আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

এ পদ্ম এল কোত্থেকে?

কথা বলার ক্ষমতা থাকলে কুমিল্লার দক্ষিণ গ্রামের পদ্ম ফুলগুলো হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘জন্মকথা’ কবিতার শিশুটির মতোই বলত:  
‘এলেম আমি কোথা থেকে
কোনখানে তুই কুড়িয়ে পেলি আমারে।’

এখন এই বিস্ময় ঘেরা প্রশ্নগুলো করছেন উদ্ভিদবিদ, গবেষকেরা। পদ্মের এ প্রজাতি দেশে তো বটেই, পুরো এশিয়ায় বিরল। উত্তর আমেরিকার একটি প্রজাতির সঙ্গে কিছুটা মিল আছে বটে। তবে ওই পদ্মের সঙ্গেও কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা পেয়েছেন গবেষকেরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান রাখহরি সরকারের কথা, ‘এই নতুন প্রকৃতির পদ্মফুল নিঃসন্দেহে ভিন্নতর। এমন পদ্ম আগে কোথাও পাওয়া যায়নি।

আমাদের উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্যে এটি একটি নতুন সংযোজন। এটা কীভাবে এখানে এল তা সত্যিই আশ্চর্যের।’

গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় পদ্মফুল নিয়ে একটি ছবি ও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গ্রামের একটি জলাশয়ের পদ্মের ছবিটিতে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক এবং বিভাগের সঙ্গে কাজ করা গবেষকদের।


এই ‘অন্যরকম’ পদ্মের সন্ধানে ছুটে যান বিভাগের কয়েকজন শিক্ষক ও গবেষক। তাঁরা  ইতিমধ্যে পাঁচবার ওই এলাকায় গেছেন এবং নমুনা সংগ্রহ করেছেন। গবেষণার মাধ্যমে এই বিশেষ পদ্ম ফুলটিকে যথাযথভাবে শনাক্ত করার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।

গবেষকেরা বলেন, বিশ্বে পদ্মের দুই প্রজাতি। এর একটি এশিয়ান পদ্ম  (বৈজ্ঞানিক নাম-নিলাম্বো নুসিফেরা গেয়ার্টনার (Nelumbo nucifera Gaertner)। এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এ পদ্ম জন্মে। এর রং হয় সাদা এবং হালকা বা গাঢ় গোলাপি।

গোলাপি ও সাদা বর্ণের পদ্মফুল দেখতে আমরা অভ্যস্ত এবং আমাদের দেশের সর্বত্র এই পদ্মটিই বেশি পাওয়া যায়।

আরেক প্রজাতির পদ্ম হলো আমেরিকান লোটাস বা ইয়োলো লোটাস। (বৈজ্ঞানিক নাম Nelumbo lutea Willd. )। এ প্রজাতির পদ্ম শুধু উত্তর ও মধ্য আমেরিকায় জন্মে।

বুড়িচংয়ে পাওয়া এ পদ্ম আমেরিকান লোটাসের কাছাকাছি, অন্তত রঙের দিক থেকে। কিন্তু বুড়িচংয়ের পদ্মের সঙ্গে আমেরিকান লোটাসের কিছু ক্ষেত্রে ভিন্নতা আছে বলে জানান রাখহরি সরকার। তিনি বলেন, ‘আমেরিকান লোটাসের পাপড়ির সংখ্যা যেখানে ২০ থেকে ২৫টি হয়, সেখানে নতুন এ পদ্মের পাপড়ির সংখ্যা ৭০টির মতো। আবার এর পুংকেশরের গঠনও আমেরিকান লোটাস থেকে আলাদা।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সঙ্গে গবেষণার কাজে আছে বেঙ্গল প্ল্যান্টস রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। এর নির্বাহী পরিচালক শিকদার আবুল কাসেম শামসুদ্দীন শুধু পদ্মফুল নিয়ে গবেষণা করছেন পাঁচ বছর ধরে। তিনিও বুড়িচংয়ে যান কয়েক বার। শামসুদ্দিন সিকদার বলেন, সাধারণ পদ্মের সঙ্গে এর আরেক ভিন্নতা হলো এটি আকারে বড়। এর গঠন শৈলী এবং বর্ণ বৈচিত্র্যময়। হালকা হলুদ বর্ণের এমন পদ্ম ইতিপূর্বে কোথাও পাওয়া যায়নি। কাজেই হলুদ বর্ণের পদ্মটি বাংলাদেশে পাওয়া সমস্ত পদ্মফুল থেকে ভিন্নতর এবং উদ্ভিদ জীববৈচিত্র্যের দৃষ্টিতে অত্যন্ত উৎসাহজনক

এই পদ্ম এখানে এল কীভাবে সেই প্রশ্নটি এখন গবেষকদের ভাবাচ্ছে। তাঁদের ধারণা, হয়তো অনেক আগে এলাকার কেউ এই পদ্ম যেখানে পাওয়া যায় সেখান থেকে নিয়ে এসেছিলেন। অর্থাৎ কেউ হয়তো উত্তর বা মধ্য আমেরিকার কোনো দেশ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। হয়তো দীর্ঘদিনের বিবর্তনে গঠন বৈচিত্র্যের দিক থেকে এ পদ্মে ভিন্নতা এসেছে।

বুড়িচংয়ের দক্ষিণ গ্রামের খুব বয়স্ক ব্যক্তিরা বলছেন, তাঁরা ছোটবেলা থেকে এ পদ্ম দেখছেন। আর এ গ্রামের কোনো ব্যক্তি এখন বা অতীতেও ওসব দেশে গিয়েছিলেন, এর কোনো নজির নেই।

তবে একটি পদ্মের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে দু-তিন শ বছর কোনো বিষয় না, এমনটাই মন্তব্য করেন অধ্যাপক রাখহরি সরকার। তাঁর কথা, পদ্মের বীজ এক হাজার তিন শ বছর পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে। তাই কয়েক শ বছর আগে এখানে এ বীজ এলে আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না।

তবে বুড়িচংয়ের পদ্মের উৎপত্তি, এর বিকাশ নিয়ে গবেষকেরা কাজ করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে শেষ কথা বলার সময় যে আসেনি, তা তাঁরা জোর দিয়েই বলছেন। শুধু গবেষকেরা একটি বিষয় নিশ্চিত, এ পদ্ম একেবারে নতুন। আর দেশের উদ্ভিদ প্রজাতির পরিবারে এ এক নতুন সংযোজন। সংগত কারণে, এটি গবেষণার একটি নতুন উপাদান।

জলাশয় কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অনেক এলাকা থেকে পদ্ম হারিয়ে যাচ্ছে। গবেষকদের কথা, বছর আট-দশ বছর আগে যেসব বিলে বা জলাশয়ে পদ্ম ছিল তা এখন পাওয়া যায় না। পদ্ম কেবল জলাশয়ে শোভা বৃদ্ধিকারী ফুল না। এটি অনেক ভেষজ গুণ সম্পন্ন এবং পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে পদ্মের শিকড় চীন, জাপানসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশে স্বীকৃত ও সমাদৃত। এখন বুড়িচংয়ের এ পদ্মের যদি যথাযথ সংরক্ষণ হয়, এর বিস্তার হয় তবে আমাদের প্রকৃতির জন্য এ হবে এক বড় শুভ সংবাদ।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

বিকলাঙ্গ হয়েও পান না প্রতিবন্ধী ভাতা, থাকছেন ভাঙা ঘরে

আমার স্বামী একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে আমার চিকিৎসা খরচ চালান। এই দিনমজুরি টাকা দিয়ে ওষুধ কিনব, নাকি ঘর ঠিক করব, না সংসার চালাব? সরকারের কাছে আমার আবেদন যেন সরকার আমাকে একটা ঘর দেয়। এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে যেন ওই ঘরে সুখে-শান্তিতে দিন কাটাতে পারি। এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী নমিতা রানী (২৮)। তার স্বামীর নাম সাধন চন্দ্র (৩৫)।

নিজস্ব জমি না থাকায় পাঁচ বছর ধরে সরকারি খাসজমিতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এই প্রতিবন্ধী দম্পতি। নমিতা রানীর একটি হাত ও একটি পা বিকলাঙ্গ। তারপরও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। অভাবের কারণে অনেক সময় অভুক্ত থাকতে হয়।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের পূর্ব সিন্দুর্না গ্রামের খাসজমিতে বসবাস করেন দিনমজুর সাধন চন্দ্র ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী স্ত্রী নমিতা রানী (২৮)। এই দম্পতির এক ছেলে নয়ন চন্দ্র ও এক মেয়ে বৃষ্টিকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার। ছেলে নয়ন পঞ্চম শ্রেণিতে ও মেয়ে বৃষ্টি তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

শুধু খাওয়ার কষ্টই নয়, নমিতা বুকের ভাল্ভ ও ছেলে নয়ন হার্টের সমস্যায় ভুগছে। প্রতি সপ্তহে তাদের জন্য ওষুধ কিনতে লাগে প্রায় সাড়ে ৭০০ টাকা। তাদের চিকিৎসা করতে সব শেষ করছেন সাধন চন্দ্র।

ভূমিহীন এই পরিবারে থাকার একটি ঘর গত ছয় মাস আগে ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে। সেই থেকে ভাঙা টিনের ঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে ঠান্ডায় বসবাস করছেন এই দম্পতি। চার মাস আগে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে দেখা করে ঢেউটিনের জন্য আবেদন দিয়েও আজ পর্যন্ত টিন পাননি।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কনকনে শীত আর ঠান্ডা বাতাসে ভাঙা টিনের ঘরে প্লাস্টিক মুড়িয়ে ছেলেমেয়েকে নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন এই দম্পতি। ঘরের সব টিন জং ধরে ভেঙে পড়েছে। ঘরে থাকার কোনো

সাধন চন্দ্র বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই খাসজমিতে বসবাস করছি। স্ত্রী ও ছেলের চিকিৎসা করে সব শেষ করছি। ঘর ভেঙে পড়েছে। ঘরটি তোলার কোনো উপায় নেই। আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। ইউএনওর কাছে টিনের জন্য দরখাস্ত দিয়েছি। ইউএনও বলেছেন, টিন এলে পাবেন। কিন্তু চার মাসেও টিন পাইনি। কেউ যদি আমার ঘরটি টিন দিয়ে ঠিক করে দিত, তাহলে ভগবানের কাছে আশীর্বাদ করতাম।’

ওই গ্রামের প্রতিবেশী আবু সাঈদ জানান, সাধান চন্দ্র একজন দিনমজুর, গরিব। তার স্ত্রী নমিতা শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। টাকা-পয়সা না থাকায় ভাঙা ঘরটিতে ছেলেমেয়ে নিয়ে রাতযাপন করছেন। মুজিববর্ষ উপলক্ষে তার একটি সরকারি ঘর পাওয়া উচিত বলে মনে করি।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) আমিনুর রহমান জানান, সাধন চন্দ্র একজন হতদরিদ্র ব্যক্তি। তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য। তবে সরকারি ঘর পাওয়ার তালিকা থেকে তিনি কেন বাদ পড়েছেন তা আমার জানা নেই।’

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরল আমিন বলেন, ওই পরিবারটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে সরকারি ঘরের জন্য আবেদন দিলে বিষয়টি দেখা যাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, তিনি ভূমিহীন হলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য হলে ঘরের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন, টিনের জন্য আবেদনপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ফেসবুকে স্ট্যাটাস : খাট-লেপ-তোশক-খাবার পেলেন বৃদ্ধা

জামালপুরের বকশীগঞ্জে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে ৭৬ বছর বয়সী অসহায় এক বৃদ্ধার পাশে দাঁড়িয়েছেন তরুণ বস্ত্র প্রকৌশলী আল ইমরান।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে বৃদ্ধা তুলো বেওয়ার দুর্দশার কাহিনী ফেসবুকে পোস্ট করেন স্থানীয় আবদুর রাজ্জাক মাহমুদ নামের এসডিজি জেলা নেটওয়ার্কের এক সদস্য।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) আল ইমরান তার প্রতিনিধির মাধ্যমে খাট, শীত নিবারণের জন্য লেপ, তোশক, বালিশ, খাবারের জন্য চাল ও নলকূপ ওই বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জের মেরুরচর ইউনিয়নের পূর্ব কলকিহারা গ্রামের মৃত জমুর শেখের বিধবা স্ত্রী তুলো বেওয়া একটি একচালা ছাপরা ঘরে বসবাস করেন। তার দুই ছেলেও অভাব ও দরিদ্রতার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

দুই ছেলে কাছে না থাকায় অনেক কষ্টে ও অন্যের কাছে খাবার চেয়ে কোনো রকমে দিন কাটান এই বৃদ্ধা। বিশেষ করে ছাপরা ঘরে অন্ধকার রাতে একা থাকেন তিনি। বিদ্যুৎ সংযোগও নেয়া সম্ভব হয়নি অর্থের অভাবে।

খুবই স্বল্প সময়ের মধ্যে বৃদ্ধাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়ারও আশ্বাস দেন তরুণ সমাজসেবক আল ইমরান।

প্রকৌশলী আল ইমরান বলেন, বৃদ্ধার দুর্দশার কথা জানতে পেরে আমি এগিয়ে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব অসহায়-দুস্থ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাবো।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তিন মেয়েকে নিয়ে ভাঙা ঘরে রাত কাটে ফাতেমার

মোর আড়াই শতক ভুই (জমি)। ভালো একনা ঘর নাই। একনা ভাঙা টিনের চালা। ওকনা চালায় তিন কোনা বেটি (মেয়ে) নিয়া থাকোং (থাকি)’ বলেন ফাতেমা।

‘আইতে (রাতে) ঘুমির পাং না, বৃষ্টির দিনোত চালা দিয়ে পানি পড়ে। শীতের দিনোত বাতাস ঢোকে ঘরের ভেতরোত। স্বামী মরছে দেড় বছর হয় বিধবা ভাতার কার্ডও পাং নাই। মুই তো মোর কষ্টের কতা (কথা) চেয়ারম্যান-মেম্বারের কতবার কছুং ৷ কাও মোর ভাতা করে দেয় নাই৷ সরকার থেকে যদি একনা ঘর পানুং হয় তাইলে বাকি জীবনটা ভালো করে কাটনুং (কাটিল) হয়’।

এভাবেই নিজের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের ৪নং দলগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ দলগ্রাম (হাজীপাড়া) এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের মৃত্যু সামছুল হকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দশ বছর ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। দেড় বছর ধরে স্বামীহারা হলেও এখন পর্যন্ত ভাগ্যে জোটেনি বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিংবা মাথা গোঁজার মতো একটা সরকারি ঘর। তবে সরকারি কাজের বিনিময় খাদ্য কর্মসূচিতে নাম রয়েছে তার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি টিন দিয়ে তৈরি একটি টিনের ঘরে বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় তিন কন্যাসন্তানকে নিয়ে কোনোমতে কষ্টে বসবাস করছেন ফাতেমা।

অভাবের তাড়নায় এক মেয়েকে অন্য বাড়িতে রেখে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে। আর দুই মেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

সারাদিন পরিশ্রম করে রাতে একটু ভালোভাবে ঘুমাতেও পারেন না তারা। ঘন কুয়াশায় ভিজে যায় বিছানাপত্র। তবুও বেঁচে থাকার তাগিদে জরাজীর্ণ ভাঙা টিনের চালায় রাতভর ছটফট করে তিন সন্তানকে নিয়ে থাকতে হয় ফাতেমাকে। মুজিববর্ষে সরকারি একটি ঘর পাওয়ার আকুতি জানান ফাতেমা বেগম।

এ বিষয়ে দলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিদ্রনাথ বর্মণ জানান, মাত্র দুই মাস হলো দায়িত্ব নিয়েছি। তবে এ অসহায় বিধবা সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য বলেই মনে করি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতা, প্রথম পুরস্কার মোবাইল

ষাঁড়ের লড়াই, মোরগ লড়াই, ঘৌড়দৌড়। এমনকি হালের বলদের দৌড় প্রতিযোগিতার কথা সবাই জানেন, দেখেছেন। তবে পোষা ছাগলের দৌড় প্রতিযোগিতার বিষয়টি একেবারেই নতুন। তাই তো ছাগলের দৌড় দেখতে ভিড় জমান এলাকার ছেলে-বুড়ো সবাই। করোনাকালীন একটু বিনোদনের ব্যবস্থা করতেই এমন আয়োজন আয়োজকদের।

বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে ছাগল দৌড়ের এমন ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলার ‘পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংগঠন’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এ দিন বিকেলে স্থানীয় ফেনাবাড়ি বন্দে অনুষ্ঠিত ছাগল দৌড় প্রতিযোগিতায় পালিত ১৬টি ছাগলসহ এর মালিকরা অংশ নেন। চারটি ধাপের ব্যতিক্রমী এ প্রতিযোগিতায় ছাগলের সঙ্গে দৌড়ান এর মালিকরাও।

প্রতিযোগিতায় পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের সাকিব মিয়ার ছাগল প্রথম, মোজরাই গ্রামের মো. শফিক মিয়ার ছাগল দ্বিতীয় ও পূর্ব আব্দুল্লাপুর গ্রামের হিরু মিয়া ছাগল তৃতীয় স্থান অধিকার করে।

বিজয়ী ছাগলের মালিকদের যথাক্রমে একটি মোবাইল ফোন, একটি সাউন্ড বক্স এবং একটি হিটার জগ উপহার দেয়া হয়।

পশ্চিম মোজরাই শান্তি সংঘের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান মাছুম বলেন, করোনাকালীন শহরের মতো গ্রামে কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। তাই এলাকার মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতেই এমন আয়োজন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বন্যপাখি

পাখি শিকার দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও তা তোয়াক্কা না করে ফাঁদ পেতে বন্যপাখি শিকার করছে ঠাকুরগাঁওয়ের একশ্রেণীর পাখি শিকারি।

শিকার করা সেসব পাখিকে বন্দী করা হচ্ছে খাঁচার ভেতরে। তারপর খাঁচাবন্দি পাখিগুলো প্রকাশ্যেই স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এ পাখিগুলো কিনছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চ মধ্যবিত্তরা।

শুক্রবার (৮ জানুয়ারি) জেলার বালিয়াডাঙ্গীর চাড়োল ইউনিয়নের হাটে এ দৃশ্য দেখা যায়।

চাড়োল ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী ‘লাহিড়ী হাটে’ গড়ে উঠেছে বন্যপাখি বিক্রির এ হাট। প্রত্যেক সপ্তাহের সোমবার ও শুক্রবার এখানে বসে বন্যপাখির হাট। অথচ হাটটি ইজারার মাধ্যমে সরকার রাজস্ব আদায় করছে। শুধু এ হাটেই নয়, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বন্যপাখি বিক্রি হচ্ছে।

২০১২ সালের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে বলা হয়েছে, পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি এক লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড। একই অপরাধ পুনরায় করলে দুই লাখ টাকা জরিমানা, দুই বছরের কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

এই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রকাশ্যে হাট-বাজারে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি বিক্রি করা হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছে- টিয়া, গাড়োল টিয়া, ঘুঘু, শালিক, বক, পানকৌড়ি ও ওয়াক্কাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এগুলোর মধ্যে প্রতি জোড়া টিয়া ৮০০ টাকা, ঘুঘু ৪৫০ টাকা, বক জোড়া ৩০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ছোট আকৃতির বিভিন্ন পাখি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা জোড়া করে।

জানা গেছে, স্থানীয়রা বাধা দিলেও পাখি শিকারিদের পক্ষ নিয়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা স্থানীয় মানুষদের হুমকি দিয়ে আসছেন।

স্থানীয়রা জানান, পাখি বিক্রি ও কিনতে আসাদের বাধা দিলেও তারা শোনেন না। দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে কঠোরভাবে বন্যপ্রাণি নিধন দমন করা উচিত।

পাখি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলীপ কুমার চ্যাটার্জী।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিষদ ও গ্রাম পুলিশ পাখি নিধনরোধের চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা হরিপদ দেবনাথ বলেন, যখনই জানতে পারি কোথাও পাখি শিকার হচ্ছে, তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করছি।

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় বন্যপাখি শিকার বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন- এমনটাই আশা প্রকৃতিপ্রেমী সচেতন মানুষদের।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com