আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

করোনাকালে অনলাইন ব্যবসায় জোর দিই

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির প্রথম দিন থেকে আমাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দোকানপাট বন্ধ থাকায় বিক্রিও শূন্যের কোটায় নামে। তখন ভেতরে-ভেতরে ধৈর্য ও সাহস ধরে রাখার চেষ্টা করলেও অজানা শঙ্কা নিজেকে গ্রাস করে ফেলেছিল। প্রায়ই মনে হতে থাকে, এত দিনের কষ্টের ব্যবসা বোধ হয় আর টিকিয়ে রাখা যাবে না।

তিন ভাগের এক ভাগ সক্ষমতায় কারখানা চললেও খরচ ওঠে না। সে কারণে টানা তিন মাস পুঁজি ভেঙে কর্মীদের বেতন দিলাম। ইতিমধ্যে সরকার প্রণোদনা তহবিলও ঘোষণা করেছে। প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাব কি না, সেটি নিয়ে আশার সঙ্গে শঙ্কাও ছিল।

কাজী সাজেদুর রহমান, চেয়ারম্যান, কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজ

করোনার শুরুর দিকে কী করব, বুঝতে পারছিলাম না। তখন আবার বাজারে সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ছিল। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে মিলে মাস্ক ও পিপিইর মতো সুরক্ষাসামগ্রীর ব্যবসায় নেমে পড়লাম। কিছু মুনাফাও করলাম। এরই মধ্যে দেখলাম, গ্রামগঞ্জে পেপার কাপের চাহিদা বাড়ছে। মানুষজন সিরামিক ও প্লাস্টিকের কাপের বদলে একবার ব্যবহারযোগ্য কাগজের কাপের দিকে ঝুঁকছে। সে কারণে ১৫ দিন বন্ধ রাখার পর আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা সীমিত পরিসরে চালু করলাম। তখন সক্ষমতার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কাগজের কাপ, থালাবাটি ইত্যাদি উৎপাদন করতাম।বিজ্ঞাপন

তিন ভাগের এক ভাগ সক্ষমতায় কারখানা চললেও খরচ ওঠে না। সে কারণে টানা তিন মাস পুঁজি ভেঙে কর্মীদের বেতন দিলাম। ইতিমধ্যে সরকার প্রণোদনা তহবিলও ঘোষণা করেছে। প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাব কি না, সেটি নিয়ে আশার সঙ্গে শঙ্কাও ছিল। কারণ, আমাদের দেশে অনেক কিছুই ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকে যায়। যাহোক, শেষ পর্যন্ত আমরা প্রণোদনা পেয়েছি। তাতে ঘুরে দাঁড়ানোটা সহজ হয়েছে।

করোনা কাগজের কাপশিল্পের জন্য অনেকটা আশীর্বাদ হয়ে এসেছিল। বিষয়টি আমরা দুই-আড়াই মাস পর বুঝতে পারি। যখন অর্থনীতি স্বাভাবিক গতিতে ফিরিয়ে আনতে সরকার উদ্যোগ নিল, তখন দেখা গেল করোনার সংক্রমণ থেকে দূরে থাকতে চা, কফি ও পানি পানে কাগজের কাপের চাহিদা তিন-চার গুণ বেড়ে গেল। সে কারণে সেপ্টেম্বর আমরা পুরোদমে কারখানা চালু করলাম। কর্মিসংখ্যাও ১৫-১৬ জন বাড়ালাম। এক মাস ভালো ব্যবসা করলাম।

অবশ্য বেনাপোল বন্দর পুরোপুরি সচল হওয়ার পর ব্যবসা আবার কমে গেল। কারণ, প্রতি কেজিতে মাত্র দেড় ডলার শুল্ক দিয়ে কোটি কোটি কাগজের কাপ দেশে আমদানি হতে শুরু হয়। অন্যদিকে ৬১ শতাংশ শুল্ক ও কর দিয়ে কাঁচামাল আমদানি করে কাগজের কাপ উৎপাদন করে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে টিকতে পারছে না আমার মতো দেশীয় উদ্যোক্তারা। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দীর্ঘদিন দেনদরবার করেও আমরা কোনো সুরাহা করতে পারছি না।

করোনাকালে আমরা অনলাইন ব্যবসায় জোর দিই। তাতে মোটামুটি ভালো সাড়া পেয়েছি। ব্যবসায় টিকে থাকতে নতুন বছরে আমরা আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করার নীতি নিয়েছি। একই সঙ্গে কর্মী বাহিনী ছাঁটাই না করে বিভিন্ন খাতের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

ব্যাপক আমদানির কারণে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেও আমাদের কাগজের কাপের ব্যবসা ভালো নয়। এর মধ্যে কাঁচামাল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। ভ্যাট অফিসও অযৌক্তিকভাবে নানা রকম চাপ দিচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে সরকার প্রণোদনা তহবিল দিয়ে আমাদের অনেক সহযোগিতা দিয়েছে। শোনা যাচ্ছে, সরকার নতুন একটা প্রণোদনা প্যাকেজ আসছে। তবে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি কিছু নীতিগত সহায়তা না পেলে পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।

করোনাকালে আমরা অনলাইন ব্যবসায় জোর দিই। তাতে মোটামুটি ভালো সাড়া পেয়েছি। ব্যবসায় টিকে থাকতে নতুন বছরে আমরা আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করার নীতি নিয়েছি। একই সঙ্গে কর্মী বাহিনী ছাঁটাই না করে বিভিন্ন খাতের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খরচ কমিয়ে মুনাফা না বাড়াতে পারলে প্রণোদনা ঋণ শোধ করে ব্যবসা সম্প্রসারণ করা কষ্টকর হয়ে যাবে।

ইসলাম

জুমার দিনে মুহাম্মাদ (সা.)- এর প্রতি দরূদ পড়বেন কেন?

সপ্তাহের সেরা দিন জুমা। আর এ দিনের সেরা ইবাদতসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রিয় নবির প্রতি দরূদ পড়া। কিন্তু কেন জুমার সেরা দিনে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়তে হবে? আর কীভাবেই বা পড়বেন দরুদ?

দরূদ পড়া ইবাদত। জুমার দিন দরূদ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং বিশ্বনবি। তাছাড়া দরূদ পড়া মহান আল্লাহর নির্দেশ। আল্লাহ ও ফেরেশতারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করেন। তাইতো কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা ঈমানদারদের নবির প্রতি দরূদ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন এভাবে-

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত (দরূদ) পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৬)

জুমার দিন দরূদ পড়ার ফজিলত ও মর্যাদা

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ পড়া ফজিলতপূর্ণ ইবাদত ও সাওয়াবের কাজ। তিনি নিজেই হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা তুলে ধরেছেন-

১. হজরত আওস ইবনে আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হচ্ছে জুমুআর দিন। সুতরাং ঐ দিন তোমরা আমার উপর বেশি বেশি দরূদ পড়। কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।’

লোকেরা (উপস্থিত সাহাবারা) বললেন, ‘ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি তো (মারা যাওয়ার পর) পচে-গলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের দরূদ কিভাবে আপনার কাছে পেশ করা হবে?

তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তাআলা পয়গম্বরদের দেহসমূহকে খেয়ে ফেলা মাটির উপর হারাম করে দিয়েছেন।’ (বিধায় তাঁদের শরীর আবহমান কাল ধরে অক্ষত থাকবে।) (আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

২. হজরত ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘কেয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চেয়ে আমার বেশি কাছাকাছি হবে; যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর দরূদ পড়বে।’ (তিরমিজি)

৩. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরূদ পাঠ করবেআল্লাহ (এ দরূদ পড়ার বকরতে) তার উপর দশবার দরূদ পাঠ (রহমত নাজিল) করবেন।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

৪. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই অভিশাপ দিলেন যে, ‘সেই ব্যক্তির নাক ধূলা-ধূসরিত হোক, যার কাছে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো, অথচ সে (আমার নাম শুনেও) আমার প্রতি দরূদ পড়ল না।‘ (অর্থাৎ অন্তত আরবিতে সংক্ষেপে ছোট্ট বাক্যে- صَلَّى اللهُ عَلَى مُحَمَّد – সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদ কিংবা صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّم – সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলল না।)’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

৫. হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আরও বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা আমার কবরকে উৎসব কেন্দ্রে পরিণত করো না (যেমন কবর পূজারীরা ওরস ইত্যাদির মেলা লাগিয়ে করে থাকে)। তোমরা আমার প্রতি দরূদ পেশ কর। কারণ, তোমরা যেখানেই থাক, তোমাদের পাঠ করা দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।’ (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ)

৬. হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘প্রকৃত কৃপণ তো সেই ব্যক্তি; যার কাছে আমি উল্লেখিত হলাম অর্থাৎ আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরূদ পাঠ করলো না।’ (তিরমিজি, মুসনাদে আহমাদ)

৭. হজরত ফাজালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি লোককে নামাজে প্রার্থনা করতে শুনলেন। সে কিন্তু তাতে আল্লাহর প্রশংসা করেনি এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দরূদও পড়েনি।

এ (অবস্থা) দেখে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘লোকটি তাড়াহুড়ো করলো।’ এরপর তিনি তাকে ডাকলেন ও তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, ‘যখন কেউ দোয়া করবে, তখন সে যেন তার পবিত্র প্রতিপালকের প্রশংসা ও আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার মাধ্যমে দোয়া আরম্ভ করে; তারপর যা ইচ্ছা (যথারীতি) প্রার্থনা করে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসাঈ, মুসনাদে আহমাদ)

দরূদ ও সালাম পেশ করবেন কীভাবে?

হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করার নিয়ম কী? কোন শব্দে তা পেশ করতে হবে?

১. হজরত আব্দুর রহমান ইবনু আবু লাইলা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, কাব ইবনু উজরা রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার সঙ্গে দেখা করে বললেন, আমি কি আপনাকে এমন একটি হাদিয়া (উপহার) দেব না; যা আমি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছি?

আমি বললামহ্যাঁআপনি আমাকে সে হাদিয়া (উপহার) দিন।

তিনি বললেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম- হে আল্লাহর রাসুল! আপনাদের উপর অর্থাৎ আহলে বাইতের উপর কীভাবে দরূদ পাঠ করতে হবে? কেননা, আল্লাহ তো (শুধু) আমাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন- আমরা কিভাবে আপনার প্রতি সালাম জানাবো!

তিনি (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনতোমরা এভাবে বলো-

اَللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ، اَللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيْمَ، وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيْمَ، إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَجِيْدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিম ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ। আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আলি ইবরাহিম। ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেভাবে আপনি ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বংশধরদের উপর রহমত বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অত্যন্ত মর্যাদার অধিকারী।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বংশধরদের উপর বরকত দান করুন; যেভাবে আপনি বরকত দান করেছেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইবরাহিম আলাইহিস সালামের বংশধরদের উপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত, অতি মর্যাদার অধিকারী।’ (বুখারি, মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ মুসনাদে আহমাদ, দারেমি)

২. হজরত আবু মাসউদ বদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমরা সায়াদ ইবনে উবাদা রাদিয়াল্লাহু আনহুর মজলিসে বসা ছিলাম। এমন সময় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে এলেন। হজরত বাশির ইবনে সাআদ তাঁকে বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! মহান আল্লাহ আমাদেরকে আপনার প্রতি দরূদ পড়তে আদেশ করেছেনকিন্তু কীভাবে আপনার উপর দরূদ পড়ব?

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিরুত্তর থাকলেন। পরিশেষে আমরা আশা করলাম, যদি (বাশির) তাঁকে প্রশ্ন না করতেন (তো ভাল হত)। কিছুক্ষণ পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমরা বলো-

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي الْعَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিম। ওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ, কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহিমা ফিল আলামিন। ইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ (সা.) তথা মুহাম্মাদ (সা.)-এর পরিবারবর্গের উপর সালাত (রহমত) পেশ করুন; যেভাবে সালাত (রহমত) পেশ করেছিলেন ইবরাহিমের পরিবারবর্গের উপর। আর আপনি মুহাম্মাদ (সা.) ও তাঁর পরিজনবর্গের প্রতি বরকত নাহিল করুন; যেভাবে বিশ্ব জগতে ইবরাহিমের পরিজনবর্গের প্রতি বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয় তুমি প্রশংসিত ও মহা সম্মানীয়। আর সালাম কেমন, তা তো তোমরা জেনেছো।’ (মুসলিম, তিরমিজি, নাসাঈ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালেক, দারেমি)

৩. হজরত আবু হুমাইদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, লোকেরা (সাহাবারা) বললো, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কীভাবে আপনার প্রতি দরূদ পেশ করব?’ তিনি বললেন, তোমরা বলো-

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَأَزْوَاجِهِ وَذُرِّيَّتِهِ، كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ، إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা সাল্লাইতা আলা আলি ইবরাহিমওয়া বারিক আলা মুহাম্মাদিঁউ ওয়া আযওয়াঝিহি ওয়া জুররিয়্যাতিহি কামা বারাকতা আলা আলি ইবরাহিমইন্নাকা হামিদুম মাঝিদ।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর সালাত (রহমত) পেশ করুন; যেভাবে আপনি ইবরাহিমের বংশধরের উপর সালাত (রহমত) নাজিল করেছেন। আর আপনি মুহাম্মাদ, তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর বংশধরের উপর বরকত নাজিল করুন; যেভাবে আপনি ইবরাহিমের বংশধরের উপর বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত গৌরবান্বিত।’ (বুখারি ও মুসলিম, নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ, মুয়াত্তা মালিক)

মনে রাখা জরুরি

জুমার দিন বিশেষ ৩টি আমলের মধ্যে দরূদ একটি। জুমার নামাজের পর থেকে দরূদের আমল করা জরুরি। বিশেষ করে জুমার দিন আসরের পর থেকে মাগরিবের নামাজের অপেক্ষার সময়টিতে দরুদ পড়ার ফজিলত অনেক বেশি। এছাড়াও এ দিন সুরা কাহফ পড়া এবং আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত যে কোনো ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করাও বিশেষ আমল।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, সপ্তাহের সেরা দিন জুমায় দরূদের সেরা আমল করার প্রতি মনোযোগী হওয়া। কোরআন-সুন্নাহর নির্দেশনায় আমল করা। রহমত বরকত ও ক্ষমার দিকে ধাবিত হওয়া।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিনটি আমল-ইবাদতে অতিবাহিত করার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। বেশি বেশি দরূদ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

আগের রূপে ফিরল পবিত্র কাবা শরীফ

সৌদি আরবের মক্কায় পবিত্র কাবা শরীফে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম তুলে নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার (১৭ অক্টোবর) এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর মসজিদটিতে স্বাভাবিক সময়ের মতো মুসল্লিদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর মসজিদটিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল।

পবিত্র কাবা ঘরের চত্বরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশনামূলক মেঝের চিহ্নগুলোও অপসারণ করা হয়েছে।

সরকারি সৌদি বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা শিথিল করার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাবাঘরে মুসুল্লিদের প্রবেশ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

গতকাল সকালের ছবি ও ফুটেজে মুসল্লিদের পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। গত বছর কোভিড-১৯ মহামারি দেখা দেয়ার পর প্রথমবারের মতো এ দৃশ্য দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর কাবা শরীফ প্রাঙ্গণে নামাজ শুরুর আগে মসজিদুল হারামের ইমামকে বলতে শোনা যায়, ‘দাঁড়িয়ে কাতার সোজা করুন, খালি স্থান পূরণ করুন।’

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা তুলে নেয়া হলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসল্লিদের অবশ্যই করোনাভাইরাসের টিকার সম্পূর্ণ ডোজ গ্রহণ করতে হবে এবং কাবা চত্বর এলাকায় মাস্ক পরতে হবে।

সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ যেকোনো সময় পালন করা যায়। তবে প্রতিবছর পবিত্র হজ পালন করতে হয় বছরে মাত্র একবার। হজের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সৌদি আরবে যান লাখ লাখ মানুষ। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছর বিদেশিদের হজ পালনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সেবার মাত্র ৬০ হাজার সৌদি নাগরিককে হজ পালনের অনুমতি দেয় দেশটির কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবে করোনাভাইরাসে পাঁচ লাখ ৪৭ হাজার জনের বেশি আক্রান্ত ও আট হাজার ৭৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রবিউল আউয়ালের অঙ্গীকার

আজ শুরু হলো ১৪৪৩ হিজরির রবিউল আউয়াল মাস। মুসলিম উম্মাহর কাছে মাসটি ব্যাপক পরিচিত ও মর্যাদার। হিজরি বছরের তৃতীয় মাস বরিউল আউয়াল। সফর ও রবিউস সানির মধ্যবর্তী মাস। মুমিন মুসলমানের বিশেষ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মাসও এটি। আহলান ওয়া সাহলান… মাহে রবিউল আউয়াল।

বিশ্বব্যাপী রবিউল আউয়াল মাসটি হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলু্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শুভ জন্মগ্রহণের মাস হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। এ কারণেই মাসটি মুসলিম উম্মাহর সর্বোচ্চ আবেগ অনুভূতি ও ভালাবাসার মাস। তাইতো কবি একান্ত আবেগ ও ভালোবাসায় গান রচনা করেছে এভাবে-
রবিউল আউয়াল এসেছে ..
শান্তি সুখের চাঁদ হেসেছে।
আল্লাহর ধ্যানের ছবি এসেছে …
আমার প্রাণের নবি এসেছে।

হিজরি বছরের তৃতীয় মাস রবিউল আউয়াল। ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের মুসলমান প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ইন্তেকালের মাস হিসেবে রবিউল আউয়াল মাসের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার আবেগে আপ্লুত। তাই তো মুসলিম উম্মাহ মাসব্যাপী নানা নাম-শিরোনামে আলোচনাসভা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, সভা-সমাবেশ ও দোয়া-মাহফিল আয়োজন করে থাকেন। তাহলো-

ঈদে মিলাদুলাদুন্নবী
বাংলাদেশসহ অনেক দেশেই রাষ্ট্রীয়ভাবে সপ্তাহ, পক্ষ ও মাসব্যাপী রবিউল আউয়াল উপলক্ষ্যে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম উৎসব হিসেবে ১২ রবিউল আউয়াল বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে সবার জন্য থাকে সাধারণ ছুটি। মাসটিতে ইসলামি বইমেলাসহ নানা কর্মসূচিও গ্রহণ করে অনেক দেশ।

উসওয়াতুন্নবী
রবিউল আউয়াল মাসটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক স্থানে উসওয়াতুন্নবী শিরোনামে উদযাপিত হয়। মাসব্যাপী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনী আলোচনা ও দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান আদর্শে গড়ে তুলতে উসওয়াতুন্নবী শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘খাস তালিম’-এর মাধ্যমে বাস্তবমুখী শিক্ষা প্রদানেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সীরাতুন্নবী
কেউ কেউ মাসব্যাপী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম, বেড়ে ওঠা, নবুয়ত, হিজরত, রাষ্ট্রগঠন, ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন, রাজনৈতিক জীবন, আন্তর্জাতিক জীবন, সমাজ সংস্কারসহ জন্ম থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন দিক ও বিষয় নিয়ে সীরাতুন্নবি শিরোনামে অনুষ্ঠান উদযাপন করে থাকেন।

এছাড়া কেউ কেউ মাজিউন্নবী আবার কেউ কেউ ৬৩দিন ব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী শীর্ষক আলোচনা সভাও অব্যাহ রাখে। যা রবিউল আউয়াল মাসে শুরু হয়।

আফসোসের বিষয়!
রবিউল আউয়াল মাস আসলেই মুসলিম উম্মাহ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেম, আবেগ-ভালোবাসায় উজ্জীবিত হয়। আবার মাসটি চলে গেলে সে আবেগ-অনুভূতি ও ভালোবাসা আর থাকে না। তাইতো কবি নজরুল এ অনুভূতি ধারণ করে বলেছিলেন-
‘রবিউল আউয়াল এলে তোমারই গান গাই; রবিউল আউয়াল গেলে তোমায় ভুলে যাই’

কবির এ ছন্দটি মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এমনটি যেন কোনোভাবেই না হয়। বরং মাসব্যাপী এসব অনুষ্ঠান আয়োজনকে বাস্তবে রূপ দিতে শুধু বছরব্যাপী নয় বরং জীবনব্যাপী প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুমহান আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করা জরুরি।

কারণ প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনেই রয়েছে মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম অনুকরণীয় আদর্শ। আর এ ঘোষণা দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَن كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيراً
‘অবশ্যই রাসুলুল্লাহর জীবনে রয়েছে তোমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ; যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি (বিশ্বাস ও কল্যাণের) আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ২১)

সুতরাং বিশ্ব মানবতার প্রতি রবিউল আউয়ালের ডাক হোক এমন-
জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়ন করা। অন্যকে এ আদর্শ ধারণে অনুপ্রাণিত ও চেষ্ট করাও উম্মতে মুহাম্মাদির ঈমানি দায়িত্ব। আর তাতেই স্বার্থক হবে উসওয়াতুন্নবি বা বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়নের সব অনুষ্ঠান আয়োজন।

আর যারাই নানা শিরোনামে মাসটি উদযাপন করবেন, তাদের প্রতি আহ্বান-
মাসব্যাপী ঈদে মিলাদুন্নবী, উসওয়াতুন্নবী, সীরাতুন্নবী, মাজিউন্নবী শীর্ষক অনুষ্ঠান ও মাহফিলে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সব আদর্শগুলো তুলে ধরা। কুরআন-সুন্নাহর মোতাবেক পরিচালিত প্রিয় নবির জীবনকে বিশ্ব মানবতার জন্য মডেল হিসেবে তুলে ধরা। ব্যক্তি সমাজ পরিবার রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রিয় নবি সুমহান আদর্শ বাস্তবায়নের যথাযথ ভূমিকা গ্রহণ করা।

বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতুলনীয় সুমহান আদর্শ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন এবং অন্যদের জীবনেও বাস্তবায়নের আহ্বান ও প্রচেষ্টাই মুসলিম উম্মাহর রবিউল আউয়ালে মাসের অঙ্গীকার। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কত সুন্দর চিঠিই না লিখেছিলেন বিশ্বনবি!

ডাক দিবস প্রতিষ্ঠার বয়স বেশি না হলেও বহুকাল আগে থেকেই চিঠি আদান-প্রদানের প্রচলন শুরু হয়েছিল। বহু পয়গাম্বর ও শাসকরা যুগে যুগে নানা প্রয়োজনে দূরে কিংবা কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ কাজে দ্রুতগ্রামী অশ্বারোগী, কবুতরসহ অনেক পাখি ব্যবহারর প্রচলনও ছিল।

ডাক দিবস এলেই মনে পড়ে যায় বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিঠি প্রেরণের কথা। মোহরে নবুয়তের সীল সমৃদ্ধ তাঁর এসব চিঠি গিয়েছিল তৎকালীন সময়ে রাজা-বাদশাহদের হাতে। মানুষের কল্যাণে কত চমৎকারভাবেই না তিনি এসব চিঠি লিখেছিলেন!

রাজা-বাদশাহদের কাছে পাঠানো সেসব চিঠি ও দাওয়াতের অনেক নিদর্শন আজও পৃথিবীর বুকে বিদ্যমান। রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছেও তিনি চিঠি পাঠিয়েছেন। সম্রাটের কাছে পাঠানো সেই ঐতিহাসিক চিঠিতে আছে খতমে নবুয়তের সীল। জর্ডানের জাদুঘরে আজও এ চিঠি সংরক্ষিত। এ চিঠিতে স্থান পেয়েছে তাঁর অসাধরণ কথা।

সম্রাট হেরাক্লিয়াসকে লেখা তাঁর চিঠি

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আল্লাহর বান্দা ও রাসুল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে রোম সম্রাট হিরাক্লিয়াসের বরাবর।

ন্যায়ের পথের অনুসারীদের প্রতি সালাম। এরপর আমি আপনাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করছি। যদি প্রশান্তি লাভ করতে চান, তবে ইসলাম গ্রহণ করুন। যদি আপনি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে আল্লাহ আপনাকে দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন। আর যদি প্রত্যাখ্যান করেন, তবে আপনার সব প্রজাসাধারণের পথভ্রষ্টতার দায় আপনার ওপরই বর্তাবে।

(এরপর তিনি লেখেন)-

হে আহলে কিতাবের অনুসারিরা! বিতর্কিত সব বিষয় স্থগিত করুন। আমরা এমন এক বিষয়ে (তাওহিদ তথা আল্লাহর একত্ববাদের বিষয়ে) ঐকমত্যে পৌঁছেছি; যাতে তোমাদের ও আমাদের মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই। আর তা হচ্ছে-

আমরা এক আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত করব নাযদি এ বিষয়গুলো আপনি অস্বীকার করেনতবে শুনে রাখুনআমরা সর্বাবস্থায় আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসে অবিচল থাকব।’

আল্লাহ রাসুল মুহাম্মাদ (মোহরে নবুয়তের সীল)

চিঠি লেখা যেখানে শেষ হয়েছে, ঠিক সেখানেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর মোহরে নবুয়তের সীল মেরেছিলেন।

চিঠি আদান-প্রদান তথা ডাক ব্যবস্থা দাওয়াতের অন্যতম মাধ্যম। কোনো কালেই এ ডাক ব্যবস্থা একেবারেই অকার্যকর ছিল না। বরং সব যুগেই ডাক ব্যবস্থার প্রচলন ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু দূত মারফত চিঠি পাঠিয়েই বিরত হননি। ইসলামের বার্তাবাহক হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাওহিদের দাওয়াত পৌঁছে দিতে চষে বেড়িয়েছেন পবিত্র নগরী মক্কা-মদিনাসহ আরবের অনেক শহর।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লামের এ চিঠিগুলো এখনো সংরক্ষিত আছে। এরমধ্যে কয়েকটি চিঠি ইস্তাম্বুল জাদুঘরে রাখা হয়েছে। সৌদি আরবের মদিনা জাদুঘরেও কয়েকটি চিঠির মূল অনুলিপি সংরক্ষিত আছে। আর রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে পাঠানো সেই ঐতিহাসিক চিঠি জর্ডানের জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

তিনি যাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে মোহরে নবুয়তের সীল সমৃদ্ধ চিঠি ও দূত পাঠিয়েছিলেন; তারা হলেন-

> রোম তথা বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সম্রাট হেরাক্লিয়াস

> পারস্যের রাজা মুসির ইবনে সাওয়া ।

> মিসরীয় শাসক আল-মুকাওকিস।

> ইথিওপিয়ার সম্রাট আশামা ইবনে আবজার।

> ইয়েমেনের রাজপুত্র হিমায়ারি হরিথ, এবং হরিথ গাসানিকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন।

> শামের রাজ্যপালের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিশ্বনবি।

> স্যাসানীয় সাম্রাজ্যের শেষ মহারাজা খসরু পারভেজ বা কিসরা আবরুভেজ। যিনি ৫৭৯ সাল থেকে ৬২৮ সাল পর্যন্ত রাজত্ব করেন। নবি সাল্লাল্লাহু আলিইহি ওয়া সাল্লাম  তার কাছেও ইসলামের দাওয়াত নিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। যা সে ছিঁড়ে ফেলেছিল।

সে সময় ইয়েমেন নিযুক্ত শাসক বাযানকে হিজায থেকে মুহাম্মদকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বন্দী করে আনার জন্য দুজন লোক পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে বিশ্বনবির দূত হজরত আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু ফিরে এসে বিশ্বনবিকে সব ঘটনা খুলে বললে তিনি মহারাজা খসরু পারভেজের ধ্বংসের প্রতিশ্রুতি দেন। পরবর্তীতে নিজ পুত্র দ্বিতীয় কাভাধ কর্তৃক খসরু পারভেজ মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এসব দাওয়াতি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে হয়েছিল মদিনায় তাঁর পরিচালিত শাসন ব্যবস্থায় স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার সময়। এ সময়টি ছিল ইসলামের দাওয়াত নিয়ে চিঠি ও প্রতিনিধি প্রেরণের শ্রেষ্ঠ সময়। আল্লাহ তাআলা তাঁকে যে মিশন নিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন, এগুলো ছিল তার বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ তাআলা বলেন-

هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ

তিনিই সেই মহান সত্ত্বা, যিনি তাঁর রাসুলকে পথ নির্দেশ ও সত্য জীবন ব্যবস্থা দিয়ে পাঠিয়েছেন; যাতে একে (সত্য ধর্ম ইসলামকে) সব ধর্ম তথা জীবন ব্যবস্থার উপর প্রবল করে দেন; যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।’ (সুরা সফ : আয়াত ১৯)

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কন্যা সন্তানের আগমন কি সত্যিই সুসংবাদ?

সন্তান মহান আল্লাহর দেওয়া সেরা নেয়ামত। বাবা মার জন্য দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। কারণ দুনিয়াতে চেষ্টা করলে অনেক কিছুই পাওয়া যায় কিন্তু চাইলে সন্তান পাওয়া সম্ভব নয়। আর কন্যা সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে জান্নাতের প্রাপ্তির অনন্য এক উপায়। কন্যা সন্তানের ব্যাপারে কোরআন-সুন্নায় এসব সুসংবাদ ও প্রাপ্তির কথা ওঠে এসেছে। সেসব ঘোষণা ও সুসংবাদগুলো কী?

আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে কন্যা সন্তানের আগমনকে সুসংবাদ বলে উল্লেখ করেছেন। এ সুসংবাদ হলো জান্নাতের দাওয়াতনামার সুসংবাদ। অথচ অজ্ঞতার যুগের মতো আজও কন্যা সন্তান জন্ম নিলে অনেকের মুখ কলো হয়ে যায়। অজ্ঞতার যুগে কন্যা সন্তান ও নারীর প্রতি বর্বর চিন্তা-ভাবনার মূলে কুঠারাঘাত করে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

‘যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়তখন তারা মুখ কালো করে এবং মনে অসহ্য কষ্ট ভোগ করতে থাকে। তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে মানুষের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবেঅপমান সহ্য করে তাকে (কন্যা সন্তানকে) থাকতে (বাঁচতে) দেবেনাকি তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখতাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট।’ (সুরা নাহল : আয়াত ৫৮-৫৯)

‘আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস’ আজ। প্রতি বছরের মতো এবারো বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে দিবসটি। কন্যা শিশুদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে ‘ডিজিটাল জেনারেশন, আওয়ার জেনারেশন’, অর্থাৎ ‘ডিজিটাল প্রজন্মই, আমাদের প্রজন্ম’ স্লোগানে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

যখন কন্যা শিশু ও নারীদের সামাজিক কোনো মর্যাদা ছিল না; তখন ইসলাম কন্যা শিশু ও নারীকে দিয়েছিল পৃথিবীর সেরা মর্যাদা। তাদের অধিকার রক্ষায় ইসলাম দিয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। কোরআন সুন্নায় কন্যা শিশুর প্রতি সুন্দর ব্যবহার ও উত্তম আচরণের জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

শিশু হত্যা মহাপাপ

মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে শিশুদের হত্যা করতে নির্দেশ দিয়েছেন যে, ‘তোমারা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করনা। তাদের ও তোমাদের রিজিক আমিই ব্যবস্থা করি।’ (সুরা আল-ইমরান ও বনি ইসরাইল)

শিশু হত্যার কারণ

চরম বর্বরতার যুগ আইয়্যামে জাহেলিয়াতে মানুষ ৩ কারণে শিশুদের হত্যা করতো। তাহলো-

১. অজ্ঞতার যুগে আত্মমর্যাদা রক্ষায় কন্যা শিশু হত্যার রেওয়াজ ছিল। জাহেলিয়াতের যুগে কন্যা শিশু জন্ম নেওয়া ছিল অপমান ও লজ্জাজনক ব্যাপারে। কন্যা শিশুর জন্ম হলেই বাবারা অপমান ও লজ্জার এ কুসংস্কার থেকে বাঁচতে কন্যা শিশুদের হত্যা ও জীবন্ত মাটি চাপা দিয়ে দিতো।

২. সন্তানদের লালন-পালন ও অর্থনৈতিক কষ্ট ও সমস্যায় পড়ার ভয়ে মানুষ শিশুদের হত্যা করতো।

৩. অবার চরম অজ্ঞতাবশত নিজেদের উপাস্যদের সন্তুষ্টির জন্য শিশু সন্তানদের বলি দেওয়া হতো। এসব বিষয়ে একাধিক আয়াতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেন-

وَكَذَلِكَ زَيَّنَ لِكَثِيرٍ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ قَتْلَ أَوْلاَدِهِمْ شُرَكَآؤُهُمْ لِيُرْدُوهُمْ وَلِيَلْبِسُواْ عَلَيْهِمْ دِينَهُمْ وَلَوْ شَاء اللّهُ مَا فَعَلُوهُ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ

‘এমনিভাবে অনেক মুশরেকের দৃষ্টিতে তাদের উপাস্যরা সন্তান হত্যাকে সুশোভিত করে দিয়েছে যেন তারা তাদেরকে বিনষ্ট করে দেয় এবং তাদের ধর্মমতকে তাদের কাছে বিভ্রান্ত করে দেয়। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা এ কাজ করত না। অতএব, আপনি তাদেরকে এবং তাদের মনগড়া বুলিকে পরিত্যাগ করুন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৩৭)

قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُواْ أَوْلاَدَهُمْ سَفَهًا بِغَيْرِ عِلْمٍ وَحَرَّمُواْ مَا رَزَقَهُمُ اللّهُ افْتِرَاء عَلَى اللّهِ قَدْ ضَلُّواْ وَمَا كَانُواْ مُهْتَدِينَ

‘নিশ্চয়ই তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যারা নিজ সন্তানদেরকে নির্বুদ্ধিতাবশত কোনো প্রমাণ ছাড়াই হত্যা করেছে এবং আল্লাহ তাদেরকে যেসব দিয়েছিলেন, সেগুলোকে আল্লাহর প্রতি ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে হারাম করে নিয়েছে। নিশ্চিতই তারা পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং সুপথগামী হয়নি।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৪০)

قُلْ تَعَالَوْاْ أَتْلُ مَا حَرَّمَ رَبُّكُمْ عَلَيْكُمْ أَلاَّ تُشْرِكُواْ بِهِ شَيْئًا وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا وَلاَ تَقْتُلُواْ أَوْلاَدَكُم مِّنْ إمْلاَقٍ نَّحْنُ نَرْزُقُكُمْ وَإِيَّاهُمْ وَلاَ تَقْرَبُواْ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَلاَ تَقْتُلُواْ النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللّهُ إِلاَّ بِالْحَقِّ ذَلِكُمْ وَصَّاكُمْ بِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ

‘আপনি বলুন! এসো, আমি তোমাদেরকে ঐসব বিষয় পাঠ করে শুনাই, যেগুলো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্যে হারাম করেছেন। তা এই যে, আল্লাহর সঙ্গে কোনো কিছুকে অংশিদার করো না, পিতা-মাতার সঙ্গে সদয় ব্যবহার করো, স্বীয় সন্তানদেরকে দারিদ্র্যের কারণে হত্যা করো না, আমি তোমাদেরকে ও তাদেরকে আহার দেই, নির্লজ্জতার কাছেও যেয়ো না, প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন, তাকে হত্যা করো না; কিন্তু ন্যায়ভাবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা বুঝ। (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৫১)

কন্যা শিশুর মর্যাদায় বিশ্বনবির ঘোষণা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছেলে ও মেয়ের মধ্যে পার্থক্য বিধান এবং মেয়েদের ওপর ছেলেদের অহেতুক প্রাধান্যদান কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন-

‘যার তত্ত্বাবধানে কোনো কন্যা শিশু থাকে আর সে তাকে জীবিত দাফন না করেতার প্রতি তাচ্ছিল্য প্রদর্শন না করে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। (আবু দাউদ)

কন্যা শিশুর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব ও লালন পালনে যত্নবান হলেই রয়েছে জান্নাত প্রাপ্তির সুসংবাদ ও বিশেষ ঘোষণা। হাদিসে পাকে এসেছে-

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তানের পালনকারীর জন্য তিনটি পুরস্কার ঘোষণা করেছেন-

১. জাহান্নাম থেকে মুক্তি।

২. জান্নাতে প্রবেশের নিশ্চয়তা।

৩. জান্নাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন।

সুতরাং কন্যা সন্তানের প্রতি অবহেলা করলে পরিণতি কী হতে পারে কুরআনে এ আয়াত হাদিস থেকেই অনুমেয়। কন্যা শিশুরা বড় হলে দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ৩টি সম্মান ও মর্যাদার আসন অলংকৃত করবে। তাহলো-

> মায়ের মর্যাদা

কন্যা শিশু বড় হলে মা হবে। ইসলাম নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করেছে, সমাজ-সংসারে তাদের সম্মানিত করেছে। ইসলাম সব সময় নারীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছে। কুরআনের নির্দেশ হলো-

‘তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করো।` (সুরা নিসা : আয়াত ১৯)

আবার নারীদের মায়ের মর্যাদা দিয়ে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

وَوَصَّيْنَا الْإِنسَانَ بِوَالِدَيْهِ حَمَلَتْهُ أُمُّهُ وَهْنًا عَلَى وَهْنٍ وَفِصَالُهُ فِي عَامَيْنِ أَنِ اشْكُرْ لِي وَلِوَالِدَيْكَ إِلَيَّ الْمَصِيرُ

‘আর আমি মানুষকে তার বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়াতে দু বছরে (সময়ের প্রয়োজন) হয়। নির্দেশ দিয়েছি যেআমার প্রতি ও তোমার বাবা-মার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।’ (সুরা লোকমান : আয়াত ১৪)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মায়ের মর্যাদা ও উত্তম আচর পাওয়ার বেশি হকদার কে? এ প্রশ্নে তিনি প্রথম তিন বার মায়ের কথা বলেছেন। চতুর্থবার বাবার কথা বলেছেন।

> স্ত্রীর মর্যাদা

কন্যা সন্তান নির্ধারিত বয়স সীমায় পৌঁছলে স্ত্রীর মর্যাদা লাভ করে। ইসলাম তাকে সুন্দর ও উত্তম এ মর্যাদায় সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। পুরুষদের প্রতি স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম দায়িত্ব পালনে তাগিদ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ فَإِن كَرِهْتُمُوهُنَّ فَعَسَى أَن تَكْرَهُواْ شَيْئًا وَيَجْعَلَ اللّهُ فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا

‘তোমারা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে ন্যায়সংগতভাবে জীবন-যাপন কর। এরপর যদি তাদেরকে অপছন্দ কর, তবে হয়ত তোমরা এমন এক জিনিসকে অপছন্দ করছ, যাতে আল্লাহ অনেক কল্যাণ রেখেছেন। (সুরা নিসা : আয়াত ১৯)

> বোনের মর্যাদা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তানকে লালন-পালন করা জাহান্নামের শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় এবং বেহেশতে প্রবেশের কারণ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে পাকে এসেছে-

হজরত আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার তিনটি কন্যা অথবা তিনটি বোন আছেতাদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণ ব্যবহার করলে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে।` (তিরমিজি)

বিশ্বাসী বা অবিশ্বাসী হোক দুনিয়াতে এমন কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না, যে ব্যক্তি জাহান্নাম বা নরকে যেতে চায়। আবার জান্নাত বা স্বর্গে যেতে চায় না এমন লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। সর্বোপরি ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী এমন কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ব্যক্তি জান্নাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গী হতে চায় না।

কন্যা শিশুর প্রতি রাসুলের ভালোবাসা

কন্যা শিশুর মর্যাদা ও সম্মান প্রদানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। শিশু ফাতিমাকে অনেক ভালোবাসতেন তিনি। তাইতো তিনি বলতেন-

শিশুদেরকে ভালোবাসশিশুরা আল্লাহর পুষ্প। (তিরমিজি)

কন্যা সন্তানের প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করলেই হাদিসের ঘোষণা অনুযায়ী তার জন্য জাহান্নাম হারাম। মিলবে সুনিশ্চিত জান্নাত। সর্বোচ্চ বোনাস হিসেবে থাকবে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জান্নাতে বসবাসের সুযোগ।

কন্যা সন্তান লালন পালনের পুরস্কার

আল্লাহ তাআলা কাউকে এক বা একাধিক কন্যা সন্তান উপহার দিলে সন্তুষ্ট চিত্তে তাদের লালন-পালন করা আবশ্যক। তাদের প্রতি অবহেলা বা এ কারণে মনে কষ্ট নেওয়ার কোনো কারণ নেই। হাদিসে পাকে এ ব্যাপারেও সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে এভাবে-

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, ‘রাসুলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনযে ব্যক্তি দুজন কন্যা সন্তানকে লালন-পালন ও দেখাশোনা করল (বিয়ের সময় হলে ভালো পাত্রের কাছে বিয়ে দিল) সে এবং আমি জান্নাতে এরূপ এক সঙ্গে প্রবেশ করবযেরূপ এই দুটি আঙুল (এ কথা বলার সময় তিনি নিজের দুই আঙুল মিলিয়ে দেখালেন)।’ (তিরমিজি)

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তিকে কন্যাসন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং সে ধৈর্যের সঙ্গে তা সম্পাদন করেছে, সেই কন্যাসন্তান তার জন্য জাহান্নাম থেকে আড় (প্রতিবন্ধক) হবে।’ (তিরমিজি)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কন্যা সন্তানের লালন-পালনের বিষয়ে আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি কন্যাসন্তান বা তিনজন বোন আছেআর সে তাদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করেছেতাদের নিজের জন্য অসম্মানের কারণ মনে করে না, সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিজি)

বর্তমান সময়ে ব্যক্তি পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্রে সব জায়গায় কন্যা সন্তান তথা নারীর প্রতি চরম বৈষম্য পরিলক্ষিত হয়। আবার স্বাধীনতার নামে কন্যা তথা নারীদের পণ্যের বিজ্ঞাপনের সর্বনিম্নস্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। কন্যা সন্তানসহ সব নারীদের প্রতি এমনটি মারাত্মক অপরাধ।

সুতরাং কন্যা সন্তানের প্রতি আমাদের করণীয় হলো, তাদের দ্বীন শিক্ষা দেয়া। তাদের অধিকারের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেয়া। হাদিসের আলোকে তাদের প্রতিপালন করা। তাদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

মনে রাখতে হবে

কন্যা সন্তানের প্রতি বৈষম্য নয়, অনাদর অবহেলা নয়, তাদের সঙ্গে সর্বোত্তম সুন্দর আচরণ করা জরুরি। কন্যা বা নারীরা পণ্য নয় বরং ইসলাম কন্যা ও নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ মর্যাদা ও সম্মান। যার সর্বোচ্চ পুরস্কার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে জান্নাতে বসবাস।

কন্যা সন্তানের লালন-পালনকারী যদি মা-বাবা ছাড়া অন্য কেউও হয় তবে তাদের জন্য উল্লেখিত পুরস্কার সুনিশ্চিত। হাদিসে পাকে এ কারণেই মা-বাবার পরিবর্তে কন্যা সন্তান বা বোনের লালনকারী-পালনকারী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে কন্যা সন্তান তথা নারীর প্রতি যথাযথ দায়িত্ব পালন করার তাওফিক দান করুন। কন্যা সন্তান তথা নারীদের অন্যায় বা গুনাহের পথে পরিচালিত করা থেকে বিরত রাখার তাওফিক দান করুন। কুরআন-সুন্নাহর সর্বোত্তম শিক্ষার ব্যবস্থা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com