আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ!

কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
প্রকৃতির শুদ্ধতায় কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতে বেড়াতে আসা ডলফিনের দলকে এভাবেই মারা পড়তে হচ্ছে মানুষের হাতে

করোনাভাইরাসের কারণে সারা বিশ্ব থমকে গেলেও নতুন করে জেগে উঠেছে যেন পরিবেশ। নতুন করে, আপন মনে সেজে উঠছে প্রাণ ও প্রকৃতি। সারা বিশ্বেই দেখা যাচ্ছে এ চিত্র। বাদ নেই বাংলাদেশও।

করোনার কারণে ভ্রমণ নিষিদ্ধ হওয়ায় কক্সবাজার সমূদ্র সৈকত এখন পুরোপুরি পর্যটকশূন্য। সেখানে এখন নেই পরিবেশ দূষণ। নেই কোলাহল। কক্সবাজার সমূদ্র সৈকত যেন ফিরে পেয়েছে নতুন প্রাণ। সমূদ্রের পানি গাড় নীল। তাতেই সপ্তাহ খানেক আগে ভেসে বেড়াতে দেখা গেছে ডলফিনের দলকে।

পর্যটকশূন্য কক্সবাজারে যখন ডলফিন দলের খেলার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। কক্সবাজার সৈকতে ডলফিনের বিচরণ দেখে দেশের পর্যটনকে নতুনভাবে সাজানোর কথাও উঠে আসছে নানা মাধ্যমে। ঠিক তখনই সৈকতে অতিথি হিসেবে আসা এই ডলফিনদেরকেও রেহাই দিলো না কিছু অমানুষ।

কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

কক্সবাজারের টেকনাফের শাপলাপুর সৈকতে প্রথমে একটি ডলফিনকে তুলে হত্যার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় জেলেদের বিরুদ্ধে। প্রথমদিন একটি ডলফিনকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ আসার পরদিন দেখা যায়, সৈকতে আরও দু’ থেকে তিনটি ডলফিন মৃত পড়ে আছ।

মুহূর্তেই মৃত ডলফিনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। মৃত ডলফিনগুলোর শরীরে দেখা যায় আঘাতের চিহ্ন। একটি ডলফিনের লেজের দিকে মোটা রশিও বাধা ছিল। কিন্তু কে বা কারা এই ডলফিনগুলোকে মেরেছে, সেটা রয়ে গেছে অজ্ঞাত।

মাছ ধরার জালে আটকা পড়লে জেলেরা ডলফিনগুলোকে পিটিয়ে মেরেছে বলে মিডিয়াকে জানিয়েছেন স্থানীয় পরিবেশকর্মী সেভ দ্য ন্যাচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ।

মারাত্মক দূষণের কারণে কক্সবাজার সমূদ্র সৈকতে ডলফিনের দেখা পাওয়া ছিল দুঃস্বপ্নের মত। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষের পদচারনা এবং দূষণের কারণে ডলফিন সৈকতের আশ-পাশেও ঘেঁষতো না কয়েক দশক। পরিবেশবাদীরা বলছে, অন্তত ৩০ বছর কক্সবাজারের সৈকতে ডলফিনের দেখা মেলেনি।

কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

কিন্তু করোনায় লকডাউনের কারণে কক্সবাজার এখন পুরোপুরি পর্যটকশূন্য হওয়ার কারণে পরিবেশটাও বদলে গেছে। কলাতলি বিচ পয়েন্টের গাড় নীল পানিতে তাই দুই দলে অন্তত ২০ থেকে ২৫টি ডলফিনকে দেখা গেলো মনের আনন্দে ডুব-সাঁতার খেলতে। যেখানে ছিল গোলাপি রংয়ের দুর্লভ প্রজাতির একটি ডলফিনও।

কিন্তু সৈকতে অতিথি হয়ে আসা এসব ডলফিনের অবাদ বিচরণের ভিডিও প্রকাশের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই নিষ্ঠুরতার শিকার হতে হলো তাদেরকে। জেলেদের জালে আটকে পড়ার পর যেখানে তাদেরকে অক্ষত অবস্থায় ছেড়ে দেয়ার কথা, সেখানে নিষ্ঠুর কায়দায় রশি লাগিয়ে পিটিয়ে মারা হলো।

কক্সবাজারের বণ্যপ্রাণী গবেষক নাদিম পারভেজ জানান, গত দুই মাসেই অগভীর সমূদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেদের জালে আটকা পড়ে কিংবা ট্রলারের পাখায় আঘাত লেগে অন্তত ১১টি ডলফিন মারা গেছে। অধিকাংশ ডলফিনের গায়েই জালে আটকে পড়ার চিহ্ন ছিল।

কক্সবাজারের পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মীরা জানান, গত শুক্র, শনি ও রোববার- এই তিনদিনে তিনটি ডলফিনকে মারা হয়েছে কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ সৈকত এলাকায়।

কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

শনিবার মৃত একটি ডলফিনের ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেন স্থানীয় যুবক জালাল উদ্দিন চৌধুরী। তিনি মিডিয়াকে জানান, জালে আটকা পড়ায় জালেরা সেটি সৈকতে এনে ফেলে দেয়। ডলফিনটি অনেক বড় এবং তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সন্ধ্যা থেকে ডলফিনটি আর দেখা যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজারের পরিবেশকর্মী, সেভ দ্য ন্যচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন রিয়াদ জানান, শাপলাপুরে যে ডলফিনটা উদ্ধার করা হয়েছে, সে ডলফিনের মাথায় বিশাল ক্ষত এবং লেজের দিকে যে রশি দিয়ে বাধা হয়েছিল কিংবা কিছুতে আটকে ছিল, তা ক্ষত দেখেই প্রতীয়মান হয়।

মোয়াজ্জেম হোসেন আরও জানান, নানা টোটকা ওষুধের জন্য ডলফিন হত্যা করে তার মাংস ও হাড় নিয়ে যায় জেলেসহ একটি চক্র। এ ডলফিনগুলোকেও সে কারণে মারা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি এও জানান, প্রশাসনকে জানানো হলে ডলফিনটি মাটি চাপা দেয়া ছাড়া আর কোনো তৎপরতা দেখায় না তারা। বিচার না হওয়ার কারণেই সামুদ্রিক প্রাণী হত্যার হার বাড়ছে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা দোষিদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে মিডিয়াকে জানানি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যদি এ সম্পর্কে যদি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়, তাহলে যে সমস্ত জেলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা মৎস কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘যেহেতু এই ডলফিনগুলো আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে, সেটা জেলেদের কারণেও হতে পারে, আবার প্রাকৃতিক কারণেও হতে পারে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিন মুন্না শঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন চলতে থাকলে তা হবে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশের যে বন্ধু, সমূদ্রের যে বন্ধু- ডলফিন, যেগুলো আমাদেরকে সু-বার্তা দিচ্ছিল, সেগুলো যদি এভাবে মারা পড়ে, তাহলে সেটা কিন্তু আমাদের জন্য অশনি সঙ্কেত।’

কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

সমূদ্র পরিবেশের বন্ধু ডলফিন রক্ষর জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান এই সমূদ্র বিশেষজ্ঞ। অধ্যাপক মোসলেম উদ্দিন মুন্নাা বলেন, ‘পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ডলফিনের যে ইকোলোকেশন পদ্ধতি, সেই ইকোলোকেশন পদ্ধতিতে তারা সাউন্ড দিয়ে কম্যুনিকেট করে। সে সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সি ইউজ করে তাদেরকে কিন্তু লোকেট (অবস্থান নির্ণয়) করা যায়, অথবা এভাবে তাদের গতিবিধিও এখন ফলো করা হচ্ছে। যে কেনো পর্যায়ে সেই উন্নতি পদ্ধতি ব্যবহার করে হলেও আমাদের বঙ্গোপসাগরে এই ডলফিনকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।’

জেলেদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে কক্সবাজার জেলা মৎস কর্মকর্তা এসএম খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জেলেদের প্রতি আমাদের পরামর্শ এই যে, যখনই আপনাদের জালে ডলফিন ধরা পড়বে, তৎক্ষণাৎ জাল উঠিয়ে তাকে মুক্ত করে দিতে হবে খুব সাবধানতার সঙ্গে। এমনভাবে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যে, তাকে সুন্দরভাবে কোলে নিয়ে মাথায় এবং লেজে হাত বুলিয়ে তাকে পানিতে ছেড়ে দিতে হবে। জেলেদের প্রতি এই পরামর্শ আমরা সব সময় দিয়ে থাকি।’

  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

    কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

    কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

    কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

    কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

    কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ
  • কক্সবাজার সৈকতে আসা অতিথি ডলফিনের সঙ্গে এ কেমন নিষ্ঠুর আচরণ

পরিবেশ

জেনে নিন মাছের খাবার সংরক্ষণের সঠিক উপায়

আমাদের দেশে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। অনেক বেকার যুবক মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। লাভজনক হওয়ায় দিন দিন মাছ চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে মাছ চাষকে আরও বেশি লাভজনক করতে হলে প্রাকৃতিক খাদ্যের পাশাপাশি মাছকে অতিরিক্ত সম্পূরক খাদ্য দিতে হবে। আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষে যা খরচ হয় তার প্রায় শতকরা ৬০ ভাগই খরচ হয় খাদ্য ক্রয় করতে।

মাছের খাবার তৈরী:

সম্পূরক খাদ্য হিসাবে আমাদের দেশে সচরাচর যে উপাদানগুলো ব্যবহার করা হয় তা হলো,- চালের কুঁড়া, গমের ভুসি, সরিষার খৈল, তিলের খৈল, ফিশমিল, গরু-ছাগলের রক্ত ও নাড়ি-ভুঁড়ি। এ ছাড়া জলজ উদ্ভিদ যেমন,- কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা ইত্যাদি। এসব উপাদান প্রয়োজনমতো মিশিয়ে চাষিরা মাছের খাদ্য তৈরি করেন। কারখানায় তৈরি বাণিজ্যিক খাদ্যও মাছের খামারে ব্যবহার করা যায়। যে ধরনের খাদ্যই মাছ চাষের পুকুরে ব্যবহার করা হোক না কেন তার গুণগতমান ভালো হওয়া আবশ্যক।

খাবারের গুণগতমান ভালো না হলে সুস্থসবল পোনা ও মাছ পাওয়া যাবে না। অন্যদিকে মাছ সহজেই রোগাক্রান্ত হবে এবং মাছের মৃত্যুহার বেড়ে যাবে। আবার মাছের বৃদ্ধিও আশানুরূপ হবে না। খাদ্যের গুণগতমান ভালো রাখার জন্য যথাযথ নিয়মে খাদ্য উপকরণ বা তৈরি খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই নিয়ম মেনে খাদ্য সংরক্ষণ ও গুদামজাতকরণের দিকে নজর দিতে হবে।

মাছের খাদ্যে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০% এর বেশি থাকলে ছত্রাক বা পোকা-মাকড় জন্মাতে পারে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৬৫% এর বেশি থাকলে খাদ্যে ছত্রাক বা পোকামাকড় জন্মাতে পারে। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় খাদ্যের পুষ্টিমান নষ্ট হয়। পোকামাকড়সমূহ ২৬-৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় জন্মাতে পারে। সেই সঙ্গে এরা খাদ্য খেয়ে ফেলে ও তাদের মলমূত্র দ্বারা ব্যাকটোরিয়া ছড়াতে পারে।

সূর্যালোকে খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে কিছু কিছু ভিটামিন নষ্ট হয়ে যায়। খোলা অবস্থায় খাদ্য রাখলে বাতাসের অক্সিজেন খাদ্যের রেন্সিডিটি (চর্বির জারণ ক্রিয়া) ঘটাতে পারে যা খাদ্যের গুণগতমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে । অক্সিজেন ছত্রাক ও পোকা-মাকড় জন্মাতেও সহায়তা করে।

খাদ্য সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম:-

শুকনো খাদ্য ও খাদ্য উপাদান, খাদ্য বায়ুরোধী পলিথিনের বা চটের অথবা কোনো মুখ বন্ধ পাত্রে ঠান্ডা ও শুষ্ক জায়গায় সংরক্ষণ করতে হবে। মাঝে মাঝে এই খাদ্য পুনরায় রোদে শুকিয়ে নিলে ভালো হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পলিমালচ ব্যাবহার করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির উপায়

বর্ষাতে উঁচু জমিতে একটু উঁচু করে মাল্চিং করে জল নিকাশী ভালোভাবে করলে চমৎকার স্মার্ট পদ্ধতিতে আগাছার সমস্যা মিটিয়ে সবজি পাবেন। বিশেষ করে এই মাল্চে কনজারভেশন হবার জন্য উৎপাদনও দেড়গুণ বেড়ে যায়। আর এর সাথে ড্রিপ ব্যবস্থা চালু থাকলে দুগুন ফলন অনায়াসে সম্ভব। পলিমাল্চ সম্ভব না হলে প্রাক গ্রীষ্মের জমিতে বাওয়া সবজি বা শীতের সবজিতে খড় বা ফসলের অবশেষ ইত্যাদি দিয়ে মাল্চেও বেশ কিছুটা লাভ পাওয়া সম্ভব।

বিভিন্ন প্রকার জৈব (খড়, ঘাস, গাছের পাতা, কাঠের গুঁড়ো, ফসলের খোসা ইত্যাদি) এবং অজৈব (প্লাস্টিক, পলিথিন,পাথর, বালি ইত্যাদি) পদার্থ দিয়ে চাষের জমির উপরিভাগকে ঢেকে দেওয়ার পদ্ধতিকে আচ্ছাদন বলা হয়।

জৈব আচ্ছাদন এর সুবিধা (Advantages of Organic Poly Munch) –

  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে সূর্যরশ্মি প্রতিফলিত হয় ফলে মাটির অনুকূল তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
  • জৈব আচ্ছাদন এর উপকরণ মাটির ভৌত-রাসায়নিক এবং জৈব চরিত্রের মান উন্নয়ন করে, মাটি ঝুরঝুরে হয় এবং মাটির মধ্যে উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এমনকি মাটির জৈব কার্বনের পরিমান বৃদ্ধি করে যার ফলে গাছের শেকড়ের বৃদ্ধি ভালো হয়।
  • আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটি থেকে বাষ্পীভবনের হার নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে এবং জলের অপচয় কম হয়। সরাসরি সূর্যালোক প্রবেশ করতে না পারার জন্য এটি উষ্ণ এবং শুষ্ক আবহাওয়ার জন্য খুবই উপযোগী।
  • আগাছা নিয়ন্ত্রণে আচ্ছাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারন চাষের জমির উপরিভাগ আচ্ছাদন উপাদান দিয়ে ঢাকা থাকার ফলে সূর্যালোক সরাসরি মাটিতে প্রবেশ করতে পারে না।
  • জৈব আচ্ছাদন ব্যবহারের ফলে মাটির ক্ষয় কম হয় এবং জল ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

জৈব আচ্ছাদনের সীমাবদ্ধতা (Limitations of organic cover) –

  • অনেকে সুবিধা থাকা সত্ত্বেও জৈব আচ্ছাদন এর বেশকিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে; যেমন –
  • জৈব আচ্ছাদন মাটির মধ্যে খুব বেশি আর্দ্রতা বজায় রাখে, যার ফলে খারাপ জলনিকাশি ব্যবস্থাযুক্ত জমিতে গাছের শেকড়ের চারপাশে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়, যা গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত করে।
  • যদি গাছের কাণ্ডের খুব কাছাকাছি বা সংস্পর্শে আচ্ছাদন উপাদান ব্যবহার করা হয়ে থাকে, তবে রোগ-পোকার আক্রমণ বেশী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • কিছু কিছু জৈব আচ্ছাদন -এর উপকরণ এর মধ্যে আগাছার বীজ থাকে, যা চাষের জমিতে ব্যবহারের ফলে আগাছার সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং ফসলের ক্ষতি করে।
  • এই আচ্ছাদন ব্যবহার করে খরা প্রবণ অঞ্চলে অধিক ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

বিশেষ কলম পদ্ধতিতে ও বীজ থেকে চারা তৈরির মাধ্যমে কাজু বাদাম চাষ

কাজু গাছের বৈজ্ঞানিক নাম Anacardium occidentale। কাজু বাদাম (Cashew Nut) অত্যন্ত সুস্বাদু একটি বাদাম।  ধান চাষের চেয়ে বাদাম চাষ সহজ ও পরিশ্রম কম হওয়ায় এবং কম দামে বীজ পাওয়ায় অনেক কৃষকেরা এর চাষ করে থাকে। কাজু বাদাম গাছ ৬০-৭০ বছর পর্যন্ত বাঁচে এবং ৫০-৬০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। 

আমাদের দেশে একটি অর্থকারী ফসল (Cash crop) হিসেবে কাজু বাদাম চাষ হতে পারে সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত।

বিবিধ পুষ্টিপদার্থ (Nutrition) –

যেমন তামা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, দস্তা, ফসফরাস, আয়রন, সেলেনিয়াম, থায়ামিন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিপদার্থ ভিটামিন কে, ভিটামিন বি৬ ইত্যাদিতে ঠাসা কাজু বাদাম।

এর ১ আউন্স বা প্রায় ২৮.৩ গ্রাম কাজু বাদাম থেকে মোটামুটিভাবে ১৫৭ গ্রাম ক্যালরি, ৫.১৭ গ্রাম প্রোটিন, ১২.৪৩ গ্রাম ফ্যাট, ৮.৫৬ গ্রাম শর্করা, ০.৯ গ্রাম ফাইবার, ১.৬৮ গ্রাম চিনি পাওয়া যায়।

কাজু বাদাম চাষ পদ্ধতি (Cultivation Process) – 

রোপন –

বীজ এবং কলম উভয় পদ্ধতিতেই কাজু বাদামের বংশ বিস্তার করা যায়। কলমের মধ্যে গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম ইত্যাদি প্রধান। বীজ থেকে পলি ব্যাগে চারা তৈরি করে কিংবা কলম প্রস্তুত করে জমিতে রোপণ করতে হবে। 

চারা রোপণের আগে ৭-৮ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ১ ঘনমিটার আয়তনের গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তে সবুজ সার এবং পরিমাণমত ইউরিয়া ও টিএসপি সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে ১৫ দিন পর চারা লাগাতে হবে। চারা গজালে একটি সতেজ চারা রেখে বাকি চারা তুলে ফেলতে হয়। বীজের পরিবর্তে চারা তৈরি করে নিয়েও রোপণ করা যায়। হেক্টর প্রতি প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা ২৪৫-৩৩৫ টি।

সার –

কাজু বাদাম গাছে খুব একটা সার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। ভাল ফলনের জন্য প্রতি ফলন্ত গাছে গোবর-৪০কেজি, ইউরিয়া-১কেজি, টি.এস.পি.-১কেজি এবং এম.পি.সার ১কেজি প্রয়োগ করা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাতা শোষক পোকা ও পাতা কাটা পোকা প্রভৃতি কাজু বাদামের ক্ষতি সাধন করে। তাই পরিমিত পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করে কীটপতঙ্গ দমন করা যায়।

পরিচর্যা:

আগাছা পরিষ্কার করা, মরা অপ্রয়োজনীয় ডাল ছাটাই করা এবং সাথী ফসল চাষ করা প্রয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

জয়পুরহাটে পোকায় খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় ফসলের মাঠে আমন ধানে কারেন্ট পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও পোকাড় আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষা করতে পারছে না কৃষক। আশানুরূপ ফলন না হওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পরেছেন এলাকার কৃষকরা। 

কৃষি বিভাগের দাবি, কৃষকের সব রকমের পরামর্শ প্রদান ও সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ।উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট পোকার আক্রমণে কৃষকের আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

উপজেলার দরপাল গ্রামের কৃষক বিনয় চন্দ্র বলেন, আমরা কৃষকরা সারাদিন মাঠে ফসলের পরিচর্যা করি। ফসলে পোকার আক্রমণ বা রোগবালাই দমনে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করতে হবে এসব পরার্মশ দেওয়ার জন্য কৃষি অফিসের কাউকে মাঠে ঠিকমত পাই না।

আগাইর গ্রামের কৃষক লিটন আরমান বলেন, এ বছর ৪ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। ফলন ভাল হওয়ায় বিঘা প্রতি ২০ মণ ধান পাওয়ার আশা থাকলেও কারেন্ট পোকাড় আক্রমণে অর্ধেক ধানও ঘরে তুলতে পারব না বলে মনে হচ্ছে। তারও অভিযোগ পরামর্শের জন্য কৃষি অফিসের কাউকে না পেয়ে নিজেই কীটনাশক ব্যবহার করি।

এ বিষয়ে আয়মারসুলপুর ইউনিয়নে দায়িত্বরত কৃষি উপ-সহকারী ফজলে রাব্বী বলেন, এত বড় ইউনিয়নে আমি একা দ্বায়িত্ব পালন করছি। যে কৃষক তার ফসলের সমস্যার কথা জানায় সঙ্গে সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে পরামর্শ দেই। 

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নওগাঁয় খেজুর রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় রেল লাইনের দু‘পাশে তাকালেই চোখে পড়ে সারি সারি অসংখ্য খেজুর গাছ। শীতের আগমনী বার্তার সাথে সাথে খেজুর রস সংগ্রহে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে গাছিরা। বৈচিত্রপূর্ণ ছয়টি ঋতুর দেশ আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশ। এক একটি ঋতুর রয়েছে এক একটি বৈশিষ্ট্য। ঋতু বৈচিত্রে এখন রাতের শেষে কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমন বার্তা। আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য খেজুর রস সংগ্রহে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে গ্রামে খেজুর রস সংগ্রহের জন্য গাছিরা খেজুর গাছ কাটার কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর মাত্র কয়েক দিন পর রস সংগ্রহ করে রস থেকে লালি ও গুড় তৈরির পর্ব শুরু হয়ে চলবে প্রায় মাঘ মাস পর্যন্ত। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি উপজেলার প্রতিটি গ্রামে চোখে পড়ছে। খেজুর রস ও গুড়ের জন্য আত্রাই উপজেলা এক সময় খ্যাতি ছিল। সময়ের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী খেজুরের গুড়। 

কিছুদিন আগেও বিভিন্ন এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে, ক্ষেতের আইলে, ঝোপ-ঝাড়ের পাশে ও রাস্তার দুই ধার দিয়ে ছিল অসংখ্য খেজুর গাছ। কোন পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃৃতিকভাবে বেড়ে উঠতো এসব খেজুর গাছ। প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরন করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু খেজুরের গুড়। গ্রামীন জনপদে সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবে পুকুরের পাড়ে রাস্তার ধারে পরিবেশ বান্ধব খেজুর গাছ এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। ইটভাটার রাহু গ্রাসে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার বেশি হওয়ার কারণে যে পরিমাণ গাছ চোখে পড়ে তা নির্বিচারে নিধন করায় দিনদিন খেজুর গাছ কমছেই। এখনও শীতকালে শহর থেকে মানুষ দলে দলে ছুটে আসে গ্রাম বাংলার খেজুর রস খেতে। এক সময় সন্ধ্যাকালীন গ্রামীণ পরিবেশটা খেজুর রসে মধুর হয়ে উঠতো। রস আহরণকারী গাছিদের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করা যেত সে সময়ে। রস জ্বালিয়ে পাতলা ঝোলা, দানা গুড় ও পাটালি তৈরি করতেন। যার সাধ ও ঘ্রাণ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন অবশ্যই সে কথা নতুন প্রজন্মের কাছে রূপকথা মনে হলেও বাস্তব। যত বেশি শীত পড়বে তত বেশি মিষ্টি রস দেবে খেজুর গাছ। এ গাছ ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত রস দেয়। এটাই তার বৈশিষ্ট্য। শীতের পুরো মৌসুমে চলে রস, গুড়, পিঠা, পুলি ও পায়েস খাওয়ার পালা। এছাড়া খেজুরর পাতা দিয়ে আর্কষণীয় ও মজবুত পাটি তৈরি হয়। এমনকি জ্বালানি কাজেও ব্যাপক ব্যবহার। কিন্তু জয়বায়ু পরিবর্তন, কালের বির্বতনসহ বন বিভাগের নজরদারি না থাকায় বাংলার ঐতিহ্যবাহি খেজুর গাছ এখন উপজেলাজুড়ে বিলুপ্তির পথে।নাটোরের লালপুর উপজেলা থেকে আসা গাছি কালাম মিঞা জানান, আমরা পেশাগত কারণে প্রায় প্রতি বছরেই আত্রাই উপজেলার বজ্রপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস এর জমিতে তাবু গেড়ে ওই এলাকার খেজুর গাছ মালিকদের কাছ থেকে ৪ মাসের জন্য গাছ ভেদে ৫ থেকে ৭ কেজি করে খেজুরের গুড় দিয়ে গাছগুলো আমরা নেই। চাহিদা মত খেজুর গাছ না পাওয়ার কারণে রস কম হওয়ায় আশানুরূপ গুড় তৈরি করতে পাড়ি না। তারপরও এ বছর প্রায় ২শ’টির বেশি খেজুর গাছের মালিকদের সাথে চুক্তি করেছি। বর্তমান বাজারে আখের গুড় চিনি যে মূল্যে বেচাকেনা হচ্ছে তার চেয়ে মানসম্পন্ন খেজুরের গুড়ের দাম এ বছর কিছুটা বেশি হবে এমনটাই আসা করছেন গাছিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার হোসেন জানান, বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলেই খেজুর গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গাছিদের খেজুর গাছ কাটার কাজটি শিল্প আর দক্ষতায় ভরা। ডাল কেটে গাছের শুভ্র বুক বের করার মধ্যে রয়েছে কৌশল, রয়েছে ধৈর্য ও অপেক্ষার পালা। এ জন্য মৌসুমে আসার সাথে সাথে দক্ষ গাছিদের কদর বাড়ে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com