আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বিশ্ব

করোনাভাইরাস টিকবে না, এটাই আশার কথা

আমরা ফেলে আসছি একটা ভয়াবহ বছর ২০২০। করোনাভাইরাস। আর সামনে আসছে সম্ভাবনাময় একটি বছর ২০২১। আমরা এখন দাঁড়িয়ে আছি এই সন্ধিক্ষণে। একদিকে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ বিস্তার, আর অন্যদিকে করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা আবিষ্কার এবং তার সফল প্রয়োগে করোনামুক্ত বিশ্বের উজ্জ্বল সম্ভাবনা। একদিকে করোনার অতিমারি, অগণিত মৃত্যু আর চাকরি হারিয়ে দারিদ্র্যহার বৃদ্ধির কালো অধ্যায়, অন্যদিকে দ্রুত টিকার প্রয়োগে ভয়হীন বিশ্ব প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়।

এই অভিশপ্ত বছর ২০২০-এর শুরুতে আমরা ভাবতেও পারিনি, করোনা সারা বিশ্বে এমন ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে। ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বিশ্বে কোভিড-১৯–এ সংক্রমিত হয়েছেন ৮ কোটির বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ১৭ লাখ। আর বাংলাদেশে আক্রান্ত ৫ লাখের বেশি, মৃত্যু সাড়ে ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। কে, কখন, কীভাবে আক্রান্ত হবেন, সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা অনেকেরই নেই বা থাকলেও মনে করি, কিছু হলে হোক। এ কারণে রোগটাকে সহজে বাগে আনতে পারছি না।

এই রোগ ছড়ায় শুধু করোনায় সংক্রমিত মানুষ থেকে মানুষে এবং শুধু নাক-মুখের মাধ্যমে। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে। হাঁচি-কাশির সময় মুখ থেকে যে বিন্দু বিন্দু পানিকণা বা ড্রপলেট ছড়ায়, সেটাই অন্যকে সংক্রমিত করে। আমরা সেটা জানলেও অনেকে পাত্তা দিই না। এ কারণে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। এখন বিশ্বে চলছে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। বাংলাদেশেও তার ধাক্কা লেগেছে। নতুন বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে নাকি সংক্রমণ ও মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি। বিশেষজ্ঞরা সে রকমই ধারণা করছেন।

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন বয়স্ক ও ক্যানসার, ডায়াবেটিস, কিডনি প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি। ডাক্তার-নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সামনের কাতারে কাজ করছেন—এমন ব্যক্তিদেরও সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাহলে বাদ থাকছেন কে?

একটি দেশ চলতে এবং দেশের মানুষের খেয়েপরে বেঁচে থাকতে হলে যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা দরকার, সেটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় দিনই আমরা খবর পাই, চাকরি বা উপার্জনের উপায় হারিয়ে মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে। সেখানেই–বা উপার্জনের সুযোগ কোথায়?

করোনার এই দুঃসময়ে দেশের নারীরা রয়েছেন সাংঘাতিক বিপদে। প্রতিদিন তাঁরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শারীরিক-মানসিক নির্যাতনে জর্জরিত নারীদের পাশে দাঁড়াবেন কে? তা ছাড়া স্কুল-কলেজ বন্ধ। ঘরে বন্দী শিশু-কিশোর-কিশোরীদের মন ভেঙে পড়ছে। তাদের সৃজনশীলতা অঙ্কুরেই ধ্বংস হচ্ছে। তাদের একটা বড় অংশ পরে হয়তো আর স্কুল-কলেজে ফিরে যেতে পারবে না। নতুন বছরে বিশ্ব হয়তো পাবে শিক্ষাবঞ্চিত কোটি কোটি শিশু-কিশোর। আগামী দিনে হয়তো মেধাসংকটে পড়বে বিশ্ব। বিশেষভাবে সমস্যাটা হবে অনুন্নত বিশ্বে। পিছিয়ে থাকা দেশগুলো আরও পিছিয়ে পড়বে।বিজ্ঞাপন

সামনে আলোর আভাস

কিন্তু আমরা আশাবাদী। কারণ, সামনে দেখছি উজ্জ্বল আলোর আভাস। অন্তত দুটি সম্ভাবনার জায়গা। একটি করোনার টিকা, আর অন্যটি মাস্ক। মাস্কের কথায় হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। মাস্কে তো শুধু অন্ধকার, শ্বাস গ্রহণে সমস্যা, সেখানে আবার আলোর কী চিহ্ন আছে? মাস্কের মাহাত্ম্য অনেকেই বুঝতে চাই না। সে কথায় পরে আসছি। প্রথমে আসি টিকার বিষয়ে।

মারাত্মক ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রোধে টিকার আবিষ্কার সাধারণত সময়সাপেক্ষ। পাঁচ থেকে ছয় বছর লাগে। কিন্তু আমাদের সৌভাগ্য যে মাত্র বছরখানেকের মধ্যেই আমরা কোভিড-১৯–এর টিকা পেয়েছি। অনেক দেশে টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও হয়তো মাসখানেকের মধ্যে টিকা দেওয়া সম্ভব হবে। এটাই সবচেয়ে বড় সুসংবাদ। কারণ, টিকা দিলে দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে। করোনার ভয় থাকবে না।

দু-তিন ধরনের টিকা আমাদের সামনে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার ও মডার্না এবং যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের টিকার কথা আমরা জানি। ইতিমধ্যে লাখ লাখ মানুষের দেহে পরীক্ষা করা হয়েছে। তেমন কোনো গুরুতর উপসর্গের কথা শোনা যায়নি। আমরা নিশ্চিত, আগামী দিনগুলো ক্রমেই ভালোর দিকে যাবে। আবার কর্মচঞ্চল পৃথিবী আমরা ফিরে পাচ্ছি।

টিকার শুরু: আরএনএ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সিং

কোভিড-১৯–এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিজ্ঞানীদের যুদ্ধ শুরু হয় ২০২০ সালের ১১ জানুয়ারি, সাংহাইয়ে। সেদিন ভাইরোলজিস্ট ঝাং ইয়ংঝেন চীনের উহানে সার্সের মতো ভয়াবহ রোগ সার্স-কোভ-২ ভাইরাসের (কোভিড-১৯) জিনোম অনলাইনে প্রকাশ করেন। এর ফলেই বিশ্বের বিজ্ঞানীরা নতুন করোনাভাইরাসের মূল প্রোটিন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলেন। গবেষণা শুরু করলেন এবং টিকা আবিষ্কারের পথ খুলে গেল। এ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন নেচার-এ বিস্তারিত লেখা ছাপা হয়েছে (১৫ ডিসেম্বর ২০২০)।

করোনার আরএনএ ভাইরাসের জিনোম বিশ্লেষণ করে টিকা আবিষ্কার করা হয়েছে। করোনার নতুন যেসব স্ট্রেইন সৃষ্টি হচ্ছে, তারও জিনোম এখন আমরা গবেষণায় বের করছি। আমাদের দেশেও কয়েক ধরনের স্ট্রেইনের করোনার সিকোয়েন্স আমরা বের করেছি। এসব গবেষণা টিকা আবিষ্কারে সাহায্য করছে।বিজ্ঞাপন

করোনার নতুন মিউটেশন: বর্তমান টিকায় কি কাজ হবে

যুক্তরাজ্যে করোনার নতুন মিউটেশনে সবাই আতঙ্কিত। এটা বেশি দ্রুত ছড়ায়। বেশি মৃত্যুর ভয়ও অনেকে করছেন। সুতরাং টিকা যেটা আমরা পাচ্ছি, সেটা কি এই নতুন স্ট্রেইনের করোনার বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পরবে? যদি না পারে, তাহলে তো আরেক চক্করে পড়ব।

এ বিষয়ে সুখবর হলো, করোনাভাইরাসের মিউটেশন হলেও এর টিকা প্রায় সব ক্ষেত্রেই সুফল দেবে। টিকা শরীরে যে অ্যান্টিবডি তৈরি করবে, তা মিউটেশনে রূপান্তরিত ভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। সব ভাইরাসের ক্ষেত্রে এ রকম হয় না। যেমন প্রতিনিয়ত নিউমোনিয়া ভাইরাসের মিউটেশন হয়। তাই প্রতিবছর নতুন ফ্লু শট নিতে হয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে সে রকম হচ্ছে না। কেন? এ বিষয়ে বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ম্যাগাজিন (৯ অক্টোবর ২০২০) ও নেচার ম্যাগাজিনের নিউজ ফিচারে (৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, সংশোধিত ১৬ সেপ্টেম্বর) বিস্তৃত ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়েছে।

মূল কথাটা হলো, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভাইরাসের রিসেপ্টার-বাইন্ডিং ডোমেইনের স্পাইক প্রোটিনে মিউটেশন হচ্ছে না। এই স্পাইক প্রোটিনই শ্বাসতন্ত্রের কোষের (সেল) রিসেপ্টার আঁকড়ে ধরে কোষের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে বংশবিস্তার করতে থাকে। অন্যদিকে, এই স্পাইক প্রোটিনই করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে অ্যান্টিবডিকে সাহায্য করে। যেহেতু মিউটেশন হলেও করোনার স্পাইক প্রোটিন প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাই বলা যায় করোনার টিকা প্রায় সব ধরনের রূপান্তরিত করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। কারণ, করোনার টিকা তৈরি করা হয়েছে মূলত করোনাভাইরাসের স্পাইক প্রোটিনকে কেন্দ্র করে। রক্তে অ্যান্টিবডি এই স্পাইক প্রোটিন দেখলেই করোনাভাইরাস শনাক্ত করতে পারে এবং তাকে ধ্বংস করে। সুতরাং কোনো মিউটেশনে যদি করোনার স্পাইক প্রোটিন অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে এখন ব্যবহৃত করোনার টিকা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

অবশ্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, কিছু ক্ষেত্রে হয়তো করোনার স্পাইক প্রোটিনেও রূপান্তর ঘটতে পারে। সে ক্ষেত্রে হয়তো নতুন ধরনের টিকা লাগবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুব কম ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা আছে বলে বিজ্ঞানীরা বলছেন।

তাই আমরা বলতে পারি, দ্রুত টিকার ব্যবস্থা করাই এখন আমাদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের মতো দেশে ১৬ থেকে ১৭ কোটি মানুষের জন্য ২ ডোজ করে প্রায় ৩৫ কোটি ডোজ টিকা আমরা কত দিনে পাব এবং সবাইকে সেই টিকা আমরা কি সুষ্ঠুভাবে দিতে পারব?

এর উত্তর হলো একটাই— মাস্ক, মাস্ক, মাস্ক। যত দিন দেশের মানুষের প্রায় ৮০ শতাংশ টিকা নিতে না পারবে, তত দিন আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একান্ত দরকার। মোটামুটি সুরক্ষা পাওয়ার উপায় হলো সব সময় সবার মাস্ক পরে বাইরে চলাফেরা করা।

মাস্ক মাস্ট

আমাদের অনেকেই বুঝতে চাই না যে মাস্ক পরলে শুধু আমার না, চারপাশের অন্য সবাই সুরক্ষা পায়। কেন? কারণ, আমি যে দু-তিন পরত কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করি, সেটা বাইরের বাতাসে করোনাভাইরাস বহনকারী ভাসমান ড্রপলেট আমার শ্বাস গ্রহণের সময় ফুসফুসে যেতে দিতে বাধা দেয়। এটাই আমার সুরক্ষা। কিন্তু একই সঙ্গে আমি যখন জোরে কথা বলি বা জোরে হাসি, হাঁচি-কাশি দিই, তখন আমার শ্বাসতন্ত্র থেকে তীব্র বেগে ড্রপলেট বের হয়ে চারপাশে খুব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। আমার মাস্ক তখন বাধা দেয় এবং আমার মুখের ড্রপলেট সামান্য দূরে গিয়েই মাটিতে পড়ে যায়। ফলে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। কিন্তু আমার মুখে যদি মাস্ক না থাকে এবং আমি যদি করোনায় সংক্রমিত হই, তাহলে আমার চারপাশের মানুষের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণে বেড়ে যায়। তাই আমরা বলি, সবাই মাস্ক পরুন। কারণ, কে জানে, আমি সংক্রমিত কি না? হয়তো লক্ষণগুলো দু-এক দিন পর প্রকাশ পাবে। ইতিমধ্যে মাস্কবিহীন অবস্থায় আমি বাইরে চলাফেরা করলে অন্যদের সংক্রমিত করব। তাই সবার মাস্ক পরা একান্ত প্রয়োজন। সবাই যদি মাস্ক পরি, তাহলে টিকা নিতে দেরি হলেও করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

মাস্ক পরার পাশাপাশি দিনে কয়েকবার যদি সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া ও বেশি ভিড়ের মধ্যে বেশিক্ষণ না থাকার অভ্যাস আয়ত্ত করতে পারি, তাহলে করোনাভাইরাস সংক্রমণের অন্তত ৯০ শতাংশ কমিয়ে ফেলা সম্ভব। অনেক বিশেষজ্ঞ এটা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশে হতে পারে সারের সংকট

সারের সংকট
সারের সংকট
সারের সংকট

চলতি বোরো মৌসুমে সার কিনতে কৃষকদের সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা করে বেশি দিতে হয়েছে। আর সরকারকেও সার বাবদ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বাজেটে বরাদ্দের তিন গুণের বেশি—প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশ এখন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।

ধান, আলু ও সবজি চাষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমওপি সারের ৬০ শতাংশ আনা হতো রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে। ওই দুই দেশ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ায় এখন বাংলাদেশকে এমওপি কিনতে হচ্ছে কানাডা থেকে। বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়া ও আমদানিতে অনিশ্চয়তার কারণে বাংলাদেশে সারের সংকট হতে পারে। ভর্তুকির চাপ সামলাতে বাংলাদেশকে সব ধরনের সারের খুচরা মূল্য বাড়াতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিবিষয়ক সংস্থা ইউএসডিএর চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশে সার সরবরাহ ও ব্যবহারে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এমওপি সারের ২০ শতাংশ সরবরাহ কমানো হলে সামনের বোরো মৌসুমে ধান, গম ও রবি মৌসুমের অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ কমতে পারে। এতে বাংলাদেশের খাদ্য উৎপাদন ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

এ এম এম শওকত আলী, সাবেক কৃষিসচিব

তবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, দেশে চলতি বোরো মৌসুমে নতুন করে আর সারের দরকার হবে না। সামনে আলুর মৌসুমে ইউরিয়া, এমওপিসহ অন্যান্য সারের চাহিদা বাড়বে। ওই সময়ের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের সার সরবরাহকারী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।

জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কানাডা থেকে মোট আট লাখ টন এমওপি সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছি। এ ব্যাপারে ওই দেশের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক হয়েছে। ফলে এই সার নিয়ে সরকারের কোনো দুশ্চিন্তা নেই। তবে সার বাবদ সরকারের বিপুল পরিমাণে ভর্তুকি বাড়ছে। এই চাপ নিয়েও সরকার ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওই ভর্তুকি দিয়ে যাবে।’

কমানো হয়েছে চাহিদা

বাংলাদেশে চলতি অর্থবছরে ৬৯ লাখ টন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি—এই চার ধরনের সার ব্যবহার হয় ৫৭ লাখ টন। আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের ওই চার ধরনের সারের চাহিদা কমিয়ে ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নামিয়ে আনা হয়েছে।

দেশে প্রয়োজনীয় সারের ৮০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এর মধ্যে এমওপি সারের বড় অংশ আসে রাশিয়া ও বেলারুশ থেকে।

প্রসঙ্গত, ওই চারটি প্রধান সার কৃষকদের কাছে বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার ভর্তুকি দিয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে সরকার প্রাথমিকভাবে সারে ভর্তুকি বাবদ ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। বেশির ভাগ সারের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে যাওয়ায় সরকারকে ভর্তুকির পরিমাণ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা করতে হয়। কিন্তু অর্থবছরের শেষের দিকে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে হিসাব করে দেখা হয়েছে, ভর্তুকির পরিমাণ এবার বেড়ে কমপক্ষে ৩০ হাজার কোটি টাকা গিয়ে দাঁড়াবে।

জিপসাম, জিংক সালফেট ও অ্যামোনিয়াম সালফেট ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারে সরকার কোনো ভর্তুকি দেয় না। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কিনে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছে তা বিক্রি করে থাকেন। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষককেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।

সাবেক কৃষিসচিব এ এম এম শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এমনিতেই এ বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আমাদের ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারের কারণে নতুন করে যাতে আর সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর সরকারের অন্যান্য খাতের ভর্তুকি কমিয়ে প্রয়োজনে সারে ভর্তুকি বাড়াতে হবে, যাতে সারের দাম কম থাকে। কারণ, কৃষকের হাতে এখন টাকা কম। বিশ্ববাজার থেকেও খাদ্য আমদানি করা সামনের দিনে আরও কঠিন হতে পারে। ফলে দেশের উৎপাদন ঠিক রাখতে সারের দাম ও জোগান ঠিক রাখা উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোটেক

কৃষি উৎপাদন বাড়াতে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের উদ্যোক্তারা এক সঙ্গে কাজ করতে রাজি

ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি
ধান কাটায় ব্যস্ত কৃষকেরাফাইল ছবি

ডাচ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে দুই দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছেন।

গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের রাজধানী হেগে অনুষ্ঠিত কৃষি খাতের ব্যবসাবিষয়ক এক সম্মেলনে দুই দেশের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এগ্রি বিজনেস কনক্লেভে বাংলাদেশের প্রায় ৪০জন উদ্যোক্তা ডাচ কৃষি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি প্রযুক্তি সহযোগিতা ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। দিনব্যাপী আয়োজিত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেছে ওয়েগেনিনজেন বিশ্ববিদ্যালয়।

আলোচনায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা প্রযুক্তি কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলে নেদারল্যান্ডসের ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তি সহযোগিতা দিতে রাজি থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ডাচরা প্রস্তুত এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তারাও তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। এ ছাড়া ডাচ সরকার ইতিমধ্যে বাংলাদেশের বীজ, পশু খাদ্য, পোলট্রি, হর্টিকালচার ও এ্যাকুয়াকালচার বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম সম্পাদন করেছে, যা ওই দেশের বেসরকারি খাতকে আরও উৎসাহিত করেছে।

আলোচনায় কৃষি সচিব মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা করতে তৈরি আছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্কয়ার, ইস্পাহানি এগ্রো, একে খান অ্যান্ড কোম্পানি, প্যারাগন গ্রুপ, এসিআই, জেমকন গ্রুপসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা ডাচ প্রযুক্তির প্রয়োগ সরেজমিনে দেখতে যাবেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের পোল্ট্রিখাতে সহযোগিতার আলোচনা অনেকটা এগিয়েছে উল্লেখ করে মো. সায়েদুল ইসলাম বলেন, দুই দেশের মধ্যে মৎস্য, পশুপালন ও হর্টিকালচারে সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

কনক্লেভ আয়োজনে প্রথমবারের মতো দূতাবাসের সঙ্গে অংশীদার হয়েছে নেদারল্যান্ডসের কৃষি মন্ত্রণালয়, নেদারল্যান্ডস এন্টারপ্রাইজ এজেন্সি, নেদারল্যান্ডস ফুড পার্টনারশিপ, ডাচ-গ্রিন-হাইজডেল্টা, লারিভ ইন্টারন্যাশনাল, স্টান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ।

কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থানকারী নেদারল্যান্ডসের আয়তন বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কম। ২০২১-এ কৃষিপণ্য ও খাদ্য রপ্তানি করে নেদারল্যান্ডস ১১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় করেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মেহেরপুর: পতিত ও অনুর্বর বেলে মাটির জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ফলন ও বাজার দর ভালো এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদামের চাষ। 

সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা, শ্যামপুর, টেংগারমাঠ ও গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি বেলে। ফলে এই এলাকার চাষিরা ধান, গম, পাটসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না।

ধান কাটার পর এ সব জমি সাধারণত পতিত থাকে। এজন্য ৯০ দিনের ফসল হিসেবে অল্প খরচে বাদাম চাষ করছেন এলাকার চাষিরা।  

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বাদাম চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। এবার এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে বাদামের ফলন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মণ। আর এ  ফলনে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন তারা। বাজারে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।  সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি খাঁজা আহমেদ, কাওছার আলী ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এলাকার মাটি বেলে হওয়ায় সাধারণত সবজি, আলু ও অন্যান্য ফসল চাষ করার পর জমি পতিত থাকে। সে সময়ে চিনা বাদামের চাষ করা হয়। বাদাম চাষে খরচ কম এবং উৎপাদন ও বাজার দর ভাল। তাই দিন দিন চাষিরা তাদের পতিত জমিতে চিনা বাদামের চাষ শুরু করছেন।  

এছাড়া বাদাম ছাড়ানো, শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন এখানকার নারীরা। বাদামের গাছ আবার শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।  

নারী শ্রমিক সাহানা খাতুন ও জরিমন নেছা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বাদাম ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে থাকি। এলাকার ২৫/৩০ জন নারী শ্রমিক এ কাজ করে আসছেন।  
গৃহিণী সাজেদা খাতুন ও জামেলা খাতুন জানান, বাদামের লতা জালানি হিসেবে বেশ ভাল। তাই লতাও বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, চিনা বাদামের চাষ সাধারণত পতিত জমিতে হয়ে থাকে। এলাকার চাষিরা এই জমিতে বাদামের চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। তাই বাদাম চাষ যাতে আরও সম্প্রসারিত হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বন্ধুপোকা মাকড়ের (পরজীবি ও পরভোজী) সংরক্ষণের জন্য জমির পাশে অব্যবহৃত জায়গায় ত্রিধারা, উঁচুটি, শালিঞ্চে ইত্যাদি আগাছা জাতীয় গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব আনা সম্ভব। তাই জৈব কৃষির পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে কৃষিবিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com