আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

উন্নয়ন সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন (শেষ পর্ব)

কৃষির বাজারজাতকরণ

এরপর চিন্তা করলাম কৃষকের পণ্যের বাজারজাতকরণ নিয়ে। শুরু করলাম পলিসি লেভেলের কাজ। উৎপাদন তো সে করলো। তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পেলো কি না, উৎপাদিত পণ্য নিয়ে সে মার্কেট প্লেস পেল কি না, এটা হলো মাটি ও মানুষের নেক্সট জেনারেশন।

দেখলাম কৃষক তার উৎপাদিত ফসল ধরা যাক বাঁধাকপি বিক্রি করছে ৩ টাকায়। আর সর্বশেষ ক্রেতার কাছে এসে তা দাঁড়ায় ৩২ টাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কৃষক ও সর্বশেষ ক্রেতা। আর মাঝখান দিয়ে বিশাল একটা অঙ্ক চলে যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে। এটাই হচ্ছে ব্ল্যাকমানি। মধ্যস্বত্বভোগী একটা সিস্টেম। কৃষক নিজেও অনেক সময় মধ্যস্বত্বভোগী। এটাকে কমিয়ে আনা সম্ভব।

আমি খেয়াল করলাম নরসিংদীর একটি জমিতে কৃষক একটি বাঁধাকপি উৎপাদন করে পাইকারের কাছে বিক্রি করলো, বেলাবো বাজারে এসে তা হলো ১০ টাকা। এভাবে বিভিন্ন হাতবদল হতে হতে ঢাকার শান্তিনগরে এসে সেই বাঁধাকপির দাম হলো ৩২ টাকা। এই কথাগুলো শুরু করেছিলাম ২০০৪ সালে ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর প্রথম অনুষ্ঠানে। বিষয় ছিল কৃষকের পণ্যের মূল্য। এর আগে কোনোদিন কৃষকের পণ্য নিয়ে কথা বলা শুরু হয়নি। ঐ থেকে মিডিয়া এ বিষয়ে কনসার্ন হলো। আর এগুলো প্রচার করা শুরু করলো।

বাংলাদেশ শুরুতে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল না। সেখানে বাংলাদেশ এখন চাল রপ্তানি করছে। নগরায়ণ হলেও সব মানুষ এখনও নগরের বাসিন্দা হয়ে ওঠেনি। বেশিরভাগ মানুষ এখনও গ্রামে বাস করে। এমনকি পুরো পৃথিবীটা এখনও গ্রামপ্রধান। 

শহরে আমরা যারা আছি তারা আনন্দ করছি, ভালো খাচ্ছি কিংবা থাকছি। এটা আসলে উন্নয়নের আংশিক চিত্র বা ভঙ্গুর চিত্র। এটা কখনোই টেকসই উন্নয়ন নয়। কতদিন দাতাগোষ্ঠীর অর্থ দিয়ে চলবে। ওই কালো টাকা কিংবা মধ্যস্বত্বভোগীর কাছে থাকা টাকা চলে যাচ্ছে সমাজের এমন এক শ্রেণির কাছে যারা কখনোই সমাজের উন্নয়নে কোনো অবদান রাখে না। এই টাকাগুলো চলে যাচ্ছে বিদেশে। এই জায়গায় দরকার ডিস্ট্রিবিউশন অব ইকুয়ালিটি। এগুলোই হলো মিডিয়ার উন্নয়ন সাংবাদিকতার ক্ষেত্র। 

এখনও বাংলাদেশের এগারো কোটি মানুষ গ্রামে বাস করে। কিন্তু যতটুকু তাদের ভালো থাকার কথা ততটুকু ভালো সে নাই। সে জানে না এত কষ্ট করে ফসল ফলানোর পরও ন্যায্যমূল্য তার ঘরে আসবে কি না। তার অনেক দ্রব্যেরই ক্রয়ক্ষমতা নেই অথচ সে উৎপাদক। আজকে যদি তার কেনার ক্ষমতা থাকতো তাহলে তার কথা চিন্তা করে বেশ কিছু শিল্প কারখানা তৈরি করা যেত। আমার তো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কথা চিন্তা করে সবকিছু বাইরে থেকে ইমপোর্ট করার দরকার নেই। আমাদের ডিস্ট্রিবিউশনে ইকুয়ালিটি নেই দেখেই এই অবস্থা। 

পাশাপাশি কৃষকের পণ্যে নেই কোনো ভ্যালু এডিশন। টমেটো বেশি উৎপাদন হয় কিংবা তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। ৩০ টাকা দামের এক কেজি টমেটোতে বড়জোড় সালাদ বা তরকারি হচ্ছে। কিন্তু টমেটো যখন ফ্যাক্টরিতে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে এবং সেটা বোতল হয়ে বেরিয়ে আসছে তখন এর দাম হচ্ছে ২৩০ টাকা। এভাবে বেশিরভাগ পণ্যের ভ্যালু এডিশন হয় নাই। যদি তাই হতো, তবে কৃষক এ থেকে বেশ কিছু টাকা পয়সা পেতো। 

কৃষক একদিকে মূল্য পাচ্ছে না অন্যদিকে মুক্ত বাজার অর্থনীতির জন্য বাইরে থেকে অনেক কিছুই আমদানি করতে হচ্ছে। তাহলে সরকারের দায়িত্ব কী? আমদানি বন্ধ করতে না পারলেও নিরুৎসাহিত করতে পারে। যেসময় কৃষকের ফসল বাজারে উঠে ওইসময় উচ্চহারে কর আরোপ করে ইমপোর্টারকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। এভাবে ১১ কোটি মানুষের কাছে যদি ন্যায্য পাওনা যেত তাহলে বাংলাদেশের চেহারা আজ কী হতো? ওটা হতো টেকসই অর্থনীতি।

উন্নয়ন সাংবাদিকতা অনেকটা ইন-ডেপথ বিষয়, এখানে কাজ করার অনেক জায়গা রয়েছে! বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে তিনটি অর্থনৈতিক স্তম্ভের উপর- গার্মেন্টস, রেমিটেন্স ও কৃষি। এর মধ্যে সবচেয়ে টেকসই উন্নয়ন করা সম্ভব কৃষিতে। কিন্তু এই কৃষি বা কৃষককে আমরা কতটুকু মূল্যায়ন করছি? গার্মেন্টস যার মাধ্যমে বাংলাদেশের ৫০ লাখ লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে, কিছু রেমিটেন্স দেয়া ছাড়া বেশিরভাগ অর্থই যাচ্ছে এর মালিকের কাছে। এই গার্মেন্টসের বেশিরভাগ শ্রমিকরাই হলো দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান। বিদেশ থেকে যারা রেমিটেন্স পাঠায় তাদেরও মোটামুটি ৯০ ভাগই হলো গ্রামের সন্তান। তাদের টাকাটাই কৃষির সাথে সম্পর্কিত। ৫০ লাখ গার্মেন্টস শ্রমিকের টাকাও এসে জুড়ে যাচ্ছে এই কৃষিতে। রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে ব্যবসায়ীদের কৃষিতে বিনিয়োগ করানোর জন্য। বিনিয়োগ করলে বাংলাদেশের চেহারাটা কেমন হতো তা বোঝা যায় নাটোরে প্রাণের বিনিয়োগের কথা চিন্তা করলে। ডাল আর মটর দানার চাষ করার মাধ্যমে তারা তাদের ভাগ্যের উন্নতি করেছে। আমের ক্ষেত্রেও তাই। গাছ থেকে পড়ে যে আম নষ্ট হচ্ছে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে তৈরি করেছে বিশাল জুসের ফ্যাক্টরি। এরকম কত ধরনের ফসল হচ্ছে, যেগুলোতে ভ্যালু এডিশন করলে অনেক বেশি লাভ হতো কৃষকদের। 

জলবায়ু পরিবর্তন এর সাথে আগামীর স্বাস্থ্য, কৃষি কিভাবে পরিবর্তন হবে এটাও দেখা উচিত আগামী দিনের উন্নয়ন সাংবাদিকদের। শুধুমাত্র ক্রাইম বিট বা পলিটিক্যাল বিট করাই সাংবাদিকতা নয়। 

বৈশ্বিক গণমাধ্যমের কথা চিন্তা করলে দেখা যায় গণমাধ্যম যদি একটু একটু করে সমাজে অবদান রাখতো তাহলে এই পৃথিবীর মানুষ আরো উন্নত হতো। আর গণমাধ্যম সবচেয়ে বড় অন্যায় করছে কৃষিকে অবহেলা করে। দুর্যোগের আগে কৃষি সম্পর্কে গণমাধ্যম সচেতন হয় না। এ কারণে গণমাধ্যমকে অনেক চিন্তাশীল জায়গা থেকে কাজ করা দরকার। বিশেষ করে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের ক্ষেত্রে। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, প্রকৃতি এগুলোর দিকে চোখ রাখা উচিত। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের তরুণ সাংবাদিকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। 

কৃষক শুধুমাত্র খাদ্য উৎপাদনের যন্ত্র নয়, তারাও রক্তমাংসের মানুষ। তাদেরও আনন্দ বিনোদনের প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ধাপে ধাপে তৈরি করেছি কৃষকের ঈদ আনন্দ। ২৫-২৬ টি টেলিভিশন জুড়ে ঈদের সময় যতগুলো অনুষ্ঠান হয় সবগুলোই নগরপ্রধান। গ্রামপ্রধান বাংলাদেশে কোনো অনুষ্ঠানই কৃষকদের নিয়ে হয় না। আমরা এই ধরনের প্রোগ্রামগুলো করি কৃষকের ক্ষমতায়নের জন্য। তারা নিজেদের যেন ছোট না ভাবে। এমনকি আয়োজন করি কৃষকের ফুটবল কিংবা ক্রিকেট বিশ্বকাপ। 

বেশি ফসল ফলাতে ফলাতে মাটি যেমন জরাজীর্ণ হয়ে যায়, তেমনি কৃষকও অনেক কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে। কৃষক এরকম নানা ধরনের অকুপেশনাল হ্যাজার্ডসের মধ্যে পড়ছে। বাংলাদেশের কৃষকরা গামবুট, গ্লাভস কিংবা মাস্ক ব্যবহার করে না। অন্যান্য উপকরণের মতো এই তিনটি জিনিস প্রতিটি কৃষকের ঘরে অবশ্যই রাখা উচিত। কারণ সে যে মাটিতে খালি পায়ে হাঁটছে সেখানে হয়তো একটু আগে সার বা কীটনাশক ছিটানো হয়েছে। হয়তো আগের দিনই তার পা কাটা গেছে কোনো কাজ করতে গিয়ে। এখন সার মেশানো পানি তার শরীরে ঢুকে পরে তার গ্যাংগ্রিন হতে পারে। সার কোম্পানিগুলোও পারতো কৃষকদের একটা করে মাস্ক দিতে। এগুলো করতে পারতো যদি মিডিয়াগুলো সচেতন হতো। বার বার হাত দিয়ে চারা বুনতে বুনতে কৃষকের হাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যও আমি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছি। 

আমাদের ডাক্তারদের গ্রামে পাঠাতে হবে। তারা কৃষকদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে পারবেন। কী কী অকুপেশনাল ও সিজনাল হ্যাজার্ড সম্পর্কে সচেতন করতে পারি, সেটা ভাবা দরকার। তথ্য দিয়ে তাদের সচেতন করতে হবে। পড়াশোনা করে গ্রামে ফিরে গেলে গ্রামের মানুষের সাথে বন্ধন তৈরি হবে। এই বন্ধন এমন অটুট হয়, যে দুই বছর পর যখন গ্রাম থেকে সে ফিরে আসে, তখন সারা গ্রামের মানুষ ডাক্তারের জন্য কাঁদবে। এগুলো নিয়ে আমাদের উন্নয়ন সাংবাদিকদের কাজ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতিতে বাজেট খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কিন্তু দেশের ১১ কোটি মানুষের মতামত না নিয়ে নীতি নির্ধারকরা বাজেট তৈরি করে। কৃষকদের কী দরকার এসম্পর্কে তারা জানেই না। তাদের কি প্রয়োজন না জেনেই একটা বাজেট দিয়ে দিলে তো সেটা ফলপ্রসূ হবে না। আগে তার কী দরকার, এটা জানার জন্য শুরু করলাম ‘কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট’। এগুলো হলো পুরো একটা প্রসেস।

নগর আর গ্রামের মানুষের বৈষম্য দিন দিন বাড়ছে। উৎপাদক উৎপাদন করেও দুবেলা খাবার পায় না, নগরের মানুষ কোনো অবদান না রেখেই খাবার খাচ্ছে। আজকের এই কর্পোরেট প্রজন্ম, যারা জানে না গ্রাম কী, কীভাবে খাবার আসে- তাদের অংশগ্রহণে শিকড়ের কাছে দিতে চেষ্টা করলাম ‘ফিরে চল মাটির টানে’ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। বাচ্চাদের জন্য রয়েছে ‘ফিরে চল মাটির টানে, জুনিয়র’। সেখানে কৃষকরা কিভাবে টাকা আয় করে, সেই জীবনধারাকে শহরের সাথে রিলেট করতে এই আয়োজন। এভাবে দূরত্ব কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেখানে হয়তো যাচ্ছে তিন-চার জন ছেলে-মেয়ে, কিন্তু দেখছে হাজার হাজার মানুষ। মনের দিক থেকে সেখানে রয়েছে লাখ লাখ মানুষ। এগুলোই হলো উন্নয়ন সাংবাদিকতার বিভিন্ন ক্ষেত্র।

পরিবেশ

মাছের খামারে দুর্বৃত্তদের বিষ, মরলো দেড়শ মণ মাছ

গাজীপুরের কালীগঞ্জে মাছের খামারে দুর্বৃত্তদের বিষ প্রয়োগে খামারটির প্রায় দেড়শ মণ মাছ মরে গেছে। উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ভাসানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শনিবার সকালে স্থানীয় ওই মাছের খামারের মালিক ও ঢাকা জজ কোর্টের শিক্ষানবিশ আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান। এর আগে তিনি গত শুক্রবার কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানাধীন উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন জানান, তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের ভাসানিয়া এলাকায় জমি কিনে শখ করে সেখানে মাছের খামার করেছেন। কিন্তু শখের ওই খামারে দুইদিন আগে কে বা কারা রাতের আঁধারে বিষ ঢেলে দিয়েছে। এতে ওই আইনজীবীর মৎস্য খামারের সব মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

এসআই জাকির আরও জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া জানান, গত ১৩ অক্টোবর তার মাছের খামারের কেয়ারটেকার মোকলেস তাকে ফোন করে জানায় যে, পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। পরে তিনি এসে দেখেন তার মাছের খামারে অবমুক্ত করা বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় দেড়শ মণ মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

পাঁচ লাখ টন মজুদ থাকার পরও পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন

দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কাঁপুনি ধরিয়েছে ক্রেতার পকেটে। গত মাসের শেষ দিকে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা থাকা নিত্যপণ্যটি দাম বেড়ে এখন ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এই দাম বৃদ্ধির পেছনে যৌক্তিক কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছে না ক্রেতা। খোদ বাণিজ্যমন্ত্রী বলছেন দেশে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী তিন মাস চাহিদা মেটানো যাবে।

পেঁয়াজই নয় শুধু, দাম বৃদ্ধির দৌড়ে আছে চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেলসহ আরও কয়েকটি নিত্যপণ্য। অল্প দিনের ব্যবধানেই দফায় দফায় বাড়ছে এসব পণ্যের দাম। খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি এক প্রতিবেদনে বলছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একমাসে প্রায় ১৯.৬৪ শতাংশ বেড়ে গেছে। একমাসের ভেতর দ্রব্যমূল্যের দাম এর আগে কখনোই এতটা বাড়তে দেখা যায়নি বলেও দাবি সংস্থাটির।

প্রশ্ন উঠেছে, তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও কেন বাড়ছে দাম? যেখানে মধ্য সেপ্টেম্বরেও সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ছিল পেঁয়াজের কেজি সেখানে গত দুই সপ্তাহ ধরে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ছাড়া মিলছে না নিত্যপণ্যটি। অবশ্য পেঁয়াজের দাম আপাতত আর বাড়বে না বলেই অভয় দিয়েছেন বাণিজ্য সচিব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরকে পেঁয়াজের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারে অনুরোধও জানানো হয়েছে।

সোমবার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে এক সভায় নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে এই মুহূর্তে পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুদ আছে, যা দিয়ে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস চলতে পারে।’

পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে সব ধরনের চেষ্টা চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা চারদিক থেকে চেষ্টা করছি যাতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হবো, ততদিন পর্যন্ত কখনো কখনো আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে।’

যদিও পেঁয়াজের দাম কবে নাগাদ সহনীয় পর্যায়ে আসতে পারে বাণিজ্যমন্ত্রী ও সচিব বলতে পারেননি। অবশ্য আরেক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক পেঁয়াজের দাম ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কমে আসবে বলে জানিয়েছেন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘পেঁয়াজসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম সত্যিই অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। তাই কথা বলার চেয়ে এগুলো নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা যায় সেদিকে মন দিতে হবে দায়িত্বশীলদের।’

দুদকের সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, ‘নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে আমরা বারবার বলে আসছি। বিশেষ করে পেঁয়াজ নিয়ে এমন কিছু হবে এটা অনেকেই আশঙ্কা করেছিল। উচিত ছিল ভারত ছাড়া অন্য উৎসগুলো থেকে আগেভাগে পেঁয়াজ আমদানি নিশ্চিত করা।’

পেঁয়াজ নিয়ে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস প্রতি বছরই ওঠে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে ভারত রপ্তানি বন্ধ করায় দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে ওঠে। দফায় দফায় বেড়ে তখন পণ্যটির দাম কেজি প্রতি ৩০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছয়। তবে বিকল্প উৎস থেকে সরকারি ও ব্যবসায়ী পর্যায়ে আমদানি করে সেবার পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়।

দুই সপ্তাহের মধ্যে পেঁয়াজের দাম প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার কারণ নিয়ে কৃষিমন্ত্রীর ভাষ্য, পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে সেই এপ্রিল মাসে, এত দিন পর্যন্ত পেঁয়াজ থাকে না। তাই কৃষকেরা সব বিক্রি করে দেন। পেঁয়াজ পচনশীল ও মজুদ রাখার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। আর একারণে মৌসুমের শেষের দিকে বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়।

গত রবিবার এক অনুষ্ঠানে দাম কমার বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রীষ্মকালীন ও আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে আসার পরপরই আগামী ১৫ থেকে ২০ দিন পর দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

অবশ্য বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা ভিন্ন কারণ দেখিয়েছেন। তিনি বলছেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হবো, ততদিন পর্যন্ত কখনো কখনো আমাদের মূল্য নিয়ে ক্রাইসিসে পড়তে হবে। এছাড়া বৃষ্টিজনিত কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়েছে।’

পেঁয়াজের দাম সহনীয় পর্যায়ে আনতে সব ধরণের চেষ্টার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারত ছাড়া মিয়ানমার থেকে যদি পেঁয়াজ আনা যায়, তাহলে কিন্তু এত প্রেশার (চাপ) পড়ার কথা না। গত বছরের তুলনায় এবছর অন্তত এক লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন বেশি হয়েছে।’ শুধু পেঁয়াজ নয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে ১৭টি পণ্য রয়েছে সেগুলোর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি মনিটর করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মাসে পেঁয়াজ উৎপাদন কম হয় জানিয়ে বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ জানান, নভেম্বরের মাঝামাঝি বা শেষে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। ভারতের বেঙ্গালুরুতে অতিবৃষ্টির কারণে সেখানকার বাজারে দাম বেড়ে গেছে উল্লেখ করে সচিব বলেন, সেটার প্রভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। কিছু ভারতের দাম বাড়ার জন্য এবং কিছু আশঙ্কা থেকে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিন মাসের পেঁয়াজ মজুদ থাকার পরও দাম বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে জানতে চাইলে ক্যাব চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ঢাকা টাইমসকে বলেন, মন্ত্রী হয়তো ধারণা করে বলেছেন। যে পেঁয়াজ আছে সেটা তো কৃষকের ঘরে। এখন কৃষক কয় টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি করবে সেটা তার বিষয়। এজন্য বিপদের আগেই স্বল্প মেয়াদে একাধিক উৎস থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। দেশে পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতাও বাড়াতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

চাঁদপুরে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার জালসহ ৩১ জেলে আটক

লেখক

জেলার পদ্মা- মেঘনায় প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় অভয়াশ্রমে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে চাঁদপুর  নৌ-পুলিশ।  শনিবার অভিযানের ষষ্ঠ দিন ভোর থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত চলা নৌ-পুলিশের এ অভিযানে ৭৫ কেজি মা ইলিশ ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ ৩১ জেলেকে আটক করা হয়। 
এ অভিযানে  অংশ নেয় নৌ-পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজ্জমান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান। এসময় চারটি ফাঁড়ি এবং একটি থানার পুলিশ সদস্যরা অভিযানে যোগ দেন। এছাড়া নৌ-পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেলায়েত হোসেন, সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য্যসহ অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত  ছিলেন। 


পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুজজ্জামান বাসসকে জানান, চাঁদপুর সদরের রাজরাজেশ্বর ও তার আশপাশের পদ্মা ও মেঘনা নদীর বেশকিছু এলাকায় শনিবার সকাল থেকে  এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। তিনি আরো জানান, অভিযানকারী দলটি দেখে জেলেরা জাল ও নৌকা নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এসময় আটক ৩১ জেলের জাল থেকে  ৭৫ কেজি মা ইলিশ, ৮টি নৌকা,  প্রায় ৫৫ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল আটক করা হয়।   


এদিকে, গত ৬ দিনের অভিযানে  সবমিলিয়ে চাঁদপুর জেলায়  এ পর্যন্ত এক কোটি দশ লাখ মিটার কারেন্ট  জাল, ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার ১৫টি নৌকা এবং প্রায় চারশ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। এ সময় আটক করা হয়েছে ৮০ জন জেলেকে। অন্যদিকে, আটক দের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

তরমুজ থেকে তৈরি হচ্ছে ‘গুড়’, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

তরমুজ থেকে তৈরি হওয়ায় গুড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘তোগুড়’

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ছোটবন্ড গ্রামে  কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় তরমুজ থেকে গুড় উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সেই উৎপাদিত গুড়ের নাম দিয়েছেন “তোগুড়”।

কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ২০১৯ সাল থেকে তিনি তরমুজ চাষ শুরু করে সফলতা পান। এরপর তরমুজের রস মিষ্টি এবং পাতলা বলে তা জ্বালিয়ে গুড় তৈরি করে সফল হন। 

তিনি আরও বলেন, “শুরুতে প্রায় তিন কেজি গুড় তৈরি করে পাড়া প্রতিবেশী, উপজেলা কৃষি অফিসারসহ অনেককেই খাইয়েছেন। আবার অনেকেই সে গুড় ৩০০ টাকা কেজি দরে কিনতেও চেয়েছেন।”

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, আমাদের দেশের গুড় শিল্প দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, তাল ও খেঁজুর গাছের সংখ্যাও কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি, গাছ থেকে রস সংগ্রহের জন্য গাছির সংখ্যাও কমছে। এছাড়া, উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলগুলো তরমুজ চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। তরমুজের মৌসুমের সময়ে কৃষকরা তরমুজের জন্য ন্যয্য মূল্য পান না। তাই তরমুজের গুড় কৃষিক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তাই বাণিজ্যিকভাবে তরমুজের গুড় তৈরি করলে কৃষকরা তার ন্যায্যমূল্য পাবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পদ্মায় ইলিশ ধরার সময় আটক ৫৫ জেলে

মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ ধরার সময় আটক করা হয়েছে ৫৫ জন জেলেকে। আটকদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (১৬ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে রোববার (১৭অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত লৌহজং উপজেলা সংলগ্ন পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালায় উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। এতে সহায়তা করে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাউসার হামিদ এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, অভিযানে ১ লাখ ২০হাজার মিটার কারেন্টজালসহ একটি মাছ ধরার নৌকা ও ২৫০কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। অভিযান শেষে দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করায় জেলেদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

jagonews24

লৌহজং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান আসাদ জাগো নিউজকে জানান, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যদের সহায়তায় নিষেধাজ্ঞার সময় ইলিশ ধরা বন্ধ করতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় ৫৫ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বাকিদের মধ্যে ১৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজন প্রতিবন্ধী ছিলেন।

jagonews24

তিনি আরও জানান, দুপুরে জব্দ করা ইলিশ মাছ স্থানীয় বিভিন্ন মাদরাসা ও এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। আর কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com