আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

উমাইয়া মসজিদ, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত। মসজিদটির মূল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয় ৭১৫ সালে। ১০৬৯ সাল থেকে ১৮৯৩ সালের মধ্যে মোট ছয় বার মসজিদে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। এছাড়াও ১৭৫৯ সালের ভূমিকম্পে মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। মসজিদটি প্রায় ৩১,০০০ বর্গফুট এলাকার ওপর অবস্থিত।

আলোকিত স্থাপনা: উমাইয়া মসজিদ, সিরিয়া
আলোকিত স্থাপনা: উমাইয়া মসজিদ, সিরিয়া

ইসলাম

প্রেরণার উৎস বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)

সমকালে মানুষের মুখে আজও উচ্চারিত হয় একটি নাম—বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)। তাঁকে নিয়ে অনেক কথা, কিংবদন্তি বিদ্যমান সমাজে। গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ভক্তরা তাঁকে স্মরণ করেন। প্রচলিত পীরের যে ধারণা, তার সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে শায়খ আবদুল কাদের জিলানির মিল নেই। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ও বুদ্ধিদীপ্ত এক আলোর সারথী। হজরত হাসান (রা.)–এর বংশের অত্যুজ্জ্বল এই মানুষটিকে নিয়ে এই লেখা।


হিজরি পঞ্চম শতকে এসে মুসলিম জাহান এক চরম দুর্বিপাকে পড়ে। কেন্দ্রীয় শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ায় খিলাফতের মধ্যে গড়ে ওঠে বহু স্বাধীন রাজ্য। এর মধ্যে আবার একদিকে চলতে থাকে গৃহযুদ্ধ ও প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, অন্যদিকে চলতে থাকে খ্রিষ্টান শক্তি কর্তৃক বহিরাক্রমণ। এই নাজুক রাজনৈতিক অবস্থার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ও নেমে এসেছিল চরমভাবে। গ্রিক ও অন্যান্য অমুসলিম দর্শন নির্বিচারে আমদানি ও তার ব্যাপক চর্চার কারণে মুসলিম মানসে ছড়িয়ে পড়েছিল এর মারাত্মক কুফল। তাঁদের চিন্তা ও বিশ্বাসে ইসলামবিরোধী ভাবধারার অনুপ্রবেশ ঘটে। ইসলামের নির্ভেজাল তৌহিদি দর্শন কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনৈসলামি দর্শনের সংমিশ্রণে হারিয়ে ফেলে তার স্বকীয়তা। এর ফল ছিল যেমন মারাত্মক, তেমনি সুদূরপ্রসারী। ‘আমাদের সূফীয়ায়ে কিরাম’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতির এই চরম দুর্দিনে ইসলামের আঁধার আকাশে উদিত হয়েছিল এক রওশন আফতাব, যার বিমল জ্যোতিতে উদ্ভাসিত হয়েছিল দিগদিগন্ত। তিনি হচ্ছেন মুহিউদ্দীন আবদুল কাদের জিলানি (রহ.)।


তিনি মুসলিম মিল্লাতের, ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধঃপতন দূর করে তাদের সিরাতুল মুস্তাকিমে পুনঃস্থাপনের জন্য চালিয়েছিলেন বিরামহীন সংগ্রাম। বিভ্রান্তির বেড়াজাল থেকে ইসলামি দর্শনকে মুক্ত করার জন্য করেছিলেন আমরণ সাধনা। প্রমাণ করেছিলেন এর শ্রেষ্ঠত্ব। গ্রিক ও ভারতীয় অনৈসলামি পরিবেশ থেকে ইসলামি তাসাউফকে উদ্ধার করে ভাস্বর করে তুলেছিলেন স্বকীয় মহিমায়। শরিয়তকে তিনি পুনরুজ্জীবিত করেছিলেন। তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের সহিহ পথের সন্ধান দিয়েছিলেন। শতধাবিচ্ছিন্ন জাতির মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন ঐক্যের চেতনা। আসলে তিনি মুসলিম মিল্লাতের একজন অনিবার্য পুরুষ ছিলেন। তিনি বিপর্যস্ত, বিপন্ন মুসলিম উম্মাহকে নতুন পথ দেখিয়েছেন, আশার আলো জ্বালিয়েছেন।বিজ্ঞাপন


প্রতিবছর এই মনীষীর মৃত্যুর দিনটি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। দিনটি ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম হিসেবে পালিত হয়।
শামসুল আলম তাঁর ‘ABDUL QUADER GHILANI’ গ্রন্থে বলেন, আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) জিলান শহরের নাইফে ৪৭০ হিজরির রমজানে/১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। জিলান শহর হচ্ছে কাস্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ তীরবর্তী পর্বতঘেরা অঞ্চল।
তাঁর পিতার নাম ছিল সৈয়দ আবু সালেহ মুসা জেঙ্গি এবং মাতার নাম ছিল সৈয়দা উম্মুল খায়ের ফাতিমা। পিতার দিক দিয়ে তিনি ছিলেন হজরত ইমাম হাসান (রা.)–এর বংশধর আর মায়ের দিক থেকে ছিলেন হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)–এর বংশধর। হাসানি ও হুসাইনি দুই পবিত্র রক্তধারার সম্মিলন ঘটেছিল তাঁর মধ্যে।


তাঁকে নিয়ে অনেক কথা বইপুস্তকে পাওয়া যায়। এখানে তাঁর প্রতিভাদীপ্ত সৃজনশীল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোকপাত করা যাক। সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নাদভি লিখেছেন, ইমাম গাজালি (রহ.)–এর ইহয়াউল উলুমুদ্দিন-এর পরে এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিবিশিষ্ট রচনারীতির প্রতিকৃতি হিসেবে এবং যথাযথভাবে যুগের চাহিদা পূরণে সফল ও বরকতময় প্রচেষ্টা হিসেবে যে গ্রন্থটির উল্লেখ করতে হয়, সেটি হলো শায়খ আবদুল কাদের জিলানির ‘গুনইয়াতুত তালিবিন’। যারা নিজেকে সংশোধন করতে আগ্রহী, তাদের জন্য বিশেষ করে মুরিদদের পথপ্রদর্শনের মূল্যবান দিকদর্শন রয়েছে এটিতে।


হজরত শায়খ জিলানির শিষ্যমণ্ডলীভুক্ত ব্যক্তিগণ এবং যাঁরা কোরআন, সুন্নাহ এবং সালফে সালিহীন ও সুমহান পূর্বসূরিদের অনুসৃত আকিদা ও প্রত্যয়ের আলোকে নিজেদের জীবনকে সুগঠিত করতে অভিলাষী, যাঁরা নিজের চরিত্র শোধন ও অভ্যন্তরীণ পরিশুদ্ধি লাভে আগ্রহী, তাঁদের সবার কাছেই এই মহান গ্রন্থটি নীতিমালা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকা—উভয় মহাদেশে এই গ্রন্থটির মাধ্যমে উপকৃত লোকদের সংখ্যা হাজার হাজার নয়, লাখ লাখ।


স্বভাব–চরিত্র
তিনি ছিলেন রাসুলে করিম (সা.)–এর পূর্ণ অনুসারী। মানুষে মানুষে তিনি কোনো পার্থক্য করতেন না। বাদশাহ-ফকিরকে দেখতেন একই নজরে। এমনকি গরিবকে দিতেন তিনি প্রাধান্য। আমির লোকদের হাদিয়া তিনি গ্রহণ করতেন না। তবে গরিবের হাদিয়া গ্রহণ করতেন সন্তুষ্টচিত্তে। জীবনে শাহি–দরবারে কখনো গমন করেননি। তাঁর দরবারে যত হাদিয়া উপস্থিত, হতো তিনি দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত লোকদের মধ্যে তা বিলিয়ে দিতেন। মানুষের দুঃখ সহ্য করতে পারতেন না। তা দূর করার জন্য ব্যাকুল ছিলেন। তিনি বন্ধুবৎসল, বিনয়ী, মিষ্টভাষী ও অমায়িক ব্যক্তিত্বসম্পন্ন। অপরের সালামের অপেক্ষা তিনি করতেন না। আগেই সালাম দিতেন, মুসাফাহার জন্য আগেই হাত বাড়িয়ে দিতেন।

উপদেশ
গাউসুল আজম বড় পীর আবদুল কাদের জিলানি (রহ.) উপদেশের এমন সব মণি-মুক্তা ছড়িয়ে রেখে গেছেন, যার ঔজ্জ্বল্য কোনো দিনই হারাবে না। যেমন:
তিনি বলেন, মুমিনের কাজ তিনটি: আল্লাহর হুকুম পালন করা, তাঁর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং তাঁর ইচ্ছা–সিন্ধুতে নিজেকে বিলীন করে দেওয়া।
প্রথমে ফরজ, পরে সুন্নত ও তারপরে নফল। ফরজ ছেড়ে সুন্নত–নফল নিয়ে মশগুল থাকা আহম্মকি। সুন্নত আদায় বাকি রেখে নফল আদায়ের চেষ্টারও কোনো মূল্য নেই। ফরজ ছেড়ে দিয়ে সুন্নত ও নফল নিয়ে থাকা বাদশাহকে পরিত্যাগ করে গোলামের খিদমতে আত্মনিয়োগের শামিল। শুধু প্রতিমাপূজার নামই শিরক নয়, প্রবৃত্তির দাসত্ব করাও শিরকের শামিল।


শায়খের ইন্তেকাল
হিজরি ৬৬২ সালের ১১ রবিউস সানি তাঁর মাশুকে আলার নিকট গমন করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। তাঁর চার স্ত্রীর গর্ভে ২৭ পুত্র ও ২২ কন্যা জন্মগ্রহণ করেন।
ইসলামের খিদমতের জন্য তিনি যেসব কাজ করেছেন, সারা দুনিয়ার মুসলমানদের জন্য অনাগতকাল ধরে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাঁর ইন্তেকালের দিনকেই ফাতেহা ই ইয়াজ দাহম বলা হয়।
একটা কথা মনে রাখতে হবে, শায়খ জিলানি দুনিয়াতে বৈরাগ্যসাধনের শিক্ষা দেননি। তিনি জগৎকে ব্যবহার ও পরিমাণমতো উপভোগ করতে নিষেধ করেননি। তবে এর উপাসনা ও দাসত্ব এবং আন্তরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা স্থাপন করতে নিষেধ করেছেন। তাঁর উপদেশাবলি ও মূলতত্ত্ব রাসুলের হাদিস দ্বারা প্রমাণ করেছেন। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, অবশ্যই জগৎ তোমাদের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে আর তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে পরকালের জন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রাসুল (সা.)–এর পিতামহের প্রতি ফুফুর শোকগাথা

ষষ্ঠ শতাব্দীর মাঝামাঝি। মানবতা নাজুক পর্যায়ে। মানুষ তার স্রষ্টাকে ভুলে গিয়েছিল। আপনাকে, আপনার ভবিষ্যৎ ও পরিণতি সম্পর্কে বিস্মৃত হয়েছিল। মানুষের দিল-দেমাগ হারিয়ে বসেছিল অতলে। পরকাল নিয়ে ছিল না কোনো চিন্তা। একটি লোকও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না যে এক আল্লাহর ইবাদত করবে। শিরক করবে না। মানবতার জন্য এক দরদি বন্ধুর প্রয়োজন পড়ে ছিল। যিনি ভয়াল পরিণতির জন্য অস্থির হয়ে উঠবেন। আঁধার থেকে নিয়ে আসবেন আলোর পথে। অনিবার্য প্রয়োজন দেখা দিল তখন একজন নবীর। নবী প্রেরিত হলেন ধরাধামে।


বহুকাল আগে মহানবীর পূর্বপুরুষদের শ্রেষ্ঠ সন্তান নবী ইব্রাহিম (আ.) পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে নিয়ে কাবার দেয়াল তুলতে তুলতে প্রার্থনা করেছিলেন তাঁদের বংশে নবী প্রেরণের। সেই নবী বা প্রেরিত পুরুষ যেন সবাইকে পরিশুদ্ধ করতে পারেন এবং দিগভ্রান্ত মানুষকে সুপথে আনেন—তাই ছিল পিতা-পুত্রের আকুতি। এ কথার নজির রয়েছে কালাম শরিফে।


বলা হচ্ছে, ‘স্মরণ করো, যখন ইব্রাহিম ও ইসমাইল কাবাঘরের প্রাচীর তুলেছিল, তখন তারা বলেছিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এই কাজ কবুল করো; নিশ্চয় তুমি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের উভয়কে তোমার একান্ত অনুগত করো এবং আমাদের বংশধর থেকে তোমার এক অনুগত উম্মত করো। আর আমাদের ইবাদতের নিয়ম-পদ্ধতি দেখিয়ে দাও এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হও। তুমি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। হে আমাদের প্রতিপালক! তাদের মধ্য থেকে তাদের নিকট একজন রাসুল পাঠাও, যে তোমার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত (আবৃত্তি) করবে, তাদের কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবে এবং তাদের পবিত্র করবে। তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা বাকারা: ১২৭-২৯)বিজ্ঞাপন

মহানবী (সা.) আরব দুনিয়ায় এলেও অল্প দিনের মধ্যে সব মানবতার করুণাধারা হয়ে উঠেছিলেন। এর স্বীকৃতি পবিত্র কোরআনে আছে, ‘আমি তোমাকে পৃথিবীর রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)


নবীজীবনের নানা অধ্যায় আমাদের সামনে উন্মোচিত হওয়া দরকার। কেননা পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে তুলনাহীন এক পুরুষ তিনি। আঞ্জাম দিয়েছেন নানা কাজের। কখনো ব্যক্তি হিসেবে, কখনো নবী হিসেবে। এ কথা তিনি স্মরণও করিয়ে দিয়েছেন অনুসারীদের। ‘আমি তোমাদের মতো একজন মানুষ, শুধু পার্থক্য আমার ওপর ওহি নাজিল হয়।’ (সুরা হা-মিম সিজদা: ০৬)


নবীর পরিবারে কবিতার চর্চা
আমরা নবীর জীবনের নানা বিষয় জানি ও বুঝি। কবিতা ও সাহিত্যে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কী তাঁর ভূমিকা ছিল, সেটাও একালে অনেকের অজানা নয়। উৎসুক পাঠকমাত্রই সেটার খোঁজ জানেন। সেই জানার মধ্যে উদগ্র বাসনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উদয় হয়েছে—মহানবী (সা.)–এর পরিবারে কি কবিতাচর্চার কোনো রেওয়াজ ছিল?


এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখতে পাই, স্ত্রী হজরত আয়েশা বিনতে আবু বকর (রা.), জামাতা আলী ইবন আবু তালিব (রা.) ও কন্যা ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ (রা.) কবিতাচর্চার দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। এ ছাড়া পেছন ফিরে দেখি, মহানবীর বংশের গোড়ার লোকেরাও কবিতাচর্চায় এগিয়ে ছিলেন। মেয়েদেরও দেখা যাচ্ছে কবিতাচর্চায় পারদর্শী হিসেবে।
এ নিয়ে এখানে বিস্তারিত আলোচনা করার সুযোগ কম। এ প্রবন্ধে আমরা একটি ক্ষুদ্র অংশ তুলে ধরব। মহানবী (সা.)–এর দাদা যখন ইন্তেকাল করেন, তাঁর আগে কন্যাদের জড়ো করে তিনি মার্সিয়া বা শোকগাথা শুনতে চেয়েছিলেন। সেটাই আমরা পাঠকের সঙ্গে ভাগ করতে চাই।

মুত্তালিবকন্যাদের শোকগাথা
আবদুল মুত্তালিব ছিলেন নবীজির দাদা। তাঁর কন্যারা সম্পর্কে নবীজির ফুফু। তাঁরা প্রত্যেকে ছিলেন আরবের প্রতিভাধর নারী।
সিরাত বা মহানবীর জীবনচরিত বিশেষজ্ঞ ইবনে হিশাম তাঁর গ্রন্থে ইবনে ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। ইবনে ইসহাক বলেন, ‘আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মা’বাদ ইবনে আব্বাস তাঁর পরিবারের কারও সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুকালে রাসুল (সা.)-এর বয়স ছিল আট বছর।’


ইবনে ইসহাক বলেন, ‘সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব (র.)-এর পুত্র মুহাম্মদ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে যখন আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যু আসন্ন হলো এবং তিনি বুঝতে পারলেন যে মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে, তখন তাঁর সব কন্যাকে একত্র করলেন। তাঁর সর্বমোট ছয় কন্যা ছিলেন। তাঁদের নাম যথাক্রমে সাফিয়্যা, বাররা, আতিকা, উম্মে হাকিম আল বায়শা, উমায়মা ও আরওয়া। তিনি তাঁদের বললেন, আমার মৃত্যুর পর তোমরা কে কী বলে বিলাপ করবে বলো, আমি মরার আগে সেটা একটু শুনে যেতে চাই।’
ইবনে হিশাম বলেন, ‘আমি কবিতা সম্পর্কে অভিজ্ঞ এমন কোনো কবি দেখিনি, যিনি এসব শোকগাথা সম্পর্কে জানেন। তবে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ ইবনে মুসাইয়াব থেকে কিছু কবিতা বর্ণিত হয়েছে, যা আমরা এখানে উদ্ধৃত করছি।’


সাফিয়্যার শোকগাথা
ছয় কন্যার মধ্যে সাফিয়্যা রচিত শোকগাথাটি এই—
‘কবরের পাশ দিয়ে চলে গেছে যে রাস্তা,
সেখানে ঠায় দাঁড়িয়ে শোকে মুহ্যমান এক নারী;
মহান ব্যক্তির জন্য তার কান্নাধ্বনিতে
ঘুম ভেঙেছে আমার।
তার বিলাপ শুনে চোখের পানি
কপোল ছুঁয়ে গড়িয়ে পড়ছে অবিরল মুক্তার মতো।
এমন বিলাপ মান্যবর এক ব্যক্তির প্রতি
যিনি মিথ্যা দাবি করে হননি অন্য কোনো বংশের লোক।
ছিলেন আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে অতিউত্তম,
শায়বার প্রতি মহাদানশীল, আরও আরও গুণের অধিকারী।
মুত্তালিব যে পিতার সন্তান, সে তো বড় ভালো লোক।
বদান্যতায় কে আছে তাহার সমান।
আমি বিলাপ করছি সেই ব্যক্তির জন্য
সঙ্গীদের পেছনে নয়, থাকতেন সমুখে।
রণাঙ্গনে তুমুল বীরত্বে শত্রুকে করতেন মোকাবিলা।
ছিলেন উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন এবং বংশীয়।
এই শোকগাথা তাঁর জন্য যিনি ছিলেন দানবীর, দরাজহস্ত,
সৌন্দর্য ও বীরত্বে সমাসীন, নিজের গোত্র—
যাকে গ্রাহ্য করেছে প্রশংসার পাত্ররূপে।
শোকতাপ করছি এমন ব্যক্তির, যিনি উঁচু বংশের
সুদর্শন চেহারাঅলা বহুগুণে গুণান্বিত।
ছিলেন মন্বন্তরে আর্তজনের প্রতি মহাদানশীল।
শোক তাঁর প্রতি, যিনি অতিশয় ধৈর্যশীল ও সম্মানিতদের দলে,
মর্যাদা ও বাহাদুরিতে শ্রেষ্ঠ গোত্রসমূহের পৃষ্ঠপোষক।
বিধির বিধান যদি হতো—পুরোনো ইজ্জত
সম্মানের বশবর্তীলোক থাকবেন অমর;
তবে নিশ্চয়ই আপনিই হতেন তা।
কিন্তু তাতো হবার নয় পিতা!’


এভাবে একে একে বাকি ছয় কন্যা শোকগাথা আবৃত্তি করলেন। ইবনে হিশাম ঐতিহাসিক ইবনে ইসহাকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, এরপর আবদুল মুত্তালিবের বাক্‌শক্তি রহিত হয়ে যায় এবং তিনি কন্যাদের মর্সিয়া বা শোকগাথা শুনে মাথা নেড়ে ইশারা করে বলেন, ঠিক আছে, এভাবেই বিলাপ ও শোক প্রকাশ করো।
আবদুল মুত্তালিবের প্রিয় পুত্র ছিলেন আবদুল্লাহ। তাঁরই উরশে আলো করে এসেছিলেন আহমদে মুজতাবা মহানবী মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ (সা.)।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সাহায্য লাভে যেভাবে দোয়া করতে বলেছেন বিশ্বনবি

আল্লাহ তাআলার কাছে ইসমে আজম-এর গুরুত্ব এত বেশি যে, কেউ যদি এ নামে তাকে ডাকে বা তার কাছে কোনো কিছু চায়, আল্লাহ তাআলা সঙ্গে সঙ্গে তাকে তা দিয়ে থাকেন। তার দোয়া কবুল করে থাকেন। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসের বর্ণনায় ইসমে আজমের গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত বুরাইদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে (আবু মুসাকে) এ রূপ বলতে শুনলেন যে-

اَللَّهُمَّ اِنِّىْ أَسْئَلُكَ بِاَنَّكَ اَنْتَ اللهُ لَا اِلَهَ اِلَّا اَنْتَ الْاَحَدُ الصَّمَدُ الَّذِىْ لَمْ يَلِدْ وَ لَمْ يُوْلَدْ وَ لَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً اَحَدٌ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা বিআন্নাকা আংতাল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা আংতাল আহাদুস সামাদুল্লাজি লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ।’

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই এবং জানি যে, তুমিই আল্লাহ; তুমি ব্যতিত কোনো উপাস্য নেই। তুমি এক, অনন্য, মুখাপেক্ষীহীন ও অন্যের নির্ভরস্থল। তুমিই সেই মহান সত্ত্বা যে নাকি কাউকে জন্ম দেননি আর কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। আর তার সমকক্ষ কেউ হতে পারবে না।’

তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, সে আল্লাহ তাআলাকে তাঁর ইসমে আজম বা সর্বাধিক বড় ও সম্মানিত নামের সঙ্গে ডাকল; যা দ্বারা যখন কেউ তাঁর (আল্লাহর) কাছে কিছু প্রার্থনা করে, তিনি তাকে তা দান করেন এবং যা দ্বারা কেউ যখন তাঁকে ডাকে, তিনি তার ডাকে সাড়া দেন। (তিরমিজি, আবু দাউদ, মিশকাত)।

হাদিসের আমল ও নির্দেশনা
এ হাদিসে ইসমে আজমের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, আশ্রয় ও দোয়া করার বিষয়ে আহ্বান করা হয়েছে। আবার দোয়া কবুল হবে এ নিশ্চয়তাও দেয়া হয়েছে। মূল কথা হলো বান্দাকে আল্লাহর কাছে যে কোনো বিষয়ে সাহায্য প্রার্থনায় বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কিছু চায় না; আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হয় না। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, আল্লাহকে তার ইসমে আজমের সঙ্গে ডাকা। তাঁর কাছে চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থনা করা। তাঁর কাছেই সব বিষয়ের সাহায্য চাওয়া বান্দার জন্য সর্বোত্তম এবং কল্যাণের। কারণ তিনিই বান্দার আশা-ভরসার নির্ভরযোগ্য স্থল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে হাদিসে উল্লেখিত দোয়াটির মাধ্যমে নিজেদের চাহিদা পূরণে ডাকার তাওফিক দান করুন। হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে নিজেদের অভাব-অনটন দূর ও দোয়া কবুল করিয়ে নেয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

যেসব অবিশ্বাসে মানুষের ঈমান থাকে না

কোনো ব্যক্তিকে এমন কোনো বিষয়ে সম্বোধন করা ঠিক নয়; যে কাজের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা নেই। যদি তা করা হয় তবে তা অনেক সময় কুফরে পরিণত হয়। কেননা কোনো কিছুকে গোপন করাই হচ্ছে কুফর বা অবিশ্বাস।

তাছাড়া প্রাপ্যক্ষেত্রে শুকরিয়া না করলে কিংবা অকৃতজ্ঞ হওয়া কুফরের অন্তর্ভুক্ত। এ কারণেই ইসলামের বিশ্বাস মর্যাদা শুধু বেশিই নয়, বরং মুক্তির একমাত্র পথও বটে।

ইসলামি শরিয়তে ঈমান বা বিশ্বাস সম্পর্কে বক্তব্য হলো- ‘আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি ওহির মাধ্যমে যেসব বিধি-নিষেধ দিয়েছেন তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও মেনে নেয়ার নামই ঈমান। এ সব বিষয়ের ওপর বিশ্বাসস্থাপন করা ফরজ। এ বিধানের বাইরে কোনো একটি অস্বীকার করাই কুফর বা অবিশ্বাস। যে ব্যক্তি আল্লাহর বিধানের অবাধ্য হয়ে তাকে মিথ্যা বলে জানবে, শরিয়তের আলোকে ওই ব্যক্তিই কাফের বা অবিশ্বাসী।

ইসলামিক স্কলাররা এমন পাঁচটি বিষয়ের ব্যাপারে একমত। যে পাঁচটি বিষয়ে বিশ্বাসস্থাপন না করলে যে কেউ কাফের বা কুফরির সঙ্গে জড়িত। তাহলো-

– আল্লাহ প্রেরিত নবি-রাসুলদের মিথ্যা সাব্যস্ত করা কুফরি।

– আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেয়া হুকুম-আহকাম অহংকার করে অমান্য করার পাশাপাশি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানো।

– নবি-রাসুলদের ব্যাপারে সত্য-মিথ্যা সাক্ষ্য না দিয়ে তাদের উপক্ষো করা এবং তাদের ব্যাপারে অমনোযোগী হওয়াও কুফর।

– আল্লাহ তাআলা প্রেরিত নবি-রাসুলদের ব্যাপারে সন্দেহ, সংশয় পোষণ করাও কুফরি।

– মুখে ঈমানের কথা বলে অন্তরে বা গোপনে তা অস্বীকার করাও কুফরি। 

এ ছাড়া আরও কিছু কাজ ও বিশ্বাস আছে, যা মানুষকে ঈমানহারা করে দেয়। তাহলো-

– আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা।

– বিচার ফয়সালায় আল্লাহর বিধান ও মানুষের মাঝে সমঝোতাকারী হিসেবে কাউকে সাব্যস্ত করা।

– আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা ব্যক্তিকে কাফের বা অবিশ্বাসী মনে না করে সঠিক পথের অনুসারী মনে করাও কুফরি।

– সমস্যা সমাধানে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনার বিপরীতে অন্য কোনো ব্যক্তির সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনাকে উত্তম বলে মনে করাও কুফরি।

– রাসুলু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যে কোনো দিকনির্দেশনাকে ঘৃণা বা অপছন্দ করাও কুফরি।

– কুরআনের আয়াত বা বিধান নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রোপ কিংবা উপহাস করাও কুফরি।

– যে কোনো যাদু-টোনা করা কুফরি। এ কারণে মানুষের শান্তি ও সুসম্পর্ক নষ্ট হয়।

– ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কিত যে কোনো বিষয়ে মুসলমানদের বিপক্ষে মুশরিকদের সহায়তা করাও কুফরি।

– আল্লাহ তাআলা প্রদত্ত কুরআনুল কারিমের বিধানকে অস্বীকার করা বা পিঠ দেখানোও কুফরি।

বিশেষ করে

এমন বিশ্বাস রাখা যে, কিছু কিছু ব্যক্তির জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলের দেয়া জীবন বিধানের বিপরীতে কিছু কিছু বিষয়ে নিজস্ব মতামত বা ইখতিয়ার পোষণ করা। তাও মারাত্মক কুফরি।

সুতরাং মানুষের বিশ্বাস হতে হবে সুস্পষ্ট ও নির্মল। যে বিশ্বাসে থাকবে কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো কাজ। যা মানুষকে ঈমানহারা করে দেয়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ইসলামের সব বিধানের ওপর যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। ঈমানের মতো মহামূল্যবান সম্পদ নিরাপদ রাখতে ইসলামের বিধানের প্রতি যথাযথ বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন। কুফর ও শিরক থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

শেষ জীবন ও আমল ভালো হওয়ার দোয়া

জীবনের শেষ আমল ভালো হোক কে না চায়? সবাই চায় জীবনের শেষ কথা, কাজ এবং মৃত্যুর সময়টি ভালো হোক। এ সৌভাগ্য লাভে জীবনভর আল্লাহর কাছে একটি দোয়া বেশি বেশি করা জরুরি। কেননা শেষ কথা-কাজ যদি ভালো হয় তবে সে ব্যক্তি মহান রবের কাছে সফলকাম হিসেবে উপস্থিত হবে।

এ কারণেই জীবনের শেষ কথা ও আমল এবং মৃত্যুর সময়টি যেন ভালো হয়; সে লক্ষ্যে আল্লাহর সাহায্য লাভে সবসময় মুমিন মুসলমানের এভাবে দোয়া করা জরুরি। তাহলো-

اَللَّهُمَّ اجْعَلْ خَيْرَ عُمُرِىْ اَخِرَهُ وَ خَيْرَ عَمَلِىْ خَوَاتِيْمَهُ وَاخْعَلْ خَيْرَ اَيَّامِىْ يَوْمَ اَلْقَاكَ

উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মাঝআল খাইরা উমুরি আখিরাহু ওয়া খাইরা আমালি খাওয়াতিমাহু ওয়াঝআল খাইরা আইয়্যামি ইয়াওমা আলক্বাকা।’

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আমার জীবনের শেষ অংশই যেন সর্বোত্তম হয়। আমার শেষ আমলই যেন সর্বোত্তম হয় এবং তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের দিনই যেন আমার সর্বোত্তম দিন হয়।’

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শেষ জীবনের সব কল্যাণ লাভে বেশি বেশি সাহায্য প্রার্থনার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com