আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

কবে থেকে ফের পেঁয়াজ রফতানি শুরু করবে ভারত?

কবে থেকে ফের পেঁয়াজ রফতানি শুরু করবে ভারত?

পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাংলাদেশ নতুন করে ভারতের কাছে অনুরোধ জানানোর পরও দিল্লি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে এখনও দ্বিধায় ভুগছে।

তবে সে দেশের পেঁয়াজ রফতানিকারকদের অনেকেই বিবিসিকে জানিয়েছেন, বাজারে এখন নতুন ফসল এসে গেছে এবং দামও অনেকটাই কমেছে – কাজেই এখন আবার রফতানি শুরু করা হলে অসুবিধার কিছু নেই।

তা ছাড়া ভারতের যে মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানায় বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে সরকার দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নাগালে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল, সেই ভোটপর্বও মিটে গেছে দুদিন আগে।

এই পটভূমিতে ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি আবার কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

আসামের রাজধানী গৌহাটিতে মঙ্গলবারও এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছিলেন, ভারত তাদের দেশে আচমকা না-বলে কয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের খুবই অসুবিধায় পড়তে হয়েছে।
সেই নিষেধাজ্ঞা যেন অবিলম্বে তুলে নেওয়া হয়, সেই অনুরোধও জানিয়েছিলেন তিনি।

ওই অনুষ্ঠানে ভারতের একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও আসাম ও ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও হাজির ছিলেন।

তাদের সামনেই মি. মুনশি আরও জানান, ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও নাকি তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন মহারাষ্ট্রের নির্বাচন মিটে গেলেই বাংলাদেশে আবার পেঁয়াজ যাওয়া শুরু হবে।

এদিকে ভারতের শীর্ষ রফতানিকারকরাও কিন্তু মনে করছেন এখন আবার বিদেশে পেঁয়াজ পাঠাতে কোনও বাধা নেই।

ভারতের ‘পেঁয়াজ রাজধানী’ বলে পরিচিত নাসিক থেকে গ্রিবল এগ্রো এক্সপোর্টের রাহুল চৌধুরী বলছিলেন, “এখন আবার রফতানি শুরু করা যেতেই পারে – আমাদের ক্রেতারা নেপাল-বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কায় অপেক্ষা করছেন।”
“প্রয়োজনে একটা এমইপি, অর্থাৎ ন্যূনতম রফতানি মূল্য চালু রাখা হোক, তাতে ক্ষতি নেই।”

“কিন্তু বাজারে নতুন ফলন এসে গেছে, চাষীদের কাছে এখন মজুতও বিশাল।”

তামিলনাডুর এস এস এক্সপোর্টসের প্রধান ষান্মুগাভেল আবার বলছিলেন, “বাজার এখন অনেকটাই পড়ে গেছে – আর তা ছাড়া ২১শে অক্টোবর মহারাষ্ট্রে ভোট হয়ে যাওয়ার পর আমি তো আশা করেছিলাম নিষেধাজ্ঞা এদিনই উঠে যাবে।”

“বৃষ্টিতে নাসিকের পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কর্নাটকের পেঁয়াজ কিন্তু বাজারে চলে এসেছে।”

“কিন্তু সারাদিন অপেক্ষা করার পরও কোয়েম্বাটোরের ডিরেক্টোরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড থেকে আজও কোনও ঘোষণা এল না,” বেশ হতাশার সুরেই বলছিলেন তিনি।
বস্তুত গত মাসে একটা সময় ভারতে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে ৫১ রুপি পৌঁছেছিল – যেটা এখন নেমে এসেছে ৩০-৩২ রুপিতে।

কিন্তু ভাবনগরের মোদী এক্সপোর্টসের সন্দীপ মোদী আবার মনে করছেন, অসময়ের বৃষ্টিতে পেঁয়াজের বাজারে আবার আগুন লাগতে পারে।

তিনি বিবিসিকে বলেন, “মহারাষ্ট্রে এখন লেট মনসুনের কারণে পেঁয়াজের মান খারাপ হয়ে যেতে পারে, নতুন ফসল উঠতেও দেরি হতে পারে।”

“খেয়াল করবেন, গত সপ্তাহেই হোলসেলে যে পেঁয়াজ ছিল ২৮ রুপি কেজি, সেটাই কিন্তু আজ ৩৭ রুপিতে পৌঁছে গেছে।”

বস্তুত বাজারে এই ওঠাপড়ার কারণেই কেন্দ্রীয় সরকার রফতানি নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়া নিয়ে সংশয়ে ভুগছে।
তিন সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লি সফরের সময় কিছুটা অনুযোগের সুরেই বলেছিলেন, ভারত দুম করে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেওয়ায় তার হেঁশেলেও এখন পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করতে হচ্ছে।

তখন দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার বলেন, “পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মন্তব্য ভারতের নজরে পড়েছে – এবং এই উদ্বেগ কীভাবে প্রশমিত করা যায় সেটাও দেখা হচ্ছে।”

কিন্তু তার পর থেকে ভারত শুধুমাত্র ২৯শে সেপ্টেম্বরের আগে খোলা পেঁয়াজ রফতানির এলসি-গুলোই অনার করেছে – আগে সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

তবে সরকারের সেই বক্তব্য সামনে আসার পর তিন সপ্তাহ কেটে গেলেও ভারত এখনও নতুন করে পেঁয়াজ রফতানি চালু করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

এ বিষয়ে সরকারের সংশিষ্ট মহলগুলো শুধু বলছে, পরবর্তী চব্বিশ ঘন্টাতেই এই সিদ্ধান্ত চলে আসতে পারে – আবার চব্বিশ দিন লেগে গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

জৈব

নিরাপদ সবজির গ্রাম কালীদীঘি

মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গোদাগাড়ীর কালীদিঘি গ্রামকে নিরাপদ সবজী গ্রাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাড়ির পাশে খেত থেকে শিম তুলছেন শাহিনুর বেগম।
মুজিব বর্ষ উপলক্ষে গোদাগাড়ীর কালীদিঘি গ্রামকে নিরাপদ সবজী গ্রাম ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল বাড়ির পাশে খেত থেকে শিম তুলছেন শাহিনুর বেগম।

গ্রামটির নাম কালীদীঘি। এটি গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা ইউনিয়নের। বরেন্দ্র অঞ্চলের খরাপীড়িত শুষ্ক মাটির এ গ্রামে বড় কোনো গাছপালা নেই। এখানে ফসল ফলানোই একটা চ্যালেঞ্জ।

শফিকুল ইসলাম জানান, মুজিব বর্ষে ব্যতিক্রমী কিছু করার চিন্তা থেকে তিনি এ গ্রামের কৃষকদের বাড়ির আনাচকানাচে নিরাপদ সবজি চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। নিরাপদ সবজি বলতে এখানে কোনো কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি। পোকা দমনে শুধু জৈব বালাইনাশক, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও হলুদ স্টিকি ফাঁদ ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া কৃষকদের কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। গত আড়াই থেকে তিন মাসে এ উদ্যোগ অনেকটা সফল হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, এ জন্য সরকারি তহবিল থেকে একটি টাকাও খরচ করা হয়নি। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা নিজের থেকে এটা করেছেন। এখন গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে এ সবজি চাষ হচ্ছে। তিনি মনে করেন, এখন অন্য গ্রামের কৃষকেরাও এটা অনুসরণ করবে।

গতকাল মঙ্গলবার কালীদীঘি গ্রামে গিয়ে প্রায় সব বাড়ির পাশেই কিছু না কিছু সবজিখেত দেখা যায়। প্রতিটি খেতেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সবজির নামসহ সাইনবোর্ড দেওয়া রয়েছে। গ্রামের মধ্যে আছে একটি বড় সাইনবোর্ড। তাতে লেখা, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে নিরাপদ সবজি গ্রাম।’ সাইনবোর্ডের দুই কোনায় বঙ্গবন্ধুর দুটি ছবি রয়েছে। গ্রামকে নিরাপদ সবজির জন্য প্রস্তুত করতে কী ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, তার উল্লেখ আছে সাইনবোর্ডটিতে। এর নিচে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোদাগাড়ীর বিদিরপুর ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলামের নাম ও মুঠোফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে, যাতে যে কেউ যেকোনো সময় পরামর্শের জন্য তাঁকে কল করতে পারেন।

কিষানি আনোয়ারা বেগম (৪৫) তাঁর বাড়ির আঙিনায় পালং শাক, লাল শাক, বেগুন ও মরিচ চাষ করেছেন। ইতিমধ্যে বেগুন ও শাক নিজে খাচ্ছেন এবং প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কেজি করে বেগুন বিক্রি করছেন। তাঁর খেতে মরিচ এখনো ধরেনি। তাঁর বাড়ির আঙিনায় রয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাইনবোর্ড। আনোয়ারা বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ ছাড়া তিনি অন্য কিছুই খেতে ব্যবহার করেননি।

আরেক কিষানি শাহীনুর বেগম বললেন, তাঁর স্বামী মারা গেছেন। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তাঁর ছেলে কলেজে পড়ার পাশাপাশি পাশের একটি কারখানায় কাজ করেন। এ অবস্থায় তিনি বাড়িতে সবজি চাষ করেছেন। শাহীনুর বলেন, কর্মকর্তাদের পরামর্শে শুধুই ছাই ব্যবহার করে শিমের পোকা দমন করেছেন তিনি। পাশেই তাঁর মেয়ের বাড়ি। সেই বাড়িতে সদস্য কম। নিজেরা খেয়ে তাঁর মেয়ে এক মণ শিম বিক্রি করেছেন।

আবদুর রউফের স্ত্রী বিরজা বেগম খেতে বাঁধাকপি, পেঁয়াজ, বেগুন, লাউ, মিষ্টিকুমড়া ও পটল চাষ করেছেন। তিনি বলেন, তাঁদের কোনো সবজি কিনতে হয় না। পোকার খুব আক্রমণ হলে একবার হালকা করে ওষুধ ছিটান। কর্মকর্তাদের পরামর্শে জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেছেন। খুব ভালো সবজি হয়েছে।

ভ্যানচালক জোগেশ্বরের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বাড়ির গাছে পেঁপে পেকে রয়েছে। তাঁর বাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পেঁপে বাগানের একটি সাইনবোর্ডও দেওয়া রয়েছে। তাঁর স্ত্রী নিয়তি রানী গাছ থেকে পাকা পেঁপে কেটে বলেন, তাঁর পেঁপে না খেলে তিনি ভীষণ মন খারাপ করবেন। নিয়তি রানীর ছোট্ট বাগানে পেঁপে ছাড়াও রয়েছে বেগুন, মিষ্টিকুমড়া ও লাল শাক।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক বলেন, গোদাগাড়ীতে নিরাপদ সবজি গ্রামের বিষয়টি তাঁর জানা আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

ফুলকপি-বাঁধাকপি শীত মৌসুমের প্রধান সবজি। কিন্তু দিনাজপুরের বীরগঞ্জে গ্রীষ্ম মৌসুমে এর চাষ শুরু হয়েছে। অসময়ে ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে বদলে গেছে সাতোর ইউনিয়নের দলুয়া গ্রামের মো. আব্দুল মালেকের ভাগ্য। রমজান মাসে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে দ্বিগুণ লাভের আশা করছেন তিনি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় খরিপ-১ মৌসুমে ১০ একর জমিতে ফুলকপি এবং বাঁধাকপি আবাদ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় যা দ্বিগুণ। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তাই আগামীতে এর পরিধি বাড়তে পারে।

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

কৃষক মো. আব্দুল মালেক জানান, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে জমিতে বীজ বপন করা হয়। এরপর মার্চের ২৫ তারিখে বীজতলা থেকে চারা তুলে জমিতে রোপণ করা হয়। অর্ধেক জমিতে ফুলকপি আর বাকি জমিতে বাঁধাকপির চারা রোপণ করা হয়। সাড়ে ৩ একর জমিতে প্রায় ৭৫ হাজার চারা রয়েছে।

চারা রোপণের ৪৫-৫০ দিন পর থেকে ক্ষেতের ফুলকপি-বাঁধাকপি বিক্রি শুরু হয়। পাইকারি প্রতিপিস ফুলকপি ও বাঁধাকপি ১১ টাকা এবং কেজি হিসেবে ৩৫ টাকা দরে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ফুলকপি এবং ৫০ হাজার টাকার বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন তিনি। তবে এর চাষে সর্বসাকুল্যে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ টাকা। বাজার দর ভালো থাকলে আরও ১ লাখ টাকার ফুলকপি এবং ৩ লাখ টাকার বাঁধাকপি বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবুল কাসেম জানান, গ্রীষ্ম মৌসুমে এর চাষাবাদ বেশ কঠিন। কারণ বৈরী আবহাওয়ায় বেড়ে উঠতে হয়। তাই সঠিক সময়ে সার, বালাইনাশক প্রয়োগ ও অন্যান্য পরিচর্যা না করলে ক্ষতি হতে পারে।

 অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য
অসময়ে সবজি চাষে বদলে গেছে মালেকের ভাগ্য

কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাঝারি উঁচু জমিতে বৃষ্টি ও তাপ সহনশীল জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছে এলাকার অধিকাংশ কৃষক। তবে এ সময় চাষ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ অতিবৃষ্টি হলেই ফসল নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেলেন সাতক্ষীরার সোহরাব

স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেলেন সাতক্ষীরার সোহরাব
স্কোয়াশ চাষে সাফল্য পেলেন সাতক্ষীরার সোহরাব: ক্ষেত থেকে স্কোয়াশ তুলছেন সোহরাব।

ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের জন্য স্কোয়াশ খুবই উপকারী

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সেনেরগাতিতে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার সেনেরগাতির কৃষক সোহরাব হোসেন চলতি মৌসুমে ১০ শতক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে স্কোয়াশ চাষ করেছেন। বর্তমানে দেশের সুপার শপগুলোতে স্কোয়াশ পাওয়া যায়, তবে এর স্থানীয় বাজার মূল্যও ভাল। 

সোহরাব হোসেন জানান, স্কোয়াশ তিন থেকে সাড়ে তিন মাস মেয়াদী শীতকালীন সবজি। যা কুমড়ার চেয়ে সুস্বাধু। ফলনও খুব ভাল হয়। স্কোয়াশ আকারে লম্বাটে এবং ওজনে গড়ে দেড় থেকে দুই কেজি হয়।

তিনি আরও জানান, বেসরকারি সংস্থার উন্নয়ন প্রচেষ্টা থেকে বীজ সংগ্রহ করে তিনি স্কোয়াশ চাষ করেছেন। এতে রোগ-বালাই তুলনামূলক কম হলেও মাছি পোকার উপদ্রব আছে। যা ফেরেমন ফাঁদ ও হলুদ ফাঁদ ব্যবহার করে সহজেই দমন করা যায়। এছাড়া জৈব সার ব্যবহার করলে স্কোয়াশ ভাল হয়। চাষাবাদে সেচও দিতে হয় খুবই কম।

সোহরাব হোসেন বলেন, স্কোয়াশ দ্রুত বর্ধনশীল, যা সপ্তাহে দুই তিন বার বাজারে বিক্রি করা যায়। সবজিটির পাইকারি দাম ৩০ টাকা কেজি, তবে এটি খুচরা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি।

স্কোয়াশের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন প্রচেষ্টার কৃষিবিদ নয়ন হোসেন বলেন, স্কোয়াশ সাধারণ কুমড়ার মতো সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ কুমড়ার চেয়ে অনেক বেশি।

তিনি বলেন, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধে ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করেডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। স্কোয়াশে একই সাথে রয়েছে ভিটামিন এ, সি, ই ও ভিটামিন বি-৬ এবং নায়াসিন, থায়ামিন, প্যানথোটোমিন এসিড ও ফলিড। এছাড়া স্কোয়াশ ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, খনিজ, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ক্যারোটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানে ভরপুর। নিয়মিত স্কোয়াশ খেলে ফ্রি রেডিকেলসের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করা সম্ভব।  

তিনি আরও জানান, স্কোয়াশ শরীরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও বিটা ক্যারোটিন সরবরাহ করে। যা আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। এটি হাড় গঠন, হাড়ের শক্তি ও ঘনত্ব বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়া হাইপার টেনশনের রোগীদের জন্য স্কোয়াশ খুবই ভালো। কারণ স্কোয়াশ রক্ত চাপকে কমিয়ে দিতে সাহায্য করে।

তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, “বর্তমানে অনেকেই বাড়ির ছাদে, ফুলের টবে সবজি কিংবা ফল গাছ লাগান। সে ক্ষেত্রে ছাদ, ফুলের টব বা পতিত জায়গায় স্কোয়াশও লাগাতে পারেন। কারণ এতে জায়গা খুবই কম লাগে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির যত্ন নিন

জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির যত্ন নিন
জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির যত্ন নিন

জ্যৈষ্ঠ মাসে শাক-সবজির বিশেষ যত্ন নিতে হয়। এ সময় বৈরী আবহাওয়া শাক-সবজির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির পরিচর্যা সতর্কতার সঙ্গে করতে হয়। টাটকা ও সতেজ শাক-সবজি পেতে জেনে নিন যত্নের নিয়ম-

১. মাঠ বা বাড়ির আঙিনায় গ্রীষ্মকালীন শাক-সবজির পরিচর্যা সতর্কতার সঙ্গে করতে হবে। এ সময় সারের উপরি প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কার, গোড়ায় বা কেলিতে মাটি তুলে দেওয়া, লতা জাতীয় সবজির জন্য বাউনি বা মাচার ব্যবস্থা করা খুব জরুরি।

২. লতানো সবজির দৈহিক বৃদ্ধি যত বেশি হবে, তার ফুল-ফল ধারণ ক্ষমতা তত কমে যায়। সেজন্য বেশি বৃদ্ধি সমৃদ্ধ লতার বা গাছের ১৫-২০ শতাংশের লতা-পাতা কেটে দিলে তাড়াতাড়ি ফুল ও ফল ধরবে।

৩. কুমড়া জাতীয় সবজিতে হাত পরাগায়ন বা কৃত্রিম পরাগায়ন বেশি ফলনে দারুণভাবে সহায়তা করবে। গাছে ফুল ধরা শুরু হলে প্রতিদিন ভোরবেলা হাত পরাগায়ন নিশ্চিত করলে ফলন অনেক বেড়ে যাবে।

৪. এ মাসে কুমড়া জাতীয় ফসলে মাছি পোকা দারুণভাবে ক্ষতি করে থাকে। এক্ষেত্রে জমিতে খুঁটি বসিয়ে খুঁটির মাথায় বিষটোপ ফাঁদ দিলে বেশ উপকার হয়। এছাড়া সেক্স ফেরোমন ব্যবহার করেও এ পোকার আক্রমণ রোধ করা যায়।

৫. সবজিতে ফল ছিদ্রকারী পোকা, জাব পোকা, বিভিন্ন বিটল পোকা সবুজ পাতা খেয়ে ফেলতে পারে। হাত বাছাই, পোকা ধরার ফাঁদ, ছাই ব্যবহার করে এসব পোকা দমন করা যায়। তাছাড়া আক্রান্ত অংশ কেটে ফেলে এবং সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশক ব্যবহার করতে হবে।

৬. মাটির জো বুঝে প্রয়োজনে হালকা সেচ দিতে হবে। সেই সঙ্গে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা সতর্কতার সঙ্গে অনুসরণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

বরবটি আমিষ সমৃদ্ধ একটি সবজি। প্রায় সারা বছরই এটি ফলে। তাই একে বারোমাসি সবজিও বলা যায়। তবে গ্রীষ্মকালে এর ফলন ভালো হয়। খুব শীতে ফলন ভালো হয় না। আসুন জেনে নেই বরবটি চাষের নিয়ম-কানুন।

মাটি
দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি বরবটি চাষের জন্য উপযোগী।

জাত
কেগরনাটকীই অনেকদিন পর্যন্ত বরবটির একটি উন্নত জাত হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। এখন অবশ্য বেশ কয়েকটি জাত চলে এসেছে। লালবেণী, তকি, ১০৭০, বনলতা, ঘৃতসুন্দরী, গ্রীন লং, গ্রীন ফলস এফ-১, সামুরাই এফ-১ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জাত।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

চাষের সময়
কেগরনাটকী জাতটি পৌষ-মাঘ মাস ছাড়া সারা বছরই চাষ করা যায়। মধ্য মাঘ থেকে মধ্য আশ্বিনে চাষ করা যায় ঘৃতসুন্দরী ও গ্রীন লং। মধ্য ফাল্গুন থেকে মধ্য আশ্বিন পর্যন্ত চাষ করা যায় ১০৭০ জাতটি। উল্লেখিত জাতগুলোর মধ্যে কেগরনাটকী ও লালবেণী জাতের ফলন সবচেয়ে বেশি। তবে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সাধারণত বীজ বপন করা হয়। তাছাড়া আশ্বিন-অগ্রহায়ণ মাসেও বীজ বপন করা হয়। অন্যান্য সময়ও বোনা যেতে পারে।

বীজের পরিমাণ
প্রতি শতকে ১০০-১২৫ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ৮-১০ কেজি।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

জমি তৈরি
৪-৫টি চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে জমি তৈরি করতে হয়।

সারের মাত্রা
ইউরিয়া প্রতি শতকে ১০০ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ২৫০ কেজি। টিএসপি প্রতি শতকে ৯০ গ্রাম এবং প্রতি হেক্টরে ২২৫ কেজি। এমওপি প্রতি শতকে ৭৫ গ্রাম ও প্রতি হেক্টরে ১৮৫ কেজি। গোবর প্রতি শতকে ২০ কেজি এবং প্রতি হেক্টরে ৫ টন।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

সার প্রয়োগ পদ্ধতি
গোবর, টিএসপি সম্পূর্ণ পরিমাণ ও অর্ধেক এমওপি সার শেষ চাষের সময় জমিতে প্রয়োগ করতে হয়। পরে বীজ বোনার ২০ দিন পর ১০০ গ্রাম ইউরিয়া ও বাকি অর্ধেক এমওপি সার জমিতে উপরি প্রয়োগ করতে হয়।

বীজ বোনা
২ মিটার দূরত্বে সারি করে ২৫-৩০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে বীজ বুনতে হয়। জাত হিসেবে সারির দূরত্ব ১ মিটার বাড়ানো বা কমানো যায়।

বারোমাসই চাষ করুন বরবটি
বারোমাসই চাষ করুন বরবটি

পরিচর্যা
চারা বড় হলে মাচা বা বাউনি দিতে হবে। জমিতে পানির যাতে অভাব না হয় সেজন্য প্রয়োজন অনুসারে সবসময় সেচ দিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। পোকামাকড় ও রোগ ব্যবস্থাপনা অন্যান্য সবজির মতোই। জাব পোকা, ফল ছিদ্রকারী পোকা ও মোজেইক রোগ বরবটি চাষের বড় সমস্যা।

সংগ্রহ ও ফলন
বীজ বোনার ৫০-৬০ দিন পর থেকেই বরবটি সংগ্রহ করা যায়। এতে শতক প্রতি ফলন ৩০-৬০ কেজি এবং হেক্টর প্রতি ১০-১২ টন হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com