আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ইন্দোনেশিয়ায় কমোডো ড্রাগনদের বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছে গ্রামবাসীরা

পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি দ্বীপে কমোডো ড্রাগনের বাস
পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি দ্বীপে কমোডো ড্রাগনের বাস

ইন্দোনেশিয়ার যে দ্বীপগুলিতে কমোডো ড্রাগন নামে পরিচিত বিশাল আকৃতির সরীসৃপের বসবাস, সে দেশের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে সেখানে আর কোন মানুষকে যেতে দেয়া হবে না। তারা বলছে, ঐ দ্বীপগুলিতে এখন থেকে গণহারে টুরিস্টদের আনাগোনা বন্ধ করা হবে। দ্বীপগুলিতে যেসব মানুষ বসত করেছে, তাদেরও সেখান থেকে সরে যেতে হবে।

বহু বছর ধরে মানুষ কমোডো ড্রাগন দেখে মুগ্ধ। এটা বিশ্বের সবচেয়ে বড় গিরগিটি জাতীয় প্রাণী। এদের দাঁত ধারালো, লম্বা লেজ এবং এর কামড়ে বিষ রয়েছে। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার এক কোণায় কতগুলি বিশেষ দ্বীপে এদের বসবাস। এদের দেখার জন্য প্রতিবছর হাজার হাজার টুরিস্ট ঐ দ্বীপগুলিতে ভিড় করেন। এদের নিয়ে নানা ধরনের ভৌতিক ছায়াছবিও তৈরি হয়েছে। দ্বীপের স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, তাদের দেহ-মনের সাথে কমোডো ড্রাগনের গভীর সংযোগ রয়েছে।

কিন্তু মানুষের সাথে এই প্রাণীর সম্পর্ক এখন বদলে যাচ্ছে।

“এই দ্বীপের নাম কমোডো দ্বীপ, তাই এটা শুধু কমোডো ড্রাগনের জন্য। মানুষের জন্য নয়। সেজন্যেই এখানে কোন মানবাধিকার কাজ করবে না। কাজ করবে শুধু প্রাণী অধিকার,” বলছেন ঐ অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট।

মি. লাইসকোডাট বলছেন, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপ ২০২০ মানুষের জন্য বন্ধ রাখা হবে। এবং এরপর এটি শুধু অল্প কিছু ধনী দর্শনার্থীর জন্য খুলে দেয়া হবে। দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখান থেকে চলে যেতে হবে।

ইন্দোনেশিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার এখন প্রস্তাবটি বিবেচনা করে দেখছে।

বিশ শতকের গোড়ায় ইউরোপ থেকে আসা অভিযাত্রীদের প্রথম দলের তুলনায় কমোডো দ্বীপে এখন অনেক বেশি দর্শনার্থী আসেন।

কমোডো দ্বীপের কাছে টুরিস্টবাহী জাহাজ
কমোডো দ্বীপের কাছে টুরিস্টবাহী জাহাজ

আমরা যখন প্রথমবার কমোডো দ্বীপে যাই, তখন দেখলাম একটি বহুতল প্রমোদ তরী লোহ্ লিয়াং বে’তে নোঙর করে আছে। সকাল সাতটায় পার্কের গেট খোলার সাথে সাথে হাজার হাজার টুরিস্ট পার্কে ঢুকতে শুরু করেন।

অরণ্যের মধ্যে টুরিস্টদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। পাশের একটি খালের কাছে শুয়ে বসে থাকা কমোডো ড্রাগন দেখার জন্য টুরিস্ট দলকে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেয়া হয়। তাদের দেখা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়। এবং পরবর্তী টুরিস্ট দলকে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়।

টুরিস্ট নেরমিন আটামান এসেছেন তুরস্ক থেকে। কমোডো ড্রাগন দেখে তিনি মুগ্ধ। “এগুলো এত সুন্দর! কিন্তু দেখলে ভয় লাগে,” বলছেন তিনি, “আমি ড্রাগনে বিশ্বাস করি না। কিন্তু এদের দেখলে তাদের মতোই মনে হয়।”

জাকার্তার সরকার চেষ্টা করছে এই অপূর্ব সুন্দর জায়গাটিকে টুরিস্টদের জন্য আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে। তারা সেখানে নানা ধরনের ভবন তৈরি করছে। কমোডো ন্যাশনাল পার্কের প্রবেশপথ লাবুয়ান বাজো এলাকায়। নানা ধরনের বিনিয়োগকারী এবং হোটেল চেইন সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

ইন্দোনেশিয়া দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে দরিদ্র জায়গাগুলোর একটিতে এই কমোডো ন্যাশনাল পার্ক। টুরিস্টরা সেখানে যে অর্থব্যয় করেন তা দিয়ে ঐ এলাকার উন্নতি সম্ভব।

সাগর সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছে কমোডো ড্রাগন
সাগর সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছে কমোডো ড্রাগন

টুরিস্ট গাইড টিসা সেপ্টিয়ানি ইন্ড্রা বলছেন, “এটা নিয়ে সবাই বেশ উত্তেজিত। কাজের সন্ধানে বহু মানুষ এখানে আসছেন। এখন এই এলাকার উন্নতি হচ্ছে। প্রচুর সুযোগ তৈরি হচ্ছে। “

তবে পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে খুশি নয় স্থানীয় সরকার।

“কমোডো ড্রাগনকে রক্ষা করা যাচ্ছে না,” বলছেন গভর্নর লাইসকোডাট, “অনেক বেশি মানুষ এখানে আসছে। পার্কে ঢোকার জন্য তারা যে টাকা দিচ্ছে তা খুবই সামান্য।”

তারা হিসেব করছেন পার্কের আয় কীভাবে আরও বাড়ানো যায়।

“প্রথমে পার্কের সদস্য হতে হবে। এবং প্রতি বছর পার্কে ঢোকার জন্য ১০০০ ডলার দিতে হবে। এটা খুব বেশি অর্থ না। এভাবে আমরা যদি ৫০,০০০ মানুষকে ঢুকতে দেই, তাহলে আমাদের আয় দাঁড়াবে বছরে পাঁচ কোটি ডলার।”

অস্ট্রেলিয়ার ড. টিম জেসপ বহু বছর ধরে কমোডো ড্রাগন নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তিনি গভর্নরের সাথে একমত যে ট্যুরিজম ঐ এলাকার জন্য ‘কিছুটা হলেও’ সুফল বয়ে আনবে।

তিনি জানালেন, দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজের সংখ্যা বাড়ছে এবং সেখান থেকে ফেলে দেয়া প্লাস্টিকের কারণে দ্বীপের পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে।

কমোডো অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট
কমোডো অঞ্চলের গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট

দেখুন কীভাবে টুরিস্টের সংখ্যা বেড়েছে

গ্যালাপাগোস দ্বীপের উদাহরণ তুলে ধরে ড. জেসপ জানান, সেখানে দর্শনার্থীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। একইভাবে কমোডো দ্বীপের পর্যটন শিল্পকেও এখনই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে পরে তা কঠিন হয়ে পড়বে।

তবে তিনি বলেন, কমোডো ড্রাগন যে এলাকায় চলাচল করে তার ওপর এর প্রভাব সীমিত।

“নব্বই শতাংশ টুরিস্ট মূলত দ্বীপের নিচু এলাকা দিয়ে চলাফেরা করেন। সেটা জাতীয় উদ্যানের ৩%-৪% এলাকা।”

কমোডো ড্রাগন সবচেয়ে বেশি রয়েছে কমোডো দ্বীপে। কিন্তু কমোডো ন্যাশনাল পার্ক এলাকার মধ্যে ২০টিরও বেশি দ্বীপ রয়েছে। এদেরই একটি দ্বীপ রিনচা-তেও প্রচুর কমোডো ড্রাগন রয়েছে।

ড. জেসপ বলেন, কমোডো ড্রাগনের প্রধান খাদ্য হরিণের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে গভর্নর যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা ভিত্তিহীন।

“পার্ক রেঞ্জাররা যখন বলেন যে এটা বিশাল একটা এলাকা এবং এখানকার কিছু জায়গা সুরক্ষিত, কিন্তু অন্য জায়গাগুলো নয়- সেটা হয়তো ঠিক। কিন্তু এখানে অবৈধ হরিণ শিকার চলছে বলে মনে হচ্ছে না। ফলে কমোডো ড্রাগনের খাদ্য সঙ্কট হবে বলেও মনে হয় না।”

যেসব দ্বীপে কমোডো ড্রাগনের বাস
যেসব দ্বীপে কমোডো ড্রাগনের বাস

পার্ক রেঞ্জার স্টেফানাস জালাকও একমত যে সেখানকার হরিণ আগের চেয়ে বেশি সুরক্ষিত।

তিনি বলেন, “হরিণ শিকার অনেক কমে গেছে। দ্বীপের বাসিন্দারাও এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন।”

কমোডো দ্বীপে যে গ্রাম রয়েছে তাতে সমুদ্রতীরে ছোট ছোট কুঁড়েঘরে প্রায় ২০০০ লোকের বাস।

এখানে গড়ে উঠেছে নানা ধরনের গেস্ট হাউস। রাতে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রয়েছে। আর দোকান থেকে ফেলে দেয়া বর্জ্য প্লাস্টিক ছড়িয়ে রয়েছে সমুদ্র সৈকতে।

দ্বীপের বাসিন্দাদের ৭০% পর্যটন শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

এখানে একটি স্টলের মালিক নুর। তিনি সুভ্যেনির বিক্রি করেন। তিনি বলছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বেশ উদ্বিগ্ন।

তিনি জানান, দ্বীপের মানুষজন এক সময় শিকার করে, মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু এখন আর তা করে না।

কমোডো ড্রাগন গড়পরতা ১০ ফুট লম্বা হয়
কমোডো ড্রাগন গড়পরতা ১০ ফুট লম্বা হয়

“আমরা এখন আর শিকার করতে পারি না। সমুদ্রে মাছ ধরতে পারি না। এবং আমাদের কোন চাষের জমি নেই।”

স্থানীয় গাইড আব্দুল গফুর কাশিমের আশঙ্কা, যদি গ্রামের লোকজনকে এখন তাদের আগের পেশায় ফিরে যেতে হয়, তাহলে পরিবেশের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

“গ্রামবাসীকে যদি সাগরে ফিরতে হয় তাহলে তারা মাছ ধরার জন্য এমন সব পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে যা কাম্য নয়। যেমন, তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মাছ ধরতে পারে। এটা করলে পার্কের জলজীবন ধ্বংস হয়ে যাবে। আবার তারা যদি জঙ্গলে ঢুকতে পারে, তাহলে তারা অবৈধভাবে কাঠ কাটা শুরু করতে পারে,” তিনি বলছেন।

গভর্নর লাইসকোডাট কমোডো দ্বীপ নিয়ে যে পরিকল্পনা করছেন, তাতে দ্বীপের বাসিন্দারা আতঙ্কিত।

সতের বছর বয়সী রোসা সাফিরা বলছেন, “কোনভাবেই আমার দ্বীপ ছেড়ে যাব না। আর আমরা কমোডো ড্রাগনের কোন ক্ষতি করি না।”

“কমোডো ড্রাগন এবং গ্রামবাসীরা এখানে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপন করে। কমোডো ড্রাগনকে আরও ভালভাবে দেখাশোনার জন্য আমরা গভর্নরের সাথে মিলে কাজ করতে পারি। কিন্তু দ্বীপ ছেড়ে যেতে পারি না।”

হাজী আমিন, কমোডো দ্বীপের পুরাতন বাসিন্দা
হাজী আমিন, কমোডো দ্বীপের পুরাতন বাসিন্দা

“আমি কমোডো ন্যাশনাল পার্ক এলাকায় হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটেছি। বহু বছর ধরে আমি সেখানে গেছি। কিন্তু কোথাও আমি দেখিনি যে মানুষ জঙ্গলে ঢুকে হরিণ শিকার করছে, কিংবা গাছ কাটছে অথবা জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। আমার ধারণা এখানকার মানুষ পরিবেশকে সম্মান করেই চলে।”

কমোডো দ্বীপের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, তাদের সাথে কমোডো ড্রাগনের শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থানীয় ড্রাগন কন্যার উপকথা।

স্থানীয় বাসিন্দা হাজী আমিন বলছেন, তিনি নিজে মুসলমান হলেও এই উপকথাকে বিশ্বাস করেন।

এই উপকথায় বলা হয়েছে: কমোডো দ্বীপের এক রাজকন্যা যার নাম ছিল পুত্রী নাগা। তিনি একজন মানুষকে বিয়ে করার পর তার দুটি বাচ্চা হয়। একটা মানব শিশু এবং একটি শিশু কমোডো ড্রাগন।

হাজী আমিন বলছেন, “বয়স বাড়ার সাথে কমোডো ড্রাগন শুধু তাজা মাংস খেতে চাইতো। প্রতিদিন প্রতিবেশীদের হাঁসমুরগি খেয়ে ফেলার পর সবাই তার ওপর রেগে যায়। তাই মনের দু:খে সে বনে চলে যায়।”

পরিবারের সাথে হাজী আমিন
পরিবারের সাথে হাজী আমিন

“তারপর থেকে সে বনেই থাকে। মাঝেমধ্যে সে জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে মা এবং ছোট ভাইয়ের খোঁজখবর করে।”

আর এই সম্পর্কের জন্য গ্রামবাসীরা কমোডো ড্রাগনকে ভয় করে না- যদিও একেকটা কমোডো ড্রাগন গড়ে ১০ ফুট লম্বা হয়। তাদের দাঁত খুবই ধারালো এবং দাঁতে বিষ রয়েছে।

হাজী আমিনের স্ত্রী ইন্দার ওয়াতি বলছেন, তার বাড়ির পেছনে জঙ্গলে যখন তার নাতিনাতনিরা খেলাধুলো করে, তখন তিনি মোটেও দুশ্চিন্তা করেন না।

কমোডো ড্রাগনের আক্রমণে দ্বীপে কত মানুষ হতাহত হয়েছে তার কোন সরকারি হিসেব নেই। তবে একটি হিসেব বলছে, গত ১০ বছরে ১৫টি আক্রমণের কথা জানা যায়, এর মধ্যে একটিতে এক জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

কমোডো ন্যাশনাল পার্কের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব ইন্দোনেশিয়ার পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের, যেটি ১,৪১৬ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু সে দেশের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন আইন অনুযায়ী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এখন অনেক ক্ষমতা হাতে পাচ্ছেন।

গভর্নর ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট জানান, টুরিস্ট নিষিদ্ধ করার প্রশ্নে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো তার পরিকল্পনার সাথে একমত পোষণ করেন এবং সম্প্রতি তিনি নিজেও এবিষয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

“টুরিস্টের সংখ্যা সীমিত করে, কোটা প্রথা চালু করে এবং প্রবেশমূল্য বাড়িয়ে আমরা চাই কমোডো দ্বীপকে সত্যিকারভাবে একটি অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে,” এমাসের গোড়াতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পরিকল্পনাটি ভালভাবে তৈরি করতে হবে “কারণ সঠিকভাবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আমরা এখানে বড় অংকের অর্থ ঢালতে যাচ্ছি।”

পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলছে, তারা পরিকল্পনাটি এখন পর্যালোচনা করে দেখছে, এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

গভর্নর লাইসকোডাট জানান, চূড়ান্ত হওয়ার পর তারা কমোডোর বাসিন্দাদের জন্য অন্য কোন দ্বীপে নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করে দেবেন।

কিন্তু দ্বীপবাসীরা তা মানতে নারাজ। এবং তারা লড়াই করতে প্রস্তুত।

“আমাদের যদি এই জায়গা ছাড়তে হয় তবে কমোডো ড্রাগনরাও আমাদের সাথে যাবে,” বলছেন ইন্দার ওয়াতি।

হাজী আমিন বলছেন, “এটা আমাদের পিতৃপুরুষের জমি। এটা ছাড়ার চাইতে মরে যাওয়াও ভাল।”

তিনি দাবি করছেন, ১৯৭০-র দশকেও একবার তাদের সরিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। সে সময় তাদের সাথে যাওয়ার জন্য কমোডো ড্রাগনরাও সাগরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতার কাটতে শুরু করেছিল।

“কমোডো ড্রাগন আর আমাদের মধ্যে সম্পর্ক খুবই জোরালো। এখানে থাকার জন্য আমরা একসাথেই লড়বো।”

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে খামারিদের ১১ দফা দাবি

লেখক

শনিবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ মিলনায়তনে প্রান্তিক খামারি সভায় এসে এসব কথা জানান খামারিরা। একই সঙ্গে দেশের পোলট্রি শিল্পের টেকসই উন্নয়নে কার্যকরী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন এবং চলমান সংকট দূরীকরণে ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। খামারিরা বলছেন, ফিডের দাম বৃদ্ধি, বাচ্চার দাম বাড়িয়ে দেয়াসহ নানামুখী সিন্ডিকেট সমস্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। পোলট্রি খাতে ব্যয় করে কোনো লাভ নেই। তাহলে বেকাররা কীভাবে এগিয়ে আসবে আর খামারিরা টেকসইভাবে এ ব্যবসা করবে বলে প্রশ্ন করেন তারা। আরও

 এ জন্য এ খাতের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, ফিড ও বাচ্চার দাম যৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি বন্ধ করা, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান, ওষুধ ও ভ্যাকসিন সহজলভ্য করাসহ ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে জোর দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব কৃষিবিদ ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলাম, প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য বিজ্ঞানী ড. লতিফুল বারী,  বিশেষ অতিথি ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-ইআরএফ এর সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম । সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশ পোলট্রি শিল্প ফোরাম এর প্রতিষ্ঠাতা চাষি মামুন। সভায় বক্তব্য রাখেন বিভিন্ন জেলা ও বিভাগ থেকে আগত করোনা ও অন্যান্য সংকটে বিপর্যস্ত প্রান্তিক খামারিরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

দ্রব্যমূল্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর নেই

লেখক

কয়েকমাস ধরেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। সোমবার (১১ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত, সরবরাহ, আমদানি ও মূল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাণিজ্য সচিবের সভাপতিত্বে সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। এতে এনবিআর, টিসিবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।।


পেঁয়াজসহ সভায় ভোজ্য তেল, চিনি ও মসুর ডালের মূল্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।


সভার শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ও বর্তমান পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয় সভায়।


আগামী চার মাসের জন্য পেঁয়াজের ওপর থেকে শুল্ক এবং চিনি ও তেলে ওপর থেকে অ্যাডভান্স ট্যাক্স প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেন বাণিজ্য সচিব।




দেশে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের সংকট থাকবে বলে মন্তব্য করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চারদিক থেকেই চেষ্টা করছি যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে আমরা যত দিন পর্যন্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ হব না, ততদিন কখনো কখনো ক্রাইসিসের মধ্য পড়তে হবে।
 

বাণিজ্য সচিব বলেন, পরিস্থিতি এ থেকে আর বেশি খারাপ হবে না। তবে আগামী একমাস পরিস্থিতি একটু নাজুক থাকবে উৎপাদনের দিক থেকে চিন্তা করলে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টিসিবি সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিদিন সারা দেশে ৪০০ ট্রাকে ৪০০ থেকে ১০০০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রির কার্যক্রম চালাচ্ছে। এ ছাড়া ভারত ও তুরস্ক থেকে ১৫০০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

প্রতিবছর একই সময়ে কেন বাড়ছে পেঁয়াজের দাম?

লেখক

হঠাৎ করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে কেনার আগে ভাবতে হয় ভোক্তাদের। এর কারণ স্পষ্ট। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির হিসাবেই গত এক মাসে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা।
 কয়েক বছর ধরে এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে আমদানি নির্ভরতাকে দায়ী করছেন কমিশন এজেন্ট ও আমদানিকাররা।
 কমিশন এজেন্ট মো. সহিদুল ইসলাম বলেন, ভারতের রপ্তানিকারকরা যে বাজার নির্ধারণ করে, সেই বাজারটাই বাংলাদেশে নির্ধারণ হয়।
 পেঁয়াজ আমদানিকারক মো. মোশারফ শিকদার বলেন, দেশে যে পরিমাণ উৎপাদন হয় সেটা যথেষ্ট না। আরেক পেঁয়াজ আমদানিকারক হাজী মো. মাজেদ বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আনলে আমাদের দেশে দাম কম পড়ে।
 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য, গত জুন পর্যন্ত এক বছরে পেঁয়াজের ৩৫ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয় সাড়ে ৩৩ লাখ মেট্রিক টন। যা আগের বছরের চেয়ে ৮ লাখ টন বেশি।


 সংরক্ষণ দুর্বলতায় সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ নষ্ট ধরলেও টিকে যায় ২৫ লাখ টনের বেশি। সেক্ষেত্রে আমদানি করতে হচ্ছে ১০ লাখ টন। অথচ আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে দাবি করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, ঘাটতি দেখিয়ে ফায়দা লুটতে চায় বিশেষ একটি শ্রেণি।
 বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইআইটি অণুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বাজারে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। যারা ঘাটতি বলে তারা আসলে ব্যবসা করতে যায়।
 কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে নেই চাহিদা-যোগান আর উৎপাদনের সঠিক পরিসংখ্যান। আর এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আমদানি বন্ধেই রয়েছে এর আসল সমাধান।
 কৃষিবিদ অধ্যাপক ড. মো. সদরুল আমিন বলেন, আমাদের আসল উৎপাদন কত আর আমাদের চাহিদা কত এখানে একটু রঙ্গরস আছে। কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ীর কারসাজি আর কিছু সরকারি ব্যক্তি পর্যায়ের অনাগ্রহ। সমাধান হলো, আমাদের একটা প্যাকেজ আছে উৎপাদন করব আমদানি করব না।
 কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়লেও মৌসুমের শুরুতে নায্যমূল্য না পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষীরা। যার প্রভাব পড়ছে মৌসুমের শেষে।


 কৃষি মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মেজবাহুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের মৌসুমে পেঁয়াজের দাম যদি ৪০ টাকা হয়, তাহলে তারা লাভ করতে পারবে। কিন্তু আমরা মৌসুমে সেই দাম দিতে পারি না। যার ফলে পরবর্তী সময় বিভিন্ন হাত ঘুরতে ঘুরতে এটার দাম বেড়ে যায়।
 পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধিতে নেয়া চার বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় চলতি অর্থবছরে বার্ষিক চাহিদা অপরিবর্তিত রাখা হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ঘাটতি ধরা হয়েছে প্রায় ৫ লাখ টন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় জমজমাট মাছ ধরার ফাঁদ চাই-এর হাট

লেখক

জেলায় জমে উঠেছে মাছ ধরার ফাঁদ ‘চাই’-এর হাট। খাল-বিল ও নদী প্রধান এই  জেলার অন্তত ২৫টি হাটবাজরে বিক্রি হচ্ছে মাছ ধরার এই বিশেষ ফাঁদ।


জেলার চান্দিনা, তিতাস, মুরাদনগর, মেঘনা উপজেলার হাটসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বসেছে চাইয়ের হাট। সপ্তাহে দুই দিন করে হাট বসে। বর্ষায় পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলে পানির মধ্যে এই যন্ত্রটি রেখে দেয়া হয়। চলাচলের সময় ছোট-ছোট মাছগুলো বাঁশের তৈরি এই ফাঁদের ভিতরে আটকা পড়ে। এটি গ্রামাঞ্চলের মাছ ধরার খুব জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এই সময়ে জেলার সব জায়গায় মাছও পাওয়া যাচ্ছে।
কুমিল্লার মাধাইয়া ও দোল্লাই, নবাবপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি চাই আকার ভেদে ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। দোল্লাই নবাবপুর বাজারের চাই ব্যবসায়ী আনু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতি হাটে ৬০-৭০ টি চাই বিক্রি করি। বহু দূর-দূরান্ত এলাকা থেকে আমার কাছে এসে চাই কিনে নিয়ে যায়। বর্ষার শেষ দিকে এসে আমাদের এলাকায় চাই বিক্রি বেড়ে যায়। কারণ এই সময়ে ছোট-ছোট মাছগুলো পানি কমার সময় চাইগুলো জমির আইলে বিশেষ কাদায় পুঁতে রাখলে ফাঁদে মাছগুলো আটকা পড়ে।


মহিচাইল গ্রাম থেকে চাই কিনতে মাধাইয়া হাটে আসা নুরু মিয়া বাসসকে বলেন, এই মৌসুমে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ কেজি মাছ ধরতাম, তা বিক্রি করতাম ৩ থেকে ৪ শত টাকা। আমি প্রতি মৌসুমে পানি কমার সময় ৫ থেকে ৬ চাই কিনে নিয়ে যাই। এগুলো দিয়ে যে মাছ পাওয়া যায়, তা নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে বাকি মাছ স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করি। দেশীয় পদ্ধতিতে এই সময়ে মাছ ধরায় মেতে উঠে ছোট-বড় সব বয়সের মানুষ। বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলে ছোট মাছ ধরার ধুম পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নারিকেল ঝরে পড়ার কারণ ও প্রতিকার

নারিকেল অর্থকরী ফল ও তেলজাতীয় ফসল। প্রায় সবার বাড়িতে দু’একটি নারকেল গাছ রয়েছে। এসব গাছে বিভিন্ন সময় নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর মধ্যে কচি অবস্থায় নারকেল ঝরে পড়া একটি প্রধান সমস্যা। সাধারণত নারকেল গাছে ফুল আসার পর থেকে ডাব পর্যন্ত নারকেল ঝরে পড়ার কয়েকটি কারণ হতে পারে। যেমন- ফুলে পরাগ সংযোগ না হওয়া, কচি ফলগুলোতে পোকার আক্রমণ, মাটিতে সারের অভাব, নারকেলের ভেতরের শাঁস অংশ গঠনে ব্যাঘাত, মাটিতে পানির অভাব ইত্যাদি।

নারিকেল গাছের বয়স পাঁচ-ছয় বছর হলেই তাতে ফল ধরে। তবেছোট অবস্থাতেই ফল ঝরে যায়। কম বয়সী গাছে ফুল এলেও তা থেকে ফল না নিয়ে সাত-আট বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

নারিকেল গাছে কোনো রোগ বা পোকার আক্রমণ হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নারকেলের ফুল বা ফল খাওয়া পোকায় আক্রমণ করলে দুই মিলি রগর এক লিটার পানিতে মিশিয়ে ফুলের উপর ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। গাছের কুঁড়ি বা পচা রোগের জন্য এক শতাংশ শক্তিযুক্ত বর্দো মিশ্রণ গাছের অগ্রভাগে বিশেষ করে পাতার গোঁড়ায় ভালো করে প্রয়োগ করতে হবে।
নারিকেল ফুলে পরাগায়ন সংঘটিত হয় পোকা বিশেষ করে মৌমাছি অথবা বাতাসের মাধ্যমে। এজন্য একই এলাকায় একাধিক নারিকেল গাছ থাকা দরকার, এতে পরাগায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ফুল থাকে। এছাড়া নারিকেল ফুল ফোটার পর বাতাস প্রবাহে বাধার সৃষ্টি হলে পরাগায়নও বাধাগ্রস্ত হয়। এতে নারিকেল কুঁড়ি অবস্থাতেই ঝরে পড়ে।

অনেক সময় সুষম সার প্রয়োগ না করায় পুষ্টির অভাবে বা অপূর্ণতায় ফুল সুষ্ঠুভাবে পরিণত না হওয়ায় পরাগায়ন হওয়ার পরও ফল ঝরে যায়। মৌমাছি যাতে নারিকেল গাছের এলাকায় ঘোরাফেরা করতে পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। নারিকেলের ফুল ফোটার আগে অপ্রয়োজনে কোনো বালাইনাশক স্প্রে করা ঠিক নয়।

নারিকেল গাছের গোঁড়ায় যদি রস বেশি বা সব সময় স্যাঁতস্যাঁতে থাকে অথবা একেবারে শুকনো থাকে তাহলে গাছের ভেতরের অবস্থা ও ক্রমবর্ধিষ্ণু ফলের কুঁড়ির মধ্যকার আর্দ্রতার অসাম্যতা দেখা দেয়। এতে ফলের কুঁড়ির বোঁটা অতিরিক্ত নরম বা শুকনো হয়ে যায় এবং ফল ঝরে পড়ে।

এছাড়া আবহাওয়ায় আর্দ্রতার কমবেশিও ফল ঝরার কারণ হতে পারে। এজন্য নারিকেল গাছের গোঁড়ার মাটিতে যেন সব সময় জো অবস্থা থাকে সেদিকে নজর রাখতে হয়। গ্রীষ্মে অতিরিক্ত গরমের সময় রাতে ও শীতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার সময় দিনে নারিকেলের পাতায় শুধু পানি সেপ্র করে গাছের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখতে সাহায্য করলে ওই সময়ের অস্বাভাবিক অবস্থায় ফল ঝরে পড়ে না।

সাধারণত মাটিতে সারের অভাব হলে কচি অবস্থায় নারকেল বেশি করে ঝরে পড়ে। নারকেল গাছে নাইট্রোজেন, ফসফরাস, পটাশ সারের সঙ্গে সুহাগা প্রয়োগের বিশেষ প্রয়োজন। পটাশ সারের অভাব হলে নারকেলের শাঁস গঠনে ব্যাঘাত হয় ও নারকেল ঝরে পড়ে। সেজন্য গোবর সার বা পচন সারের সঙ্গে অনুমোদিত রাসায়নিক সার মিশিয়ে দু’ভাগ করে এক অংশ বর্ষার আগে (চৈত্র-বৈশাখ) এবং অন্য অংশ বর্ষার পরে (অশ্বিন-কার্তিক) মাসে প্রয়োগ করতে হবে।

অনেক সময় গাছে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফল ধরে এবং প্রতিটি ফল পরিমিত পরিমাণ পুষ্টির অভাবে সঠিকভাবে বাড়তে না পারায় বেশির ভাগই ঝরে পড়ে। এজন্য দু’টি ছড়ি বের হওয়ার মধ্যে সময়ের পার্থক্য কম হলে ছড়িগুলো থেকে ফলসংখ্যা ছাঁটাই করে ফেলা দরকার। এতে বাকিগুলো ঠিকভাবে বাড়তে পারে, পাশাপাশি ফলঝরা কমে।

নারিকেল গাছের সবুজ পাতা / ডাল ছাঁটাই করা কোনো ক্রমেই উচিত নয়। যেসব পাতা / ডাল শুকিয়ে যায় সেগুলোর গাছের সঙ্গে লেগে থাকা মোটা বোঁটাটি না শুকানো পর্যন্ত কাটা উচিত নয়। সবুজ পাতা কাটলে গাছে খাদ্য তৈরি কমে যায়। এতে ফল ঝরে পড়তে পারে। পূর্ণ বয়স্ক একটি গাছে ৩০-৩৫ টি ডাল থাকা আবশ্যক।

খরার সময় জমিতে পানির পরিমাণ কমে গেলে বা খরার পর ভারী বৃষ্টিপাত হলে গাছে পানির পরিমাণ বেড়ে গেলে ছোট ছোট নারকেলগুলো ঝরে পড়ে। সেজন্য খরার সময় নারকেল গাছের গোঁড়ায় ১৫-২০ দিন পর পানি দেয়ার প্রয়োজন। জমিতে পানির অভাব হলে বা প্রতিকূল অবস্থায় ফল ও ডাটার গোঁড়ায় এবসাইজিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ফল ঝরে পড়ে। এমন অবস্থায় ৬০ পিপিএম শক্তির ২-৪-ডি মিশ্রণ ফুলের ডাটায় ৭ দিন পর পর ৪ বার প্রয়োগ করলে ঝরে পড়া বন্ধ হয়।

প্লানোফিক্স জাতীয় হরমোনের ১০ পিপিএম মিশ্রণ নারকেলের ফুলে এবং পরে ২০ পিপিএম নারকেলের ডাটায় প্রয়োগ করলেও নারকেল ঝরে পড়া বন্ধ হয়। রোগ ও পোকার আক্রমণ না থাকা গাছের নারকেল হরমোনের জন্য সাধারণত ঝরে পড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com