আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

উৎপাদন বাড়াবে খাঁচা পদ্ধতির মাছ চাষ

রাঙামাটি: দেশে প্রোটিনের চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে ও উৎপাদন বাড়াতে কাপ্তাই হ্রদে খাঁচায় মাছ চাষ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙামাটি শাখা।

এ লক্ষ্যে পাইলট প্রকল্পের আওতায় (পরীক্ষামূলক) চারটি খাঁচা বানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তারা জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় মিঠা পানির হ্রদ হলো রাঙামাটির ‘কাপ্তাই হ্রদ’।

এখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। বিশাল এক গোষ্ঠী মাছের চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। সরকার হ্রদের মাছ থেকে প্রতিবছর কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে। কিন্তু অবৈধভাবে ও ভুল পদ্ধতিতে মাছ আহরণ, জনসচেতনতার অভাব, দূষণ বৃদ্ধি, হ্রদের গভীরতা হ্রাস, কারেন্ট জালের ব্যবহার, কাচকি জালের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে দিন দিন হ্রদ থেকে মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

জনসংখ্যার তুলনায় মাছ উৎপাদন বাড়ানো যাচ্ছে না। কিন্তু আশানুরূপ চাহিদা পূরণ করতে না পারায় বিএফডিসি বিভিন্ন উপায়ে হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিএফডিসি কর্তৃপক্ষ এবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিকল্প পদ্ধতিতে খাঁচায় মাছ চাষ করার। এজন্য চারটি খাঁচাও বানানো হয়েছে। খাঁচাগুলোতে রুই, মৃগেল, কাতাল, পাবদা, তেলাপিয়া,পাঙ্গাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন করা হবে। এজন্য নির্মিত খাঁচাগুলোতে চাষের লক্ষ্যে মাছের পোনা সরবরাহ করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা আরও জানান, আমরা পরীক্ষামূলকভাবে কাপ্তাই হ্রদে পাইলট প্রকল্পের আওতায় খাঁচায় মাছ চাষ করবো। যদি সফলতার মুখ দেখি তাহলে পরে আরও খাঁচার সংখ্যা বাড়াবো। আর এ পদ্ধতিটিও মাছ চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। যাতে এ উৎপাদনে তারা এগিয়ে আসে। মাছ চাষ করার খাঁচা।  ছবি: বাংলানিউজরাঙামাটি মাছ ব্যবসায়ীদের দাবি, এবছর আমরা তেমন ভালো ব্যবসা করতে পারিনি। দেশে মাছের সংখ্যা কমায় আগের মতো হ্রদ থেকে মাছ আহরণ করা যাচ্ছে না। দিন দিন হ্রদ থেকে মাছের সংখ্যা কমছে। এখন মাছের আকৃতি ছোট হচ্ছে। আসলে জনসচেতনতার অভাব, দূষণ এবং অবৈধভাবে মাছ শিকারের কারণে এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

তারা আরও জানান, আমরা হ্রদে মাছের সংখ্যা বাড়ার জন্য বিভিন্ন উপায় বের করেছি। কারণ কাপ্তাই হ্রদের মাছের চাহিদা সারাদেশে রয়েছে। যদি মাছের উৎপাদন বাড়ানো না যায় তাহলে কাপ্তাই হ্রদ তার নিজস্ব গৌরব হারাবে। সরকার হারাবে রাজস্ব। এজন্য কাপ্তাই হ্রদকে বাঁচানোর জন্য এখনি সময়।

খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতিটি রাঙামাটিবাসীর জন্য নতুন। তবে সফলতা পেলে মন্দ কী। যদি বিএফডিসি মনে করে হ্রদে খাঁচায় মাছ চাষ করে উৎপাদন বাড়াবে তাহলে তাদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বলে যোগ করেন তারা।

বিএফডিসি রাঙামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার (নৌ-বাহিনী) লে. কর্নেল এম তৌহিদুল ইসলাম বাংলানিউজকে জানান, কাপ্তাই হ্রদে আগের মতো মাছ উৎপাদন হচ্ছে না। মাছের সংখ্যা দিন দিন কমায় সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিএফডিসি বেশ চিন্তিত। হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়ার লক্ষ্যে বিএফডিসি নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে বিকল্প পদ্ধতি হলো, হ্রদে ভাসমান খাঁচায় মাছ চাষ।

এ লক্ষ্যে একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় কিছু টাকা ব্যয় করে স্থানীয় পর্যায়ে চারটি ভাসমান খাঁচা বানানো হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে প্রথম দু’টি খাঁচায় তেলাপিয়া এবং অপর দু’টিতে কালিবাউস, পাঙ্গাস, রুই, কাতাল, মৃগেলসহ বড় প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়া হবে।

তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো, কাপ্তাই হ্রদে মাছের উৎপাদন বাড়ানো। যদি সফলতা পাই তাহলে, পরে এ প্রকল্পের পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম আরও জানান, ছোট আকারের এই পাইলট প্রকল্পটি বানাতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। আশা করছি, সফলতা ধরা দেবে।

সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে কাজ করলে সফলতা পাওয়া যাবে বলেও যোগ করেন তিনি।

১৯৬০ সালে বাঁধ দেওয়ার মাধ্যমে কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টি করা হয়। এ হ্রদে বাণিজ্যিকভাবে মাছের উৎপাদন বাড়ার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনকে দায়িত্ব দিয়েছে। এখন লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল এ হ্রদকে ঘিরে।

মৎস্য

চট্টগ্রামের হালদাতে নদীতে নমুনা ডিম ছেড়েছে মা মাছ

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে। সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই। তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি। তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (ইউএনবি)- দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে মা মাছ নমুনা ডিম ছেড়েছে। শনিবার ভোর থেকে ডিম আহরণকারীরা ডিম সংগ্রহ শুরু করছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে বজ্রসহ প্রবল বর্ষণ শুরু হলে নদীর পাড়ে অবস্থান নেন ডিম আহরণকারীরা। ভারি বর্ষণের ফলে হালদার সঙ্গে সংযুক্ত খাল, ছরা ও নদীতে ঢলের সৃষ্টি হয় এবং রুইজাতীয় (রুই, মৃগেল, কাতল, কালবাউশ) মাছ নমুনা ডিম ছাড়ে।


সাধারণত, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে প্রবল বর্ষণ হলে মা মাছ ডিম ছাড়ে। কিন্তু এবার বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় ঢলের প্রকোপ হয়নি। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝিতে নদীতে মা মাছ নগন্য পরিমাণ ডিম ছেড়েছিল। মা মাছ সাধারণত অমাবস্যা, অষ্টমী ও পূর্ণিমা তিথিতে নদীতে ডিম ছাড়ে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালিয়ে মা মাছ সংরক্ষণ, ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়া সংস্কার, কুয়ায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থাসহ নানা উদ্যোগের কারণে হালদায় ডিম সংগ্রহের পরিমাণ এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।


হালদা থেকে ২০১৮ সালে ২২ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৭ সালে ১ হাজার ৬৮০ কেজি, ২০১৬ সালে ৭৩৫ (নমুনা ডিম) কেজি, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৮০০ কেজি এবং ২০১৪ সালে ১৬ হাজার ৫০০ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়।


হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা। এটি আমাদের জাতীয় সম্পদ। এ কারণে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই হালদাকে গুরুত্ব দিয়ে নানা উদ্যোগ নিই।

তিনি বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা যাতে ভালো ডিম সংগ্রহ করতে পারেন এ জন্য মা মাছ সংরক্ষণের উপর জোর দিই। ইঞ্জিনচালিত নৌকা জব্দ, নিষিদ্ধ জাল ধ্বংসসহ হালদার দূষণ কমাতে নিয়মিত অভিযান চালাই। ডিম থেকে রেণু তৈরির কুয়াগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিই। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ব্যবস্থা করি।

তিনি আরও বলেন, মাছুয়া ঝর্ণা, শাহ মাদারি এবং মদুনা ঘাটসহ ৩টি হ্যাচারির ১০৮টি কংক্রিট ও ১০টি প্লাস্টিকের কুয়ায় হালদার ডিম সংরক্ষণের ব্যবস্থা ছিলো। তবে প্রায় ৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে এসব কুয়ার ৪৫টি নষ্ট হয়ে যায়। নষ্ট হওয়া কুয়াগুলো সংস্কার করেছি আমরা। প্রয়োজন হলে আরও কুয়া তৈরি করে দেবে উপজেলা প্রশাসন- এ কথা জেলেদের বলেছি। হালদায় জেলেদের ডিম সংগ্রহে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে চাই আমরা।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

দাম কমলো ভোজ্য তেলের

লেখক

ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে ৩ টাকা কমানো হয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন দাম হ্রাস করেছে। সে অনুযায়ী বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারের ৩ টাকা কমে হবে ১৪১ টাকা।
সোমবার সংগঠনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রোজা এবং করোনার এই সংকটে ভোক্তা সাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুরোধে ঈদ পর্যন্ত ভোজ্য তেলের দাম লিটারে ৩ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।


বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন গত ২৫ এপ্রিল লিটারে ৫ টাকা দাম বৃদ্ধি করে। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আজ দাম লিটারে ৩ টাকা কমানো হলো। ফলে ১৪৪ টাকার তেল এখন ১৪১ টাকায় পাওয়া যাবে।


সংগঠনটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে এর প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে। তবে বাজার যেন কোনভাবে অস্থিতিশীল না হয়, এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উৎপাদন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও স্থানীয় বাজার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য হ্রাস/বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাজারে এর সমন্বয় করা হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

সৈয়দপুরে অর্গানিক কৈ মাছ বাজারজাত শুরু

লেখক

জেলার সৈয়দপুরে বাজারজাত শুরু হয়েছে অর্গানিকভাবে চাষকরা কৈ মাছ। রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়া কালচার (রাস) পদ্ধতিতে বানিজ্যিক চাষ করে ওই মাছ বাজারজাত করছে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের মছে হাজীপাড়া গ্রামের জামান অ্যাকুয়া ফিশ ফার্ম। গতকাল বুধবার আনুষ্ঠানিক ওই বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করে ফার্মটি।


ওই ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মো. কামরুজ্জামান কনক জানান, রাস পদ্ধতিতে উৎপাদিত মাছ ট্যাঙ্কে চাষ করা হয়। এ মাছ চাষে কোন রকম রাসায়নিক প্রয়োগ করা হয় না। এর ফলে উৎপাদিত মাছ খেতে খুব সুস্বাদু ও দুর্গন্ধমুক্ত হয়।
তিনি বলেন, “চলতি বছরে আমরা বানিজ্যিক আকারে রাস পদ্ধতিতে মাছ চাষ শুরু করেছি। গতকাল বুধবার থেকে উৎপাদিত ভিয়েতনামী জাতের কৈ মাছ আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হয়েছে। সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। এখন প্রতিদিন ফার্মে ও হোম ডেলিভারীর মাধ্যমে কৈ মাছের বিক্রি কার্যক্রম চলছে।


সৈয়দপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সানী খান মজলিস বলেন, “বর্তমানে দেশের মানুষের প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে রাস পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ পদ্ধতিতে অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করা যায়। পানি বার বার পরিশোধিত হয়ে মাছের জন্য উপযোগী করা হয়। এর ফলে পানি অপচয় হওয়ার সুযোগ নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

পানিতে ব্যাকটেরিয়া: চিংড়ি হ্যাচারিতে শতকোটি টাকার লোকসান

বঙ্গোপসাগরের পানিতে হঠাত্ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখা দিয়েছে। এতে সাগরের পানি ব্যবহার করা কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার পোনা উত্পাদনকারী চিংড়ি হ্যাচারিগুলোতেও শুরু হয়েছে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ। এতে গত দুই মাসে ব্যাকটেরিয়ায় মড়কের কবলে পড়ে ৫৯টি হ্যাচারিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় শত কোটি টাকা মূল্যের পোনা। হ্যাচারি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংশ্লিষ্ট রিসার্চ সেন্টারগুলো আগেভাগেই সতর্ক করলে হয়তো এ ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।

লোকসানের কারণে এই মুহূর্তে পোনা উত্পাদনে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন হ্যাচারি মালিকরা। আবার ঘের চাষিদের কাছ থেকে পোনার চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পোনা দিতে না পারায় রপ্তানিতেও প্রভাব পড়বে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

কক্সবাজার সোনারপাড়ার ‘রাইসা ও মেরিগোল্ড হ্যাচারি’র ভাড়াটিয়া এবং সাতক্ষীরার ‘কক্সবাজার হ্যাচারি’র মালিক ও প্রধান টেকনেশিয়ান হারুন-অর-রশীদ বলেন, কক্সবাজার উপকূলে ৩২টি এবং সাতক্ষীরায় রয়েছে ২৭টি চিংড়ি পোনা হ্যাচারি। পোনা উত্পাদনে হ্যাচারিগুলোতে প্রবেশ করানো হয় সাগরের পানি, যা প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মাদার চিংড়ি থেকে উত্পাদন করা হয় লাখ লাখ চিংড়ি পোনা। একবার প্রোডাকসনে গেলে ১ থেকে আড়াই কোটি টাকা ইনভেস্ট করতে হয় একেকটি হ্যাচারিকে। গত দুটি চালানেই উত্পাদিত চিংড়ি পোনায় মড়কের ‘খড়গ’ পড়েছে। এতে কোনো কোনো হ্যাচারি পুরো এবং কোনো হ্যাচারি অর্ধেক ক্ষতির মুখে পড়ে। সে হিসেবে হ্যাচারিগুলো গত দুই চালানে প্রায় শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, জানুয়ারি থেকে হ্যাচারিগুলোতে চিংড়ি পোনা উত্পাদনের মৌসুম শুরু হয়েছে। প্রথম সার্কেল ভালোভাবে পোনা উত্পাদনের পর সাতক্ষীরা, যশোর ও খুলনা অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু হঠাত্ দ্বিতীয় ও তৃতীয় সার্কেলে প্রোডাকশনের জন্য সংগ্রহ করা সাগরের পানিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি মিলেছে। এতে হ্যাচারিগুলোতে উত্পাদিত চিংড়ি পোনা মড়কের কবলে পড়েছে। প্রতিদিনই মারা যাচ্ছে লাখ লাখ পোনা।

টেকনেশিয়ান হারুনের মতে, হ্যাচারি শিল্পকে ভোগানো অণুজীবটি হলো ‘লুমিনাচ ব্যাকটেরিয়া’। একে ‘এলবি’ হিসেবে চেনে হ্যাচারি সংশ্লিষ্টরা। এই ব্যাকটেরিয়া খুবই মারাত্মক। এর প্রাদুর্ভাব হ্যাচারিতে হানা দিলে শতভাগ পোনা নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ বৃষ্টিহীনতায় সাগরের পানিতে লবণের মাত্রা বেশি হলে এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বাড়ে। তখন শত চেষ্টা করেও পোনা টেকানো যায় না। যদি ভারী বৃষ্টিপাত হয়, আর সাগরের পানিতে লবণাক্ততা স্বাভাবিক হয়ে আসে তবে—এ ব্যাকটেরিয়া আপনা-আপনি চলে যাবে।

সোনারপাড়ায় বলাকা হ্যাচারির কর্মজীবী ইমাম হাসান বলেন, তৃতীয় সার্কেলে পোনা উত্পাদন করতে গিয়ে খরচ হয়েছে ২ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে সব পোনা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ইনভেস্টের সম্পূর্ণ টাকা লোকসান হয়েছে।

শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (সেব) এর মহাসচিব মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম বলেন, লুমিনাচ ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচতে অনেক পদক্ষেপ নিয়ে থাকে হ্যাচারিগুলো। কিন্তু ব্যাপকহারে ছড়িয়ে গেলে তখন কোনো পদক্ষেপ আর কাজে আসে না। তিনি বলেন, এফআরআই ও মেরিন রিসার্চ ইনস্টিটিউট নামে সরকারের দুটি রিসার্চ সেন্টার আছে। উপকূলে কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া আছে, কখন কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করে, তা হ্যাচারিগুলোকে আগেভাগেই জানিয়ে দিলে তখন হ্যাচারিগুলোর পদক্ষেপ নিতে সহজ হয়। কোনো ধরনের তথ্য না পাওয়ায় ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে চিংড়ি পোনা মড়কে পড়েছে। এতে হ্যাচারি শিল্পটা ধুঁকছে। এ কারণে চিংড়ি উত্পাদনে জাতীয়ভাবে ঘাটতি ও রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ ধরা বন্ধ

লেখক

রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে  শনিবার থেকে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা ও বিপণন বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে এবং কার্প জাতীয় মাছ বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটি কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসনের আদেশের মাধ্যমে তিন মাসের জন্য কাপ্তাই হ্রদের মাছ শিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। হ্রদে অবৈধ ব্যবসায়ী ও জেলেরা যাতে মাছ শিকার করতে না পারে, এ জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিএফডিসি। 

তিনি আরও জানান, হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের বংশবৃদ্ধি, অবমুক্ত করা মাছের পোনার সুষ্ঠু বৃদ্ধি, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিতকরণসহ হ্রদের প্রাকৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে বরাবরের মতো এ বছরও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এ ছাড়া মাছ শিকার বন্ধকালীন হ্রদের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ২২ হাজার জেলের জন্য ভিজিএফ কার্ডের চাল বিতরণ কার্যক্রম নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com