আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

উল্লম্ব চাষ ও ছাদ বাগানের সাথে কৃষির ক্রমবিকাশ

একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ব কৃষি তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে; যথা কিভাবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের চাহিদা মেটানো যায়, কিভাবে গ্রামীণ দারিদ্র্যের উচ্চ বিস্তার হ্রাসে অবদান রাখা যায় এবং কিভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে বর্ধিত উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া জানানো যায় । এই সমস্ত সমস্যা মোকাবিলায় নতুন, উদ্ভাবনী ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতি এবং প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন । বর্তমান যুগের কৃষকদের দক্ষতা এবং ক্রমাগত উন্নতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । নতুন প্রযুক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা কৃষকদের কাজ করার পদ্ধতি পরিবর্তন করার একটি অভিনব উপায় যা তাদের আরও ভাল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত নিতে, আরও দক্ষ হতে ও ভাল পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করে ।

জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা একবিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত পৃথিবীর জনসংখ্যায় আরও প্রায় তিন বিলিয়ন মানুষের সংযোজন আশা করেন । অন্যদিকে, আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়নি । দ্য ল্যান্ড কমোডিটিস গ্লোবাল এগ্রিকালচার অ্যান্ড ফার্মল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট রিপোর্ট (২০০৯) অনুযায়ী নগরায়ণ, লবণাক্তকরণ এবং  মরুভূমির কারণে ভবিষ্যতেও এটি খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই । নিম্নগামী উৎপাদনশীলতা, জলবায়ু পরিবর্তন, জলের অভাব, ক্ষুদ্র ও খণ্ডিত চাষযোগ্য জমি, পুষ্টির খনন, একাধিক পুষ্টির ঘাটতি, ভূগর্ভস্থ জলের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার, নিবিড় চাষের কারণে মাটির অবনতি ও মাটির জৈব কার্বন হ্রাস ইত্যাদি হল কিছু সাধারণ উদ্বেগ যা উৎপাদনে স্থবিরতা সৃষ্টি করে । আধুনিক কৃষির দ্বারা উদ্ভূত এই ধরনের উদ্বেগ এবং সমস্যাগুলি কৃষিতে নতুন ধারণার জন্ম দিয়েছে, যেমন জৈব চাষ, প্রাকৃতিক চাষ, জৈব-গতিশীল কৃষি, কিছুই না করা কৃষি, ইকো-চাষ, নির্ভুল কৃষি, টেকসই কৃষি, উল্লম্ব চাষ ইত্যাদি ।

এই ধরনের চাষ পদ্ধতির সারাংশ সহজভাবে বোঝায় যে মাটি-উদ্ভিদ-প্রাণীর ধারাবাহিকতার দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে প্রকৃতির কাছে ফিরে আসুন । এই প্রেক্ষাপটে, অভ্যন্তরীণ উল্লম্ব চাষ খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং এটিকে একটি বন্ধ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্তূপীকৃত উপায়ে উৎপাদন বৃদ্ধির পদ্ধতি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে । উল্লম্ব চাষের ধারণা শহুরে এলাকায় প্রথম প্রচার পেয়েছে এবং পদ্ধতিগুলি পরিমার্জন করার জন্য চাষীদের ক্ষমতা এই অভ্যাসকে একটি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত করছে ।

উল্লম্ব চাষ কি?

উল্লম্ব চাষ হল ফসল উৎপাদনের একটি পদ্ধতি যা আমরা সাধারণত চাষাবাদ বলে যাকে মনে করি তার থেকে একেবারেই আলাদা । বিস্তীর্ণ মাঠের পরিবর্তে ফসল উল্লম্বভাবে বা বাতাসে উত্থিত হয় । এটি উল্লম্বভাবে ঝুঁকে থাকা কোন পৃষ্ঠতলে খাদ্য উৎপাদনের অভ্যাস । এই পদ্ধতিটি একক স্তর যেমন মাঠ বা গ্রিনহাউসের পরিবর্তে উল্লম্বভাবে স্তুপীকৃত স্তরে শাকসবজি এবং অন্যান্য ফসল উৎপন্ন করে যা সাধারণত অন্যান্য কাঠামোর মধ্যে সংহত হয় যেমন একটি আকাশচুম্বী, শিপিং কন্টেইনার বা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গুদামে । উল্লম্ব কৃষি আমাদের শহরের মেট্রোপলিটন এলাকায় বিভিন্ন ভবনের অভ্যন্তরে কার্যকর উৎপাদনের সুবিধা দান করে । তাই এটি শহুরে কৃষির একটি রূপ যার কৃতিত্ব কলোম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুশাস্ত্রের অধ্যাপক ডিকসন ডেসপোমিয়ারকে দেওয়া হয়, যিনি শহুরে ছাদ বাগানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং বাড়ির মধ্যে উল্লম্ব কৃষি টাওয়ার তৈরির ধারণা নিয়ে এসেছিলেন, যা শুধুমাত্র ছাদ নয়, একটি ভবনের সম্পূর্ণ মেঝে ফসল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেবে ।

উল্লম্ব চাষের উপকারিতা

১. উল্লম্ব কৃষির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যগুলির মধ্যে একটি হল সর্বনিম্ন জমি ব্যবহার করে সর্বোচ্চ উৎপাদন লাভ করা । এটি প্রায় সমস্ত অবস্থায় উদ্ভিদ জন্মানোর যথোপযুক্ত পরিস্থিতি প্রদান করে । অতএব, ফসল ফলানোর জন্য নির্দিষ্ট ঋতুর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই ।

২. এটি ভবিষ্যতে খাদ্যের চাহিদা সামলানোর জন্য একটি পরিকল্পনা প্রদান করে যা ক্রমাগত উন্নত গুনমান সমৃদ্ধ ফসল সরবরাহ করে ।

৩. এই ধরণের চাষের পদ্ধতি ফসলকে সারা বছর বাড়তে দেয় যা আবহাওয়া এবং ঋতুর ওপর নির্ভরশীল নয় ।

৪. এটি উল্লেখযোগ্যভাবে কম জল ব্যবহার করে বা প্রায় ৯৫% পর্যন্ত জল সাশ্রয় করে ।

৫. এই উপায়ে বেশি জৈব ফসল চাষ করা যায় যাতে রাসায়নিক ও রোগের সংস্পর্শ কম থাকে ।

৬. এটি কৃষি জমির ব্যবহার ও খাদ্যের অপচয় বা নষ্ট হওয়াকে ব্যাপকভাবে কমাতে পারে এবং শহরে সর্বাধিক সতেজতা আনতে পারে ।

৭. উল্লম্ব চাষ ক্রেতাদের কাছে পরিবহনের খরচ কমায়; কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন সীমিত করে; জলবায়ুর উপর কম নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং কৃষিকে শহুরে মানুষদের দৈনন্দিন জীবনে ফিরিয়ে আনে । 

৮. উপরন্তু, উল্লম্ব খামার থেকে খাবার সাধারণত স্থানীয়ভাবে বিক্রি হয় যার ফলে পরিবহনের মাধ্যমে সৃষ্ট নির্গমন এবং খামার থেকে টেবিলে পৌঁছানোর সময় হ্রাস পায় । এটি কোন বিলম্ব ছাড়াই টাটকা বা বিশুদ্ধ ফলনের সরবরাহ সহজ করে তোলে অথবা খামার থেকে বাজারজাত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কয়েক দিন থেকে মাত্র কয়েক ঘন্টা পর্যন্ত হ্রাস করে ।

বাংলাদেশ

ছাগল পালনে সাফল্যের কাহিনী

দুধ এবং মাংস– পুষ্টির জন্য অপরিহার্য এক উপাদান। এই দুই প্রাণিজ উপাদান মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম চাহিদা সম্পন্ন খাদ্য। আমরা ছাগলের মারফত এই দুই উপাদানই পাই। ছাগল মূলত পালন করা হয় মাংস ও দুধ এই দুই উপাদান উৎপাদনের জন্য। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কারণে এই প্রাণীর পালন বর্তমানে বাংলার বহু ঘরে হচ্ছে। বহু কৃষক ও নবাগত চাষ করতে আসা তরুণ এই ছাগল পালনের জন্য বর্তমানে উৎসাহ দেখাচ্ছেন।

ছাগল পালনের বিভিন্ন সুবিধা: (Benefits of Goat rearing)

গ্রামে বহু মানুষ হাইব্রিড ছাগল পালন করে অর্থ উপার্জন করছেন। অত্যন্ত সহজ এই প্রাণী পালন। ছাগল পালন বর্তমানে তাই বহু দরিদ্র মানুষের কাছে এক অন্যতম ব্যবসায়িক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। সংকর জাতের ছাগল পালন করার লাভ অনেক বেশি। এই ছাগলের রোগ ব্যাধি অত্যন্ত কম হয়েই এই ছাগলগুলির মাংস অত্যন্ত পুষ্টিকর। ছাগলের দুধ অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই দুধ শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই খেতে পারে। ছাগলের দুধের চাহিদা থাকার জন্যও এই প্রাণীর পালন আদি কাল থেকে আজও বাংলার বহু ঘরে হচ্ছে।

ছাগল পালনে সাফল্য: (Success)

গ্রামের এক উপজাতীয় মহিলা উদ্যোক্তা সুলোচানা কেন্দুচাপাল। ছাগল পালনে অনেকটা সময় দেওয়ার পরেও তিনি ছাগল থেকে তেমন আয় করতে পারছিলেন না। তার সঙ্গে ছিল ছাগলের মৃত্যু এবং তা পালনে অতিরিক্ত খরচ। সুলোচনা পরে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র এবং স্থানীয় পশুচিকিত্সকদের প্রযুক্তিগত নির্দেশনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ছাগল পালন শুরু করেন। তিনি এসজেজিএসওয়াইয়ের আওতায় ব্যাংক থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লোন নিয়েছিলেন এবং সিরোহি ও ব্ল্যাক বেঙ্গলের মতো উন্নত জাতের ছাগল পালন শুরু করেন।

এরপরেই তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। জানা গেছে প্রশিক্ষণের পরে নিয়ম করে ছাগলদের ডি-ওয়ার্মিং, টিকাদানের কারণে সুলোচনার পালিত ছাগলগুলির আর মৃত্যু হয়নি।

বর্তমানে সুলোচনা বছরে ৫০,০০০ টাকার বেশি আয় করেন। মাত্র ১০,০০০ টাকা ছাগলগুলি পালনে তাঁকে খরচ করতে হয়েছে। লাভের পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ায়, সুলোচনা বর্তমানে ভীষণই খুশি এবং আনন্দিত।

জনপ্রিয়তা (Popularity)

ভারত ছাড়াও গোটা বিশ্ব জুড়ে ছাগল পালন অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিশেষ করে ইউক্রেইনের মতো সম্পদশালী দেশেও ছাগল পালন সাফল্যের সঙ্গে হয়ে আসছে। সেখানকার অনেক পরিবার, এই ছাগল পালনের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশেও ছাগল পালন অত্যন্ত এক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

টার্কি চাষের সহজতম পদ্ধতি

মুরগি বা হাঁসের মাংসের সঙ্গে আমরা পরিচিত হলেও, টার্কির মাংসের সঙ্গে আমরা ততটাও পরিচিত নই। মেলিয়াগ্রিডিডিই পরিবারের এই পাখি, বেশ বড়সড় আকারের হয়। গৃহপালিত পাখি হিসাবে টার্কি গোটা পৃথিবী জুড়ে চাষ হয়। টার্কি পোলট্রির ১১ টি প্রজাতির মধ্যে অন্যতম। নরম ঘাস মূলত টার্কির মূল খাদ্য। এই পাখির রোগবালাই কম হয় বলে, এই পাখির চাষে বিনিয়োগও কম। মাংস উৎপাদনের দিক থেকে এই পাখির মাংস অত্যন্ত উত্তম। টার্কির মাংসে অত্যন্ত কম চর্বি থাকায়, এই পাখির মাংস মুরগি, হাঁসের বিকল্প হিসাবে বহুখানে খাওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে বহু জায়গায় আজকাল টার্কির চাষ হচ্ছে। ভারতে টার্কির মাংস দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে।

উত্তর আমেরিকায় প্রথম টার্কির চাষ শুরু হয়,ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বে এই বিশেষ প্রজাতির পাখির চাষ ছড়িয়ে পড়ে। টার্কির মাংসে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকায় ও এই মাংসে চর্বি কম থাকায়, টার্কি সবার কাছে অত্যন্ত প্রিয়।

ব্রড ব্রেস্টেড ব্রোঞ্জ, ব্রড ব্রেস্টেড হোয়াইট, বেল্টসভিল স্মল হোয়াইট–টার্কি পাখির জাতের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এই তিনটি জাতের চাষই বেশি পরিমাণে গোটা পৃথিবী জুড়ে করা হয়।

টার্কি মাংসের লাভকর দিক: (Turkey Rearing Benefits)

১) এর মাংস উৎপাদক ক্ষমতা অত্যন্ত বেশি।
২) মুরগির মতোই নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে টার্কির চাষ করা হয়।
৩) টার্কি পালনের খরচের কম কারণ এই পাখি সাধারণ ঘাসপালা খেয়েই বেড়ে উঠতে পারে।
৪) টার্কি মাংসে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি এবং চর্বি কম থাকায় এই পাখির মাংসের চাহিদা দিনকে দিন বাড়ছে।
৫) এই পাখির মাংসে জিংক, লৌহ, পটাশিয়াম, বি৬ও ফসফরাসের মতন বিভিন্ন উপাদান থাকে। এ উপাদান গুলো মানব শরীরের জন্য ভীষণ উপকারী।
৬) নিয়মিত এই মাংস খেলে কোলেস্টেরল কমে যায়।
৭) টার্কির মাংসে এমাইনো এসিড ওট্রিপটোফেন প্রচুর পরিমানে রয়েছে, তাই এই মাংস খেলে শরীর রোগ ব্যাধি তেমন বাসা বাঁধতে পারে না। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এই পাখির মাংস বাড়াতে সাহায্য করে।

রোগবালাই:(Disease Management)


টার্কির তেমন রোগবালাই না হওয়ায়, এই পাখি পালনে খরচ কম অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে শীত পড়লে টার্কির ঠাণ্ডাজনিত রোগ দেখা যায়, এই রোগের থেকে টার্কিকে বাঁচাতে রেনামাইসিন জাতীয় ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

টার্কির বাসস্থান তৈরী: (Shelter making)

টার্কি পালতে গেলে দুটি ঘরের মধ্যে কম করে ২০ মিটার দূরত্ব থাকতে হবে। সাথে সাথে বাচ্চা পাখিদের ঘর বড় পাখিদের ঘর থেকে কম করে ৫০-১০০ মিটার দূরে থাকতে হবে। খোলা ঘরের প্রস্থ ৯ মিটারের মধ্যে রাখা অবশ্যক। মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ২.৬-৩.৩ মিটারের মধ্যে যাতে হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। টার্কির ঘর কংক্রিটের তৈরী করা উচিত। এতে পাখি আর্দ্রতার থেকে বাঁচবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন কৌশল

গোবর খেয়ে কেঁচো মল ত্যাগ করে এবং এর সাথে কেঁচোর দেহ থেকে রাসায়নিক পদার্থ বের হয়ে যে সার তৈরি হয় তাঁকে কেঁচো কম্পোস্ট বা ভার্মি কম্পোস্ট বলা হয়। এটি সহজ একটি পদ্ধতি ১ মাসের বাসী গোবর দিয়ে ব্যবহার উপযোগী উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরি করা হয়। এ সার সব ধরণের ফসল ক্ষেতে ব্যবহার করা যায়।‘ভার্মি কম্পোষ্ট´ বা কেঁচোসারে মাটির পানি ধারণ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং বায়ু চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি করে। 

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার প্রয়োজনীয় প্রধান উপকরণ

কেঁচো-২০০ টি, মাটির তৈরি নালা বা চারি অথবা ইট দিয়ে নির্মিত চৌবাচ্চা এবং ১ মাসের বাসী গোবর।

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার তৈরি করার পদ্ধতি/ধাপসমুহ

১। ২ মিটার লম্বা, ১ মিটার চওড়া ও ১ মিটার গভীরতা বিশিষ্ট ইট দিয়ে চৌবাচ্চা তৈরি করতে হবে। চৌবাচ্চার উপর টিনের/খড়ের চালা দিতে হবে। 

২। গর্তের মধ্যে বাসী পচা গোবর ঢেলে ভরে দিতে হবে। অতঃপর ২০০ থেকে ৩০০ কেঁচো ছেড়ে দিতে হবে। এ কেঁচোগুলো গোবর সার মল ত্যাগ করবে। এই মলই কেঁচো সার। 

৩। কেচোর সংখ্যার উপর ভিত্তি করে সার তৈরীর সময় নির্ভর করে। সংখ্যা বেশী হলে দ্রুত কেঁচো সার তৈরি হবে। কেঁচো সার দেখতে চায়ের গুড়ার মত। 

৪। সার তৈরি হওয়ার পর চৌবাচ্চা হতে সতর্কতার সাথে কম্পোস্ট তুলে চালুনি দিয়ে চালতে হবে। সার আলাদা করে কেঁচোগুলো পুনরায় কম্পোস্ট তৈরির কাজে ব্যবহার করতে হবে। 

৫। কেঁচো সার বাজারের চাহিদা অনুযায়ী/ নিজস্ব ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সাইজের প্যাকেট/বস্তা ভর্তি করে রাখা যেতে পারে। 

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার কোথায় ব্যবহার করবেন

সকল প্রকারের শাক সবজি ক্ষেতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে শাক সবজির ফলন বাড়ানো যায়। ধান, গম, পাটসহ বিভিন্ন ফলবাগানে এই সার ব্যবহার করে ভাল ফলন পাওয়া যায়। এই সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে মাটিতে বায়ুচলাচল বৃদ্ধি পায়। মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ে, মাটির বিষাক্ততা দূরীভূত হয়। মাটির অনুজৈবিক কার্যাবলী বৃদ্ধি পায় ফলে মাটি হতে গাছ্র পুষ্টি পরিশোধন ক্ষমতা বেড়ে যায়। এই সার ব্যবহার করলে রাসায়নিক সার মাত্রার ১/২ অংশ ব্যবহার করলেই চলে। ধানের জমিতে বিঘাপ্রতি ৫০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করে অর্ধেক ফলন পাওয়া যায়। এই সার পুকুরে ব্যবহার করে ফাইটোপ্লাংকটন উৎপাদন ত্বরান্বিত করে মাছের উৎপাদন বাড়ানো যায়। 

চালুনীর সময় সাবধান থাকতে হবে যেন শিশু কেঁচো মারা না যায়। শিশু কেঁচোগুলো পুনরায় গর্তে রক্ষিত বাসী গোবরের মধ্যে কম্পোস্ট তৈরির জন্য ছেড়ে দিতে হবে।  পিপঁড়া, উইপোকা, তেলাপোকা, মুরগী, ইঁদুর, পানি ও পোকার কামড় থেকে কেঁচোগুলোকে সাবধানে রাখতে হবে। প্রয়োজনে চৌবাচ্চার উপর মশারী ব্যবহার করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

ব্লাক বেঙ্গল ছাগল পালন

যে ভাবে একটি আদর্শ ছাগল খামার শুরু করবেন —–
ঘর নির্মাণ —— ছাগল সাধারণত: পরিষ্কার, শুষ্ক, দুর্গন্ধমুক্ত, উষ্ণ, পর্যাপ্ত আলো ও বায়ূ চলাচলকারী পরিবেশ পছন্দ করে। গোবরযুক্ত, স্যাঁত স্যাঁতে, বদ্ধ, অন্ধকার ও গন্ধময় পরিবেশে ছাগলের বিভিন্ন রোগবালাই যেমন: নিউমোনিয়া, একথাইমা, চর্মরোগ, ডায়রিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন জাতীয় সংক্রামক ও পরজীবীয় রোগ হতে পারে। সেই সাথে ওজন বৃদ্ধির হার, দুধের পরিমাণ এবং প্রজনন দক্ষতা কমে যায়।
ঘর নির্মাণের স্থান —– পূর্ব পশ্চিমে লম্বালম্বী, দক্ষিণ দিক খোলাস্থানে ঘর নির্মাণ করা উচিৎ। খামারের তিন দিকে ঘেরা পরিবেশ, বিশেষ করে উত্তর দিকে গাছপালা লাগাতে হবে। ছাগল খামারে স্থান নির্বাচনে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং উত্তম পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিটি পূর্ণ বয়স্ক ছাগলের জন্য গড়ে ৮-১০ বর্গ ফুট জায়গা প্রয়োজন। প্রতিটি বাড়ন্ত বাচ্চার জন্য গড়ে ৫ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ছাগলের ঘর ছন, গোল পাতা, খড়, টিন বা ইটের তৈরী হতে পারে। তবে যে ধরণের ঘরই হউক না কেন, ঘরের ভিতর বাঁশ বা কাঠের মাচা তৈরী করে তার উপর ছাগল রাখতে হবে। মাচার উচ্চতা ৪/৫ ফুট এবং মাচা থেকে ছাদের উচ্চতা ৬-৮ ফুট হতে হবে। মল মুত্র পড়ার সুবিধার্থে বাঁশের চটা বা কাঠকে ২ ইঞ্চি ফাঁকা রাখতে হবে। মাচার নিচ থেকে সহজে মল মুত্র সরানোর জন্য ঘরের মেঝে মাঝ বরাবর উঁচু করে দুই পার্শ্বে ঢালু রাখতে হবে। মেঝে মাটির হলে সেখানে পর্যাপ্ত বালি মাটি দিতে হবে। ছাগলের ঘরের দেয়াল, মাচার নিচের অংশ ফাঁকা রাখতে হবে এবং মাচার উপরের অংশ এম.এম. ফ্ল্যাক্সিবল নেট দিতে হবে। বৃষ্টি যেন সরাসরি না ঢুকে সে জন্য ছাগলের ঘরের চালা ৩/৪ ফুট ঝুলিয়ে দেয়া প্রয়োজন। শীতকালে রাতের বেলায় মাচার উপরের দেয়ালকে চট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। মাচার উপর ৪/৫ ইঞ্চি পুরু খড়ের বেডিং বিছিয়ে দিতে হবে। বিভিন্ন বয়সের এবং বিভিন্ন ধরণের ছাগলকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরে রাখা উচিৎ। পাঁঠাকে সব সময় ছাগী থেকে পৃথক করে রাখা উচিৎ। দুগ্ধবতী, গর্ভবতী ও শুষ্ক ছাগীকে একসাথে রাখা যেতে পারে। তবে তাদের পৃ্থক খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। শীতকালে বাচ্চাকে রাতের বেলা মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রাখতে হবে। ব্রুডিং পেন একটি খাঁচা বিশেষ যা কাঠের বা বাঁশের তৈরী হতে পারে। এর চারপার্শ্বে চটের ব্যবস্থা দিয়ে ঢাকা থাকে।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা —– ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনাই খামারের অন্যতম প্রধান বিষয়। ইন্টেনসিভ এবং সেমি-ইন্টেনসিভ পদ্ধতিতে ছাগলের খাদ্যের পরিমাণ ও গুনগত মান নির্ভর করে, চারণ ভূমিতে প্রাপ্ত ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মানের উপর।

ছাগলের বাচ্চাকে কলষ্ট্রাম (শাল দুধ) খাওয়ানো —- সাধারণত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বাচ্চার ওজন ০.৮-১.৫ কেজি (গড়ে ১.০০ কেজি) ওজন হয়। বাচ্চা জন্মের পরপরই পরিস্কার করে আধা ঘন্টার মধ্যেই মায়ের শাল দুধ খেতে দিতে হবে। ছাগলের বাচ্চার প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম শাল দুধ খাওয়ানো প্রয়োজন। এই পরিমাণ দুধ দিনে ৮-১০ বারে খাওয়াতে হবে। শাল দুধ বাচ্চার শরীরে এন্টিবডি তৈরী করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বৃদ্ধি করে। দুই বা ততোধিক বাচ্চা হলে প্রত্যেকেই যেন শাল দুধ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল ছানা সাধারণত ২-৩ মাসের মধ্যে দুধ ছাড়ে। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের দুধ উৎপাদন কম হওয়ায় ২-৩ ছানা বিশিষ্ট মা ছাগীর দুধ কখনো কখনো বাচ্চার প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে পারেনা। এক্ষেত্রে ছানাকে পরিমাণমত ৩৭-৩৮ সেঃ তাপমাত্রায় অন্য ছাগলের দুধ বা মিল্ক রিপ্রেসার খাওয়ানো উচিত। ছাগলের বাচ্চার দানাদার খদ্যের মিশ্রণ কম আঁশ, উচ্চ প্রোটিন, উচ্চ বিপাকীয় শক্তি সম্পন্ন হতে হয়।
ছাগলের বাচ্চাকে দানাদার খাদ্য খাওয়ানো —— ছাগল ছানা প্রথমে মায়ের সাথেই দানাদার খাবার খেতে অভ্যস্থ হয়। ছাগলের বাচচাকে জন্মের প্রথমে সপ্তাহ থেকে ঘাসের সাথে পরিচিত করে তুলতে হবে। সাধারণত শুরুতে মায়ের সাথেই বাচ্চা ঘাস খেতে শিখে। অভ্যস্থ করলে সাধারণত দুই সপ্তাহ থেকেই বাচচা অল্প অল্প ঘাস খায়। এ সময়ে বাচ্চাকে কচি ঘাস যেমন: দুর্বা, স্পেনডিডা, রোজী, পিকাটুলাম, সেন্টোসোমা, এন্ড্রোপোগন প্রভৃতি ঘাস খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া, ইপিল ইপিল, কাঁঠাল পাতা, ধইনচা ইত্যাদি পাতা খাওয়ানো যেতে পারে।

বাড়ন্ত ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থাপনা —– ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৩-১২ মাস সময়কালকে মূল বাড়ন্ত সময় বলা যায়। এ সময়ে যেসব ছাগল প্রজনন বা মাংস উৎপাদনের কাজে ব্যবহৃত হবে তাদের খাদ্য পুষ্টি চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। দুধ ছাড়ানোর পর থেকে পাঁচ মাস পর্যন্ত সময়ে ছাগলের পুষ্টি সরবরাহ অত্যন্ত নাজুক পর্যায়ে থাকে। এ সময়ে একদিকে ছাগল দুধ থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন ও বিপাকীয় শক্তি থেকে যেমন বঞ্চিত হয়, তেমনি মাইক্রোবিয়াল ফার্মেন্টেশন থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি সরবরাহও কম থাকে। এজন্য এ সময়ে পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ দানাদার ও আঁশ জাতীয় খাদ্য দিতে হবে। ঘাসের পরিমাণ ও গুনগত মান বেশি হলে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ কমবে এবং পরিমাণ ও গুনগত মান কম হলে উপরোক্ত পরিমাণ দানাদার খাদ্যেই চলবে।

ব্লাক বেঙ্গল বাড়ন্ত ছাগলের জন্য একটি আদর্শ খাদ্য তালিকা নিচে দেয়া হলো —-
ছাগলের ওজন (কেজি)—দানাদার খাদ্য দৈনিক সরবরাহ (গ্রাম)–ঘাস সরবরাহ(কেজি)
৪————————————১০০————————————০.৪
৬————————————১৫০————————————০.৬
৮———————————–২০০————————————-০.৮
১০———————————-২৫০————————————-১.৫
১২———————————-৩০০————————————-২.০
১৪———————————-৩৫০————————————-২.৫
১৬———————————-৩৫০————————————-৩.০
১৮ কেজি বা তার উপরে——–৩৫০————————————-৩.৫

প্রজননক্ষম পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা — পাঁঠার খাদ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ন্ত ছাগলের মতই। তবে প্রজননে সহায়তার জন্য প্রতিটি পাঁঠাকে দৈনিক ১০ গ্রাম ভিজানো ছোলা দেয়া প্রয়োজন। একটি পাঁঠা ১০ মাস থেকে ৩ বছর পর্যন্ত প্রজননক্ষম থাকে। কোনভাবেই পাঁঠাকে বেশি চর্বি জমতে দেয়া উচিত নয়। ২৮-৩০ কেজি ওজনের পাঁঠার জন্য দৈনিক ৪০০ গ্রাম পরিমাণ দানাদার খাবার দেয়া প্রয়োজন।
দুগ্ধবতী ও গর্ভবতী ছাগলের খাদ্য ব্যবস্থথাক —- দুগ্ধবতী ছাগল তার ওজনের ৫-৬ শতাংশ হারে শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। একটি তিন বছর বয়স্ক ২য় বার বাচ্চা দেয়া ছাগীর গড় ওজন ৩০ কেজি হারে দৈনিক ১.৫-১.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ খেয়ে থাকে। এক্ষেত্রে ১ বা ১.৫ কেজি পরিমাণ শুষ্ক পদার্থ ঘাস থেকে (৩-৫ কেজি কাঁচা ঘাস) বাকি ০.৫-০.৮ কেজি শুষ্ক পদার্থ দানাদার খাদ্য থেকে দেয়া উচিত। যেহেতু ছাগী বাচ্চা দেয়ার ১.৫- ২.০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হয় সেজন্য প্রায় একই পরিমাণের খাবার গর্ভাবস্থায়ও ছাগলকে দিতে হবে।

ছাগলের দানাদার খাদ্যের সাধারণ মিশ্রণ নিন্মরুপ—–
গম/ভূট্টা ভাঙ্গা/চাল—————————————————-১২.০০%
গমের ভূষি/আটা কুড়া————————————————৪৭.০০%
খেসারী/মাসকালাই/অন্য ডালের ভূষি——————————১৬.০০%
সয়াবিন খৈল———————————————————-২০.০০%
শুটকি মাছের গুড়া—————————————————–১.৫০%
ডাই-ক্যালসিয়াম ফসফেট——————————————-২.০০%
লবণ———————————————————————১.০০%
ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স ——————————————-০.৫০%
__________________________________________________
মোট ——————————————————————১০০.০০%

ছাগলের চরানো ——– ঘাস সরবরাহের জন্য নেপিয়ার, স্পেনডিডা, পিকাটুলুম, রোজী, পারা, জার্মান ইত্যাদির চাষ করা যেতে পারে। মাঠের চারপার্শ্বে ইপিল ইপিল গাছ লাগানো যেতে পারে। তাছাড়া বর্ষাকালে চারণ ভূমিতে ঘাসের সাথে মাসকালাই ছিটিয়ে দিলেও ঘাসের খাদ্যমান অনেক বেড়ে যায়। শীতকালে অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘাস পাওয়া যায় না। এজন্য এ সময়ে ছাগলকে ইউএমএস (ইউরিয়া ৩%, মোলাসেস ১৫%, খড় ৮২%)-এর সাথে এ্যালজির পানি খাওয়ানো যেতে পারে।

প্রজনন ব্যবস্থাপনা ——- একটা পাঁঠা সাধারণত: ৩/৪ মাস বয়সে যৌবন প্রাপ্ত হয় কিন্তু আট/নয় মাস বয়সের পূর্বে পাল দেবার জন্য ব্যবহার করা উচিত নয়। কোন পাঁঠার শারীরিক দুর্বলতা, পঙ্গুত্ব বা কোন যৌন অসুখ ,সমস্ত পালকে নষ্ট করে দিতে পারে। তাই সেদিকে অবশ্যই মনোযোগী হতে হবে। দশটি ছাগীর জন্য একটা পাঁঠাই যথেষ্ট। ছাগী যখন প্রমবারে (৫-৬ মাস বয়সে) গরম (Heat) হয় তখন তাকে পাল না দেওয়াই ভাল। এক্ষেত্রে এক/দুইটি হিট বাদ দিয়ে মোটামুটি ১১-১২ কেজি ওজনের সময় পাল দেয়া উচিত। ছাগীর হিটে আসার লক্ষণগুলো হচ্ছে- মিউকাস নিঃসরণ, ডাকাডাকি করবে, অন্য ছাগীর উপর উঠা ইত্যাদি। ছাগী হিটে আসার ১২-৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাল দেওয়া উচিত। অর্থাৎ সকালে হিটে আসলে বিকেলে এবং বিকেলে হিটে আসলে পরদিন সকালে পাল দিতে হবে।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ——- ছাগলের খামারে রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য নিয়মিত পিপিআর টিকা, কৃমিনাশক ইত্যাদির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হয়। ছাগলের সবচেয়ে মারাত্ক রোগ পি.পি.আর এবং গোটপক্সের ভেক্সিন জন্মের ৩ মাস পরে দিতে হয়। বছরে দুবার বর্ষার আগে (এপ্রিল-মে) কৃমিনাশক এবং বর্ষার শেষে (অক্টোবর-নভেম্বর) কৃমিনাশক যেমন: নেমাফেক্স, রেলনেক্স অথবা ফেনাজল ইত্যাদি খাওয়ানো যেতে পারে। তাছাড়া যকৃত কৃমির জন্য ফেসিনেক্স, ডোভাইন, ইত্যাদি ব্যবহার করা প্রয়োজন। কোন ছাগলের চর্মরোগ দেখা দিলে তা ফার্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। যে কোন নূতন ছাগল খামারে প্রবেশ করানোর আগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ অন্যস্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। খামারের সকল ছাগলকে ১৫-৩০ দিন পর পর ০.৫% মেলাথায়ন দ্রবণে ডিপিং করানো (চুবানো) উচিত। তাছাড়া ম্যাসটাইটিসসহ অন্যান্য সংক্রমক রোগের জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।

বাচ্চার ব্যবস্থাপনা —— * বাচ্চা বয়সে ডায়রিয়া, বাচ্চা মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এজন্য বাচ্চাকে সব সময় পরিচ্ছন্ন জায়গায় এবং পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে। ফিডার ও অন্যান্য খাদ্য পাত্র সবসময় পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
* জন্মের পর পর বাচ্চাকে পরিস্কার করে নাভি থেকে ৩-৪ সেঃ মিঃ নিচে কেটে দিতে হবে।
* যে বাচ্চার মায়ের দুধের পরিমাণ কম তাদেরকে বোতলে অন্য ছাগলের দুধ/বিকল্প দুধ (মিল্ক রিপেসার) খাওয়াতে হবে।
* শীতের সময়ে বাচ্চাকে মায়ের সাথে ব্রুডিং পেনে রেখে ২৫-২৮ সেঃ তাপমাত্রায় রাখতে হবে।
* বাচ্চা যেন অতিরিক্ত দুধ না খায় তা লক্ষ্য রাখতে হবে।
* যেসব পাঁঠা বাচ্চা প্রজনন কাজে ব্যবহৃত হবে না তাদেরকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে খাসি করাতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়

পারিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়ঃ—
আমাদের গ্রামীণ জনপদে আগে বেশীরভাগ ঘরে দেশী মুরগী পালন করা হতো। রাত-বিরাতে বাড়ীতে অতিথি এলে এই মুরগী জবাই করে আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করা হতো। এমনকি মাঝে মাঝে গভীর রাতেও মুরগীর ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যেতো। পরে জানতে পারতাম, মেহমান এসেছে তাই রাতেই মুরগী জবেহ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে রাতে তো দুরের কথা, দিনের বেলাতে পুরো এলাকা খুঁজে বেড়ালেও দেশী মুরগী খুব বেশী পাওয়া যাবে না। কারন আজ আর গ্রামীণ জনপদের মানুষ দেশী মুরগী আগের মত পালন করে না। কিন্তু এর কারন কি ? কেন মানুষ দেশী জাতের মুরগী পালন করছে না ? কি এর প্রতিবন্ধকতা ? কেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশী জাতের মুরগী

সকলের অভিজ্ঞতালব্ধ মতামত কামনা করছি। এবং আপনাদের আলোচনা ও মতামতের আলোকে পরবর্তীতে দেশী জাতের মুরগী নিয়ে কিছু লেখার আশা করছি——-
#উপরোল্লিখিত আহ্বানটি জানাই,আলোচনা/ মতামত গ্রহনের জন্য গত ২৫/০৭/২০১৬ ইং তারিখে। যাতে করে প্রকৃত কারন গুলো খুঁজে বের করে একটি ফলপ্রসূ সমাধান দেয়া যায় এবং দেশী মুরগী সফল ভাবে পালনে আবার সকলকে আগ্রহী করে তোলা যায়। আলহামদুলিল্লাহ্‌, অভুতপূর্ব সারা পেয়েছি। অসংখ্য মুল্যবান মতামত পেয়েছি। যারা মতামত দিয়েছেন, সকলকে আমার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তাদের এই মুল্যবান মতামতের জন্য আমি সহ পুরো দেশবাসী উপকৃত হবেন, সেজন্য আমি মতামত প্রদানকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

কেন মানুষ দেশী জাতের মুরগী পালন করছে না ? কি এর প্রতিবন্ধকতা ? কেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশী জাতের মুরগী ? এই তিনটি প্রশ্নকে সামনে রেখে আমাদের আলোচনা চলে। সেই আলোচনা ও মতামতের ভিত্তিতে যে সমস্যা গুলো গুরুত্ব পেয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের দিক বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা যাক—–
১) রোগ-ব্যাধির আক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অজ্ঞতা ২) হিংস্র প্রাণীর উপদ্রব ৩) কম উৎপাদন ক্ষমতা ৪) আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন ও ৫) কৃষি জমি বা উন্মুক্ত জমি হ্রাস ও কৃষি বিমুখতা । এখন এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজা যাক।

১) রোগ-ব্যাধির আক্রমণ এবং রোগ প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অজ্ঞতাঃ—
প্রতিটি প্রাণীর মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে, এটা মহান আল্লাহ্‌র একটি অবধারিত বিধান। তাই এই বিধান আমাদের সবার মেনে নিতে হবে। কিন্তু আমরা রোগ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রতিরোধক অথবা যখন অসুস্থ্য হই তখন প্রতিষেধক গ্রহন করে থাকি সুস্থ্য জীবন যাপনের আশায়। ঠিক একই ব্যাবস্থা সকল প্রাণীর জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু যে সকল প্রাণী জঙ্গলে বাস করে, তারা প্রাকৃতিক নিয়মে বিভিন্ন চিকিৎসা গ্রহন করে থাকে, বিভিন্ন উৎস থেকে এই চিকিৎসা গ্রহনের পদ্ধতি সৃষ্টিকর্তা তাদের দান করেছেন। যেমন অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন যে, বিরাল বা কুকুর মাঝে মাঝে ঘাস খায়। বিভিন্ন পাখি মাঝে মাঝে মাটি,বালু বা ইট-পাথরের গুড়া খায়। চরুই পাখি ও সাপ একটি গাছের কচি ডগা খায়। কিন্তু কেন ? এটা ওদের চিকিৎসা পদ্ধতি। আল্লাহ্‌ আমাদের যেমন চিকিৎসা জ্ঞান দান করেছেন, তেমনি সকল প্রানিকে ও দান করেছেন। তাই সুস্থ্য থাকতে গেলে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরন সকলের ক্ষেত্রেই জরুরী। যখনই এর ব্যাতিক্রম ঘটবে, তখনই সমস্যা সৃষ্টি হবে।
আমাদের পারিবারিক খামার ছোট হোক বা বড় হোক, খামারের প্রানিদের সুস্থ্য রাখতে চাইলে, সঠিক নিয়ম ও চিকিৎসা পদ্ধতি মেনেই পালন করতে হবে। কিন্তু আমাদের জানার অভাব বা সদিচ্ছার অভাবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সেটা হয়ে ওঠে না। আর যে কারনে পারিবারিক খামারে নেমে আসে বিপর্যয়। যেটা বানিজ্যিক খামারে কম পরিলক্ষিত হয়। এর কারন পারিবারিক খামারে সঠিক নিয়ম না মানা। তাই পারিবারিক খামার থেকে সুফলতো আসেই না, বরং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় আমাদের। প্রায়শ শোনা যায়, হঠাৎ একটি রোগে সকল হাঁস-মুরগী মরে গিয়ে এখন খামার শূন্য। আর এই ক্ষতির কারনে গৃহকর্তা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। নতুন করে আবার অর্থ-সময়-শ্রম দিতে রাজি না হওয়ার কারনে, এই ক্ষতিগ্রস্থ খামার খালি পরে থাকে। আর এভাবেই কমে যাচ্ছে পারিবারিক খামার। কিন্তু কে এজন্য দায়ী ? নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট খামারি। রোগ-বালাই হতেই পারে। কিন্তু নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করলে, রোগের প্রতিরোধক-প্রতিষেধক সঠিক ভাবে প্রয়োগ করলে, অনেকাংশে খামারকে নিরাপদে রাখা সম্ভব এবং এটাই লাভজনক খামারের মূল মন্ত্র।

সম্ভাব্য সমাধানঃ—
খামারকে রোগমুক্ত রাখতে চাইলে নিয়মিত প্রতিরোধক প্রয়োগ করতে হবে। কারন রোগ হওয়ার পরে চিকিৎসা করার চেয়ে রোগকে প্রতিরোধের চেষ্টা করা শ্রেয়। তারপরেও রোগ হয়ে গেলে সঠিক নিয়মে ,সঠিক ঔষধ, সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। নিজের জানা না থাকলে নিকটবর্তী অভিজ্ঞ কারো পরামর্শ গ্রহন করতে হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় পশু চিকিৎসক বা উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তার পরামর্শ নেয়াই শ্রেয়।

টিকা প্রদান ও তার গুরুত্বঃ নির্দিষ্ট কর্মসূচি অনুসারে বিভিন্ন রোগের টিকা প্রদান করলে প্রাণীর শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি সৃষ্টি হয় এবং সংক্রামক রোগ হতে প্রানিকে রক্ষা করা যায়। টিকাদান ফলপ্রসূ হলে রোগের প্রাদুর্ভাব খুব কম হবে এবং মৃত্যুর হার সহনীয় পর্যায় রাখা যাবে। টীকা খুবই অল্প মুল্যে প্রতি উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে পাওয়া যায়। এবং টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তাবৃন্দ সহযোগিতা প্রদান করে থাকেন।



লেয়ার বা ডিম দেয়া মুরগির টিকাঃ—- মারেক্স, রাণীক্ষেত, গামবোরো, ব্রংকাইটিস, বসন্ত, সালমোনেলা, করাইজা ।
টিকা প্রদানের পূর্বে সতর্কতাঃ— মুরগি ধরার সময় যত্ন সহকারে ধরতে হবে,
মুরগিকে যে কোন ধরনের ধকল মুক্ত অবস্থায় টিকা প্রয়োগ করতে হবে,
অসুস্থ্য মুরগিকে কোন অবস্থাতেই টিকা দেয়া যাবে না, টিকা প্রদান উপকরণ ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে নিতে হবে, আবহাওয়া যখন ঠান্ডা সেসময়ে টিকা প্রদান করতে হবে।

#টিকা প্রদান কর্মসূচী (লেয়ার বা ডিম দেয়া মুরগির জন্য)—-
বয়স—–রোগের নাম—–ভ্যাকসিনের নাম—টিকা প্রদানের পদ্ধতি
১ দিন—মারেক্স রোগ—–মারেক্স ভ্যাকসিন–চামড়ার নীচে ইজেকশন।
২ দিন-গামবোরো রোগ-গামবোরো ভ্যাকসিন (লাইভ)-চোখে ফোঁটা (প্যারেন্ট মুরগির টিকা প্রদান করা না থাকলে)।
৩-৫ দিন-রানীক্ষেত রোগ–বি, সি, আর, ডি, ভি–দুই চোখে ফোঁটা (প্যারেন্ট মুরগির টিকা প্রদান করা থাকলে ৭ থেকে ১০ দিন বয়সে)।
৭ দিন-ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস–আই, বি,—–চোখে ফোঁটা
১০-১৪ দিন–গামবোরো রোগ-গামবোরো ভ্যাকসিন–এক চোখে ফোঁটা
২১-২৪ দিন–রানীক্ষেত রোগ–বি, সি, আর, ডি, ভি–দুই চোখে ফোঁটা
২৪-২৮ দিন–গামবোরো রোগ–গামবোরো ভ্যাকসিন-এক চোখে ফোঁটা
৩০ দিন-ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস–আই, বি,—–চোখে ফোঁটা
৩৫ দিন—মুরগি বসন্ত–ফাউল পক্স ভ্যাকসিন–চামড়ার নীচে ইনজেকশন
৫০ দিন——কৃমি——কৃমির ঔষধ———খাদ্য অথবা পানির সাথে
৬০ দিন–রানীক্ষেত–আর, ডি, ভি—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন
৭০ দিন-ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস–আই, বি–চোখে ফোঁটা বা পানির সাথে
৮০-৮৫ দিন-কলেরা–ফাউল কলেরা ভ্যাকসিন—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
৯০-৯৫ দিন–ইনফেকসাস করাইজা–আই, করাইজা ভ্যাকসিন–চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
১১০-১১৫ দিন–কলেরা–ফাউল কলেরা ভ্যাকসিন—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
১৩০-১৩৫ দিন–ইনফেকসাস ব্রংকাইটিস, রানীক্ষেত, এগড্রপসিনড্রম—সমন্বিত টিকা—চামড়ার নীচে বা মাংসে ইনজেকশন।
১৩০-১৩৫ দিন—কৃমি—কৃমির ঔষধ—-খাদ্য অথবা পানির সাথে।

#বিশেষ সতর্কতা– প্রয়োজনবোধে খাদ্যের সাথে ৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত ককসিডিওসিস রোগ প্রতিরোধের জন্য ককসিডিওস্ট্যাট ব্যবহার করতে হবে। উপরোক্ত টীকার তালিকা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রোগের প্রার্দুভাবের ইতিহাস, টিকার প্রাপ্যতা ও স্থানীয় পরিবেশ পরিস্থিতির উপর নিজ নিজ খামারের জন্য নিজস্ব তালিকা প্রস্তত করতে হবে। টিকা সবসময় প্রস্ততকারীর নির্দেশমত ব্যবহার করতে হবে। সকল প্রকার টিকা ও ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

২) হিংস্র প্রাণীর উপদ্রবঃ— দ্বিতীয় সমস্যা হিসেবে হিংস্র প্রাণীর উপদ্রব স্থান পেয়েছে। আসলেই গ্রামীণ জনপদে এটি একটি মারাত্মক সমস্যা। শেয়াল, বনবিড়াল,গুইসাপ, ভেজি,চিল, কাক এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কুকুরের আক্রমনে প্রচুর পরিমান হাঁস-মুরগী বিনষ্ট হয়ে থাকে।যেটা পারিবারিক খামারের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। এর কারন, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা উন্মুক্ত অবস্থায় দেশী হাঁস-মুরগী পালন করে থাকি।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—-খামারের নিরাপত্তা ব্যাবস্থা বাড়াতে হবে। প্রতিকুল আবহাওয়া, বন্যপ্রাণী ও দুস্কৃতিকারী হতে রক্ষা করতে হবে। বাড়ির আসেপাশে অপ্রয়োজনীয় ঝোপ-ঝার যথাসম্ভব ধ্বংস করতে হবে। হিংস্র প্রাণীদের আবাসস্থল সাধ্যানুযায়ী ধ্বংস করতে হবে। প্রহরী হিসেবে কুকুর পোষা যেতে পারে। আবার দেশী মুরগীকে সম্পূর্ণ আবদ্ধ অবস্থায়ও পালন করা যেতে পারে।

৩) কম উৎপাদন ক্ষমতাঃ—–
তৃতীয় সমস্যা হিসেবে দেশী মুরগীর কম উৎপাদন ক্ষমতা প্রধান্য পেয়েছে। কিন্তু আমি এই বিষয়টির সঙ্গে সঙ্গত কারনে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছি। কারন, আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় আমি আমার খামারে দেখেছি, স্বাভাবিক খাবার ( শুধু ধান ও পোকা-মাকড় ) খেয়েও দেশী মুরগী বছরে কমপক্ষে ৭ বার ১৮-২০ টি করে ডিম দেয়। আমি গড়ে ১৮ টি করে হিসেব করলেও ১৮x৭= ১২৬ টি। আমি হলফ করে বলতে পারি একটু উন্নত খাবার পরিবেশন করা হলে এরা অনায়াসে বছরে কমপক্ষে ২০০ ডিম দিবে। তাহলে এদের উৎপাদন ক্ষমতা কিভাবে কম বলে আমি স্বীকার করি ? এছাড়া বাজার চাহিদার শীর্ষে থাকে দেশী মুরগীর ডিম ও মাংস এবং দামেও চড়া । তাহলে আমি ডিম বা মাংস যে হিসাবেই বিক্রি করিনা কেন, খরচের তুলনায় লাভ ভালো থাকে।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—-অধিক উৎপাদন পেতে হলে মুরগিকে দৈনিক সুষম খাবার খেতে দেবেন। প্রত্যহ প্রতিটি মুরগিকে ১১৫ গ্রাম সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি ও ২৫ গ্রাম সবুজ শাক-সবজি বা কচি ঘাস কুচি কুচি করে কেটে খেতে দিন। আপনি নিজেই সুষম খাদ্য তৈরি করতে পারেন। সুষম খাদ্যের উপাদানগুলো নিম্নরূপ :
খাদ্য উপাদান-গম/ভুট্টা ভাঙা বা চালের খুদ ৪০০ গ্রাম। গমের ভুসি ৫০ গ্রাম। চালের কুঁড়া (তুষ ছাড়া) ২৫০ গ্রাম। তিলের খৈল ১২০ গ্রাম। শুঁটকি মাছের গুঁড়া ১০০ গ্রাম। ঝিনুকের গুঁড়া ৭৫ গ্রাম। সুষম খাদ্য মোট ১,০০০ গ্রাম বা ১ কেজি। অথবা ২য় পদ্ধতি হিসেবে –দুই বেলা সকাল ও সন্ধ্যায় শুধু ধান ভাঙ্গা এবং দুপুরে লেয়ার খাবার। দ্বিতীয়টি সবচেয়ে সাশ্রয়ী পদ্ধতি ও ফলদায়ক। এছাড়া অধিক ডিম পেতে এবং বাচ্চা উৎপাদন করতে চাইলে, সকল মুরগীকে কুঁজো বা উমে বসানো যাবে না। কারন এতে মুরগীর স্বাস্থ্যহানী হয় এবং ডিম উৎপাদন কমে যায়। তাই বড় সাইজের এবং ডিমে তা দিতে অভিজ্ঞ ৪/৫ টি মুরগীকে এ কাজে সময় সুবিধা অনুযায়ী ব্যাবহার করা শ্রেয়। এবং খামারের অন্য মুরগীগুলোর ডিম দেয়া শেষ হলে খাবারের সঙ্গে কিছু মাল্টি ভিটামিন ও মিনের‍্যালস দিতে হবে। এতে সে আবার ডিম দেয়ার জন্য দ্রুত প্রস্তুত হবে।

৪) আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনঃ—-
চার নম্বর সমস্যা হিসেবে আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন মতামত প্রতিয়মান হয়েছে। আমারও মনে হয় এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। একটা সময় ছিল, যখন আমাদের ক্রয় ক্ষমতা ছিল খুবই কম। যে কারনে চাহিদা পুরনের জন্য নিজেরাই যথাসম্ভব উৎপাদন করতো বেশীরভাগ মানুষ।আবার গ্রামীণ জনপদের বেশীর ভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারনে, পারিবারিক খামারের খাবার নিয়ে সমস্যা পোহাতে হতো না। কিন্তু এখন সময়ের সঙ্গে মানুষের স্বভাব পরিবর্তিত হয়েছে, মানুষের অভাব ঘুচে গিয়ে সচ্ছলতা এসেছে,ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। এছাড়া অন্য কিছু বিষয়ও সংযুক্ত হয়েছে। যেমন– বয়লার মুরগীর সহজলভ্যতা, পরনির্ভরশীলতা, তথাকথিত সামাজিক মর্যাদাবোধ, কর্মবিমুখতা, মুরগীর খাবার ও ঔষধের উচ্চ মুল্য, সার্বিক কৃষি বিমুখতা ইত্যাদি।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—-বর্তমান সময়ে খাদ্যে ভেজাল ও বিষ একটি বড় সমস্যা। বয়লার মুরগী নিয়ে অনেক কথা প্রচলিত রয়েছে। আমি সেদিকে যেতে চাই না। কিন্তু নিজের হাতে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী সর্বাধিক নিরাপদ ও স্বাস্থ্য সম্মত, রুচিশীল, সুস্বাদু। আমি যখন আধুনিক হয়েছি, সঙ্গে আমার রুচিটাও আধুনিক হওয়ার কথা। আর রুচি আধুনিক হলে আমি কি পরনির্ভরশীল হয়ে অসাস্থ্যকর খাবার খাবো, নাকি যথাসম্ভব নিজে উৎপাদন করে বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য খাবো, সেটা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি। কৃষি বিমুখ হয়ে আমরা ক্রমশ পরনির্ভরশীল হয়ে পরেছি। টাটকা নিরাপদ খাদ্যের পরিবর্তে ভেজাল ও বিষযুক্ত খাদ্য গ্রহন করে নিজে ও সন্তানদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছি। আধুনিকতার নামে আমরা নিজেকেই হারিয়ে ফেলছি প্রতিনিয়ত। এই তথাকথিত আধুনিকতা এখন পর্যন্ত আমাদের জন্য কোন সুখবর বয়ে আনেনি, কোনদিন আনবেও না। কারন যে আধুনিকতা নিজের স্বকীয়তাকে বিনষ্ট করে, সেই আধুনিকতা কোন সুফল বয়ে আনতে পারেনা।

৫) কৃষি জমি বা উন্মুক্ত জমি হ্রাস ও কৃষি বিমুখতাঃ— এটি ৫ম সমস্যা হিসেবে স্থান পেয়েছে। আসলেই এটি একটি প্রধান কারন বলে আমারও মনে হয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারনে মানুষের আবাসন এর চাহিদা বাড়ছে। যে কারনে কমছে কৃষি বা উন্মুক্ত জমি। এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ন, শিল্পায়ন গ্রাস করছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।
সম্ভাব্য সমাধানঃ—আবাসনের প্রয়োজন খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। কর্ম সংস্থানের জন্য শিল্পায়ন ও জরুরী। কল-কারখানা স্থাপন না হলে দেশ দ্রুত আগায় না। কিন্তু নগরায়ন ,আবাসন বা শিল্পায়ন পরিকল্পিত ভাবে করলে অনাকঙ্খিত ফসলি জমি নষ্টের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব। তেমনি প্রাকৃতিক পরিবেশকে দূষণের হাত থেকেও বাঁচানো সম্ভব। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com