আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

শাকসবজি

একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো

 একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো
একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো

গাছের উপরে এক ধরনের ফল, মাটির নিচে অন্য ধরনের ফল উৎপাদিত হবে- এমনটি ভেবেছেন কখনো? না ভাবলেও সম্প্রতি এ ধরনের গাছ উদ্ভাবন করেছেন বিজ্ঞানীরা। আলু গাছে আলুর পাশাপাশি টমেটো ফলানোর মত কঠিন কাজটি করেছেন তারা। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘টমটেটো’ বা ‘পমেটো’।

যুক্তরাজ্যের গবেষকরা সম্প্রতি একই গাছে আলু এবং টমেটো উৎপাদন করার ধারণার সফল বাস্তবায়ন ঘটিয়েছেন। এতে আলু ও টমেটোর স্বাদ অক্ষুণ্ন থাকে। এর জন্য তারা গ্রাফটিং বা জোড় কলমের আশ্রয় নিয়েছেন। চেরি টমেটোর সঙ্গে সাদা গোল আলুর জোড় কলম পদ্ধতিতে এগুলো উৎপাদন করা সম্ভব।

 একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো
একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো

যেভাবে ফলানো হয়: আলু এবং টমেটো একই গাছে ফলানোর উপায় হচ্ছে আলু গাছে টমেটোর গ্রাফটিং পদ্ধতি। টমেটো এবং আলু একই ঋতুর ফসল। তাই একই গাছে দুই ফসল উৎপাদনের ফলে সময় যেমন বাঁচে; তেমনি নিশ্চিত করা যায় জমির সর্বোত্তম ব্যবহার। এ জন্য মাটির উর্বরা শক্তি সর্বাধিক হওয়া দরকার। জমিকে সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য এটি দারুণ উপায়। প্রথমে আলু গাছ লাগাতে হবে। সেটিকে পরিণত হতে দিতে হবে। তারপর ফসল উঠানোর সময় সব আলু গাছ মূলসহ না উঠিয়ে কয়েকটি রেখে দিতে হবে। সেগুলোতে গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে হাইব্রিড গাছ ‘টটোমেটো’ বা ‘পমেটো’ তৈরি হবে।

চাষের উপকরণ: প্রথমেই প্রাপ্তবয়স্ক আলু গাছ নিতে হবে। আলু গাছের কাণ্ডের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ নিতে হবে। এরপর একটি ধারাল ছুরি অথবা কাটার নিতে হবে। সবশেষে রেপিং টেপ নিতে হবে।

 একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো
একটি গাছেই পাওয়া যাবে আলু ও টমেটো

পদ্ধতি: একটি প্রাপ্তবয়স্ক আলু গাছকে (স্টক) মাটি থেকে প্রায় ১ ইঞ্চি উপরে ভি শেপ করে কেটে নিয়ে উপরের অংশটি ফেলে দিতে হবে। অন্যদিকে একটি টমেটো গাছকে (সায়ান) মাটি থেকে ৬-৭ ইঞ্চি কেটে আগাসহ উপরের অংশটি কেটে নিতে হবে। আলু গাছের সমান ব্যাস বিশিষ্ট টমেটো গাছ নিলে গ্রাফটিং করতে সুবিধা হয়। তারপর টমেটো গাছের কাটা অংশটি আলু গাছের কাটা অংশটির উপর প্রতিস্থাপন করতে হবে। গ্রাফটিং করা অংশটি রেপিং টেপ দিয়ে ভালোভাবে পেঁচিয়ে দিতে হবে। প্রতিস্থাপিত অংশ থেকে নতুন পাতা গজানোর আগ পর্যন্ত রেপিং টেপ খোলা যাবে না।

সুবিধা: গ্রাফটিংয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে- এটি সময় এবং স্থান সাশ্রয়ী। একই গাছে আলু এবং টমেটো উৎপাদনের ফলে অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।

এগ্রোবিজ

বিদেশী সবজি চাষে ভাল আয় করেছেন যিনি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

লাউ চাষে হাকিম দেওয়ানের ভাগ্য বদল

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফসল

ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান

 ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান
ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান

ভোলার মানুষকে ফরমালিনমুক্ত ফল ও সবজি খাওয়ানোর জন্য কৃষি কাজে নেমেছেন সদরের বাপ্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লা। একটি প্রজেক্টে তিনি ফরমালিনমুক্ত আম, জাম, লিচু, মাল্টাসহ নানা ধরনের ফল ও সবজি চাষ করছেন। এতে সফলও হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া তার প্রজেক্টে ১২ হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদন করে জেলায় পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখেন।

সরেজমিনে জানা যায়, বিপ্লব মোল্লা গত ৪ বছর আগে ভোলা সদরের রাজাপুর এলাকায় ৩৫ একর জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে মাল্টা ও লিচু চাষ করেন। প্রথমবারেই তিনি সাফলতা পেয়েছেন। ছোট পরিসরে কাজ শুরু করলেও এ বছর ব্যাপকভাবে শুরু করেন আম, লিচু, জাম, মাল্টা, ধান, পেঁয়াজ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজি চাষ।

ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান
ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান

দেশীয় পদ্ধতিতে বিষমুক্ত ফল ও সবজি চাষ করা হচ্ছে চেয়ারম্যানের এ প্রজেক্টে। ফলে বাজারে তার ফল ও সবজির চাহিদা বেশি। এ প্রজেক্টে প্রতিদিন ৭০-৮০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের কর্মসংস্থান হওয়ায় কমেছে বেকারত্ব। কৃষি কাজের এমন উদ্যোগের জন্য এলাকায়ও হয়ে উঠেছেন জনপ্রিয়।

ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লা বলেন, ‘বাজারের ফল ও সবজি বেশিরভাগই ফরমালিনযুক্ত। যা আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকর। তাই ৩৫ একর জমিতে আম, জাম, কাঠাল, লিচু, মাল্টা, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল, সবজি এবং ধান চাষ করেছি।’

ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান
ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান

তিনি আরও বলেন, ‘দেশে পেঁয়াজের সঙ্কটে আমার প্রজেক্টে ১২ হাজার মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। যা পুরোটাই ভোলার বাজারে বিক্রি করেছি অনেক কম দামে। লাভের চেয়ে মানুষকে কম দামে ফরমালিনমুক্ত খাবার খাওয়াতে পারাই আমার সফলতা। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে করার আশা আছে।’

সদরের ক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম ও উত্তম কুমার সরকার বলেন, ‘চেয়ারম্যানের বাগানের ফল ও সবজি কিনছি নির্ভয়ে। কারণ এসবের মধ্যে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই। যদি বড় পরিসরে উৎপাদন করতে পারেন, তাহলে অন্য জেলায়ও পাঠানো সম্ভব।’

ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান
ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান

এছাড়াও গবাদি পশু পালন প্রজেক্টে প্রতিদিনই ভালো বেতনে কাজ করছেন শ্রমিকরা। প্রজেক্টে কাজ করা কয়েকজন জানান, আগে অনেকেই দিনমজুর হিসেবে একদিন কাজ করতো তিন দিন কাজ থাকতো না। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে চেয়ারম্যানের প্রজেক্টে অনেক শ্রমিক একসাথে কাজ করছে। তারা ভালো পারিশ্রমিকও পাচ্ছেন।

ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান
ফল ও সবজি চাষে ৭০-৮০ জনের কর্মসংস্থান

সদর উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যানের সব কাজে আমরা সহযোগিতা করছি। যে কারণে তিনি সফল হয়েছেন। তার দেখাদেখি ভোলার অনেকে বড় পরিসরে কৃষি কাজ করতে আগ্রহী হয়েছেন। ভোলায় কৃষি উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!
পঙ্গপাল দমন না করে বিক্রি, আয় করছেন কৃষকরা!

তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে পঙ্গপাল ছড়িয়ে পড়েছে ভারত ও পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে। যেহেতু করোনাভাইরাসের মাঝে পঙ্গপালের আক্রমণ খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে এ সংকটের মাঝেও নতুন একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছেন পাকিস্তানের কৃষকরা।

সামাটিভি‘র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পঙ্গপাল শুধু দমন করাই নয়, তা বিক্রি করে আয়েরও বড় উপায় হয়ে উঠেছে পাঞ্জাবের ওকারা জেলায়। ক্ষুদ্র এ পতঙ্গটি ব্যবহার করা হচ্ছে মুরগির উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবার হিসেবে।

ওকারা জেলায় উদ্ভাবনী এ প্রকল্প এনেছেন পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মোহাম্মদ খুরশিদ ও পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ জোহর আলী।

এরপর প্রকল্পের একটি শ্লোগান দেন তারা, ‘পঙ্গপাল ধর, আয় কর এবং ফসল বাঁচাও’। প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের প্রতি কেজি পঙ্গপালের বিনিময়ে ২০ পাকিস্তানি রুপি করে দেয়া হয়।

খুরশিদ ও আলী মিলে পাকিস্তানের জনসংখ্যাবহুল প্রত্যন্ত গ্রাম ওকারা জেলাতে তিনদিনের পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করেন। প্রকল্পটি ছিল দেপালপুরে পেপলি পাহার বনে। গত ফেব্রুয়ারি থেকেই সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিপক্ক পঙ্গপাল আসতে থাকে। আর ওই বন নির্বাচন করার কারণ ওখানে পঙ্গপালের ওপর কীটনাশক ব্যবহার করা হয়নি।

এ ধারণার অন্যতম প্রবর্তক পাকিস্তানের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও গবেষণা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা খুরশিদ বলেন, পঙ্গপাল সাধারণত দিনের আলোতে উড়ে বেড়ায়। রাতে ওরা গাছপালায় বা উন্মুক্ত ময়দানে বিশ্রাম নেয়। তখন একদম নড়াচড়া করে না। মৃতের মতো পড়ে থাকে। ওই সময় পঙ্গপাল ধরা অনেক সহজ। আমরা কৃষকদের সেই বুদ্ধি দিলাম। তাতেই কাজ হলো। কৃষকরা প্রথম রাতেই ৭ টন পঙ্গপাল ধরেছে। আমরা সেগুলো পার্শ্ববর্তী মুরগির খাবার তৈরির কারখানায় বিক্রি করেছি। ওই রাতে কাজ করে কোনো কোনো কৃষক ২০ হাজার রুপিও আয় করে।

এ ব্যাপারে পাকিস্তান কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের জৈবপ্রযুক্তিবিদ আলী বলেন, আমরা যখন শুরু করলাম তখন অনেকেই উপহাস করেছে। কারণ পঙ্গপাল ধরে বিক্রি করবে এ চিন্তা তখন পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। প্রথম রাতে ১০ থেকে ১৫ জন কৃষক কাজ করে। কিন্তু লোভনীয় এ আয়ের খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে তৃতীয় রাতে কয়েকশ কৃষক জড়ো হয়। তারা নিজেরাই থলে নিয়ে আসে এবং সারারাত পঙ্গপাল ধরে থলে ভর্তি করে ফেলে। আমরাও তাদের বিনিময় দিয়ে দিলাম।

খুরশিদ আরো জানান, ইয়েমেনের ২০১৯ সালের একটি উদাহরণ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন তারা। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত ওই দেশটিতে শ্লোগান উঠেছিলো, পঙ্গপাল খেয়ে ফেল, ওরা ফসল খাওয়ার আগে।

পাকিস্তানে মুরগির খাবার তৈরির প্রতিষ্ঠান হাই-টেক ফিডসের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আতাহার বলেন, কীটনাশক ব্যবহার ছাড়া পঙ্গপাল ধরা গেলে এটি অত্যন্ত উচ্চপ্রোটিন যুক্ত খাবারে পরিণত হয়। এ খাবার হাস-মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুকে খাওয়ানো যায়।

তিনি আরো জানান, প্রাণীর খাবার তৈরি করতে যে সয়াবিন আমদানি করা হয়, তাতে প্রোটিন ৪৫ শতাংশ, আর পঙ্গপালে আছে ৭০ শতাংশ। এছাড়া পঙ্গপালে খরচও পড়ে অনেক কম।

প্রকল্পের এ সাফল্যে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও সাময়িক স্থগিত রাখতে হয় করোনা মহামারির কারণে। লকডাউন শিথিল হলে প্রকল্পটি আবার শুরু করা হবে। গ্রামে কাজহীন বহুমানুষ আছে, তারা আয়ের জন্য এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

কৃষকের লাভই সবচেয়ে কম

সবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।


চট্টগ্রামের শঙ্খ নদের তীরে দোহাজারী ও সাতকানিয়ার নলুয়া, চাগাচর, মুন্সিজরসহ বেশ কিছু এলাকায় চাষ হয় নানা জাতের সবজি। এসব সবজি নৌকায় করে পাইকারি বিক্রির জন্য কৃষকেরা নিয়ে যান দোহাজারীর সবজিবাজারে। গত বৃহস্পতিবার সকালে। ছবি: সৌরভ দাশসবজির সরবরাহ ব্যবস্থায় লাভের ভাগ সবচেয়ে কম পান দেশের কৃষকেরা। সরকারি সংস্থা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কৃষিপণ্য কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তার কাছে যেতে অন্তত তিন দফা হাতবদল হয়। এ প্রক্রিয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা কৃষকের চেয়ে অনেক বেশি লাভ করেন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ২০১৭–১৮ অর্থবছরে তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে তিনটি সবজির ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরে লাভ ও মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ তুলে ধরেছে। এতে দেখা যায়, কৃষক যে আলুর দাম কেজিপ্রতি ৯ টাকারও কম পান, সেটি ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে দাম হয় ২২ টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে দেশে ৩৮ লাখ টনের কিছু বেশি সবজি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৩ লাখ টন শীত ও ১৫ লাখ টন গ্রীষ্মকালীন সবজি। অবশ্য হিসাবের মধ্যে আলু নেই। বিবিএসের হিসাবে, গত অর্থবছরে প্রায় ৯৭ লাখ টন আলু উৎপাদন করেছেন দেশের কৃষকেরা।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাবে, ২০১৭–১৮ অর্থবছরে এক কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় হয় ৭ টাকা ৬০ পয়সা। গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভে ওই আলু কৃষক বিক্রি করেন প্রতি কেজি ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী একই আলু কিনে বিক্রি করেন ১২ টাকা ২০ পয়সা দরে। এতে তাঁর ব্যয় হয় ১ টাকা ১০ পয়সা, লাভ হয় সোয়া ২ টাকা। পাইকারি বাজারে আলু বিক্রি হয় ১৭ টাকা ১৫ পয়সা কেজিতে। পাইকার ১ টাকা ৬০ পয়সা খরচ করে লাভ করেন ৩ টাকা ৩৫ পয়সা। খুচরা বিক্রেতা কেজিতে ৯০ পয়সা ব্যয় ও ৩ টাকা ৯৫ পয়সা লাভ করে আলু বিক্রি করেন প্রতি কেজি ২২ টাকায়।

একইভাবে প্রতি কেজি বেগুনে কৃষকের ১ টাকা ৮৯ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর আড়াই টাকা, পাইকারের ৪ টাকা ১৩ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার ৯ টাকা ৩৬ পয়সা লাভ থাকে। প্রতি কেজি টমেটোতে কৃষকের লাভ ২ টাকা ১০ পয়সা, স্থানীয় ব্যবসায়ীর লাভ ৩ টাকা, পাইকারের লাভ ৬ টাকা ৬০ পয়সা ও খুচরা বিক্রেতার লাভ ৭ টাকা ২৮ পয়সা।

জানতে চাইলে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা যখন ফুলকপি ৫ টাকা দরে বিক্রি করি, বগুড়া শহরে গিয়ে সেই ফুলকপিই ২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখি।’ তিনি বলেন, কৃষিতে যে পরিমাণ ঝুঁকি, বিনিয়োগ ও পরিশ্রম, তাতে লাভ বেশি নয়। পরিবারের কেউ চাকরি না করলে, অথবা বিদেশে না থাকলে কৃষিকাজ করে মোটামুটি সচ্ছল জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।  

বেগুনে লাভ বেশি

অবশ্য সার্বিকভাবে সবজি চাষ কৃষকের জন্য লাভজনক। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সমীক্ষায় বিভিন্ন ফসলে কৃষকের মুনাফার চিত্র উঠে এসেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০১৫ সাল থেকে ফুলকপি, মিষ্টিকুমড়া, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুন ও আদা চাষের ওপর সমীক্ষা করে দেখেছে, এসব ফসল আবাদে ১০০ টাকা বিনিয়োগ করলে তার বিপরীতে প্রায় শতভাগ লাভ হয়।

অন্যদিকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের ২০১৭–১৮ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করতে কৃষকের ব্যয় হয়েছে ৭৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। বিপরীতে তাঁর মুনাফা হয়েছে ৪০ হাজার ৬৬৬ টাকা। এক একর জমিতে রসুন আবাদ করলে মুনাফা হয় ৫৪ হাজার ৪৯৮ টাকা। আলুতে লাভ কম, ৩৫ হাজার টাকার মতো। বেগুনে অবশ্য মুনাফা বেশি, একরে প্রায় ৯৯ হাজার টাকা। টমেটো চাষে লাভ একরপ্রতি ৬৮ হাজার টাকার কিছু বেশি।

এবার শীত খারাপ কাটল

এবার শীত মৌসুমে বাড়তি সবজি আবাদ করে মন্দ সময় কেটেছে চাষিদের। প্রতিবার শীতে কখনো দাম বেশ বেড়ে যায়, কখনো কম থাকে। এবার পুরো শীতেই সবজির দর তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে পেঁয়াজ ও আলুচাষিরা খরচের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

কৃষক, ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শীত মৌসুমে আগাম ও স্বাভাবিক সময় মিলিয়ে এ বছর সবজির আবাদ আগের বছরের চেয়ে বেশি হয়েছে। পাশাপাশি আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে শীত মৌসুমের পুরোটা সময়ই বাড়তি সরবরাহ ছিল। ফলে দামের খুব একটা ওঠানামা হয়নি। পুরোটা সময় দাম বেশ কম ছিল।

রাজধানীর খুচরা বাজারে এখন বেশির ভাগ সবজির দর কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। কারওয়ান বাজারের আড়তে এসব সবজি মিলছে আরও কম দামে। কৃষক পর্যায়ে দাম একেবারেই নগণ্য। বগুড়ার মহাস্থানহাটে গত রোববার পাইকারি দোকানে প্রতিটি ফুলকপি ৭–৯ টাকা, বাঁধাকপি ৫–৬ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১০ টাকা, শিম ১২–১৫ টাকা, মুলা ৫–৬ টাকা, আলু ৫–৬ টাকা ও ক্ষীরা ১৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

মহাস্থানহাটের ব্যবসায়ীরা বলছেন, কিছুদিন আগে দাম আরও অনেক কম ছিল। সে তুলনায় এখন কিছুটা বাড়তি। কারণ মৌসুম শেষ হয়ে আসছে। জানতে চাইলে মহাস্থানহাটের আড়ত মালিক মো. ফারুক মিয়া বলেন, হাটে যে দামে সবজি বিক্রি হয়, তার চেয়েও কিছুটা কম দাম পান কৃষক। কারণ, তাঁর পরিবহন ও তোলার খরচ দিতে হয়। সব মিলিয়ে এবার বাজার খারাপ গেছে। চাষিরা দাম পাননি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

© স্বত্ব দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেড দ্বারা পরিচালিত - ২০২০
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com