আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

গ্রামের অন্য দশজন চাষি যখন কৃষি কাজকে অলাভজনক বলে হতাশা ব্যক্ত করেন, ঠিক তখনই একই গ্রামের অন্য একজন চাষি কৃষি কাজ করে দারুণ লাভবান হচ্ছেন। শুধু নিজ গ্রাম ও পাবনার আটঘরিয়া উপজেলায় নয়, তিনি দেশ সেরা চাষির স্বীকৃতি পেয়েছেন। অথচ অন্যদের তুলনায় তার চাষের জমি অনেক কম ছিল। জমির পরিমাণগত দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকলেও উন্নত বীজ উৎপাদন এই চাষি আব্দুল খালেককে এগিয়ে দিয়েছে।

তিনি উন্নত বীজ উৎপাদন ও বিক্রি করায় অন্য চাষিরাও বেশ ফলন পাচ্ছেন। এভাবে তিনি খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছেন। আর এ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি কৃষিতে সর্বোচ্চ পদক বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক পদক লাভ করেছেন।

চাষি আ. খালেকের এমন সাফল্যের কথা জানতে কথা হয় তাদের খামারে। চাষি আ. খালেক জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে অর্থ্যাৎ, গত দুই যুগ ধরে তিনি উন্নতমানের কৃষি বীজ উৎপাদন করে চলেছেন। ব্যক্তিগত পর্যায়ে কৃষি বীজ উৎপাদন করলেও তার সংগৃহীত বীজ পাবনা জেলার নয়টি উপজেলাসহ সিরাজগঞ্জ ও নাটোর, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চাষিরাও আগ্রহ ভরে কিনছেন। তার বীজে রয়েছে বিশ্বস্ততা ও সর্বশেষ ছাড়কৃত জাতের নিশ্চয়তা। একই চাষি বার বার তার কাছ থেকে বীজ কিনছেন।

jagonews24

চাষিদের আগ্রহ লক্ষ্য করে তিনি সারাদেশে বীজ সরবরাহের পরিকল্পনা করেছিলেন প্রায় দুই যুগ আগে। তার শ্রম সেই স্বপ্নকে সফল করেছে। তিনি এখন ভিত্তি বীজ উৎপাদন করেন। বীজ প্রত্যয়ণ এজন্সি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর তার উৎপাদিত বীজ মানসম্মত বলে সার্টিফাই করে। সে বীজ পৌঁছে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার উত্তরচক গ্রামের চাষি আ. খালেকের সাফল্যের স্বীকৃতিও দেশ দিয়েছে। তিনি ২০১৭ সালে কৃষিতে দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক পেয়েছেন। বিদেশেও কৃষি সফরের সুযোগ পেয়েছেন। এর আগে ২০০৮ সালে তিনি চাষি পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাটবীজ উৎপাদন সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চাষি নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কবে থেকে এবং কেন বীজ উৎপাদন শুরু করলেন, কেমন লাভবান হলেন? এর জবাবে শিক্ষিত চাষি আ. খালেক জানালেন, ‘এইচ.এস,সি পাশের পর কৃষি কাজ শুরু করি। শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিল কৃষি কাজ করলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই করব।’ ভালো বীজে ভালো ফসল, এই নীতি অনুসরণ করেই কৃষি কাজ শুরু করেছিলাম।’ ব্যক্তিগত জীবনে সাফল্য লাভ করি।

jagonews24

পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৩ থেকে ৪ বিঘা জমিকে দুই যুগের ব্যবধানে ২৫ বিঘায় উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছেন বলেও জানালেন তিনি। তিনি আরও জানান চাষি পর্যায়ে মানসম্মত বীজের বড় অভাব। এ বিষয়টির খেয়াল করেই তিনি বাণিজ্যিকভিত্তিতে কৃষি বীজ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেন। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হয় তার বীজ উৎপাদন কর্মসূচি।

চাষি খালেক তার খামারে সর্বশেষ ২৫- ২৬ বিঘা জমিতে বীজ উৎপাদন করেছেন। এর মধ্যে তার কিছু জমি লিজ নেয়া রয়েছে। তিনি গত মৌসুমে ব্রি ধান- ২৮, ২৯, ৫৮, ৮৯ এর ভিত্তি বীজ উৎপাদন করেছেন। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট তাকে ভিত্তি বীজ উৎপাদনের অনুমতি দিয়েছে।

তিনি ৩০ বিঘা জমিতে গমের সর্বশেষ ছাড়কৃত বারি- ২৮, ২৯, ৩৩, ৩৬ জাতের বীজ উৎপাদন করেছেন। তিনি বীনা মুগ ৮ এর বীজ উৎপাদন করেছেন। তিনি বারি তিল ৮, মসুর এর বারি- ৬, ৮ জাত এর বীজ উৎপাদন করছেন।

jagonews24

আজ থেকে এক যুগ আগে তিনি তিনি সংশ্লিষ্ট অফিসগুলো বা গবেষণা কেন্দ্র থেকে ভিত্তি বীজ সংগ্রহ করতেন। পরে নিজ খামারে বীজ উৎপাদন করতেন। এখন নিজেই ভিত্তি বীজ উৎপাদন করে কৃষির বীজ বিভাগের কাছে বিক্রি করছেন। এতে তিনি লাভবান হচ্ছেন, অন্য চাষিরাও উপকৃত হচ্ছেন। এক্ষেত্রে তার উৎপাদিত বীজ তিনবার বাছাই করেন। উত্তমরূপে শুকানোর পরই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করেন।

বাজারজাত করার আগে জার্মিনেশন পরীক্ষা করেন। জার্মিনেশন ৯০ শতাংশের উপরে থাকলে সেটা বাজারজাত করেন। অবশ্য সব সময়ই তার বীজের জার্মিনেশন খুবই ভালো বলে তিনি জানালেন। উত্তমরূপে প্যাকেজিং ও বাজারজাতকরণের জন্য তার নিয়োজিত লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করেন।

অর্থনৈতিক মানদণ্ডে বীজ উৎপাদন কেমন লাভজনক? এ প্রশ্নে চাষি খালেক জানালেন বীজ উৎপাদন করে তিনি সাধারণ কৃষির তুলনায় দেড়গুণ থেকে দ্বিগুণ লাভবান বলে জানান। আ. খালেক শুধু একজন আধুনিক চাষিই নন, তিনি একজন সফল প্রশিক্ষকও বটে। আই. পি. এম এবং আইসিএম প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি কয়েক হাজার চাষিকে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

শুধু প্রশিক্ষক নন তিনি আইপিএম এর একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তার বাড়িতেই দেশের সর্বপ্রথম আইপিএম ক্লাব গঠিত হয়। সে ক্লাব ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ উদ্বোধন করেছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তৎকালীন মহাপরিচালক এম এনামুল হক। সে ক্লাবটিকে কৃষি তথ্য সার্ভিস এখন ডিজিটালাইজড করে দিয়েছে। তিনি এখন আইএফএমসি (সমন্বিত খামার ব্যবস্থাপনা কম্পোনেন্ট) এর প্রশিক্ষক।

চাষি খালেক তার বাড়িটিও একটি অনুপম কৃষি খামারে পরিণত করেছেন। করেছেন বনায়ন, গড়ে তুলেছেন একটি মিশ্র ফলের বাগান। তার সব দৃষ্টান্তমূলক কাজের জন্য ১৯৯৯, ২০০০, ২০০১ ও ২০০২ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চাষি এবং ২০০৮ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চাষির পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ২০০৮ সালে পাবনার এক বিশেষ কৃষি মেলায় তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম তাকে বীজ উৎপাদনে সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ সেরা চাষির পুরস্কার দেন।

jagonews24

২০০৮ সালে তিনি বীজ উৎপাদনে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ চাষির পুরস্কার পান। সর্বশেষ ২০১৭ সালে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থেকে কৃষিতে সর্বোচ্চ পদক বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক লাভ করেন। বিদেশে সরকারিভাবে কৃষি সফরের সুযোগ পান। সাংসারিক উন্নতির পাশাপাশি নিজের সন্তানদেরও শিক্ষিত করছেন। এখন তিনি অনেকটা নির্ভার। বাড়ি থেকে বের হয়ে বীজ প্লট দেখভাল করা, বীজ সংরক্ষণ ও কেনাবেচা করতেই তার সময় কেটে যায়।

শিক্ষিত তরুণ চাষি পলাশ কুমার সেন জানান, তিনি চাষি খালেকের প্রতিবেশী। এজন্য তিনি জানেন চাষি আব্দুল খালেক উন্নত জাতের বীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ করে চলেছেন। তিনি নিজেও চাষি খালেকের কাছ থেকে বীজ কেনেন। তার কাছে থেকে বীজ কিনে সব সময়ই ভালো ফলন পেয়ে আসছেন বলে জানান।

পাবনার অন্য এক কৃষি কর্মকর্তা আ. খালেক ( পিপিআই খালেক) জানান, চাষি খালেক অল্প জমি দিয়ে অধিক আয় করা একজন বীজ উৎপাদনকারী। তিনি জানান, চাষি খালেক আইপিএম ক্লাবের একজন প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি নিজেই চাষিদের প্রশিক্ষণ দেয়া শুরু করেন। তিনি কৃষিতে বীজ উৎপাদনে আত্মনিয়োগ করে সফল হয়েছেন।

শুধু নিজে সফল নন তিনি দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরবে অবদান রেখে চলেছেন। তার গ্রামের চাষিরা অনেক সময় সর্বশেষ ছাড়কৃত জাত না পেয়ে পুরোনা জাতের ফসল চাষ করে থাকেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পুরোনা জাতগুলো ধীরে ধীরে উৎপাদন ক্ষমতা হারাতে থাকে।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে দেশের কৃষিতে। কিন্তু চাষি খালেক সর্বশেষ ছাড়কৃত জাত এনে তার চাষ করে বীজ রাখেন। সে বীজ সংরক্ষণ করে চাষিদের কাছে বিক্রি করেন। এতে উভয় পক্ষই লাভবান হওয়ার পাশাপাশি দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে বলে জানান চাষি খালেক।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের জানান, খাদ্য উৎপাদনে পাবনা জেলা এগিয়ে। চাহিদার চেয়ে জেলায় বেশি খাদ্য উৎপাদিত হয়। এর নেপথ্যে ভালো বীজের ভূমিকা রয়েছে। তিনি জানান, জমিতে চাষ, সার-বীজ ও পরিচর্যা ঠিকমতো করার পরেও যদি ভালো বীজ রোপণ বা বপন না করা হয় তাহলে ভালো ফলন আশা করা যায় না।



এক্ষেত্রে দেশের বীজ উৎপাদনকারী নানা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবদান রয়েছে। এছাড়া চাষি পর্যায়েও উন্নত বীজ উৎপাদন করে চলেছেন অনেকে। তিনি জানান, এক্ষেত্রে সবার আগে আটঘরিয়ার চাষি আব্দুল খালেকের উদাহরণ দেয়া যায়। তিনি উন্নত বীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে অবদান রেখে চলেছেন বলে জানান।

জৈব

বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের একমাত্র পন্থা জৈব কৃষিকাজ

বর্তমান আধুনিক যুগে যেমন জনসংখ্যা বাড়ছে তেমন বাড়ছে খাদ্যের চাহিদা | এই ব্যাপক চাহিদাপূরণের জোগান বাড়াতে ফসল উৎপাদন হচ্ছে কৃত্রিম উপায়ে | কার্বাইডে পাকানো ফল, হাইব্রিড শাক-সব্জি, ব্রয়লার মুরগি ইত্যাদি | এই কোনো কিছুই আদতে আমাদের শরীরের জন্য ভালো নয় | অতিরিক্ত ফলন বাড়াতে দিনের পর দিন ক্ষতিকর পেস্টিসাইডসের বহুল ব্যবহার বাড়ছে। ফলত, খাবারের এই কৃত্রিমতায় পুষ্টিগুণ কমছে  যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর| তাই, কৃষিকাজে আবারও অগ্রগতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে জৈব কৃষি বা অর্গ্যানিক ফার্মিং | এই জৈবিক কৃষিকাজে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকবন্ধুদের মধ্যে |

জৈব কৃষিকাজ কি (What is Organic Farming)?

কোনও রকম কৃত্রিম ও রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার না করে জৈব পন্থা অবলম্বন করে চাষবাস, ফলনই হল অর্গ্যানিক ফার্মিং। রোজকার আনাজপাতি, মাছ-মাংস, ডিম-দুধ সবই উৎপাদিত হতে পারে অর্গ্যানিক উপায়ে। সবচেয়ে বেশি চাহিদা অর্গ্যানিক উপায়ে চাষ করা ফল, আনাজ, হার্ব, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু ইত্যাদির।

যেহেতু কোনও রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার নেই,  তাই  সার বানাতে হবে প্রাকৃতিক উপায়ে। অর্গ্যানিক ফার্মিংয়ের ভিত কিন্তু সারের উপরেই। ফার্মের পশু-পাখির বিষ্ঠা শুকিয়ে তা দিয়েই মূলত তৈরি হয় জৈব সার। এ ছাড়াও কচুরিপানা খুব ভাল সারের কাজ করে। তাই গাছের গোড়ায় কচুরিপানাও দেওয়া হয়ে থাকে। মাটি ছাড়া শুধু কচুরিপানা জমিয়েও তাতে করে ফেলা যায় পেঁপে গাছ। এই জৈব সারই হলো গাছের ফলন বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি | মাটির উর্বরতা বাড়াতে ব্যবহার করা হয় কেঁচোকেও। গাছের গোড়ায় যাতে অক্সিজেন পৌঁছায়, তার জন্য খুরপি দিয়ে মাটি খুঁড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো নিজেই এই কাজটা করে দেয়। গাছে পোকা লাগলেও নষ্ট হয় আনাজপাতি। অর্গ্যানিকে কিন্তু পেস্টিসাইড চলবে না। তাই ব্যবহার করা হয় নিম তেল। গোমূত্রও ব্যবহার করা হয় কীটনাশক হিসেবে। ফলে পোকাও ধ্বংস হয়, আবার ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নেই |

জৈব কৃষিকাজ পদ্ধতি (Types of Organic Farming):

এই জৈব কৃষির পন্থাকে কাজে লাগিয়ে শাক-সব্জি, আনাজ, মাছ, মাংস প্রায় সব উৎপাদিত হয় | যেমন,

শাক (Herbs):

কুলেখাড়া,ধনে, নটে, লাল নটে, ব্রাহ্মী, গুলঞ্চ, কালমেঘ, পুদিনাও চাষ করা যেতে পারে এই উপায়ে। একসঙ্গে একাধিক হার্ব চাষ করা হয় সারি হিসেবে। এতে হার্ব তুলতে সুবিধে হয়। ব্রাহ্মী, কুলেখাড়া চাষ করা যায় জলেই। প্রথমে ছোট পাত্রে এবং পরে গাছ বড় হলে তা তুলে বড় পাত্রে রাখা হয়। এই গাছ থেকে তৈরি করা হয় নানা ভেষজ ঔষধ |

সব্জি (Vegetables):

একই জমিতে বছরে ২ বার, তিন বার ভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। ধান তোলা হয়ে গেলে সেই জমিতেই চাষ হয় তৈলবীজ যেমন সর্ষে, সূর্যমুখী, তিল ইত্যাদি। আবার সরষে তোলার পরে ও ধান গাছ লাগানোর আগে করা হয় তিল চাষ। বাঁধাকপি, ফুলকপি চাষের ক্ষেত্রে জায়গা বেশি লাগে। কারণ প্রত্যেকটি চারা বা বীজের মাঝে ব্যবধান হবে এক হাত। আবার মুলোর সঙ্গে চাষ করা হয় লাল নটে শাক। মাটিতে চাষের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের জোগান বাড়ে। কুমড়ো, পেঁপে, লাউ, বেগুনের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধরতে হবে আনাজ বড় হওয়া পর্যন্ত। সাধারণত, জৈবিক উপায়ে ফলনের বৃদ্ধি হতে একটু দেরি হওয়ায় ধৈর্য রাখতে হবে, তবে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপন্ন হয় |

পোল্ট্রি (Poultry):

কোয়েল, মুরগি থেকে শুরু করে গরু প্রতিপালনও করা যায় এখানে। মুরগি ২ টি ভাগে প্রতিপালন করা হয়। একটি ডিমের জন্য, অন্যটি মাংসের জন্য। কোয়েলের ক্ষেত্রেও তাই। অর্গ্যানিক দুধের চাহিদা প্রচুর। আবার গরুর দুধ থেকে ঘি, মাখন যেমন তৈরি করা যায়, তেমনই গোবর ব্যবহার করা হয় জৈব সার তৈরি করতে এবং গোমূত্র কীটনাশক হিসেবে।

মাছ (Fish farming):

পুকুরেই চাষ করা হয় তেলাপিয়া, রুই, কাতলা, কই ইত্যাদি মাছ। পানাও ছড়িয়ে থাকে পুকুরের উপরে যাতে তারা খাবার পায়। অন্য দিকে আলাদা পুকুরে চাষ করা হয় চিংড়ির। জিওল মাছ বা বড় মাছ ধরা হয় বেড় জালে।

জৈব কৃষিকাজে বর্জ্যের ব্যবহার (Waste management):

অর্গ্যানিক চাষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বর্জ্যের ব্যবহার। জৈব বর্জ্য সহজেই প্রকৃতিতে মিশে যায়। ফলে তা দিয়ে সার তৈরিও সহজ। কিন্তু শহরাঞ্চলে বর্জ্যের অনেকটাই প্লাস্টিক, সে ক্ষেত্রে ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট জরুরি। এমন অনেক সংস্থা আছে, যারা প্রত্যেক দিন বর্জ্য সংগ্রহ করে। তার পরে তা থেকে কৃত্রিম এবং প্রাকৃতিক বর্জ্য পৃথক করা হয়। প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য আলাদা করে তা হস্তশিল্পের কাজে লাগানো হয়। অন্য দিকে কিচেন ওয়েস্ট অর্থাৎ আনাজপাতির খোসা, মাংসের ছাঁট ইত্যাদি পচনশীল বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস এবং সার তৈরি করা হয়। আবার, এই সার চলে যায় বিভিন্ন অর্গ্যানিক ফার্মে।

বাড়িতে কিভাবে জৈবিক উপায়ে চাষ করা যায় (Organic farming at home):

বাড়িতেই খুব সময় উপায়ে অর্গ্যানিক চাষ করে সব্জি উৎপাদন  (Organic vegetables cultivation) করতে পারেন | এই চাষের জন্য স্বল্প জায়গা ও জলের ব্যবহার প্রয়োজন। বড় ড্রামের গায়ে সমান ব্যবধানে চৌকো করে চিরে নিন। প্রত্যেকটি চেরা জায়গায় একটি করে চারা লাগান। একটি ড্রামেই জন্মাবে একাধিক গাছ। আবার, উল্লম্ব ভাবে একের পর এক ট্রে বা টবে চাষ করতে পারেন থানকুনি, ধনেপাতা, পুদিনা পাতা | বাড়ির বর্জ্য থেকে সার তৈরি করে গাছের গোড়ায় দিতে পারেন। ফলে, আপনার বাড়ির বর্জ্য নষ্ট হবেনা আবার সব্জিও উৎপাদন হবে |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

অ্যারোপোনিক্স উপায়ে সব্জি চাষে দারুন লাভ

হাইড্রোপনিক্স উপায়ে (Hydroponic Method) সব্জি চাষ প্রায় অনেকেই জানেন | কিন্তু, আপনি কি জানেন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে চাষাবাদ কি? অনেকেই ভেবে থাকেন এই দুই পদ্ধতি এক | আপাত দৃষ্টিতে এক লাগলেও, আছে সামান্য পার্থক্য | এই দুটি উপায়েই মাটি ছাড়া সব্জি চাষ সম্ভব | হাইড্রোপনিক্স উপায়ে মাটি ছাড়া জলের সাহায্যে বেড়ে ওঠে উদ্ভিদ এবং অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে জলের পরিমান কম থাকে ও বাতাসের মাধ্যম উদ্ভিদের বৃদ্ধি ঘটে | এই দুর্দান্ত কৌশলে সবজি চাষ করে আর্থিক দিক থেকেও লাভবান হওয়া যায় | যেখানে মাটির ঝামেলাও নেই আবার স্বল্প জল ব্যবহৃত হয়|

তবে, জেনে নিন অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতির খুঁটিনাটি;

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কি (What is Aeroponics method)?-

প্রধানত, এটি হলো উদ্ভিদের শিকড়কে বাতাসে প্রকাশ করে উদ্ভিদের চাষাবাদ প্রক্রিয়া | এই পদ্ধতিতে  একটি উচ্চ-চাপযুক্ত, পুষ্টিকর সমৃদ্ধ কুয়াশা গাছগুলিকে খাওয়ানোর জন্য ব্যবহার করা হয় এবং শিকড়কে আরও সুষম জল, পুষ্টি এবং অক্সিজেন পরিপূরক সরবরাহ করে। উদ্ভিদগুলি কোনোরকম স্তর ব্যবহার না করেই জন্মায় |

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে?

সাধারণত, এখানে বায়ুবিদ্যার নীতিকে কাজে লাগিয়ে চাষ করা হয় | তাই. বায়ুবিদ্যার মৌলিক নীতিটি হলো ঝুলন্ত উদ্ভিদ প্রজাতির বর্ধিত বা অর্ধ-উন্মুক্ত উদ্ভিদের ঝুলন্ত শিকড় ও তার কাণ্ডের নিচের অংশ জলের দ্রবণে নিমজ্জিত থাকে | এটি সম্পূর্ণ একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া | বৃহত্তর উদ্ভিদের জন্য, আপনি গাছপালা এবং ফলের ওজনকে সমর্থন করতে কিছু ধরণের ট্রেলিস বা অন্য ধরণের উল্লম্ব সমর্থনও ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে সব্জি চাষ (Vegetables farming by Aeroponics method):

এই পদ্ধতিতে আপনি আপনার ছাদ-বাগানে খুব সহজেই শাক-সব্জি, ফল-মূল চাষ করতে পারেন | সম্পূর্ণ বিষমুক্ত সব্জি উৎপাদন হয় | এখানে কোনো রাসায়নিক স্যারের ব্যবহার হয়না | মাটির পরিবর্তে নুড়ি, পাথর নেওয়া হয় | লাউ, কুমড়ো, টমেটো প্রায় সব সব্জি চাষ করা হয় এই পদ্ধতি অবলম্বনে | মাছের চাষের সময় যে বর্জ্য উৎপাদিত হয় তা পাইপের মাধ্যমে চলে আসে সব্জি চাষের মধ্যে | এটাই সব্জির খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয় |

এই পদ্ধতিতে কোনো কিছুই নষ্ট হয়না | অনেক কৃষকরাই এই পদ্ধতিতে চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছেন | একই সময়ে, বায়বীয় যন্ত্রপাতি নিজেই একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এটি মাটি বিহীন এবং শুধুমাত্র সংক্ষিপ্ত সমর্থন কাঠামো অন্তর্ভুক্ত। উদ্ভিদ এবং সহায়তার মধ্যে একটি ন্যূনতম মিথস্ক্রিয়া ফলে গাছের 100% বায়ুর সংস্পর্শে আসতে দেয়। তদতিরিক্ত, হ্রাস করা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা শিকড়গুলির প্রাকৃতিক প্রসারণ বা বিশুদ্ধ জলে তাদের প্রবেশে বাধা দেয় না।

অ্যারোপোনিক্স পদ্ধতিতে উদ্ভিদের রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব:

এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত শাক-সব্জি সম্পূর্ণ জৈব | প্রধানত, এই পদ্ধতিতে চাষ রোগজীবাণু অনেকটাই কম হয় |উদ্ভিদ থেকে উদ্ভিদ যোগাযোগের পদ্ধতি প্রকৃতির দ্বারা মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ থাকে যার থেকে রোগজীবাণু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। এ্যারোপোনিক্সের কোনও সমস্যা নয় কারণ অন্যের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে আগে সংক্রামিত উদ্ভিদটি সমর্থন কাঠামো থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়। তার উপরে, প্রয়োজনে বাষ্পীকরণের প্রতিটি নাড়ি জীবাণুমুক্ত হতে পারে |অ্যারোপোনিকস এক নতুন ধরণের জৈব চাষের জন্ম দেয় যা সম্ভবত ভবিষ্যতের প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

বাঁশ চাষে আপনিও হতে পারেন কোটিপতি, জেনে নিন সম্পূর্ণ পদ্ধতি

বাঁশ একটি সপুষ্পক, স্থায়ী এবং চিরসবুজ উদ্ভিদ, যা Poaceae এর ঘাস পরিবারের অন্তর্গত। এটি একটি বহুমুখী, শক্তিশালী, পুনর্নবীকরণযোগ্য | সেইসাথে পরিবেশ বান্ধব উপাদান যা সহজেই বিভিন্ন উদ্দেশ্যে চাষ করা যায়। বাঁশকে পৃথিবীতে দ্রুত বৃদ্ধিপ্রাপ্ত কাঠের উদ্ভিদ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

ভারতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা ফসলের মধ্যে বাঁশ অন্যতম এবং এটি ‘দরিদ্র মানুষের কাঠ’ হিসেবেও পরিচিত | চীনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাঁশ উৎপাদনকারী দেশ। দেশে বার্ষিক বাঁশের উৎপাদন আনুমানিক ৩.২৩ মিলিয়ন টন |

এশিয়ায়, বাঁশ সংস্কৃতির সবচেয়ে সংহত অংশ এবং এটি কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রধানত নির্মাণ সামগ্রী, আসবাবপত্র, সজ্জা এবং পাতলা কাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ভারত নিতান্তই খুব ভাগ্যবান যে এখানে বাঁশের উৎপাদন সবচেয়ে ভালো । সর্বোপরি, বাঁশের কান্ডগুলি খাদ্য হিসাবে খাওয়া হয় এবং পুষ্টির ভাল উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। দেশের উত্তর -পূর্ব রাজ্যগুলি প্রধান বাঁশ উৎপাদনকারী রাজ্য। যদিও দেশে প্রায় ১৩৬ প্রজাতির বাঁশের অস্তিত্ব রয়েছে, তবুও তাদের মধ্যে কয়েকটি কেবল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা সম্ভব।

জলবায়ু(Climate):

বাঁশ বাগান গরম থেকে উষ্ণ নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়াতে ভাল জন্মায়। তবে এটি অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে গ্রীষ্মে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রার প্রয়োজন হয় না | যেহেতু বাঁশের পাতলা শিকড় এবং যথেষ্ট বৃদ্ধি আছে, তাই এটিকে সবসময় শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ বা ঝড়ের হাত থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও, যে অঞ্চলে ঠান্ডা বাতাস আসে সেখানে বাঁশ চাষের জন্য উপযুক্ত নয় |কারণ শৈত্যপ্রবাহে বাঁশের পাতা শুকিয়ে মরে যেতে পারে |

মাটি(Soil):

সাধারনত, বাঁশগুলি কলম কাটিং বা রাইজোমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়। কিন্তু এগুলি বীজের মাধ্যমেও বংশ বিস্তার করা যায়, যা খুব কমই পাওয়া যায় | বাঁশের চারাগুলি মূলত নার্সারিতে বেড়ে ওঠে  এবং ১ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে সেগুলিকে  মাটি ভর্তি পাত্রগুলিতে বাড়তে দেওয়া হয়। পরে চারা মূল জমিতে স্থানান্তরিত করা হয়। রাইজোম রোপণ পদ্ধতিতে একটু যত্নের প্রয়োজন হয়। এখানে, শিকড় সহ ১ বছরের কলম খনন করে ১ মিটার আকারে কাটা উচিত এবং বর্ষায় রোপণ করা উচিত।

রোপণ পদ্ধতি(Plantation):

সাধারণত বর্ষায় বাঁশের চারা রোপণ করা হয়। ৬০*৬০ আকারের মাটিতে গর্ত খুঁড়তে হবে | ৫*৪  মিটারের জায়গায় নার্সারি থেকে নিয়ে আসা চারা রোপণ করতে হবে। ১ একর জমিতে প্রায় ২০০ টি বাঁশের চারা একসাথে লাগানো যেতে পারে | বাঁশ রোপণে বেড়ে ওঠার সময়কাল ৫ বছর। অতএব আদা, মরিচ বা হলুদের মতো সাথী ফসস্ল অনায়াসে চাষ করে কিছু অতিরিক্ত আয় করা যায় | তাই, প্রথম ৩ বছরের মধ্যে বাঁশের সাথে এই সাথী ফসলগুলি সহজেই চাষ করা যেতে পারে |

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

উচ্চ মানের এবং সর্বোত্তম ফলনের জন্য, সার ব্যবহার করা হয়। যখন মূল জমিতে চারা রোপণ করা হয় তখন সার এবং কীটনাশক গুরুত্বপূর্ণ | যেহেতু বাঁশ গাছগুলি ভারী খাদক, এমনকি খুব উচ্চ মানের মাটিও হার মেনে যাবে যদি এই চাষে সার প্রয়োগ করা না হয় | কিন্তু সবসময় ফসল তোলার পর সার প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং গাছে সেচ প্রদান করার আগে | পটাসিয়াম এবং নাইট্রোজেন সার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান | এই ২ সারের প্রয়োগে যার কারণে বাঁশ গাছ বেড়ে ওঠে। এছাড়াও অবশ্যই সবুজ সার, জৈব কম্পোস্ট, কাঠের ছাই এবং রাসায়নিক সার পরিমাণমতো ও প্রয়োজনমতো প্রয়োগ করতে হবে। পাতা কামড়ানো এবং পাতার রস চুষে খেয়ে নেওয়া পোকামাকড় দেখা যায় | তাই এই কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ(Irrigation):

নার্সারিতে  বাঁশ জন্মানোর সময় নিয়মিত সেচ দিতে হবে। নার্সারি থেকে মূল জমিতে চারা রোপণের সময় অবিলম্বে জল সরবরাহ করতে হবে। এটি অবশ্যই লক্ষ করা উচিত যে বাঁশের গাছ জলাবদ্ধতার জন্য সংবেদনশীল তাই বিশেষ করে ভারী বৃষ্টিপাত বা বন্যার সময় মাটি বের করতে হবে। জলের ভাল ব্যবহারের জন্য  ড্রিপ সেচ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা যেতে পারে |

ফসল সংগ্রহ(Harvesting):

পঞ্চম বছর থেকে ফসল কাটা শুরু করা যেতে পারে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে, ৬ বছর থেকে ফসল তোলা আবশ্যক।  প্রথমবার  ষষ্ঠ বছরে ৬  টি কলম এবং এরপর ৭ বছরে ৭ টি কলম কত হয় এবং পরবর্তীতে এভাবে চলতে থাকে | ১  একর বাঁশ রোপণের জন্য ৫ বছরে  খরচ  প্রায় ৯৪০০  টাকা। বাঁশ চাষ থেকে ফলন এবং আয়, প্রতি ৬ বছর থেকে বৃদ্ধি পায়। অতএব আমরা বলতে পারি যে বাঁশ হল একটি লাভজনক ফসল যার দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম অর্থনৈতিক পুনরাবৃত্তি লাভ দেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের ভালো ফলনের জন্য বীজ শোধনের পদ্ধতি

পশ্চিমবঙ্গ আউশ, আমন ও বোরো এই তিন মৌসুমে প্রতি বছর ১৫-১৬ মিলিয়ন টন ধান উৎপাদন করে। খরিফ ধান (আউশ ও আমন) মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ। বোরো ধান সাধারণত খাল বা সেচ সুবিধার উপর নির্ভরশীল জমিতে চাষ করা হয়। ধান চাষে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে কৃষকের লভ্যাংশের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে বৈজ্ঞানিক প্রথায় ও আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করার সঙ্গে সঙ্গে কিছু খুটিনাটি বিষয়েও কৃষককে সচেতন থাকতে হবে। সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করতে পারলে মিলবে শতভাগ সফলতা। 

ভালো চারা তৈরীর একটি বিশেষ উপাদান হল ভালো বীজ। আমরা বীজ কিনে ভালো মন্দ বীজ পরখ না করে, বাছাই না করে সব বীজ বুনে দিই। বীজতলাতে আর চিটে বা স্বল্প পুষ্ট বীজ থেকে যে দুর্বল চারা বার হয় তাও মূল জমিতে রোপন করে দিই, কারণ একটা সময় পর সেই চারা তো আর আলাদা করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না । তাই সামান্য একটু সময় ব্যয় করে বীজ বাছাই করে নিয়ে তার সাথে সাথে যৎসামান্য খরচ করে বীজবাহিত রোগ থেকে বীজ কে মুক্ত করার লক্ষ্যে বীজ শোধন করে নিতে হবে ।

বীজ ধান বাছাই (Paddy seed sorting) – 

১.৩ কেজি খাদ্য লবন ৮ লিটার জলে দ্রবীভূত করে, তার মধ্যে বীজ ধান ঢেলে দিতে হবে। দ্রবণে ভেসে ওঠা অপুষ্ট ধান ফেলে দিতে হবে ও ডুবে যাওয়া পুষ্ট ধান বীজ হিসাবে উপযুক্ত বলে তা তুলে নিয়ে পরিষ্কার জলে ধোয়ার পর শুকিয়ে নিতে হবে ।

এইভাবে ৮ লিটার দ্রবণে ২০-৩০ কেজি বীজ ধান বাছাই করা যায় । এরপর প্রতি কেজি বীজ শোধনের জন্য ৪-৫ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি বা ২ গ্রাম ব্যাভিষ্টিন বা ২.৫ গ্রাম ডাইথেন এম -৪৫ (ম্যানকোজেব), ঝলসা প্রবন এলাকায় ১.৫ গ্রাম ট্রাইসাইক্লাজোল অথবা ব্যাক্টেরিয়া ধ্বসা প্রবণ অঞ্চলে ১ গ্রাম স্ট্রেপ্টোসাইক্লিন প্রতি ১০ লিটার জলে মিশিয়ে শোধন করতে হবে । যদি বীজ শোধন না করেই বীজ ফেলা হয় সেক্ষেত্রে চারা তোলার পর লাগানোর পূর্বে গামলা বা বালতিতে ওষুধ গুলে তাতে ১০ মিনিট শিকড় ডুবিয়ে রোয়া করা যেতে পারে।

বেশ কিছু অঞ্চলে আগাছা একটা বিরাট সমস্যা । ভালো চারা তৈরী করতে গেলে বীজতলা আগাছামুক্ত রাখতে হবে । তার জন্য কয়েকটা বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে যেমন –

বীজতলা আগাছামুক্ত (Weed management) –

১) বীজতলার জন্য এমন জমি নিতে হবে যেখানে সাধারনভাবেই আগাছা কম হয় ।

২) অনেক সময় বীজতলায় জৈবসারের মাধ্যমে আগাছা বীজ চলে আসে, সে বিষয়ে সর্তক থাকতে হবে, প্রয়োজনে নিজের জন্য জৈবসার নিজেই তৈরী করুন ।

৩) যে জমিতে বীজতলা তৈরী করবেন, বপনের ১৫ দিন আগে সেই জমি ভিজিয়ে ৭ দিন রেখে দিন, দেখা যাবে বেশ কিছু আগাছা বেড়িয়েছে তখন চাষ দিয়ে দিন এবং এর পর আরো ৭ দিন রেখে দিন । দেখা যাবে আরও কিছু আগাছা দেখা যাচ্ছে তখন মই ও লাঙল দিয়ে বীজতলার জমি তৈরী করুন ।

৪ ) নমিনিগোল্ড / অ্যাডোরা / মংআচো / তারাক এই আগাছানাশকটি ১ কাঠা বীজতলার জন্য মোট ৩ লিটার জলে ২ মিলি প্রয়োগ করুন। অর্থাৎ ১ বিঘা জমির জন্য ৬০ লিটার জল ব্যবহার করতে হবে আর ৪০ মিলি ঔষধ।

অনেকসময় বীজতলায় রোগ বা পোকার উপদ্রব দেখা যায় সেক্ষেত্রে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে হবে। পোকার আক্রমণ হলে পাদান ১ গ্রাম বা অ্যাসিফেট ০.৭৫ গ্রাম বা ট্রয়োজোফস ১ মিলি প্রতি লিটার জলে স্প্রে করা যেতে পারে। ঝলসা, বাদামী দাগ, গোড়াপচা ইত্যাদি রোগ লাগলে আইসোপ্রোথিওলেন ১ মিলি, বা ট্রাইসাইক্লাজোল (বীম বা টুপার) ০.৫ গ্রাম অথবা সাফ বা কমপ্যানিয়ান ২ গ্রাম প্রতি লিটার জলে স্প্রে করুন ।

চারা তোলার ক্ষেত্রে সতর্কতা – 

চারা তোলার সময় মোটামুটি যত মাসের ধান তত সপ্তাহের চারা তুলতে হবে। তার আগে হলে আরো ভালো কারণ সুস্থ সবল কম বয়সী চারাই আমাদের উদ্দেশ্য । চারা তোলার ৬-৮ ঘন্টা আগে বীজতলায় ১০ সেমি জল রাখতে হবে। চারা তোলার ২ দিনের মধ্যে অবশ্যই রোয়া করা উচিৎ ।

অনেক সময় পোকার ডিম বা রোগ থেকে চারাকে মুক্ত করার জন্য চারার ডগার দিকে কিছুটা ছিঁড়ে ফেলা হয়। যেভাবে চার তোলা হয় অনেকসময়ই প্রচুর চারার শিকড় ছিঁড়ে যায় এবং এই অবস্থাতেই আমরা মূল জমিতে রোয়া করি । বীজতলা তো সামনা একটু জায়গা । তাই বীজতলাতে ভালো করে বেশী বেশী করে জৈবসার দিয়ে ভালো করে মাটি তৈরী করতে হবে যাতে মাটি আলগা থাকে, চারার বৃদ্ধি ভালো হয় আবার চারার শিকড় অটুট থাকে। ভালো ফলনের জন্য ভালো চারা সবচেয়ে জরুরী । সে বিষয়ে সবচেয়ে বেশী নজর দিতে হবে।

সবশেষে কৃষক বন্ধুদের জন্য বৈজ্ঞানিকদের পরামর্শ হল –

সুস্থ সবল মোটা চারা তৈরী করুন, শিকড় সমেত কম বয়সী চারা ফাঁকা ফাঁকা রোয়া করুন আর গুছিতে কম চারা দিন যাতে আভ্যন্তরীণ প্রতিযোগীতা কম হয় এবং ভালো ফলন নিশ্চিত করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

মিষ্টি আলু চাষে হয়ে উঠুন লাভবান

খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ছেলে থেকে বুড়ো সবার প্রিয় এই সবজি পিঠে-পুলি বানানোর জন্য আদর্শ এক সবজি। সিদ্ধ করেও যেমন খাওয়া যায়, তেমনই পুড়িয়েও এই সবজি খাওয়া যায়। বাজারে এই সবজি সহজলভ্যও বটে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মিষ্টি আলু চাষ করে বর্তমানে অনেক চাষি লাভের মুখ দেখছেন।

মিষ্টি আলুর স্বাস্থ্যসম্মত দিক (Health Benefit)

মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেতকণিকার পরিমান বাড়ে। এছাড়াও এই সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ থাকায়, নার্ভ ভালো রাখতে এবং ধমনী ও হার্ট ভালো রাখতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। মিষ্টি আলু ভিটামিন বি৬-এর আধার। আমাদের শরীরে হোমোসাইস্টিন নামের কেমিক্যাল এই সবজি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়, এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকায়, এটি খেলে মানব শরীরের হৃদস্পন্দন ঠিক থাকে সাথে সাথে কিডনির রোগও দূর হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com