আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

কচু শাকে চলছে জীবন

পঞ্চগড়ে ২০ বছর ধরে কচু শাক বিক্রি করে জীবন অতিবাহিত করছেন এক নারী। জেলা শহরের সবজি বাজারের রাস্তায় বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত প্রতিদিন তার দেখা মেলে। রাস্তার উপরেই বসেন তিনি। সামনে চটের বস্তা বিছিয়ে কচুশাক, ঢেঁকিশাক, তিতারী শাকসহ বনজ নানা ধরনের শাক সাজিয়ে রাখেন। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় না। কয়েকঘণ্টার মধ্যে বিক্রি হয়ে যায় সব। বনজ এবং অর্গানিক বলে ক্রেতারাও খুশি হয়ে কেনেন এসব শাক। শহরের প্রায় অনেকেই তার সংগ্রহের কচু শাক খেয়েছেন। তৃপ্তিও পেয়েছেন। সারাদিন কচু শাক সংগ্রহ করে বিকেলে শহরে বিক্রি করেন তিনি। আবাদ করার জন্য জমি নেই তার। শাক বিক্রি করেই এক খণ্ড ভিটেবাড়ির মাটি কিনেছেন তিনি। একটি বাড়িও করেছেন। ভিটেবাড়ি ছাড়া কোন জমি নেই তার।পঞ্চগড়সহ আশে পাশের জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কচু শাক সংগ্রহ করেন তিনি। তিনি বিভিন্ন ক্ষেত খামারের আল, বন জঙ্গল থেকে কচু শাক, ঢেঁকিশাক, তিতারি সংগ্রহ করেন। শাক বিক্রি করেই নিজের চার ছেলে মেয়েকে লেখা-পড়া করাচ্ছেন। তার নাম আকতারা বানু (৪০)। সদর উপজেলার ধাক্কামাড়া ইউনিয়নের টেংগন মারি গ্রামের ভ্যানচালক আফাজুল ইসলামের স্ত্রী তিনি। আকতারা বানু জানান, তার মা এবং নানী এই ব্যবসা করতেন। তাদের কাছ থেকেই শেখা। বর্তমানে তার মা মমেনা খাতুন (৬৫) তার কাছেই থাকেন। খুব সকালে মা মমেনা খাতুনসহ বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। শহর থেকে দূরের প্রান্তে গিয়ে ধানক্ষেত, গম ক্ষেত বা অন্যান্য ক্ষেতের আলে গজিয়ে ওঠা কচু শাক সংগ্রহ করেন। বিভিন্ন ঝোঁপ ঝাড়, বন জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করেন নানা জাতের শাক। তারপর বিকেল বেলা চলে আসেন বাজারে। এসব শাক বিক্রি করে প্রতিদিন তারা আয় করেন ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা। তিনি জানান, শাক সংগ্রহ করতে শুধু পঞ্চগড়ে নয় আশে পাশের জেলাগুলোর বিভিন্ন গ্রামেও চলে যান তারা। আকতারা বানুর ৪ চার সন্তান। প্রত্যেকেই মেধাবী। তাই কষ্ট হলেও ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাচ্ছেন।

আকতারা বানু জানান, তার কোন চাওয়া পাওয়া নেই। তার লক্ষ্য, একটাই ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষ করা। তিনি বলেন, আমি আর আমার মা এই ব্যবসা করি। ক্ষেত খামারের আল আর ঝোঁপ ঝাড়, ছোট জঙ্গলে এসব শাক পাওয়া যায়। আমরা জানি কোথায় কোথায় এসব শাক পাওয়া যায়। কোন এলাকায় কখন গেলে শাক পাওয়া যাবে তাও আমরা জানি। তবে কচু শাকই বেশি পাওয়া যায়।

প্রায়ই তার কাছে শাক কেনেন ডোকোরোপাড়া এলাকার নাসরিন আকতার (২০) । তিনি জানান, আকতারা বানুর শাকগুলো অত্যন্ত সুস্বাদু। আমি অনেক ছোটকাল থেকেই তাকে শাক বিক্রি করতে দেখছি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পরস্পরের নির্বাহী পরিচালক এবং জেলা পরিষদের মহিলা সদস্য আক্তারুন্নাহার সাকি জানান, আমি প্রায়ই আকতারা বানুর কাছ থেকে শাক কিনি। দীর্ঘদিন থেকে তিনি অনেক কষ্ট করে এই ক্ষুদ্র ব্যবসাটি চালিয়ে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাকে সরকারি-বেসরকারি অনুদান দেয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ

ভাসমান বীজতলা

সিরাজগঞ্জের সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ধানের চারা উৎপাদনের জন্য কৃষকদের ভাসমান বীজতলা তৈরির খবরটি সত্যিই আশাজাগানিয়া একটি খবর। বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবরে বলা হয়, সিরাজগঞ্জের অনেক এলাকায় প্রতিবছরই বন্যা হয়। অনেক জায়গাজমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়। এ কারণে কৃষকেরা ধানের চারার বীজতলা তৈরি করা নিয়ে সংকটে পড়েন। চারার অভাবে সময়মতো ধানের আবাদ করতে ব্যর্থ হন তাঁরা। এ বছর যাতে সে ধরনের পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শে অনেক কৃষক ভাসমান বীজতলা তৈরি করেছেন। এতে করে ধান উৎপাদন নিয়ে তাঁদের আর সমস্যায় পড়তে হবে না।

ভাসমান বীজতলা তৈরিতে কৃষকের ব্যয় বলতে গেলে নেই। মূলত কচুরিপানাসহ বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ দিয়ে তৈরি ভেলার ওপর মাটি দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। ধানের বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার পর এই ভাসমান বীজতলায় ছিটিয়ে দিতে হয়। সেখানে জমিতে রোপণের উপযোগী চারা উৎপাদন হতে ২০ থেকে ২৫ দিন লাগে। পরে চারাগুলো জমিতে রোপণ করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যাপ্রবণ একটি দেশ। প্রায় প্রতিবছরই এখানে বন্যা হয়। তখন বন্যার কারণে অনেক এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া ঝড়, অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতেও বহু বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে করে যথাসময়ে ফসল উৎপাদনে বিলম্ব হয়। দেখা দেয় ফসলের ঘাটতি। ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকেরা। সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে ভাসমান বীজতলা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি।

১০ মিটারের একটি ভাসমান বীজতলায় এক কেজি অঙ্কুরিত বীজ ছিটানো সম্ভব। এ থেকে উৎপাদিত চারা এক বিঘা জমিতে রোপণ করা সম্ভব। পানির ওপর ভেসে থাকার কারণে এই বীজতলায় পানি সেচেরও দরকার হয় না। দেশের অনেক জেলায় ভাসমান বীজতলা তৈরি করে ধানের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। এ বীজতলায় ধানের চারা উৎপাদন ছাড়াও পেঁপে, লাউ, কুমড়া, বেগুন, করলাসহ বিভিন্ন সবজির চারাও উৎপাদন সম্ভব। দেশের অনেক কৃষক ভাসমান বীজতলায় সবজির চারা উৎপাদন করে লাভবান হয়েছেন।

ভাসমান বীজতলা ছাড়াও আরেক ধরনের বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদিত হচ্ছে, যাকে বলে ডাগোপ বীজতলা। বাড়ির উঠান, পাকা বারান্দা বা যেকোনো শুকনো জায়গায় চারদিকে মাটি, কাঠ, ইট, কলাগাছের বাকল দিয়ে এই বীজতলা তৈরি করা হয়। সময়মতো ফসল উৎপাদনের জন্য সারা দেশে এসব বীজতলা কৃষকের মাঝে জনপ্রিয় করার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। এ ব্যাপারে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। প্রয়োজনে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

গদখালীতে ফুল আর সবজি চাষে নতুন মাত্রা

ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী
• এলাকায় ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে
• পদ্ধতিতে ফুল–সবজি উৎপাদনে খরচ কম
• ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়

সৌরশক্তিচালিত পাম্পের সাহায্যে পাতকুয়া থেকে তোলা হচ্ছে পানি। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সেই পানি চলে যাচ্ছে ট্যাংকে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে আসছে সোজা ফুল ও সবজিখেতে। পথে পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে রাসায়নিক সার। ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে সারমিশ্রিত পানি।

‘ড্রিপ ইরিগেশন’ নামের এই সেচপদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীতে। ফুল ও সবজিচাষিরা এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। ফুলের রাজধানী হিসেবে পরিচিত গদখালী এবং এর আশপাশের এলাকায় এই পদ্ধতি ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগ এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন করছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল ও সবজি উৎপাদন সম্প্রসারণে ড্রিপ ইরিগেশন কর্মসূচি’।

চাষিরা জানান, এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি উৎপাদনে খরচ অনেক কম। কীটনাশকের কোনো ব্যবহার নেই। পানি আর্সেনিকমুক্ত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করা যায়। গাছ প্রয়োজনীয় পানি ও সার পায়। এতে ফুল ও সবজির ফলন অনেক বেশি হয়। এ পদ্ধতিতে তাঁরা লাভবান হচ্ছেন।

যশোর সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকা। গদখালী এবং এর আশপাশের গ্রামের একরের পর একর জমিতে বছরজুড়ে উৎপাদন হচ্ছে দেশি–বিদেশি নানা জাতের ফুল। এসব ফুল সারা দেশের চাহিদা মেটাচ্ছে। রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

বিএডিসি সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে ২০১৭ সালের জুন মাসে। কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে পানিসরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নেওয়া কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয় ৩২ লাখ টাকা। কর্মসূচির আওতায় খনন করা হয়েছে সৌরচালিত ডাগ ওয়েল (পাতকূয়া), নির্মাণ করা হয়েছে পলিহাউস ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। পানিসারা গ্রামের ৩০ জন ফুল ও সবজিচাষি কোনো রকম সেচ খরচ ছাড়াই সেখান থেকে আর্সেনিকমুক্ত পানি ব্যবহার করে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে ৫৫ বিঘা জমিতে বিষমুক্ত ফুল ও সবজি চাষ করছেন। কৃষকেরা সুফল পাওয়ায় উপজেলার গদখালী, পানিসারা, নাভারণ, শিমুলিয়া ও নির্বাসখোলা ইউনিয়নে আরও ১৫টি সৌরশক্তিচালিত ডাগ ওয়েল ও ড্রিপ ইরিগেশন এবং সাতটি পলিহাউস (পলিথিন দিয়ে তৈরি শেড) নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪৫০ জন ফুল ও সবজিচাষি সুফল পাবেন।

সরেজমিনে পানিসারা গ্রামে দেখা যায়, এই কর্মসূচির আওতায় এক বিঘা জমির ওপর সাদা পলিথিন দিয়ে লোহার কাঠামোর ওপর ১০০৮ বর্গফুটের একটি পলিহাউস। তার সামনে ৩২ ফুট দৈর্ঘ্য, ২২ ফুট প্রস্থ এবং ৭ ফুট গভীর একটি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার। কিছুটা দূরে ১৪২ ফুট গভীর একটি পাতকূয়া। পাতকূয়ার ৭৫ ফুট গভীরে স্থাপন করা হয়েছে পাম্প। ওপরে তৈরি করা হয়েছে গোলাকৃতির টিন দিয়ে সোলার প্যানেল। তার ওপর ৩ হাজার ধারণক্ষমতার একটি পানির ট্যাংক। সৌরশক্তির মাধ্যমে ৬ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। পাম্প চালানোর পর ১০ মিনিটের মধ্যে ট্যাংক পানিতে পূর্ণ হচ্ছে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে যাচ্ছে পলিহাউস এবং আশপাশের ৫৫ বিঘা জমির ফুল ও সবজিখেতে। সরবরাহ লাইনের মধ্যে চাষি পানির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছেন রাসায়নিক সার। ফোঁটায় ফোঁটায় সারমিশ্রিত পানি গিয়ে পড়ছে ফুল ও সবজিগাছের গোড়ায়। ১৮টি ফসেট (টিপকল) দিয়ে পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। পলিহাউসের মধ্যে চাষ করা হচ্ছে জারবেরা ও গোলাপ ফুল এবং তরমুজ ও স্কোয়াশ। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে।

২০ বছর ধরে ফুলের চাষ করছেন ইসমাইল হোসেন। তিনি ১৬ বিঘা জমিতে পালাক্রমে সারা বছর ফুল ও সবজির চাষ করছেন। তিনি বলেন, সৌরচালিত পাম্প এবং বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগারের কারণে কোনো সেচ খরচ নেই। পলিথিন ওঠানো–নামানো করে পলিহাউসের তাপমাত্রা এবং ফসেট দিয়ে পানির ফোঁটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পোকামাকড়ের আক্রমণ নেই। কীটনাশক লাগে না। এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজি চাষ লাভজনক।

ফুলচাষি আবদুল হক ঢালী বলেন, ‘তিন বিঘা জমিতে ঝাও এবং পাতাবাহারের চারা তৈরি করছি। বিনা মূল্যে আর্সেনিকমুক্ত পানি পাচ্ছি। এতে খুব সুবিধা হচ্ছে।’

ফুলচাষি আবদুল হামিদ গাজী বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে রজনীগন্ধা এবং গ্লডিওলাস ফুলের চাষ করছি। এই পদ্ধতিতে কোনো সেচ খরচ নেই। গাছে প্রয়োজনীয় পানি দেওয়া যায়। ফলনও খুব ভালো।’

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, এই কর্মসূচিতে চাষি উপকৃত হচ্ছেন। ফুল ও সবজি চাষে খরচ এবং ঝুঁকি কমছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও কর্মসূচি পরিচালক মো. মাহাবুব আলম বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ জন চাষি এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সুফল পেয়েছেন। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে গদখালী এলাকার আরও ৪২০ জন ফুল ও সবজিচাষি এই পদ্ধতিতে ফুল ও সবজির চাষ শুরু করবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পেয়ারার পর এবার মাল্টায় মার

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার জামদহ গ্রামের কৃষক মেরাজুল ইসলামকে (৫৫) তিন বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। ১৫ কাঠা জমিতে তিনি ৭০টি গাছ লাগিয়েছিলেন।

বৃহস্পতিবার তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, একটি গাছও নেই। বাগানের জমিতে কপি চাষ করা হয়েছে। মেরাজুলের ছেলে রাকিবুল ইসলাম বললেন, এক বছর পর গাছগুলোতে ফল এসেছিল। কিন্তু পাতা হলুদ হয়ে গাছ মরে যেতে লাগল। আরও ক্ষতির আশঙ্কায় তাঁর বাবা বাগান ভেঙে দিয়েছেন।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাল্টার বিশেষ যত্ন নিতে হয়। আমগাছের মতো মাটিতে পুঁতে দিলেই ফল ধরে না। যাঁরা সেই যত্ন নিচ্ছেন, তাঁদের বাগান ভালো আছে। রাজশাহীর বাজারে এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে এই মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে। খুব বেশি মিষ্টি না হলেও টক নয়। বাজারে এর বেশ চাহিদা আছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে মেরাজুলের মতো জেলার ৩০০ চাষিকে প্রদর্শনী খেত করার জন্য ২০১৭ সালে বারি মাল্টা-১ জাতের চারা দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের কারও বাগানের গাছ আছে, কারও বাগানে নেই। তবে আরও ভয়ের ব্যাপার, ইউটিউব দেখে উৎসাহিত হয়ে অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় চাষিরা ঝাঁপিয়ে পড়েন এই মাল্টা চাষে। জেলায় বর্তমানে প্রায় এক হাজার চাষি মাল্টা চাষ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ এখনো কিছু বুঝে উঠতে পারেননি, কারও সর্বনাশের শুরু, আর কারও সর্বনাশ হয়ে গেছে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে একসময় ভূগর্ভস্থ পানি তুলে সেচ দিয়ে ধান চাষ করা হতো। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ধীরে ধীরে নিচে নেমে যেতে থাকে। যে পরিমাণ পানি তোলা হয়, বৃষ্টিপাত সেই পরিমাণ না হওয়ার কারণে পানির স্তর আর আগের জায়গায় ওঠে না। এ জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শস্য বৈচিত্র্যকরণের উদ্যোগ নেয়। পানি কম লাগে এমন ফসল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। শুরু হয় নতুন জাতের ফসল চাষের আন্দোলন। এরই ধারাবাহিকতায় টমেটো, আপেলকুল, বাউকুল, পেয়ারা, পাম, কমলা, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল, কাজুবাদাম, রামবুটান, পার্সিমন, অ্যাভোকাডো, কফি, বিচিবিহীন কুল, বলসুন্দরী কুল, বিচিবিহীন লেবু, চায়না লেবু ও মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। তবে ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে মাল্টা চাষ। এর আগে শুরু হওয়া কুল চাষ থেমে গেছে। তিন–চার বছরের মাথায় মড়কে গাছ মরে যাওয়ায় পেয়ারাবাগান কমে এসেছে। ভালো বাজার না পেয়ে প্রতিবছর টমেটো রাস্তায় ফেলে দিতে দেখা যায়। ২০১৭ সালে নকল বীজে প্রতারিত হয়ে বীজ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করে আজও ক্ষতিপূরণ পাননি টমেটোচাষিরা। বাণিজ্যিকভাবে বাজার না পাওয়ায় স্ট্রবেরি চাষ বন্ধের পথে। অন্য ফলগুলো নিয়ে চাষিরা অস্বস্তির মধ্যে আছেন। আর এবার মাল্টা চাষে মার খেয়েছেন চাষিরা।

রাজশাহী জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় মাল্টার বাগান করেছেন অভিজিৎ গুহ (৫২)। তাঁর বাড়ি রাজশাহী নগরের কেদুর মোড় এলাকায়। তিনি একজন স্কুলশিক্ষক। ইউটিউব দেখে তিনি মাল্টা চাষে উৎসাহিত হন। তিনি আরও কয়েকজন অংশীদার নিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল ও তানোরের চান্দুড়িয়া এলাকায় প্রায় ১৫০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে মাল্টাবাগান করেছেন। এ পর্যন্ত তাঁর বিনিয়োগ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। তাঁর গাছের বয়স প্রায় ১ বছর ৮ মাস। এই পর্যায়ে এসে তিনি দেখছেন তাঁর বাগানের ২৫ শতাংশ গাছের পাতা হুলুদ হয়ে যাচ্ছে। হলুদ পাতার গাছটি কিছুদিন পরেই মারা যাচ্ছে। মাল্টা চাষ করে ভাগ্যবদলের স্বপ্ন নিয়ে তিনি দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মাল্টাবাগান দেখতে ছুটে বেড়ান। তাঁর তথ্যমতে, শুধু চুয়াডাঙ্গার একটি বাগানের গাছ সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে। অভিজিৎ বলেন, তিনি ফল গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে গেছেন, যে যা পরামর্শ দিয়েছেন, তাই করে দেখেছেন। কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

রাজশাহীর পবা উপজেলার রনহাট এলাকার চাষি নূরুজ্জামানকে কৃষি বিভাগ থেকে মাল্টার চারা দেওয়া হয়েছিল। দেড় বিঘা জমিতে তিনি ১৯৪টি গাছ রোপণ করেছিলেন। এর মধ্যে ১৪০টি গাছই রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে। পাতা হলুদ হয়ে গাছের ডাল মরে যাচ্ছে। আক্রান্ত গাছের ফলগুলো আকারে ছোট হয়ে আসছে। কয়েক দিন আগে তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ৫০টি গাছ মোটামুটি সুস্থ আছে। নূরুজ্জামান বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে যে ৫৫টি চারা দিয়েছিল, সেগুলোই আগে আক্রান্ত হয়েছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার বামনইল এলাকার চাষি মঞ্জুর রহমান ১২ বিঘা জমিতে মাল্টার বাগান করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাঁর বাগান ভালো আছে। ৫ শতাংশ গাছ রোগাক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর বাগানে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ গাছের পাতাই হলুদ হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোদাগাড়ীর কমলাপুর এলাকায় সারিকুল নামের একজন চাষি তাঁর মাল্টাবাগান পুড়িয়ে দিয়েছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, পাতা হলুদ হওয়ার পরেও চিকিৎসা আছে। তাঁরা চাষিদের সেই পরামর্শ দিচ্ছেন। যাঁরা পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করছেন, তাঁদের বাগান ভালো আছে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামছুল হক বলেন, মাল্টাগাছের পাতা হলুদ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত। বিষয়টি তিনি কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটকেও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী, সেখানেও এই রোগ দেখা দিয়েছে। মাল্টা ধান, পাট আমের মতো নয়। বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তা ছাড়া হবে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

সবুজ পাহাড়ে কমলা

বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাহাড়ের কমলা বাজারে আসতে শুরু করেছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাচ্ছে এই কমলা। খাগড়াছড়িতে পাহাড়ের কমলা ১ কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বর এলাকা নিয়ে এবারের ছবির গল্প।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পাহাড়ি লেবু

সিলেট অঞ্চলের পাহাড়-টিলায় বাণিজ্যিকভাবে লেবু চাষ করা হয়। স্থানীয়ভাবে লেবুর চাহিদা মিটিয়ে সিলেট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির জন্য নেওয়া হয় এই লেবু। মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবুর ফলন সবচেয়ে বেশি হয়। ফলনও বেশ ভালো। পাহাড়-টিলার ভাঁজে ভাঁজে সারা বছরেই লেবুর ফলন হয়। এসব পাহাড়ি লেবু নেওয়া হয় সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে। বাজারে প্রতি হালি লেবু আকার ভেদে বিক্রি হয় ১০-১৪ টাকায়। সিলেটের সোবহানীঘাট এলাকার ছবির গল্প

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com