আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

এক কাঁকড়ার দাম ৩৯ লাখ টাকা!

জাপানিদের খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার অন্ত নেই। তবে এবার এক জাপানি ব্যবসায়ী যা করলেন তা একদমই অবিশ্বাস্য! ১২০০ গ্রাম ওজনের একটি কাঁকড়া কিনতে তিনি ব্যয় করেছেন ৪৬ হাজার ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৩৯ লাখ ৯ হাজার ৬১৫ টাকা!

বৃহস্পতিবার জাপানের রাজধানী টোকিওতে এক নিলাম থেকে রেকর্ড করা দামে এই একটিমাত্র স্নো ক্র্যাব বা তুষার কাঁকড়া কিনে নেন ওই ব্যবসায়ী।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের টটোরি এলাকায় চলতি সপ্তাহেই শুরু হয়েছে শীতকালীন সামুদ্রিক খাবারের মৌসুম। সেখানে ভিড় জমান রসনাবিলাসী জাপানিরা।

১২০০ গ্রাম ওজনের এই কাঁকড়াটি স্থানীয় যে খুচরা ব্যবসায়ী কিনেছেন, তিনিও নাকি সেটি বড় কোনো রেস্তরাঁয় বিক্রি করে দেবেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

যে এলাকায় কাঁকড়াটি নিলাম হয়েছে, সেখানকার স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তার দাবি, এটিই বিশ্বে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া কাঁকড়া। এ বিষয়টি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে ওঠার আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তারা।

বাংলাদেশ

যে গ্রামে উৎপাদিত হয় বিষমুক্ত শাক-সবজি

নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে একটি গ্রামে উৎপাদিত হচ্ছে বিষমুক্ত শাক-সবজি। আর এই শাক-সবজি উৎপাদন করছেন উপজেলার বোতলাগাড়ি ইউনিয়নের সোনাখুলি হিন্দুপাড়ায় গড়ে ওঠা নিরাপদ সবজি গ্রামের কৃষকেরা। সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, রাসায়নিক-বালাইনাশক ছাড়াই নিরাপদ সবজি অবাদ করে আশা জাগিয়েছেন ওই গ্রামের ২০ জন কিষাণ-কিষাণী। 

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, চারদিকে সবুজ আর সবুজ। সৈয়দপুর কৃষি বিভাগের পরামর্শে গ্রামের ছয় একর জমিতে চাষ হচ্ছে বিষমুক্ত নানা রকম সবজি।

এরই মধ্যে জমি থেকে আলু তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে জমিতে রয়েছে সিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ধনে পাতা, বেগুন ইত্যাদি।  

সার্বিক বিষয়ে কথা হয় কৃষক সুভাষ চন্দ্র রায়ের (৩০) সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে আমরা জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক স্প্রে করতাম। এর মাধ্যমে হাইব্রিড জাতের শাক-সবজি আবাদ করেছি। এতে ফলন বেশ ভালো হত। তবে আমরা জানতাম, এসব ফসল বিষাক্ত বলে মানুষজন নানা রোগব্যাধীতে আক্রান্ত হতেন। আমরা কৃষি বিভাগের কাছ থেকে জেনেছি, রাসায়নিক সার, কীটনাশক প্রয়োগে জমির ফসল বিষে পরিণত হয় এবং মাটি উর্বরা শক্তি হারিয়ে ফেলে। আমরা গেল বছর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আর মানুষকে বিষ খাওয়াবো না। বর্তমানে আমাদের গ্রামের সবাই নিরাপদ সবজি আবাদে হাত বাড়িয়েছে।  

গ্রামটির প্রবেশমুখে চাষিরা সম্মিলিতভাবে গর্ত খুঁড়ে গৃহস্থালি বর্জ্য দিয়ে তৈরি করছেন কম্পোস্ট সার। করা হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। এছাড়া বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে জৈব বালাইনাশক তৈরি করা হচ্ছে। এসব ফসলের জমিতে প্রয়োগ করে মিলছে ভালো ফলাফল।

কিষাণী মায়া রানী রায় (৩৪) কেঁচো সার তৈরিতে বেশ দক্ষ হয়ে উঠেছেন। মাত্র ১৫দিনের মাথায় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভার্মি কম্পোস্ট তৈরি করেন তিনি। এ সার জমিতে প্রয়োগ করলে অনেক ভালো ফলন মেলে বলে জানালেন মায়া রানী।

কিষাণী আলো রানী (৪২) জানান, কৃষি বিভাগ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়েছি আমরা। ফসলের পরাগায়ন কিভাবে ঘটাতে হয় তা আমরা জানি। প্রকৃতির কাছে আশায় না থেকে পরাগায়ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। এতে ফসল পুষ্ট হচ্ছে।  

নিরাপদ সবজি অবাদ।  ছবি: বাংলানিউজজমিগুলো ঘুরে দেখা যায়, মাঝে-মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে সেক্সফেরোমন ফাঁদ। ‘ এটি হচ্ছে কীটপতঙ্গ দম পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে প্লাস্টিক বক্স ব্যবহার করা হয়। যার দুপাশে তিন কোণা ফাঁক থাকে। পুরুষ পোকাকে আকৃষ্ট করতে স্ত্রী পোকার শরীর থেকে নি:সৃত এক রকম রাসায়নিক পদার্থ বা স্ত্রী পোকার গন্ধ ব্যবহার করা হয় ফাঁদে। এর আকর্ষণে পুরুষ পোকা ফাঁদের দিকে ধেয়ে আসে এবং ফাঁদে পড়ে মারা যায়। এতে করে জমির ফসল নিরাপদ থাকে। অতীতে এসব কীট দমনে ব্যবহার হতো বিষাক্ত কীটনাশক। সেক্সফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করায় জমির ফসল নিরাপদ থাকছে। খাদ্যমান ও পুষ্টি সঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানায় কৃষি বিভাগ।

সূত্র মতে, বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে খরচ একটু বেশি হয়। তবুও ওই গ্রামের কৃষক সুভাষ ১০ শতক জমিতে করলা উৎপাদনে খরচ করেছেন চার হাজার টাকা। এ থেকে ফসল মিলেছে ৫৭০ কেজি করলা। যা বিক্রি করে আয় করেছেন ১৪ হাজার টাকা। ২০ শতক জমিতে টমেটো উৎপাদনে খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার টাকা। এ থেকে উৎপন্ন হবে ১০০ মণ টমেটো। কম করে হলেও প্রতিমণ টমেটোর দাম ১০০০ হাজার টাকা। সেক্ষেত্রে ২০ হাজার টাকা খরচ করে পাওয়া যাবে এক লাখ টাকা।
 
কৃষি বিভাগ বলছে, নিরাপদ সবজি বাজারজাত করতে সরকার এরই মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঢাকায় গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ কৃষি বাজার। শিগগিরই নীলফামারী জেলায় এ ধরনের বাজার সৃষ্টি করা হবে। যাতে করে বারো মাস নিরাপদ সবজি পাওয়া যাবে।

এ নিয়ে কথা হয় সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে জানান, নিরাপদ কৃষি গ্রাম হচ্ছে একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম। দেশের প্রতিটি উপজেলাতে এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারিত করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কৃষিকে বিষমুক্ত করতে এ উদ্যোগ। আমরা সৈয়দপুরে গেল বছর থেকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ওই অর্গানিক কৃষিগ্রাম গড়ে তুলেছি। এতে কৃষকের সাড়া মিলছে প্রচুর। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সাগর কলা চাষে ভাগ্য বদল রফিকের

মানিকগঞ্জ: সংসারের অভাব-অনাটন থেকে রেহাই পেতে সাগর কলা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার চাষি রফিক। গত পাঁচ বছর আগে ৫০ শতাংশ জমি ভাড়া নিয়ে সাগর কলার চাষ শুরু করেন তিনি। এ সময়ের মধ্যে কঠোর পরিশ্রম, সততা আর মেধা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হন তিনি।

রফিকের আর্থিক সচ্ছলতা দেখে তাকে অনুসরণ করে উপজেলার আশে-পাশের আরও বেশ কয়েকজন কলাচাষে ঝুঁকেছেন। অন্য যে কোনো ফসলের চেয়ে কলাচাষে দ্রুত লাভবান হওয়ায় সাটুরিয়া উপজেলায় কলার চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

কলা চাষিরা বলছেন, দুই থেকে তিন ফুট লম্বা কলা গাছের চারা লাগানোর অল্প দিনেই ফল পাওয়া যায়। সাগর কলার চারা একবার রোপণ করলে পুনরায় তা আর রোপণ করতে হয় না। গাছের কলা এক বার পূর্ণাঙ্গ বয়স হলে কেটে ফেলার কিছুদিন পর ওই গাছের গোড়া থেকে নতুন চারা জন্মায়। কলার বাগান।  ছবি: বাংলানিউজকলাচাষি রফিক মিয়া বাংলানিউজকে বলেন, যে জমিতে বৃষ্টি বা বন্যার পানি আটকে থাকে না এমন জমি কলা চাষের জন্য উপযোগী। এক বিঘা জমিতে প্রায় ৩শ থেকে সাড়ে ৩শ কলার চারা রোপণ করা যায়। প্রতি বিঘায় কলা চাষে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এক বিঘায় চারা রোপণের কয়েক মাস পর প্রায় ৮০ থেকে এক লাখ টাকার কলা বিক্রি করেছি।

তিনি বলেন, সাগর কলা বিক্রি করে যা আয় হয় তা আমার সংসারের ব্যয় ও ছেলে-মেয়ের পড়ালেখার পেছনে খরচ করি। আমার কলা চাষ করা দেখে আশে পাশের অনেকেই সাগর কলা চাষে ঝুঁকেছেন বলেও জানান চাষি রফিক।

অপর কলা চাষি নকুল সরকার বাংলানিউজকে বলেন, রফিক ভাইকে অনুসরণ করে আমি পাঁচ বিঘা জমিতে সাগর কলাসহ কয়েকটি জাতের কলার চাষ করেছি। অন্য ফসল বিক্রিতে কিছু ঝামেলা থাকে। কিন্তু কলা বিক্রিতে কোনো ঝামেলা নেই। খুচরা পাইকাররা জমি থেকেই কলা কেটে নিয়ে যান। কলার বাগান।  ছবি: বাংলানিউজএক কাঁদি চাপা কলা (স্থানীয় নাম ঘাউর) ১৫০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়। সবরি কলার কাঁদি ৪০০-৫০০ টাকা, সাগর ও রঙ্গিন মেহের সাগর কলা কাঁদি পাইকারি বিক্রি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়।

স্থানীয় পাইকার রজ্জব আলী বাংলানিউজকে বলেন, আমাদের জেলার মাটি কলা উৎপাদনের জন্য ভালো। সারাদেশে মানিকগঞ্জের সাগর কলা, সবরি কলা, চাপা কলার কদর রয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় মানিকগঞ্জের কলা বিক্রি হয়ে থাকে। মানিকগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতি দিন ট্রাক যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় কাঁচা কলা পাঠানো হয়।



সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, কলার আবাদ করে কামতা এলাকার চাষি রফিকের স্বাবলম্বী হওয়া দেখে স্থানীয় অনেকেই কলা চাষে এগিয়ে আসছে। আমরা মাঝে-মধ্যে কলা চাষিদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি।

এছাড়া প্রতিনিয়ত কলা চাষিদের খোঁজ-খবর রাখছি ও তাদের সব সময় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি বলেও জানান কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ব্রোকলির বাণিজ্যিক চাষে লাভবান বরিশালের কৃষকরা

বরিশাল: ব্রোকলি চাষে আগ্রহ বাড়ছে বরিশালের কৃষকদের মধ্যে। এরইমধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন কৃষক গত বছরে শখের বশে ব্রোকলিচাষ করেছিলেন। পরে তারা চলতি বছরে বাণিজ্যিকভাবে ব্রোকলিচাষ শুরু করেছেন।

আর বাণিজ্যিকভাবে চাষে ব্যাপক সফলতা পাওয়া আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ব্রোকলিচাষ ও উৎপাদন এ অঞ্চলে কয়েকগুণ বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

বরিশালের সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের বামনাকাঠি গ্রামে বেশ কয়েকজন কৃষক চলতি মৌসুমে ব্রোকলি ও ক্যাপসিকামসহ বিদেশি কিছু ফসলের আবাদ করেছেন।

এর মধ্যে ব্রোকলির উৎপাদনটা বেশ ভালো হওয়ায় স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে বেশ সাড়াও পড়েছে।

নগরের সিঅ্যান্ডবি এক নম্বর পুল এলাকার শেখ মুনজে এলাহী দুলাল বলেন, গত বছর ছাত্রমৈত্রীর সাবেক নেতা খালিদ খানের কাছ থেকে জানতে পারি ব্রোকলি সম্পর্কে। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নে ব্রোকলিচাষ করছেন। তার অনুপ্রেরণায় বরিশাল নগর ঘেঁষা জাগুয়া ইউনিয়নের বামনাকাঠি গ্রামে নিজ জমির একাংশে গত বছর শখের বশে ১২০ পিস ব্রোকলি বপন করেন। ব্রোকলির ক্ষেতে কাজ করছেন একজন চাষি।  ছবি: বাংলানিউজযেখানে উৎপাদন কল্পনাতীত হওয়ায় এবার নিজের জমির পাশাপাশি পাশের বর্গা জমি নেন। পরে তিনি ১২শ পিস ব্রোকলির বপন করেন। আর বাজারে এর চাহিদা থাকায় এরইমধ্যে আর্থিকভাবে ব্রোকলিচাষ করে লাভবানও হয়েছেন বলেও জানান শেখ মুনজে এলাহী দুলাল।

ইচ্ছে রয়েছে আগামীতে পাঁচ হাজার ব্রোকলির বীজ বপনের জানিয়ে দুলাল আরও বলেন, ব্রোকলি দেখতে ফুলকপির মতো, তবে রঙটা পুরোই আলাদা। ব্রোকলির রঙ সবুজ হওয়ায় এর নাম স্থানীয়ভাবে অনেকেই ‘সবুজ ফুলকপি’ হিসেবেও ডেকে থাকেন। স্বল্প বিনিয়োগে অধিক লাভ করা যায় এই চাষে।  

তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী ব্রোকলির বীজ জাপান থেকে বাংলাদেশে আনা হয়। এক হাজার বীজের একটি প্যাকেট ১২শ টাকা। বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এই বীজ বপন করতে হয়। আর বীজ বপন করার ২০ দিন পরে যে চারাগাছ হয়। সেটি অন্য স্থানে নিয়ে রোপণ করা হয়।  পরে গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রোকলি উৎপাদন শুরু হয়।  

একটি গাছ থেকে তিনবার ব্রোকলি উৎপাদন করাতে সক্ষম হয়েছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে আকার-আকৃতি অনুযায়ী পিস প্রতি ব্রোকলি ৬০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি করা হয়েছে।  ব্রোকলি। গোটা হিসাবে তার এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকার মতো, যেখানে অল্পদিনের মধ্যেই ২৫ হাজার টাকার বেশি ব্রোকলি বিক্রি করেছি। ক্ষেতে এখনো ব্রোকলির গাছ রয়েছে এবং উৎপাদন হচ্ছে তাতে লাভের ব্যবধানটা অনেক বড় হবে।

বাজারে ব্রোকলির চাহিদা বেড়েছে জানিয়ে স্থানীয় চাষি মনির খলিফা বলেন, চিকিৎসকরা বন্ধের দিন সকালে গাড়ি নিয়ে ক্ষেতে আসেন। পরে ক্ষেত থেকে এ সবজি সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

তিনি আরও বলেন, ব্রোকলি একটি লাভজনক ফসল। যা দুলাল ভাইয়ের ক্ষেত দেখে বুঝতে পেরেছেন স্থানীয় অনেক চাষি। তাই ব্রোকলি চাষের আগ্রহ দেখাচ্ছেন তারা।

মনির বলেন, এই সবজির সবকিছুই খাওয়া যায়। পাতা পর্যন্ত রান্না করে কিংবা ভর্তা করেও খাওয়া যায়। স্থানীয়রা বিভিন্ন মাছ দিয়ে ব্রোকলি রান্না করে খেয়ে থাকেন।

এদিকে পতিত জমিতে লাগিয়ে পরিচর্যা করে ব্রোকলি উৎপাদন করতে এরইমধ্যে সক্ষম হয়েছেন বরিশাল নগরের চাষি লিটু সরদার।

বিদেশের মাটিতে যেসব ফসল উৎপাদন হচ্ছে তা দেশের মাটিতেও উৎপাদন সম্ভব বলেও যোগ করেন চাষি লিটু।

আর নতুন নতুন ফসল উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন মেট্রোপলিটনের কৃষি কর্মকর্তা মোসা. ফাহিমা হক।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক হরিদাস শিকারী বলেন, ব্রোকলি-ক্যাপসিকাম এই অঞ্চলের মানুষের কাছে কিছুটা অপরিচিত সবজি। তবে কৃষকদের জন্য এগুলো বেশ লাভজনক।  

ফলন এবং চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য কৃষকরা ব্রোকলি চাষে উৎসাহিত হবেন। ফলে আগামীতে ব্রোকলির চাষ আরও বাড়বে বলেও আশাবাদী তিনি। ব্রোকলির ক্ষেত।  ছবি: বাংলানিউজস্বাস্থ্য গবেষকরা জানান, ব্রোকলিকে শক্তিশালী ক্যানসারবিরোধী খাদ্য। এতে থাকে খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।  ব্রোকলিতে থাকা গ্লুকোরাফানিন ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের টিস্যু মেরামত করে এবং ত্বক উন্নত করে। ব্রোকলিতে প্রচুর পরিমাণে ফ্ল্যাভোনয়েড, লিউটেনের সঙ্গে ক্যারটিনয়েড, বিটা-ক্যারোটিন এবং জিক্সানথিন-সব শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে, যা অনেক রোগ প্রতিরোধ করে। ব্রোকলি চিনির প্রভার রোধ করে এবং রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আনে। পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ ব্রোকলি সুস্থ স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে ক্যালসিয়ামের আধিক্য থাকায় হাড়ের জন্য এটি বেশ উপকারী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মাগুরায় ব্রকলি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা

মাগুরা: শীতকালীন সবজি ব্রকলি চাষ করে সফল মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাজরাতলা গ্রামের কৃষক রতন বিশ্বাস। পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ ব্রকলির বাজারে ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। পাশাপাশি তিনি শাক-সবজিরও আবাদ করেছেন। অল্প খরচে বেশি লাভের আশায় এবারই প্রথম ব্রকলির চাষ করেছেন কৃষক রতন। 

সম্প্রতি সরেজমিনে শ্রীপুর উপজেলার হাজরাতলা ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কৃষক রতন তার ১০ শতাংশ জমিতে আবাদ করা ব্রকলি ক্ষেত পরিচর্যা করছেন। পাশাপাশি অন্য কৃষকরা তাদের আবাদ করা সবজি লাল শাক, পালং শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, বেগুন, করলা, শিম ও মূলাসহ বিভিন্ন শাক-সবজির ক্ষেত পরিচর্যা করছেন।

এসব সবজি বাজারে বিক্রির জন্য ক্ষেত তুলতে ব্যস্ত কৃষকরা।

কৃষক রতন বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, গত বছর আমার বড় মেয়ে ভারতের হুগলি জেলা থেকে এ ব্রকলির বীজ নিয়ে এসেছিল। সে বছর আমি পাঁচ শতাংশ জমিতে ব্রকলি চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছি। খরচ হয়েছিলো পাঁচ হাজার টাকা। তখন ফলনও ভালো হয়েছিলো। এ বছর আবারও ১০ শতাংশ জমিতে ব্রকলি চাষ করেছি।  ফলন যা হয়েছে তাতে আশা করছি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার ব্রকলি বিক্রি করতে পারবো। মাগুরার বিভিন্ন বাজারে ব্রকলির বেশ চাহিদা রয়েছে। আকার ভেদে বাজারে প্রতি পিস ব্রকলি ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।  

একই গ্রামের সবজি চাষি দেব্রত বিশ্বাস বাংলানিউজকে বলেন, মাগুরায় ব্রকলির ব্যাপক চাহিদা। বাজারে ব্রকলির দাম বেশি হওয়ায় আমি এ বছর পাঁচ শতাংশ জমিতে চাষ করেছি। আমার দেখাদেখিতে গ্রামের অনেক কৃষক ব্রকলি চাষে করেছেন। আগামী বছর এ সবজির আবাদ আরও বাড়বে বলেও তিনি আশা করেন।
মাগুরায় ব্রকলি চাষে ঝুকছে কৃষক।  ছবি: বাংলানিউজহাজরাতলা গ্রামের অপর কৃষক জয়পদ বিশ্বাস বলেন, শ্রীপুর উপজেলায় বহু কৃষক শীতকালীন সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। অল্প খরচে লাভ বেশি তাই কৃষকরা সবজি সবজি চাষ করেন।

ব্রকলি চাষে লাভ বেশি। তাই দিন দিন মাগুরায় ব্রকলির চাষ বাড়ছে বলেও জানান কৃষক জয়পদ।
 
মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে এ জেলায় শীতকালীন ব্রকলি চাষ হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ জমিতে। এ সবজি চাষে লাভ বেশি হাওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগামী বছর ব্রকলি চাষ বেশি হবে বলেও আশা করছে কৃষি অধিদপ্তর।

মাগুরা আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মো. জাহিদুল আমিন বাংলানিউজকে বলেন, প্রায় ২০ শতাংশ  জমিতে ব্রকলি চাষ হয়েছে। ব্রকলি একটা কপি জাতীয় ফসল। এ সবজি পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ।

তিনি বলেন, ব্রকলি চাষে বেশি লাভ হয়। ব্রকলি পুষ্টি সমৃদ্ধ সবজি তাই বাজারে এর চাহিদা বেশি। এ সবজি চাষ কৃষকদের মধ্যে কীভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।  

কৃষি বিভাগের সার্বিক তদারকিতে শীতকালীন শাক-সবজি চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেতের ভালো ফলন দেখে সফলতার হাসি ফুটছে কৃষকের মুখে বলেও জানান উপ-পরিচালক জাহিদুল।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

কৃষক আবুল কালাম এখন উদাহরণ!

হাতেমপুর এলাকা থেকে ফিরে: নাম আবুল কালাম, বয়স ৬৫ বছর পেরিয়েছে। শরীরে বয়সের ছাপ না পড়লেও মুখমণ্ডলে সহজেই বোঝা যায় তিনি বৃদ্ধের কোঠায়; তবে হাড়ভাঙা কষ্টের কাজ এখনো ছাড়তে পারেনি। তিনি একজন কৃষকের ছেলে আর নিজেই কৃষক পরিচয়ে গর্বিত হন। আর এ কৃষকের কাছে বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে পরামর্শ নিয়ে থাকেন। আবুল কালাম এখন সফল চাষি।

উপকূলীয় উপজেলা পাথরঘাটার প্রান্তিক জনপদে কৃষক আবুল কালাম একজন সফল কৃষক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। শিম, লাউ, কপি, চিচিঙ্গা, করলা চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন।

পাথরঘাটার কাঁচাবাজারে সবুজ সবজির বেশিরভাগই জোগান দেয় এ কৃষক। চলতি মৌসুমে মাত্র ৪০ দিনে কপি বিক্রি করেছেন ৪৩ হাজার টাকা। খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা।

চলতি মৌসুমের মাত্র ৪০ দিনে আবুল কালাম কপি বিক্রি করেছেন ৪৩ হাজার টাকার।  ছবি: বাংলানিউজ

প্রান্তিক জনপদ সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের হাতেমপুর গ্রাম। যেখানে কয়েক বছর আগেও রাস্তাঘাটে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখন এ অঞ্চলে পিচঢালাই রাস্তা। গ্রামে মাঠের পর মাঠ জুড়ে আমনের পাকা ধানের সমারোহ। কিন্তু আমনের পাকা ধানের মধ্যে সবুজের সমারোহে মুগ্ধ না হওয়ার কোনো উপায় নেই। এমন চিত্র দেখেই মোটরসাইকেল থমকে গেল। মাঠজুড়ে শিম, কপি ও লাউয়ের গাছ। দুই একর জমিতে বারো মাসই কোনো না কোনো ফসল ফলান ওই চাষি।

কথা হয় সফল কৃষক আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন,  পড়ালেখা করতে পারিনি তেমন। বাপ-দাদায় কৃষক। পূর্ব পুরুষের পেশা ধরে রাখতেই হলো আমার। আমি বুঝ হওয়ার পর থেকেই কৃষি কাজই করি। দুই একর জমিতে আমি সবজি চাষ করি। শুধু চলতি মৌসুমে মাত্র ৪০দিনে ৩ কাঠা জমিতে কপি চাষ করে ৪৩ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। তাতে আমার খরচ হয়েছে মাত্র ৩ হাজার টাকা।

ক্ষেতে কাজ করছেন কৃষক আবুল কালাম।  ছবি: বাংলানিউজ

তিনি আরও বলেন, দুই একর জমিতে আমার ৪টি কৃষি খামার রয়েছে। যা দিয়ে আমি প্রতি বছর ২ লাখ টাকার বেশি আয় করতে পারি। আমার কাছে অনেকেই পরামর্শ নিতে আসেন। তাছাড়া কৃষি অফিসসহ এনজিওদেরও আমি সহযোগিতা বা পরামর্শ পেয়ে থাকি।

পাথরঘাটা পৌর শহরের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী সিরাজুল হক মোল্লা বলেন, আবুল কালাম একজন সফল কৃষক। ছোট বেলা থেকেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক,  তারপরে ব্যবসায়ীক সম্পর্ক। অনেক কষ্ট করে তিনি কৃষি কাজ করছেন। তিনি একজন সফল কৃষক এতে কোনো সন্দেহ নেই।

পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শিশির কুমার বড়াল বলেন, আবুল কালাম একজন সফল চাষি। আমরা সব সময়ই তাকে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তাছাড়া তিনি  যেভাবে সবজি চাষ করছেন তার মতো কৃষক নতুন নতুন তৈরি হওয়া উচিত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com