আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

চীন

করোনাভাইরাস: রোগ জীবাণু নির্মূলে সচল হয়েছে রোবট

 হাসপাতালের ওয়ার্ডে জীবাণু নাশ করছে ইউভি রোবট
হাসপাতালের ওয়ার্ডে জীবাণু নাশ করছে ইউভি রোবট

“আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে যান, দরোজা বন্ধ রাখুন। এবং কিছুক্ষণের মধ্যে জীবাণুনাশকের কাজ শুরু হবে।“ ইংরেজিতে এই কথাগুলো বলছে একটা রোবট।

“এটা চীনা ভাষাতেও কথা বলতে পারে,” জানালেন ইউভিডি রোবটস কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইমন এলিস।

জানালার কাঁচের মধ্য দিয়ে দেখা গেল ঘরের মধ্যে রোবটটি ঘোরাফেরা করতে শুরু করেছে এবং ক্যামেরার ফ্ল্যাশ-বাতির মতো অতিবেগুনি রশ্মি জ্বেলে ঘরের সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস ধ্বংস করছে।

“আমাদের ব্যবসা এমনিতেই বেশ চড়া ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির পর এটা একেবারেই আকাশচুম্বী হয়েছে,” বলছেন ইউভি রোবটস কোম্পানির প্রধান নির্বাহী পের ইউল নিয়েলসেন।

এরই মধ্যে তারা চীনে, বিশেষভাবে উহানে, প্রচুর সংখ্যায় এই রোবট পাঠিয়েছেন।

এশিয়া এবং ইউরোপেও তাদের বিক্রি বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

“সবচেয়ে বেশি অর্ডার এসেছে ইতালি থেকে”, বলছেন মি. নিয়েলসেন, “তাদের অবস্থা সত্যি শোচনীয়। আমরাও চেষ্টা করছি তাদের যথাসম্ভব সাহায্য করতে।“

 উহানের এক হাসপাতালে জীবাণুনাশক রোবট।
উহানের এক হাসপাতালে জীবাণুনাশক রোবট।

স্বাভাবিকভাবেই ইউভিডি রোবটসের উৎপাদন বেড়ে তিনগুণ হয়েছে।

ডেনমার্কের তৃতীয় বৃহত্তম শহর ওডেনসে এই কোম্পানির কারখানায় প্রতিদিন একটা করে এধরনের জীবাণুনাশক রোবট নির্মাণ করা হচ্ছে।

যেভাবে কাজ করে এই রোবট

এই জীবাণুনাশক রোবটের রয়েছে আটটা বাল্ব, যেগুলো থেকে তীব্র অতিবেগুনি অর্থাৎ আলট্রা-ভায়োলেট বা ইউভি-সি আলোকরশ্মি বের হয়।

এই আলোকরশ্মি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক জীবাণুর ডিএনএ এবং আরএনএ ধ্বংস করে যাতে এগুলো সংখ্যায় আর বাড়তে না পারে।

তবে এই অতিবেগুনি রশ্মি মানবদেহের জন্যও খুবই ক্ষতিকারক।

তাই এই রোবট কাজ করার সময় ঘরে কোন মানুষ উপস্থিত থাকার নিয়ম নেই।

পুরো ঘরের জীবাণু ধ্বংস করতে রোবটটির ১০ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।

 ইউভি রোবটসের কারখানায় উৎপাদন বেড়েছে তিনিগুণ।
ইউভি রোবটসের কারখানায় উৎপাদন বেড়েছে তিনিগুণ।

এই রোবট তৈরিতে সাহায্য করেছে ইউনিভার্সিটি অফ সাদার্ন ডেনমার্ক।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিকাল মাইক্রোবায়োলজির অধ্যাপক হান্স ইয়র্ন কলমোস বলছেন, “এমন অনেক খারাপ জীবাণু আছে যেগুলো আপনার দেহে সংক্রমিত হতে পরে।“

“কিন্তু আমাদের দেহে যদি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অতিবেগুনি রশ্মির ডোজ দেয়া যায়, তাহলে এধরনের ক্ষতিকারক জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।“

এই রোবটের নির্মাণ শুরু হয় ২০১৯ সালে। এর দাম ৬৭ হাজার ডলার।

তবে এগুলো সুনির্দিষ্টভাবে করোনাভাইরাস নির্মূল করতে পারে কিনা, তার জন্য আলাদা করে কোন পরীক্ষা চালানো হয়নি।

কিন্তু মি. নিয়েলসেন বিশ্বাস করেন এই রোবট করোনাভাইরাসকেও ধ্বংস করতে সক্ষম।

“সার্স এবং মার্স-এর সাথে করোনাভাইরাসের অনেক দিক থেকেই মিল রয়েছে। এবং আমরা জানি যে ইউভি-সি আলোকরশ্মি দিয়ে এগুলো ধ্বংস করা সম্ভব,” বলছেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সহযোগী অধ্যাপক ড. লেনা সিরিচও মনে করেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইউভি রোবট হতে পারে একটি মোক্ষম অস্ত্র।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোটেক

এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃষিযন্ত্রের প্রদর্শনী চীনে

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো গাছটি চীনে!

পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো গাছটি চীনে!
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো গাছটি চীনে!

চীনে এক হাজার ৩০০ বছরের পুরনো গাছের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। এটিকে বলা হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো গাছ। টেক্সাস চাইনেনসিস নামে ওই গাছটি বিপন্ন প্রজাতির বলে জানিয়েছেন তারা। গাছটির ডাক নাম ইউ।

চীনের হুনান প্রদেশের দোংগান কাউন্টির ইয়ংঝাউ শহরের কাছে শুনহুয়াংশান জঙ্গলে গাছটি দেখতে পান গবেষকদল। বিপন্ন প্রজাতির এই গাছটি পৃথিবীতে আগে অহরহ দেখা যেত। কিন্তু গাছটির ক্যান্সার নিরাময় ক্ষমতা প্রকাশ্যে আসতেই দু‌র্যোগ ঘনায়। চীনে পুরনো বৃক্ষশুমারি চলাকালে সন্ধান পাওয়া যায় পুরনো এ গাছটির।

৩৫ মিটার উঁচু ও ২.২ মিটার চওড়া গাছটিকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আগলে রেখেছেন গ্রামবাসীরা। মূল গাছটির দু’পাশে রয়েছে আরও দু’টি গাছ।

পৃথিবীতে এখন ২৫ লক্ষ এই প্রজাতির গাছ রয়েছে। কেবলমাত্র উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশেই বাড়তে পারে এ গাছ। ভারতের অরুণাচল প্রদেশেও এই প্রজাতির দেখা মেলে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

চীন

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি
১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

এখানে ভাষা চুপ করিয়া আছে, প্রবাহ স্থির হইয়া আছে, মানবাত্মার অমর আলোক কালো অক্ষরের শৃঙ্খলে কাগজের কারাগারে বাঁধা পড়িয়া আছে। লাইব্রেরিকে এভাবেই বর্ণনা করেছে কবিগুরু রবি ঠাকুর। আবার বলা হয়ে থাকে যে জাতির লাইব্রেরি যত উন্নত সেই জাতি তত উন্নত। 

সেই পথেই হাটছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি গণচীন। দেশটির তিয়ানজিন প্রদেশের বিনহাই জেলায় গড়ে তোলা হয়েছে একটি লাইব্রেরি। যেটি বইপ্রেমীদের কাছে যেন স্বর্গের মতো। যেখানে ঠাই পেয়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তের শ্রেষ্ঠ ১২ লাখ বই। জ্ঞানপিপাসুদের জন্য এক জ্ঞানসমুদ্র গড়ে তুলেছে তিয়ানজিয়ান।

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি
১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

এছাড়া চমকপ্রদ অবকাঠামো হতবাক করবে সবাইকে। লাইব্রেরিটিতে রয়েছে  বিশাল গোলাকার অডিটোরিয়াম। এর ভিতরটা সম্পূর্ণ সাদা রঙের। বই রাখার তাকগুলো অনেকটা স্টেডিয়ামের গ্যালারির আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। বই পড়তে চাইলে পাঠককে সিঁড়ি দিয়ে উঠে যেতে হবে তাকের উপর। এরপর তাকের উপর বসেই পড়া যাবে বই।

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি
১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

চীনের দৃষ্টিনন্দন লাইব্রেরিকে বলা হয়ে থাকে ‘বিনহাইয়ের চোখ’। বাইরে থেকে লাইব্রেরিটা দেখতে চোখের মতো মনে হবে। লাইব্রেরি ভবনটি ডিজাইন করেছে ‘এমভিআরডিভি’ নামের একটি ডাচ প্রকৌশলী প্রতিষ্ঠান। সহযোগিতায় ছিল তিয়ানজিন প্রদেশের আরবান প্ল্যানিং অ্যান্ড ডিজাইন ইন্সটিটিউট। 

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি
১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

এটি নির্মিত হয়েছে ৩৪ বর্গ মিটার জমির উপর। নির্মাণে সময় লেগেছে তিন বছর। এতে একটি বিশ্রামাগার, বেশ কিছু সেমিনার রুম ও কম্পিউটার ক্যাফে রয়েছে।

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি
১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

লাইব্রেরিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য পাঠকদের যথেষ্ট ব্যক্তিস্বাধীনতা রয়েছে এতে। বলা হচ্ছে, এটি বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক লাইব্রেরিগুলোর একটি। তবে লাইব্রেরির সৌন্দর্য বইয়ের উপর থেকে পাঠকের মনোযোগ কেড়ে নিলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। 

১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি
১২ লাখ বইয়ে গড়া এক লাইব্রেরি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

চীনে পানিবিহীন হাঁসের খামার

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

চীনের শ্যাংডং পোল্ট্রি ফার্মের আদর্শ ভূমি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com