্ট আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ভেষজ উদ্ভিদ চাষ যেটুকু হচ্ছে তা মান্ধাতা আমলের মতো অথবা প্রাকৃতিকভাবেই হচ্ছে। ভেষজ উদ্ভিদ চাষে সংশ্লিষ্ট মহলকে আরো আন্তরিক হতে হবে। না হলে যথেষ্ট সম্ভাবনা এবং সুযোগ থাকার পরও আমাদের ভেষজ সম্ভাবনা অন্যান্য সম্ভাবনার মতোই মুখ থুবড়ে পড়বে। আমাদের দেশেও পর্যাপ্ত সরকারি এবং বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমরা অবশ্যই বিশ্বে ভেষজ উদ্ভিদ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করতে পারব, কারণ আমাদের রয়েছে ভেষজ উদ্ভিদ চাষ ও ব্যবহারের বংশ পরম্পরা ঐতিহ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com