আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

উন্নয়ন সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন (পর্ব: ২)

টেলিভিশনের মাধ্যমে তখন আমি কৃষকদের নতুন নতুন কথা শোনাচ্ছি। আমি তাদের বোঝাতাম, বাপ-দাদার আমলের প্র্যাকটিস ছেড়ে বেরিয়ে এসো। যে ধান চাষ করছো তা দিয়ে তোমার পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটে না। সন্তান বাড়ছে, আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে কৃষি জমির পরিমাণ কমছে। জমির আইল বাড়ছে, বাড়ছে ফ্র্যাগমেন্টেশন অব ল্যান্ড। দেশিয় যে বীজ তুমি জমিতে লাগাচ্ছো এতে ধান কম হচ্ছে, তোমার চাহিদা মিটছে না। তাই তোমার উচিত সরকারি বীজ লাগানো। সরকারের কর্মকর্তারা এসে যে বীজের কথা বলেছে ওই বীজ লাগাও।

জবাবে তারা বলতো ওই বীজের ধান আমরা খাই না, ওটা রাবার ভাত। বলতাম, চালের পাশাপাশি গমের আবাদ করতে হবে। বলতো, না না গম কেন আমরা খাব? আমরা কি পাকিস্তানি! তখন দরিদ্র মানুষের খাবার ছিল গমের রুটি। বলতাম ভুট্টা লাগাতে, বলতো পাকিস্তানি জুলফিকার আলী ভুট্টোর নামের এই জিনিস আমরা কেন লাগাবো? এই ছিল তখনকার কৃষকদের সামগ্রিক অবস্থা। বাড়ির সামনে সবজি লাগানোর কথাও বলেছিলাম তাদের।

সেই সময় ঈশ্বরদীর কালিকাপুর নামে একটা জায়গা ছিল, সেখানে কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় সবজির বাগান করার একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। বাড়ির সামনে বিশ ফুট বাই বিশ ফুট যদি কোনো জায়গা থাকে, তাহলে বেড করে সবজি লাগিয়ে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে বিদেশি একটি সংস্থা এসে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই মডেল ছড়িয়ে দেয় টেলিভিশনের মাধ্যমে। ঘরের পাশের যে লাউয়ের মাচা তা চলে এলো ধানখেতের আইল কিংবা পুকুরের ঢালে। মাইলের পর মাইল তখন সবজি চাষ হচ্ছে।  

তবুও দীর্ঘদিনের অভ্যাস কৃষকরা ছাড়তে চাইতো না। ৫০০ জনকে বললে ৫ জন প্রয়োগ করতো। যেই ৫ জন শুনতো তারা যেদিন লাউ বা ধানের বীজ বপন করতো, তখন বাকি কৃষকদের এনে দেখানো হতো। 

কুমিল্লা বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খানই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে একটা গ্রামে কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করেন এইচওয়াইভি ধান লাগানোর জন্য। ওই যন্ত্র স্থাপনের পর পানি যখন উঠলো, তখন গ্রামের মানুষ ভয়ে পালিয়ে গেলো। 

একজন টেলিভিশন ব্রডকাস্টার 

শুরুর দিক আমি খুবই কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে কাজ করেছি? এতগুলো যন্ত্রপাতি দেখে মানুষ ভয় পেত আবার নতুন জ্ঞানের কথা বলতে গেলে তারা তেড়ে আসতো। প্রতিনিয়ত তাদের অনেক ধরনের মোটিভেশন দিতে হতো। তখন আমি দেখলাম টেলিভিশন এমন একটা ক্ষেত্র, যেখানে মানুষকে শিক্ষিত করা যায়। গান, নাটক কিংবা উন্নয়ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষিত করা যায়। কিন্তু টেলিভিশনে মাতৃভাষা বাংলার প্রমিত রূপের বাইরে কোনো ভাষায় কথা বলা যেত না। তখনকার টেলিভিশনে কোনো বিশেষ জেলার ক্যারেক্টার থাকলেও সেই জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারতো না। এরকম কোনো ক্যারেক্টার রাখতে হলে পাণ্ডুলিপি প্রথমে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হতো। তারা যদি অনুমোদন দিতো, তাহলেই কেবল ঐ চরিত্রে আঞ্চলিক সংলাপ ব্যবহার করা যেত। আর এখন শত শত পর্বের নাটকও আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত হচ্ছে।

১৯৮০ সালের দিকে প্রমিত বাংলার বাইরে কথা বলা ছিলো বিশাল অপরাধ। অনুষ্ঠান শুরু করার পর এক-দুই বছর কেটে গেলো। আমি লক্ষ করলাম, আমার কথা গ্রামের সাধারণ কৃষক বুঝতে পারছে না। কারণ আমি তো তার সাথে প্রমিত বাংলায় কথা বলছি। ফলে সেই কৃষক কতগুলো জায়গায় শংকিত হয়ে আছে। এক হচ্ছে, শহর থেকে যাওয়া বেশ কিছু মানুষ। তাদের পরনে আবার শার্ট-প্যান্ট। গ্রামের মানুষ তখন কালে ভদ্রে শার্ট-প্যান্ট পরতো। ছেঁড়া গেঞ্জি আর লুঙ্গিই ছিল তাদের সম্বল। তার উপর আবার আমাদের হাতে থাকতো অনেক যন্ত্রপাতি। 

কেউ যদি কথা বলতেও চাইতো, তাহলেও আমার কথা ঠিকমতো বুঝতে পারতো না। আমাকে বলতে হতো, আপনি কেন এই চাষটি করবেন? এই চাষটি করলে আপনার ভাগ্যের এই উন্নতি হবে। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো, মাঝে মাঝে বলতো, আমি তো এই চাষ করি না। 

বছর দুয়েক যাওয়ার পর আমার জার্নালিস্টিক অ্যাপ্রোচে পরিবর্তন আনলাম। উন্নয়ন সাংবাদিকতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করলাম। আমি চিন্তা করলাম বাংলা ভাষাতেই কথা বলবো কিন্তু পরিবর্তন করতে হবে। কীরকম পরিবর্তন? এমন একটি কথ্য ভাষা তৈরি করবো, যেটা সবজায়গার মানুষই বুঝবে। সেটা বরিশাল, চট্টগ্রাম কিংবা নোয়াখালীই হোক। তো ঐ চাষের কথাই এরপর আমি তাকে এভাবে বললাম: ‘গতবার আপনি যেটা করসিলেন, আর এইবার এটা করসেন। এই দুইটার মধ্যে তফাৎটা কি পাইসেন? গতবারের তে এবার বেশি হইসে না কম হইসে?’

যখন এই ভাষায় কথা বলা শুরু করলাম, কৃষকের ভেতর থেকে সব গড়গড় করে বের হওয়া শুরু করলো। কারণ এটা তার ভাষা। সে বলতে থাকলো, ‘গতবার করসিলাম, গতবারের তে এবার একটু ভালোই মনে হইসে। ওই সাব ভালোই কইসে, আমারটা ভালো হইসে। আমারটা দেইখা আশেপাশের জনও লাগাইসে। তাদেরটাও ভালো হইসে।’

টেলিভিশন প্রমিত বাংলা ব্যবহারের পক্ষে। কিন্তু টেলিভিশনের কিছু কিছু অনুষ্ঠান থাকে টার্গেট অরিয়েন্টেড। এগ্রিকালচার সেরকম একটা অনুষ্ঠান। যারা দেখে তারা বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ। সেখানে ফোকাস গ্রামের মানুষ। আর যদি শহুরে দর্শক দেখে তাহলে সেটা অনুষ্ঠানের ক্রেডিবিলিটি, এটাই প্লাস পয়েন্ট। যাদের জন্য অনুষ্ঠান তারা যদি আমার অনুষ্ঠান না-ই বোঝে তাহলেতো অনুষ্ঠান ব্যর্থ। অডিয়েন্স ঠিক রাখার জন্য তাই প্রমিত বাংলার ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এইসব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে। 

কাউকে জিজ্ঞাসা না করে এরকম একটা ভাষার অনুষ্ঠান আমরা প্রচার করে দিলাম, পুরো টেলিভিশনে শোরগোল বেঁধে গেল। একজন উপস্থাপক কীভাবে এই ভাষায় কথা বলে? সে সময়কার কর্তাব্যক্তি যারা ছিলেন তারা বেশ চিন্তাশীল মানুষ ছিলেন। তাদের সাপোর্টেই এই জিনিস প্রচার করা গেছে। 

ভাষার মাধ্যমে তাদের দুঃখ-বেদনা-আনন্দ বের করে নিয়ে আসা গেল। দেখা গেল তারা ক্রমশ আন্তরিক হচ্ছে। নিজের মতো করে কথা বলছে। প্রথম দিকে আমাকে অনেক বেশি কথা বলতে হতো। ২৫ মিনিটের অনুষ্ঠানে ১০ মিনিটই হয়তো আমাকে দেখা যাচ্ছে। কারণ আমি তাকে কনভিন্স করে নতুন প্রযুক্তির কথা বোঝাচ্ছি। জীবনমানের উন্নয়নের কথা বোঝাচ্ছি। এ কারণে আমাকে বেশি দেখানো হচ্ছে।

কৃষকের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম কৃষক মাঠে কাদার মধ্যে আর আমি মাঠের আইলের উপরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। টেলিভিশনে যখন দেখছি, তখন তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য অনেক। এটা ঠিক হচ্ছে না। আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। পরের সপ্তাহে আইলের উপর ডেকে পাশাপাশি বসে দুজন কথা বলছি। দূরত্ব কমেছে, সম্পর্ক আন্তরিক হয়েছে। কিন্তু এতে আরেক কৃষক মনে করতে পারে আমার কৃষক ভাইয়ের সময় নষ্ট হচ্ছে। পরের অনুষ্ঠানে আমি কাদার উপর দিয়ে তার কাছে চলে গেছি। কাদা, শব্দের খেলা এগুলোর মাধ্যমে নস্টালজিক করে তুলেছি। ক্যামেরা জুম ইন করে নির্দিষ্ট বস্তুর কাছে যাওয়া। ক্যামেরা আর আমি দুজন যাচ্ছি, এর মানে দর্শককে আমি তার কাছে নিয়ে যাচ্ছি। উপস্থাপক বিষয়ের কাছে চলে যাচ্ছে, আভিজাত্য ভেঙে যাচ্ছে। কৃষক নিজেকে মর্যাদার জায়গায় প্রতিষ্ঠা করছে, তার সময় নষ্ট হচ্ছে না।

মানুষের সাথে একাত্মতা প্রকাশের জন্য এবার পোশাকের দিকে গেলাম। যদিও টেলিভিশন গ্ল্যামার কিংবা জৌলুসের জায়গা। তারপরও টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে একাত্ম হওয়ার জন্য টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আমার এই জায়গা ভাঙতে হবে। যাদের সাথে কথা বলছি তারা ছেঁড়া কাপড় পরা, আর আমি যদি একেক সপ্তাহে একেক পোশাক পরে যাই তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একাত্ম হতে পারবো না। তারা আমাকে আপন ভাববে না। আমার টার্গেট টেলিভিশনকে এডুকেশন আর ডেভেলপমেন্টের টুলস হিসেবে ব্যবহার করা। আমাকে তাহলে একটাই কাপড় ব্যবহার করতে হবে যেটা তার মনে গেঁথে থাকবে। আমাকে গ্ল্যামারাস হওয়ার লোভ সংবরণ করতে হবে। একটি কাপড় পরবো, সেটা হবে পাইলট শার্ট। ১৯৮০’র দশকে সেই শার্ট অনেক জনপ্রিয় ছিল। হাতের উপরে, আস্তিনের উপরে ফ্ল্যাপ থাকে, পকেটে ঢাকনা থাকে। এই শার্ট দারোয়ানরাও পরতো, কিংবা পুলিশরা। এই ধরনের শার্টে একটা আউটডোর ভাব থাকে। এই শার্টটি বিশেষ দর্জি দিয়ে বানানো হলো। প্রথমে ছিল বিস্কুট রঙের, পরে কালারে পরিবর্তন আনা হলো। পকেটে কলম নিলাম, স্কুলের শিক্ষকের মতো। চোখে চশমা পরা হলো কারণ তখনকার গ্রামীণ পরিবেশ কলম আর চশমাকে বিশেষভাবে মূল্য দেওয়া হতো। এই বেশ নিতো শিক্ষক কিংবা মসজিদের ইমামরা। কৃষকরা যেন আমাকে শিক্ষিত মনে করে। আমার কথা যদি তারা আমলে না নেয়, তাহলে কি সম্প্রসারণের কাজ হবে? এরপর সবুজ শার্ট পরার সিদ্ধান্ত নিলাম, সবুজ ধানক্ষেতের কথা ভেবে। কৃষকের সঙ্গে আরো একাত্ম হওয়ার জন্য। 

প্রথম দিকে ক্যামেরায় আমি ফোকাসড। ৫ বছর পর যখন আমি ফিডব্যাক নিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলাম, ফোকাস করা হলো কৃষককে, তার ফেসে ক্যামেরা ঘুরে যেত। ফ্ল্যাপের মধ্য দিয়ে ওভার দ্য শোল্ডার শটে কৃষকের মুখ। তারা তাদের উন্নয়নের কথা বলছে। বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বীজে তাদের ফলন বেশি হচ্ছে। তারা মাছ চাষ করছে। সবজির ভালো ফলন পাচ্ছে।  সর্বোপরি তাদের আয় বেড়েছে। এ কারণে তাদের সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এভাবেই চলেছে উন্নয়ন সাংবাদিকতা। ৩০ বছর পর এখন ওই সবুজ শার্ট পরে যখন গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই, তখন দূরের কৃষক আমাকে দেখলেই ডাক দেয়, জানায় তাদের উন্নয়ন কিংবা সমস্যার কথা। 

সাধারণ মানুষ কিছু পেশার মানুষকে ভয় পায়; যেমন চোর, ডাকাত, পুলিশ। আর ভয় পায় সাংবাদিককে। সাংবাদিককে তার ভয় পাওয়ার কথা ছিল না। বরং সাংবাদিকের কাছে তার সবকিছু প্রাণ খুলে বলার কথা। কিন্তু আমরা আমাদের কারণে এই প্লাটফর্মটা হারিয়ে ফেলছি। প্লাটফর্ম হারাচ্ছি এই কারণে, আমরা আমাদের কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছি, আমাদের ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছি। এ কারণে মানুষ স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারে না। তাদের সামনে মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এভাবে একটু একটু করে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে। 

আসলে এটাই উন্নয়ন সাংবাদিকতা। যে দেশে খাদ্যের নিরাপত্তা ছিল না, সে দেশে টেলিভিশন আর পত্রপত্রিকার মাধ্যমে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেছে। হাজার মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটেছে। পোলট্রি শিল্প এখন বিশাল এক শিল্প। বছর জুড়ে নানা ধরনের শাক-সবজি খেতে পারছে মানুষ। এগুলো সম্ভব হয়েছে কৃষিবিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সরকার সর্বোপরি কৃষকের আন্তরিক ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে। মিডিয়ার একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি তাদের একটু সাহায্য করছি। তাহলে এই সাংবাদিকতাই কি শুধু উন্নয়ন সাংবাদিকতা? তা কি শুধুই কৃষিকেন্দ্রিক? 

আসলে এমনটি নয়। আমাদের সবকিছুর মধ্যেই উন্নয়ন সাংবাদিকতা নিহিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশৃঙ্খল রাজনীতি সবকিছুর মধ্যেই উন্নয়ন সাংবাদিকতা হতে পারে। আমাদের মেধা কিংবা সাংবাদিকতার দক্ষতা দিয়ে এগুলোর মধ্যে থেকে উন্নয়ন সাংবাদিকতাকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। গোটা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটালেই কেবল সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। ১৯৮০ সাল থেকে মানুষকে বলে এসেছি, কৃষি মানেই কেবল ধান আর পাট চাষ নয় কিংবা কৃষক মানেই গ্রামের সাধারণ মানুষ নয়। কৃষি হবে ইন্টিগ্রেটেড। যেটা দিয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে, স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।(চলবে…)

এগ্রোবিজ

পতিত জমিতে চিনাবাদাম চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক

মেহেরপুর: পতিত ও অনুর্বর বেলে মাটির জমিতে চিনাবাদাম চাষ করে লাভবান হচ্ছেন মেহেরপুরের চাষিরা। ফলন ও বাজার দর ভালো এবং কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন এই এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাদামের চাষ। 

সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা, শ্যামপুর, টেংগারমাঠ ও গোপালপুর গ্রামের অধিকাংশ জমির মাটি বেলে। ফলে এই এলাকার চাষিরা ধান, গম, পাটসহ অন্যান্য ফসল আবাদ করে খুব একটা লাভবান হতে পারেন না।

ধান কাটার পর এ সব জমি সাধারণত পতিত থাকে। এজন্য ৯০ দিনের ফসল হিসেবে অল্প খরচে বাদাম চাষ করছেন এলাকার চাষিরা।  

মেহেরপুর জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় এবার বাদাম চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টর জমিতে। এবার এক বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করতে চাষিদের খরচ হয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা সেক্ষেত্রে বাদামের ফলন হয়েছে ৬ থেকে ৭ মণ। আর এ  ফলনে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঘরে তুলছেন তারা। বাজারে প্রতিমণ বাদাম বিক্রি হচ্ছে ২৭শ’ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।  সদর উপজেলার মদনাডাঙ্গা গ্রামের বাদাম চাষি খাঁজা আহমেদ, কাওছার আলী ও ফিরোজ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, এলাকার মাটি বেলে হওয়ায় সাধারণত সবজি, আলু ও অন্যান্য ফসল চাষ করার পর জমি পতিত থাকে। সে সময়ে চিনা বাদামের চাষ করা হয়। বাদাম চাষে খরচ কম এবং উৎপাদন ও বাজার দর ভাল। তাই দিন দিন চাষিরা তাদের পতিত জমিতে চিনা বাদামের চাষ শুরু করছেন।  

এছাড়া বাদাম ছাড়ানো, শুকানোসহ যাবতীয় কাজ করে থাকেন এখানকার নারীরা। বাদামের গাছ আবার শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করছেন গৃহিণীরা।  

নারী শ্রমিক সাহানা খাতুন ও জরিমন নেছা বাংলানিউজকে বলেন, আমরা বাদাম ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে থাকি। এলাকার ২৫/৩০ জন নারী শ্রমিক এ কাজ করে আসছেন।  
গৃহিণী সাজেদা খাতুন ও জামেলা খাতুন জানান, বাদামের লতা জালানি হিসেবে বেশ ভাল। তাই লতাও বিক্রি হচ্ছে।

মেহেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. আক্তারুজ্জামান বাংলানিউজকে জানান, চিনা বাদামের চাষ সাধারণত পতিত জমিতে হয়ে থাকে। এলাকার চাষিরা এই জমিতে বাদামের চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। তাই বাদাম চাষ যাতে আরও সম্প্রসারিত হয় সেজন্য কৃষি বিভাগ চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে।  

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

সিলেটে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা

সিলেট বিভাগের উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিক জমিতে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষে ব্যাপক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি বিজ্ঞানিরা মৌলভীবাজারের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন। এ ফুল চাষ মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যমতে, যশোরে বাণিজ্যিকভাবে গ্লাডিওলাস, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ হয়। যার বাজার দর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। যশোরের ফুল সারাদেশের পাশাপাশি সিলেটেও আসে প্রচুর। সিলেটে ফুলের বাজার শত কোটি টাকার উপরে। কিন্তু সিলেটে ফুলের চাষ বাণিজ্যিকভাবে হয় না।

সিলেট বিভাগের মাটি অ্যাসিডিক হওয়ায় ফুল চাষ করা যাবে না, সেটাই ছিল প্রচলিক ধারণা। কিন্তু এ ধারণাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যদিয়ে ভুল প্রমাণ করেছেন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের একদল গবেষক। মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম শরিফুজ্জামানের নেতৃত্বে উচ্চমাত্রার অ্যাসিডিটিক জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে ফুল চাষ করে সফল হয়েছেন তারা। এ পরীক্ষামূলক চাষে ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সিলেট অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলে অনেক জায়গা অনাবাদি ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। প্রবাসীরা দেশের বাইরে অবস্থান করায় তাদের অনেক জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। এ জমিকে আবাদের আওতায় আনতে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষের উদ্যোগ নিয়ে আগ্রহী ১০০ চাষিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আমন ধান কাটার পর এ অঞ্চলের অনেক জমি পতিত থাকে। ফলে ফুল চাষ করে অনাবাদি জমি থেকে কোটি টাকা উপার্জন সম্ভব।

বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিরানা আক্তার সুমি জানান, চাষিরা প্রশিক্ষণ শেষে অনেক কিছু শিখেছেন। কী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে হয়, তা জেনেছেন। ধানের চেয়ে যেহেতু ফুলের দাম বেশি, তাই ফুল চাষে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. সরফ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভালোভাবে জমি চাষ করে নির্দেশিত মাত্রায় জৈব ও রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয়। অন্য ফসলের মতোই এর চাষ পদ্ধতি সহজ। বেড তৈরি করে ফুল চাষ করতে হয়। প্রতিটি বেডের দৈর্ঘ যে কোন মাপের হতে পারে। তবে প্রস্থে ১.২-১.৫ মিটার হলে ভালো।’

তিনি বলেন, ‘কলম (বীজ) লাগানো থেকে তিন মাস পর স্টিক সংগ্রহ শুরু হয়। সংগ্রহ করা যাবে পরবর্তী ২৫ দিন। গ্লাডিওলাস ৫টি জাতসহ মোট ১২টি প্রজাতির ফুলের পরীক্ষা করে আমরা সফল হয়েছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

জৈব

জৈব পদ্ধতিতে ফসলের রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ

সবুজ বিপ্লবের সময়ে পেস্টিসাইড ব্যবহারকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জীব বৈচিত্র্য, মাটির স্বাস্থ্য ও ফসলের গুণমানতা। এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে, এত রাসায়নিক পেস্টিসাইড ব্যবহার করা কি ঠিক হচ্ছে? এ প্রশ্ন শুধু ভারতে নয়, সারাবিশ্বের কৃষকসমাজ ও শস্যবিজ্ঞানীদের কাছে। তাই মনে হয় জৈব নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে সুসংহত রোগ পোকা নিয়ন্ত্রণ আগামী দিনে একমাত্র সমাধানের রাস্তা হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

চলমান খরিফ মরসুমে আমাদের রাজ্যে প্রধানত ধান, খরিফ পেঁয়াজ, জুট, ইক্ষু, তিল ইত্যাদি ফসলের চাষ হয়ে থাকে। এ রাজ্যে ধানে ঝলসা রোগের আক্রমণ একটি গুরুতর বিষয়।

জৈব পদ্ধতিতে এই রোগ দমন করার একটি সহজ উপায় রয়েছে। ৫০ মিলিলিটার কেরোসিন তেলে ৮৫ গ্রাম থেঁতলানো রসুন মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দিতে হবে। এরপর ৯৫০ মিলি. জল ও ১০ মিলি. তরল সাবান মিশিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিয়ে বোতলে রেখে দিতে হবে। ১৯ লিটার জলের সাথে ১ ভাগ মিশ্রণ মিশিয়ে সকালে/বিকেলে স্প্রেয়ার দিয়ে আক্রান্ত গাছে স্প্রে করতে হবে।

এই মিশ্রণটি আমেরিকান বোল ওয়ার্ম, আর্মি ওয়ার্ম, পেঁয়াজ-এর চিরুনি পোকা, আলুর টিউবার মথ, রুট নট নিমাটোড (কৃমি), আখের কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ, ডাউনি মিলডিউ ও ধানের ঝলসা রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী।

এছাড়া বিভিন্ন ধরণের পাতা খেকো পোকা ও জাব পোকা নিয়ন্ত্রণে ১ কেজি পেঁয়াজ থেঁতো করে ১ লিটার জলের সাথে মিশিয়ে ২৪ ঘণ্টা রেখে দেবার পর কচলিয়ে রস নিংড়ে নিতে হবে। প্রাপ্ত নির্যাসের সাথে ১০ লিটার জল মিশিয়ে আক্রান্ত ফসলে স্প্রে করতে হবে।

জৈব সার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ফসলের উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ হ্রাস করা সম্ভব। উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার, শাকসব্জী ও অন্যান্য ফসলের প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন, ফসফরাস ও পটাশিয়াম-এর সাথে অণুখাদ্যের যোগান দেয়।

জৈব পদ্ধতিতে উৎপন্ন কীটনাশক ও ছত্রাকনাশকগুলি ফসলে কোনওরকম দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ব্যতিরেকে, পোকা ও রোগ দমনে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। এতে মাটির স্বাস্থ্য ভালো থাকে ও উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ।

বন্ধুপোকা মাকড়ের (পরজীবি ও পরভোজী) সংরক্ষণের জন্য জমির পাশে অব্যবহৃত জায়গায় ত্রিধারা, উঁচুটি, শালিঞ্চে ইত্যাদি আগাছা জাতীয় গাছের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ বৈচিত্র্য নির্ভর জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব আনা সম্ভব। তাই জৈব কৃষির পথে ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়ে কৃষিবিষমুক্ত, স্বাস্থ্যসম্মত সমাজ গড়ে তোলাই বাঞ্ছনীয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

টি ব্যাগের ব্যবসা করে আয় করুন প্রচুর অর্থ

চা পানীয়টি আমাদের দেশে খুবই জনপ্রিয় একটি পানীয়। প্রিয়জনের সাথে বৈঠক থেকে শুরু করে সারাদিনের ক্লান্তি দূর করা সবেতেই চা (Tea) আমাদের নিত্যসঙ্গী। তবে এখন মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশী স্বাস্থ্য সচেতন। সাধারণ চায়ের জায়গায় এসেছে, গ্রীণ টি, হার্বাল টি, লেমনগ্র্যাস টি, ব্লু টি ইত্যাদি। আর প্রকারভেদের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে টি ব্যাগের গুরুত্ব। কারণ এটি খুব অল্প সময়ে তৈরি করা যায় এবং যে কোন স্থানে এর থেকে চা বানানো যায়। অফিস ও হোটেলগুলিতে এর যথেষ্ট চাহিদাও রয়েছে। তাই টি ব্যাগ তৈরীর ব্যবসাটি হয়ে উঠতে পারে আপনার জন্য লাভদায়ক।

চা উৎপাদনকারী দেশ গুলির মধ্যে অংশ নেয় চীন, ভারত , কেনিয়া , শ্রীলঙ্কা , জাপান , ইন্দোনেশিয়া , ভিয়েতনাম, তানজেনিয়া , মালয়, বাংলাদেশ, তার্কী এবং চা পানকারী দেশ গুলির মধ্যে ইংল্যান্ড, জর্মানী, কানাডা ও আমেরিকার বেশ নাম রয়েছে।

এ কারণে বেশিরভাগ সংস্থা টি ব্যাগ বিক্রি শুরু করেছে। আপনি যদি নতুন ব্যবসা করার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে আপনি টি ব্যাগ মেকিং ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এটির মাধ্যমে আপনি খুব ভাল অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। যিনি তৈরী করেন, তার থেকে নিয়ে এসে আপনি বাইরে বিক্রি করতে পারেন, এতে আপনার বিনিয়োগের দরকার পড়বে না। কিন্তু যদি বেশী লাভ করতে চান, তবে বিনিয়োগ করে নিজের ব্যবসা শুরু করুন।

টি ব্যাগ ব্যবসা শুরু করার জন্য জায়গা (How to start) –

এটি শুরু করার জন্য আপনি কোনও জায়গা ভাড়া নিতে পারেন। আপনার নিজের জমি থাকলে ব্যবসার জন্য সুবিধা হবে। এমন জায়গা চয়ন করুন, যেখানে মানুষের সমাগম রয়েছে। টি ব্যাগ তৈরীর জন্য আপনাকে মেশিন ইনস্টল করতে হবে।

চা ব্যাগ ব্যবসায় বিনিয়োগ –

আপনি যদি বড় আকারে ব্যবসা শুরু করতে চান, তবে আপনাকে বেশী অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। এর মেশিনটি যথেষ্ট ব্যয়বহুল, সুতরাং বেশী পরিমাণ রাশি বিনিয়োগের দরকার রয়েছে এই ব্যবসায়, তবে আপনি যদি ব্যাংক থেকে লোণ নেন, তবে আপনি ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

চা ব্যাগ তৈরিতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল –

ফিল্টার পেপার –

এর ভিতরে চায়ের পাতা স্টোর করতে হবে। এই কাগজটি সুক্ষ ছিদ্রযুক্ত এবং পাতলা, পাশাপাশি সহজে ভিজে যায় না, তাই এই কাগজটি চা ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

চা পাতা –

আপনি যেমন প্রকারের ব্যাগ বিক্রি করতে চান, তেমন চা পাতা কিনতে হবে।

বিভিন্ন প্রকারের চা –

সাধারণ চা, গ্রীণ টি, উলং টি, ব্ল্যাক টি, হার্বাল টি

চা ব্যাগগুলিতে চা পাতা পূরণ করার প্রক্রিয়া –

চা ব্যাগ তৈরীর মেশিনের সাহায্যে প্রস্তুত চা পাতাগুলি ফিল্টার পেপারে পূরণ করতে হয়। সাধারণত প্রায় ২-৪ আউন্স চা পাতা একটি টি ব্যাগে ভরা হয়। এর পরে, একটি প্যাকিং মেশিনের সাহায্যে ব্যাগটি সিল করা হয়। টি ব্যাগের সাথে একটি সুতো সংযুক্ত থাকে।

চা ব্যাগ ব্যবসায় থেকে লাভ –

আপনি চায়ের পাতার গুণমান অনুযায়ী ব্যাগের দাম নির্ধারণ করতে পারেন। এই ব্যবসা থেকে খুব ভাল লাভ করা যায়। এর আরও বিক্রয়ের জন্য, আপনি বাজারে পাইকারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এগুলি ছাড়াও আপনি হোটেল বা অফিসের লোকের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। এই ব্যবসা আপনাকে মাসে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন দিতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ছাদকৃষি

সহজ পদ্ধতিতে টবে করুন কদবেল চাষ

ছেলে থেকে বুড়ো সবারই প্রিয় টক ঝাল কদবেল। কদবেলের আচার, কদবেল মাখা সকলেরই অত্যন্ত পছন্দের। যারা বাগান করতে পছন্দ করেন, বিশেষত টবে, তাদের জন্য কদবেল এক আদর্শ ফল। কদবেলের আকার অনেকটা টেনিস বলের মতো। শরতের শুরুতে কদবেল বাজারে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এই ফলের মন মাতানো স্বাদ বিশেষ করে মহিলাদের ভীষণই পছন্দের।

টবে কদবেল চাষের পদ্ধতি (Farming Process)

মন কাড়া স্বাদের জন্য পাকা কদবেল সবার কাছেই অত্যন্ত প্রিয়। কদবেল গাছে ফুল আসে মার্চ-এপ্রিল মাস নাগাদ। তবে ফল পাকতে সময় লাগে সেপ্টেম্বর-অক্টবর। টবে রোপনের জন্য কদবেলের কলমের চারা বেশি ভালো। কলমের চারা থেকে কয়েক বছরের মধ্যে ফুল-ফল ধরে। ছাদের টবে এই গাছের চাষ সহজেই করা যায়। জোড় কলম করে এর কলম তৈরি করা যায়। এ গাছের চাষাবাদ অনেকটা বেলের মতোই।

মাটি তৈরি (Land Preparation)

হাফ ড্রামে অথবা টবে পাঁচ সেন্টিমিটার পুরু করে ইটের খোয়া বিছিয়ে তার ওপর ১০ সেন্টিমিটার বালির স্তর দিতে হবে। ড্রামের তলার দিকে জল বার করে দেওয়ার জন্য ছিদ্র রাখতে হবে। এবার তিন ভাগ দো-আঁশ মাটির সাথে দুই ভাগ গোবর সার, ড্রামপ্রতি ২০০ গ্রাম এমওপি (পটাশ) সার, ২৫০ গ্রাম টিএসপি (ফসফেট) সার, ১ কেজি হাড়ের গুঁড়ো, ৫০ গ্রাম জিপসাম সার, ২০ গ্রাম ম্যাগেনেসিয়াম সালফেট (ম্যাগসাল) সার ও ১০ গ্রাম দস্তা সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ড্রামে বা টবে ভরে হালকা করে জল দিয়ে মাটি ভিজিয়ে এক থেকে দুই সপ্তাহ রেখে দিতে হবে।

ড্রাম বা টবের ঠিক মাঝখানে কদবেলের কলম বসিয়ে কলমের গোড়ার মাটি শক্ত করে চেপে দিতে হবে। কলম লাগানোর পর গাছের গোড়ায় জল দিতে হবে। সোজা ভাবে কলম রাখতে গেলে, গোড়ার কাছাকাছি কাঠি পুঁতে তার সাথে কলম বেঁধে দিলে ভালো। শীতকাল ছাড়া বছরের যেকোনও সময় কদবেলের কলম লাগানো যায়। ছাদের ওপর রোদের মধ্যে কদবেলের গাছ রাখা উচিত। এতে গাছের ভালোই হবে।

ফলন এবং পরিচর্যা (Caring)

কলমের গাছে ফুল ফাল্গুন-চৈত্র মাসে নাগাদ আসে। শরৎকালে ফল পেকে যায়। ডালপালা ফল সংগ্রহ করার সময় কিছু ছেঁটে দেওয়া উচিত। এর ফলে পরের বছর ফলন ভালো হবে। কদবেল গাছে ফুল-ফল ভালো আনার জন্য প্রতি বছর ফল তোলা শেষ হলে গাছের গোড়ার মাটিতে ড্রামপ্রতি ১৫০ থেকে ২৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার, ১০০ গ্রাম এমওপি সার, ১০০ গ্রাম টিএসপি সার দুই কেজি প্যাকেটের কম্পোস্ট সারের সাথে মিশিয়ে গোড়ার মাটি নিড়িয়ে তার সাথে মিশিয়ে সেচ দিতে হবে।

গাছের বৃদ্ধি ভালো হলে বছরে একবার সার দিলে হবে না। বর্ষাকালের আগেও ঠিক একই ভাবে পুনরায় সার দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে টব বা ড্রামের মাটি যাতে না শুকিয়ে যায়। টবের মাটি কখনো শুকিয়ে গেলে নিয়ম করে সেচ দিয়ে নিতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
কমলা

কমলা চাষে সার ব্যবস্থাপনা, সেচ, আগাছা ব্যবস্থাপনা ও ফসল তোলা- দা এগ্রো নিউজ

আমের চারা তৈরি, চারা রোপণ,সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা,রোগ ব্যবস্থাপনা, পোকা দমন ব্যবস্থাপনা

আমের চারা তৈরি, চারা রোপণ,সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা,রোগ ব্যবস্থাপনা, পোকা দমন ব্যবস্থাপনা – দা এগ্রো নিউজ

লিচুর চারা তৈরি, চারা রোপণ, সার ব্যবস্থাপনা,অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা ও পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা - দা এগ্রো নিউজ

লিচুর চারা তৈরি, চারা রোপণ, সার ব্যবস্থাপনা,অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা ও পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা – দা এগ্রো নিউজ

তাল উৎপত্তিস্থান, পুষ্টিমান, ওষুধিগুণ, উৎপাদন পদ্ধতি, বীজতলা তৈরী ও চারা উৎপাদন - দা এগ্রো নিউজ

তাল উৎপত্তিস্থান, পুষ্টিমান, ওষুধিগুণ, উৎপাদন পদ্ধতি, বীজতলা তৈরী ও চারা উৎপাদন – দা এগ্রো নিউজ

লটকনের চাষ পদ্ধতি মাটি

লটকনের ওষুধিগুণ, চাষ পদ্ধতি, চারা রোপণ, পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ- দা এগ্রো নিউজ

আপেল-স্ট্রবেরির দরকার নেই, বাঙালিরা পেয়ারা বা বরই খেলেও একই উপকার পাবেন -ইউনিসেফ কর্মকর্তা

আপেল-স্ট্রবেরির দরকার নেই, বাঙালিরা পেয়ারা বা বরই খেলেও একই উপকার পাবেন

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি আপেলের চাষ শুরু হয়েছে যা ‘এক বছর সতেজ থাকবে’

ফুলগাছের চেয়ে ফল বা সবজি গাছ কেনায় ক্রেতারা বেশী আগ্রহী বলে জানান বিক্রেতারা

পরিবারের সদস্যদের জন্য ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতেই ছাদে বা বারান্দায় ফল,সবজি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ

অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?

অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?

কফি সংকট যেভাবে আপনার ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে

কফি সংকট যেভাবে আপনার ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে

অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?

অর্গানিক খাদ্য: বাংলাদেশে বাড়ছে চাহিদা কিন্তু মান নিশ্চিত হচ্ছে কী?

ফুলগাছের চেয়ে ফল বা সবজি গাছ কেনায় ক্রেতারা বেশী আগ্রহী বলে জানান বিক্রেতারা

পরিবারের সদস্যদের জন্য ভেজালমুক্ত খাবার নিশ্চিত করতেই ছাদে বা বারান্দায় ফল,সবজি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন মানুষ

আপেল-স্ট্রবেরির দরকার নেই, বাঙালিরা পেয়ারা বা বরই খেলেও একই উপকার পাবেন -ইউনিসেফ কর্মকর্তা

আপেল-স্ট্রবেরির দরকার নেই, বাঙালিরা পেয়ারা বা বরই খেলেও একই উপকার পাবেন

কোটি ডলার ব্যয়ে প্রচারণা, নতুন জাতের এই আপেল কি বিশ্ব বাজার দখল নিতে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি আপেলের চাষ শুরু হয়েছে যা ‘এক বছর সতেজ থাকবে’

আমের চারা তৈরি, চারা রোপণ,সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা,রোগ ব্যবস্থাপনা, পোকা দমন ব্যবস্থাপনা

আমের চারা তৈরি, চারা রোপণ,সার ব্যবস্থাপনা, সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা,রোগ ব্যবস্থাপনা, পোকা দমন ব্যবস্থাপনা – দা এগ্রো নিউজ

কমলা

কমলা চাষে সার ব্যবস্থাপনা, সেচ, আগাছা ব্যবস্থাপনা ও ফসল তোলা- দা এগ্রো নিউজ

লিচুর চারা তৈরি, চারা রোপণ, সার ব্যবস্থাপনা,অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা ও পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা - দা এগ্রো নিউজ

লিচুর চারা তৈরি, চারা রোপণ, সার ব্যবস্থাপনা,অন্তবর্তীকালীন পরিচর্যা ও পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা – দা এগ্রো নিউজ

লটকনের চাষ পদ্ধতি মাটি

লটকনের ওষুধিগুণ, চাষ পদ্ধতি, চারা রোপণ, পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ- দা এগ্রো নিউজ

তাল উৎপত্তিস্থান, পুষ্টিমান, ওষুধিগুণ, উৎপাদন পদ্ধতি, বীজতলা তৈরী ও চারা উৎপাদন - দা এগ্রো নিউজ

তাল উৎপত্তিস্থান, পুষ্টিমান, ওষুধিগুণ, উৎপাদন পদ্ধতি, বীজতলা তৈরী ও চারা উৎপাদন – দা এগ্রো নিউজ

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com