আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

কমলা উৎপাদন করবেন যেভাবে

নাস্তার টেবিলে ফল হিসেবে কমলার বিকল্প নেই। ফলটি ভিটামিন সি পূরণ করতেও সহায়ক। বাজার থেকে কমলা কেনার পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধা থাকলে উৎপাদনও করা যেতে পারে। আসুন জেনে নেই কমলা উৎপাদনের নিয়মাবলী-

চারা
যৌন ও অযৌন পদ্ধতিতে কমলার বংশ বিস্তার করা যায়। কমলার বীজ থেকে চারা উৎপাদন করা যেতে পারে। কমলার একটি বীজ থেকে একাধিক চারা পাওয়া যায়। তুলনামূলকভাবে সতেজ ও মোটা চারাসমূহ অযৌন চারা বা নিউসসেলার চারা হিসেবে পরিচিত। গুটি কলম, চোখ কলম ও জোড়া কলমের মাধ্যমে অযৌন চারা উৎপাদন করা যায়। কমলা উৎপাদনের জন্য অযৌন চারা উত্তম।

জমি
জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। জমি তৈরির পর ৩*৩ মি দূরত্বে ৬০*৬০*৬০ সেমি আকারে গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তের মাটি তুলে পাশে রেখে দিতে হবে। বর্ষার আগে গর্ত মাটি দিয়ে ভর্তি করে রাখতে হবে। কমলা চাষের নির্বাচিত জমি পাহাড়ি হলে সেখানে ৩০-৩৫ মিটার দূরত্বে ২-৪টি বড় গাছ রাখা যেতে পারে। তবে বড় গাছ কাটলে শেকড়সহ তুলে ফেলতে হবে। তারপর পাহাড়ের ঢালু অনুসারে নকশা তৈরি করে নিতে হবে।

রোপণ
চারা লাগানোর ১২-১৫ দিন আগে প্রতিগর্তে নির্ধারিত হারে সার মাটির সাথে কোদাল দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে রাখতে হবে। প্রধানত মধ্য-বৈশাখ থেকে মধ্য-ভাদ্র (মে থেকে আগস্ট) মাসের মধ্যে চারা রোপণ করতে হবে। চারা মাটির বলসহ গর্তে লাগাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, যেন চারাটি গর্তের মাঝে থাকে। কলমের চারার জোড়া স্থানটি মাটি থেকে ১৫ সেমি উপরে রাখতে হবে। চারার গোড়ার মাটি যেন সামান্য উঁচু থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সার
ভালো ফলন পেতে হলে কমলা গাছে সার প্রয়োগ করা দরকার। মধ্য-মাঘ থেকে মধ্য-চৈত্র (ফেব্রুয়ারি-মার্চ), বর্ষার আগে মধ্য-চৈত্র থেকে মধ্য-জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল থেকে মে) এবং বর্ষার পরে মধ্য ভাদ্র-মধ্য কার্তিক মাসে সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। চারা রোপণের ৩-৪ মাস পর গাছপ্রতি ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ১০০ গ্রাম টিএসপি এবং ১০০ গ্রাম এমপি সার প্রয়োগ করতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতি গাছের জন্য সারের পরিমাণ নিম্নরূপ হবে-

মাটির উর্বরতা এবং গাছের অবস্থার ওপর বিবেচনা করে সারের পরিমাণ কমবেশি করা যেতে পারে।

সেচ
চারা গাছের গোড়ায় মাঝে মাঝে পানি দিতে হবে। বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে বৃষ্টির পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রেখে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে।

ছাঁটাই
চারা অবস্থায় কমলা গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। গোড়া থেকে অতিরিক্ত জন্মানো শাখা কেটে ফেলতে হবে। নিচের দিকে ছোট ছোট শাখা ছেটে ভূমি থেকে অন্তত ৪৫ সেমি ওপর থেকে কাণ্ডের উৎপাদনশীল শাখা বাড়তে দেওয়া যেতে পারে। মরা ও রোগাক্রান্ত ডাল মাঝে মাঝে ছেটে দিতে হবে। গাছের গঠন ছোট থেকেই সুন্দর ও শক্ত করে তুলতে হবে।

আগাছা
আগাছা বেশ ক্ষতি করে। গাছের গোড়ায় যাতে আগাছা জন্মাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গাছের ওপরে পরগাছা ও লতাজাতীয় আগাছা থাকলে তা দূর করতে হবে।

ফসল
কমলা গাছে সাধারণত মধ্য-মাঘ থেকে মধ্য-চৈত্র (ফ্রেব্রুয়ারি থেকে মার্চ) মাসে ফুল আসে এবং মধ্য-কার্তিক থেকে মধ্য-পৌষ (নভেম্বর থেকে ডিসেম্বর) মাসে ফল পাকে। ফলের রং কিছুটা হলদে হলে তা সংগ্রহ করা যায়।

রোগ-বালাই
পাতা ছিদ্রকারী পোকা: সাদা পোকা কচি পাতার নিম্নতলে আঁকা-বাঁকা দাগের সৃষ্টি করে। এর আক্রমণে পাতা কুঁকড়ে যায়, ফলে গাছ দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রতিকার: ১০ মিলি মেটাসিস্টক্স ১০ লিটার পানিতে অথবা ডায়াজিনন ৬০ ইসি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৪ চা চামচ মিশিয়ে স্প্রে করে গাছের পাতা ভিজিয়ে দিতে হবে।

বাকল ছিদ্রকারী পোকা: পোকা গাছের বাকলে ঢুকে খেতে থাকে এবং আক্রান্ত বাকল শুকিয়ে ডাল বা কাণ্ড মারা যায়।

কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা: পোকা গাছের কাণ্ড বা ডাল ছিদ্র করে ভেতরে খেয়ে গাছ দুর্বল করে ফেলে। আক্রমণ বেশি হলে ডাল বা কাণ্ড শুকিয়ে মারা যায়।

প্রতিকার: রিপকর্ড ১০ ইসি কীটনাশক ১০ লিটার পানিতে ১০ মিলি বা ২ চা চামচ মিশিয়ে স্প্রে করে পোকা দমন করা যায়।

কমলা গান্ধী: ফলের গায়ে ছিদ্র করে রস চুষে খায়। মধ্য-ভাদ্র থেকে মধ্য-কার্তিক মাসে যখন ফল পুরো রসালো হয় তখন এ পোকার উপদ্রব শুরু হয়। এতে ছিদ্রস্থান কয়েকদিন পর হলদে হয়ে ফল ঝরে যায়।

প্রতিকার: ম্যালাথিয়ন ০.০৪% অথবা সুমিথিয়ন ৫০ ইসি ১০ লিটার পানিতে ৫ চা চামচ মিশিয়ে স্প্রে করলে এ পোকা দমন হয়।

গ্রীনিং রোগ: গ্রীনিং রোগাক্রান্ত গাছের পাতা হলদে রং ধারণ করে। শিরা দুর্বল, পাতা কিছুটা কোঁকড়ানো, পাতা ছোট হয় এবং সংখ্যা কমে আসে। সাইলিড নামক পোকা দিয়ে এ রোগ সংক্রমিত হয়। রোগাক্রান্ত গাছের ডাল দিয়ে কলম করলে নতুন গাছের এ রোগ দেখা দেয়।

প্রতিকার: নগস ১০০ ইসি ১০ লিটার পানিতে ৪ চা চামচ মিশিয়ে স্প্রে করলে সাইলিড পোকা নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং এ রোগ কমে আসে।

ক্যাংকার রোগ: এ রোগে ফল ও পাতা আক্রান্ত হয়।

প্রতিকার: এ রোগ হলে ফল, পাতা কেটে ফেলতে হবে এবং মাঝে মাঝে বর্দোমিকচার ছিটিয়ে রোগ দমন করতে হবে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার

অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন দেশের বিজ্ঞানীরা। মধ্যপ্রাচ্যের ফল খেজুর উৎপাদনে প্রাথমিকভাবে সফল হয়েছেন তারা। মেহেরপুরের মুজিবনগর কমেপ্লেক্সে পরীক্ষামূলকভাবে তৈরি বাগানের ২০টি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলছে খেজুর। চলছে সাকারের (কাণ্ড থেকে গজানাে চারা) মাধ্যমে চারা তৈরির প্রক্রিয়া।

 বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার
বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার

সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন প্রয়োজন দেশে একটি খেজুর রিসার্চ সেন্টার। তাহলেই সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব হবে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারি সুমিষ্ট এই ফল।

বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার
বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার

বাগানের ব্যবস্থাপক মহিবুল ইসলাম জানান, ২০১৪ সালে কুষ্টিয়া ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন বিজ্ঞানী মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই থেকে নিয়ে আসেন আজওয়া, আম্বার, মরিয়ম, ডেগলেটনুর, খালাচসহ খেজুরের ১০টি জাত। চারা তৈরি করে আড়াই হাজার গাছ লাগানো হয় মেহেরপুরের মুজিবনগর কমপ্লেক্সে। মাত্র চার বছরের মাথায় আসে ফল। আর্টিফিশিয়াল পরাগায়নের মাধ্যমে বাড়ানো হয় ফল ধারণের ক্ষমতা। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে নেট দিয়ে আর বৃষ্টির পানি যাতে না পড়ে সেজন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে পুরো থোকা।

বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার
বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়ার সঙ্গে এখনকার আবাহাওয়ার মিল না থাকায় খেজুরের এ পর্যায় আসতে অনেক প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিতে হয়েছে। তবে ২০টি গাছে পরিপূর্ণ ফল আসায় আমরা খুশি। এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে ফলের মিষ্টতা ধরে রাখার। এটি সফল হলে সাকারের মাধ্যমে চারা তৈরি করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

 বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার
বাংলাদেশেই ফলছে মরিয়ম আজওয়া আম্বার

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের আরেক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শহিদুল্লাহ জানান, খেজুরের এ চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে দেশে খেজুরের চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে মধ্যপ্রচ্যের আবহাওয়া ও এখনকার আবহাওয়া এক না হওয়ায় সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার। তাই এ অঞ্চলে সরকারিভাবে একটি ডেট (খেজুর) রিসার্চ সেন্টার তৈরির দাবি জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা

এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা
এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফলন কম হওয়ায় এ বছর আম উৎপাদন কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমচাষি ও কৃষি বিভাগ বলছে, বিরূপ আবহাওয়ার কারণেই এ বছর আম উৎপাদন কিছুটা কম হবে।

এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা
এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা

জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুরের আমচাষি হাসান আল সাদী পলাশ ও পৌর এলাকার মিজানুর রহমান জানান, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত মুকুল এসেছে। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে বৃষ্টির কারণে মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে দীর্ঘ কুয়াশা, শীত ও সময়মত বৃষ্টি না হওয়ায় আমের গুটি ঝরে যায়। এছাড়া পরপর কয়েক বছর আমের দাম না পাওয়ায় বাগান পরিচর্যায়ও এক ধরনের অনীহা ছিল আমচাষিদের।

সম্প্রতি হাইকোর্টের একটি আদেশকে কেন্দ্র করে আমচাষিরা পোকামাকড়ের আক্রমণের পরও ভয়ে আম বাগানে কীটনাশক প্রয়োগ করেননি। শেষ মুহূর্তে শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে অনেক আম নষ্ট হওয়ায় এ বছর আম তুলনামূলক কম হয়েছে।

এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা
এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা

জেলা কৃষিসম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মঞ্জুরুল হুদা জানান, জেলার ৫ উপজেলায় এ বছর ৩১ হাজার ৮২০ হেক্টর আম বাগানে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর ২৯ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। এ বছর ২ হাজার ৩১০ হেক্টর আম বাগান বাড়লেও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কম হবে।

এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা
এবার আমের উৎপাদন কম, হতাশ চাষিরা

এদিকে আম পাড়ার সময় বেঁধে না দিলেও প্রাকৃতিক কারণেই আম দেরিতে পাকায় আরও এক সপ্তাহ পরে বাজারে আসবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে

কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে
কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এবার কাঁঠালের উৎপাদন হয়েছে গত বছরের চেয়ে বেশি। কিন্তু করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মাথায় হাত প্রায় চাষির। বিক্রি করতে না পারায় কাঁঠাল পেকে পচে নষ্ট হচ্ছে গাছেই। কেউ বা তিন ভাগের একভাগ দামে বিক্রি করছে। এছাড়া বাজারে চাহিদা না থাকায় তা কিনেও পুঁজি হারানোর শঙ্কায় পড়েছে পাইকাররা। অপরদিকে, কাঁঠাল বাগান মালিকদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও কাঁঠাল প্রক্রিয়াজাতকরণের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে ফলন বেশি হলেও অর্থনৈতিক গুরুত্ব হারাচ্ছে কাঁঠাল।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, শ্রীপুর উপজেলায় এবার ৭৭ হাজার ৭৫০ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে। যার বাজার দর ধরা হয়েছে ৩৮ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবার কাঁঠাল উৎপাদন হয়েছে গত বছরের চেয়ে ২ হাজার ১৯০ মেট্রিক টন বেশি।

বাগান মালিকরা জানান, প্রতিবছর মৌসুম শুরু হওয়ার এক-দেড় মাস আগেই বাগান নিয়ে পাইকারদের কাড়াকাড়ি পড়ত। কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। উপজেলার বাইরে থেকে কোন পাইকারের দেখা মেলেনি। স্থানীয় পাইকারদের মধ্যেও আগ্রহ অনেক কম। আর আগ্রহ দেখালেও দাম বলে কম।

কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে
কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতিবার দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে বাগানে ফলন দেখে কাঁঠাল কিনে নিত। পরে পুরো মৌসুমজুড়ে তারা তা বিক্রি করত। এবার সেইসব পাইকাররা আসেননি। এতে স্থানীয় পাইকারদের কেউ কাঁঠাল কিনেছে অর্ধেকেরও কম দামে। আবার স্থানীয় অনেক পাইকারই এবার পুঁজি হারানোর শঙ্কায় কাঁঠাল কেনেননি।

বরমী ইউনিয়নের বরকুল গ্রামের মাহমুদুল হাসান তানজিম জানান, বারবার স্থানীয় কয়েকজন পাইকারকে খবর দিয়েও আনা যায়নি। ফলে তার বাগানের কাঁঠাল এখনো বিক্রি করতে পারেননি। তিনি আরও জানান, একই অবস্থা তার চাচাত ভাই এসএম জাহাঙ্গীর আলমের। বিক্রি করতে না পারায় তাদের কাঁঠাল গাছেই পেকে পচে নষ্ট হচ্ছে।

সাতখামাইর গ্রামের ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী জানান, প্রতিবছর তিনি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা কাঁঠাল বিক্রি করেন। এবার গাছে কাঁঠালের ফলন বেশি হলেও পাইকারের আগ্রহ না থাকায় বাধ্য হয়ে মাত্র দুই হাজার টাকায় কাঁঠাল বিক্রি করেছেন তিনি।

কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে
কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে

বারতোপা গ্রামের চাষি মো. সেলিম জানান, তার বাগানে প্রায় ৫ থেকে ৬শ কাঁঠাল রয়েছে। পাইকাররা কাঁঠালগুলোর সর্বোচ্চ দাম ৫শ টাকা হাকান। এতে সে কাঁঠাল বিক্রি করতে রাজি হননি। এখন কাঁঠাল পচে-গলে যাওয়ায় তা আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বাকিগুলো গৃহপালিত পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

কাওরাইদ ইউনিয়নের হয়দেবপুর গ্রামের শাহাব উদ্দিন মন্ডল জানান, গতবছর যে বাগান তিনি দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন। এ বছর তা মাত্র ৭৮ হাজার টাকা বিক্রি করতে বাধ্য হন। অথচ গত বছরের তুলনায় এবার তার বাগানে কাঁঠালের ফলন প্রায় দ্বিগুণ।

বরমী ইউনিয়নের খলারটেক গ্রামের বাগান মালিক মফিজুর রহমান বাবুল জানান, পাইকারদের কাছে গেলে তারা জানায়, আড়তদাররা কাঁঠাল কিনছে না।

জৈনাবাজার কাঁঠালের আড়তদার জহির উদ্দিন জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির জন্য দেশের কোনো এলাকা থেকেই কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা আসতে পারছে না। ফলে আড়তদাররাও কাঁঠাল কিনছে না। তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকার বড় বড় কাঁঠাল ব্যবসায়ীরা তাদের যে চাহিদা জানায়, ওই হিসেবে কাঁঠাল আড়তে মজুত করেন তারা। কিন্তু এবার কাঁঠাল ব্যবসায়ীদের সাড়া পাননি।

কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে
কাঁঠালের বাম্পার ফলন, তবুও হাসি নেই চাষির মুখে

শ্রীপুরের সবচেয়ে বড় কাঁঠালের বাজার জৈনা। সেখানে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে কাঁঠালের বাজার বসত। এখান থেকেই কাঁঠাল যেত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও। রাত-দিন কাঁঠাল বিক্রি হত এ বাজারে। গত ৫ জুন থেকে কাঁঠালের হাটটি চালু হলেও ক্রেতার দেখা মিলছে না।

জৈনা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁঠালের হাটটির জৌলুস নেই। হাটের ইজারাদার শাহীন আলম জানান, প্রতিবছর হাটটি জমজমাট হয়ে ওঠে উপজেলার বাইরে থেকে কাঁঠাল ব্যবসায়ীদের উপস্থিতিতে। কিন্তু এবার কোন ব্যবসায়ীই আসেনি। ফলে তিনি এরই মধ্যে কোনো কাঁঠাল বিক্রেতার কাছ থেকেই টোল নেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন।

বাজারে বিক্রির জন্য কাঁঠাল নিয়ে আসা শফিকুল সর্দার জানান, সকালে ১০০ কাঁঠাল নিয়ে এসেছেন তিনি। মাত্র ১৫টি কাঁঠাল বিক্রি করেছেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখে বাকি কাঁঠাল ফেরত নিয়ে যাবেন বলে জানালেন তিনি।

বাজারে ক্রেতা না থাকার প্রসঙ্গে কথা বললে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা জানান, তারা কৃষি বিপণন অধিদফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। সেখান থেকে তাদের জানানো হয়েছে, শ্রীপুরের কোন বাগান মালিক যদি ক্রেতা না পায়, সেক্ষেত্রে তারা (কৃষি বিপণন অধিদফতর) নিজেদের পরিবহন ব্যবস্থায় ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রির উদ্যোগ নেবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরও জানান, তারা মাঠে আছেন। ক্রেতা পাচ্ছেন না, এমন বাগান মালিকদের তালিকা তৈরি করছেন। দু’একদিনের মধ্যে তা কৃষি বিপণন অধিদফতরে পাঠানো হবে। এ ব্যবস্থায় বাগান মালিকদের কোন পরিবহন খরচ পড়বে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল

মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল
মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল

মরুভূমির ফল সাম্মাম দেখতে তরমুজের মতো। দেশের মাটিতে এ ফল চাষ করে লাভবান হয়েছেন জেলার আত্রাই উপজেলার মীরাপাড়া গ্রামে কৃষক রেজাউল ইসলাম। তিনি একজন সৌদি প্রবাসী। দেড় বিঘা জমিতে এ ফলের আবাদ করে প্রায় তিন লাখ টাকা আয় করেছেন। নতুন জাতের এ ফল উৎপাদনের খবর পেয়ে দেখতে আসছেন কৃষকরা। কেউ কেউ আগামীতে নতুন জাতের এ রসালো ফল উৎপাদনের জন্য পরামর্শও নিচ্ছেন।

জানা যায়, সুস্বাদু ফল সাম্মাম। ফলটি দেখতে অনেকটা বেল কিংবা বাতাবি লেবুর মতো। ভেতরে রসালো তরমুজের মতো এবং সুস্বাদু। প্রতিটির ওজন প্রায় দুই থেকে আড়াই কেজি। জমিতে রোপণের দেড় মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। তিন মাসের মধ্যেই পরিপক্ক হয়। এ ফলের তেমন একটা রোগবালাই নেই। এছাড়া খুবই সামান্য সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল
মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল

সৌদি আরবে অবস্থানের সময় রেজাউল ইসলাম ফলটি খেয়েছেন। দেশে ফেরার পর ফলটি চাষ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বগুড়ায় এগ্রো ওয়ান নামের এক কৃষি গবেষণা খামারে তার ভাতিজা কৃষিবিদ মো. সামিউল ইসলামের সুবাদে সেখানে চারার সন্ধান পান।

সেখান থেকে চারা সংগ্রহ করে প্রাথমিকভাবে নিজের দেড় বিঘা জমিতে সাম্মাম ফলের চাষ করেন। জমি চাষ, চারা কেনা, জাংলা তৈরি, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ আনুষঙ্গিক প্রায় ৬০ হাজার টাকা খচর হয়েছে। মাত্র তিন মাসের মধ্যে ফলটি বাজারজাত করা হয়েছে। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে এসব বিক্রি করছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করেছেন।

কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘এ মৌসুমে প্রায় দুই হাজার ফল উৎপাদিত হয়েছে। প্রতিটি ফলের ওজন প্রায় দুই থেকে আড়াই কেজি। প্রতিকেজি সাম্মাম পাইকারি দেড়শ টাকা এবং খুচরা প্রায় দুই থেকে আড়াইশ টাকা বিক্রি হয়েছে। এ ফলের চাষ অত্যন্ত লাভজনক।’

মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল
মরুভূমির ‘সাম্মাম’ ফল চাষে সফল রেজাউল

রেজাউল ইসলামের ছেলে সোহানুর রহমান বলেন, ‘পড়াশোনার ফাঁকে বাবাকে সহায়তা করি। সাম্মাম উৎপাদনে তেমন বেগ পেতে হয়নি। বীজ রোপণ থেকে পরিচর্যার উপর গুরুত্ব দিতে হয়েছে। এ ছাড়া সময়মতো জৈব সার দেওয়া হয়। এ ফলের বেশ চাহিদা রয়েছে।’

আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কেএম কাউছার হোসেন বলেন, ‘গতানুগতিক ফসল উৎপাদন এখন আর লাভজনক নয়। কৃষকরা প্রথাগত ফসল উৎপাদনে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কৃষকদের লাভজনক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ফসলে নতুনত্ব আনা হচ্ছে। সাম্মামের চারা উৎপাদনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ সৃষ্টি হবে।’

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ নুর আহম্মেদ বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের উন্নতমানের ফুল ও ফসল বাংলাদেশে চাষ করে জনপ্রিয় করে তুলছেন কৃষকরা। এতে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে এসব বিদেশি ফল-ফসলের স্বাদ ও পুষ্টি গ্রহণ করে উপকৃত হচ্ছে এ দেশের মানুষ।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভবান হাবিব

অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভবান হাবিব
অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভবান হাবিব

জেলা শৈলকুপা উপজেলার নবগ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। খামারে তিনি বিভিন্ন মৌসুমী ফল ও ফসলের চাষ করেন। কিন্তু এবার ২০ শতক জমিতে অসময়ে চাষ করেছেন গ্রীষ্মকালীন তরমুজ। আম্ফান ঝড়ে প্রথম আসা ফুল ও কুড়ি নষ্ট হলেও তরমুজ চাষে লাভবান হয়েছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক নাসির মিয়া বলেন, ‘অসময়ে হাবিবুরের তরমুজ চাষ নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করেছেন। কিন্তু চাষে ফলন ভালো এবং স্বাদ ভালো হাওয়ায় এখন অনেকেই চাষ করতে তার কাছে পরামর্শ নিতে আসেন। আমি নিজেও ভাবছি, এ ফলের চাষ করবো।’

তরমুজ চাষি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দুই বছর আগে অন্যের ১০ বিঘা জমি লিজ নিয়ে একটি সমন্বিত কৃষি খামার করি। এরপর আধুনিক পদ্ধতির চাষাবাদের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করি। তরমুজ সাধারণত শীতকালে বীজ রোপণ করে বৃষ্টি মৌসুমের আগেই তা শেষ হয়। কিন্ত কৃষি অফিস গত এপ্রিল মাসে আমাকে গ্রীষ্মকালীন তরমুজ চাষের জন্য উৎসাহিত করে।’

অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভবান হাবিব
অসময়ে তরমুজ চাষ করে লাভবান হাবিব

তিনি বলেন, ‘কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী ২০ শতক জমি তৈরি করি। সেখানে ৫টি বেড করে মাটির সঠিক আর্দ্রতা ধরে রাখতে মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে রাখি। এরপর এপ্রিলের ২২ তারিখে হাইব্রিড সোহেলি জাতের বীজ রোপণ করি। এতে খরচ হয় ১০-১৫ হাজার টাকা। বীজ রোপণের ৩০ দিনের মধ্যে গাছ মাচায় উঠে যায়। ৩৫ দিনের মধ্যে গাছে প্রচুর ফুল ও কুড়ি আসে। কিন্তু আম্ফানে অনেকটাই নষ্ট হয়। তারপরও মাচার ডোগায় ডোগায় ঝুলে আছে ছোট-বড় কয়েকশ তরমুজ।’

হাবিব বলেন, ‘অসময়ের এ তরমুজের ব্যাপক চাহিদা বাজারে। রোপণের পর ৬০-৬৫ দিনের মধ্যে তরমুজ বেচাকেনা শুরু হয়। প্রতিটি তরমুজ ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি করি। আম্ফানের ক্ষতির পরও ১৫ শতক জমি থেকে ৩০-৩৫ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, ‘শৈলকুপায় হাবিবুর রহমান অসময়ে তরমুজ চাষ করেছেন। কৃষক হাবিব বৃষ্টি মৌসুমের মধ্যে মাচা করে তরমুজ চাষ করে সফল হয়েছেন। আম্ফানে ক্ষতি না হলে বাম্পার ফলন হতো। অসময়ে কোনো ফল হলে তার প্রতি ক্রেতাদের একটু বেশি আগ্রহ থাকে। এ তরমুজ চাষ করে একজন চাষি ২ মাসে সব খরচ বাদে ৫০-৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com