আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

করোনাকালের বসন্ত

সাতসকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে দৌড়াতে হয়। এ জন্য মোবাইল ফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখতে হয়; না হলে দেরি হয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে। গত কদিন অবশ্য অ্যালার্মের আগেই টের পেয়ে যাচ্ছি। কারণটা অনুসন্ধান করতে গিয়ে বুঝলাম, বাসার চারপাশের গাছে পাখিদের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। শীতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে পাততাড়ি গুটিয়ে বিদায় নিয়েছে আগস্টের ৩১-এ। এমনিতে সিডনির আবহাওয়া যেন পাড়ার পাগলাটে খ্যাপা ছেলেটার মতো। একই দিনে কখনো ঠান্ডা, কখনো গরম, কখনো নাতিশীতোষ্ণ আবার কখনো বৃষ্টি; কিন্তু শীতের পর বসন্তের আগমনী বাতাস দিয়ে ঠিক ঠিক জানিয়ে যায় ঋতুরাজ আসছে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখেই প্রকৃতিতে এমন একটা বাতাস এসে সেই বার্তা জানিয়ে গেল, যে বাতাসকে বাংলাদেশের ভাষায় বলে লিলুয়া বাতাস। লিলুয়া বাতাসে মনটা হয় পাগলপারা। মনের মধ্যে একটা অব্যক্ত কাব্যভাব তৈরি হয়; মনে হয় ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে চলে যাই। হাঁটতে থাকি গন্তব্যহীনভাবে। অকৃপণভাবে মাখতে থাকি এই লিলুয়া বাতাস। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, যেন প্রেমটা এই বাতাসের সঙ্গেই, তাই অন্য কোনো সঙ্গীর দরকার নেই। অন্য কেউ থাকলে বরং লিলুয়া বাতাসের সঙ্গে এই নীরব কথোপকথনে ছেদ পড়তে পারে। এরপর থেকে তাপমাত্রা বাড়ছে। আজ যেমন জ্যাকেটটা বাসায়ই ফেলে আসলাম লিলুয়া বাতাসের সঙ্গে মাখামাখি ভালোবাসা করব বলে।

অ্যালার্মের আগেই ঘুম ভেঙে যাওয়ার কারণটা বের করেছি। ঠিক তখনই মনে পড়ে গেল বাংলাদেশের বসন্তকালের সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ শিমুল ফুলের কথা, আমাদের স্থানীয় ভাষায় বলে মাদার ফুল। কুষ্টিয়াতে আমাদের শোয়ার ঘরের ঠিক পেছনেই ছিল একটা বেলগাছ আর তার একটু পেছনেই ছিল একটা শিমুলগাছ। বসন্তের এই সময়টাতে বেল ও শিমুলগাছে ফুল ফুটতে শুরু করলে অনেক পাখি সকাল সকাল এসে হাজির হতো আর তাদের কিচিরমিচির শুনে আমাদের ঘুম ভেঙে যেত। বেলফুলের ঘ্রাণ যে একবার নিয়েছে, সে আর জীবনেও ভুলবে না। বেলগাছটাতেও অনেক পাখি বসত। বেল আর শিমুলগাছ একসময় সমান উচ্চতার ছিল কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বেলগাছের কলেবর খুব একটা না বাড়লেও শিমুলগাছ ছাতার মতো তার ডালপালা ছড়িয়ে চারিদিক ঢেকে দিয়েছিল। আমরা ঘুম থেকে উঠেই শিমুলগাছের তলায় গিয়ে পড়ে থাকা শিমুল ফুলগুলো বেছে বেছে কুড়িয়ে নিতাম, যেগুলোর পুংকেশরগুলো তখনো শক্ত-সমর্থ আছে। ফুলের সেই অংশটাকে যে পুংকেশর বলে, সেটা জেনেছি অনেক পরে আর স্থানীয় ভাষায় আমরা কী বলতাম, সেটা আর এখন মনে নেই। তারপর শুরু হয়ে যেত আমাদের টানাটানি খেলা। আমার হাতের আঙুলে একটা ছোট পুংকেশর আর মেজোর হাতে একটা পুংকেশর। আমারটার সঙ্গে ওরটার ঘাড়ে ঘাড় লাগিয়ে এক টান৷ যার পুংকেশরের মাথাটা খুলে যাবে, সে হেরে যাবে আর বিপরীতজন জিতে যাবে। ছোটজন আমাদের এই খেলার নিবিষ্ট দর্শক। এভাবেই খেলা চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত না ভেতর বাড়ি থেকে মায়ের ডাক পড়ছে।

এসব ভাবতে ভাবতেই দাঁত ব্রাশ করে, হাত-মুখ ধুয়ে ত্বরিত গতিতে তৈরি হয়ে নিলাম। বাইরের দরজা খুলতেই লিলুয়া বাতাসে শরীরটা শীতল হয়ে গেল। গাড়ি স্টার্ট দিতেই পাকিস্তানের নব্বইয়ের দশক কাঁপানো ব্যান্ডের ভোকাল আলী আজমতের কণ্ঠে বেজে উঠল ‘ইয়ার বিনা দিল মেরা নাহি লাগতা’ আসলেই দেশে সব ইয়ার ফেলে এসে বিদেশে আর মন লাগে না। আমি তাড়াতাড়ি গানটা বন্ধ করে দিয়ে গাড়ির কাচগুলো নামিয়ে দিলাম, কারণ বাইরে থেকে হাজারো পাখির গুঞ্জন ভেসে আসছে। কিছু দূর যাওয়ার পর পেম্ব্রুক রোড। এই রাস্তা ধরে সোজা পশ্চিম দিকে গেলেই মিন্টো স্টেশন।

সকালের সূর্যটা একেবারে পেছন দিকে ফেলে এগিয়ে যেতে হয় তখন গাড়ির বাম দিকের লুকিং গ্লাসে সূর্যের ছায়া পড়ে। এটাকে আমার কাছে মামা-ভাগনের লুকোচুরি খেলা মনে হয়। আমি মাথাটা সামনে-পেছনে করে সুয্যিমামার প্রতিবিম্বকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করি। অবশ্য স্টেশনের পশ্চিম দিকের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে যখন ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করি, তখনই ঠিকই সুয্যিমামার কাছে ধরা পড়ে যাই। স্টেশনে গাড়ি পার্ক করে কিছু দূর হেঁটে গিয়ে প্ল্যাটফর্মে উঠতে হয়। দেখি স্টেশনমাস্টার একটা পিক আপ লাঠি নিয়ে স্টেশনের বেড়ার বাইরে থেকে আবর্জনাগুলো তুলে তুলে একটা বিন ব্যাগে ভরছেন।

মিন্টো স্টেশনে মোট তিনজন স্টেশনমাস্টার কাজ করেন; এঁদের দুজন প্রৌঢ় মহিলা আর একজন মধ্যবয়সী পুরুষ। আমি ওনাদের প্রত্যেককেই চিনি এবং ট্রেন আসার আগ পর্যন্ত ওনাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলাপ করি। পুরুষ ভদ্রলোকের কথা বলার অসুখ আছে। উনি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন। গত তিন দিন ছুটিতে ছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কী করে ছুটি কাটালেন?

– আর কি, সেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান।

গতকাল বলছিলেন, ওনার মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে ওনার শ্যালিকা আর ভায়রা এসেছিলেন ভারত থেকে কিন্তু করোনার কারণে আটকা পড়েছিলেন। সৌভাগ্যবশত গত পরশু তাঁরা যেতে পেরেছেন। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, ট্রানজিট কোথায় হবে? বললেন, ইরাকে, কারণ এখন নাকি শুধু এমিরেটস এয়ারওয়েজেরই কয়েকটা বিমান চলছে, বাকিদের পুরোপুরি বন্ধ। তা-ও স্টেশনে বিমানে চড়ার আগে অনেক ধরনের চেকআপ করতে হয়েছে।

গতকাল আমি তাঁকে বলেছিলাম, দেখেছেন তাপমাত্রা বাড়ছে। উনি বলেছিলেন, আজকে তো নাকি তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি হয়ে যাবে।

আমি বলি, তার মানে তো গ্রীষ্মকাল চলেই এল, কী বলেন?

উনি বললেন, ঠিক তাই।

এরপর ট্রেন চলে আসায় উনি আমাকে বিদায় দিয়ে নিজের অফিসকক্ষের দিকে হাঁটা ধরলেন। মহিলা দুজনের মুখভঙ্গিটাই এমন থাকে যে কেউই সাহস করে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন না। তার মধ্যে একজনকে একদিন আমি ট্রেনে দেখে চিনে ফেলেছিলাম এবং জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি কি আর মিন্টো স্টেশনে কাজ করেন না? শুনে উনি ভীষণ খুশি হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আসলে শিফট অনুযায়ী কাজ তো, তাই সব সময় মিন্টোতে দেখা যায় না। সেদিন থেকে ওই ভদ্রমহিলার সঙ্গে দেখা হলেই কুশলবিনিময় করি। আর দ্বিতীয় মহিলার সঙ্গে আজ সকালে দেখা হলো।

আমি বললাম, কী সুন্দর একটা দিন এবং দেখেন তাপমাত্রা বাড়ছে।

ওনার উত্তর, হ্যাঁ, অস্ট্রেলিয়ার বসন্তকালটা আসলেই দারুণ। এরপর তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে আমি প্ল্যাটফর্মের দিকে হাঁটা দিই। উনিও আমাকে ফিরতি শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজের কাজে মন দেন।

ট্রেনে উঠেই ইউটিউব খুঁজে বসন্তের গান ছেড়ে দিই। গান শুরুই হলো শাহ আবদুল করিমের ‘বসন্ত বাতাসে সইগো’ দিয়ে। এরপর এল একটার পর একটা রবীন্দ্রসংগীত, ‘ওহে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’, ‘ফাগুন হাওয়ায় হাওয়ায় করেছি যে দান’, ‘আজি দখিন দুয়ার খোলা’, ‘আহা আজি এ বসন্তে’সহ আরও অনেক গান। তবে আমি বেছে বেছে দলীয় সংগীতগুলো শুনছিলাম; কারণ এর মধ্য দিয়ে উৎসবের আবহ পাওয়া যাচ্ছিল মনে মনে। করোনার ভয় কাটিয়ে ট্রেন-বাসে ভিড় বাড়ছে। অবশ্য আজকে শুক্রবার বলে ট্রেন অনেকটাই ফাঁকা ছিল

মাসকাট স্টেশনে নেমে বাসে করে অফিসে যেতে হয়। অফিসে যাওয়ার পথেই একটা হ্রদ; তার আগে আরও একটু খোলা জায়গা। সেখানে বেশ কয়েকটা পালতে মাদারগাছ। পালতে মাদারগাছেও বসন্তকালে লাল টকটকে ছোট ছোট ফুল ধরে। পালতে মাদারগাছেও বসন্তকালে লাল টকটকে ছোট ছোট ফুল ধরে। কুষ্টিয়া অঞ্চলে শিমুল ফুলকে বলে মাদার ফুল আর মাদার ফুলের চেয়ে ছোট এই ফুলগুলোকে বলে পালতে মাদার। আর অস্ট্রেলিয়ার বসন্তকালের সিগনেচার ফুল ‘ওয়াটল’ তো আছেই। ওয়াটল দেখতে হুবহু বাংলাদেশের বাবলা ফুলের মতো ছোট ছোট হলুদ বর্ণের এবং গাছের পাতার আকৃতিও একই রকম কিন্তু ওয়াটলগাছে বাংলাদেশের বাবলাগাছের মতো বড় বড় কাঁটা নেই।

ছোটবেলায় আমরা যখন রাখালদের সঙ্গে মাঠে গরু রাখতে যেতাম, তখন রাখালেরা একটা জিনিস শিখিয়ে দিয়েছিল। বাবলাগাছের কচি ডগা চিবিয়ে তারপর পানি খেলে পানি মিষ্টি লাগে। এরপর থেকে পানি খাওয়ার আগে সব সময়ই বাবলার ডগা খুঁজে বেড়াতাম। আমি ইচ্ছে করেই দুটো স্টপেজ আগে বাস থেকে নেমে পড়লাম। বাকি রাস্তা হেঁটে যেতে হবে। মিনিট পনেরোর হাঁটা পথ। ঠিক সময়ে অফিসে পৌঁছে যাব। বাস থেকে নেমে কিছু দূর যাওয়ার পর দেখি পালতে মাদারগাছের ফুলগুলো বাতাসে দুলছে আর হাসছে। আমি প্রথমে পুরো গাছটার এবং পরে কয়েকটা ডালের আলাদা ছবি তুলে নিলাম। আরও কিছু দূর যেতেই দেখা পেলাম ওয়াটলগাছের। ওয়াটল ফুলেরও বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম।

হেঁটে হেঁটে অফিসের দিকে যাচ্ছি গায়ে বসন্তের লিলুয়া বাতাসের কোমল পরশ মাখতে মাখতে। গত পরশু দিন ছিল পূর্ণিমা। সারা দিন অফিসে বসে বসে পরিকল্পনা করলাম এবারের পূর্ণিমাটা সৈকতে গিয়ে উপভোগ করব। ব্যাপারটা জানার পর গুগল করে আমার বস ‘ব্রাইটন লে স্যান্ডস’ সৈকতটা দেখিয়ে বলল, এখানে পুরো জায়গাটাই সৈকত। এখানে যেতে পারো। যেখানে পার্কিং পাও, সেখানে নেমে পড়লে। আর কাছাকাছি বাচ্চাদের কয়েকটা খেলাধুলারও জায়গা আছে, তাই ওরাও বিরক্ত হবে না। আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার চাঁদটা উঠবে একেবারে জায়গাটার মাঝখানে দিয়ে, তাই পুরো সৌন্দর্যটা দেখতে পাবে। বাসায় ফিরে গিন্নিকে পরিকল্পনার কথা বলতেই বাতিল করে দিলে; কারণ পরের দিন বাচ্চা দুইটারই স্কুল আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাদের তৈরি করে কেয়ারে ড্রপ করে গিন্নি অফিসে যায়। ওরা কেয়ার থেকে স্কুলে যায়।

সৈকতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল হয়ে যাওয়ায় আমরা পরিকল্পনা করলাম আমাদের মতো করে পূর্ণিমাটা উদযাপন করার। যেহেতু বসন্ত চলে এসেছে, তাই বাইরের তাপমাত্রা সহনীয়। আমরা আমাদের বাসার পেছনের জায়গাটায় বেরিয়ে পড়লাম। তারপর আমরা তিনজন মিলে কিছুক্ষণ লুকোচুরি (আমাদের এলাকার ভাষায় পলানটুক আর অস্ট্রেলিয়ার ভাষায় পিকাবু) খেললাম। ততক্ষণে চাঁদটা বেশ ওপরে উঠে এসেছে। আমাদের পেছনের প্রতিবেশী কেইনদের বাসায় একটা তালের মতো গাছ আছে আমাদের দুজনের জায়গার মাঝের বেড়া বরাবর। আমরা ইচ্ছে করেই তালগাছের ছায়ায় দাঁড়িয়ে চাঁদ মামার সঙ্গে লুকোচুরি খেলি। তালের পাতার আড়ালে কখনো চাঁদ মামা লুকিয়ে পড়েন আবার কখনোবা আমরা বেড়ার আড়ালে লুকিয়ে পড়ি। এভাবে খেলতে খেলতে ক্লান্ত হয়ে আমরা আমাদের বাইরের ঘরে চলে আসি। সেখানে বাচ্চাদের জন্য নানা ধরনের খেলনা রাখা—লুডু থেকে শুরু করে ক্যারম, দাবা, তাস আর আছে বাচ্চাদের অনেক খেলনা। আমি আর আমার মেয়ে তাহিয়া তাস নিয়ে বসলাম। রায়ান পাশে রাখা বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই নাক ডাকা শুরু করল। আমি আর তাহিয়া কল ব্রিজ খেললাম বেশ কিছুক্ষণ। তারপর রাত ১০টার দিকে ঘরে ফিরে এলাম।

কর্মব্যস্ত পাঁচ দিনের শেষে সপ্তাহান্তের দুটো দিন কেটে যায় বাচ্চাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গী হয়ে। আমাদের বাসার খুব কাছেই একটা পার্ক আছে; পাসফিল্ড পার্ক। নাম পার্ক হলেও কোনো রাইড নেই শুধু মাঠের মাঝ দিয়ে সরু কংক্রিটের রাস্তা বানানো। তার ওপর দিয়ে মানুষ হাঁটাহাঁটি করে আর বাচ্চারা সাইকেল চালায়। ৩০ আগস্ট রোববার ছেলে রায়ানকে নিয়ে সকালবেলা গেলাম পাসফিল্ড পার্কে। আমি একটা গাছের ছায়ায় একটা মরা গাছের ডালের ওপর বসে থাকলাম আর রায়ান সামনের কংক্রিটের চক্রাকার রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালাচ্ছিল আর একটু পরপর এসে পানি খেয়ে যাচ্ছিল। বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে পাশের গাছগুলোতে বিভিন্ন ধরনের পাখি গান গেয়ে যাচ্ছে। একটা পাখির স্বর শোনা যাচ্ছিল অবিরাম। হালকা হিমেল বাতাস উঁচু ঘাসের ডগাগুলোকে দোলা দিয়ে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল সারা দিন বসে বাতাসের এই আদর মাখি। সবচেয়ে ভালো হতো ঘাসের বিছানায় শুয়ে পড়তে পারলে।

সে সময়ই বেশ কিছু মানুষ এসেছিল তাদের কুকুরকে নিয়ে হাঁটতে। প্রত্যেকে একই কথা বলছে, আজকে একটা দারুণ দিন। এক প্রৌঢ় দম্পতি আমাদের বললেন, বসন্তের আগমনী বার্তা আবহাওয়ায়। রায়ান অবশেষে ক্লান্ত হয়ে এসে আমার পাশে গাছের ডালটায় বসে বিশ্রাম নিল কিছুক্ষণ, তারপর আবারও ফিরে গেল সাইকেল চালাতে। কী এক অদ্ভুত মায়াময় পরিবেশ ছিল চারপাশে। আসলে প্রকৃতি তাঁর বুকে আমাদের জন্য বিশাল ভালোবাসা জমা করে রেখেছে। আমাদের শুধু একটু থেমে সেটা অনুভব করা দরকার।

অফিসে ঢুকেই আমাদের উদযাপনের কথা বললাম সহকর্মী মিককে (মাইকেলের ডাকনাম)। শুনে সে বলল, খুব ভালো করেছ। আমরা একটু পরে কফি খেতে বের হব। আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের মনের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক খুবই নিবিড়। কফি আনতে যেতে যেতে মিককে বলছিলাম বাংলাদেশে কীভাবে বসন্ত বরণ করে নেওয়া হয়, তার গল্প। আমি বললাম, বসন্তকে আমরা বলি ঋতুরাজ ‘কিং অব অল সিজনস’। আর বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার জন্য আছে আমাদের নানা আয়োজন। আর বসন্তকে নিয়ে কত যে গান-কবিতা রচিত হয়েছে, তার ইয়ত্তা নেই। আর প্রকৃতিতেও পরিবর্তনটা সহজেই চোখে পড়ে। সারা দেশ শিমুলের লাল ফুলে রাঙা হয়ে ওঠে। পাখির দৃষ্টিতে দেখলে মনে হবে কোনো অবুঝ শিশু লাল রং হাতে মেখে একটা সবুজ জমিনে ছিটিয়ে দিয়েছে; ঠিক অস্ট্রেলিয়াতে যেমন পথে প্রান্তরে বেগুনি জ্যাকারান্ডা ফুটে থাকে, আমাদের থাকে শিমুল। শুনে মিক বলল, তোমাদের সংস্কৃতি আসলেই অনেক সমৃদ্ধ। আমি বললাম, বহু ধর্মের, বহু মতের মানুষকে এই সংস্কৃতিটাই তো এক করে রেখেছে। আমাদের ইতিহাসও এই সংস্কৃতিনির্ভর কিন্তু এবার বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার জন্য কোনো আয়োজন করা হয়নি করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে। মিক বলল, এইবার তো অস্ট্রেলিয়াতে তীব্র শীত পড়ল।

আমি বললাম, হ্যাঁ, এমনকি শীতকালের শেষের কদিনও ভোরবেলা আমি গাড়ির ওপর থেকে পুরু বরফের আস্তরণ সরিয়েছি। ঠান্ডাটা এতই বেশি ছিল যে পানি ঢেলে বরফ পরিষ্কার করার পর আবার সেই পানিটাই বরফে পরিণত হয়ে যাচ্ছিল। আমি বললাম, তবুও দেখো প্রাকৃতিক নিয়মে বসন্ত কিন্তু ঠিকই চলে এল। আমার কেন জানি মনে হয়, করোনার এই প্রাদুর্ভাব তা সে যতই দীর্ঘ হোক না কেন, একদিন না একদিন ঠিক শেষ হবে এবং আমরা আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমরা আবারও আগের মতো নির্ভাবনায় চলাফেরা করতে পারব, সাগরে, সৈকতে, পাহাড়ে বেড়াতে যেতে পারব, সিনেমা দেখতে হলে যেতে পারব।

মিক তখন বলল, গুড ও ইউ মেট।

পরিবেশ

আমনে পোকার আক্রমণ

আমনে পোকার আক্রমণ

ঝালকাঠিতে আমন ধানে খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। ফসল রক্ষায় কীটনাশক দিয়েও তেমন উপকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। সেইসঙ্গে রয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। সবমিলিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের ঘিগড়া গ্রামের কৃষক আক্কাস আলী তালুকদার জানান, ৯ কাঠা জমিতে পাতামোড়া ও খোলপচা রোগ দেখা দিয়েছে।

এ সময় তিনি মরা ধানের ছোপা ও মোড়ানো পাতার ভেতরে পোকার অসংখ্য সাদা ডিম বের করে দেখান। ওই ডিম থেকে ছোট ছোট লম্বাকৃতির পোকা হয়ে ধানের পাতা মরে যায়।

তিনি জানান, দোকানির পরামর্শে কীটনাশক স্প্রে করেছেন। কিন্তু তাতে তেমন কাজ হচ্ছে না।

কাঠিপাড়া গ্রামের কৃষক চান মিয়া জানান, তিনি দেড় বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করেছেন। কয়েকদিন ধরে তার খেতে খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগ দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসে গিয়ে পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করায় এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

একই গ্রামের পরিমল মন্ডল বলেন, ৩ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। প্রায় মাসখানেক আগে সার দিয়েছি। বীজ এখন ঘনসবুজ হতে শুরু করছে। কয়েক দিনের মধ্যেই থোর (ধানের ছড়ার প্রাথমিক অংকুর) আসবে। এখন পাতা মোড়ানো ও খোলপচা রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি অফিসের লোকজন আমাদের কাছে না আসায় উপজেলায় গিয়ে পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে।

এদিকে আমন খেতে পোকা আক্রমণের পাশাপাশি ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ইঁদুরের হাত থেকে ফসল বাঁচাতে খেতজুড়ে ছেঁড়া কাপড়, কাগজ, শুকনা কলাপাতা টানিয়ে রাখছেন কৃষকরা।

চাষি আব্দুল মালেক জানান, তিনি ২০ কাঠা জমিতে আমন আবাদ করেছেন। পোকায় ধানের ক্ষতির পাশাপাশি কয়েকদিন ধরে খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। ধানের গোছার মধ্যে থেকে দু’তিনটি করে চটা কেটে ফেলে চলে যায় ইঁদুরের দল।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক ফজলুল হক জানান, এ বছর জেলায় ৪৮ হাজার হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মৌসুমের শুরুতেই কয়েক দফা বন্যা, অতিবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট ও রোপণকৃত আমনের চারা পচে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল।

তবে চাহিদার চেয়ে এক হাজার হেক্টর অতিরিক্ত বীজতলা এবং ১২০টি বেডে ভাসমান বীজতলা করায় বীজের সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি। এখন শুনছি পোকার আক্রমণ হয়েছে।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছি কোনো কোনো এলাকায় খোলপচা ও পাতামোড়ানো রোগ স্বল্পাকারে দেখা দিয়েছে। তবে এসব প্রতিরোধে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ভিয়েতনামে বন্যা ভূমিধসে মৃত ১০৫

কয়েক সপ্তাহের ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা এবং ভূমিধসে ভিয়েতনামে অন্তত ১০৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম এবং একটি দাতব্য সংস্থা বলছে, দেশটির মধ্যাঞ্চলে ভয়াবহ এই বন্যায় আরও ৫০ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, বন্যা ও ভূমিধসে নিহতদের মধ্যে দেশটির সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যও রয়েছেন। গত সপ্তাহে দেশটির একটি সেনা ব্যারাক ভূমিধসে চাপা পড়ায় কয়েকজন সেনা নিহত হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন; যাদের ১৫ জন নির্মাণ শ্রমিক।

ভিয়েতনামে এই বন্যায় অন্তত ১ লাখ ৭৮ হাজার বাড়ি-ঘর ডুবে গেছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭ হাজার হেক্টর আবাদি জমির ফসল। এছাড়া বন্যায় আরও ৬ লাখ ৯০ হাজারের মতো গবাদিপশুর প্রাণহানি ঘটেছে অথবা ভেসে গেছে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেশটির মধ্যাঞ্চলের কুয়াং বিন প্রদেশে লোকজন ঘরের ছাদে উঠে ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন। প্রদেশে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

ঘরের ছাদে আশ্রয় নেয়া এক বৃদ্ধা ভিটিভিকে বলেন, আমি গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত কিছু খাইনি। আমাদের কিছুই নেই। খাবার নেই, ফোনও নেই। কোনও কিছুই নেই।

ভিয়েতনামের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এনগুয়েন থি জুয়ান থু এবারের বন্যাকে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমরা দেখছি সব জায়গায় বাড়িঘর, রাস্তাঘাট এবং অবকাঠামো পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেড ক্রস (আইএফআরসি) বলেছে, বিপর্যয়কর এই বন্যায় ভিয়েতনামের ৫০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আরও লাখ লাখ মানুষের জরুরি আশ্রয় দরকার।

আইএফআরসি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার রাসি বলেন, এই বন্যা সর্বশেষ আঘাত। এর প্রভাবে লাখ লাখ মানুষ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রথমবার লজ্জাবতী বানরের উপর দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা

নাম লজ্জাবতী বানর। তবে এই বানরের মাঝে বাদরামির চিহ্ন নেই তিল পরিমাণ। বরং লজ্জায় শরমের এক প্রতীকী ছবি দেখা যায় তাদের মাঝে। দিনের বেলায় দুই উরুর মধ্যে মাথা গুজিয়ে দুই হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলে। অনেক এলাকায় এদের মুখচোরা বানরও বলে; তবে বানর প্রজাতির মধ্যে এদের শামুক বানরও বলা হয়। এরা মাঝে মাঝে গাছের মগ ডালে পা দিয়ে আকড়ে ধরে উল্টো হয়ে ঝুলে থাকে। ঘন চীর সবুজ বনে বসবাস, চলাচল করে খুব ধীরস্থিরভাবে।

দিনের বেলায় বের হয় না, নববধূর মতো নিজেকে আড়ালে রাখতে পছন্দ করে। যত্রতত্র ঘোরাঘুরি করে না, নিজের এলাকা ছেড়ে যেতে চায় না।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো লজ্জাবতী বানরের ওপর মাঠ পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করা হয়। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের প্রথম দিক পর্যন্ত দুই বছরমেয়াদি এ গবেষণার ফল বৈজ্ঞানিক জার্নালে প্রকাশের অপেক্ষায়।

লজ্জাবতী বানরের গবেষক হাসান আল-রাজী চয়নের নেতৃত্বে চার সদস্যের দল সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জের সাতছড়ি, রেমা-কালেঙ্গা ও মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া এবং আদমপুর বনে এ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এবং এ গবেষণা কাজের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাবির বিন মুজাফফর।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এই গবেষণা কার্যক্রমে দীর্ঘ দুই বছরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ২৩টি, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৩৩টি, রেমা–কালেঙ্গা বনে ৮টি এবং আদমপুরে ৪টি লজ্জাবতী বানরের সাথে সরাসরি দেখা হয় গবেষকদের। যেহেতু আন্তর্জাতিক গবেষণায় পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কাজের জন্য নতুন ট্রেইল নির্মাণ করা হলেও বাংলাদেশের বন বিভাগ নতুন ট্রেইল শুধু গবেষণার জন্য নির্মাণের পক্ষে নয়।

গবেষণার সময় গবেষক দলকে বর্তমানে বিদ্যমান ট্রেইল ধরে হেঁটেই রাতের বেলায় এ জরিপের কাজ পরিচালনা করতে হয়েছে। নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও প্রথমবারের মতো লজ্জাবতী বানর নিয়ে গবেষণা করতে পেরে তৃপ্ত গবেষক দল। এ গবেষণা দেশে লজ্জাবতী বানর সংরক্ষণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

গবেষক দলের প্রধান হাসান আল রাজী চয়ন জানান, আমরা কোনো নতুন ট্রেইল নির্মাণ করতে পারিনি পুরোনো যে ট্রেইল ছিল তা ধরেই জরিপ করেছি এবং যেহেতু এই বানর রাতের বেলা সক্রিয় থাকে তাই রাতেই পুরো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে প্রতি কিলোমিটারে ১.৭৮টি, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতি কিলোমিটারে ০.৮২টি, রেমা-কালেঙ্গা বনে প্রতি কিলোমিটারে ০.৩৬টি ও আদমপুরে প্রতি কিলোমিটারে ০.১৩টি লজ্জাবতী বানর পাওয়া গেছে।

শুধু সাতছড়ি বনের ক্ষেত্রে ডিসটেন্স স্যামপ্লিং ম্যাথড ব্যবহার করে পুরো বনের লজ্জাবতী বানরের একটি সম্ভাব্য সংখ্যা হিসাব করা হয়েছে। এই হিসাব অনুযায়ী সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে ৩০ থেকে ৩৮টি লজ্জাবতী বানরের অস্তিত্ব আছে। অন্যদিকে অন্যান্য বনে ডিসটেন্স স্যামপ্লিং ম্যাথড ব্যবহার করতে না পারায় ওই বনগুলোতে লজ্জাবতী বানরের সংখ্যা নিয়ে কোনো ধারণা করা সম্ভব হয়নি। লজ্জাবতী বানর নিশাচর এবং বৃক্ষবাসী প্রাণী। খুব বিপদে না পড়লে এরা গাছ থেকে মাটিতে নামে না। এদের সংরক্ষণের জন্য বনে গাছের পরিমাণ বাড়াতে হবে, যাতে করে নিরবচ্ছিন্ন আচ্ছাদন থাকে।

গবেষক দল জানায়, লজ্জাবতী বানর একটি নিশাচর প্রাণী। আমরা দীর্ঘ ১৭ মাস এদের গতিবিধি নিয়ে কাজ করেছি। আমাদের তথ্য মতে, এরা সন্ধ্যার পরপর সক্রিয় হয়। এরা রাতে সক্রিয় থাকার সময়ের মাঝে বেশি সময় ব্যয় করে ঘুরে বেড়াতে। খাদ্য গ্রহণ এবং বিশ্রামের জন্য এরা প্রায় সমান পরিমাণ সময় ব্যয় করে। মাজার বিষয় হলো মহিলা লজ্জাবতী বানর পুরুষের তুলনায় বেশি ঘুমায় এবং বিশ্রাম নেয়।

শীতকালে এদের স্বাভাবিক চলাফেরা কিছুটা কমে যায়। এরা রাতে সক্রিয় থাকাকালীন প্রাকৃতিক বনেই বেশি থাকে। তবে খাবার খাওয়ার জন্য এরা লেবু বাগানে আসে, যেখানে জিগা গাছ বেশি থাকে। জেলির মতো দেখতে জিগা গাছের আঠা এদের সব থেকে প্রিয় খাবার।

যেহেতু এরা প্রাকৃতিক বনে বেশি থাকে আর আঠা এদের প্রধান খাবার, তাই এদের টিকিয়ে রাখার জন্য প্রাকৃতিক বন রক্ষার পাশাপাশি আঠা উৎপাদনকারী গাছ যেমন- জিগা, বহেরা, রঙ্গি বনে আছে কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।

বর্তনামে এই লজ্জাবতী বানরের অস্তিত্ব হুমকিতে পড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে গবেষণায়। এতে লজ্জাবতী বানরের প্রধান হুমকি হলো বনের মাঝের সড়ক এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তার। বনের ভিতরে থাকা রাস্তায় গাড়ির নিচে চাপা পড়ে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে ত্বড়িতায়িত হয়ে অনেক সময় লজ্জাবতী বানর মারা যায়।

লজ্জাবতী বানরের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করতে বনের মাঝে রাস্তায় যাতে অধিক গতিতে যানবাহন না চলে সেদিকে নজর রাখতে হবে এবং বনের ভিতরে বিদ্যুৎ সরবরাহের তারে অবশ্যই বিদ্যুৎ অপরিবাহী উপাদানের আবরণ ব্যবহার করতে হবে বলে তাদের পরামর্শ।

গবেষণার তথ্যের সাথে মিল পাওয়া গেছে বাস্তবতার। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের (শ্রীমঙ্গল) পরিচালক সজল দেব জানান, চলতি বছর বিদ্যুতায়িত দুটি এবং খাবারের সন্ধানে বনের বাইরে চলে আসা দুটি আহত বানরকে উদ্ধার করে তারা সুস্থ করে তুলেছেন।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগ) রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, যেকোন বনের ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ আমরা দিতে চাই না। অনেক সময় জাতীয় স্বার্থে দিতে হয়। এসব ক্ষেত্রে অবশ্যই রাবার দিয়ে তার মোড়ে দিতে হয়। বানরজাতীয় প্রাণীর জন্য উন্মুক্ত তার সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। এ নিয়ে কথা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে। দ্রুত এ তারগুলো রাবার দিয়ে মুড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আলাস্কায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে সুনামি

যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। ভূমিকম্পের প্রভাবে সেখানে ছোট আকারের সুনামিও আঘাত হেনেছে। খবর এএফপির।

স্থানীয় সময় সোমবার ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে বলে জানানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ভূমিকম্প থেকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিসট্রেশন জানিয়েছে, ভূমিকম্পের প্রভাবে ছোট আকারের সুনামি ওয়েভ বা জলোচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে।

ইতোমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষিণ উপকূলে সুনামির প্রভাব দেখা গেছে বলে জানানো হয়েছে। ভূমিকম্প আঘাত হানার পর ঘন বসতিপূর্ণ আলাস্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্যান্ড পন্ড শহরের কাছে দুই ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের রেকর্ড হয়েছে। ওই এলাকাটি ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র থেকে ৬০ মাইল দূরে অবস্থিত। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ২৫ মাইল (৪০ কিলোমিটার)

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি থেকে হতাহতের সম্ভাবনা খুবই কম। তবে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের পর কমপক্ষে আরও পাঁচটি আফটার শক (পরাঘাত) অনুভূত হয়েছে। এগুলোর মাত্রা ৫ বা তার কিছুটা বেশি।

আলাস্কা প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর আগে প্রায় তিন মাস আগে ওই একই এলাকায় ৭ দশমিক ৮ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে।

ওই অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল ১৯৬৪ সালে। এর মাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২। ওই ভূমিকম্পের আঘাতে আড়াই শতাধিকের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভূমিকম্পের প্রভাবে সুনামিও আঘাত হানে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

৯০ হাজার দখলদারের হাতে ২ লাখ ৮৭ হাজার একর বনভূমি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রের দুই লাখ ৮৭ হাজার ৪৫২ একর বনভূমি ৯০ হাজার ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের জবরদখলে আছে। সবচেয়ে বেশি বনভূমি দখলে আছে কক্সবাজার জেলায়। এই জেলায় ৫৯ হাজার ৪৭১ হাজার একর বনভূমি জবরদখলে আছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়।

কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, রেজাউল করিম বাবলু, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন এবং শাহীন চাকলাদার অংশ নেন।

বৈঠক শেষে সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দেখতে চাই কারা এসব বনভূমি দখল করে রেখেছে। এক চুল জমিও আমরা বেদখলে রাখতে চাই না। যারা দখল করে রেখেছে তাদের তালিকা আমরা চেয়েছি। সেটা আমরা জনসমক্ষে প্রকাশ করবো।’

বিপুল পরিমাণ বনভূমি জবরদখলের কারণ সম্পর্কে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিএস রেকর্ডমূলে রেকর্ডভুক্ত বনভূমি পরবর্তীতে এসএ/আরএস/বিএস জরিপে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে। এছাড়া এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বনভূমি (সংরক্ষিত বনভূমি ছাড়া অন্যান্য যেমন রক্ষিত, অর্পিত বনভূমি) জেলা প্রশাসন কর্তৃক অনেকক্ষেত্রেই বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে।

এছাড়া বনভূমির মধ্য দিয়ে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ বিশেষ করে সড়ক নির্মাণের ফলে এর দু’পাশে বনভূমি জবরদখলের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়। স্থানীয় জনগণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বনভূমি দখল করে কৃষি কাজ, স্থায়ী স্থাপনা, বাড়ি-ঘর, রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। অনেক জবরদখল করা বনভূমিতে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিল্পপতি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি কর্তৃক বনভূমি জবরদখলের ক্ষেত্রে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে নিম্ন আদালতে মামলা ও আপিল এবং উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে এর মাধ্যমে স্থিতাবস্থা বা নিষেধাজ্ঞা নিয়ে থাকে সংশ্লিষ্টরা।

এছাড়া উচ্ছেদের কাজে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অসহযোগিতা করে বলেও সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয় সভায়।

সংসদীয় কমিটির কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণীর মোট বনভূমির পরিমাণ ৪৬ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ একর। সশস্ত্র বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কাছে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৬০ হাজার ২৪০ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com