আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আলহামদুলিল্লাহ! বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ ৭ মাস ওমরাহ পালন বন্ধ থাকার পর গত ৪ অক্টোবর রোববার কাবা শরিফ খুলে দেয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে ওমরাহ পালন। চিরচেনা রূপে ফিরতে শুরু করেছে কাবা শরিফ প্রাঙ্গন। আল্লাহ প্রেমিকদের ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হচ্ছে কাবা শরিফের পবিত্র চত্বর। খবর আল-আরাবিয়া ডটনেট।

মাতআফের দিকে নজর দিলেই যেন মন জুড়িয়ে যায়। শিশু-কিশোর, যুবক-বৃদ্ধ নারী-পুরুষের পদচারনায় আগের রূপে ফিরছে এ পবিত্র ভূমি। মসজিদে হারামের প্রধান তত্বাবধায়ক ও খতিব কর্তৃক জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ওমরাহ পালনকারীদের শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে সীমিত পরিসরে ওমরা আদায়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

ওমরাহ পালনকারীদের চলাচলের সুবিধার্থে সৌদি পাবলিক ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি প্রতিটি বাসে ২০ জন যাত্রী বহন করার বিবৃতি জারি করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ওমরাহ পালনকারীরা একটি আসন ফাঁকা রেখে যেন তাতে বসে। ওমরায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধার্থে ২০০ বাস প্রস্তুত করেছে কর্তৃপক্ষ।

আরবি গণমাধ্যম আল-আরাবিয়া ডটনেটে সৌদিতে অবস্থানকারী স্থানীয় ও প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ শিশু কন্যাসহ স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ করতে এসেছেন। কেউ এসেছেন একা। আবার কেউ হুইল চেয়ারে ওমরায় অংশগ্রহণ করেছেন।

মিশান আল-হারবি
দীর্ঘ দিন ওমরাহ বন্ধ থাকার পর প্রথম ধাপে শিশু কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ করতে এসেছেন রিয়াদের অধিবাসী মিশান আল-হারবি। প্রথম দিকে তিনি সংকিত ছিলেন যে, শিশু মেয়েসহ ওমরার অনুমতি মিলবে কিনা। এ নিয়ে তিনি দ্বধাগ্রস্ত ছিলেন। তবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তিনি উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন। মহান রবের শোকরিয়া আদায় করেছেন।

আবদুল ওহাব আল-আমিন
সৌদিতে অবস্থানকারী ওমরাহ পালন করতে আসা ইয়েমেনের বাসিন্দা। তার ভাষায়, ‘কারনার কারণে মসজিদুল হারাম বন্ধ হওয়ায় ব্যাকুল হয়ে অপেক্ষায় ছিলাম, কবে কখন কাবা শরিফের আঙিনা সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। অবশেষে মহান আল্লাহর শোকরিয়া যে, তিনি সবার জন্য কাবা প্রাঙ্গন উন্মুক্ত করেন।

আবদুল ওহাব আল-আমিন সৌদি সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। করোনা থেকে ওমরাহ পালনকারীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ থাকতে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করায় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সুরায়া
ওমরাহ করতে আসা আরেক সৌদি নাগরিক সুরায়া বলেন, ‘মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরিফের আঙিনায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি হবে, এমন কিছু জীবনেও কল্পনা করিনি; তারপরও দীর্ঘ ৭ মাস এ পবিত্র আঙিনা থেকে দূরে থাকতে হয়েছে।

সুরায়া আরও বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাবের সময়ে যখন কাবা শরিফের লাইভ চ্যানেলগুলো দেখতাম, তখন জনশূন্য মাতাআফ দেখতাম। নেই কোনো ওমরা আদায়কারীদের ভীড়, নেই তাওয়াফের চোখ জুড়ানো দৃশ্য। এ দৃশ্যে হৃদয় পুড়ে যেত। মনের কষ্ষ্টটে চোখ থেকে পানি ঝরতো। মহান আল্লাহ তাআলার শোকরিয়অ, তার রহমতে আবারও আমাদের জন্য বাইতুল্লাহর দরজা খুলেছে।

সর্বোপরি ধীরে ধীরে বিশ্বব্যাপী সবার জন্য ওমরাহ উন্মুক্ত হবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে বহিঃবিশ্বের লোকদের জন্যও উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে এ ওমরাহ কার্যক্রয়। এমনটি ঘোষণা দিয়েছেন সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন ১৫ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ পালন করতে পারবে। আর সর্বোচ্চ ৪০ হাজার মানুষকে কাবা শরীফে নামাজ আদায় করতে দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, আগামী ১৮ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন ১৫ হাজার ব্যক্তি ওমরাহ পালন করতে পারবে। আর সর্বোচ্চ ৪০ হাজার মানুষকে কাবা শরীফে নামাজ আদায় করতে দেয়া হবে।

এরপর আগামী ১ নভেম্বর থেকে বিদেশি নাগরিকদের ওমরা পালনের সুযোগ দেয়া হবে। এ সময় থেকে প্রতিদিন ২০ হাজার মানুষ ওমরা পালন করতে পারবেন এবং মসজিদের ভেতরে ৬০ হাজার মানুষকে নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন সৌদি হজ ও ওমরাহ কর্তৃপক্ষ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

মক্তব’ শিক্ষাকে এখনো গুরুত্ব দিচ্ছে তিউনিসিয়া

মক্তব। কুরআনুল কারিমের হাতেখড়ির আতুরঘর। মক্তব থেকেই শুরু হয় কুরআনুল কারিমের বরকতময় শিক্ষা। মুসলিম উম্মাহর অধিকাংশ ব্যক্তির কুরআন শেখার হাতেখড়ির অন্যতম স্থান মক্তব। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে এখনও মক্তব শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। এমনই একটি দেশ তিউনিসিয়া।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, শুধু বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানেই মক্তবভিত্তিক কুরআনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিশ্বের অনেক দেশে এখনও মক্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রয়েছে। যেমনটি রয়েছে তিউনিশিয়ায়। দেশটির শিশুরা মক্তবেই পবিত্র কুরআন পড়ে। মক্তবেই তাদের হাতেকলমে পবিত্র কুরআনুল কারিম শিক্ষা দেয়া হয়।

মক্তবে কুরআনুল কারিম শেখার পর নির্দিষ্ট একটি বয়সে এসে এসব শিশু-কিশোরদের ভর্তি করা হয় স্কুলে। ফলে দেশটির প্রায় সব মানুষই পবিত্র কুরআনুল কারিমের শিক্ষা লাভে ধন্য।

উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিশিয়ার প্রায় সব মসজিদেই রয়েছে মক্তবভিত্তিক কুরআন শিক্ষাকেন্দ্র। মসজিদ ছাড়াও অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নিজ উদ্যোগে কুরআনের শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখার জন্য আলাদা ঘর নির্মাণ করে মক্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখায় যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা করে চলছেন।

এ কথা ঠিক যে, মক্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা ছাড়া কুরআনের সঠিক শিক্ষা ও তেলাওয়াত অনেক ক্ষেত্রে একেবারেই অসম্ভব। এ কারণেই ইসলামবিদ্বেষী সব দল ও গোষ্ঠীর পরিকল্পনা হলো- মক্তবের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখা।

উত্তর আফ্রিকার এ দেশটিতে মক্তবেই কুরআনুল কারিমের ছোট সুরাগুলোসহ কুরআনুল কারিমের উল্লেখযোগ্য অংশ শিক্ষার্থীদের মুখস্ত করান। দেশটিতে মক্তবভিত্তিক কুরআন শিক্ষাকে অনেক সম্মানে চোখে দেখেন। এ কারণেই দেশটির অনেক উচ্চশিক্ষিত এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাই মক্তবে কুরআনের শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মক্তবভিত্তিক কুরআনের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও উন্নত করতে চিন্তা এবং গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি দেশটিতে কুরআনুল কারিমের ছোট্ট হাফেজ ৯ বছরের মারিয়াম ওসমানিকে বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয়। মারিয়াম ওসমানি মক্তবেই কুরআনুল কারিমের ১৫ পারা মুখস্ত করেন। মহামারি করোনার কারণে মক্তব বন্ধ থাকায় বাড়িতে বসেই বাকি ১৫ পারা মুখস্ত করেন মারিয়াম ওসমানি।

তিউনিসিয়ানদের চোখে হাফেজরা অনেক সম্মানের। দেশটির ধর্মমন্ত্রী আহমাদ আজুমের ভাষায়, ‘মারিয়াম ওসমানিকে সম্মান প্রদর্শন করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। মূলত কুরআন হেফজ করার জন্য উৎসাহ প্রদান এবং তিউনিসিয়ায় জাতীয় নারী দিবস উপলক্ষে তাকে এ সম্মাননা প্রদর্শন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, উত্তর আফ্রিকার সাগর তীরবর্তী দেশ তিউনিসিয়া। তিউনিস দেশটির বৃহত্তম শহর ও রাজধানী। ১৯৫৬ সালে তিউনিসিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। দেশটির রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। হজরত আমির মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর আমলে প্রসিদ্ধ সাহাবি হজরত উকবা ইবনে নাফে রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে তিউনিশিয়ায় ইসলামের পতাকা উড্ডীন হয়।

তিউনিসিয়ার মতো কুরআন শিক্ষার ধারা অব্যাহত রাখতে বিশ্বের সব দেশেই মক্তবভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা জরুরি। ফলে পৃথিবীজুড়ে চলবে শান্তি ও নিরাপত্তার জয়গান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

কাবা শরিফ ও মদিনার ইমামদের কণ্ঠে ‘সুরা নাস’-এর তেলাওয়াত

কাবা শরিফ ও মদিনার ইমামদের কণ্ঠে ‘সুরা নাস’-এর তেলাওয়াত

কুরআনুল কারিমের তেলাওয়াত দুনিয়ার সেরা সুর। মানুষ মাত্রই কুরআনের সুরে বিমোহিত হয়। আর তা যদি হয় পবিত্র কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববির ইমামদের সুললিত ও আবেগঘন কণ্ঠে; তবে তা কেমন হয়?

কুরআনুল কারিমের সর্বশেষ তথা ১১৪ তম সুরা- ‘সুরা নাস’-এর সুন্দর ও সুস্পষ্ট তেলাওয়াত শুনে শুনে তা শিখতে এবং তেলাওয়াত শুনতে কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববির ১৩ জন ইমামদের কণ্ঠের তেলাওয়াত তুলে ধরা হলো-

দুই পবিত্র মসজিদে প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আজিজ আল-সুদাইস। ১০ ফেব্রুয়ারি ১৯৬০ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে জন্ম নেয়া এ ইমাম ১৯৮৪ সাল থেকে শুরু করে এখনও পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারামে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার কুরআনের তেলাওয়াতে সারা দুনিয়া মাতোয়ারা। তারই কণ্ঠে সুরা নাস-এর তেলাওয়াত শুনে শিখতে পারেন যে কেউ।

সুকণ্ঠের অধিকারী কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ আওয়াদ আল-জুহানি। পবিত্র নগরী মদিনায় ১৩ জানুয়ারি ১৯৭৬ সালে জন্ম নেন তিনি। ২০০৫ সালে রমজানের তারাবিহ নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে তিনি কাবা শরিফে ইমামতি শুরু করেন। তিনি সর্ব প্রথম ১৯৯৮ সালে মসজিদে নববিতে নামাজের ইমামতি করেন। তার কণ্ঠে সুরা নাস-এর তেলাওয়াত শুনেও রয়েছে তা শিখে নেয়ার সুযোগ।

>> শায়খ বালিলাহ

সুকণ্ঠের অধিকারী কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. বন্দর বিন আব্দুল আজিজ বালিলাহ। পবিত্র নগরী মক্কায় ১৯৭৫ সালে জন্ম নেন তিনি। ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই মোতাবেক ১৫ রমজান ১৪৩৪ হিজরিতে মক্কার মসজিদে হারামে তারাবিহ নামাজের ইমামতি শুরু করেন। এর আগে তিনি পবিত্র নগরী মক্কার বিভিন্ন মসজিদে নামাজ পড়ান। অসাধারণ উচ্ছারণ ও আবেগঘন কণ্ঠে তেলাওয়াত শুনেও রয়েছে সুরা নাস শেখার সুযোগ।

>> শায়খ মুয়াইকিলি

কাবা শরিফের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. মাহের বিন হামাদ বিন মুয়াক্বল আল-মুয়াইকিলি। তিনি ৭ জানুয়ারি ১৯৬৯ সালে পবিত্র নগরী মদিনায় জন্ম গ্রহণ করেন। বিশ্বব্যাপী হাফেজ ও কারিদের তেলাওয়াতের আদর্শ ব্যক্তিত্বদের একজন শায়খ মাহের। ২০০৭ সালে তিনি মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফে ইমামতি শুরু করেন। তিনি ১৪২৬-২৭ হিজরিতে মসজিদে নববিতে তারাবিহ নামাজেরও ইমামতি করেন।  অসাধারণ উচ্ছারণ ও আবেগঘন কণ্ঠে তেলাওয়াত শুনার মাধ্যমে সুরা নাস শেখা ও মাশক করতে পারেন যে কেউ।

>> শায়খ শুরাইম

কাবা শরিফের প্রবীন ইমামদের মধ্যে অনত্যম শায়খ ড. সৌদি বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মাদ আল-শুরাইম। তিনি ১৯ জানুয়ারি ১৯৬৪ সালে সৌদি আরবের রিয়াদে জন্ম গ্রহণ করেন। কুরআনুল কারিমের হদর তেলাওয়াতের সেরা কারি তিনি। তার কণ্ঠের তেলাওয়াত যে কাউকে বিমোহিত করে তোলে। ১৯৯১ সালের রমজান মাসে শায়খ শুরাইম পবিত্র কাবা শরিফে তারাবিহ নামাজের মাধ্যমে ইমামতি শুরু করেন।

>> শায়খ দুসারি

বয়সে তরুণ ও সুকণ্ঠের অধিকারী কাবা শরিফের ইমাম শায়খ ড. ইয়াসির বিন রশিদ বিন হুসাইন আল-ওয়াদানি আল-দুসারি। বিচার ব্যবস্থাপনায় উচ্চ শিক্ষা নেয়া শায়খ দুসারি সৌদি আরবের আল-খারজ প্রদেশে ১৯৮০ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ২০১৪ সালে তারাবিহ নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে পবিত্র কাবা শরিফে ইমামতি শুরু করেন। তার কণ্ঠের ভাজে ভাজে কুরআনের সুর ঝংকার ফুটে উঠে।

>> শায়খ কাসিম

পবিত্র নগরী মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল মুহসিন আল কাসিম। তিনি ১৯৬৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি মসজিদে নববিতে নামাজের ইমামতি করেন। ঠাণ্ডা কণ্ঠের চমৎকার তেলাওয়াতের অধিকারী তিনি। তাঁর তেলাওয়াত শুনেও শেখা যেতে পারে সুরা নাস।

>> শায়খ বুয়াইজান

মদিনার মসজিদে নববরি ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-বুয়াইজান। তিনি ১৯৭৮ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ২০১৩ সাল থেকে তিনি মসজিদে নববিতে ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সুকণ্ঠের অধিকারী বুয়াইজানের তেলাওয়াত শুনেও সুরা নাস শেখার সুযোগ রয়েছে।

>> শায়খ আহমাদ হুজাইফি

মদিনার মসজিদে নববির ইমাম শায়খ ড. আহমাদ বিন আলি বিন আব্দুর রহমান আল-হুজাইফি। তিনি মদিনার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ আলি আল-হুজাইফির ছেলে। আবেগঘন ও সুকণ্ঠের অধিকারী হুজাইফি ২০১৯ সাল থেকে মসজিদে নববির ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। ইমাম হিসেবে নিয়োগের আগে তিনি রমজানে তারাবিহ নামাজ পড়ানোর মাধ্যমে মসজিদে নববিতে ইমামতি শুরু করেন। তিনি মদিনার মসজিদে কুবার ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার কণ্ঠে ভেসে উঠেছে সুরা নাস-এর অসম্ভব সুন্দর ও আবেগী তেলাওয়াত।

>> শায়খ আলি হুজাইফি

মদিনার মসজিদে নববির প্রবীণ ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আলি বিন আব্দুর রহমান আল-হুজাইফ। সুকণ্ঠী তেলাওয়াতকারী হিসেবে তিনি বিশ্বব্যাপী কুরআনের সেরা কারি হিসেবে পরিচিত। তিনি ১৯৪৭ সাল ২২ মে জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি মসজিদে নববির ইমামের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ বয়সেও তার কণ্ঠে সুরা নাসের তেলাওয়াত মানুষ বিমোহিত করে তোলে।

>> শায়খ খালিদ

সুকণ্ঠের অধিকারী মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. খালিদ বিন সুলাইমান মুহান্না। তিনি ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবের আল-আহসায় জন্ম গ্রহণ করেন। ২০১৫ সাল থেকে শায়খ খালিদ মুহান্না মসজিদে নববিতে ইমামতি শুরু করেন।

>> শায়খ বুদাইর

মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব শায়খ ড. সালাহ বিন মুহাম্মাদ আল-বুদাইর। তিনি সুন্দর ও সুস্পষ্ট তেলাওয়াতের অধিকারী সৌদি আরবের অন্যতম কারিদের একজন। তিনি ১৯৭০ সালের ৭ জানুয়ারি সৌদি আরবের আল-হুফুফে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি পবিত্র নগরী মক্কার মসজিদে হারাম তথা কাবা শরিফের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি মদিনার মসজিদে নববিতে ইমামতির দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তার কণ্ঠে সুরা নাস-এর তেলাওয়াত যে কাউকে বিমোহিত করবে।

>> শায়খ আইয়ুব

মদিনার মসজিদে নববির ইমাম শায়খ কারি মোহাম্মদ আইয়ুব। তিনি সৌদি আরবের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআনুল কারিম তেলাওয়াত করতেন। দেশটির বিশিষ্ট কারি, ইমাম ও ইসলামিক স্কলার হিসেবে তিনি ব্যাপক পরিচিত ছিলেন। তিনি ১৯৫১ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালের ১৬ এপ্রিল তিনি মদিনায় ইন্তেকাল করেন। বিশ্বব্যাপী কুরআনুল কারিমের তেলাওয়াতের জন্য তিনি ব্যাপক সমাদৃত। তিনি ১৯৯০ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত মদিনার মসজিদে নববিতে ইমামতি দায়িত্ব পালন করেছেন। যদিও মাঝে কিছুদিন তিনি মদিনার মসজিদে কুবায় ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার সুন্দর তেলাওয়াত থেকে যে কেউ সুরা নাস সহজে শিখতে পারবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সবাইকে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনার ইমাম ও খতিবদের তেলাওয়াত শুনে তা থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করার এবং বিশুদ্ধভাবে কুরআন শেখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যে অপরাধের সাজা ১০ গুণেরও বেশি

নেক আমল বা ইবাদতের ক্ষেত্রে বান্দার আমলনামায় ভালো কাজের বিপরীতে ১০ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত সাওয়াব বাড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা এসেছে হাদিসে। পক্ষান্তরে একটি অপরাধের বিনিময়ে একটি গোনাহের কথা সবাই জানে। কিন্তু এমন একটি অপরাধ রয়েছে, যার শাস্তি হবে ১০ গুণ। তাহলে কী সেই অন্যায় বা অপরাধমূলক কাজ? এ সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনাই বা কী?

এ কথা সবার জানা যে, ভালো কাজের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহ তাআলা বান্দার জন্য সাওয়াব বাড়িয়ে দেবেন। তিনি বান্দার জন্য আরহামুর রাহিমিন- এটাই তার প্রমাণ। কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্রে এমন একটি মন্দ কাজ আছে, যাতে একটি মন্দ কাজের সাজা অন্য ১০টি মন্দ কাজের সাজা বা শাস্তির সমান। হাদিসে এসেছে-

হজরত মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সাহাবায়ে কেরামকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, কারো সঙ্গে জেনা বা ব্যভিচার করাকে তোমরা কীভাবে দেখ? সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! এটা তো হারাম; আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন। অপরাধসমূহের মধ্যে বড় মারাত্মক অন্যায় কাজ।

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, প্রতিবেশী কোনো নারীর সঙ্গে জেনা বা ব্যভিচার করা অন্য যে কোনো ১০ জন নারীর সঙ্গে জেনা বা ব্যভিচার করার চেয়েও জঘন্য অপরাধ। তিনি আরও বলেছেন- প্রতিবেশীর কোনো কিছু চুরি করা, অন্য ১০ ঘরে চুরি করার চেয়েও মারাত্মক অপরাধ।’ (মুসনাদে আহামদ)

এ হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতিবেশীর সঙ্গে অপরাধ করলে অন্য কোথাও সম অপরাধের ১০ গুণ বেশি অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন। এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ১০ গুণ শাস্তি ভোগ করবে।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হাদিসে প্রতিবেশীর সঙ্গে দুটি অপরাধের (ব্যভিচার ও চুরি) কথা উল্লেখ করেন। এভাবে প্রতিবেশীর সঙ্গে যে কোনো অপরাধই অন্যদের সঙ্গে করা অপরাধের চেয়ে ১০ গুণ বেশি শাস্তি ভোগ করতে হবে।

মনে রাখা জরুরি
প্রতিবেশী স্থায়ী হোক কিংবা অস্থায়ী হোক; নিজ বাড়ির পাশের প্রতিবেশী হোক কিংবা ভাড়া বাড়ির পাশের প্রতিবেশী হোক; কোনোভাবেই প্রতিবেশীর সঙ্গে অন্যায় অপরাধ করা যাবে না। প্রতিবেশীর সঙ্গে করা যে কোনো অপরাধের শাস্তি ১০ গুণ ভোগ করতে হবে।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের প্রতি হাদিসের আহ্বান ও শিক্ষা হলো- প্রতিবেশী সঙ্গে শুধু জেনা-ব্যভিচার বা চুরি-ডাকাতিই নয় বরং কোনো ধরনের অপরাধ বা অন্যায়মূলক কাজের সঙ্গে জড়িত না হওয়া। কেননা প্রতিবেশীর সঙ্গে অন্যায় করার গোনাহের শাস্তি হবে ১০ গুণ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিবেশীর সঙ্গে খারাপ আচরণ বা অপরাধ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো আচরণ করার তাওফিক দান করুন। ভালো আচরণ সব সময় সব স্থানে অব্যাহত রাখার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

বিশ্বনবি ছিলেন দয়ার মহাসাগর

আলহামদুলিল্লাহ! পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস অতিবাহিত করছি আমরা। এ পবিত্র মাসেই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল্লাহ তাআলা বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ

‘আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্যে রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১০৭)

শান্তি ও রহমতের বার্তা নিয়েই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ পৃথিবীতে এসেছেন। তিনি সমগ্র বিশ্বের জন্য কেবল রহমত এবং শান্তির কারণই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সকল গুণে পরিপূর্ণ। এমন কোনো গুণ বা বৈশিষ্ট্য অবশিষ্ট নেই; যা তার মাঝে ছিল না। আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে ঘোষণা করেন-

لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ

‘যদি আমি এ কুরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি অবশ্যই দেখতে যে, আল্লাহর ভয়ে পাহাড় বিনীত হয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।’ (সুরা হাশর : আয়াত ২১)

এ আয়াতে সেই নিগুঢ় তত্বই বর্ণনা করা হয়েছে। বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র সত্তা-ই ছিল সেই সত্তা, যিনি বিনয় এবং নম্রতা অবলম্বনের ক্ষেত্রে সব মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী ছিলেন। একারণেই পবিত্র কুরআনের মত মহা মর্যাদাপূর্ণ বাণী তাঁর পবিত্র হৃদয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল।

আর বিনয়, নম্রতা ও কোমলতায় উন্নতি করে তিনি আপন সত্তাকে আল্লাহর রাহে এত বেশি বিলীন করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর নৈকট্যের ক্ষেত্রে তিনি সেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন; যেখানে পৌঁছতে পারেনি কোনো ফেরেশতা।

মানুষের জন্য এত দরদ, এত প্রেম, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা দুনিয়ার অন্য কারও মাঝেই পাওয়া যায়নি। কেননা তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের এবং সমগ্র জাতির জন্য হেদায়েতের মানদণ্ড। আল্লাহ তাআলা বলেন-

لَقَدْ جَاءكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ

‘অবশ্যই তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সুরা তাওবা : আয়াত ১২৮)

বিশ্ব মানবতার প্রতি বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে ভালোবাসা ছিল, তা তার জীবনের কয়েকটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করলেই বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হয়ে উঠে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তায়েফ সফরের ঘটনা সবর্জন বিদিত ও পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল ঘটনার সাক্ষী।

মক্কায় আল্লাহ তাআলার তাওহিদ তথা একত্ববাদের প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে সাড়া না পেয়ে তিনি মক্কার পাশ্ববর্তী তায়েফ নগরীতে গমন করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভাবলেন, তায়েফবাসী হয়তো বা তার কথা শুনবে। তাকে মেনে নেবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলার তাওহিদের বাণী তায়েববাসীরা শোনাতো দূরের কথা, বরং তিনি সেখানে চরম অমানবিক জুলুম-অত্যাচারের শিকার হলেন।

তায়েফের লোকেরা একশ্রেণির বখাটেদের বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে নির্যাতন ও পাথর নিক্ষেপের জন্য লেলিয়ে দেয়। তারা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জ্যোতির্ময় পবিত্র দেহকে পাথরের আঘাতে রক্তাক্ত করে দেয়।

আত্মরক্ষার্থে উম্মতের দরদীবিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্রুত তায়েফ ত্যাগ করেন। তিনি যখন তায়েফের উপকণ্ঠে পৌঁছেন তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ফেরেশতা এসে বললেন-

‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যদি চান, তাহলে এই জালিম অধিবাসীর শহরকে আল্লাহ তাদের পাপের দরুন ধ্বংস করে দেবেন।’ ফেরেশতার কথার জবাবে উম্মতের দরদীনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার দরবারে দুই হাত তুলে এভাবে দোয়া করলেন-

হে আল্লাহ! তারা অজ্ঞতাই তারা আমার ওপর জুলুম করেছে। তুমি এদেরকে ক্ষমা কর এবং হেদায়াত দাও।’

কতই না মহান শিক্ষার সূচনা করলেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হায় আফসোস! মুসলিম বিশ্ব যদি এই দরদীনবির কর্মময় জীবন থেকে সামান্যও শিক্ষা গ্রহণ করতো তাহলেই বিশ্বের আনাচে-কানাচে কোনো অরাজকতা থাকতো না।

নবুওয়ত লাভের পর মক্কার জীবনে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তার প্রিয় সাহাবাগণ যে পৈশাচিক জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন; তার ইতিহাস আমরা সবাই জানি।

আবু জাহল ও আবু লাহাবের দল তার ওপর জঘন্য শারিরীক নির্যাতন চালিয়েছিল। সে সময় বহু নিরপরাধ মুসলমানকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল। অবশেষে জালিমদের জুলুম-নির্যাতনে প্রিয় মাতৃভূমি মক্কা ছেড়ে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় চলে গেলেন।

যেদিন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহা বিজয়ী বেশে পবিত্র নগরী মক্কায় প্রবেশ করেন; সেদিন মক্কাবাসীরা ভেবে ছিল- আজ নিশ্চয়ই তাদের নিস্তার নেই। তারা ভয়ানক শাস্তির প্রতীক্ষা করছিল। কিন্তু রাহমাতুল্লিল আলামিন, মানব দরদী রাসুল সবাইকে অবাক করে দিয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলেন। তিনি ঘোষণা দিলেন-

‘আজ যারা বিলালের পতাকার নিচে এসে দাড়াবেতাদের সকলকে ক্ষমা করা হবে।‘ সুবহানাল্লাহ!

মহান আল্লাহ তাআলার রহিমিয়াত ও রহমানিয়াতের গুণে পরিপূর্ণরূপে গুণান্বিত না হলে এমন সাধারণ-ক্ষমা করা কি সম্ভব? শুধু কি তাই! যেমন ছিলেন বিশ্বনবি-

– বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মানব-দরদী রাসুল; যিনি বিচলিত চিত্তে এক ইহুদি শিশুকে তার মৃত্যুশয্যায় দেখতে যান এবং দরদ ভরা হৃদয়ে তাকে তাওহিদের বাণী শুনান।

– তিনি সেই রাহমাতুল্লিল আলামিন; যিনি মানবতার সম্মানে এক ইহুদীর লাশ দেখে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান।

– তিনিই সেই ক্ষমাশীল রাসুল; যার মহান ক্ষমায় তারই সামনে নিবেদিত হয়ে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় হাজার হাজার বিধর্মীরা আশ্রয় গ্রহণ করে।

– তিনি সেই পরম স্নেহময় রাসুল; যার অকৃত্রিম স্নেহের স্পর্শে পালিত পুত্র জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয় পিতামাতার কাছে ফিরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং স্নেহময় রাসুলের কাছেই কাটিয়ে দেন সারাটি জীবন।

– তিনিই তো সেই বাদশাহ রাসুলযিনি তার সব কিছু দুই হাতে বিলিয়ে দিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় তার পরম স্নেহময় প্রভুর কাছে প্রত্যাবর্তন করেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রেম-ভালোবাসা, দয়া এবং তার পবিত্রকরণ শক্তির প্রভাবে বিশ্বব্যাপী শত্রু-মিত্র সব মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন।

– শ্রেষ্ঠনবির উম্মত হিসেবে নিজেদের মাঝে তার আদর্শের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

– মানুষকে ভালোবাসতে হবে।

– মানুষের প্রতি সর্বোচ্চ দয়া দেখাতে হবে।

– সব ধর্মের অনুসারীদের প্রতি ভালোবাসাপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে।

– অন্যের বিপদ-আপদে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে।

– ক্ষমার অনুপম দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

আমরা মুখে মুখে নিজেদের শ্রেষ্ঠনবির শ্রেষ্ঠ উম্মত দাবি করি ঠিকই কিন্তু বাস্তবে কাজের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের কোনো কাজই করি না। যা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আদর্শের বিপরীত। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তাই মুসলিম উম্মাহর উচিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ নিজেদের জীবনে ধারণ করা। কুরআন-সুন্নাহর নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা। যাতে নিহিত রয়েছে মহান আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি।

আল্লাহ তাআলা উম্মাতে মুহাম্মাদিকে রবিউল আউয়ালের এ পবিত্র মাসের তাঁরই আদর্শে উজ্জীবিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। বিশ্বনবির আদর্শকে অনুসরণ ও অনুকরণ করে চলার তাওফিক করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সকালবেলা নিয়মিত যে দোয়া পড়তেন বিশ্বনবি

সুন্নাতি জীবন-যাপন মানুষের মুক্তিরএকমাত্র পথ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে দেখিয়েছেন সঠিক পথের সন্ধান। সুখ ও বরকতময় জীবন লাভের পাথেয় ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি নিজে আমল করেছেন। প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমলগুলো মুমিন মুসলমানদের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিয়মতি ফজরের নামাজের পরপরই আল্লাহর কাছে হালাল রিজিক কামনা করতেন। এমন জ্ঞান কামনা করতেন, যাতে মানুষের উপকার হয়। আর নিজের আমলগুলো কবুল হওয়ার জন্যও প্রার্থনা করতেন। এটি মূলত উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শেখানো একটি দোয়া ও নসিহত। হাদিসে এসেছে-

হজরত উম্মু সালামাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের নামাজ পড়ে সালাম ফিরিয়ে বলতেন-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْمًا نَافِعًا وَرِزْقًا طَيِّبًا وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ ওয়া রিযকান তায়্যিবা ওয়া আমালান মুতাকাব্বিলা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান প্রার্থনা করছি, উত্তম-পবিত্র রিজিক কামনা করছি এবং কবুল হওয়ার মতো কর্ম তৎপরতা কামনা করছি।’ (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমাদ)

দিনের শুরুতে ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর এ দোয়া পড়তেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ আমলটি প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদার। কেননা মুমিন মুসলমানের তো হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান, কবুলযোগ্য আমলই জীবনে একমাত্র চাওয়া-পাওয়া।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিদিন ফজরের নামাজের সালাম ফেরানোর পরপর হাদিসে নির্দেশনা অনুযায়ী এ আমল ও দোয়াটি যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। হালাল রিজিক, উপকারি জ্ঞান এবং নেক আমলগুলো কবুল করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com