আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ফুল

উপকারী ফুল নয়নতারা

বসন্তের উপকারী ফুল নয়নতারা
বসন্তের উপকারী ফুল নয়নতারা

নয়নতারা একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। পাঁচ পাপড়িযুক্ত ফুলের জন্য এগাছ খুব পরিচিত। এ গাছ আকারে ২-৩ ফুট। কাণ্ড কোণাচে বেগুনি, পাতা আয়তাকার, গোড়ার দিকটি ডিম্বাকার। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মঞ্জুর মোর্শেদ রুমন-

এ গাছে প্রায় সারা বছরই ফুল ফোটে। ফুল সাদা বা গোলাপি রঙের। পুরো ফুল একরঙা হলেও ফুলের মধ্যবিন্দুটি অন্য রঙেরও হয়। ফুলটি গন্ধহীন। ফুলের মাপ ৩-৩.৫ সেন্টিমিটার চওড়া, দলনল সরু, ২.৫ সেন্টিমিটার লম্বা, ৫ পাপড়ির মাঝখানে রয়েছে গাঢ় রঙের একটি ফোঁটা।

এর আদি নিবাস মাদাগাস্কার তবে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও আফ্রিকাসহ কয়েকটি দেশে দেখা যায়। এটি বহু বর্ষজীবী হলেও পুরনো হয়ে গেলে শক্তি কমে যায়, ফুলও কম ধরে। এ গাছে সারা বছরই ফুল ফোটে এবং ফল ধরে। ফল, যা আকৃতিতে সরিষার দানার চেয়ে সামান্য বড়।

বসন্তের উপকারী ফুল নয়নতারা
বসন্তের উপকারী ফুল নয়নতারা

এই ফলের বীজ অথবা গাছের কলম এ দুই উপায়েই গাছ বিস্তার লাভ করে। গাছ লাগানোর পর মাঝে মাঝে খুব লম্বা ডালগুলো খানিকটা ছেঁটে দিতে হয়, নয়তো কাণ্ড কাষ্ঠল হয়ে ফুলও কমে যেতে পারে। নয়নতারার দুটি বৈজ্ঞানিক নাম আছে। তা হলো ‘ভিনকা রোসিয়া’ এবং ‘ক্যাথারানথাস রোসিয়া’।

নয়নতারার ভেষজ গুণ সর্বজনস্বীকৃত। সম্পূর্ণ তিতা স্বাদের গাছটির রস ডায়াবেটিস ও কৃমির প্রকোপ কমাতে ব্যবহার হয়। গাছের ডাল, কাণ্ড সেদ্ধ করে তৈরি হয় ক্বাথ, যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রক। বোলতা, মৌমাছি প্রভৃতির হুলের জ্বালায় বা কীট দংশনে দ্রুত উপশম পেতে নয়নতারা ফুল বা পাতার রস ব্যবহারের প্রচলন আছে।

তাছাড়া মেধা বাড়াতে, লিউকোমিয়া, সন্ধিবাতসহ নানা রোগে এর ব্যবহার রয়েছে।

ফুল

ফুলচাষে আলো দেখাচ্ছে ‘ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি’

ফুলচাষে আলো দেখাচ্ছে ‘ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি’

ফুলচাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে ‘ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি’। স্বল্প খরচে মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে যশোরের ঝিকরগাছায় কৃষকের আস্থা অর্জন করছে এ পদ্ধতি। এ পদ্ধতির ‘ডাগওয়েল (পাতকুয়া) ও পলিহাউজ’ নির্মাণে সহযোগিতা পেলে অধিকাংশ কৃষকই প্রবেশ করবেন ‘চাষের নতুন দুনিয়ায়’।

কৃষকরা জানান, সৌরচালিত পাম্পের সাহায্যে ডাগওয়েল (পাতকুয়া) থেকে পানি তোলা হয়। প্লাস্টিকের পাইপের মাধ্যমে সেই পানি নেয়া হয় ট্যাঙ্কে। সেখান থেকে সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে পানি চলে যায় ফুলখেতে। পলি হাউজে (বিশেষভাবে নির্মিত শেড) নিয়ন্ত্রিত পানি সরবরাহের কারণে অপচয়ও হয় না। পাইপে পানির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয় পরিমাণ মতো রাসায়নিক সার। ফুল গাছের গোড়ায় ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ে সেই সারমিশ্রিত পানি। পলি হাউজে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় কীটনাশকের ব্যবহারও তেমন লাগে না। ‘ড্রিপ ইরিগেশন’ নামের এ পদ্ধতি ঝিকরগাছার গদখালী এলাকায় বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) যশোরের সেচ বিভাগ। সুবিধা বিবেচনায় দিন দিন তা জনপ্রিয় হচ্ছে কৃষকদের মাঝে।

বিএডিসি যশোর অফিস সূত্র জানায়, তিন বছর মেয়াদি ‘যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় ফুল ও সবজি উৎপাদন সম্প্রসারণে ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতি’ প্রকল্প শুরু হয় ২০১৭ সালের জুনে। বিএডিসি যশোরের সেচ বিভাগের বাস্তবায়নে খনন করা হয় সৌরচালিত ডাগওয়েল (পাতকুয়া), নির্মাণ করা হয় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণাগার ও পলিহাউজ। ১৪০ ফুট গভীর এ ডাগওয়েল (পাতকুয়া) নির্মাণ করা হয় ১৫টি। ১০১০ বর্গমিটার দৈর্ঘে্যর লোহার কাঠামোর ওপর সাদা পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয় পলি হাউজ। পলি হাউজ নির্মিত হয়েছে সাতটি।

সরেজমিনে ঝিকরগাছার গদখালী এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক বিঘা জমির ওপর লোহার কাঠামোয় সাদা পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে পলি হাউজ। পাশেই বৃষ্টির পানি ধরে রাখার সংরক্ষণাগার। একটু দূরে পাতকুয়া। পাতকুয়ায় রয়েছে পাম্প, উপরে সোলার প্যানেল। ১০ মিনিট পাম্প চালালে ট্যাঙ্কটি পরিপূর্ণ হয়ে যায়। সেখান থেকে সরবরাহ পাইপলাইনে পানি যাচ্ছে পলি হাউজ এবং আশপাশের সবজি ও ফুলখেতে। পলি হাউজের পাইপলাইনে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে রাসায়নিক সার।

সার মিশ্রিত পানি ফোঁটায় ফোঁটায় পড়ছে গাছের গোড়ায়। পলি হাউজের উপরে পলিথিন উঠানো নামানো করে নিয়ন্ত্রণ করা হয় তাপমাত্রা। গ্রীষ্মে উপরে পানির স্প্রে করেও তাপমাত্রা কমিয়ে আনা হয়।

ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী গ্রামের কৃষক মঞ্জুর আলম বিএডিসির ডাগওয়েল ও শেড (পলি হাউজ) দুটোই গ্রহণ করেন। তিনি জানান, এ শেডে ফুল ও সবজি দুটোই চাষ হচ্ছে। এখন চাষ করছেন ক্যাপসিকাম। পলি হাউজের চাষে বহুবিধ সুবিধা। একেবারে গাছের গোড়ায় সারমিশ্রিত পানি সরবরাহ করায় পানি ও সারের অপচয় একদমই হয় না। খরচ বেচে যায়। আগাছাও তেমন জন্মায় না। ফলে বাড়তি শ্রমিকেরও প্রয়োজন হয় না। শেডের মধ্যে পোকামাকড় প্রবেশের সুযোগ না থাকায় কীটনাশকও ব্যবহার করতে হয় না। ফলে সাশ্রয়ী উৎপাদন ব্যয়ে মানসম্মত বিষমুক্ত সবজি ও ফুল উৎপাদন সম্ভব হয়।

jagonews24

তিনি আরও জানান, এ সেচের আওতায় (ডাগওয়েল ও পলি হাউজ) আসতে তাদের ১২ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে এগুলো নির্মাণ করতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন। কোনো কৃষকের পক্ষে এ ব্যয় অসম্ভব। এজন্য সরকারের সহযোগিতা চান তিনি। পাশাপাশি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় বিএডিসিকে ধন্যবাদ জানান।

একই এলাকার কৃষক ইসরাফিল হোসেন জানান, ডাগওয়েল বা পাতকুয়া থেকে সৌরচালিত পাম্পের মাধ্যমে পানি তোলা হয়। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি উপরে থাকা চোঙার মাধ্যমে কুয়ায় নেমে আসে। সেখান থেকে পাইপের মাধ্যমে পানি যায় সোজা শেডের ফুল ও সবজি গাছের গোড়ায়। আশপাশের কৃষকরাও তাদের খেতে এ সেচ সুবিধা গ্রহণ করছেন। পানি সেচ দিতে বিদ্যুৎ বা ডিজেলের প্রয়োজন হয় না।

পানিসারা গ্রামের কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘পলি হাউজের উপরের দিকে রয়েছে ফগার মেশিন। সেখান থেকে কুয়াশার মতো করে পানি বের হয়। পলি হাউজের পলিথিন ওঠানামা করিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে এখানে অনায়াসেই গ্রীষ্মকালে শীতকালীন সবজি-ফুল চাষাবাদ করছেন। দিন দিন আবহাওয়া-তাপমাত্রা যেভাবে বিরূপ আচরণ করছে, তাতে ভবিষ্যতে এ শেড ছাড়া মানসম্মত চাষাবাদ দুরূহ হয়ে পড়বে।

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যক্তি পর্যায়ে ডাগওয়েল বা পলি হাউজ নির্মাণ করা কঠিন। এ জন্য কৃষকদের প্রণোদনা বা নামমাত্র সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করা দরকার। সেটি সম্ভব হলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকই এটি গ্রহণ করে উন্নতমানের চাষাবাদে যুক্ত হবেন।

jagonews24

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, ঢালাও সেচে পানির অনেক অপচয় হয়। এ পদ্ধতিতে সার-পানির পরিমিত ব্যবহার করা যায়। তাপমাত্রা পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হওয়ায় ফুল ও সবজি চাষে খরচ ও ঝুঁকিও অনেক কমে যায়। ফলে কৃষকের মাঝে এটি সাড়া ফেলেছে। অন্যান্য কৃষকরা আগ্রহী হলেও পলি হাউজ, পাতকুয়া নির্মাণ ব্যয় নিয়ে তারা চিন্তিত। এজন্য সরকারি প্রণোদনা বা সহযোগিতা প্রয়োজন। সেটি হলে গোটা অঞ্চলই ড্রিপ ইরিগেশন পদ্ধতিতে চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), যশোরের সেচ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. মাহাবুব আলম জানান, তিন বছরের এ কর্মসূচিতে সাতটি পলি হাউজ ও ১৫টি সোলার ডাগওয়েল নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুই শতাধিক কৃষক সুফল পাচ্ছেন। এখানে ব্যবহার হচ্ছে সৌরশক্তি। পলি হাউজে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও পানি সরবরাহের কারণে অপচয়ও হয় না। বরং ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পানি সাশ্রয় হয়। পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকায় কীটনাশকের ব্যবহারও তেমন লাগে না। সবমিলে এখানে ফুল-সবজি উৎপাদন খরচ কম এবং ফলন অনেক বেশি হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

দখলমুক্ত ফুটপাতে হলো দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান

দখলমুক্ত ফুটপাতে হলো দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান

কুমিল্লা টাউন হলের সামনের সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করতেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকাররা। বিভিন্ন সময়ে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও রাজনৈতিক নেতাদের মদদে আবারও দখল হতো ফুটপাতে। এতে করে পথচারীদের পথ চলতে বেগ পেতে হয়।

এ অবস্থায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সম্প্রতি ওই জায়গা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় ওই স্থানে থাকা লোহার গ্রিলে প্লাস্টিকের টবে ৫০০ ফুলের গাছ স্থাপন করা হয়। এতে পুরো এলাকা দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগানে পরিণত হয়েছে।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, ভলান্টিয়ার্স ফর বাংলাদেশ (ভিবিডি) ও গার্ডেন লাভার্স বাংলাদেশের কর্মীদের সহযোগিতায় ওই ফুলের বাগান করা হয়।

রঙিন প্লাস্টিকের বোতলে মাটি ভরে তৈরি করা হচ্ছে টব
রঙিন প্লাস্টিকের বোতলে মাটি ভরে তৈরি করা হচ্ছে টব

কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদ বলেন, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করার নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে কুমিল্লা টাউন হল মাঠের দক্ষিণ পাশে লোহার গ্রিলসংলগ্ন চায়ের দোকান, ফুচকার দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে ফুটপাত থেকে খুদে কাপড়ের ব্যবসায়ীদের সরানো হয়। বিজ্ঞাপন

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় টাউন হল মাঠের পূর্ব-পশ্চিমের লোহার গ্রিলের মধ্যে প্লাস্টিক বোতলকে পুনর্ব্যবহার করে ৫০০টি ফুল ও পাতাবাহারগাছ লাগিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিটি বোতলে রং করা হয়। এগুলো লাগানোর পর টাউন হল এলাকার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর হয়েছে। এতে অন্তত ৫০ জন কর্মী কাজ করেন।

লোহার গ্রিলে ফুলগাছের টব ঝোলানোর কাজে ব্যস্ত বৃক্ষপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা
লোহার গ্রিলে ফুলগাছের টব ঝোলানোর কাজে ব্যস্ত বৃক্ষপ্রেমী সংগঠনের সদস্যরা

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, কুমিল্লা নগরীকে দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে এবং ফুটপাত উচ্ছেদ করতে মেয়রকে বেশ কয়েকবার অনুরোধ করা হয়েছিল। অবশেষে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। টাউন হল এলাকায় ফুলের গাছ স্থাপন করায় দৃষ্টিনন্দন হয়েছে।

মেয়র মো. মনিরুল হক বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। গত কয়েক দিনে প্রশাসন ফুটপাত থেকে হকারদের তুলতে পারছে। এটা নগরের সৌন্দর্য বাড়াবে।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

নানা রঙে উদ্ভাসিত প্রকৃতি

‘বরষের পরে এলো হরষের যামিনী/ আবার মিলিল যত কুসুমের কামিনী…’
করোনাকালে বিশ্বময় বিষাদের মধ্যেও প্রকৃতি বিষণ্ন নয়; বরং এই শীতে ঠিকই ফুটেছে ফুল। তাতে পরশ বুলিয়ে যাচ্ছে শীতের মৃদু বাতাস। কৃষকের পরম পরিচর্যায় এসব ফুল মেলে ধরছে পাপড়ি। নানা রঙে উদ্ভাসিত হয়ে উঠছে প্রকৃতি।
ফুলে ফুলে ভরা প্রকৃতির ছবিগুলো সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সাবদি এলাকা থেকে তুলেছেন শুভ্র কান্তি দাশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

লাল শাপলার রাজ্য

ইতিহাস, ঐতিহ্য আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা। জৈন্তাপুরের ‘ডিবির হাওর’ এখন পর্যটনকেন্দ্র। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে ডিবির হাওরের অবস্থান। জৈন্তারাজ্যের রাজা রাম সিংহের স্মৃতিবিজড়িত ডিবির হাওর, ইয়াম, হরফকাটা ও কেন্দ্রী বিলসহ রয়েছে চারটি বিল। বিলগুলোকে কেন্দ্র করেই নাম করা হয়েছে ডিবির হাওর। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এখন ‘শাপলার রাজ্য’ নামে পরিচিত এই ডিবির হাওর। বিলে ফুটে থাকে অজস্র লাল শাপলা। সিলেট শহর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে এই এই শাপলার রাজ্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ফুল

করোনা ভাইরাস: জো বাইডেন আমেরিকার ক্ষমতা গ্রহণের একশো দিনের মধ্যে একশো মিলিয়ন টিকার প্রতিশ্রুতি দিলেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট জো বাইডেন বলেছেন, দায়িত্ব নেয়ার ১০০ দিনের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দেয়ার লক্ষ্য পূরণ করবেন তিনি।

তিনি বলেন, তার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম মাসগুলোতে হয়তো মহামারি শেষ হয়ে যাবে না, কিছু কৌশলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণের গতিপথ পরিবর্তন করে দেবেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিষয়ক দলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ২০ জানুয়ারি শপথ নেয়ারপর পুরো আমেরিকা যেন “১০০ দিনের জন্য মাস্কে মোড়া থাকবে।”

মঙ্গলবারের একটি রিপোর্টের পর ফাইজার/বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন অনুমোদন এবং আমেরিকানদের জন্য সরবরাহের পথ সূচিত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর মধ্যে হোয়াইট হাউসে কোভিড ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচী, যেটি অপারেশন ওয়ার্প স্পিড নামে পরিচিত সেটির সদস্যদের সাথে বৈঠক করেছেন এবং ভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত ১৫ লাখের বেশি মানুষের মধ্যে কোভিডের সংক্রমণ পাওয়া গেছে এবং ২ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ মারা গেছে। দুই ক্ষেত্রে যা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি।

দেশটির অনেক এলাকাই এখন সংক্রমণের সর্বোচ্চ চূড়ায় আছে, অনেক মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, বিশেষজ্ঞরা অবশ্যই থ্যাঙ্কস গিভিং ডে উপলক্ষে লাখ লাখ মানুষের ভ্রমণকেই এর জন্য দায়ী করছেন।

বাইডেন কী বলেছেন?

প্রেসিডেন্ট-ইলেক্ট ডেলাওয়ারে একটি সংবাদ সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন যেখানে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল জেভিয়ার বেসেরাকে তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে এবং রোশেল ওয়ালেনস্কিকে জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে মনোনয়ন দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকাতেই সংক্রমণের পিক চলছে

মি. বাইডেন বলেন, “আমার প্রথম ১০০ দিনে কোভিড-১৯ ভাইরাস শেষ হয়ে যাবে না। সেটা আমি ওয়াদা করতে পারবো না। আমরা হঠাৎ করেই এই বিপদে জড়াইনি আর তাই হঠাৎ করেই উঠেও আসা যাবে না।”

তিনি বলেন, প্রথম ১০০ দিনে আমরা রোগের গতিপথ বদলে দিতে পারি এবং আরো ভাল কিছুর জন্য আমেরিকার জীবন পাল্টে দিতে পারি।

তিনি সতর্ক করে বলেন যে,কংগ্রেস যদি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সমাপ্তি টেনে জরুরি ভিত্তিতে তহবিলের ব্যবস্থা না করে তাহলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের সব প্রচেষ্টা “মন্থর আর আটকে” যেতে পারে।

তিনি বলেন, শিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে নেয়াটাও অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ এই ভ্যাকসিন কর্মসূচী কেমন হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত তেমন কিছু জানাননি মি. বাইডেন।

গত সপ্তাহে তিনি অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতা ছাড়ার বিষয়ে তার কাছে কোন পরিকল্পনা তুলে ধরেননি ট্রাম্প প্রশাসন। অপারেশন ওয়ার্প স্পিড নামে ভ্যাকসিন কর্মসূচীর প্রধান বিজ্ঞানী মনসেফ স্লাউই এখনও বাইডেন টিমের সাথে দেখা করেননি। তবে এ সপ্তাহে সাক্ষাৎ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মি. বাইডেনের অন্যান্য উপদেষ্টাদের মধ্যে ডা. অ্যান্থনি ফাউচি হচ্ছে প্রধান কোভিড মেডিকেল উপদেষ্টা।

হোয়াইট হাউসে কী ঘটেছে?

আমেরিকার জনগণের জন্য ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করার কারণে অপারেশন ওয়ার্প স্পিডের একটি উদযাপন অনুষ্ঠান ছিল এটি। যদি এই কর্মসূচীর মূল কাজ চলবে জো বাইডেনের শাসনামলে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

টিকার অনুমোদন সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন: “তারা বলছে যে এটা অলৌকিক ঘটনা আর আমারও সেটাই মনে হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “প্রতিটি আমেরিকান ভ্যাকসিন পেতে চায় এবং আমরা মনে করি বসন্ত নাগাদ আমরা এমন একটি অবস্থানে থাকবো যেটা হয়তো কিছুদিন আগ পর্যন্ত কেউ বিশ্বাসও করতে পারেনি।”

জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত ২৪ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার যাবে বলে আশা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এরইমধ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশেও সই করেছেন যা আমেরিকানরাই যাতে প্রথমে ভ্যাকসিন পায় সেটা নিশ্চিত করবে। একে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুযায়ী পদক্ষেপ বলে দেখা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ১০০ মিলিয়ন ডোজ টিকা কিনতে ফাইজার/বায়োএনটেকের সাথে চুক্তি করেছে মি. ট্রাম্পের প্রশাসন। কিন্তু ফাইজার বোর্ডের এক সদস্য বলেছেন এর চেয়ে বেশি ভ্যাকসিন কেনার প্রস্তাব কয়েকবার নাকচ করে দেয়া হয়েছে এবং জুনের আগ পর্যন্ত ১০০ মিলিয়নের বেশি ডোজও সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য প্রথম দেশ হিসেবে টিকাদান কর্মসূচী শুরু করে।

ভ্যাকসিন নিয়ে কোন অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র?

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকরা স্বীকৃতি দিয়েছেন যে, ফাইজার/বায়োএনটেকের ভ্যাকসিন ৯৫% পর্যন্ত কার্যকর। তার মানে এটি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা যাবে।

দেশটির খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন ভ্যাকসিনটির অনুমোদন রুখে দেয়ার মতো কোন স্বাস্থ্য-ঝুঁকি পায়নি এবং এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

যদিও পূর্ণ সুরক্ষা পেতে দুটি ডোজ দরকার হবে তবুও একটি ডোজ নিলেও ঝুঁকির ক্ষেত্রে অন্তত ৮৯% সুরক্ষা পাওয়া যাবে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হিসেবে লাল দানা বা র‍্যাশ, ইনজেকশন দেয়ার জায়গায় জ্বালাপোড়া, সাময়িক ক্লান্তি, মাথা ব্যথা, এবং পেশী ব্যথা হতে পারে। তবে এগুলো গুরুতর নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি ফার্ম মডার্নাও বলেছে যে তাদের ভ্যাকসিনও একই রকম সুরক্ষা দেবে এবং বড়দিনের আগেই এফডিএ এর অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com