আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

কফি সংকট যেভাবে আপনার ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে

কফি সংকট যেভাবে আপনার ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে

২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী কফি কাপের দাম না কমলেও, বিশ্বের অনেক স্থানে চাষিরা কফি চাষ বন্ধ করে অন্য ফসল চাষ শুরু করেছেন, ভিন্ন চাকরি খুঁজছেন বা অন্য কোন দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন।

বিশ্বের কফি খাত একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে কফির দাম।

এর কারণ হচ্ছে, ব্রাজিলের দুই বছরের অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন। সেগুলো বাজারে আসার কারণে কফির দাম পড়ে গেছে আর তার ফলে মধ্য আমেরিকা আর আফ্রিকার অনেক দেশের চাষিরা তাদের কফি বিন কম দামে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।

যদিও গ্রাহক পর্যায়ে কফির দামে সেই পার্থক্য এখনো দেখা যাচ্ছে না।

কফির ওপর এই সংকট কীভাবে পর্যায়ক্রমে সবার ওপর ভূমিকা রাখে, এখানে সেটি আলোচনা করা যাক।

ইথিওপিয়ার একটি খামারে বুনো কফি শুকানো হচ্ছে
ইথিওপিয়ার একটি খামারে বুনো কফি শুকানো হচ্ছে

কফি চাষিদের ক্ষেত্রে

সারা বিশ্বে দুই কোটি ১০ লাখ মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে কফির ওপরে। চাষিরা সাধারণত বছরে একটি ফসল তোলেন। ফলে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে কফির রেকর্ড দরপতন অনেককে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গত অক্টোবরে, যুক্তরাষ্ট্রমুখী অভিবাসী দলের সঙ্গে আসা মধ্য আমেরিকার একজন চাষি বিবিসিকে জানিয়েছিলেন, কফির দরপতনের কারণে তারা চাষাবাদ ছেড়ে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়ার জন্য রওনা হয়েছেন।

গত ১০ বছরে গুয়াতেমালা, নিকারাগুয়া, এল সালভাদর এবং মেক্সিকোর ৬০ শতাংশ কফি চাষি খাবারের নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পড়েছেন বলে স্পেশিয়ালি কফি এসোসিয়েশনকে জানিয়েছেন।

কলম্বিয়ার একটি সড়কে কফি পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় চাষি
কলম্বিয়ার একটি সড়কে কফি পরিবহন করে নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় চাষি

আমেরিকান কফি অর্গানাইজেশনের নির্বাহী পরিচালক (আইসিও) হোসে সেত্তে বলছেন, ”কৃষকরা যদি আজ নিরুৎসাহিত হয়ে পড়ে, সেটা ভবিষ্যতের জন্য খুব খারাপ হবে। কারণ প্রতিবছর কফির চাহিদা ২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।”

তিনি বলছেন, বিশ্বে কফি খাত থেকে বছরে ২০০ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হলেও, তার মাত্র ২০ বিলিয়ন ডলার যাচ্ছে উৎপাদনকারী দেশগুলোয়। তারও মাত্র ১০ শতাংশ যাচ্ছে কফি উৎপাদনকারীদের কাছে।

আফ্রিকার দেশগুলোয় যেখানে এই কফি চাষিরা মূলত ছোট খামারে চাষ করেন, তাদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো মারাত্মক।

ইন্টার-আফ্রিকান কফি অর্গানাইজেশনের মহাসচিব ফ্রেড কায়ুমা বলছেন, ”আফ্রিকার একজন কৃষক তার জমি থেকে যতটুকু কফি পান, তা ভারতীয় অথবা ভিয়েতনামের কফি চাষিদের তুলনায় অনেক কম।”

এর মানে হলো যখন কফির দাম পড়ে যায়, তখন এই সামান্য লাভের কৃষকরা আরো বিপদে পড়ে যান।

তিনি বলছেন, তার সংস্থা দেখতে পেয়েছে যে, অনেক কফি চাষি কফি চাষ করা ছেড়ে দিয়ে অন্য লাভজনক ফসল চাষ করতে শুরু করেছেন।

চাক জোনসের আত্মীয়রা গুয়াতেমালা থেকে কফি পাঠাতেন
চাক জোনসের আত্মীয়রা গুয়াতেমালা থেকে কফি পাঠাতেন

রেস্তোরা এবং ক্যাফের জন্য

ক্যালিফোর্নিয়ার প্যাসাডেনার একটি রেস্তোরা এবং ক্যাফের মালিক চাক জোনস, যিনি এই শিল্পের আগাগোড়া সবটা জানেন। তবে তার ক্যাফের অর্ধেকের বেশি বিন আসে গুয়াতেমালা থেকে, যেখানে তার এবং আত্মীয়স্বজনের কফির ক্ষেত আছে।

কিন্তু এই বছর জুলাই মাস শেষ হলে তার একজন আত্মীয় কফি চাষ ছেড়ে দেবেন।

”যিনি আমাকে কফি রপ্তানি করতেন, তিনি চাষাবাদের জন্য ঋণ নিয়েছিলেন, কিন্তু আর শোধ করতে পারেননি। তারা সেই খামারটি নিয়ে নিচ্ছেন। ”বলছেন মি. জোনস।

কলম্বিয়ায় অনেক চাষি ছোট ছোট ক্ষেতে কফি চাষ করেন
কলম্বিয়ায় অনেক চাষি ছোট ছোট ক্ষেতে কফি চাষ করেন

তিনি বলছেন, কফির মূল্যবৃদ্ধি এবং দরপতনের চক্রবৃদ্ধির কারণে তার এই আত্মীয়ের মতো অনেকেই হাল ছেড়ে দিচ্ছেন, কারণ এই চাষ থেকে তাদের পোষাচ্ছে না।

”একজন ক্রেতা হিসাবে আমি হয়তো ভিন্ন কোন উৎস খুঁজে নিতে পারবো, কিন্তু আমার এই আত্মীয়ের মতো চাষিরা তাদের আয়ের উৎস হারাচ্ছে।” তিনি বলছেন।

মি. জোনস বলছেন, কফি শিল্পের খুচরা ব্যবসায়ীদের উচিত কফির জন্য আরো দাম দেয়া।

তবে তিনি এটাও বলছেন, কফি কিনে এনে, তার সঙ্গে গুদামের খরচ, পারিশ্রমিক, মেশিন ও বিনিয়োগ যোগ করে খুব একটা লাভ তারাও করছেন না। ফলে এই চেইনের কোন পরিবর্তন হবে বলে তার মনে হয় না।

লন্ডন কফি ফেস্টিভ্যালে কফির ওপর ছবি আঁকছেন একজন শিল্পী
লন্ডন কফি ফেস্টিভ্যালে কফির ওপর ছবি আঁকছেন একজন শিল্পী

ক্রেতাদের জন্য

আইসিও কর্মকর্তা মি. সেত্তে বলেছেন, খুচরা ক্রেতাদের কাছে যখন কফি বিক্রি হয়, তখন সেটা আসলে আসল উৎপাদনকারীদের সঙ্গে খুব এটা মিল রেখে হয় না।

”উৎপাদনকারীদের কাছে হয়তো ক্রেতার এই দামের ১-২ শতাংশ যাচ্ছে, কিন্তু ক্রেতা যখন কিনছেন, তখন কফির পাশাপাশি শ্রম, ভাড়া, বাজারজাতকরণ মিলে দামটা নির্ধারিত হচ্ছে” বলছেন মি. সেত্তে।

তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তার দোকানে ৪ ডলার মূল্যে এককাপ কফি বিক্রি হয়। সেখান কফির দাম মাত্র ১০ শতাংশ, বাকিটা হলো অর্গানিক দুধ, পারিশ্রমিক, কাপ, ভাড়া, দোকানের আসবাব ইত্যাদি।

সমাধানের পথ কি?

কফি খাতের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা ছোট ছোট উৎপাদনকারীদের অন্যান্য খাতের রাজস্বের অংশ দেয়া, ঝুঁকি নির্ণয় করা, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাওয়ানো, উৎপাদন চেইনের সঙ্গে পরিচিত করানোর মতো নানা উদ্যোগ নিয়েছে।

”সেই সঙ্গে কফি উৎপাদনকারী দেশগুলোয় কফি খাওয়ার হার বাড়াতে হবে, সেটা এখনো অনেক কম আছে” বলছেন মি. সেত্তে।

এর একটা উদাহরণ হতে পারে থিংক কফি এবং ইন্টেলিজেন্টাসিয়ার মতো কোম্পানিগুলো, যারা ধনী বিক্রেতাদের পরিবর্তে ছোট এবং ঝুঁকিতে থাকা কফি উৎপাদকদের কাছ থেকে সরাসরি কফি কিনছে। ফলে এই উৎপাদকরা ভালো দাম পাচ্ছে এবং তাদের জীবন মান উন্নত হচ্ছে।

আইসিও কর্মকর্তা মি. সেত্তে বলছেন, ”আমরা যদি আজই এই বিষয়ে মনোযোগ না দেই, তাহলে হয়তো ভবিষ্যতে আমরা পর্যাপ্ত কফির আর দেখা পাবো না।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

মন্তব্য এর উত্তর দিন

ফসল

পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত, সংসদে জানালেন কৃষিমন্ত্রী

পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত, সংসদে জানালেন কৃষিমন্ত্রী
পেঁয়াজ রফতানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত, সংসদে জানালেন কৃষিমন্ত্রী

পেঁয়াজের দাম এই মুহূর্তে বেশি। ভারত ইতিমধ্যেই পেঁয়াজ রফতানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, কাজেই পেঁয়াজের দাম কমবে। ১১০ টাকা কেজি পেঁয়াজের দাম থাকবে না বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বৃহস্পতিবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরিন আখতারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী সংসদকে একথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখন পেঁয়াজের মৌসুম। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে এবং অন্যান্য দেশ থেকেও এসময় পেঁয়াজ আসবে। কোনো ক্রমেই পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা কেজি থাকবে না। এটা অবশ্যই কমে আসবে। আমরা পেঁয়াজের ওপর যথেষ্ট গবেষণা করেছি এবং বিজ্ঞানীরা অনেক উন্নতমানের জাত আবিষ্কার করেছে এবং এখন হেক্টরে ২০, ২৫, ৩০ টন পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব।

এলাচির দাম প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মসলা নিয়ে অনেক গবেষণা করেছি। বগুড়াতে একটা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা কাজ করছে। প্রকৃতির কারণে সব মসলা বাংলাদেশে হয় না। অনেক মসলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যেগুলো আমাদের দেশে হয় সেগুলো তো উৎপাদন করছি এবং সরকার এই জাতীয় মসলা যারা আবাদ করবে তাদেরকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে কৃষককে প্রণোদনা দেয় বা ঋণ দেয়। কৃষকরা যদি মসলা, পেঁয়াজ উৎপাদন করে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে লোন নিতে পারবে।

তিনি বলেন, এলাচির দাম আন্তর্জাতিক বাজারেই বেশি। তাছাড়া সবজির দাম এবার তুলনামূলকভাবে বেশি। এনিয়ে উভয় সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, একদিকে সবজি আবাদ করতে যে খরচ হয়, সে অনুযায়ী কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আবার যেটা অস্বাভাবিক সেটাও গ্রহণযোগ্য না। আমরা এমন একটা জায়গায় আছি আমাদের জন্য উভয় সংকট। দাম বেশি হলেও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয় আবার একদম কমে গেলে চাষিরা ফসল বিক্রি করে তার সংসার অন্যান্য খরচ চালাতে পারে না। দামটা অবশ্যই সহনশীল পর্যায়ে থাকতে হবে। তবে মানতে হবে সবজি এবং বিভিন্ন পরিবহনে খরচ অত্যাধিক।

আয়েন উদ্দিনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বৃদ্ধি থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে আগামীতে পেঁয়াজ নিয়ে কোনো সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। যদি আমদানি করতেই হয়, তবে আগে থেকেই আমদানির ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজ উৎপাদন করে ন্যায্যমূল্য পায় তার জন্য স্থানীয়ভাবে পেঁয়াজ সংরক্ষণের নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, দেশে ২৩ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, কিন্তু চাহিদা রয়েছে ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। গত মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে জমিতেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে অধিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়, আমরা বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। সরকার দ্রুত চীন, মিশরসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, পেঁয়াজের বিষয়টি সরকার এবার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নানা প্রণোদনা প্রদানের কারণে অতীতের তুলনায় এবার অধিকহারে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। এক্ষেত্রে আমরা আমদানি বন্ধ করে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে পায় সে ব্যবস্থা করবো। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল। ভরা মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজ খুব অল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে পেঁয়াজ উৎপাদনে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। আগামীতে এটা যেন না হয় সে ব্যাপারে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দিগন্তজুড়ে হলুদ সমুদ্র

দৃষ্টিসীমায় কেবলই হলুদ সমুদ্র
দৃষ্টিসীমায় কেবলই হলুদ সমুদ্র

শীতের মৃদু বাতাসে হঠাৎ দুলে উঠছে সরিষা খেত। আর তাতেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধ যা সবার মন কেড়ে নিচ্ছে

তেলজাতীয় ফসল উৎপাদনের জন্য টাঙ্গাইলের বিশেষ সুনাম রয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সরিষা গাছে ইতোমধ্যে শোভা পাচ্ছে হলুদ সরিষা ফুল। তাই জেলা বিভিন্ন মাঠ কার্যত হলুদের সমুদ্রে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষকেরাও অতিরিক্ত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন।

সরেজমিনে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্রাম বাংলার সবুজের ফাঁকে ফাঁকে কেবল হলুদের সমাহার। মাঠের চারদিক হলুদে হলুদে পরিপূর্ণ। হলুদ সরিষা খেতে কখনো চোখে পড়ছে পোকাখাদক বুলবুলি ও শালিকের ঝাঁক। শীতের মৃদু বাতাসে হঠাৎ দুলে উঠছে সরিষা খেত। আর তাতেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে সরিষা ফুলের মিষ্টি গন্ধ যা সবার মন কেড়ে নিচ্ছে। 

এদিকে সরিষা খেতের এই শোভা আরও বাড়িয়ে তুলেছে অসংখ্য মৌমাছির দল। তারা কেবল ব্যস্ত গুনগুনিয়ে মধু আহরণে। গ্রামে মেঠোপথ ধরে সরিষা খেতের পাশ দিয়ে যাবার সময় এসব দৃশ্য দেখে সবারই চোখ জুড়িয়ে যাচ্ছে। এই সৈন্দর্যকে চোখে দেখতে দূর-দুরান্ত থেকে সৌখিন প্রকৃতি প্রেমিকেরা সরিষা খেতে বেড়াতেও আসছেন। অনেকে আবার সরিষা ফুলের সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে ক্যামেরা ও ভিডিও’র মাধ্যমে নিজের ছবিধারণ করছেন সরিষা ফুলের সাথে।

সরিষার মিষ্টি গন্ধে মৌমাত গ্রাম
সরিষার মিষ্টি গন্ধে মৌমাত গ্রাম

কৃষকেরা জানান, ভালো ফুল ফুটেছে বলে ভালো ফলনও আশা করা যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলন হবে। আমন ধান ওঠার পর বোরো ধান লাগানোর আগ পর্যন্ত জমি ফাঁকা থাকে। তাই শাক-সবজির পাশাপাশি সরিষার আবাদ করে থাকেন তারা। প্রতি বিঘা জমিতে সব মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৩ হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে প্রায় ৬ মণ সরিষা উৎপাদন হয়।

কৃষক সামাদ বলেন, এবার আমি প্রায় ২ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। এ আবাদে সেচ, সার ও কীটনাশক অনেক কম লাগায় খরচও কম হয়। সরিষা চাষ করে মানুষ শুধু তেল তৈরি করে না। এই সরিষা ভাঙিয়ে খৈল ও গাছ থেকে ভূষি তৈরি হয়। যা গরুর ভালো খাদ্য এবং ভালো জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলায় বারি ১৪, ১৭, বিনা ৯, টরি ৭, সম্পদ, মাঘী ইত্যাদি জাতের সরিষা আবাদ করা হয়েছে। জেলায় এ বছর সরিষা আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৭শ’ হেক্টর জমিতে। গত বছর ৩৯ হাজার ৫শ’ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। 

প্রকৃতিপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন হলুদের টানে
প্রকৃতিপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে আসছেন হলুদের টানে

টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিধপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ২ হাজার হেক্টের জমিতে সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার টাঙ্গাইল জেলায় সরিষার ভালো ফলন হবে। সরিষায় কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি। সরিষা চাষে ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। অল্প খরচ করে ৭০ থেকে ৮৫ দিনের মধ্যে সরিষার ফলন পাওয়া যায়।” 

তিনি আরও বলেন, “জেলায় এবার সরিষার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার মৌ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে মৌচাষিরা চাষিরা মৌ বক্স স্থাপন করেছে। এ সব বক্স থেকে দেড়শ’ টন মধু সংগ্রহ করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মৌমাছি থাকার ফলে সরিষার ২০ ভাগ পরাগায়ন বেড়ে যাবে। এতে কৃষকেরা বাড়তি ফলনও পাবে। সরিষা চাষে উৎসাহ দিতে চলতি বছর ১১ হাজার কৃষককে প্রত্যেককে ১ বিঘা জমির জন্য সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

পেঁয়াজ কি সবজি নাকি মশলা এবং আরো ৮ টি তথ্য

পেঁয়াজ কি সবজি নাকি মশলা এবং আরো ৮ টি তথ্য
পেঁয়াজ কি সবজি নাকি মশলা এবং আরো ৮ টি তথ্য

পেঁয়াজ নেই, এমন কোন রান্না ঘর হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কারণ কোন রান্না শুরু করার আগে, কড়াইতে তেল দেয়ার পরপরই সাধারণত: যে উপাদানটি ব্যবহার করা হয় সেটি পেঁয়াজ।

শুধু অন্য রান্নার অনুষঙ্গ নয়, কাঁচা খেতেও পেয়াজ বেশ সুস্বাদু। এছাড়া সরাসরি কাঁচা পেঁয়াজ, ভর্তা, আচার এবং সালাদ হিসেবেও পেঁয়াজের কদর কম নয়।

পেঁয়াজের রয়েছে বেশ কিছু স্বাস্থ্যগুণও। সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ তো বটেই বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চাহিদা রয়েছে পেঁয়াজের।

তবে, বেশ কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজারে ঝাঁজ বাড়ছে।

রবিবার, ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের রপ্তানি নীতি সংশোধন করে পেঁয়াজ রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর বাংলাদেশের বাজারে ঘণ্টার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পেয়াজের দাম।

পেঁয়াজ আসলে কী?

পেঁয়াজ আসলে কোন সবজি নয়। এটি আসলে একটি মশলা জাতীয় উদ্ভিদ।

এর বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা।

এই বর্গের অন্যান্য উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে রসুন, শ্যালট, লিক, চাইব এবং চীনা পেঁয়াজ।

রসুনের মতোই এর গোত্র হচ্ছে লিলি।

পেঁয়াজ কোথায় উৎপন্ন হয়?

এটি এমন একটি উদ্ভিদ যা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই উৎপাদিত হয়। তবে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপাদিত হয় ভারত এবং চীনে।

শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের শিক্ষক এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘সেসব দেশগুলোতেই প্রধানত পেঁয়াজ হয় যেখানে বেশি বৃষ্টি হয় না। পাশাপাশি হাল্কা শীত থাকে। সেজন্যই বাংলাদেশে পেঁয়াজ হয় শীতকালে। সেসময় দামও কম থাকে’।

বাংলাদেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ
বাংলাদেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ

বাংলাদেশে কী ধরণের পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়?

বাংলাদেশে যে সব এলাকায় শীত বেশি থাকে সেসব এলাকায় পেঁয়াজ বেশি জন্মায়।

মি. জামাল উদ্দিন বলেন, “বাংলাদেশ এলিয়াম সেপা বা পেঁয়াজ যা মূলত একটি বাল্ব সেটাই উৎপাদিত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের পেঁয়াজ তেমন বড় হয় না”।

আকারে বড় না হলেও বাংলাদেশের পেঁয়াজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ঝাঁজালো বেশি হয়। কারণ এতে এলিসিনের মাত্রাটা বেশি থাকে। যা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

এর জন্য আমাদের রান্নাটাও অনেক বেশি মজা হয়।

হর্টিকালচারের অধ্যাপক মি. জামাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকায় সারা বছর পেয়াজ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর জন্য বৃষ্টি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পলি-টানেল বা গ্রিন হাউজ তৈরি করে পেঁয়াজ উৎপাদনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

পেঁয়াজের খাদ্যগুণ কী কী?

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম বলেন, পেঁয়াজ আসলে মশলা জাতীয় খাবার। এর মূল উপাদান পানি, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার।

পেঁয়াজের খাদ্যগুণ
পেঁয়াজের খাদ্যগুণ

তবে পেঁয়াজে পানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি-প্রায় ৮৫%। এছাড়াও পুষ্টিগুণ বলতে গেলে, ভিটামিন সি, বি এবং পটাসিয়াম থাকে।

তিনি বলেন, “পেঁয়াজের খোসা ছাড়ালে যে গাঢ় বেগুনি রঙের একটি আস্তরণ পাওয়া যায় এতে বেশি পরিমাণে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ নিবারণ করে এমন উপাদানও রয়েছে পেঁয়াজে। এটি হাড়েরও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে”।

মি. জামাল উদ্দিন বলেন, শরীরে পটাসিয়াম এবং মিনারেল বা খনিজের চাহিদা পূরণের একটি ভালো উৎস পেয়াজ। এই উপাদানগুলোই পেয়াজে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে।

ডায়েটারি ফাইবার থাকে অনেক বেশি যা প্রায় ১২%। পেয়াজে মধ্যে কোন ফ্যাট নাই।

এছাড়া পেঁয়াজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি এবং আয়রন পাওয়া যায়।

রান্নায় পেঁয়াজ কী স্বাদ যোগ করে?

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম , “পেয়াজ যেহেতু সালফার উপাদান থাকে তাই এটি রান্নায় এক ধরণের ঝাঁজালো স্বাদ যোগ করে”।

তবে নিজস্ব স্বাদ যোগ করার ছাড়াও রান্নায় পেঁয়াজের সব চেয়ে বড় কাজ হচ্ছে, রান্নার অন্যান্য উপকরণের স্বাদ অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, “পেয়াজ তিতা, টক, মিষ্টি বা ঝাল এমন ধরণের কোন স্বাদ যোগ করে না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট থাকায় পেয়াজ খাবারের যেকোনো স্বাদকে অনেক বেশি তীব্র করে”।

বেশিক্ষণ রান্না করলে পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন নষ্ট হলেও অন্য উপাদানগুলো ঠিক থাকে।
বেশিক্ষণ রান্না করলে পেঁয়াজে থাকা ভিটামিন নষ্ট হলেও অন্য উপাদানগুলো ঠিক থাকে।

পেঁয়াজ দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে খাদ্যগুণ কি নষ্ট হয়ে যায়?

পেঁয়াজে নানা ধরণের ভিটামিন ও প্রাকৃতিক তেল থাকে যা রান্নার পর নষ্ট হয়ে যায় বলে ধারণা করা হয়।

তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, পেয়াজে ভোলাটাইল কিছু উপাদান রয়েছে যেগুলো নাকে-মুখে লাগে সেগুলো হয়তো নষ্ট হয়। কিন্তু পেঁয়াজের অন্য উপাদানগুলো নষ্ট হয় না।

খোলা রান্না করলে বা কেটে খোলা রাখলে পেয়াজের খাদ্যগুণ নষ্ট হয় না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট কমে আসে। রান্নার পর খোলা অবস্থায় রাখলে কোন সমস্যা হয় না।

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম বলেন, “বেশিক্ষণ ধরে রান্না করা হলে ভিটামিন ও পটাসিয়াম কমে আসতে পারে। এছাড়া বাকি সব খাদ্য উপাদান নষ্ট হয় না”।

তবে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে খাদ্যগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মধ্যম তাপমাত্রায় পেঁয়াজ রান্না করার পরামর্শ দেন তাসনীম চৌধুরী।

পেঁয়াজের গুনাগুণ পেতে হলে কাঁচা পেয়াজে খাওয়ার অভ্যাস বেশি করতে হবে বলেও জানান তিনি।

পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?

পেঁয়াজ কেটেছেন কিন্তু চোখে পানি আসেনি এমনও কাউকে খুঁজে পাওয়া বেশ দুরূহ।

পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন
পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন

কৃষিবিদ মি. জামাল উদ্দিন বলেন, “পেঁয়াজের ভলাটাইল কম্পাউন্ড যা এলিসিন নামে পরিচিত, এটি পেঁয়াজের ঝাঁঝের জন্য দায়ী। আর কাটার সময় এটি চোখে লাগে বলেই চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং পানি পড়ে”।

তিনি বলেন, জাপান বা অন্য দেশে পেঁয়াজ বড় মাপের হয় এবং সেগুলোতে এলিসিনের মাত্রা কম থাকার কারণে সেখানে পেঁয়াজ কাটলে চোখ জ্বলে না।

এসব দেশে পেয়াজ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁচা খাওয়া হয় সবজি হিসেবে।

পেঁয়াজের ঔষধি গুণ কী?

বিবিসি গুড ফুড তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ঐতিহাসিকভাবে পেঁয়াজের রয়েছে ঔষধি ব্যবহার। প্রাচীন আমলে কলেরা এবং প্লেগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো পেঁয়াজ।

রোমান সম্রাট নিরো ঠাণ্ডার ওষুধ হিসেবে পেঁয়াজ খেতেন বলেও শ্রুতি রয়েছে।

বাংলাদেশে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মি. জামাল উদ্দিন বলেন, পেঁয়াজে থাকা এলিসিন নামের উপাদান অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে।

অনেক সময় এটি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখা, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের ব্যবহার দেখা যায়।

তিনি বলেন, পেঁয়াজ কাঁচা খেলে সর্দি-কাশি খুব কম পরিমাণে হয়। এটা মানুষের শরীরকে রোগ-প্রতিরোধক হিসেবে হিসেবে করে।

পেঁয়াজের রয়েছে নানা ধরণের ঔষধি গুণ
পেঁয়াজের রয়েছে নানা ধরণের ঔষধি গুণ

পেঁয়াজের গন্ধ দূর করবেন কীভাবে?

অনেক সময় পেঁয়াজ কাটলে বা কাঁচা পেঁয়াজ খেলে হাতে এবং নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়। এর জন্য অনেক সময়ই পেঁয়াজকে এড়িয়ে চলি আমরা।

তবে কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলেই পেঁয়াজের এই দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

হাতে গন্ধ হলে পেঁয়াজ কাটার পর প্রথমে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। তার পর লবণ দিয়ে হাত কচলে আবার ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার সাবান এবং গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিলে থাকবে না কোন গন্ধ।

নিঃশ্বাসের গন্ধ দূর করতে হলে ধনিয়াপাতা বা একটি আপেল খেয়ে নিলে দূর হবে তাও।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

আখে লাভ, বাড়ছে চাষ

আখে লাভ, বাড়ছে চাষ
আখে লাভ, বাড়ছে চাষ: ফটিকছড়িতে আখখেত পরিচর্যায় ব্যস্ত এক চাষি।

ফটিকছড়ির কুম্ভারপাড়ার চাষি রবিউল আলম। এই মৌসুমে করতেন আমন চাষ। তাতে খরচ উঠলেও লাভের মুখ দেখছিলেন না। তিন বছর ধরে আমন ছেড়ে আখ চাষ করছেন নিজের ৮০ শতক জমিতে। এখন খরচ বাদ দিয়ে এক মৌসুমেই ৩০ হাজার টাকার বেশি লাভ হচ্ছে তাঁর। 

লাভ ভালো হওয়ায় রবিউলের মতো আরও অনেক চাষি এখন আখ চাষে ঝুঁকছেন। উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের হিসাবে, পুরো উপজেলায় এখন আখচাষি ১০০ জনের বেশি। পাঁচ বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল ২০ থেকে ৩০ জন।

চাষিরা জানান, উপজেলার কুম্ভারপাড়া বিলে প্রতিবছর আমনের চাষ করেন চাষিরা। কয়েক বছর ধরে ধানের দাম না পাওয়ায় তাঁরা বিকল্প ফসল আবাদের চিন্তা করেন। এরই মধ্যে কয়েক মৌসুম থেকে আখের চারা লাগিয়ে চাষ শুরু হয়। চাষের সাফল্য আসায় এখন রোসাংগিরি, সমিতিরহাট, সুয়াবিল, আবদুল্লাহপুর, লেলাং ও দৌলতপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে বাড়ছে আখের খেত।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩২ হেক্টর জমিতে আখের চাষ করা হয়েছে। এই হিসাবের বাইরে চাষ হয়েছে আরও ২০ হেক্টর জমিতে। যেখানে গত দুই বছর আগেও ছিল ১৮ হেক্টর আখের খেত। বছর বছর চাষ বাড়ায় কৃষকেরা খুশি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে কুম্ভারপাড়া বিলে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন আখ। চাষিরা খেতের এক পাশে চুরি ঠেকাতে পাহারা দিচ্ছেন। কেউ কেউ খেত থেকে আখ কেটে আঁটি করতে ব্যস্ত। খেতেই পাইকারেরা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

কথা হয় কুম্ভারপাড়া গ্রামের চাষি মুহাম্মদ আবদুল হালিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আশপাশের সব জায়গাতে আখের চাষ হয়েছে। অনেকেই খেত থেকে বিক্রি করছেন। আমিও ১৬ শতকে চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে।’

চাষি মুহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, ‘এবার আখের ফলন ভালো হয়েছে। আমি ৮০ শতকে চাষ করেছি। আমনে খরচ হতো ৫০ হাজার, আখেও একই খরচ। ৪০ হাজার টাকার আখ বর্তমানে বিক্রি করেছি, খেতের সব আখ বিক্রি করে আরও অন্তত ৪০ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। গত বছরও এ রকম লাভ হয়েছে।’

চাষিরা বলেন, প্রতি কানিতে (৪০ শতক) খরচ গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। প্রতি কানিতে আখের সংখ্যা হয় গড়ে এক হাজার। প্রতিটি আখের বর্তমান দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা। চাষিরা পরিপক্ব আখ তুলে খেতের পাশে জড়ো করছেন। ব্যবসায়ীরা খেত থেকেই আকার অনুযায়ী কিনে নিচ্ছেন।

কিনতে আসা বিবিরহাটের ব্যবসায়ী মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, খেত থেকে তোলা প্রতিটি আখ অনুমান করে দরদাম করা হয়। এরপর সেই আকারের আখ আলাদা করে গাড়িতে করে বাজারে নেওয়া হয়। বড় আকারের প্রতিটির ৬০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লিটন দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, উপজেলায় গত কয়েক বছরে কৃষকেরা আখ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। আখ চাষ ক্রমে বাড়ছে। তিনি বলেন, দক্ষতা, পরিচর্যা, সঠিকভাবে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে আখের ফলন ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ

চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ
চাল উৎপাদনে বাংলাদেশ চতুর্থ

গল্পটা পুরোনো। বলো তো, পৃথিবীজুড়ে কবে দুর্ভিক্ষ হবে। উত্তরটা সহজ, চীনের মানুষেরা যেদিন কাঠি ছেড়ে হাত দিয়ে ভাত খাবে। চীনে মানুষ বেশি, সম্ভবত এ জন্যই গল্পটার সৃষ্টি। তবে দেশটিতে মানুষ যেমন বেশি, চাল উৎপাদনও বেশি। বিশ্বে চীন সবচেয়ে চাল উৎপাদন করে। বছরের পর বছর ধরে স্থানটি তারা ধরে রেখেছে। তারা ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ৭৩ হাজার টন চাল উৎপাদন করে। 

চীনের পরেই আছে পাশের দেশ ভারত। ভারতও জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় অবস্থানে আছে, চাল উৎপাদনেও। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দেশটির চাল উৎপাদন ছিল ১১ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার টন। 

তালিকার পরের দেশটি জনসংখ্যাবহুল একটি দেশ, ইন্দোনেশিয়া। জনসংখ্যার দিক থেকে অবশ্য চীন ও ভারত থেকে অনেক পিছিয়ে, চাল উৎপাদনেও। ইন্দোনেশিয়ার মোট উৎপাদন ওই দুই দেশের তুলনায় কম, ৩ কোটি ৭০ লাখ টন। 

এরপরেই আছে বাংলাদেশ, উৎপাদন ৩ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টন। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের চতুর্থ চাল উৎপাদনকারী দেশ। দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর দেশে যে চাল উৎপাদন হতো, এখন তার চেয়ে তিন গুণ বেশি উৎপাদন হয়। চাল উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে বাংলাদেশ। দেখা গেছে, দেশের উৎপাদিত চালের ৫৫ ভাগই আসে বোরো ধান থেকে, বাকিটা আসে আউশ ও আমন থেকে। এখানে বছরে একই জমিতে তিনবার ধান উৎপাদন করা হয়। হাওর এলাকাতেও এখন চাল উৎপাদন হচ্ছে। 

চাল উৎপাদনের শীর্ষ ১০-এর বাকি দেশগুলো হচ্ছে ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, ব্রাজিল ও জাপান।

চাল উৎপাদনে শীর্ষ ১০ দেশ (২০১৭–১৮) হাজার মেট্রিক টন

চীন ১৪৮,৮৭৩

ভারত ১১২,৯১০

ইন্দোনেশিয়া ৩৭,০০০

বাংলাদেশ ৩২,৬৫০

ভিয়েতনাম ২৮,৪৭১

থাইল্যান্ড ২০,৩৭০

মিয়ানমার ১৩,২০০

ফিলিপাইন ১২,২৩৫

ব্রাজিল ৮,২০৪

জাপান ৭,৭৮৭

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০১৯
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com