আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

করোনাভাইরাস টিকবে না, এটাই আশার কথা

আমরা ফেলে আসছি একটা ভয়াবহ বছর ২০২০। করোনাভাইরাস। আর সামনে আসছে সম্ভাবনাময় একটি বছর ২০২১। আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি এই সন্ধিক্ষণে। একদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তার, আর অন্যদিকে করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা আবিষ্কার এবং তার সফল প্রয়োগে করোনামুক্ত বিশ্বের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। একদিকে করোনার অতিমারি, অগণিত মৃত্যু আর চাকরি হারিয়ে দারিদ্র্যহার বৃদ্ধির কালো অধ্যায়, অন্যদিকে দ্রুত টিকার প্রয়োগে ভয়হীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়।

এই অভিশপ্ত বছর ২০২০-এর শুরুতে আমরা ভাবতেও পারিনি, করোনা সারা বিশ্বে এমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে কোভিড-১৯–এ সংক্রমিত হয়েছেন ৮ কোটির বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ। আর বাংলাদেশে আক্রান্ত ৫ লাখের বেশি, মৃত্যু সাড়ে ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। কে, কখন, কীভাবে আক্রান্ত হবেন, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই বা থাকলেও মনে করি, কিছু হলে হোক। এ কারণে রোগটাকে সহজে বাগে আনতে পারছি না।

এই রোগ ছড়ায় শুধু করোনায় সংক্রমিত মানুষ থেকে মানুষে এবং শুধু নাক-মুখের মাধ্যমে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে। হাঁচি-কাশির সময় মুখ থেকে যে বিন্দু বিন্দু পানিকণা বা ড্রপলেট ছড়ায়, সেটাই অন্যকে সংক্রমিত করে। আমরা সেটা জানলেও অনেকে পাত্তা দিই না। এ কারণে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এখন বিশ্বে চলছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। বাংলাদেশেও তার ধাক্কা লেগেছে। নতুন বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে নাকি সংক্রমণ ও মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি। বিশেষজ্ঞরা সে রকমই ধারণা করছেন।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ও ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি। ডাক্তার-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সামনের কাতারে কাজ করছেন—এমন ব্যক্তিদেরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাহলে বাদ থাকছেন কে?

একটি দেশ চলতে এবং দেশের মানুষের খেয়েপরে বেঁচে থাকতে হলে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা দরকার, সেটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় দিনই আমরা খবর পাই, চাকরি বা উপার্জনের উপায় হারিয়ে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। সেখানেই–বা উপার্জনের সুযোগ কোথায়?

করোনার এই দুঃসময়ে দেশের নারীরা রয়েছেন সাংঘাতিক বিপদে। প্রতিদিন তাঁরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত নারীদের পাশে দাঁড়াবেন কে? তা ছাড়া স্কুল-কলেজ বন্ধ। ঘরে বন্দী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের মন ভেঙে পড়ছে। তাদের সৃজনশীলতা অঙ্কুরেই ধ্বংস হচ্ছে। তাদের একটা বড় অংশ পরে হয়তো আর স্কুল-কলেজে ফিরে যেতে পারবে না। নতুন বছরে বিশ্ব হয়তো পাবে শিক্ষাবঞ্চিত কোটি কোটি শিশু-কিশোর। আগামী দিনে হয়তো মেধাসংকটে পড়বে বিশ্ব। বিশেষভাবে সমস্যাটা হবে অনুন্নত বিশ্বে। পিছিয়ে থাকা দেশগুলো আরও পিছিয়ে পড়বে।বিজ্ঞাপন

সামনে আলোর আভাস

কিন্তু আমরা আশাবাদী। কারণ, সামনে দেখছি উজ্জ্বল আলোর আভাস। অন্তত দুটি সম্ভাবনার জায়গা। একটি করোনার টিকা, আর অন্যটি মাস্ক। মাস্কের কথায় হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। মাস্কে তো শুধু অন্ধকার, শ্বাস গ্রহণে সমস্যা, সেখানে আবার আলোর কী চিহ্ন আছে? মাস্কের মাহাত্ম্য অনেকেই বুঝতে চাই না। সে কথায় পরে আসছি। প্রথমে আসি টিকার বিষয়ে।

মারাত্মক ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধে টিকার আবিষ্কার সাধারণত সময়সাপেক্ষ। পাঁচ থেকে ছয় বছর লাগে। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে মাত্র বছরখানেকের মধ্যেই আমরা কোভিড-১৯–এর টিকা পেয়েছি। অনেক দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও হয়তো মাসখানেকের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এটাই সবচেয়ে বড় সুসংবাদ। কারণ, টিকা দিলে দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। করোনার ভয় থাকবে না।

দু-তিন ধরনের টিকা আমাদের সামনে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্না এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের টিকার কথা আমরা জানি। ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষের দেহে পরীক্ষা করা হয়েছে। তেমন কোনো গুরুতর উপসর্গের কথা শোনা যায়নি। আমরা নিশ্চিত, আগামী দিনগুলো ক্রমেই ভালোর দিকে যাবে। আবার কর্মচঞ্চল পৃথিবী আমরা ফিরে পাচ্ছি।

টিকার শুরু: আরএনএ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং

কোভিড-১৯–এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিজ্ঞানীদের যুদ্ধ শুরু হয় ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি, সাংহাইয়ে। সেদিন ভাইরোলজিস্ট ঝাং ইয়ংঝেন চীনের উহানে সার্সের মতো ভয়াবহ রোগ সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের (কোভিড-১৯) জিনোম অনলাইনে প্রকাশ করেন। এর ফলেই বিশ্বের বিজ্ঞানীরা নতুন করোনাভাইরাসের মূল প্রোটিন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলেন। গবেষণা শুরু করলেন এবং টিকা আবিষ্কারের পথ খুলে গেল। এ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নেচার-এ বিস্তারিত লেখা ছাপা হয়েছে (১৫ ডিসেম্বর ২০২০)।

করোনার আরএনএ ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। করোনার নতুন যেসব স্ট্রেইন সৃষ্টি হচ্ছে, তারও জিনোম এখন আমরা গবেষণায় বের করছি। আমাদের দেশেও কয়েক ধরনের স্ট্রেইনের করোনার সিকোয়েন্স আমরা বের করেছি। এসব গবেষণা টিকা আবিষ্কারে সাহায্য করছে।বিজ্ঞাপন

করোনার নতুন মিউটেশন: বর্তমান টিকায় কি কাজ হবে

যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন মিউটেশনে সবাই আতঙ্কিত। এটা বেশি দ্রুত ছড়ায়। বেশি মৃত্যুর ভয়ও অনেকে করছেন। সুতরাং টিকা যেটা আমরা পাচ্ছি, সেটা কি এই নতুন স্ট্রেইনের করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পরবে? যদি না পারে, তাহলে তো আরেক চক্করে পড়ব।

এ বিষয়ে সুখবর হলো, করোনাভাইরাসের মিউটেশন হলেও এর টিকা প্রায় সব ক্ষেত্রেই সুফল দেবে। টিকা শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে, তা মিউটেশনে রূপান্তরিত ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। সব ভাইরাসের ক্ষেত্রে এ রকম হয় না। যেমন প্রতিনিয়ত নিউমোনিয়া ভাইরাসের মিউটেশন হয়। তাই প্রতিবছর নতুন ফ্লু শট নিতে হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সে রকম হচ্ছে না। কেন? এ বিষয়ে বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ম্যাগাজিন (৯ অক্টোবর ২০২০) ও নেচার ম্যাগাজিনের নিউজ ফিচারে (৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সংশোধিত ১৬ সেপ্টেম্বর) বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।

মূল কথাটা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাসের রিসেপ্টার-বাইন্ডিং ডোমেইনের স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন হচ্ছে না। এই স্পাইক প্রোটিনই শ্বাসতন্ত্রের কোষের (সেল) রিসেপ্টার আঁকড়ে ধরে কোষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বংশবিস্তার করতে থাকে। অন্যদিকে, এই স্পাইক প্রোটিনই করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে অ্যান্টিবডিকে সাহায্য করে। যেহেতু মিউটেশন হলেও করোনার স্পাইক প্রোটিন প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাই বলা যায় করোনার টিকা প্রায় সব ধরনের রূপান্তরিত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কারণ, করোনার টিকা তৈরি করা হয়েছে মূলত করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে কেন্দ্র করে। রক্তে অ্যান্টিবডি এই স্পাইক প্রোটিন দেখলেই করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে পারে এবং তাকে ধ্বংস করে। সুতরাং কোনো মিউটেশনে যদি করোনার স্পাইক প্রোটিন অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে এখন ব্যবহৃত করোনার টিকা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে হয়তো করোনার স্পাইক প্রোটিনেও রূপান্তর ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে হয়তো নতুন ধরনের টিকা লাগবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা আছে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন।

তাই আমরা বলতে পারি, দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করাই এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের মতো দেশে ১৬ থেকে ১৭ কোটি মানুষের জন্য ২ ডোজ করে প্রায় ৩৫ কোটি ডোজ টিকা আমরা কত দিনে পাব এবং সবাইকে সেই টিকা আমরা কি সুষ্ঠুভাবে দিতে পারব?

এর উত্তর হলো একটাই— মাস্ক, মাস্ক, মাস্ক। যত দিন দেশের মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশ টিকা নিতে না পারবে, তত দিন আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্ত দরকার। মোটামুটি সুরক্ষা পাওয়ার উপায় হলো সব সময় সবার মাস্ক পরে বাইরে চলাফেরা করা।

মাস্ক মাস্ট

আমাদের অনেকেই বুঝতে চাই না যে মাস্ক পরলে শুধু আমার না, চারপাশের অন্য সবাই সুরক্ষা পায়। কেন? কারণ, আমি যে দু-তিন পরত কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করি, সেটা বাইরের বাতাসে করোনাভাইরাস বহনকারী ভাসমান ড্রপলেট আমার শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসে যেতে দিতে বাধা দেয়। এটাই আমার সুরক্ষা। কিন্তু একই সঙ্গে আমি যখন জোরে কথা বলি বা জোরে হাসি, হাঁচি-কাশি দিই, তখন আমার শ্বাসতন্ত্র থেকে তীব্র বেগে ড্রপলেট বের হয়ে চারপাশে খুব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। আমার মাস্ক তখন বাধা দেয় এবং আমার মুখের ড্রপলেট সামান্য দূরে গিয়েই মাটিতে পড়ে যায়। ফলে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। কিন্তু আমার মুখে যদি মাস্ক না থাকে এবং আমি যদি করোনায় সংক্রমিত হই, তাহলে আমার চারপাশের মানুষের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই আমরা বলি, সবাই মাস্ক পরুন। কারণ, কে জানে, আমি সংক্রমিত কি না? হয়তো লক্ষণগুলো দু-এক দিন পর প্রকাশ পাবে। ইতিমধ্যে মাস্কবিহীন অবস্থায় আমি বাইরে চলাফেরা করলে অন্যদের সংক্রমিত করব। তাই সবার মাস্ক পরা একান্ত প্রয়োজন। সবাই যদি মাস্ক পরি, তাহলে টিকা নিতে দেরি হলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মাস্ক পরার পাশাপাশি দিনে কয়েকবার যদি সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া ও বেশি ভিড়ের মধ্যে বেশিক্ষণ না থাকার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারি, তাহলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্তত ৯০ শতাংশ কমিয়ে ফেলা সম্ভব। অনেক বিশেষজ্ঞ এটা জানিয়েছেন।

ইসলাম

ফেরেশতারা কি দিন-রাত আল্লাহর হুকুম পালন করেন?

মানবীয় দুর্বলতা, ক্লান্তি, কামনা-বাসনাসহ সব পাপ কাজ থেকে মুক্ত ফেরেশতারা। তারা অবিরাম মহান আল্লাহর নির্দেশ পালন করে থাকেন। মহান আল্লাহ ফেরেশতাদের সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন-

‘বরং তারাতো সম্মানিত বান্দা তারা আগ বাড়িয়ে কথা বলতে পারে না এবং তারা তাঁরই আদেশে কাজ করে তাদের সামনে এবং পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন তারা শুধু তাদের জন্য সুপারিশ করেযাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট এবং তাঁর ভয়ে ভীত’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৬২৮)

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক ফেরেশতারা অনেক কাজ করে থাকেন। সব কাজই মহান আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ভরপুর। কোরআন-সুন্নায় ফেরেশতাদের যেসব কাজের বর্ণনা এসেছে; তাহলো-

১. আল্লাহর ইবাদত  তাসবিহ পড়া

ক্লান্তিহীনভাবে মানবীয় সব দুর্বলতামুক্ত হয়ে ফেরেশতারা সব সময় আল্লাহর গুণগান ও প্রশংসায় ব্যস্ত থাকে। তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আল্লাহর নির্দেশ পালনই তাদের কাজ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

> ‘আল্লাহ তাদের যে নির্দেশ দেন, তা তারা লঙ্ঘন করে না এবং তাদেরকে যে নির্দেশ দেয়া হয় তা তাঁরা পালন করে।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ৬)

> ‘আকাশ এবং জমিনে যারা আছে, তারা তাঁরই। আর যারা তাঁর সান্নিধ্যে আছে তারা তাঁর ইবাদতে অহংকার করে না এবং অলসতাও করে না। তারা রাত-দিন তার পবিত্রতা ও মহিমা বর্ণনা করে এবং ক্লান্ত হয় না।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১৯-২০)

> ‘নিশ্চয়ই যারা তোমার পরওয়াদেগারের সান্নিধ্যে রয়েছেন, তারা তাঁর বন্দেগির ব্যাপারে অহংকার করেন না এবং স্মরণ করেন তাঁর পবিত্র সত্তাকে। আর তাকেই সেজদা করেন।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ২০৬)

২. নির্ধারিত কাজে নিয়োজিত থাকা

আল্লাহর ইবাদত-তাসবিহ ছাড়াও তারা আল্লাহর হুকুমে কার্যনির্বাহে নিয়োজিত। তাদের কাজের বর্ণনা দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

শপথ সে ফেরেশতাদেরযারা ডুব দিয়ে নির্মমভাবে আত্মা বের করে আনে এবং যারা মৃদুভাবে আত্মার বাঁধন খুলে দেয় এবং যারা তীব্র গতিতে চলাচল করে আর যারা দ্রুতবেগে অগ্রসর হয় অতঃপর তারা সব কাজনির্বাহ করে’ (সুরা নাজিয়াত : আয়াত )

তাফসিরে এসেছে আয়াতে ফেরেশতাদের কজের বর্ণনা দেয়া হয়েছে যে, তারা অবিশ্বাসী কাফিরদের আত্মাকে নির্মমভাবে টেনে বের করে এবং মুমিন বান্দার আত্মার বাঁধন মৃদুভাবে খুলে দেয়। আল্লাহর নির্দেশ তারা নির্ধারিত কাজসমূহ দ্রুতগতিতে অগ্রসর হয়ে সম্পাদন করেন।

৩. মানুষের প্রহরী হিসেবে কাজ করা

ফেরেশতাদের অন্যতম একটি কাজ হলো তারা আল্লাহর হুকুমে তাঁরই মর্জি মতো মানুষের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

‘মানুষের জন্য তার সামনে ও পেছনে একের পর এক প্রহরী থাকে। তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকে।’ (সুরা রাদ : আয়াত ১১)

৪. কল্যাণের কাজে উৎসাহ প্রদান

শয়তান যখন মানুষকে অন্যায় ও খারাপ কাজের দিকে ধাবিত করে ফেরেশতারা তখন মানুষকে কল্যাণের দিকে যেতে প্রেরণা যোগায়। হাদিসে এসেছে-

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘শয়তান মানুষের মনে প্রেরণা জাগায় আবার ফেরেশতারাও মানুষের মনে প্রেরণা জাগায়। শয়তানের প্রেরণা অশুভ ও অকল্যাণের ওয়াদা করা এবং সত্যকে অস্বীকার করার প্রেরণা। আর ফেরেশতার প্রেরণা হলো কল্যাণ ও মঙ্গলের ওয়াদা করা এবং সত্যকে মেনে নেয়ার প্রেরণা। অতঃপর তিনি কোরআনের আয়াত তেলাওয়াত করেন-

শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি দেখায় এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয় পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদের নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা  বেশি অনুগ্রহের ওয়াদা করেন আল্লাহ প্রাচুর্যময়সুবিজ্ঞ’ (সুরা বাকারা : আয়াত ২৬৮)

৫. মাগফেরাতের দোয়া করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো, তারা মুমিন বান্দার কল্যাণের জন্য সুপারিশ ও ক্ষমা প্রার্থনায় দোয়া করতে থাকে। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ঘোষণা দেন-

‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে-

رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ

উচ্চারণ : ‘রাব্বানা ওয়াসিতা কুল্লা শাইয়ির রাহমাতাও ওয়া ইলমাং ফাগফির লিল্লাজিনা তাবু ওয়ত্তাবাউ সাবিলাকা ওয়াক্বিহিম আজাবাল ঝাহিম

অর্থ : ‘হে আমাদের পালনকর্তা! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা মুমিন : আয়াত ৭)

৬. আমলনামা লেখার কাজ

কোরআনুল কারিমের অনেক আয়াত ও প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনেক হাদিস থেকে জানা যায় যে, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই তার সব ভালো-মন্দ লেখার জন্য ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কোরআনুল কারিমে ‘কেরামান কাতিবিন বা সম্মানিত লেখকগণ’ হিসেবে তাদের আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ বলেন-

> ‘যখন দুই ফেরেশতা ডানে ও বামে বসে তার আমল গ্রহণ করে। সে (মানুষ) যে কথাই উচ্চারণ করে, তাই গ্রহণ করার জন্য তার সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে।’ (সুরা ক্বাফ : আয়াত ১৭-১৮)

> ‘অবশ্যই তোমাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত আছে। সম্মানিত আমল লেখকবৃন্দ। তোমরা যা কর, তারা তা জানে।’ (সুরা ইনফিতার : আয়াত ১০-১২)

৭. মৃত্যুর সময় আত্মা বহন করা

মৃত্যুর ফেরেশতা মালাকুল মাউত ছাড়াও মানুষের মৃত্যুর সময় আত্মা বহনে রয়েছে একদল ফেরেশতা। যারা মানুষের মৃত্যু হলে আত্মা বহন করে থাকে। আল্লাহ বলেন-

> ‘তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা সাজদা : আয়াত ১১)

> ‘তিনি তোমাদের কাছে রক্ষণাবেক্ষণকারী প্রেরণ করেন। এমন কি, যখন তোমাদের কারও মৃত্যু আসে তখন আমার পাঠানো ফেরেশতারা তার আত্মা হস্তগত করে নেয়।’ (সুরা আনআম : আয়াত ৬১)

৮. আরশ বহন করা

ফেরেশতাদের একটি বিশেষ কাজ হলো মহান আল্লাহ তাআলার আরশ বহন করা। কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন-

এবংফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে।’ (সুরা হাক্বকাহ : আয়াত ১৭)

এ ছাড়াও ফেরেশতারা নানা কাজ পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন। চাঁদ-সূর্যের জন্য, পাহাড়-পর্বতের জন্য, আকাশের বিভিন্ন স্থানের জন্য, মেঘ প্রবাহিত করার জন্য, বৃষ্টি বর্ষন করার জন্য, মায়ের গর্ভে ভ্রণের জন্য, জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য, পাপীদের শাস্তি প্রদানের জন্য, জান্নাতিদের খেদমত ও শান্তির জন্যও অনেক ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছে।

কোরআন ও হাদিসে মানুষকে তার দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ করতেই আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের এ সব বর্ণনা নিয়ে এসেছেন। আর এসব ফেরেশতা মানুষের কল্যাণেই নিয়োজিত।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করে দুনিয়া ও পরকালে ফেরেশতাদের যাবতীয় সহযোগিতা ও কল্যাণ লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

ঝাঁজালো গন্ধ খুঁজতে গিয়ে

পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে ঝাঁজালো গন্ধ। গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সঙ্গে আতঙ্কিতও। তাঁদের ধারণা, আশপাশে কোথাও গ্যাসের সরবরাহ লাইনে ছিদ্র হয়েছে। সেখান থেকেই ছড়াচ্ছে তীব্র গন্ধ। এর ফলে হুলুস্থুল পড়ে যায় সেখানে। বিপদ এড়াতে ডাকা হয় জরুরি সেবায় নিয়োজিত বাহিনীকে। তাদের কর্মীরা এসে চালান অনুসন্ধান। অবশেষে জানা যায়, গ্যাসের লাইনে ছিদ্র হয়নি, বরং ওই এলাকাজুড়ে তীব্র গন্ধের উৎস ডুরিয়ান ফল।

বিচিত্র এ ঘটনা ঘটে গত শুক্রবার দুপুরে, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের পাশের ডিকসন এলাকায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেলবোর্নের পাশেই ওই এলাকায় অনেকগুলো এশিয়ান রেস্তোরাঁ ও জেনারেল স্টোর রয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে ওই এলাকায় তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে এলাকাবাসী ফোন দিয়ে জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের ডেকে আনেন। এক ঘণ্টার অনুসন্ধান শেষে তাঁরা পুরো এলাকায় গ্যাসের সরবরাহ লাইনে কোনো ছিদ্র খুঁজে পাননি।

কিন্তু ঝাঁজালো গন্ধের তীব্রতা কমছিল না। পরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে লাগাম টানেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মীরা। তাঁরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, এশিয়ান জেনারেল স্টোরে থাকা ডুরিয়ান ফল থেকে গন্ধ ছড়িয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় লোকজন এ গন্ধকে গ্যাসের লাইনের ছিদ্র থেকে বের হওয়া গন্ধ মনে করে অযথাই আতঙ্কিত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে পুরো ঘটনাটি মজা করে লিখেছেন ফুওং ট্রান নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা। তিনি লেখেন, কেউ একজন হয়তো ডুরিয়ান খেয়েছিল। আর তাতেই পুরো এলাকা গন্ধে ভরে গেছে।

ডুরিয়ান আমাদের দেশের কাঁঠালের সমগোত্রীয় একটি ফল। স্বাদ ও আকার কাঁঠালের মতোই। দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় ডুরিয়ান বেশি জন্মায়। ডুরিয়ান ফলের তীব্র গন্ধ অনেক দূর থেকেও পাওয়া যায়। তীব্র গন্ধের কারণে অনেকে এটি খেতে পছন্দ করেন না। আবার অনেকেই ডুরিয়ান ভীষণ ভালোবাসেন। এটিকে ‘ফলের রাজা’ বলা হয়।

অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন খাদ্যাভ্যাসের মানুষের বসবাস। মালয়েশিয়া থেকে আসা অনেক মানুষ দেশটিতে বসবাস করেন। মালয়েশিয়া ডুরিয়ানের অন্যতম উৎপাদনকারী ও রপ্তানিকারক দেশ। তবে অস্ট্রেলিয়ায় মৌসুমি ফল ঘিরে এমন বিচিত্র ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গন্ধের কারণে ২০১৮ সালে রয়্যাল মেলবোর্ন ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লাইব্রেরি থেকে প্রায় ৫০০ শিক্ষক–শিক্ষার্থীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। জারি করা হয়েছিল রাসায়নিক ছড়িয়ে পরার সতর্কবার্তা। পরে জানা যায়, গন্ধ ছড়ানোর ওই ঘটনার পেছনেও ছিল ডুরিয়ান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

মা ইলিশ রক্ষা করি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি করি

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। বাঙালির অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সুস্বাদু এ মাছ যুগ যুগ ধরে দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ আমিষ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

ইলিশ দেশের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি। ইলিশের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখার লক্ষ্যে ডিমওয়ালা মা ইলিশ রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা ইলিশ রক্ষা পেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। আর এ লক্ষ্যে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর (১৯ আশ্বিন হতে ০৯ কার্ত্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ) পর্যন্ত মোট ২২ দিন দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর ১১ হাজার বর্গকিলোমিটার জলসীমায় মা ইলিশ ধরা নিষেধ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

“মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় হতে নিষিদ্ধকালীন এই ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিপনন নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। দেশে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সর্বসাধারণ বিশেষ করে জেলে, মৎস্যজীবী সম্প্রদায় ও ইলিশের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যবসায়ী, আড়তদার, বরফকল মালিক, বোট মালিক, দাদনদার এবং ভোক্তাসহ সবাইকে সচেতন ও উদ্বুদ্ধকরণ করা। একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টিকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেয়া। আর এ প্রচারের কাজটি সর্বাধিক করে থাকে মন্ত্রণালয়ের মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর। দেশে ইলিরে অভয়াশ্রম রয়েছে (৫টিতে মার্চ-এপ্রিল মাছ ধরা বন্ধ) ৬টি যার মোট আয়তন-৪৩২ কি.মি. । আর ৬ টি অভয়াশ্রম হলো বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও শরিয়তপুর । বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রের চারটি পয়েন্ট চিহ্নিত করা হয়েছে। যা প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার উপকূলীয় এলাকা জুড়ে রয়েছে। চারটি পয়েন্ট হলো- মীরসরাই, চট্টগ্রামের মায়ানি, তজুমুদ্দিন ও ভোলার পশ্চিমে সৈয়দ আওলিয়া, কুতুবদিয়া ও কক্সবাজারের উত্তর কুতুবদিয়া এবং পটুয়াখালির কলাপাড়া ও লতাচাপালী পয়েন্ট।

তাছাড়া সকল নদ-নদীতে এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। ২০২১ সালে প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে দেশের ৩৮ টি জেলা ও ১৭৪ টি উপজেলাকে। নিষেধাজ্ঞা আইন অমান্যকারীকে কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছর সশ্রম কারাদন্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। বর্তমানে ইলিশ ধরায় সরাসরি দেশের প্রায় ৬ লক্ষ জেলে নিয়োজিত । প্রধান প্রজনন মৌসুমে পরিবার প্রতি ২০ কেজি হারে ভিজিএফ দেয়া হচ্ছে। ২০২১ সালে ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ৯৪৪ টি জেলে পরিবারে ১১ হাজার ১১৮ দশমিক ৮৮ মে.টন চাল বরাদ্ধ প্রদান করা হয়েছে।

ইলিশ মাছ প্রজননের ক্ষেত্রে চন্দ্রনির্ভর আবর্তন অনুসরণ করে। প্রতিবছর আশ্বিন মাসের প্রথম উদিত চাঁদের পূর্নিমার আগের চারদিন, পরের ১৭ দিন এবং পূর্ণিমার দিনসহ মোট ২২ দিন এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকে। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১১ দিন, ২০১৫ সালে ১৫ দিন নিষেধাজ্ঞা জারি থাকলেও ২০১৭ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ২২ দিন করা হয়। ইলিশ মূলত সারা বছর কমবেশি ডিম ছাড়লেও সেপ্টেম্বর-অক্টোবর হচ্ছে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এই সময়েই প্রায় ৮০ শতাংশ ইলিশ ডিম ছাড়ে।

মা ইলিশ বলতে প্রজননক্ষম পরিপক্ব স্ত্রী ইলিশ মাছ বুঝায়। ইলিশ একটি সামুদ্রিক মাছ। ইলিশ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রথম। বিশ্বে আহরিত ইলিশের প্রায় শতকরা ৮৬ ভাগ আহরণ করা হয় এই দেশে। ২০১৭ সালের ১৭ আগষ্ট বাংলাদেশের ইলিশ মাছ ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়। যা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়।

বৈচিত্র্যময় জীবন ইলিশের। ইলিশ প্রধানত সামুদ্রিক মাছ হলেও প্রজনন কালীন সময়ে এ মাছ ডিম ছাড়ার জন্য বেছে নেয় স্বাদু পানির উজানকে। এ সময়ে ইলিশ দৈনিক প্রায় ৭১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে পারে। প্রজননের উদ্দেশ্যে ইলিশ প্রায় এক হাজার দুইশত কিলোমিটার উজানে পাড়ি দিতে সক্ষম। সাগর থেকে ইলিশ যত ভেতরের দিকে আসে, ততই শরীর থেকে লবণ কমে যায়। এতে স্বাদ বাড়ে ইলিশের। বাংলাদেশে প্রতিবছর ৯-১০ শতাংশ হারে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে ।

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সরকার জাটকা আহরণও নিষিদ্ধ করেছে । এবং এর সময়সীমা এবং দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। মৎস্য সংরক্ষণ আইন-১৯৫০ অনুযায়ী ১ নভেম্বর-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ ইঞ্চির ছোট জাটকা ধরা নিষিদ্ধ থাকে। জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা ফেব্রুয়ারী থেকে মে পর্যন্ত মোট ৪ মাস প্রদান করা হয় । ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে প্রতি অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়ে যাচ্ছে। ২০০৭-০৮ অর্থ বছরে বরাদ্দের পরিমান ছিল ২ কোটি টাকা। বর্তমান অর্থবছরে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৮ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল ২ লাখ ৯৯ হাজার টন, সেখানে ২০১৯-২০ অর্থবছরে বেড়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। যা দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ। এর চলতি বাজার মূল্য প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ইলিশের উৎপাদন প্রায় দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালে ইলিশের যোগান যেখানে ৫৬ শতাংশ কমেছে, সেখানে বাংলাদেশে ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জাটকা আজ মেঘনা থেকে পদ্মা, যমুনা, ব্র²পুত্র, সুরমায় বিস্তৃতি লাভ করেছে। গত ১০ বছরের ব্যবধানে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ফলাফল বলছে, ১০ বছর আগে দেশের ২১টি উপজেলার নদ-নদীতে ইলিশ পাওয়া যেতো। বর্তমানে ১৭৪ টি উপজেলার আশপাশ দিয়ে প্রবাহিত নদীতে এই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। পদ্মার শাখানদী মহানন্দা থেকে শুরু করে মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এবং ব্রা²ণবাড়িয়ার মেদির হাওরেও ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, একটি ইলিশ একসঙ্গে কমপক্ষে ৩ লাখ ও সর্বোচ্চ ২১ লাখ ডিম ছাড়ে। এসব ডিমের ৭০-৮০ শতাংশ ফুটে রেণু ইলিশ হয়। এর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে, যা পরবর্তীতে ইলিশে রূপান্তরিত হয়।

ইলিশ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশে রপ্তানি ছাড়াও ইলিশের নডুলস, স্যুপ ও পাউডার তৈরির প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে ইতোমধ্যে তা বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। ইলিশ শুধু জাতীয় মাছ ই নয়।অর্থনীতিতেও রয়েছে বিরাট অবদান। পরিসংখ্যান মতে, দেশের মোট মাছ উৎপাদনের ১২ ভাগ (যার আনুমানিক অর্থমূল্য আট হাজার ১২৫ কোটি টাকা) আসে ইলিশ মাছ থেকে। জিডিপিতে ইলিশ মাছের অবদান শতকরা ১ ভাগ। পৃথিবীর সব দেশেই এ মাছের চাহিদা রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশ মাছ রপ্তানি করে প্রায় ৩, শ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে।

যদি প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা ও জাটকা নিধন বন্ধ থাকে তাহলে ২১ থেকে ২৪ হাজার কোটি নতুন পরিপক্ব ইলিশ পাওয়া যাবে। এতে বছরে সাত হাজার কোটি টাকা মূল্যের ইলিশের বাজার সৃষ্টি সম্ভব হবে বাংলাদেশে। এতে অর্থের প্রবাহ বাড়বে। বাড়বে চলছে কর্মসংস্থান। যা নিঃসন্দেহে দেশের গোটা অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করে তুলবে। পাশাপাশি দেশে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিপন্ন হচ্ছে জলের পাখি ডাহুক

মাঝারি আকৃতির জলের পাখি ডাহুক। ডাহুক খুব সতর্ক পাখি। আত্মগোপনে পারদর্শী। এই পাখিটি খুব ভীরু বলেই কি এত সুন্দর?

পুকুর, খাল, জলাভূমি, বিল, নদীর পাড়ের গর্ত তাদের বসবাসের জন্য প্রিয় স্থান। তবে দ্রুত নগর বিস্তৃতির ফলে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দর এই পাখি।

দুই দশক আগেও মৌলভীবাজার জেলার হাওর-বাওর, খাল, বিল-ঝিল, ডোবা, নালা-দীঘির পাশের ঝোপঝাড়ে দল বেঁধে বাস করতো ডাহুক পাখি।

jagonews24

গ্রামাঞ্চলের পুকুর পাড়ের ঝোপঝাড়ে সন্ধ্যেবেলা ডাহুকের ডাক শোনা যেত। গভীর রাতেও ডাহুকের ডাকে অনেকের ঘুম ভাঙতো। তবে আজকাল আর ডাহুকের কণ্ঠ শোনা যায় না।

একসময় বর্ষা ও শরতে ডাহুকরা বাড়ির গৃহপালিত হাঁস মুরগির সঙ্গে বেড়াতো। এখন আর তাদের আনাগোনা দেখা যায় না। চোখে পড়ে না। ডাহুক পাখি এখন হারিয়ে যেতে শুরু করেছে।

বর্ষাকাল এদের প্রজনন ঋতু। এসময় তারা বাসা করে পানির কাছেই ঝোপঝাড়ের ভেতরে অথবা ছোট গাছের ঝোপযুক্ত ডালে। নিরাপত্তা ঠিকঠাক থাকলে মাটিতেও বাসা করে এই পাখি। ৫-৭টি ডিম পাড়ে এরা, ডিমের রং ফিঁকে হলুদ বা গোলাপি মেশানো সাদা।

jagonews24

ডাহুক-ডাহুকি দু’জন মিলেই ডিমে তা দেয়। বাচ্চার রং সব সময় হয় কালো। ডিম ফোটে প্রায় ২১-২৪ দিনে। আর ২৪-৩০ ঘণ্টা পরই বাচ্চারা বাসা ছাড়ে।

মাস তিনেক পরে বাচ্চারা আলাদা জীবন বেছে নেয়। প্রজননের সময় একটি পুরুষ ডাহুক অন্য একটি পুরুষ ডাহুককে সহ্য করতে পারে না। দেখলেই তারা মারামারি করে। এই পাখি লড়াকু প্রকৃতির।

ডাহুকের প্রিয় খাদ্য জলজ পোকামাকড় ও কীটপতঙ্গ। এছাড়াও শাপলা-পদ্ম ফুলের নরম অংশ, কচি পানিফল, জলজ শেওলা, লতাগুল্মের নরম অংশ, ধান, কাউন, ডাল, সরিষা, শামুক, কেঁচো, জোঁক, মাছ, ছোট মাছ, শাকসবজি ও ফল খেয়ে থাকে।

jagonews24

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এরা বিস্তৃত, প্রায় ৮৩ লাখ ৪০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

তবে বর্তমানে তাদের আবাস্থল ধ্বংস হচ্ছে। খাদ্য সংকট ও প্রজননকালীন সময়ে শিকারীদের উৎপাতসহ নানা কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব এ প্রজাতির পাখি। শিকারিদের হাত থেকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না গভীর বনজঙ্গলে বসবাসকারী ডাহুকগুলো।

সম্প্রতি আই.ইউ.সি.এন এই প্রজাতিটিকে নুন্যতম বিপদগ্রস্থ বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে।

jagonews24

কাওয়াদীঘি হাওর পারের পৈতুরা গ্রামের সানা মিয়া বলেন, ‘ডাহুক অনেকটা বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে দেখা যায়। ঝোপঝাড় ধ্বংসের ফলে ডাহুকের বর্তমান অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। প্রকৃতিতে এদের নিরাপত্তা দিতে অবশ্যই এদের বাসস্থান ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। না হলে সেদিন আর বেশি দূরে নয় যেদিন বিপন্নের লাল তালিকায় লেখা হবে ডাহুক পাখির নাম।’

রাজনগর উপজেলার বলদার সাগর দীঘির পারের সেলিম উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘কয়েকদিন আগে ওই দীঘিতে এক শিকারি এসে ডাহুক ধরার ফাঁদ পেতে ছিল। বিষয়টি রাজনগর থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে খাঁচার পাখিটি নিয়ে পালিয়ে যায় শিকারি।’

বনরেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রকৃতিকে সুন্দর রাখতে পাখপাখালিকে নিরাপত্তা দিতে হবে। আমরা গত নভেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১৫টি ডাহুক পাখি শিকারির হাত থেকে উদ্ধার করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যোনে অবমুক্ত করেছি। কোথাও পাখি আটকের খবর পেলে আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকি।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বিশ্বে করোনা শনাক্ত ২৪ কোটি ছাড়ালো

বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও আট হাজার ৫১৯ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ৪৮ লাখ ৯৭ হাজার ২২৭ জনে।

এছাড়া নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন চার লাখ ৬৯ হাজার ২৩৩ জন। এতে বিশ্বব্যাপী করোনা শনাক্ত ছাড়িয়েছে ২৪ কোটি তিন লাখ ৭৫ হাজার ৯৪৭ জনে।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টা চার লাখ ৩১ হাজার ৫৬৮ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। মোট সুস্থ হলেন ২১ কোটি ৭৬ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৯ জন।

jagonews24

শুক্রবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এসময়ের মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৮৯ হাজার ৬৮০ জন।

মারা গেছেন এক হাজার ৬৫৪ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত হয়েছে চার কোটি ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ১২ জন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন সাত লাখ ৪১ হাজার ৮৯৩ জন মারা গেছেন।

তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে করোনা শনাক্ত হয়েছে মোট তিন কোটি ৪০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৪ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চার লাখ ৫১ হাজার ৮৪৭ জনের।

তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। দেশটিতে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ জনের। এরমধ্যে ছয় লাখ দুই হাজার ২০১ জন মারা গেছেন।

এ তালিকায় পরের স্থানগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, তুরস্ক, ফ্রান্স, ইরান, আর্জেন্টিনা ও স্পেন।

তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখন ২৯ নম্বরে। দেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২৭ হাজার ৭৩৭ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ লাখ ৬৪ হাজার ৪৮৫ জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৩৬৮ জন।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়। এরপর দ্রুত দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাসটি। গত বছরের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ ঘোষণা করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com