আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

সার্বিকভাবে উৎসবের এ গল্প ৩০ হাজার কোটি টাকার। বর্তমানে আমাদের জাতীয় বাজেটের ১ শতাংশের ওপরে। এই পরিমাণটা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো সম্ভব, অন্তত বিজ্ঞান সেটাই বলছে। পৃথিবীজুড়ে বাঙালিকে পরিচয় করানোর পঞ্চম আইকনখ্যাত বাংলাদেশি পেটেন্ট (জিআই) পাওয়া জলের রুপালি শস্য ইলিশের কথা বলছি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এক গবেষণা বলছে, ইলিশই পৃথিবীর একমাত্র মাছ, যার ধর্মীয়, সামাজিক ও লোকসাংস্কৃতিক মূল্যমান আড়াই হাজার কোটি টাকার ওপরে।

যুগে যুগে ইতিহাসের পাতায় পাতায় বাঙালিদের নানান উৎসবে ইলিশের ম-ম গন্ধে মেতে ওঠা গল্পের শেষ নেই। মাছে-ভাতে বাঙালিখ্যাত জাতিটি রকমারি মৎস্য, বিশেষ করে ইলিশ আহারে বুঁদ হয়ে ভোজনরসিক থেকে ভোজনশিল্পীতে খ্যাতি পেয়েছে। এ জাতির খাওয়াখাদাওয়ার রসিকতা আর ঐতিহ্য দেখে বিখ্যাত লেখক বুদ্ধদেব বসু ‘ভোজনশিল্পী বাঙালি’ নামে একটা বই-ই রচনা করে ফেলেছেন। সেখানে তিনি ইলিশের গুণগান আর উৎসবে–ইতিহাসে ইলিশের নানান অনুষঙ্গ পেড়ে বসেছেন।

যশোরের চৌগাছার ইলিশমারি নীলকুঠির অত্যাচার-পীড়নের গল্প সর্বজনবিদিত। বাংলার মসনদে ছোটলাটের আবির্ভাব-পরবর্তী সময়ে ইলিশমারি নীলকুঠিকেন্দ্রিক এই অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় ছোটলাট-পত্নী লেডি কেসি ইলিশের ভক্ত হয়ে ওঠেন। তিনি কলকাতার গভর্নর হাউসে এক প্রীতিভোজ উৎসবে দাওয়াত পেয়েছিলেন। সেখানে অনেক কিছু খেয়েছেন, সঙ্গে ছিল বাংলার বিখ্যাত ইলিশ। পরবর্তীকালে তাঁর লেখনীতে বাংলার ইলিশ ও সুগন্ধি চালের বিস্তর প্রশংসার গল্প শুনতে পাই।

ইতিহাসের আরও এক ইলিশ-প্রীতিভোজের গল্প শুনতে পাই বিখ্যাত প্রাবন্ধিক বুদ্ধদেব বসুর লেখনীতে। সেখানে তিনি নিজেই আপ্যায়িত হয়ে বলেছেন ‘রজতবর্ণ মনোহরদর্শন মৎস্যকুলরাজ মহান ইলিশ। একদেহে এতটা প্রতিভা ধারণ করে যে শুধু তাকে দিয়েই তৈরি হতে পারে একটি পঞ্চপদি নানা স্বাদযুক্ত ভোজনের মতো ভোজন।—অর্থাৎ এই ভোজন উৎসবের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শুধুই ইলিশ।’ বুদ্ধদেব বসুর পঞ্চপদি ইলিশ এখন পঞ্চাশ পদ পেরিয়ে শতপদ ব্যঞ্জনের উপাখ্যান ছড়াচ্ছে বাংলার আনাচকানাচে।

ইলিশই একমাত্র উৎসবের মাছ, যাকে ঘিরে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে এককভাবে বিখ্যাত তিন-তিনটি রন্ধন প্রণালির বই, যার প্রতিটিতেই শতপদের ইলিশ রান্নার পদ্ধতির উল্লেখ রয়েছে। ১৯৭১-পরবর্তী ইতিহাসে বাংলাদেশের প্রায় সমস্ত রাষ্ট্র প্রধান ইলিশের রাজকীয় প্রীতিভোজ করিয়েছেন এবং নিজেও করেছেন। এমনি এক ইলিশ উৎসবের ঘটনা ঘটে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল। ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌজন্যে এক নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ উৎসবে শেখ হাসিনা নিজ হাতে রাষ্ট্রপতির অনেক পছন্দের খাবার ভাপা ইলিশ রান্না করেছিলেন। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো ওই সব ইলিশ ছিল ঢাকা থেকে বয়ে নেওয়া পদ্মার ইলিশ। রাজকীয় ভোজন উৎসবে ইলিশের জন্য এটি এক গর্বের সংযোজন, ভালোবাসার ইতিহাস।

রাজকীয় ইতিহাস ছেড়ে এবার বাংলার ধর্মীয় ও লোকসাংস্কৃতিক উৎসবে ইলিশ উপাখ্যানের দিকে একটু নজর দিই। বাঙালি হিন্দু পরিবার সরস্বতী, লক্ষ্মী ও দুর্গাপূজায় জোড়া ইলিশ কেনাকে অতি শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখে। তারা এসব পূজায় দেবীকে জোড়া ইলিশ উৎসর্গ করে। অনেকে আবার রান্না ইলিশে ভোগ দিয়ে থাকেন। লেখিকা আলপনা ঘোষ ‘ভোজনবিলাসে কলকাতা’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, কলকাতার উল্লেখযোগ্য প্রাচীনতম দুর্গাপূজার মধ্যে একটি ১০৮২ সালে কেদারনাথ চট্টোপাধ্যায় আগরপাড়ায় মাটির ঠাকুরদালানে চালু হয়। এ ছাড়া ৫৫০ বছরেরও অধিককাল আগে নদীয়া জেলার চাঁদনিবাড়িতে এবং ১৬৬২ সালে মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদীর তীরের জঙ্গপুরের ঘোষালবাড়িতে শুরু হয় আরও দুটো প্রাচীনতম দুর্গাপূজা উৎসব। এসব উৎসবে দশমীতে পান্তা ভাত এবং ইলিশ মাছের ভোগ দেওয়ার রীতি উল্লেখ রয়েছে। দশমীর আগের রাতে ইলিশ মাছ রান্না করে সকাল সকাল দেবীকে ভোগ দিয়ে তারপর বাড়ির মেয়েরা উপোস ভাঙত।

পান্তা ভাত আর ইলিশের প্রসঙ্গ এলে চলে আসে বাংলা নববর্ষের কথা। ১৯৮৩ সালে কতিপয় আগ্রহী সাংবাদিক বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে পান্তা ভাত ও ইলিশ ভাজি খাওয়ার রীতি শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাংলা নববর্ষে পান্তা-ইলিশ খাওয়া এক বিরাট উৎসবে রূপ নেয়। এ দেশের মানুষ বাছবিচারহীনভাবে নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে জাটকা ও মা ইলিশ নিধনের যজ্ঞে মেতে ওঠে। ইলিশের বাজার গরম হতে থাকে। মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যায় বাঙালির রসনাতৃপ্তির এই মহান ইলিশ।

যা-ই হোক, বাঙালি উৎসবপ্রবণ জাতি বলেই বারো মাসে তেরো পার্বণ পেরিয়ে আরও নতুন নতুন উৎসব-পার্বণে মেতে ওঠে। সব পার্বণ বা উৎসবে ইলিশ খাওয়ার রীতি চালু না থাকলেও বিবাহ উৎসব, দুর্গা-সরস্বতী-লক্ষ্মীপূজা, জামাইষষ্ঠী, বর্ষাপার্বণ ইত্যাকার সব আয়োজনে ইলিশ নিয়ে মাতামাতি দুই বাংলাতেই দেখা যায়। ড. অতুল সুর ‘ভারতে বিবাহের ইতিহাস’ গ্রন্থের মাধ্যমে জানাচ্ছেন, বাঙালির বিয়েতে মাছ অপরিহার্য। ভোজপর্বে পাঁচ ‘ম’-এর মধ্যে মাছ হলো অন্যতম। আদিকালে ধনিকশ্রেণির রোহিত মৎস্য বা রুই মাছ ছিল প্রিয়। আর ইলিশ ছিল সবার জন্য।

তারা বংশপরম্পরায় বিবাহতত্ত্বে, পাকাদেখা অনুষ্ঠানে, গায়েহলুদ, ক্ষীর খাওয়া ও বরযাত্রী প্রীতিভোজে এই মাছ খাওয়ানোর রীতি পালন করে আসছে। বিশেষ করে বরযাত্রীভোজ অনুষ্ঠানে বরকে একটি প্রমাণ সাইজের ইলিশ ভাজি করে খেতে দেওয়া; এ রীতির মানানসই অঙ্গ। বৃহত্তর বরিশাল, নদীয়া জেলাসহ পদ্মা অববাহিকার মানুষের মধ্যে এই রীতি এখনো দেখা যায়। আর পশ্চিমবঙ্গে জামাইষষ্ঠী উৎসব ইলিশ ছাড়া অচল। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে টেলিভিশনের রান্নাবিষয়ক বড় বড় অনুষ্ঠানে ইলিশের রাজকীয় দখলদারিত্ব কেউই নজর এড়িয়ে যেতে পারে না।

ইলিশ আসলে শুধুই মাছ নয়, ইলিশ সংস্কৃতিও বটে। বর্ষার রিমঝিম শব্দে বাঙালি ইলিশ নিয়ে চিরকালই মেতেছে আর আড্ডা দিয়েছে। বর্ষার ইলিশ ভাজি আর খিচুড়ির গন্ধে গ্রামবাংলা ‘মৎস্যগন্ধা নারী’র খ্যাতি পেয়েছে সেই অনাদিকাল থেকে। মাতাল করা বর্ষাদিনে ঝাল ঝাল করে ভাপা ইলিশ দিয়ে ধোঁয়া ওঠা গরম-গরম সফেদ ভাত বাঙালির চিরায়ত খাদ্যসংস্কৃতিরই অঙ্গ। ইলিশের এসব ব্যঞ্জন আসলে স্বর্গসুখের ডাকনাম।

ইলিশ উৎসব এখন আর বাঙালি হেঁশেলেই আবদ্ধ নেই। আটপৌরে হেঁশেল থেকে বেরিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে কিংবা পাঁচতারকা হোটেল-রেস্তোরাঁর জাঁকালো সব আয়োজন নিয়ে ভোজনরসিকদের ঘ্রাণেন্দ্রিয়ে এক লোলুপ তাড়না সৃষ্টি করে চলেছে। তাই সময় কাটানোর বাহানা নিয়ে এসব রেস্তোরাঁয় বাঙালি বাঙালিতে মাথায় ঠোকর খেয়ে বলে ওঠে, আরে ভাই ইলিশ বলে কথা! পশ্চিমবঙ্গে চটকদার আর আকর্ষণীয় নাম (যেমন সুন্দরবন ইলিশ উৎসব) দিয়ে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের ইলিশ উৎসব করতে দেখা যাচ্ছে। এসব আয়োজন এক থেকে পনেরো দিন, এমনকি মাসব্যাপীও চলতে দেখা যায়।

উৎসবের এসব গল্প চলমান রাখতে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে ইলিশের অন্য রকম এক উৎসব। বর্তমানে চাঁদপুর ও বরগুনা জেলা আলাদা আলাদাভাবে ইলিশ উৎসব উদ্‌যাপন করছে।

‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর জেলা’ ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমের আওতায় ২০০৯ সাল থেকে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন ও জেলা প্রশাসন সপ্তাহব্যাপী ইলিশ উৎসব উদ্‌যাপন করে আসছে। গত বছর তারা ১১তম ইলিশ উৎসব উদ্‌যাপন করে।

‘ইলিশের জেলা বরগুনা’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০১৯ সালে জেলা প্রশাসন ও জেলা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরাম প্রথমবারের মতো ইলিশ উৎসব আয়োজন করে। এ দুটি ইলিশ উৎসবের মূল টার্গেট হলো জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। এই উৎসবে বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ইলিশ মাছসংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের আলোচনা, সাহিত্যপঠন ও লিখন এবং বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকাল শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে এই দুটি উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে। এখানে ইলিশ–জেলে থেকে শুরু করে সব ধরনের স্টেকহোল্ডার, এমনকি ব্যাপক মাত্রায় ভোক্তার উপস্থিতি দেখা যায়। আর ভোজনরসিকদের তাৎক্ষণিক তৃপ্তি মেটানোর অবারিত সুযোগ থাকে। এ দুটি জেলা তাদের মতো করে মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় নতুন এক ইলিশের উৎসব শুরু করেছে। কাজেই উৎসব এখন আর কেবল ভোগেই সীমাবদ্ধ নেই, সংরক্ষণের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় ১৯টি জেলার মধ্যে কমপক্ষে ১০টি ‘অধিক’ গুরুত্বপূর্ণ জেলায় ইলিশের এই কার্যক্রম অচিরেই শুরু করা উচিত। বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর ও ওয়ার্ল্ডফিশ যৌথভাবে ‘ইলিশ প্রজনন উৎসব’ নামে নতুন একটি উৎসব শুরু করেছে। ২০১৬ সাল থেকে এই উৎসব শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত এটি চলছে। ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকাল অবধি এটি চলতে থাকে, যার প্রধান উদ্দেশ্য হলো মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইলিশ সংরক্ষণ আইন কঠোর হাতে কার্যকর করা।

মৎস্য অধিদপ্তর ‘হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্ট অ্যাকশন প্ল্যান’ নামে একটি বৃহৎ কর্মকৌশল হাতে নিয়ে তার বাস্তবায়ন করছে। বর্তমানে ৪৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ ছয়টি অভয়াশ্রম, ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার জুড়ে প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্রগুলোয় ২২ দিন পর্যন্ত (অক্টোবর মাসের ভরা পূর্ণিমাতে) ইলিশ ধরা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় ইলিশ পরিবহন, সরবরাহ, বিক্রয় ও সংরক্ষণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এটির কঠোর বাস্তবায়ন হচ্ছে।

বাদল দিনের মাতাল করা ইলশেগুঁড়ির রিমঝিম শব্দের আয়োজন প্রায় শেষ প্রান্তে। জেলের জালভরে উঠছে প্রচুর ইলিশ। ইলিশে ইলিশে বাজার সয়লাব। বাঙালি দাঁতে ধার দিয়ে বসেছে ইলিশ খাওয়ার হরেক আয়োজন নিয়ে। ঠিক যেভাবে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্য সিরাজগঞ্জের আসাদউদ্দৌলা সিরাজীর বাড়িতে ঘটা করে ইলিশ খাওয়ার আয়োজনটা করা হয়েছিল। যা–ই হোক, যে গল্পটা শুরু হয়েছিল ৩০ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্ক দিয়ে, অনতিবিলম্বে সেটা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার বিজ্ঞানটাও আমাদের হাতেই রয়েছে। ২০১৫ সালের একটা গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা গেছে, ১৫ দিন মা ইলিশ ধরা নিষিদ্ধকালে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ইলিশের প্রজনন সফলতা পাওয়া গেছে। যার ফলে ৩০ হাজার ৮৯৭ কোটি জাটকার উৎপাদন নতুনভাবে হিলশা ফিশারিতে সংযুক্ত হয়েছে। বর্তমানে ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ এবং এই সময়ে যদি একই হারে প্রজনন–সফলতা পাওয়া যায়, তাহলে নতুন সংযুক্ত জাটকার পরিমাণ হবে দেড় গুণ।

ফিশ পপুলেশন ডিনামিক্স এবং হিলশা ফিশারিজ ম্যানেজমেন্টের অনেক ফ্যাক্টর, কো-ফ্যাক্টরকে হিসাবের মধ্যে রাখলেও ইলিশের উৎপাদন কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়। ২০০২-০৩ অর্থবছরে আমাদের ইলিশের উৎপাদন ছিল মাত্র ১ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন। বিগত ১৬ বছরের নানামুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে বর্তমানে ৫ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টনে (মৎস্য অধিদপ্তর ২০২০) উন্নীত হতে পেরেছি আমরা। সুতরাং সময় এসেছে আরও এগিয়ে যাওয়ার।

উৎসবে ইলিশ পেতে ইলিশের উৎসবে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই কেবল আমাদের পাত আর ইলিশের জাত রক্ষা হবে। মৎসগন্ধা গ্রামে হবে ইলিশের উৎসব।

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

    উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব

  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
  • উৎসবে ইলিশ, ইলিশের উৎসব
সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

দৈনন্দিন

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

বাইরের দিক থেকে এই শরণার্থী ক্যাম্প আপাতত শান্ত মনে হলেও ভেতরে-ভেতরে অস্থিরতা ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

ক্যাম্পের ভেতরে দিনের বেলায় এক রকম চিত্র থাকলেও রাতের বেলায় চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।

রাতের আঁধার নামার সাথে সাথেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র পদচারণা শুরু হয়।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিদ্যুত সরবরাহ নেই। অন্যদিকে পর্যাপ্ত রাস্তাও নেই।

ক্যাম্পের ভেতরে বড় কয়েকটি সড়ক তৈরি করা হয়েছে যেগুলো ‘আর্মি রোড’ হিসেবে পরিচিত।

কিন্তু এসব রাস্তার মাধ্যমে সব জায়গায় পৌছনো যায়না।

এমন অনেক জায়গা আছে যেকানে পৌঁছাতে পাহাড়ি উঁচু-নিচু রাস্তায় অনেকক্ষণ হাঁটতে হয়।

ফলে যে কোন অপরাধ করে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়া সম্ভব।

রাতের বেলায় এসব জায়গায় যেতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপদ বোধ করেন না।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব:

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।

শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলে জানা গেল, ক্যাম্পের ভেতরে একটি অংশ আছে যাদের ‘কাফের’ বা বিশ্বাসঘাতক হিসেবে সন্দেহ করে অপরপক্ষ।

এসব ব্যক্তি এখনো ক্যাম্প থেকে মিয়ানমারের গোয়েন্দাদের তথ্য দেয় বলে তাদের প্রতিপক্ষের অভিযোগ।

ক্যাম্পের ভেতরেই একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে যারা তাদের দৃষ্টিতে ‘কাফের’ চিহ্নিত করার কাজ করে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা মুহাম্মদ ইউনুস দোভাষীর সাহায্যে আমাকে বলেন, “যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সবাই মোনাফেক। কোন ভালো মানুষকে হত্যা করা হয়নি।”

তিনি বলেন, ক্যাম্পের ভেতরে অনেকে আছে যারা মিয়ানমার বাহিনীর কাছে ‘তথ্য পাচার’ করে।

পুলিশ বলছে, ক্যাম্পের ভেতরে রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত ৪৫টি খুন হয়েছে, যার বেশকিছু পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সূত্রগুলো বলছে, ক্যাম্পের ভেতরে তৎপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর কথা না শুনলে পরিণতি হয় ভয়াবহ।

হত্যাকাণ্ডের আরেকটি কারণ আছে। স্থানীয় প্রশাসনের এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সাথে কথা বলে সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেল।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত দুই বছরে ক্যাম্পের ভেতরে যারা কিছুটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন তাদের বেশ কয়েকজনকে হত্যা কারা হয়েছে।

কারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যেই অনেকে চায়না যে অন্য কেউ প্রভাবশালী হয়ে উঠুক।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে বোঝা গেল, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী ক্যাম্পের ভেতরে তাদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, ” ক্যাম্পের ভেতরে একটা কথা প্রচলিত আছে, ক্যাম্প দিনের বেলায় বাংলাদেশের আর রাতের বেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর। এটা এখন ওপেন সিক্রেট।”

কর্মকর্তারা বলছেন, এই সশস্ত্র গোষ্ঠী চায়না যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাক।

তারা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রেখে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়।

এর মাধ্যমে সেই সশস্ত্র গোষ্ঠী মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উদ্দেশ্য চরিতার্থ করছে বলে মনে করেন সে কর্মকর্তা।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেবার পর সে গোষ্ঠী অনেক রোহিঙ্গাকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে যাতে তারা ফিরে যেতে রাজী না নয়। স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রশাসনের দুশ্চিন্তা

কক্সবাজারে অবস্থানকালে আমি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। এদের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা, পুলিশ এবং বিজিবি সূত্রগুলোর সাথে কথা বলেছি।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট যখন শুরু হয়, তখন অনেকেই আশংকা প্রকাশ করেন যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ঘিরে জঙ্গি তৎপরতা তৈরি হতে পারে।

এর একটি বড় যুক্তি ছিল, জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো হয়তো তাদের সদস্য সংগ্রহের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে টার্গেট করতে পারে।

তাছাড়া নির্যাতিত রোহিঙ্গারা হয়তো প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠবে মিয়ানমার বাহিনীর উপর। সেজন্য তারা বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করতে পারে – এমন আশংকাও ছিল অনেকের মনে।

এই আশংকা এখনো রয়েছে।

এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়িয়েছে বাংলাদেশে সরকার।

স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, “পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগামী কয়েক বছর পর রোহিঙ্গারাই ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করবে।”

সে কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী ইয়াবা চোরাচালানের সাথে জড়িত। এখান থেকে টাকা আয় করে নিজেদের সংগঠন চালানোর জন্য খরচ করে তারা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশরাফুল আফসার বলেন, রোহিঙ্গাদের ‘নিজস্ব দ্বন্দ্বের’ কারণে খুনোখুনিগুলো হচ্ছে এবং তার প্রভাব কক্সবাজারের আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরও পরছে।

“সময় যতই গড়িয়ে যাচ্ছে মানুষের মধ্যে টেনশন তত বৃদ্ধি পাচ্ছে,” মি. আফসার বিবিসিকে বলেন।

এনজিও কর্মীদের উদ্বেগ

কক্সবাজারে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক কর্মকর্তার সাথে বিবিসি বাংলার কথা হয়েছে।

তাদের আশংকা হচ্ছে, শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি যেভাবে দিনকে দিন জটিল হয়ে উঠছে তাদের ক্যাম্পের ভেতরে নিরাপদে কাজ করা মুশকিল হয়ে উঠতে পারে।

এখনও পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের মাঝে এনজিও কর্মীদের গ্রহণযোগ্যতা আছে। সেটি না থাকলে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে বলে তাদের আশংকা।

বিশেষ করে রোহিঙ্গাদের জন্য যদি আন্তর্জাতিক সাহায্য কমে যায় তাহলে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়বে রোহিঙ্গাদের উপর। এখনো পর্যন্ত তারা এনজিও কর্মীদের সুদৃষ্টিতে দেখে।

এর কারণ হচ্ছে, এনজিওদের কাছ থেকে তারা নানা সাহায্য পাচ্ছে।

যদি সাহায্যের মাত্রা কমে আসে তাহলে অচিরেই এনজিও কর্মীরা রোহিঙ্গাদের চক্ষুশূলে পরিণত হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বেসরকারি সংস্থাগুলো এরই মধ্যে ‘অপরাধী’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের বেশি ত্রাণ সাহায্য দিচ্ছে বলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবার আগ্রহ পাচ্ছেনা।

এমন অবস্থায় বেসরকারি সংস্থাগুলো রয়েছে উভয় সংকটে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার মধ্যরাতের পরপরই পিয়ংইয়ংয়ে যে সামরিক কুচকাওয়াজ হয়েছে তা নজিরবিহীন।

প্রচুর মানুষের অংশগ্রহণে কোনো ভুল-ভ্রান্তি ছাড়াই যে চোখ ধাঁধানো কুচকাওয়াজ হয়েছে, তেমন অনুষ্ঠান আয়োজনে উত্তর কোরিয়ার জুড়ি মেলা ভার।

চেয়ারম্যান কিম জং উন অনুষ্ঠানে আবেগে মোড়া একটি ভাষণ দিয়েছেন। তার দেশের সংগ্রামের ইতিহাসের কথা বলতে গিয়ে কয়েকবার তিনি চোখ মুছেছেন।

কিন্তু নতুন একটি আন্ত-মহাদেশীয় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) উন্মোচন ছিল শনিবার মধ্যরাতের জমকালো ঐ অনুষ্ঠানের প্রধান বিস্ময়।

উত্তর কোরিয়ার নতুন এই আন্ত-মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি সম্পর্কে প্রধান যে তিনটি বিষয় জানা গেছে তা এরকম:

কিমের প্রতিশ্রুত ‘কৌশলগত অস্ত্র‘

দু’হাজার বিশ সালের ১লা জানুয়ারিতে কিম জং উন তার নতুন বছরের ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন উত্তর কোরিয়া এমন সব অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করছে যা শুধুমাত্র “গুটিকয়েক আধুনিক রাষ্ট্রের হাতে রয়েছে।“

তিনি বলেছিলেন, তার সরকার ‘কৌশলগত’ – অর্থাৎ পারমাণবিক – অস্ত্র-সম্ভার তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

মি. কিম সেদিন যুক্তরাষ্ট্রর সাথে তার দেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, “ডিপিআরকে‘র সাথে তাদের সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যত টালবাহানা করবে, কালক্ষেপণ করবে, গণতান্ত্রিক কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের শক্তির সামনে তারা আরো বেশি অসহায় বোধ করবে। ডিপিআরকে কল্পনার চেয়েও বেশি শক্তি সঞ্চয় করছে, এবং (সম্পর্কে) অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে গহ্বরের আরো গভীরে নিয়ে যাবে। “

যে পারমাণবিক মারণাস্ত্রের প্রতিশ্রুতি ১০ মাস আগে মি. কিম দিয়েছিলেন সেটাই নতুন এই আইসিবিএম, এবং এর টার্গেট যুক্তরাষ্ট্র। সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার জেরে এমন একটি অস্ত্র অবধারিত ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নতুন হুমকি

উত্তর কোরিয়া এর আগেই দুটো আইসিবিএম পরীক্ষা করেছে। ২০১৭ সালে দুই বার তারা হুয়াসং-১৪ পরীক্ষা করে। পারমানবিক বোমা বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র ১০,০০০ কিমি (৬২১৩ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তু আঘাত করতে সক্ষম।

তার অর্থ, পুরো পশ্চিম ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের অর্ধেক এখন কোরীয় এই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়।

ঐ একই বছর অর্থাৎ ২০১৭ সালে উত্তর কোরিয়া তাদের আরেকটি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র হুয়াসং-১৫ পরীক্ষা করে যার পাল্লা ১৩,০০০ কিলোমিটার। অর্থাৎ এটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যে কোনো স্থানে আঘাত করতে সক্ষম।

আরও পড়তে পারেন:

যেভাবে ধরা পড়লো উত্তর কোরিয়ার গোপন অস্ত্র ব্যবসা

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং আন কোথায়?

দক্ষিণ কোরিয়ার বেলুন প্রচারণায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষোভ

শনিবার রাতে নতুন যে আইসিবিএমটি প্রদর্শন করা হয়েছে সেটির পরীক্ষা এখনও হয়নি। তবে এটিও দুই-ধাপ বিশিষ্ট তরল-জ্বালানি চালিত ক্ষেপণাস্ত্র, কিন্তু দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে এটি হুয়াসং-১৫‘র চেয়ে এটি অনেকটাই বড়।

এটির পাল্লা কত অর্থাৎ কতদূরের লক্ষ্যবস্তু এটি আঘাত করতে সক্ষম তা এর যন্ত্রের প্রযুক্তি তা না জানলে বা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত বলা যাবেনা।

কিন্তু এই নকশা দেখে উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায়: ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন তাদের আর নেই। বদলে, তারা এখন চেষ্টা করছে একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক পারমাণবিক বোমা বসানোর প্রযুক্তির প্রয়োগ।

এর সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য নতুন মাথাব্যথা তৈরি করবে, কারণ একটি পারমাণবিক বোমাকে প্রতিরোধের জন্য এমনিতেই একইসাথে অনেকগুলো ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়তে হয়। এখন যদি উত্তর কোরিয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রে একাধিক ওয়ারহেড বা বোমা স্থাপনে সক্ষম হয় তা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো চাপে ফেলবে।

উদ্বেগের আশু কারণ

নতুন যে আইসিবিএম উত্তর কোরিয়া প্রদর্শন করেছে, তার নকশা দেখে ধারণা করা শক্ত যে কখন এটি পরীক্ষা করা হবে বা মোতায়েন করা হবে। তবে, যে সব ট্রাকের ওপর সেটি বহন করা হয়েছে, তা বাড়তি উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

কোনো পারমাণবিক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার জন্য এখনও যেটি উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে দুর্বলতা তাহলো যথেষ্ট লঞ্চার বা উৎক্ষেপকের অভাব।

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যমতে, উত্তর কোরিয়ার ছয়টি লঞ্চার রয়েছে যা থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাল্টা আঘাত আসার আগে বড়জোর ১২টি আইসিবিএম উৎক্ষেপণে সক্ষম।

দু’হাজার দশ সালে উত্তর কোরিয়া গোপনে চীন থেকে ছয়টি WS51200 হেভি-ডিউটি ট্রাক আমদানি করে। তারপর তাতে হাইড্রোলিকস প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সেগুলোকে চলমান ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ উপযোগী লঞ্চারে পরিণত করে।

সে ধরণের ট্রাকের ওপরেই নতুন ঐ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো শনিবার রাতের প্যারেডে বহন করা হয়েছে, কিন্তু এই প্রথম ছটিরও বেশি তেমন ট্রাক চোখে পড়লো। অর্থাৎ, উত্তর কোরিয়া হয়তো এখন নিজেরাই নিজেদের মত করে এসব ট্রাক তৈরি করতে সমর্থ হচ্ছে বা জোগাড় করতে পারছে।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও উত্তর কোরিয়া এখনও হেভি-ডিউটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকের যন্ত্রপাতি জোগাড় করতে এবং এমনকী নিজেরাই হয়তো উৎক্ষেপক তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে।

উত্তর কোরিয়ার নতুন আইসিবিএম বাকি বিশ্বের জন্য একটিই বার্তা দিচ্ছে – তাদের রাষ্ট্র, নেতৃত্ব এবং তাদের মানুষের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে যেন খাটো করে না দেখা হয়।

মেলিসা হানহ্যাম,উপ পরিচালক, ওপেন নিউক্লিয়ার নেটওয়ার্ক (ওএনএন)। তিনি পারমাবিক অস্ত্রের একজন বিশেষজ্ঞ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বিতর্কিত অঞ্চল নাগোর্নো-কারাবাখের দখলকে কেন্দ্র করে আজারবাইজানের সাথে হওয়া সংঘাতে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর অনেকে হতাহত হয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনইয়ান।

তবে মি. পাশিনইয়ান দাবি করেছেন যে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনী এখনও ঐ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।

এদিকে, চলমান এই যুদ্ধ বন্ধ করতে তুরস্ক ও রাশিয়ার নেতারা দুই দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে গত চার দশক ধরে এই দুই দেশ দ্বন্দ্বে লিপ্ত। নাগোর্নো-কারাবাখ আজারবাইজানের বলেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু এটি নিয়ন্ত্রণ করে জাতিগত আর্মেনিয়ানরা।

বর্তমানে ঐ অঞ্চলকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে যে সহিংসতা চলছে তার শুরু ২৭শে সেপ্টেম্বর থেকে। গত কয়েক দশকের মধ্যে নাগোর্নো-কারাবাখকে নিয়ে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এটি। দুই পক্ষেরই শত শত মানুষ এরই মধ্যে মারা গেছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তি করলেও তা খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।

৮০’র দশকের শেষে এবং ৯০’এর দশকের শুরুতে এই অঞ্চলের দখলকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল। ১৯৯৪ সালে দুই দেশ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তারা কখনোই স্থায়ীভাবে শান্তি চুক্তি করতে পারেনি।

আরো পড়তে পারেন:

নাগোর্নো-কারাবাখ: যেখানে যুদ্ধের কৌশল বদলে দিয়েছে তুর্কী ড্রোন

নাগোর্নো কারাবাখ যুদ্ধ: দুদিকেরই সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ,আপোষহীন

নাগার্নো-কারাবাখ সংঘর্ষের আঁচ পড়তে শুরু করেছে বড় শহরগুলোয়

আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে আবার লড়াই শুরু

তুরস্ক কেন আজারবাইজানকে সমর্থন দিচ্ছে এবং তারা কতো দূর যেতে পারে?

প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান কী বলেছে?

বুধবার টেলিভিশনে প্রচারিত হওয়া এক ভাষণে মি. পাশিনিয়ান বলেন আর্মেনিয়ার ‘বহু হতাহত’ হয়েছে।

তিনি বলেছেন, “আমি আমাদের সকল ভুক্তভোগী, শহীদ, তাদের পরিবার, অভিভাবক, বিশেষ করে শহীদদের মায়েদের উদ্দেশ্যে নতজানু হয়ে সম্মান জানাই। তাদের এই ক্ষতিকে আমি আমার ও আমার পরিবারের ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে বিবেচনা করছি।”

“আমাদের সবার জানা প্রয়োজন যে আমরা একটা কঠিন পরিস্থিতি পার করছি।”

কিন্তু মি. পাশিনিয়ান বলেছেন, ‘জনশক্তি ও উপকরণের ক্ষয়ক্ষতি হলেও’ আর্মেনিয়ার সেনারা এখনও নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং প্রতিপক্ষের ‘জনশক্তি ও উপকরণের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি করেছে।’

তিনি বলেন, “আমাদের জয়ী হতেই হবে, আমাদের বেঁচে থাকতেই হবে। আমাদের নিজেদের ইতিহাস তৈরি করতে হবে। আর আমরা এরই মধ্যে ইতিহাস তৈরি করছি। তৈরি করছি আমাদের বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের গল্প, আমাদের মহাকাব্য।”

কী হচ্ছে ঐ অঞ্চলে?

আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ অভিযোগ তুলেছেন, আর্মেনিয়া তাদের গ্যাস ও তেলের পাইপ লাইনে আক্রমণ করেছে।

তুরস্কের প্রচার মাধ্যম হেবারতুর্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আর্মেনিয়া আমাদের পাইপলাইন আক্রমণ করে সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করছে।”

“তারা যদি সেখানকার পাইপলাইনের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করে, তাহলে আমি বলতে পারি যে এর পরিণতি গুরুতর হবে।”

ওদিকে এই দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইপ এরদোয়ান বুধবার নিজেদের মধ্যে ফোনে আলোচনা করেছেন।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: “সহিংসতা বন্ধ করার লক্ষ্যে অতি দ্রুত যৌথ উদ্যোগ নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নাগোর্নো-কারাবাখ দ্বন্দ্বের সমাধান করার ব্যাপারে আলোচনা করেছেন তারা।”

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

বিতর্কিত নাগোর্নো-কারাবাখ এলাকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র চার মিনিটের মাথাতেই ভেঙ্গে পড়েছে। যুদ্ধবিরতি ভাঙ্গার দায়ে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া, দুপক্ষই পরস্পরকে এখন দুষছেঅ।

স্থানীয় সময় শনিবার মধ্যরাতে ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সমঝোতা হয়েছিল।

কিন্তু আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার মাত্র চার মিনিটের মাথায় আর্টিলারি শেল ও রকেট ছুড়ে তা লঙ্ঘন করে আজারবাইজান।

পরে আজারবাইজান পাল্টা দোষারোপ করে বলে, আর্মেনিয়াই সন্ধি ভেঙ্গেছে।

রাশিয়ার মধ্যস্থতা করা এই যুদ্ধবিরতিতে দু দেশই গত শনিবার সই করেছিল।

গত সপ্তাহান্তে কয়েকটি চুক্তিতে সম্মতি আসার কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তিটিও স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে এর পরও সংঘর্ষ চলেছে।

গত মাসে এমন একটি এলাকা নিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল যা আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ বলে স্বীকৃতি থাকলেও জাতিগত আর্মেনীয়রা এটি পরিচালনা করে। এই সংঘাতে কয়েকশ মানুষ নিহত হয়।

ওই এলাকায় ১৯৯৪ সালে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ছয় বছরের সংঘাতের অবসান হওয়ার পর এটি সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতা।

এর আগে শনিবার দুই দেশই রুশ-মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধ বিরতি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আনে। এই বিবৃতির পর এমন সন্দেহ আরও স্থায়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক চুক্তি কী?

দুই দেশই মানবিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়, যদিও এ বিষয়ে তেমন বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আরো পড়ুন:

আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টদের দেয়া বিবৃতির উপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। নাগোর্নো-কারাবাখ সংঘাতে মধ্যস্থতা করার জন্য ওই তিন দেশের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে ওএসসিই মিনস্ক গ্রুপ নামে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়।

আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আন্না নাঘদালিয়ান এক টুইট বার্তায়ও একই বিবৃতি তুলে ধরে বলেন যে দেশটি যুদ্ধাঞ্চলে “যুদ্ধবিরতি এবং উত্তেজনা” প্রশমনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ যিনি এর আগের সপ্তাহে হওয়া চুক্তির মধ্যস্থতা করেছিলেন তিনি দুই দেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন। তিনি তাদেরকে বলেছেন যে দুই দেশেরই আগের চুক্তিটির শর্ত “কঠোরভাবে মেনে চলা” উচিত।

যুদ্ধক্ষেত্রে কী হচ্ছে?

আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শুশান স্টিপানিয়ান টুইটারে লেখেন, “শত্রুপক্ষ স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১২:০৪ মিনিটে উত্তর দিকে আর্টিলারি শেল নিক্ষেপ করে এবং রাত ০২:২০ থেকে ০২:৪৫ মিনিটের সময় দক্ষিণ দিকে রকেট নিক্ষেপ করে।”

আজারবাইজান অভিযোগ করে যে, আর্মেনিয়া শনিবার সকালে গানজা শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়ে যাতে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৪৫ জন আহত হয়। গানজা শহরটি যুদ্ধাঞ্চল থেকে দূরে বলেও জানানো হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয় যে আর্মেনিয়া “স্বেচ্ছায় এবং নির্বিচারে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করছে।”

আর্মেনিয়া হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগে বলেছে যে আজারবাইজানই মূলত বেসামরিক এলাকায় হামলা করছে।

মিজ স্টিপানিয়ান ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি দাবি করেছেন যে, নাগোর্নো-কারাবাখ এলাকায় ধ্বংস্তুপ দেখা যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, আজারবাইজানের সামরিক বাহিনী নাগোর্নো-কারাবাখের রাজধানী স্টিপানাকার্টসহ বেসামরিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

মা হওয়ার যাত্রা মোটেই সহজ নয়। একজন নারীকে অনেকরকম অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় এসময়। শারীরিক, মানসিক নানা পরিবর্তন আসে। গর্ভাবস্থায় প্রায় সব নারীরই ১১.৫ কেজি থেকে ১৬ কেজি পর্যন্ত ওজন বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকেরা বলেছেন, শিশুর ওজন, প্লাসেন্টা, অ্যামনিয়োটিক ফ্লুইড, স্তনের কোশ, রক্ত, ইউটেরাসের আয়তন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ফ্যাট জমা সব মিলেই ওজন বেড়ে যায়। অতিরিক্ত যে ফ্যাট জমা হয় তা সঞ্চিত থাকে জন্ম দেয়ার সময় এবং স্তন্যদানের সময় শক্তির উৎস হিসেবে।

মা হওয়ার পরে শরীরের প্রতি আরও বেশি যত্নশীল হতে হবে। তবে ডায়েট শুরু করতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। আপনার শরীর তখনও এই ডায়েটের জন্য প্রস্তুত কিনা তা আগে জেনে নিন। ব্রেস্টফিডিং করানোর কারণে আপনার বাড়তি খাবারের প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিজের ইচ্ছেমতো ডায়েট করা যাবে না। ডায়েট চার্টও চিকিৎসকের কাছ থেকে নিতে হবে। সন্তান জন্মের দুই মাসের মধ্যে ডায়েট মেনে চলা শুরু করবেন না। বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান টাইমস।

খাবারের তালিকায় যা রাখবেন:

* যতই খেতে ইচ্ছে করুক, খাবারের তালিকায় কোনোরকম কোমল পানীয় রাখবেন না। কারণ এতে চিনি ছাড়া তেমন কিছুই থাকে না।

* ফাইবার যুক্ত খাবার খাদ্য তালিকায় বেশি রাখুন। কারণ পুষ্টি আপনি এখান থেকেই পাবেন।

* খাদ্যতালিকায় কার্বস রাখুন। কারণ কার্বোহাইড্রেট আপনাকে শক্তি দেবে।

* দিনে অন্তত ৪ লিটার পানি পান করুন। কারণ শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখা জরুরি। এছাড়াও পানি বেশি পান অন্যান্য স্ন্যাকস খাওয়ার ইচ্ছে কমবে অনেকটাই।

* ফ্যাট এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন অনেকেই। কিন্তু সব ফ্যাট শরীরের জন্য খারাপ নয়। তাই ওজন কমাতে ফ্যাট একেবারেই বন্ধ করবেন না। বাদাম খাবেন। বাদামের মধ্যে থাকা ফ্যাট মাতৃদুগ্ধ উৎপাদনে সাহায্য করে। এছাড়াও হার্ট ভালো রাখে।

* খাবার অল্প করে খান। কিন্তু বারেবারে খান। দুটি খাবারের মাঝে বেশি গ্যাপ রাখবেন না একদমই।

* মনে করে ব্রেকফাস্ট অবশ্যই করবেন। বাদাম, গাজর, ফল এসব দিয়ে ব্রেকফাস্ট বানানোর চেষ্টা করুন। চিপস, পেস্ট্রি, চকোলেট থেকে লোভ সংবরণ করুন।

* প্রয়োজনে ডায়াটেশিয়ানের পরামর্শ নিন। নিজের মতো করে কোনও ডায়েট প্ল্যান তৈরি করবেন না। এতে হিতে বিপরীত হবে।

আরও যে কাজ করতে হবে

শরীরচর্চা: নিয়ম মেনে শরীরচর্চা করুন। কোন কোন ব্যায়াম করতে পারেন সেগুলো ট্রেনারের থেকে জেনে নিন। শুরুতেই ওয়েট ট্রেনিং করবেন না।

বিশ্রাম: ডায়েট বা ব্যায়ামের রুটিন নির্বিশেষে বিশ্রামই হলো মূল যা আপনার দেহকে পুনরুদ্ধার করতে এবং নতুন নিয়মের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে। খেয়াল রাখবেন যেন বেশি ক্লান্তি না আসে।

ঘুম: পর্যাপ্ত ঘুমান। ঘুমালে শরীর শান্ত হয়, শক্তির পুনঃনির্মাণে সাহায্য করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com