আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফসল

কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল

কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল
কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কফি একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নাস্তার টেবিলে পানীয় হিসেবে কফির জুড়ি নেই। কফিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে। যা আমাদের দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ ঠেকাতে সাহায্য করে। তবে আজ জেনে নেব কফির প্রথম আবিষ্কার কে? বিস্তারিত জানাচ্ছেন সাইফুর রহমান তুহিন-

ইতিহাস থেকে জানা যায়, আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণ ইথিওপিয়ার কাফা অঞ্চলের খালিদ নামের এক আরব বাসিন্দা ছাগল চরানোর সময় খেয়াল করেন যে, জামের মতো এক ধরনের ফল খাওয়ার পর প্রাণীগুলোকে অনেক সতেজ দেখাচ্ছে। খালিদ ওই ফলগুলোকে সেদ্ধ করে সর্বপ্রথম কফি তৈরি করেন।

কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল
কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল

এরপরই কফি নামক এই পানীয় ইথিওপিয়া থেকে ইয়েমেনে রফতানি করা হয়। সেখানে সুফী-সাধকরা বিশেষ উপলক্ষে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী করার জন্য এটি পান করেন।

পঞ্চদশ শতাব্দীর শেষদিকে কফি পৌঁছে যায় মক্কা ও তুরস্কে। যেখান থেকে ১৬৪৫ সালে এটি যায় ইতালির ভেনিস নগরীতে। ১৬৫০ সালে পাস্ক রোসী নামের এক তুর্কীর হাত ধরে এটি ইংল্যান্ডে প্রবেশ করে। তিনি লন্ডন নগরীর লোম্বার্ড স্ট্রিটে সর্বপ্রথম কফির দোকান দেন।

কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল
কফি আবিষ্কার করেছিলেন এক মুসলিম রাখাল

এরপরই বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রসার লাভ করে পানীয়টি। ফলে ইথিওপিয়াকে কফির জন্মস্থান মনে করা হয়। ইথিওপিয়ায় জন্ম নেওয়া কফি গাছ থেকে পাওয়া কফিকে বলা হয় ‘অ্যারাবিকা’।

ফসল

পঞ্চগড়ে বাড়ছে বাণিজ্যিকভাবে সুপারির চাষ

পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিকভাবে বাড়ছে সুপারি চাষ। উৎপাদিত সুপারি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পঞ্চগড় জেলার পাঁচটি উপজেলায় ৫৯৭ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় আকারের সুপারি বাগান রয়েছে। ২০১৭ সালে জেলায় সুপারি উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ৯৪০ মেট্রিক টন। ২০১৮ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৫৮২ মেট্রিক টন। এবার চলতি মৌসুমে সুপারি উৎপাদন গত বছরের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ। 

স্থানীয়রা বলেন, উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নে সুপারি অন্যতম উপকরণ। গৃহস্থের বাড়িতে অতিথি এসে খালি মুখে গেলে নাকি অমঙ্গল হয়। তাই পান-সুপারি থাকতেই হবে। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই প্রথা এখনো বিদ্যমান পঞ্চগড়ে। এক সময় এ জেলার কৃষকেরা নিজেদের প্রয়োজনে বাড়ির আশপাশের অল্প কিছু সুপারি গাছ লাগাতেন। এখন পাকা লাল রঙের সুপারি চাষ হচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে। 

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চৈত্র, বৈশাখ ও জ্যেষ্ঠ এই তিন মাস সুপারির মৌসুম। এ সময়ে একদিকে গাছে সুপারি পাকতে শুরু করে। অপর দিকে সুপারি গাছে নতুন করে ফুল ও ফল আসা শুরু হয়। বসতবাড়ির আশপাশে এবং উঁচু জমিতে চারা লাগানোর আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যেই ফল দিতে শুরু করে সুপারির গাছ। বছরে এক-দুবার গোবর সার আর পানির সেচ দেওয়া ছাড়া আর তেমন কোনো বাড়তি পরিচর্যা করা লাগে না। 

কৃষকেরা আরও বলেন, মৌসুমের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পঞ্চগড়ে এসে ব্যবসায়ীরা সুপারি কিনে নিয়ে যায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেউ কেউ আবার বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে সুপারি কিনে তা মাটিতে খাল করে পুতে রাখেন বা পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। পরে পানিতে পঁচানো ওই সুপারি শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে বিক্রি করেন প্রায় দেড়গুণ দামে। 

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে জেলার ছোট-বড় প্রায় সব বাজারেই চলছে সুপারি বেচা-কেনা। জেলার জালাসী বাজার, হাড়িভাসা হাট, টুনির হাট, ভাউলাগঞ্জ হাট, জগদল হাট, ফকিরগঞ্জ বাজার, ভজনপুর বাজার, ময়দানদিঘী বাজার, বোদা বাজারসহ বেশ কিছু বাজারে এখন চলছে পাকা লাল রঙের সুপারির জমজমাট কেনা-বেচা। 

কৃষি বিভাগ সুপারি উৎপাদন হিসাব মেট্রিক টন ধরে করলেও কৃষক সুপারির উৎপাদন ও বিক্রির হিোব করেন পন এবং কাহন ধরে। পঞ্চগড়ের বাজারগুলোতে সুপারি বিক্রি হয় পন হিসাবে। প্রতি বিশ হালি সুপারিতে এক পন হয়। প্রতি পনে ৮০টি সুপারি থকে। আর ১৬ পন সুপারিতে এক কাহন সুপারি হয়। মান ও আকার ভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে সুপারি। বর্তমানে প্রতি কাহন পাকা সুপারি বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ হাজার টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা টাকা পর্যন্ত। 

পঞ্চগড় জালাসী বাজারে সুপারি বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. রাজু রানা বলেন, এক বিঘা জমিতে সুপারির বাগান আছে। এই বাগানে বছরে একবার গোবর সার আর দুবার পানি সেচ দেন। এর বাইরে আর কোনো খরচ করতে হয় না। বাগান থেকে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৩৫ কাহন সুপারি পান। এবার বড় পাকা সুপারি ৩ হাজার ৭০০ টাকা কাহন দরে বিক্রি করেছেন। সুপারি বিক্রি করা এই টাকা অন্য ফসল আবাদের খরচ জোগায়। 

সুপারি ব্যবসায়ী বরিউল ইসলাম বলেন, পঞ্চগড়ের সুপারি কিনে তাঁরা ঢাকা, কুমিল্লা, সৈয়দপুর, বগুড়া, গাইবান্ধাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। পঞ্চগড়ের সুপারির মান ভালো হওয়ায় সারা দেশেই এর চাহিদা বেশি। বর্তমানে মান ভেদে প্রতি কাহন সুপারি আড়াই হাজার থেকে শুরু করে চার টাকা পর্যন্ত। প্রতি বস্তায় দুই কাহন করে সুপারি থাকে। কেনার পর থেকে বিক্রি করা পর্যন্ত পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বস্তায় আড়াই শ থেকে তিন শ টাকা লাভ হয়। 

পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবু হানিফ বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি এবং আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ কারণে এখানকার সুপারি আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ধানের বীজ রাখার নতুন পদ্ধতি, ‘ইরি কোকুন’

ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাই ‘ইরি কোকুন’। ৩ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়ায়। প্রথম আলো
ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাই ‘ইরি কোকুন’। ৩ আগস্ট খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়ায়। প্রথম আলো

বেশ বড় আকারের রাবারের একটি ব্যাগ। ওই ব্যাগের মুখ আটকে রাখলে তার মধ্যে কোনো আর্দ্রতা ঢুকতে পারে না। ফলে সবকিছুই থাকে সতেজ। ব্যাগটির মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ মণ ধান রাখা যায়। এটাকেই বলা হয় ‘ইরি কোকুন’।

ধানের বীজ সংরক্ষণের জন্য খুলনার ডুমুরিয়ার বারাতিয়া ও শরাফপুর গ্রামের কৃষকেরা এখন ওই ইরি কোকুনে ধান রাখা শুরু করেছেন। এর আগে কৃষকেরা ধান রাখতেন বস্তা বা গোলায়।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, ইরি কোকুন হলো বাংলাদেশে ব্যবহৃত বীজ সংরক্ষণে কৃষির সর্বশেষ প্রযুক্তি। আগে কৃষক মাটির তৈরি কলস, জালা বা কুলায় বীজ সংরক্ষণ করতেন। কখনো কখনো গোলায় বীজ রাখতেন। এতে বীজের মান ভালো থাকত না। পোকার আক্রমণও বেশি ছিল। পরে কৃষক বস্তা বা প্লাস্টিকের পাত্রে বীজ রাখা শুরু করেন। কিন্তু এতেও বীজের মান ভালো রাখা সম্ভব হয়নি। ওই পদ্ধতিতে অনেক বস্তা বা পাত্রের প্রয়োজন হতো। ওই ব্যবস্থারই বিকল্প হিসেবে এসেছে ইরি কোকুন। এটি একটি ব্লাডারের মতো পাত্র, যেটিতে বীজ রাখলে বড় হয়। এটিতে ৪০ থেকে ৫০ মণ বীজ রাখা সম্ভব। এতে বাইরে থেকে বাতাস ঢুকতে পারে না, ফলে বীজে আর্দ্রতার পরিমাণ ঠিক থাকে এবং পোকামাকড়েরও কোনো আক্রমণ হয় না। এটি বাড়ির উঠানে রাখলেও রোদ, বৃষ্টি, খরায় বীজের কোনো গুণগত মান নষ্ট হয় না। এই বীজের অঙ্কুরোদ্‌গমক্ষমতাও খুব বেশি। এটি ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে আগে ব্যবহৃত হতো। 

বর্তমানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চলমান জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রোগ্রাম ফেস-২ (এনএটিপি) প্রকল্পের আওতায় এটি বাংলাদেশে এনে কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ডুমুরিয়া, দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলায় দুটি করে ইরি কোকুন দেওয়া হয়েছে। কৃষক গ্রুপের মধ্যে দেওয়া এই ইরি কোকুন ওই এলাকার সব কৃষকই ব্যবহার করতে পারবেন।

ডুমুরিয়ায় পাওয়া দুটি ইরি কোকুন দেওয়া হয়েছে শরাফপুর গ্রামের কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপের (সিআইজি) কৃষক সরোয়ার সরদার ও বারাতিয়া গ্রামের সিআইজি কৃষক নবদ্বীপ মল্লিককে। তাঁদের মাধ্যমে ওই এলাকার কৃষকেরা আগামী বছরের জন্য ধানের বীজ সংরক্ষণ করছেন।

ইরি কোকুনে ২০ মণ ব্রি-৬৭ জাতের ধানের বীজ রেখেছেন সরোয়ার সরদার। তিনি বলেন, ‘এটি বীজ সংরক্ষণের অত্যন্ত আধুনিক একটি প্রযুক্তি, এটি পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি। আমি যে বীজ সংরক্ষণ করেছি, তাতে আমার পুরো গ্রামের কৃষকদের মধ্যে বীজ বিতরণ করতে পারব।’

বারাতিয়া গ্রামের নবদ্বীপ মল্লিক বলেন, বীজ সংরক্ষণের এত সুন্দর জিনিস আছে, আগে জানা ছিল না। মানসম্মত বীজ সংরক্ষণে এটির ভূমিকা অপরিসীম। এটির মাধ্যমে ডিলার বা কোম্পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে এবং বীজ সিন্ডিকেট থেকে কৃষক রক্ষা পাবেন।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এবার উপজেলায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে দুজন সিআইজি কৃষককে এটি সরবরাহ করা হয়েছে। বীজ সংরক্ষণের এটি সর্বশেষ একটি প্রযুক্তি। এটি ডুমুরিয়ার কৃষির উন্নয়নে এবং কৃষক পর্যায়ে উন্নত বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার প্রথম আলোকে বলেন, ইরি কোকুনের মধ্যে ধান রাখলে কোনো অবস্থাতেই ওই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা নেই। শুধু তা-ই নয়, ওই ইরি কোকুন ইঁদুরেও কাটতে পারে না। ফলে নিরাপদে ধান রাখা যাবে। সরবরাহ কম থাকায় সব উপজেলায় সেটা দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা

যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা
বেগুনি ধানগাছ। খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুরে। ছবি: প্রথম আলো

চারপাশে সবুজ ধানখেত। মাঝখানে একচিলতে জমিতে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। যেন সবুজের বুকে বেগুনি বিছানা। ভিন্ন রঙের এই ধান চাষ স্থানীয় পর্যায়ে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। 

বেগুনি রঙা এই ধানের চাষ হচ্ছে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার শান্তিপুর এলাকায়। স্থানীয় কৃষক মনতোষ চাকমা জেলায় প্রথমবারের মতো এই ধানের চাষ শুরু করেছেন বলে জানান কৃষি কর্মকর্তারা। চলতি বছরের ২১ মে এর চারা রোপণ করেন তিনি।

মনতোষ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা নামের এনজিওর কাছ থেকে বেগুনি রঙের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছেন। ওই এনজিও থেকে ‘সুভাষ’, ‘বাঁশফুল’ ও ‘জুনটি’—এই তিন জাতের চারা নিয়েছেন। এখন পরীক্ষামূলকভাবে ২০ শতক জমিতে চার জাতের ধান রোপণ করেছেন। এসব ধানের ফলন কী রকম হবে, তা দেখার পর ভবিষ্যতে আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, দেশে প্রথম বেগুনি রঙা ধানের আবাদ শুরু হয় গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ধান। এই ধানগাছের পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। এর চালের রংও বেগুনি। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের ধান বা রঙিন ধান।

জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মর্ত্তুজা আলী বলেন, বেগুনি রঙের ধানের চাষ খাগড়াছড়িতে এই প্রথম। কেউ এর নাম দিয়েছেন বেগুনি সুন্দরী, কেউ দুলালি সুন্দরী। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে ধানের আবাদ বৃদ্ধির চিন্তা করা হবে।

পানছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলাউদ্দিন শেখ বলেন, মনতোষ চাকমাকে সব ধরনের পরামর্শসহ কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত ধানখেতটি তদারক করা হচ্ছে।

গত বুধবার দুপুরে পানছড়ির উল্টাছড়ি ইউনিয়নের শান্তিপুরে গিয়ে দেখা যায়, চারপাশে সবুজ ধানখেতের মাঝখানে বেগুনি রঙের ধানের আবাদ। মনতোষ চাকমার রোপণ করা অন্য তিন জাতের ধানের গাছের রং আলাদা। এক জাত বাঁশফুল রঙের, এক জাত গাঢ় সবুজ রঙের এবং অন্য জাত হালকা সবুজ রঙের।

তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার প্রকল্প সমন্বয়কারী সকীরণ চাকমা জানান, মিজারিও-জার্মানির অর্থায়নে ঢাকা বারসিক এনজিও থেকে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা সাত প্রকারের ধানের বীজ সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে চার প্রকারের বীজ তাঁরা মনতোষ চাকমাকে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করতে দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আলতাফ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচ্ছিন্নভাবে এই ধানের চাষ শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়িতেও চাষ হওয়ার খবর শুনেছেন তাঁরা। এই ধানের পুষ্টিমান বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এই ধানের পুষ্টিমান, চাষাবাদ পদ্ধতি, ফলনের পরিমাণ, জীবনচক্র, দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়, কোন মৌসুমে চাষ করলে ভালো হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

দুটি পাতার এক কুঁড়ি

দুটি পাতার একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট। চায়ের সঙ্গে এভাবেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে সিলেট অঞ্চলের নাম। চায়ের সুবাদে সিলেটের সুনাম ছড়িয়ে আছে বিশ্বব্যাপী। বর্ষার মৌসুমের শুরু থেকে শীত মৌসুমের আগ পর্যন্ত সিলেটের চাবাগানগুলোয় চলে চা-পাতা তোলা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পালা করে চা-পাতা তোলার কাজে ব্যস্ত থাকেন নারী-পুরুষ চা-শ্রমিকেরা। পাতা তোলা শেষে তা লাইন ধরে জমা দেন শ্রমিকেরা। ওজন শেষে চা-পাতা স্তূপ করে রাখা হয় চা তৈরির জন্য। তারাপুর ও মালিনীছড়া চা-বাগানের কিছু ছবি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ভারতের গুটি স্বর্ণার দাপট

ধানবীজ
ধানবীজ

গুটি স্বর্ণা জাতের ধান বীজের উদ্ভাবন ভারতে। বাংলাদেশে এই জাতের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ। চোরাই পথে আসা এমন বীজ দেদার ব্যবহার করছেন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ছয়টি জেলার কৃষকেরা। অথচ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) গুটি স্বর্ণার বিকল্প হিসেবে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধান চাষে কৃষকের আগ্রহ কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর যশোর, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৩২৭ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। চাষিরা এ বছর উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতসহ ৯০টি জাতের ধান রোপণ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে গুটি স্বর্ণা জাতের ধানের আবাদ হয়েছে।

কৃষকেরা বলছেন, গুটি স্বর্ণা নিচু জমিতে, কাদায় বেশি দিন টিকতে পারে। মূলত এ কারণেই তাঁরা এমন জাতের ধানে আগ্রহী হচ্ছেন। কিন্তু গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলে, জমিতে তাঁদের ফলন কম হচ্ছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট গুটি স্বর্ণা ধানের বিপরীতে উফশী জাতের ব্রি-৭৫, ৫৯ ও বিনা-৭ জাত উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু এসব ধানবীজ গুটি স্বর্ণার জায়গা নিতে পারেনি এখনো।

মাহিদিয়া গ্রামের কৃষক আবদুল মান্নান বলেন, ‘১২ বিঘায় স্বর্ণা ও ৪ বিঘায় রণজিত জাতের ধান চাষ করেছি। ১২ বছর ধরে আমি এই দুই জাতের ধানের চাষ করছি। বীজ আমি নিজেই তৈরি করি। একই বীজ থেকে অন্তত ১২ বার বীজ তৈরি করা হয়েছে। বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণের বেশি ধান পাওয়া যায় না। এই গ্রামের আমন আবাদের মাঠে ৮০ ভাগই স্বর্ণা ধান রয়েছে। আমার জমি একটু নিচু। পানি জমে থাকে। এ জন্য ব্রি উদ্ভাবিত ধান লাগানো হয় না।’

সদরের তফসিডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হ‌ুমায়ূন কবীর বলেন, ‘এক হেক্টর জমিতে এ বছর আমন ধানের চাষ করেছি। নিচু জমিতে স্বর্ণা ও উঁচু জমিতে ব্রি-৭৫ ধান লাগানো হয়েছে। স্বর্ণা ধান বিঘায় এখন ১৬ থেকে ১৭ মণের বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। দুই বছর আগে চোরাই পথে ভারত থেকে ১০ কেজি স্বর্ণা ধানের “ভিত্তি বীজ” এনে রোপণ করেছিলাম। তখন বিঘায় ২৭-২৮ মণ করে ধান পেয়েছি। পরে তা থেকে আবার বীজ তৈরি করে চাষাবাদ করেছি। তবে ধানের আবাদ কমেছে।’ তিনি বলেন, তিনি নিজে ধানের বীজ তৈরি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করেন। এখন যে স্বর্ণা বীজ রোপণ করেন, তা ভিত্তি বীজ থেকে ১২ থেকে ১৫ বার তৈরি করা হয়েছে। যে কারণে এ বীজে ফলন এখন অনেক কম হয়। রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও কমে গেছে। যে কারণে উৎপাদন কম হচ্ছে।

কয়েকজন কৃষক বলেন, বিভিন্ন কোম্পানি চীন থেকে হাইব্রিড জাতের ধানের বীজ আমদানি করে কৃষকদের মধ্যে বিক্রি করছে। এ বছরও কয়েকটি জাতের ধানবীজ চীন থেকে আমদানি করে রোপণ করা হয়েছে। ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি মানা। তবে চোরাই পথে এসব নিয়মিতই আসে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, এক বীজ থেকে বারবার বীজ করলে ফলন কমে যান। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। গুটি স্বর্ণা বীজের বেলায়ও একই ফল হয়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক সুধেন্দু শেখর মালাকার বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের ছয় জেলায় এখনো গুটি স্বর্ণা জাতের আবাদ সবচেয়ে বেশি। বারবার চাষের কারণে ফলন কমছে। কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে চেষ্টা চলছে। কয়েক বছরের মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত গুটি স্বর্ণার বিকল্প জাতের ধানে কৃষকেরা আগ্রহী হবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর আমন মৌসুমে যশোর ও আশপাশের জেলায় ৯০টি জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি উদ্ভাবিত ৩৬টি, চীন থেকে আমদানি করা ২২টি, উফশী ১২টি ও স্থানীয় (অপ্রচলিত) ২০টি জাতের ধান রোপণ করা হয়েছে।

ব্রি উদ্ভাবিত ধানবীজ ভারতীয় স্বর্ণা ধানের জায়গা নিতে পারছে না কেন—এ প্রশ্নের উত্তরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক মোহম্মদ আলী বলেন, কৃষকের মধ্যে সম্প্রসারণ হতে আরও দু-এক বছর লাগবে। চীন থেকে হাইব্রিড ধানবীজ আমদানি করা হলেও ভারত থেকে স্বর্ণা ধানের বীজ আমদানি করা হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারের নীতি হচ্ছে, মুক্ত পরাগায়ন (ওপি) জাতের ধানবীজ আমদানি করা যাবে না। স্বর্ণা হচ্ছে মুক্ত পরাগায়ন জাতের ধান, যে কারণে এ ধানের বীজ আমদানি নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com