আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

চামড়ার জন্যে এশিয়ান হাতি নিধন বাড়ছে

 চীনে ও মিয়ানমারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাতির চামড়া দিয়ে তৈরি সামগ্রী
চীনে ও মিয়ানমারে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে হাতির চামড়া দিয়ে তৈরি সামগ্রী

সতর্কবার্তা: এই প্রতিবেদনের কিছু ছবি অনেকের জন্য পীড়াদায়ক হতে পারে।

“আমার এমন অনুভূতি হতে লাগলো যেন কেউ একজন কষে আমার পেটে একটা ঘুঁষি মেরেছে। আমি ছবিটার দিকে তাকাতে পারছিলাম না। জীবনে এই প্রথমবারের মতো আমি অসহায় বোধ করছিলাম”, বলছিলেন মিয়ানমারে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার সংস্থাটির প্রধান, ক্রিস্টি উইলিয়ামস।

চামড়া পুরোপুরি চেঁছে ফেলা হয়েছে এরকম একটি মৃত হাতির ছবির কথা বলছিলেন তিনি।

ক্রিস্টি উইলিয়ামস বলছিলেন, “প্রাণীটার সারা শরীরে চামড়া তুলে ফেলা হয়েছে। শুধু দেখা যাচ্ছে পচন ধরা গোলাপি মাংস।”

ক্রিস্টি উইলিয়ামস বলছেন কুড়ি বছর ধরে হাতি সংরক্ষণের কাজ করতে গিয়ে তিনি অনেক কিছু দেখেছেন।

কিন্তু ওই ছবিতে যা দেখেছেন তা একেবারে ভিন্ন মাত্রায় ভয়াবহ।

 হাতির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি কিছু সামগ্রী।
হাতির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি কিছু সামগ্রী।

কোথায় হাতির চামড়ার চাহিদা বেশি?

বিশ্বব্যাপী হাতির জন্য সবচাইতে বড় ঝুঁকির জায়গাগুলোর একটি হল তার আবাসস্থল ধ্বংস করা আর লম্বা সাদা দাঁতের জন্য চোরা শিকারির দ্বারা তাদের নিধন।

হাতির সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য এই দুটি বিষয়কেই মূলত দায়ী করা হয়।

কিন্তু ইদানিং নতুন বিপদ হয়ে এসেছে চামড়ার জন্যে এশিয়ান হাতি শিকার।

১৯৯০-এর দশকে হাতির চামড়ার তৈরি সামগ্রী পাওয়া গিয়েছিলো চীনে।

ইদানিং আরও অনেকগুলো দেশের নাম যুক্ত হয়েছে সেই তালিকায়, যেখানে হাতির দাঁত দিয়ে তৈরি সামগ্রী জনপ্রিয় হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংস্থা এলিফ্যান্ট ফ্যামিলির কর্মকর্তা ডেভিড অগেরি বলছেন, “পুরো অঞ্চল জুড়ে হাতির চামড়া দিয়ে তৈরি সামগ্রীর ব্যবসা প্রসার লাভ করছে। বিশেষ করে চীন, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াতে আমরা তার প্রমাণ পেয়েছি।”

বিপন্ন প্রাণী হাতির জন্য বেঁচে থাকা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
বিপন্ন প্রাণী হাতির জন্য বেঁচে থাকা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

যে কারণে এর চাহিদা বাড়ছে

চীনে হাতির চামড়া দিয়ে এক ধরনের গুড়া তৈরি করা হয়।

সেখানে অনেকেই মনে করেন হাতির চামড়ার ঔষধি গুণাবলী রয়েছে, যা দিয়ে আলসার, পাকস্থলীর প্রদাহ এমনকি ক্যান্সারও নিরাময় করা যায় বলে বিশ্বাস করেন চীনের অনেকে।

হাতির চামড়ার নিচে যে চর্বি রয়েছে তা দিয়ে তৈরি হয় এক ধরনের ক্রিম যা ত্বকের প্রদাহ নিরাময়ে ঔষধ হিসেবে বিক্রি হয়।

হাতির দাঁত ও চামড়া দিয়ে গহনাও প্রস্তুত হচ্ছে। কিছু দেশে এসব পণ্যের চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

চামড়ার জন্যে আস্ত হাতির শরীরে চেঁছে ফেলা হয়েছে।
চামড়ার জন্যে আস্ত হাতির শরীরে চেঁছে ফেলা হয়েছে।

চাহিদা বাড়ছে তাই হাতি নিধন বাড়ছে

মিয়ানমারে হাতি নিধনের মাত্রা অনেকে বেড়ে গেছে।

ক্রিস্টি উইলিয়ামস বলছেন, “বিষ মেশানো ডার্ট (তীর) ছুঁড়ে মারা হচ্ছে হাতির দিকে। এই ক্ষেত্রে হাতিটি সাথে সাথে মারা যায় না। বিষের কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ যন্ত্রণা নিয়ে হাতিটি কয়েকদিন বেঁচে থাকে।”

তিনি বলছেন, “এমনও হতে পারে যে হাতিটি পুরোপুরি মারা যাওয়ার আগেই তার শরীরের চামড়া ছাড়ানোর কাজ শুরু হয়ে গেছে। হাতির শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ব্যবসার সাথে জড়িত চোরাকারবারিরা হাতির চামড়ার গুঁড়োর সাথে প্যাঙ্গুলিন বা বনরুই নামের আরেকটি প্রাণীর আঁশ দিয়ে ভেষজ ঔষধ বানাচ্ছে।”

এলিফ্যান্ট ফ্যামিলি বলছে তাদের কাছে এর প্রমাণ রয়েছে।

বিপন্ন প্রাণী

বনরুই একটি বিপন্ন প্রাণী। এশিয়ার হাতিও বিপন্ন প্রাণীর তালিকায় রয়েছে। এশিয়ার ১৩ টি দেশে এশিয়ান হাতি পাওয়া যায়।

এশিয়ার ১৩ টি দেশে এশিয়ান হাতি পাওয়া যায়।
এশিয়ার ১৩ টি দেশে এশিয়ান হাতি পাওয়া যায়।

তার মধ্যে শুধু ভারতেই এই প্রাণীটির ৬০ শতাংশের আবাসস্থল। আফ্রিকার হাতির মতো এশিয়ার স্ত্রী হাতির লম্বা দাঁত নেই।

সেই কারণে হাতির দাঁতের জন্য তাদের মারা হয়নি। তাদের অপেক্ষাকৃত কম বিপদগ্রস্ত মনে করা হতো।

কিন্তু চামড়ার চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সেটি আর বলা যাচ্ছে না। এখন সব ধরনের হাতিই মারা পড়ছে।

মিয়ানমারে ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ২০৭টি হাতি শিকার করা হয়েছে।

এটিকে ভয়াবহ লক্ষণ বলে বর্ণনা করে এলিফ্যান্ট ফ্যামিলি বলছে, তাদের হিসেবে মিয়ানমারে মোট হাতির সংখ্যাই দুই হাজার।

১৯৪০ এর দশকে সেখানে ১০ হাজারের মতো হাতির বাস ছিল।

কিন্তু সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসছে। মিয়ানমারের বন অধিদপ্তরের প্রধান ড. নি নি ক্যাও বলছেন, ২০১০ সাল থেকে বিষয়টা একটা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 এই মৃত হাতিটি পাওয়া গেছে ভিয়েতনামে।
এই মৃত হাতিটি পাওয়া গেছে ভিয়েতনামে।

তিনি বলছেন, “হাতির পুরো শরীরটাই বিক্রি হচ্ছে। চীনে হাতির শুঁড় বেশ জনপ্রিয়। চামড়া দিয়ে তৈরি হচ্ছে গহনা। হাতির মাংসও বিক্রি হচ্ছে।” মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকায় হাতির হাড়গোড় পাওয়া বলে জানালেন এই কর্মকর্তা।

যেভাবে চলে ব্যবসা

ভিয়েতনামে এরকম হাতির সংখ্যা এখন মোটে ১০০টি।

সেখানে ২০১৩ সালে পুরো চামড়া চেঁছে ফেলা একটি মৃত হাতি পাওয়ার পর সেখানেও যে হাতি আরও বেশি বিপদগ্রস্ত সে সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলো।

যদিও চীনে হাতির চামড়া বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি সামগ্রীর বড় ব্যবসা রয়েছে, কিন্তু চোরা শিকারিদের দ্বারা হাতি নিধন ঠেকাতে চীন তেমন কিছুই করছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে হাতির শরীরের কোন কিছু বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর হয়েছে দেশটি। এর ফলে দোকানে এখন আর এসব পণ্য বিক্রি হয় না।

 একজন বিক্রেতা হাতির লেজ দিয়ে তৈরি পণ্য প্রদর্শন করছেন।
একজন বিক্রেতা হাতির লেজ দিয়ে তৈরি পণ্য প্রদর্শন করছেন।

বিক্রি এবং অর্থ আদানপ্রদান পুরোটাই অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গেছে।

ডেভিড অগেরি বলছেন, অনলাইন ভিত্তিক হয়ে ওঠার কারণে এসব পণ্য বিক্রি প্রতিহত করা মুশকিল হয়ে উঠেছে।

আইইউসিএনের কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তুমার তিউয়ারি বলছেন, “হাতির চামড়া, হাতির দাঁত বা আইভরির মতো এতটা দামি নয়। কিন্তু হঠাৎ করে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে যদি হাতির চামড়ার চাহিদা বেড়ে যায় তাহলেই হাতিদের জন্য নতুন করে বিপদ নেমে আসবে।”

গবেষণায় দেখা গেছে এক কিলোগ্রাম হাতির চামড়া মিয়ানমারে ১০৮ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। চীনে সেটি ২০০ ডলারে বিক্রি হয়।

হাতির অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে তৈরি সামগ্রী যে দামে বিক্রি হয় তাতে শিকার আরও বেড়ে যেতে পারে।

মিয়ানমার সম্প্রতি এই পণ্যের বিক্রির উপরে আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে। চীনও তাকে অনুসরণ করছে। তবে ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, এটা যথেষ্ট নয়।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর
চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এলো আহত বানর

বানরের বুদ্ধিমত্তা মন্দ নয়। মাঝে মাঝেই তাই সংবাদে উঠে আসে বানরের নানাবিধ কর্মকাণ্ড। এই তো কিছুদিন আগেও নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বজায় রেখে ফল খেতে দেখা যায় বানরের দলকে। ইতোমধ্যেই এমন ঘটনার বহু প্রমাণ উঠে এসেছে গণমাধ্যমে। তবে এবার ঘটলো আরেকটি অবাক করা কাণ্ড।

জানা যায়, মানুষের মতো না হলেও বানরের মস্তিষ্ক বেশ উন্নত। তাই কোন সময় কী করা উচিত, তা এরা জানে। এবার তেমনই একটি ঘটনা ঘটলো ভারতের কর্ণাটকের ডান্ডেলিতে। সেখানকার আহত হওয়া একটি বানর নিজে নিজেই চলে গেল একটি হাসপাতালে।

সে ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের দরজায় বসে আছে একটি বানর। বাইরে রোগীদের লম্বা লাইন। বানরটিও অন্যদের মতো লাইন দিয়েছে হাসপাতালের আউটডোরে। কিছুক্ষণ পর হাসপাতালের এক কর্মী এসে বানরটির গায়ে হাত দেন।

হাসপাতালের কর্মী দেখেন, বানরটি আহত। চিকিৎসার জন্যই হাসপাতালে এসেছে। তাই দেরী না করে তিনি বানরটিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে ক্ষতগুলো পরিষ্কার করে প্রয়োজনমতো ওষুধ দেন। এরপর হাসপাতাল থেকে চলে যায় বানরটি। কারো কোনো ক্ষতি করেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অসংখ্য বার দেখা হয়েছে ভিডিওটি। লাইক এবং শেয়ারের সংখ্যাও কম নয়। নেটিজেনরা আহত বানরের চিকিৎসা করার জন্য হাসপাতালের কর্মীদের প্রশংসা করেছেন।

উপরের ভিডিওটি দেখুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

এখন ঘরে ঘরে ফসল তোলার মৌসুম। ইরি-বোরো ধান, ভুট্টাসহ নানাবিধ ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা। তাছাড়া জমিতে চাষ হচ্ছে আঁখ, পাট প্রভৃতি। তবে এ মৌসুমে ঝড়-তুফানের আশঙ্কাও প্রচুর। তাই আগে থেকেই ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেই উপায়গুলো-

১. বিভিন্ন জাতের ধানবীজ সংগ্রহ করে রাখা যেতে পারে।
২. প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চারা উৎপাদন করে উঁচু বা নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করা যায়।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৩. ঝড়ের আগে তোলা যায় এমন দ্রুতবর্ধনশীল ফসল চাষ করা।

৪. আমন ধান নষ্ট হলে এবং পর্যাপ্ত সময় থাকলে পুনরায় চারা উৎপাদন করা।

৫. বিভিন্ন স্থানীয় উন্নত জাত এবং ব্রি ধান-৪৫, নাজিরশাইল ইত্যাদি রোপণ করা যেতে পারে।
৬. দ্রুত বর্ধনশীল শাকসবজি চাষ করে খাদ্য ও পুষ্টির পাশাপাশি অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করা।
৭. উচ্চ মূল্যের শীতকালীন শাকসবজি আগাম চাষ করা যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়
ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় কৃষকের করণীয়

৮. ফসল নষ্ট হয়ে গেলে ডাঁটা, লালশাক, গিমাকলমি, ঢেড়শ, পুঁইশাক ইত্যাদি লাগানো যেতে পারে।
৯. কৃষি জমিতে বাতাসের বেগ প্রতিরোধী গাছ যেমন- তাল, নারিকেল রোপণ করতে হবে।

১০. ক্ষতিগ্রস্ত বনাঞ্চলকে পুনরায় স্থাপন করা।
১১. বনজ ও ফলদ গাছের ছোট চারা প্রধান মূলসহ রোপণ করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

আফ্রিকার বতসোয়ানায় শত শত হাতির মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যুর রহস্য অজানা

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে
বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে

সতর্কতা: এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবিগুলো কারো কারো কাছে অস্বস্তিকর মনে হতে পারে!

বতসোয়ানায় গত দুই মাসে শত শত হাতির রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে। হাতির মৃত্যুর এই ‘অভূতপূর্ব’ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি।

আফ্রিকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের বরাত দিয়ে ডক্টর নিয়াল ম্যাককান জানান, মে মাসের শুরু থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশটি ওকাভাঙ্গো ব-দ্বীপে ৩৫০টির বেশি হাতির মরদেহ দেখা গেছে।

হাতিগুলো কেন মারা যাচ্ছে, সেসম্পর্কে কেউ কোন ধারণা দিতে পারছে না। দেশটির সরকার বলছে প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধান করতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা চলছে, যেই রিপোর্ট আরো সপ্তাহখানেক পরে পাওয়া যাবে।

আফ্রিকার মোট হাতির এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে বতসোয়ানায়।

যুক্তরাজ্য ভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল পার্ক রেসকিউর কর্মকর্তা নিয়াল ম্যাককান বিবিসিকে জানায় যে স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণবাদীরা মে মাসের শুরুর দিকে ব-দ্বীপের ওপর দিয়ে বিমান ভ্রমণ করার সময় কিছু হাতির মরদেহ চোখে পড়লে বসতোয়ানার সরকারকে বিষয়টি জানায়।

তিনি বলেন, “তারা ঐ অঞ্চলের ওপর দিয়ে তিন ঘণ্টার একটি ফ্লাইটে যাওয়ার সময় ১৬৯টি হাতির মরদেহ দেখে। তিন ঘণ্টার ফ্লাইটে ঐ পরিমাণ হাতির মরদেহ দেখতে পাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।”

মৃত হাতি
মৃত হাতি

“ঐ ঘটনার এক মাস পর আরো তদন্ত করে তারা আরো অনেকগুলো মরদেহ দেখতে পান। মোট সংখ্যাটি ৩৫০এর ওপর।”

মি. ম্যাককান বলেন, “যেই বিপুল সংখ্যক হাতি মারা গেছে, তা একেবারেই অভূতপূর্ব। খরা বাদে কোন একটি একক কারণে এত বিপুল পরিমাণ প্রাণী মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা যায় না।”

বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা ফিস’এর খবর অনুযায়ী, এই হাতিগুলোর মৃত্যুর পেছনে চোরাশিকারিদের হাত থাকার সম্ভাবনা আগেই নাকচ করে দিয়েছে বতসোয়ানার সরকার কারণ হাতিগুলোর দাঁত কেটে নেয়া হয়নি।

ড. ম্যাককান বলেন, “সেখানে শুধু হাতিই মারা যাচ্ছে, অন্য কোন প্রাণী নয়। যদি চোরাশিকারিদের দেয়া সায়ানাইডে হাতিগুলো মারা যেতো, তাহলে হাতি বাদে অন্য আরো পশুও মারা যেতো।”

স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করে দিয়েছেন ড. ম্যাককান। গত বছর অ্যানথ্রাক্স বিষক্রিয়ায় বতসোয়ানায় ১০০’র বেশি হাতি মারা গিয়েছিল।

মৃত হাতি
মৃত হাতি

তবে বিষক্রিয়া বা কোন রোগের উপস্থিতির সম্ভাবনা একেবারে বাতিল করে দিতে পারছেন না তারা।

ড. ম্যাককানের মতে যেভাবে প্রাণীগুলো মারা যাচ্ছে – অনেকগুলো হাতিকেই মুখ থুবড়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে – এবং অন্য হাতিগুলোকে চক্রাকারে ঘুরতে দেখা যাচ্ছে, তাদের স্নায়ুবিক প্রক্রিয়া কোন ধরণের আক্রমণের শিকার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হাতিগুলোর মৃত্যুর কারণ সঠিকভাবে জানা না যাওয়ায় তাদের মধ্যে থেকে কোন রোগ মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে কিনা, সেই সম্ভাবনাও বাতিল করে দেয়া যাচ্ছে না – বিশেষ করে যখন জানা যাচ্ছে না যে পানির উৎস বা মাটি থেকে কোন ধরনের বিষক্রিয়া হচ্ছে কিনা।

কোভিড-১৯ মহামারি এখন প্রাণীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে – এই বিষয়টিরও উল্লেখ করেন ড. ম্যাককান।

তিনি বলেন, “এটি পরিবেশগত বিপর্যয় – তবে এটি জনস্বাস্থ্য বিষয়ক দুর্যোগেও পরিণত হতে পারে।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

গাছের রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি

আমাদের দেশে তাল, খেজুর, গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। যে রস থেকে আমরা চিনি বা গুড়ের অভাব পূরণ করতে পারি। এছাড়া পাম গাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এখন আমাদের জানতে হবে কীভাবে সংগ্রহ করা যায় এগুলো। আসুন জেনে নেই রস ও তেল সংগ্রহ পদ্ধতি।

তাল গাছের রস

তাল এবং খেজুর রসের গুরুত্ব একই। কিন্তু উৎপাদনের পরিমাণ খেজুরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ। পুরুষ তাল গাছ থেকে মার্চ-মে মাস রস সংগ্রহ করা যায়। পুরুষ তাল গাছের লম্বা জটা বের হওয়ার পর অর্ধেক জটার গোড়া কেটে অবশিষ্ট জটাগুলো চট বা শক্ত কাপড় দিয়ে ৬-৭ দিন ভালো করে ঘঁষে নরম করতে হয়। তারপর জটার আবরণ তুলে মাথা কেটে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। স্ত্রী তাল গাছ থেকে এপ্রিল-জুন মাস রস সংগ্রহ করা যায়। স্ত্রী তাল গাছের পুষ্পমঞ্জুরি বের হওয়ার ১০-১২ দিন পর কাঠের দণ্ড দ্বারা কয়েক দিন পুষ্পমঞ্জুরিকে পিটিয়ে হালকাভাবে থেতলে দিতে হয়। এরপর পুষ্পমঞ্জুরির মাথা কেটে মাটির কলস ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি তাল গাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৬০-৫০০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে ৬০-৭০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

খেজুর গাছের রস

খেজুর ফলের চেয়ে রস সংগ্রহের গুরুত্ব বেশি। নভেম্বর মাস থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। ৫-৬ বছর বয়সের গাছের উপরে বা মাথার দিকে ধারালো দা দিয়ে এক পাশে ২৪-২৫ ইঞ্চি পরিমাণ লম্বা স্থান ঠ আকৃতি করে সুন্দরভাবে কাটতে হয়। তারপর ৪-৫ দিন শুকানোর পর কর্তিত স্থানে আবার ধারালো দা দিয়ে পাতলা করে চেঁচে দিয়ে নিচের দিকে বাঁশের চুঙ্গি লাগিয়ে মাটির কলসি ঝুলিয়ে দিলে ফোটায় ফোটায় রস পড়ে। একটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ২২০-২৫০ লিটার রস উৎপন্ন হয়। তা থেকে প্রায় ৩৫-৪০ কেজি গুড় পাওয়া যায়। গাছের বয়স, মাটি, আবহাওয়া এবং পরিচর্যার উপর রসের গুণগতমান ও পরিমাণ নির্ভর করে।

গোলপাতার রস

তাল ও খেজুর গাছের মতোই গোলপাতা গাছ থেকেও বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রস সংগ্রহ করা যায়। মাত্র ৩০টি গোলপাতা গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ কেজি গুড় উৎপাদন করা যায়। গুড় প্রতি কেজি একশ’ টাকা দরে বিক্রি করা যায়। 

পাম তেল

বাংলাদেশে পামওয়েলের চাষ প্রাথমিক পর্যায়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষুদ্র পরিসরে এর চাষ শুরু হয়েছে। পাম গাছ থেকে পাকা ফল সংগ্রহ করে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে গরম পানিতে সেদ্ধ করতে হয়। সেদ্ধ পাম ফলগুলো পরিষ্কার পাত্রের মধ্যে রেখে দুই হাতে চাপ প্রয়োগ করলে তেল বের হয়ে পাত্রের মধ্যে জমা হবে। এরপর ছোবলা ও বীজ আলাদা করে ছাঁকনি দ্বারা তেলগুলো ছেঁকে নিতে হবে। তেলের সঙ্গে কিছু পরিমাণ পানি মিশ্রিত থাকে। তাই চুলায় জ্বাল দিলে পানি বাষ্পাকারে শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরিষ্কার পাম তেল পাওয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা
নজর কাড়ছে মহাসড়কের গাছপালা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দু’পাশে গাছের সারির সৌন্দর্য পথচারী ও যাত্রীদের নজর কাড়ছে। মেজর এমএ জলিল সেতুর পশ্চিম পাশ থেকে জয়শ্রী (আটিপাড়া রাস্তার মাথা পর্যন্ত) ৪ কিলোমিটার সড়কের দু’পাশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সামাজিক বনায়নের আওতায় ১১ হাজার গাছ রোপণ করে বনবিভাগ।

দক্ষিণ অঞ্চলের যোগাযোগের অন্যতম এ সড়কে গাছের সারি ভ্রমণপিপাসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই বিভিন্ন প্রজাতির পাখির কলকাকলিতে মুখরিত জনপদটি এক অনন্য দৃশ্য ধারণ করে। নান্দনিক এ অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে অনেকেই ক্ষণিকের জন্য হলেও গাড়ি থামান। এছাড়া গাছের সারির কারণে প্রখর রোদে পথচারী ও কৃষকদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে ২৬ প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করা হয়। এর মধ্যে মেহেগনি, রেইনট্রি, আকাশমণি, শিশু, চাম্বুল, ইপিল-ইপিল, পিকরাশি, তেলসুর, পাহাড়ি নিম, বট, পাপড়ি, আম, জাম, কাঁঠাল, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, জলপাই, আমলকি, বিলাতি গাব, অর্জুন, উলটকম্বল, লটবিপল, দেশি নিম, শিমুল, ডেউয়া, বকুল, কাঞ্চন, তেুঁতলসহ ৫৫০টি তালগাছ রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয়দের মধ্য থেকে ১১০ জন উপকারভোগী সদস্য রয়েছে।

বৃক্ষরোপণকালে সিআরপিএআর প্রকল্পের আওতায় আড়াই বছর প্রতি ১ হাজার চারার পরিচর্যা ও পাহারার জন্য ১ জন করে মোট ১১ জন পাহারাদারকে ৬ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫৫ জন উপকারভোগীকে বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রকল্প এলাকার আশপাশের ৬টি গ্রামের ১১০ জন দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উত্তরণ নামক এনজিও’র মাধ্যমে বিকল্প জীবিকায়নের জন্য সবজি চাষ, ফলের চারা রোপণ, হাঁস-মুরগি পালন, সঞ্চয় জমা করার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বরিশাল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় উপকারভোগী সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় গাছগুলো এখন বেশ বড় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে বনবিভাগের সচিব, প্রধান বনরক্ষক, বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা স্থানটি পরিদর্শন করে প্রশংসা করেছেন। ২০০৫-২০০৬ অর্থবছর থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক বনায়নের গাছ কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বিক্রিত অর্থ সামাজিক বনায়ন বিধিমালা অনুযায়ী বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com