আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফল

একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার

 একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার
একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার

ফল হিসেবে কিউই অনেকটা অপরিচিত। দেখতেও একধরনের ছোট্ট ফল। তবে এর গুণাগুণ অনেক। একটি কিউই ফল আমাদের শরীরের সাতটি প্রয়োজন মেটায়। এটি অত্যন্ত সুস্বাদু ফল। কয়েক দশক আগেও এ ফল ভারতবর্ষে দেখা যায়নি। বর্তমানে ভারত-বাংলাদেশের কিছু জায়গায় পাওয়া যায়। তাহলে জেনে নেই কিউই ফলের উপকারিতা সম্পর্কে-

হার্ট সুস্থ রাখে: প্রতিদিন এক-দুটি ফল খেলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হওয়ার সম্ভাবনা কমে। যা হৃদরোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করে। এতে রক্তে ফ্যাটের পরিমাণ কমে। ফলে ব্লকেজ প্রতিরোধ করা যায়। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: কিউই ফল শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। কারণ কিউই ফলগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে জোরদার করে। ঠান্ডা বা ফ্লুর মতো অসুস্থতার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।

 একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার
একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার

হজমে সহায়ক: কিউইতে থাকা ফাইবার হজমে সহায়তা করে। কিউই দ্বিগুণ পরিমাণ হজমশক্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। এমনকি হজমের সমস্যাগুলো ঠিক করে দেয়।

চোখ ভালো রাখে: কিউই ফলের মধ্যে উপস্থিত ভিটামিন-এ এবং ফাইটোকেমিক্যাল চোখের ছানি দূর করে। এ ছাড়া বয়সজনিত কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

হাড়-দাঁত ভালো রাখে: কিউই ফলে আছে ভিটামিন-এ, সি, বি-৬, বি-১২, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম ও খনিজ পদার্থ। যা শরীরের রক্ত সঞ্চালনকে ঠিক রাখে। এ ছাড়া হাড় ও দাঁতকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

 একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার
একটি ফল খেলেই পাবেন সাতটি উপকার

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: প্রতিদিন ৩টি কিউই ফল খেলে এতে থাকা বায়োঅ্যাক্টিভ পদার্থগুলো রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। নিম্ন রক্তচাপ স্ট্রোক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

অনিদ্রা দূর করে: কিউই ফলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনিদ্রার মতো ঘুমের ব্যাধিগুলোর জন্য খুবই উপকারী। তাই ঘুমের সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন ফলটি খাওয়া জরুরি।

ফল

আম চাষে সরকারি প্রস্তুতি না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষী

দেশে সব ফলেরই উৎপাদন বেড়েছে। এই দৌড়ে সব চেয়ে এগিয়ে আছে আম। মৌসুমী এই ফলের উৎপাদন ও বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। সম্পর্ক গড়ে উঠেছে হাজার হাজার কোটি টাকার। কিন্তু ফল বাণিজ্যের এই বিশাল ক্ষেত্র নিয়ে সরকারি প্রস্তুতি ও তৎপরতা না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন চাষী ও বাগানমালিকরা।

আম মানেই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বহুকাল প্রচলিত এই চিত্রটি এখন পাল্টে গেছে। আম উৎপাদন হয় না এমন জায়গা দেশে খুঁজে পাওয়া ভার। প্রতি বছরই বাড়ছে বাগান ও আমের উৎপাদন। সে সঙ্গে বাড়ছে বাণিজ্যের আকার। আর সেরা বিবেচনাটিও যার এলাকার আম তার কাছে সেরা।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার লোকেরা যেমন দাবি করছেন, তাদের এলাকার আমই সেরা। ঠিক তেমনই চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষীরাও। তবে চুয়াডাঙ্গার কৃষকেরাও পিছিয়ে নেই আম উৎপাদনের ক্ষেত্রে। দাবি, আম উৎপাদনের ইতিহাসে তারাও খুব একটা নতুন নয়।

সেরা আমের গর্ব, বাণিজ্যের প্রসার আর দেশের মানুষের কাছে সুমিষ্ট এই ফল পৌছে দেওয়ার কৃতিত্ব চাষীর। আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহীর চাষীরা বলছেন, কারো পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ পান না তারা।

তাদের দাবি, তার টাকা খরচ করে আম উৎপাদন করলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতা না পাওয়ায় লাভ ঘরে তুলতে পারছেন না তারা। তবে কৃষি অধিদপ্তরের দাবি কৃষকের সচেতনতার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হিসাবে, এবার দেশে আমের উৎপাদন পুরনো সব হিসেবকে ছাড়িয়ে যাবে।

কিন্তু আমের উৎপাদন ও বাণিজ্যের প্রতিটি স্তরে চাষী, বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীদেরকে কতখানি নিয়মের মধ্যে আনা সম্ভব প্রশ্ন সেখানে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আম ভাঙার বিভ্রান্তি নিরসন জরুরি

এবারই প্রথম গাছ থেকে আম ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করে দেয় প্রশাসন। কিন্তু বিষয়টি সুপরিকল্পিত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে চাষী ও বাগান মালিকদের। আবার কারো কারো মতে, বাগানমালিকদের ঢালাও অভিযোগও গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তারিখ নিয়েও রয়েছে নানা রকম বিভ্রান্তি যা কাটিয়ে তোলা দরকার বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শখ আর স্বাদ গ্রহণের সীমানা পেরিয়ে আম যখন বিশাল বাণিজ্য ও অর্থের যোগানদার তখন এই ফলটি নিয়ে হেলাফেলা করা নয়। ভোক্তার কাছে শুদ্ধ ফল পৌঁছে দেওয়ার তাগিদেই এবার প্রথম এসেছে গাছ থেকে আম ভাঙ্গার তারিখ। কিন্তু কোন জেলার জন্য কোন তারিখ, কোন আমের পরিপক্ক হওয়ার দিনটাই বা কবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আমের জেলা রাজশাহীর বাঘার কাছে হিসাবটি এক রকম। চাপাই নবাবগঞ্জের অন্যরকম।এই হিসাবটি শুধু এবারের জন্য নয়, আগামী উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই ব্যাপক প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে তা চাষী, বাগানমালিক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবার জন্যেই রাখবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। রাজশাহীর একজন আম চাষী অভিযোগ করে বলেন, আমরা এবার বাজারেই যেতে পারি নাই। আমগুলো সব নষ্ট হয়ে গেছে। আম ভাঙার তারিখ ১৫ দিন পিছিয়ে দেওয়ায় এখন আমাদের ১০ টাকা কেজি আম বিক্রি করতে হচ্ছে।

কিন্তু কিছুটা আলাদা কথা বলেন চাপাইনবাবগঞ্জের চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, সরকার আমাদের একটা নিয়ম করে দিয়ে গেছে, ৫ তারিখের আগে আম ভাঙা যাবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরফউদ্দিন বলেন, জুনের ১ তারিখ থেকে আম সংগ্রহের তারিখ নির্ধারণ ছিলো। রাজশাহীতে জুনের ৫ তারিখ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, কিছু আম জুনের প্রথমে এবং বাকিগুলো ১৫ তারিখের আগে পাড়া যাবে না। চুয়াডাঙ্গার হিসাব আবার আলাদা।

একজন চাষী বলেন, উপজেলা অফিসারের সঙ্গে একটা কনফারেন্স হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আম পরিপক্ক হবে তারপর আম ভাঙবে।

এই অবস্থায় চাষীরা কোন দিকে যাবে? কয়েকজন কৃষকের অভিযোগ, সরকারের এমন সিদ্ধান্তে চাষী-ব্যবসায়ী সব ধ্বংস। অন্যরা আবার বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কৃষকদের থাকতে হবে।

দ্বিধা দূর করতে রাজশাহীর আম গবেষক মাহবুব সিদ্দিকি একটি আম ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করেছেন।তিনি বলেন, গোপালভোগটা মে মাসের ২৫ তারিখের আগে কেনা যাবে না, খাওয়াও যাবে না। এরপর আসবে হিমসাগর ও ল্যাংড়া।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

প্রচুর আমেও লাভ নেই চাষী-ব্যবসায়ীদের

সারাদেশের বাজারে আমের ব্যাপক সমারোহ থাকলেও এবার কাঙ্খিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন চাষী, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা। এই লোকসানের পেছনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপকে আংশিক দায়ী করছেন তারা। তবে আমে এবার ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক ব্যবহার হয়নি বলে জোর দাবি তাদের।

গতবছর ফলের রাজা আম নিয়ে মানুষের মধ্যে সংশয় ছিলো। নিরাপদে মানুষ খেতে পারেনি প্রিয় ফল। আবার ফরমালিন ব্যবহারের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত শত শত টন আম নষ্ট করায় ক্ষতির শিকার হয়েছেন সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ী। এবার সেই অবস্থার অবসানে আমপ্রধান এলাকাগুলোতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় বাগান থেকে আম পাড়ার তারিখ। চাষী এবং বাগান মালিকরা বলেছেন, এতে চরম লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

তারিখ বেঁধে দেওয়ায় ক্ষতির কথা উল্লেখ করে একজন কৃষক বলেন, আগে আমার যে গাছে আম হতো ১০ মণ এখন হবে পাঁচ মণ। সরকারের বাধা দেওয়ার কারণে আমার পাঁচ মণ আম ক্ষতি হলো।

দেশের সবচেয়ে বড় আমের আড়ত চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটের ব্যবসায়ীরাও আমে লোকসানের কথা জানান। তারা বলেন, তারিখ বেঁধে দেওয়ার কারণে সব আম মোকামে একসঙ্গে জড়ো হচ্ছে। যার ফলে আমের চাহিদা কমে গেছে।

একজন কৃষক বলেন, গেলোবার যে দাম ছিলো, এবার তার অর্ধেক দামও পাচ্ছেন না। তবে চাষীরা বলেছেন, কোনোভাবেই এবার আমে ফরমালিন ব্যবহার করেন নি। আরেকজন কৃষক বলেন, আমরা যারা কৃষক তারা কখনোই ফরমালিন দেই না। এটা আমরা চিনিও না।

কৃষকের অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনও তাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্যান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এই সিদ্ধান্ত একবারে হয়নি। এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল যাতে ব্যবহার করতে না পারে সেজন্যই সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ল্যাংড়া আম ১৫ জুনের আগে পাকে না। এর আগে আম পাড়া মানেই অপরিপক্ক আম পাড়া। অপরিপক্ক আমটা যাতে না পাড়ে সেজন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, আমের বাণিজ্যিক গুরুত্ব এবং জাত বিবেচনা করে তবেই যে কোনো উদ্যোগ নেওয়া উচিত। গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী বলেন, যারা আম ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন তাদের সঙ্গে সরকারি পর্যায়ে আম চাষীদের একটা সমন্বয় হওয়া দরকার।

বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীসহ সবার দাবি আম পাড়ার একটা নির্ধারিত তারিখ ঠিক করে দেওয়ার ফলে তারা এই ক্ষতি সম্মুখীন। যে ক্ষতি সহজে কাটিয়ে উঠা সম্ভব নয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

অন্যান্য

সৌদি খেজুর চাষ করে সফল সোলাইমানের গল্প

বাংলাদেশে বেকারত্বের হার চরম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। চাকরির বাজার ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এখন বেকারত্বের হাত থেকে মুক্তি পেতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর উপায়ে কৃষি কাজ করতে পারেন। এতে অনেকেই সফল হচ্ছেন। এবার সৌদি খেজুর চাষ করে সোলাইমানের সফলতার গল্প জেনে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফল

আপেল কুল চাষে লাভের মুখ

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাকুনিপাড়া গ্রামে খেত থেকে কাশ্মীরি বরই তুলছেন কৃষক আবুল কাসেম। গতকাল বেলা ১১টায়। ছবি: প্রথম আলো
কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ঝাকুনিপাড়া গ্রামে খেত থেকে কাশ্মীরি বরই তুলছেন কৃষক আবুল কাসেম। গতকাল বেলা ১১টায়। ছবি: প্রথম আলো

চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। ডালে থোকায় থোকায় ধরে আছে বরই। পরিপক্ব বরইগুলো দেখতে লাল আপেলের মতো। স্বাদে মিষ্টি। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এগুলো কাশ্মীরি আপেল কুল হিসেবে পরিচিত। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ঝাকুনিপাড়া গ্রামে গোমতী নদীর তীরে এই বরইয়ের বাগান।

গ্রামের আবুল কাসেম প্রথমবারের মতো কাশ্মীরি আপেল কুলের চাষ করেন। প্রতিদিন বহু লোক তাঁর বাগানে এসে বরই কিনে নিয়ে যান। ফলন ভালো হয়েছে। দামও ভালো। এতে আবুল কাসেম বেশ খুশি। তিনি আগামী বছর আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এই বরইয়ের চাষ করবেন বলে জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টায় কুমিল্লার গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা গেছে, নদীর একেবারেই তীর ঘেঁষে ৪০ শতক জমিতে রোদের মধ্যে চিকচিক করছে বরই। সর্বোচ্চ চার ফুট উচ্চতার একেকটি গাছ। এগুলোতে বরই ধরে আছে। কিছু কিছু ডাল ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। গাছ থেকে আপেল রঙের পাকা বরই ছিঁড়ছেন আবুল কাসেম। কুমিল্লা শহর থেকে কাশ্মীরি বরই কিনতে এখানে এসেছেন বেশ কয়েকজন। খেত থেকে সদ্য তোলা প্রতি কেজি বরই বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়। 

জানতে চাইলে আবুল কাসেম বলেন, গত বছর যশোর শহরের সোহাগ নার্সারি থেকে ৩০০টি বরইগাছের চারা কিনে আনেন। এরপর মে ও জুন মাসে ঝাকুনিপাড়া এলাকার লিজ নেওয়া জমিতে এক ফুট লম্বা ২৭৫টি বরইগাছের চারা রোপণ করেন। তখন ওই গাছে কেঁচো সার ব্যবহার করেন। বরইগাছ বড় হওয়ার পর ছড়ানো ডাল ঠিক রাখার জন্য বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করেন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে গাছগুলোতে ফুল আসে। এসব কুল প্রথমে সবুজ থাকে। পরে সেটি লাল রং ধারণ করে। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফল পরিপক্ব হয়। এরপর থেকে বরই বিক্রি শুরু করেন। এই জমিতে বরই চাষ করতে তাঁর ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছেন। আরও অন্তত লাখ টাকার বরই বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও কুমিল্লা শহর থেকে মানুষ এসে তাঁর এই বাগান থেকে বরই কিনে নিয়ে যান। এবার ফলন ভালো হওয়ার আগামী বছর আরও ৮০ শতক জমিতে বরইয়ের চাষ করবেন। ইতিমধ্যে জায়গা নিয়েছেন। তাঁর জানামতে, কুমিল্লা অঞ্চলে আর কেউ এই জাতের বরই চাষ করছেন না। এটি কাশ্মীর থেকে আনা জাত। তাই একে কাশ্মীরি বরই বলে। দেখতে আপেলের মতো। এ কারণে একে কেউ কেউ কাশ্মীরি আপেল কুলও বলেন।

কৃষক আবুল কাসেম আরও বলেন, ছোটবেলা থেকে অভাব–অনটনের মধ্য দিয়ে তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁরা তিন বোন ও এক ভাই। মা-বাবা গত হয়েছেন বহু আগেই। ১৯৮৯ সালে কুমিল্লা স্টেডিয়ামের লাগোয়া খাজা নার্সারিতে তাঁর ৩০০ টাকা বেতনে চাকরি হয়। সেখানে নার্সারির গাছের পরিচর্যা করেন। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত সেখানে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘কুমিল্লা নগরের শাকতলা এলাকায় বিসমিল্লাহ নার্সারি দিই। তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন সড়কের আইল্যান্ডে ফুল ও ফলের গাছ লাগাই। এভাবে আমার পুঁজি বাড়ে। গত বছর বিসমিল্লাহ নার্সারির জায়গার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। জায়গার মালিক নবায়ন না করার কারণে আমি গ্রামে ফিরে আসি। এরপর ঝাকুনিপাড়ায় বড় ছেলের নামে শাহজাহান অ্যাগ্রো অ্যান্ড নার্সারি নামে নতুন নার্সারি দিই। এই নার্সারির আওতায় বরইবাগানের পাশে অন্য জমিতে বিভিন্ন ফুল, ফল, সবজির চারা বপন করে চারা বিক্রি করি। আমার স্ত্রী সালেহা বেগম, ছেলে শাহজাহান এই কাজে আমাকে সহযোগিতা করেন। নার্সারির আয় থেকে বড় মেয়ে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ে। ছোট মেয়ে এলাকার স্কুলে ষষ্ঠ ও ছোট ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। তাদের পড়ার খরচ জোগান দেওয়া হয়।’

কুমিল্লার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, এ জাতের বরই মিষ্টি হয়। খেতে সুস্বাদু। ফলনও বেশি হয়। এতে কৃষকেরা লাভবান হন।

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মামুনুর রশিদ বলেন, ছোটবেলা থেকে আবুল কাসেম গাছগাছালি নিয়ে পড়ে আছেন। এবার তাঁর বাগানের বরইয়ের সুনাম এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। কুমিল্লা শহর ও দূরদূরান্ত থেকে মানুষ বরই কিনতে আসছেন। এটি একটি ভালো খবর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com