আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন
চরাঞ্চলে এক মণ মরিচ দেড়শ টাকা
চরাঞ্চলে এক মণ মরিচ দেড়শ টাকা

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার পুরাতন ফুলছড়িতে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার হাট বসে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ট্রাক নিয়ে আসেন ‘চরাঞ্চলের সোনা’ খ্যাত মরিচ ও ভুট্টাসহ বিভিন্ন সবজি পাইকারি কিনতে। এ হাটে ক্রেতা ও বিক্রেতা মিলে লাখো মানুষ জমে। কিন্তু করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে ফুলছড়ি হাটে প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতার অভাবে পচে যাচ্ছে যমুনা নদীবেষ্টিত সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার অর্ধশত চরে উৎপাদিত কৃষি পণ্য।

বর্তমানে জেলায় কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা প্রতি মণ। টমেটো ৮০ টাকা প্রতি মণ আর বেগুন ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা প্রতি মণ। এত কম দামে পণ্য বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা লোসকান দিতে হচ্ছে। তবে প্রশাসন বলছে চরাঞ্চলের মরিচ চাষিদের মরিচ শুকানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফুলছড়ি হাট যেন অচেনা রূপ ধারণ করেছে। দুই সপ্তাহ আগেই রাস্তার পাশে হাজারো লোকের ভিড়ে পথ চলা কঠিন ছিল কিন্তু সময়ের ব্যবধানে আজ সবকিছু ফাঁকা। দেড় যুগের ঐতিহ্যবাহী এই হাটের এমন অবস্থা হবে কেউ কখনও ভাবতে পারেনি।

চরাঞ্চলে এক মণ মরিচ দেড়শ টাকা
চরাঞ্চলে এক মণ মরিচ দেড়শ টাকা

কৃষক আবেদুর রহমান বলেন, অনেক কষ্ট করে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে ফুলছড়ি বাজারে এসে বিপদে পড়েছি। এই হাটে কাঁচামালের দোকান বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারছি না। বিক্রি করতেও পারছি না। দু’সপ্তাহ আগে মরিচ বিক্রি করা হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি। করোনা ভাইরাসের কারণে এখন ৩ টাকা থেকে ৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে।

খাটিয়ামারি গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, তার উৎপাদিত মরিচ, বেগুন, টমেটো পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মণ। টমেটো ৮০ টাকা ও বেগুন ৭০ টাকা থেকে ১০০ টাকা মণ। গলায় দড়ি দিয়ে মরণ ছাড়া উপায় নেই তাদের।

আব্দুল কাদির নামের এক মরিচ চাষি জানান, প্রশাসন মরিচ শুকানোর পরামর্শ দিচ্ছে। মরিচ বিক্রি করে চাল, ডাল, লবণ, মশলা কিনতে হয়। মরিচ শুকালে সংসার চলবে কিভাবে। কে নেবে দায়িত্ব?

চরাঞ্চলে এক মণ মরিচ দেড়শ টাকা
চরাঞ্চলে এক মণ মরিচ দেড়শ টাকা

একাধিক কৃষক জানান, সরকারিভাবে যদি ট্রাক লোড করে দেশের বিভিন্ন জেলার চাহিদা অনুযায়ী চরে উৎপাদিত এসব কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেয়া হয় তাহলে কৃষকরাও ন্যায্য দাম পেতেন, দেশের সব জেলায় সবজির চাহিদাও মিটত।

মরিচ ও সবজি চাষিদের লোকসানের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও মো. আবু রায়হান দোলন জানান, মচির চাষিদের মরিচ শুকানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে শুধু হাটের দিন তথা প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার ফুলছড়ি হাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য ফুলছড়িতে ফুড ব্যাংক খোলা আছে। আমরা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছি।

শাকসবজি

ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

সবজি চাষে অপার সম্ভাবনা ভোলার চরাঞ্চলগুলো। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে চরাঞ্চলগুলোতে বিদেশি সবজি ক্যাপসিক্যাম চাষ করে ভাগ্য বদল করছে কৃষকরা। গত কয়েক বছর ধরে ক্যাপসিক্যাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন তারা। কম সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় এ সবজি চাষে চরের চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে। তবে সরকারিভাবে বিশেষ কোন উদ্যোগ না থাকায় ক্যাপসিক্যাম চাষের বিপ্লব ঘটাতে পারছেন না চাষিরা।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মাঝে জেগে ওঠা চরাঞ্চলগুলো ধান, সয়াবিনের পাশাপাশি লাউ, শসা, করলা, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছিলেন চাষিরা। গত ৪-৫ বছর আগে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মেঘনার মধ্যবর্তী মাঝের চরে মনির পাঠান নামের এক ব্যক্তি মাত্র ১০ শতক জমিতে ক্যাপসিক্যাম চাষের উদ্যোগ নেন। প্রথম বছরই তিনি বাম্পার ফলন পেয়েছিলেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও ক্যাপসিক্যাম চাষে আগ্রহী হন। বর্তমানে ২০-২৫ জন ক্যাপসিক্যাম চাষ করছেন।

ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

প্রথম চাষি মো. মনির পাঠান বলেন, ‘আমি গত কয়েক বছর ধরে দেখেছি মাঝের চরে ক্যাপসিক্যাম চাষ করে অনেকে লাখ লাখ টাকা লাভ করেছে। এবছর আমিও নতুন করে ক্যাপসিক্যাম চাষ শুরু করেছি।’

চাষি মো. ছিদ্দিকুল্লাহ বলেন, ‘আমি গত ৩ বছর ধরে মাঝের চরে ক্যাপসিক্যাম চাষ করছি। এবছর এক একর জমিতে ক্যাপসিক্যাম চাষ করেছি। এতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে ফলন বিক্রি করতে পারবো।’

ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমার দেড় একর জমিতে ক্যাপসিক্যাম চাষ করতে আড়াই লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এপর্যন্ত দেড় লাখ টাকার ক্যাপসিক্যাম বিক্রি করেছি। আকাশের অবস্থা ভালো থাকলে আরো ৫ লাখ টাকার ফলন বিক্রি করতে পারবো।’

চাষি নয়ন মিয়া, জামাল উদ্দিন ও মহিউদ্দিন বলেন, ‘গত বছর অসময় বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা পোকার আক্রমণ ছিল। এবছর বৃষ্টি নেই, তাই পোকার আক্রমণ নেই। গত বছর পাইকারি বাজারে দাম কম ছিল। এবছর কেজি প্রতি ১০০ টাকা। এবার অনেক লাভ হবে। তবে ক্যাপসিক্যাম চাষ ও বিদেশে রফতানিতে সরকারিভাবে কোন সহযোগিতা পাই না। পেলে চাষে বিপ্লব ঘটতে পারতাম।’

ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল
ক্যাপসিক্যাম চাষে কৃষকের ভাগ্য বদল

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর ১১ হেক্টর জমিতে ক্যাপসিক্যাম চাষ হয়েছিল। এবছর ১৬ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ভোলা সদর উপজেলায় ১০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিনয় কুমার দেবনাথ বলেন, ‘বর্তমানে চাষিদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চাষের পরিমাণ বাড়াতে ও সরকারিভাবে সহযোগিতার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে

শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে
শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে

কৃষি পণ্য আহরণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের স্বল্পতা, কোল্ড স্টোরেজের অপ্রতুলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর মোট উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ১২ শতাংশ এবং শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে। এ জন্য কৃষি পণ্য রফতানিতে জোর দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার ইউএসএআইডির এগ্রিকালচার ভ্যালু চেইনস (এভিসি) প্রকল্পের সহযোগিতায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘গুড এগ্রিকালচারাল প্রাক্টিস (গ্যাপ)’ বিষয়ক সেমিনার ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ প্রধান অতিথি এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী বিশেষ অতিথি ছিলেন। সেমিনারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী মো. সাইফুল ইসলাম মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই পরিচালক ইমরান আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের জিডিপিতে কৃষিখাতের অবদান ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। কৃষিখাতের মাধ্যমে প্রায় ২৪ দশমিক ৫০ মিলিয়ন লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের কৃষিভিত্তিক পণ্যের রফতানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট রফতানির মাত্র ১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

ডিসিসিআই পরিচালক বলেন, কৃষি পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, শাক-সবজির সংরক্ষণ ও ফলমূল পাকানোর ক্ষেত্রে ক্ষতিকারক ফরমালিনসহ নানাবিধ কেমিক্যাল ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কি না স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর। পাশাপাশি এর ফলে বিশ্ববাজারে আমাদের কৃষি পণ্য রফতানির অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।

তিনি আরও বলেন, কৃষি পণ্য আহরণে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি ব্যবহারের স্বল্পতা, কোল্ড স্টোরেজের অপ্রতুলতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে প্রতিবছর মোট উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ১২ শতাংশ এবং শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে।

শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে
শাক-সবজি ও ফলমূলের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আজহার আলী বলেন, বাংলাদেশে কৃষি খাতের উন্নয়নে গ্যাপের ব্যবহার সম্প্রসারণে অপর্যাপ্ত ধারণা ও প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। তা নিরসেন সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. আব্দুর রউফ বলেন, বাংলাদেশের কৃষি খাতে গ্যাপের বাস্তবাযন এখন সময়ের দাবি। খুব শিগগিরই কৃষি নীতি ২০১৮ ঘোষণা করা হবে, যেখানে গ্যাপ অন্তর্ভুক্ত আছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

কাঁচা মরিচ খাওয়ার ১০টি আশ্চর্য সুফল জেনে নিন

এখন সারা বছরই বাজারে কাঁচা মরিচ পাওয়া যায়। অনেকে তরকারিতে, ভাত কিংবা ফাস্টফুডেও কাঁচা মরিচ খেতে পছন্দ করেন। কাঁচা মরিচ শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী। এবার জেনে নিন কাঁচা মরিচ খাওয়ার ১০টি আশ্চর্য সুফল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

খুলনায় ভাসমান খেতে সবজি চাষ

খুলনায় ভাসমান খেতে সবজি চাষ
খুলনায় ভাসমান খেতে সবজি চাষ

খুলনায় এখন সবজি চাষের স্বপ্ন দেখছেন ভূমিহীন কৃষকেরাও। সরকারি বিভিন্ন খাল-বিলে ভাসমান বেডে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন তাঁরা। ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে একদিকে যেমন পারিবারিক চাহিদা পূরণ করছেন, অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করে বেশ আয়ও করছেন ওই কৃষকেরা।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে ওই ভাসমান বেডে সবজি চাষ। প্রাথমিকভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় ৭০ জন ভূমিহীন চাষি ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ শুরু করেছেন। উৎপাদন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মধুগ্রাম, মিকশিমিল ও রংপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। যেসব খাল ও বিল বছরের বেশির ভাগ সময় পানিতে পূর্ণ থাকে এবং সেখানে কোনো ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হয় না, এমন জায়গায় তৈরি করা হচ্ছে সবজির বেড। এ ক্ষেত্রে ওই এলাকার কৃষকেরা স্থানীয় খাল ও বিলকে বেছে নিয়েছেন। বেডে কৃষকদের চাষ করা সবজির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাক, লাউ, মিষ্টিকুমড়া, পটোল, বেগুনসহ নানা ধরনের সবজি।

খালের পানিতে বেড তৈরি করতে কৃষকেরা ব্যবহার করেছেন বাঁশের চালি। তার ওপর দিয়েছেন প্রায় এক ফুট ওই বিলেরই কচুরিপানা। আর কচুরিপানার ওপর বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মাটি। দেওয়া হয়েছে সামান্য কিছু জৈব সারও। আর ওই মাটিতে চাষ করা হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি। প্রতিটি বেডের আয়তন লম্বায় ১৪ ফুট ও চওড়ায় ৭ ফুট।

ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নের মধুগ্রাম খালে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাশ দিয়েই বয়ে গেছে পিচঢালা পথ। সড়কের ওপর দাঁড়িয়েই দেখা যায়, খালের পানিতে ভাসছে সারি সারি বেড। ওই বেডেই ছড়িয়ে আছে সবুজের সমারোহ। কোনোটি আবার লাল। খালের পানিতে ওই দৃশ্য এক অপরূপ শোভা সৃষ্টি করেছে।

ওই খালে সবজি চাষ করছেন মধুগ্রামের রমজান মোড়ল। তিনিও একজন ভূমিহীন কৃষক। খালে রয়েছে তাঁর তিনটি বেড। রমজান মোড়ল বলেন, তাঁর চাষাবাদ করার কোনো জায়গা নেই। অন্যের জমিতে দিনমজুর খেটেই তাঁর সংসার চলে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এবার প্রথমবারের মতো সরকারি খালে ভাসমান বেড তৈরি করে সবজি চাষ শুরু করেছেন। ওই বেডে লাগিয়েছেন লালশাক ও লাউ। ইতিমধ্যে লালশাক তুলে বাজারে বিক্রি করেছেন আর লাউয়ের চারা কেবল বড় হতে শুরু করেছে।

পাশেই রয়েছে সুরমান গাজীর পাঁচটি বেড। ওই বেডে তিনি লাগিয়েছেন লালশাক, ঢ্যাঁড়স, ধুন্দুল ও পটোল। এরই মধ্যে কয়েক হাজার টাকার লালশাক ও ঢ্যাঁড়স বাজারে বিক্রি করেছেন তিনি। পটোলের ফলনও ভালো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পটোলও বাজারজাত করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

সুরমান গাজী বলেন, তাঁর নিজের কোনো জমি নেই। তাই নিজের মতো করে কোনো ফসল ফলাতে পারতেন না। কয়েক মাস আগে ভাসমান বেডে সবজি চাষ শুরু করেন। ফলন ভালো হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েক হাজার টাকার সবজি তিনি বিক্রি করেছেন।

স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিন বছর আগে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ওই খালে সবজি চাষ শুরু করেন মহসিন সরদার। পরে দিন দিন তা প্রসারিত হচ্ছে। এখন অনেকেই ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন। ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষে আগ্রহের সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া পুরোটাই জৈব পদ্ধতিতে হওয়ায় সবজিগুলো দেখতেও অনেক ভালো হয়। এ কারণে বাজারে ওই সবজির চাহিদাও বেশি।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের কৃষি কর্মকর্তা মোছাদ্দেক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ভাসমান বেডে সবজি চাষ ভূমিহীন কৃষকদের নতুন আলো দেখাচ্ছে। ডুমুরিয়ায় যাঁরা ওই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন, তাঁদের সবাই ভূমিহীন। নিজের জন্য সবজি উৎপাদন করতে পেরে তাঁরা খুব খুশি। ওই সবজি দিয়ে একদিকে যেমন তাঁদের পরিবারের সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে, অন্যদিকে বাজারে বিক্রি করেও তাঁরা আয় করছেন। এ ছাড়া ওই সবজি সম্পূর্ণ বিষমুক্ত। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক অনেক কম।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শাকসবজি

দেশে নতুন জাতের চেরি টমেটো

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে ‘বিউ চেরি টমেটো-১’। ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ হচ্ছে ‘বিউ চেরি টমেটো-১’। ছবি: সংগৃহীত

ছেলে দুটি চেরি টমেটো খুব পছন্দ করে। এ জন্য প্রায়ই কেনেন। শীতে দাম কম থাকে। কিন্তু বছরের অন্য সময় টকটকে লাল গোল এই সবজির দাম থাকে আকাশছোঁয়া। ছেলেদের আবদার মেটাতে বিকল্প চিন্তা আসে তাঁর মাথায়। গবেষণা শুরু করেন বন্য জাতের এই টমেটো নিয়ে। প্রায় তিন বছরের চেষ্টায় সাফল্যের দেখা পান অধ্যাপক মেহফুজ হাসান। গাজীপুরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জন্ম নেয় চেরি টমেটোর নতুন এক জাত।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় বীজ বোর্ড সম্প্রতি নতুন এই জাতের প্রত্যয়নপত্র দিয়েছে। সে অনুযায়ী জাতটির নাম ‘বিউ চেরি টমেটো-১’। বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকস অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক মেহফুজ হাসানের নেতৃত্বে গবেষণায় কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক আহসানুল হক, কারিগরি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি ও স্নাতকোত্তরের কয়েকজন শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন।

টমেটোটি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘ক্যাম্পাসে চাষের পর এই জাতের বেশ কিছু টমেটো আমাকে দিয়েছিল। এটি দেখতে সুন্দর, খেতেও ভালো।’

গুণ

গবেষকদের মতে, দেশে উদ্ভাবিত চেরি টমেটোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি ফলনশীল। আকারে ও গুণমানেঅনন্য। এই জাতের টমেটোর রং, আকৃতি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অন্য টমেটোর চেয়ে বেশি। অন্য যেকোনো জাতের টমেটোর চেয়ে এই টমেটোতে বেশি পরিমাণে লাইকোপিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। লাইকোপিন ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমায়। আর ফ্ল্যাভোনয়েড ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকরী।

জানা গেছে, ইতিপূর্বে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চেরি টমেটোর কয়েকটি জাত উদ্ভাবন করেছে। তবে দেশে চেরি টমেটো সহজলভ্য নয়। ঢাকার সুপারশপগুলোতে মূলত বিদেশ থেকে আনা চেরি টমেটো পাওয়া যায়; যা ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হয়।

অধ্যাপক মেহফুজ হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বিউ চেরি টমেটো-১ জাতটি চাষ করলে হেক্টরপ্রতি (২ দশমিক ৪৭১ একর) ১৪০ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। অন্য টমেটোতে হেক্টরপ্রতি ফলন ১০০ টন। দেশের যেকোনো অঞ্চলে সারা বছর এটি চাষ করা যাবে। নতুন জাতের এই টমেটো খুবই রসাল। সহজে পোকামাকড়ের আক্রমণ হয় না।

হেক্টরে ফলন হবে ১৪০ টন
রসাল এই টমেটোতে ক্যানসার ও হৃদ্রোগ প্রতিরোধী উপাদানের মাত্রা বেশি থাকার দাবি

উদ্ভাবনটিকে সাধুবাদ জানিয়ে বারির মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (সবজি বিভাগ) ফেরদৌসী ইসলাম বলেন, এই টমেটোর ফলন ১৪০ টন—একটু বেশি মনে হচ্ছে।

জানতে চাইলে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বীজ অনুবিভাগের মহাপরিচালক আশ্রাফ উদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এটি অনিয়ন্ত্রিত জাতের একটি ফসল। এমন ফসলের বীজ নিবন্ধন দেওয়ার সময় গবেষণাকারী বা উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিবন্ধন দেওয়া হয়।

চাষপদ্ধতি

অন্য টমেটো চাষের মতোই এই টমেটো চাষ করতে হয়। তবে বন্য প্রজাতির হওয়ায় এই জাতের টমেটো চাষ ও পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ। এক হেক্টর জমিতে ২০০ গ্রাম বীজ লাগে। সব ধরনের মাটিতেই এটি চাষ করা যায়। তবে বেলে দোআঁশ বা এঁটেল দোআঁশ মাটিতে ফলন বেশি হবে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বীজতলায় বীজ বপন করার উপযুক্ত সময়। হেক্টরপ্রতি ৪৫০ কেজি ইউরিয়া, ২৫০ কেজি টিএসপি ও ১৫০ কেজি পটাশ সার প্রয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া হেক্টরপ্রতি পাঁচ টন গোবর সার দিতে হবে।

মেহফুজ হাসানের স্বপ্ন, অল্প জমিতে অধিক ফলনের কারণে সারা দেশে এই জাতের টমেটো সহজলভ্য হবে। দাম হবে সহনীয়, বদলাবে কৃষকের দিন। তবেই তাঁদের কষ্ট সার্থক হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com