আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

উন্নয়ন সাংবাদিকতা ও টেলিভিশন (পর্ব: ২)

টেলিভিশনের মাধ্যমে তখন আমি কৃষকদের নতুন নতুন কথা শোনাচ্ছি। আমি তাদের বোঝাতাম, বাপ-দাদার আমলের প্র্যাকটিস ছেড়ে বেরিয়ে এসো। যে ধান চাষ করছো তা দিয়ে তোমার পরিবারের খাদ্যের চাহিদা মেটে না। সন্তান বাড়ছে, আর অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে কৃষি জমির পরিমাণ কমছে। জমির আইল বাড়ছে, বাড়ছে ফ্র্যাগমেন্টেশন অব ল্যান্ড। দেশিয় যে বীজ তুমি জমিতে লাগাচ্ছো এতে ধান কম হচ্ছে, তোমার চাহিদা মিটছে না। তাই তোমার উচিত সরকারি বীজ লাগানো। সরকারের কর্মকর্তারা এসে যে বীজের কথা বলেছে ওই বীজ লাগাও।

জবাবে তারা বলতো ওই বীজের ধান আমরা খাই না, ওটা রাবার ভাত। বলতাম, চালের পাশাপাশি গমের আবাদ করতে হবে। বলতো, না না গম কেন আমরা খাব? আমরা কি পাকিস্তানি! তখন দরিদ্র মানুষের খাবার ছিল গমের রুটি। বলতাম ভুট্টা লাগাতে, বলতো পাকিস্তানি জুলফিকার আলী ভুট্টোর নামের এই জিনিস আমরা কেন লাগাবো? এই ছিল তখনকার কৃষকদের সামগ্রিক অবস্থা। বাড়ির সামনে সবজি লাগানোর কথাও বলেছিলাম তাদের।

সেই সময় ঈশ্বরদীর কালিকাপুর নামে একটা জায়গা ছিল, সেখানে কৃষি কর্মকর্তারা বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গায় সবজির বাগান করার একটি মডেল তৈরি করেছিলেন। বাড়ির সামনে বিশ ফুট বাই বিশ ফুট যদি কোনো জায়গা থাকে, তাহলে বেড করে সবজি লাগিয়ে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে বিদেশি একটি সংস্থা এসে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এই মডেল ছড়িয়ে দেয় টেলিভিশনের মাধ্যমে। ঘরের পাশের যে লাউয়ের মাচা তা চলে এলো ধানখেতের আইল কিংবা পুকুরের ঢালে। মাইলের পর মাইল তখন সবজি চাষ হচ্ছে।  

তবুও দীর্ঘদিনের অভ্যাস কৃষকরা ছাড়তে চাইতো না। ৫০০ জনকে বললে ৫ জন প্রয়োগ করতো। যেই ৫ জন শুনতো তারা যেদিন লাউ বা ধানের বীজ বপন করতো, তখন বাকি কৃষকদের এনে দেখানো হতো। 

কুমিল্লা বার্ডের প্রতিষ্ঠাতা আখতার হামিদ খানই সর্বপ্রথম বাংলাদেশে একটা গ্রামে কৃত্রিম সেচের ব্যবস্থা করেন এইচওয়াইভি ধান লাগানোর জন্য। ওই যন্ত্র স্থাপনের পর পানি যখন উঠলো, তখন গ্রামের মানুষ ভয়ে পালিয়ে গেলো। 

একজন টেলিভিশন ব্রডকাস্টার 

শুরুর দিক আমি খুবই কঠিন অবস্থার মধ্যে দিয়ে কাজ করেছি? এতগুলো যন্ত্রপাতি দেখে মানুষ ভয় পেত আবার নতুন জ্ঞানের কথা বলতে গেলে তারা তেড়ে আসতো। প্রতিনিয়ত তাদের অনেক ধরনের মোটিভেশন দিতে হতো। তখন আমি দেখলাম টেলিভিশন এমন একটা ক্ষেত্র, যেখানে মানুষকে শিক্ষিত করা যায়। গান, নাটক কিংবা উন্নয়ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মানুষকে শিক্ষিত করা যায়। কিন্তু টেলিভিশনে মাতৃভাষা বাংলার প্রমিত রূপের বাইরে কোনো ভাষায় কথা বলা যেত না। তখনকার টেলিভিশনে কোনো বিশেষ জেলার ক্যারেক্টার থাকলেও সেই জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারতো না। এরকম কোনো ক্যারেক্টার রাখতে হলে পাণ্ডুলিপি প্রথমে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হতো। তারা যদি অনুমোদন দিতো, তাহলেই কেবল ঐ চরিত্রে আঞ্চলিক সংলাপ ব্যবহার করা যেত। আর এখন শত শত পর্বের নাটকও আঞ্চলিক ভাষায় প্রচারিত হচ্ছে।

১৯৮০ সালের দিকে প্রমিত বাংলার বাইরে কথা বলা ছিলো বিশাল অপরাধ। অনুষ্ঠান শুরু করার পর এক-দুই বছর কেটে গেলো। আমি লক্ষ করলাম, আমার কথা গ্রামের সাধারণ কৃষক বুঝতে পারছে না। কারণ আমি তো তার সাথে প্রমিত বাংলায় কথা বলছি। ফলে সেই কৃষক কতগুলো জায়গায় শংকিত হয়ে আছে। এক হচ্ছে, শহর থেকে যাওয়া বেশ কিছু মানুষ। তাদের পরনে আবার শার্ট-প্যান্ট। গ্রামের মানুষ তখন কালে ভদ্রে শার্ট-প্যান্ট পরতো। ছেঁড়া গেঞ্জি আর লুঙ্গিই ছিল তাদের সম্বল। তার উপর আবার আমাদের হাতে থাকতো অনেক যন্ত্রপাতি। 

কেউ যদি কথা বলতেও চাইতো, তাহলেও আমার কথা ঠিকমতো বুঝতে পারতো না। আমাকে বলতে হতো, আপনি কেন এই চাষটি করবেন? এই চাষটি করলে আপনার ভাগ্যের এই উন্নতি হবে। সে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতো, মাঝে মাঝে বলতো, আমি তো এই চাষ করি না। 

বছর দুয়েক যাওয়ার পর আমার জার্নালিস্টিক অ্যাপ্রোচে পরিবর্তন আনলাম। উন্নয়ন সাংবাদিকতার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করলাম। আমি চিন্তা করলাম বাংলা ভাষাতেই কথা বলবো কিন্তু পরিবর্তন করতে হবে। কীরকম পরিবর্তন? এমন একটি কথ্য ভাষা তৈরি করবো, যেটা সবজায়গার মানুষই বুঝবে। সেটা বরিশাল, চট্টগ্রাম কিংবা নোয়াখালীই হোক। তো ঐ চাষের কথাই এরপর আমি তাকে এভাবে বললাম: ‘গতবার আপনি যেটা করসিলেন, আর এইবার এটা করসেন। এই দুইটার মধ্যে তফাৎটা কি পাইসেন? গতবারের তে এবার বেশি হইসে না কম হইসে?’

যখন এই ভাষায় কথা বলা শুরু করলাম, কৃষকের ভেতর থেকে সব গড়গড় করে বের হওয়া শুরু করলো। কারণ এটা তার ভাষা। সে বলতে থাকলো, ‘গতবার করসিলাম, গতবারের তে এবার একটু ভালোই মনে হইসে। ওই সাব ভালোই কইসে, আমারটা ভালো হইসে। আমারটা দেইখা আশেপাশের জনও লাগাইসে। তাদেরটাও ভালো হইসে।’

টেলিভিশন প্রমিত বাংলা ব্যবহারের পক্ষে। কিন্তু টেলিভিশনের কিছু কিছু অনুষ্ঠান থাকে টার্গেট অরিয়েন্টেড। এগ্রিকালচার সেরকম একটা অনুষ্ঠান। যারা দেখে তারা বেশিরভাগ গ্রামের মানুষ। সেখানে ফোকাস গ্রামের মানুষ। আর যদি শহুরে দর্শক দেখে তাহলে সেটা অনুষ্ঠানের ক্রেডিবিলিটি, এটাই প্লাস পয়েন্ট। যাদের জন্য অনুষ্ঠান তারা যদি আমার অনুষ্ঠান না-ই বোঝে তাহলেতো অনুষ্ঠান ব্যর্থ। অডিয়েন্স ঠিক রাখার জন্য তাই প্রমিত বাংলার ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এইসব অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে। 

কাউকে জিজ্ঞাসা না করে এরকম একটা ভাষার অনুষ্ঠান আমরা প্রচার করে দিলাম, পুরো টেলিভিশনে শোরগোল বেঁধে গেল। একজন উপস্থাপক কীভাবে এই ভাষায় কথা বলে? সে সময়কার কর্তাব্যক্তি যারা ছিলেন তারা বেশ চিন্তাশীল মানুষ ছিলেন। তাদের সাপোর্টেই এই জিনিস প্রচার করা গেছে। 

ভাষার মাধ্যমে তাদের দুঃখ-বেদনা-আনন্দ বের করে নিয়ে আসা গেল। দেখা গেল তারা ক্রমশ আন্তরিক হচ্ছে। নিজের মতো করে কথা বলছে। প্রথম দিকে আমাকে অনেক বেশি কথা বলতে হতো। ২৫ মিনিটের অনুষ্ঠানে ১০ মিনিটই হয়তো আমাকে দেখা যাচ্ছে। কারণ আমি তাকে কনভিন্স করে নতুন প্রযুক্তির কথা বোঝাচ্ছি। জীবনমানের উন্নয়নের কথা বোঝাচ্ছি। এ কারণে আমাকে বেশি দেখানো হচ্ছে।

কৃষকের সাথে কথা বলতে গিয়ে দেখলাম কৃষক মাঠে কাদার মধ্যে আর আমি মাঠের আইলের উপরে দাঁড়িয়ে কথা বলছি। টেলিভিশনে যখন দেখছি, তখন তার আর আমার মধ্যে পার্থক্য অনেক। এটা ঠিক হচ্ছে না। আমার কাছে মনে হচ্ছিল এই দূরত্ব কমিয়ে আনতে হবে। পরের সপ্তাহে আইলের উপর ডেকে পাশাপাশি বসে দুজন কথা বলছি। দূরত্ব কমেছে, সম্পর্ক আন্তরিক হয়েছে। কিন্তু এতে আরেক কৃষক মনে করতে পারে আমার কৃষক ভাইয়ের সময় নষ্ট হচ্ছে। পরের অনুষ্ঠানে আমি কাদার উপর দিয়ে তার কাছে চলে গেছি। কাদা, শব্দের খেলা এগুলোর মাধ্যমে নস্টালজিক করে তুলেছি। ক্যামেরা জুম ইন করে নির্দিষ্ট বস্তুর কাছে যাওয়া। ক্যামেরা আর আমি দুজন যাচ্ছি, এর মানে দর্শককে আমি তার কাছে নিয়ে যাচ্ছি। উপস্থাপক বিষয়ের কাছে চলে যাচ্ছে, আভিজাত্য ভেঙে যাচ্ছে। কৃষক নিজেকে মর্যাদার জায়গায় প্রতিষ্ঠা করছে, তার সময় নষ্ট হচ্ছে না।

মানুষের সাথে একাত্মতা প্রকাশের জন্য এবার পোশাকের দিকে গেলাম। যদিও টেলিভিশন গ্ল্যামার কিংবা জৌলুসের জায়গা। তারপরও টার্গেট অডিয়েন্সের সাথে একাত্ম হওয়ার জন্য টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আমার এই জায়গা ভাঙতে হবে। যাদের সাথে কথা বলছি তারা ছেঁড়া কাপড় পরা, আর আমি যদি একেক সপ্তাহে একেক পোশাক পরে যাই তাহলে আমি তাদের সঙ্গে একাত্ম হতে পারবো না। তারা আমাকে আপন ভাববে না। আমার টার্গেট টেলিভিশনকে এডুকেশন আর ডেভেলপমেন্টের টুলস হিসেবে ব্যবহার করা। আমাকে তাহলে একটাই কাপড় ব্যবহার করতে হবে যেটা তার মনে গেঁথে থাকবে। আমাকে গ্ল্যামারাস হওয়ার লোভ সংবরণ করতে হবে। একটি কাপড় পরবো, সেটা হবে পাইলট শার্ট। ১৯৮০’র দশকে সেই শার্ট অনেক জনপ্রিয় ছিল। হাতের উপরে, আস্তিনের উপরে ফ্ল্যাপ থাকে, পকেটে ঢাকনা থাকে। এই শার্ট দারোয়ানরাও পরতো, কিংবা পুলিশরা। এই ধরনের শার্টে একটা আউটডোর ভাব থাকে। এই শার্টটি বিশেষ দর্জি দিয়ে বানানো হলো। প্রথমে ছিল বিস্কুট রঙের, পরে কালারে পরিবর্তন আনা হলো। পকেটে কলম নিলাম, স্কুলের শিক্ষকের মতো। চোখে চশমা পরা হলো কারণ তখনকার গ্রামীণ পরিবেশ কলম আর চশমাকে বিশেষভাবে মূল্য দেওয়া হতো। এই বেশ নিতো শিক্ষক কিংবা মসজিদের ইমামরা। কৃষকরা যেন আমাকে শিক্ষিত মনে করে। আমার কথা যদি তারা আমলে না নেয়, তাহলে কি সম্প্রসারণের কাজ হবে? এরপর সবুজ শার্ট পরার সিদ্ধান্ত নিলাম, সবুজ ধানক্ষেতের কথা ভেবে। কৃষকের সঙ্গে আরো একাত্ম হওয়ার জন্য। 

প্রথম দিকে ক্যামেরায় আমি ফোকাসড। ৫ বছর পর যখন আমি ফিডব্যাক নিয়ে অনুষ্ঠান করতে গেলাম, ফোকাস করা হলো কৃষককে, তার ফেসে ক্যামেরা ঘুরে যেত। ফ্ল্যাপের মধ্য দিয়ে ওভার দ্য শোল্ডার শটে কৃষকের মুখ। তারা তাদের উন্নয়নের কথা বলছে। বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বীজে তাদের ফলন বেশি হচ্ছে। তারা মাছ চাষ করছে। সবজির ভালো ফলন পাচ্ছে।  সর্বোপরি তাদের আয় বেড়েছে। এ কারণে তাদের সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। এভাবেই চলেছে উন্নয়ন সাংবাদিকতা। ৩০ বছর পর এখন ওই সবুজ শার্ট পরে যখন গ্রামের রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাই, তখন দূরের কৃষক আমাকে দেখলেই ডাক দেয়, জানায় তাদের উন্নয়ন কিংবা সমস্যার কথা। 

সাধারণ মানুষ কিছু পেশার মানুষকে ভয় পায়; যেমন চোর, ডাকাত, পুলিশ। আর ভয় পায় সাংবাদিককে। সাংবাদিককে তার ভয় পাওয়ার কথা ছিল না। বরং সাংবাদিকের কাছে তার সবকিছু প্রাণ খুলে বলার কথা। কিন্তু আমরা আমাদের কারণে এই প্লাটফর্মটা হারিয়ে ফেলছি। প্লাটফর্ম হারাচ্ছি এই কারণে, আমরা আমাদের কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছি, আমাদের ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনকেও অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছি। এ কারণে মানুষ স্বচ্ছন্দে কথা বলতে পারে না। তাদের সামনে মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এভাবে একটু একটু করে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে। 

আসলে এটাই উন্নয়ন সাংবাদিকতা। যে দেশে খাদ্যের নিরাপত্তা ছিল না, সে দেশে টেলিভিশন আর পত্রপত্রিকার মাধ্যমে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেছে। হাজার মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন ঘটেছে। পোলট্রি শিল্প এখন বিশাল এক শিল্প। বছর জুড়ে নানা ধরনের শাক-সবজি খেতে পারছে মানুষ। এগুলো সম্ভব হয়েছে কৃষিবিদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সরকার সর্বোপরি কৃষকের আন্তরিক ও কঠোর পরিশ্রমের কারণে। মিডিয়ার একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি তাদের একটু সাহায্য করছি। তাহলে এই সাংবাদিকতাই কি শুধু উন্নয়ন সাংবাদিকতা? তা কি শুধুই কৃষিকেন্দ্রিক? 

আসলে এমনটি নয়। আমাদের সবকিছুর মধ্যেই উন্নয়ন সাংবাদিকতা নিহিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিশৃঙ্খল রাজনীতি সবকিছুর মধ্যেই উন্নয়ন সাংবাদিকতা হতে পারে। আমাদের মেধা কিংবা সাংবাদিকতার দক্ষতা দিয়ে এগুলোর মধ্যে থেকে উন্নয়ন সাংবাদিকতাকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। গোটা ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটালেই কেবল সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব। ১৯৮০ সাল থেকে মানুষকে বলে এসেছি, কৃষি মানেই কেবল ধান আর পাট চাষ নয় কিংবা কৃষক মানেই গ্রামের সাধারণ মানুষ নয়। কৃষি হবে ইন্টিগ্রেটেড। যেটা দিয়ে তাদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে, স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটবে।(চলবে…)

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ফসল

মিষ্টি আলু চাষে হয়ে উঠুন লাভবান

খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। ছেলে থেকে বুড়ো সবার প্রিয় এই সবজি পিঠে-পুলি বানানোর জন্য আদর্শ এক সবজি। সিদ্ধ করেও যেমন খাওয়া যায়, তেমনই পুড়িয়েও এই সবজি খাওয়া যায়। বাজারে এই সবজি সহজলভ্যও বটে। পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই মিষ্টি আলু চাষ করে বর্তমানে অনেক চাষি লাভের মুখ দেখছেন।

মিষ্টি আলুর স্বাস্থ্যসম্মত দিক (Health Benefit)

মিষ্টি আলু নিয়মিত খেলে শরীরে শ্বেতকণিকার পরিমান বাড়ে। এছাড়াও এই সবজিতে পর্যাপ্ত পরিমানে ম্যাঙ্গানিজ থাকায়, নার্ভ ভালো রাখতে এবং ধমনী ও হার্ট ভালো রাখতেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। মিষ্টি আলু ভিটামিন বি৬-এর আধার। আমাদের শরীরে হোমোসাইস্টিন নামের কেমিক্যাল এই সবজি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়, এবং হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম থাকায়, এটি খেলে মানব শরীরের হৃদস্পন্দন ঠিক থাকে সাথে সাথে কিডনির রোগও দূর হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মৌ চাষ

কৃষিভিত্তিক বাংলাদেশে স্বল্প শ্রম ও স্বল্প পুঁজি সংবলিত কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাড়তি আয়ের মাধ্যমে দারিদ্র্যবিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, মৌ চাষের যন্ত্রপাতি সংশ্লিষ্ট কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ, পুষ্টির উন্নয়ন, ফল ও ফসলের ফলন বৃদ্ধি এবং বাধ্যতামূলক বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্যতা ও উন্নয়নে মৌ চাষ অনন্য। আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে মৌ চাষ কার্যক্রম গ্রহণে আগ্রহী লক্ষ জনগোষ্ঠীকে মৌ চাষে উদ্বুদ্ধকরণসহ অধিক মধু উৎপাদনের মধ্য দিয়ে দেশে খাঁটি মধুর চাহিদা পূরণ, সফল পরাগায়নের মাধ্যমে ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি তথা দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখা সম্ভব।

বাংলাদেশে মৌ চাষের ইতিহাস
মৌমাছি সাধারণত বনে জঙ্গলে, গাছের ডালে, গাছের কোটরে, মাটির গর্তে, দালানের সুবিধামতো জায়গায় মৌচাক তৈরি করে থাকে। সুন্দরবনে মৌয়ালরা বাঘের ভয়কে তুচ্ছ করে মধু সংগ্রহ করে থাকে এভাবে অবৈজ্ঞানিক পন্থায় মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক মৌমাছি ধ্বংস হয়ে যায়।বর্তমানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্রমোন্নতির সাথে সাথে অনেক কিছু সহজসাধ্য হয়েছে। প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক মৌমাছিকে পোষ মানানো সম্ভব হয়েছে। পৃথিবীর প্রায় অধিকাংশ দেশেই এখন কাঠের বাক্সে মৌমাছি পালন করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে মৌ কলোনি সংগ্রহ করে বা কৃত্রিম উপায়ে বিভাজনের মাধ্যমে রানী উৎপাদন করে প্রযুক্তিগত এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কাঠের তৈরি বাক্সে প্রতিপালন করা হয়।

মৌমাছির পরিচিতি
– মৌমাছি এক ধরনের  সামাজিক ও উপকারী পতঙ্গ;
– সংঘবদ্ধভাবে রানী, শ্রমিক ও পুরুষ সমন্বয়ে একটি কলোনিতে বসবাস করে;
– স্বভাবসিদ্ধভাবে প্রকৃতিতে বসবাস করে;
– প্রধানত ফুল থেকে নেকটার ও পোলেন সংগ্রহ করে;
– সময় ও ক্ষেত্র বিশেষ কচিপাতা, উদ্ভিদের কাণ্ড, মিষ্টি ফল এবং চিনিজাতীয় খাদ্যদ্রব্য থেকে মিষ্টি রস সংগ্রহ করে;
– নেকটার অথবা মিষ্টি রস সংগ্রহ করে একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের  তাৎক্ষণিক খাবার ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয় হিসাবে মধু উৎপাদন করে;
– সংগৃহীত পোলেন থেকে মৌমাছি বিশেষ করে অল্প বয়সের মৌমাছির প্রোটিন জাতীয় খাবারের চাহিদা পূরণ করে।

মৌমাছির প্রকারভেদ
প্রকৃতিতে চার প্রকারের মৌমাছি পাওয়া যায়। সেগুলো হলো- অ্যাপিস মেলিফেরা, অ্যাপিস ডরসেটা, অ্যাপিস সেরানা ও অ্যাপিস ফ্লোরিয়া। তবে অ্যাপিস মেলিফেরা প্রজাতির চাষাবাদ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে লাভজনক।

অ্যাপিস  মেলিফেরার বৈশিষ্ট্য
– ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশে উৎপত্তি;
– আকারে বড় ও শান্ত প্রকৃতির;
– অধিক মধু উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতি কলোনিতে বছরে মধু উৎপাদন ক্ষমতা কমপক্ষে ৫০ কেজি) বাক্সে পোষ মানে এবং কখনই বাক্স বা কলোনি পরিত্যাগ করে না।  পরাগায়নে মৌ চাষ
মৌমাছির মাধ্যমে সফল পরাগায়ন সম্ভব এটি সর্বজনস্বীকৃত। বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে মৌমাছি দ্বারা পরাগায়ত ফসলের ১০ থেকে ১৫ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত বাড়তি ফসলের মূল্য মোট উৎপাদিত মধু ও মোমের মূল্যের ১০ থেকে ১৫ ভাগ বেশি। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষিদের পাশাপাশি কৃষককে উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মধুফুল মৌসুমে ভ্রাম্যমাণ মৌ খামার ও প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে অধিক মধু এবং ফল ও ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে মৌচাষি এবং কৃষক উভয়ই উপকৃত হবেন। বাড়তি ফল ও ফসলের উৎপাদনের ফলে দেশের জিডিপিতে আরও অবদান রাখা সম্ভব।

মৌ চাষে সতর্কতা

মৌবাক্সে বসানোর আশপাশের জমিতে বালাইনাশক সব সময়ই বিকেলের পরে স্প্রে করা প্রয়োজন। না হলে বালাইনাশক প্রয়োগের কারণে মৌমাছি মারা যাবে।

মৌ চাষের সুফল
বাংলাদেশের বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে মৌ চাষের উল্লেখযোগ্য সুফল নিম্নরূপ
– নিয়মিত বিশুদ্ধ মধু সেবনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ;
– বিশেষ বিশেষ রোগ নিরাময়;
– বাড়তি আয়;
– খাদ্যে পুষ্টিমান বৃদ্ধি ও উন্নয়ন;
– মোম ব্যবহারের মাধ্যমে বহুবিধ প্রসাধনী ও ওষুধ শিল্পের উন্নয়ন;
– স্বাদ ও রুচির দিক থেকে খাদ্যের মান উন্নয়ন;
– কৃষিভিত্তিক কুটির শিল্পের উন্নয়ন;
– দেশজ সম্পদের  ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান;
– বনজ সম্পদের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ এবং পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষা;
– ফল ও ফসলের সফল পরাগায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি;
– আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডর মাধ্যমে পারিবারিক সচ্ছলতা;
– মৌ চাষের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

উপকারী ফুলকপির পাঁচ পদ

চলছে শীতকাল। বাজারে গেলেই এখন দেখা যায় টাটকা ফুলকপি। বিভিন্ন পুষ্টিগুণে ভরপুর এ সবজিটি আমাদের রান্নাঘরে দীর্ঘদিনের বন্ধু। ভেজে, ভাপিয়ে, ঝোল ঝোল করে, অন্যান্য সবজির সঙ্গে মিশিয়ে, বিভিন্নভাবেই খাওয়া যায় এটি। ফুলকপিতে থাকা বিভিন্ন খাদ্য উপাদান আমাদের সর্দি-কাশি, জ্বর জ্বর ভাব থেকে যেমন বাঁচায়, তেমনি বাঁচায় অকালে দাঁত লাল হয়ে যাওয়া, মাড়ি দুর্বল হয়ে যাওয়া থেকেও। এ ছাড়া এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে।

তাই এই শীতকালে যত ইচ্ছা ফুলকপি খান। এখন এটি দামেও সস্তা। রেসিপি দিয়েছেন কবিতা গোস্বামীজিনাত নাজিয়া

ফুলকপির ফুলকারি

উপকরণ:

মাঝারি আকারের ফুলকপি ১টি, আলু ২টি, তেল ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, জিরা ২ চা-চামচ, শুকনা মরিচ ২টা, তেজপাতা ২টা, জিরাবাটা ১ টেবিল চামচ, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, ধনেগুঁড়া ১ চা-চামচ, চিনি ১ টেবিল চামচ, কাজু বাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, দুধ ২ কাপ, কাঁচা মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, শুকনা মরিচের গুঁড়া ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, গরমমসলার গুঁড়া ১ চা-চামচ, পানি পরিমাণমতো, সাজানোর জন্য কিশমিশ ও ভাজা কাজুবাদাম।

প্রণালি

ফুলকপির ফুলগুলো সমানভাবে কেটে লবণপানিতে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর লবণ ও হলুদ দিয়ে মেখে নিন।

কড়াইয়ে তেল গরম করে তাতে লবণ-হলুদ মাখানো ফুলকপির টুকরা লাল করে ভেজে তুলে নিতে হবে। ওই তেলে শুকনা মরিচ, জিরা, তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে আলু ভাজতে হবে। লবণ ও হলুদ দিয়ে এরপর জিরা, ধনে, আদাবাটা, কাঁচা মরিচবাটা, শুকনো মরিচগুঁড়া, চিনি এবং অল্প পানি দিয়ে কষাতে হবে। কপি নরম হয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর দুধ দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে কাজুবাদামবাটা, গরমমসলা দিয়ে ঢেকে রাখুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে পরিবেশনের পাত্রে ঢেলে ভাজা কাজু দিয়ে সাজিয়ে নিন।

মালাই ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপি ১টি, আদা ও রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ করে, কাজুবাদামবাটা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, টমেটোকুচি আধা কাপ। হলুদ, মরিচ ও ধনেগুঁড়া আধা চা-চামচ করে। এলাচ ও কাঁচা মরিচবাটা আধা চা-চামচ করে। তেজপাতা ও দারুচিনি ২-৩টি করে, দুধ দেড় কাপ, ক্রিম আধা কাপ, ঘি আধা কাপ, টক দই আধা কাপ, চিনি ও লবণ স্বাদমতো, কিশমিশ অল্প পরিমাণে।

প্রণালি

ফুলকপির ফুল ছাড়িয়ে নিন। প্যানে অল্প ঘি দিয়ে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার এতে বাকি ঘি দিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিয়ে পেঁয়াজকুচি ভেজে নিন। এতে কাজুবাদাম ছাড়া অন্য সব বাটা ও গুঁড়া মসলা দিয়ে কষিয়ে নিন। তিন মিনিট পর দই দিন। আরেকটু কষিয়ে অল্প দুধ দিন। মসলা ভাজা-ভাজা হলে টমেটো ও ভাজা ফুলকপি দিয়ে আবার একটু দুধ দিয়ে কষান। একটু পর বাকি দুধ দিয়ে ঝোল ঝোল করে নিন। ফুটে উঠলে অল্প দুধে কাজুবাদামবাটা গুলে দিন। এই রান্নায় পানি দেওয়া যাবে না। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে এলে ক্রিম দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে চিনি ও কিশমিশ দিয়ে নামান।

ফুলকপির ফুলবাহার

উপকরণ:

ছোট করে কাটা ফুলকপির ফুল ৩ কাপ, কালোজিরা ১ চা-চামচ, শুকনো মরিচ ২-৩টি, মাখন ৪ টেবিল চামচ, আদা ও রসুনকুচি ১ টেবিল চামচ করে। টমেটো সস ৩ টেবিল চামচ, সয়া সস ২ টেবিল চামচ। লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, জিরার গুঁড়া সামান্য, ধনেপাতা সামান্য।

প্রণালি

অল্প মাখনে ফুলগুলো এক মিনিট ভেজে নামান। এবার মাখনে শুকনা মরিচ ও কালোজিরা ফোড়ন দিয়ে আদা ও রসুনকুচি ভেজে নিন। এতে ফুলগুলো দিয়ে লবণ দিন। আধা সেদ্ধ হয়ে এলে সস ও সয়া সস দিয়ে পাঁচ মিনিট ঢেকে দিন। ফুলকপি সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরার গুঁড়া দিয়ে অল্প আঁচে কিছুক্ষণ রেখে দিন। ওপরে একটু মাখন দিয়ে নামান।

মচমচে ফুলকপি

উপকরণ:

ফুলকপির ফুল ১০-১২টি, সবুজ ক্যাপসিকাম ১টি, গাজর ১টি, আলু ১টি, ডিম ২টি, কর্নফ্লাওয়ার ও চালের গুঁড়া আধা কাপ করে, গোলমরিচের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, লবণ, পানি, কাঁচা মরিচকুচি পরিমাণমতো, আদা ও রসুনকুচি ১ চা-চামচ করে, টমেটো সস, চিলি সস ও সয়া সস ২ টেবিল চামচ করে, মাখন আধা কাপ, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

ফোটানো লবণপানিতে ফুলকপিগুলো এক মিনিট ফুটিয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। একইভাবে লম্বা করে কেটে আলু, ক্যাপসিকাম ও গাজর অল্প সেদ্ধ করে নিন। এবার ফুলকপিতে ডিম, কর্নফ্লাওয়ার, চালের গুঁড়া, গোলমরিচ ও চাট মসলা দিয়ে ভালোভাবে মেখে ডুবোতেলে ফুলগুলো ভেজে তুলে রাখুন। এবার ওই প্যানে মাখন গরম করে আদা ও রসুন ফোড়ন দিয়ে সস ও কাঁচা মরিচকুচি দিয়ে অল্প পানি দিয়ে কষান। কষানো হলে সেদ্ধ সবজি দিয়ে কিছুক্ষণ ঢেকে রেখে ভাজা ফুলকপি দিয়ে হালকা হাতে নেড়ে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন।

ফুলকপির রাজ কোফতা

উপকরণ:

কুচি করা ফুলকপি ৪ কাপ, গরু বা খাসির মাংসের কিমা বাটা ১ কাপ, মিহি পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, আদাকুচি ১ চা-চামচ। কাঁচা মরিচকুচি, ধনেপাতাকুচি ও লবণ স্বাদমতো। গোলমরিচ গুঁড়া ও চাট মসলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ করে। টমেটোকুচি আধা কাপ, ব্রেড ক্রাম্ব ও কর্নফ্লাওয়ার আধা কাপ বা পরিমাণমতো। ডিম ২টি, কাজুবাদাম ও কিশমিশকুচি ২ টেবিল চামচ করে, ভাজার জন্য তেল পরিমাণমতো।

প্রণালি

তেল ছাড়া সব উপকরণ ফুলকপির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। হাতে অল্প তেল নিয়ে কোফতা বানিয়ে ডুবোতেলে মচমচে করে ভেজে তুলুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ওষধি উদ্ভিদ কালমেঘ চাষে ব্যাপক আয়

ওষধি উদ্ভিদ কালমেঘ নিয়ে মোটামুটি সবাই বর্তমানে ওয়াকিবহাল। বীরুৎ-জাতীয় এই উদ্ভিদের ভেষজ গুণ প্রচুর পরিমানে থাকায় বর্তমানে আমাদের রাজ্যে কালমেঘ চাষ প্রচুর পরিমানে হচ্ছে। শারীরিক সমস্যা দূর করতে কালমেঘের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কালমেঘ পাতার রস রক্ত আমাশা দূর করা ছাড়াও, কৃমির সমস্যা রোধ করতেও ভীষণ কার্যকরী। মূলত বীজ থেকে এই কালমেঘের চাষ হয়। জন্ডিস, কৃমি, ম্যালেরিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, যকৃতের সমস্যার জন্য কালমেঘ খুবই উপকারী। সর্দি-কাশি ও চামড়ার রোগ দূর করতেও কালমেঘের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। জুন-জুলাই মাসে মূলত এই ফসলের চাষ হয় এবং মার্চ-ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদ এর বীজ সংগ্রহ করা হয়।

মাটি ও জলবায়ু: (Soil and Climate)

যে কোনও ধরণের জলবায়ুতেই এই গাছের চাষ সম্ভব যেমন, তেমনই বিভিন্ন মাটিতেও এটি বেড়ে উঠতে পারে। তবে বেলে-দোআঁশ মাটি এই চাষের জন্য আদর্শ৷ কালমেঘ চাষের আগে জমি ভালো করে কর্ষণ করে নিতে হবে। ১৫ সেন্টিমিটার দূরত্ব রেখে কালমেঘের বীজ বপন করা উচিত। ঠান্ডা আবহাওয়ায় মূলত কালমেঘের চাষ ভালো হয়।

সার প্রয়োগ ও সেচ (Fertilizer and Irrigation)

প্রথমে মাটি, বালি, জৈব সার মিশিয়ে বীজের জন্য মাটি প্রস্তুত করে নেওয়া উচিত। বীজ থেকে চারা বেরোলে তা চাষের জমিতে পোঁতা হয়।  কালমেঘের ভালো ফসলের জন্য জমিতে গোবর সার ব্যবহার করেন অনেকে।  মূলত বর্ষাকালে এটি চাষ করা হয় তাই সেচ কার্যের তেমন প্রয়োজনীয়তা পড়ে না৷ তবে প্রথম প্রথম তিন-চার দিন পর পর প্রয়োজনাসুরে জল দিতে হয়।  এরপর আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী সপ্তাহে সপ্তাহে জলসেচ দেওয়া যেতে পারে৷

পরিচর্যা (Caring)

অন্যান্য চাষের মতন কালমেঘেরও পরিচর্যা করা উচিত। আগাছা থাকলে তা যত্নের সঙ্গে কেটে দেওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে জমিতে যাতে জল না জমে। চারা রোপনের তিন মাসের মাথায় ফসল সংগ্রহ করে নেওয়া উচিত। বাজারে কালমেঘের প্রচুর পরিমানে চাহিদা থাকায়, এই চাষ করে কৃষকরা অধিক উপার্জন সহজেই করতে পারবেন।

পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, অসম, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশে কালমেঘের চাষ প্রচুর পরিমানে হয়। কৃষকরা এই ওষধি উদ্ভিদ চাষ করে ভালোই উপার্জন করছেন, তা এই রাজ্যগুলিতে কালমেঘের ব্যাপক চাষই প্রমাণ করে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বাড়ছে মিল্কফিশ চাষ, জেনে নিন এর সহজ চাষ পদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে মাছের অন্যতম জনপ্রিয় জাত মিল্কফিশ। এটি তাজা বা প্রক্রিয়াজাত করা হয়। চিনিডে পরিবারে মিল্কফিশ একমাত্র প্রজাতি। মিল্কফিশ শুধুমাত্র সম্পূর্ণ লবণাক্ত জলে ডিম পাড়ে। যদি আপনি একটি পুকুরে মিল্কফিশ বাড়াতে চান তবে আপনাকে পুকুরের ছাড়ার জন্য সমুদ্র থেকে পোনাদের ধরতে হবে।

জায়গা নির্বাচন(Site selection):

যে কোনও উন্নত ও কার্যকর ব্র্যাকিশ জলের মাছের খামারে মিল্কফিশ চাষ শুরু করা যেতে পারে। সর্বনিম্ন ০.৮ থেকে ১ মিটার জলের গভীরতা থাকতে হবে; ১০ থেকে ৩০ পিপিটি এর সর্বোত্তম লবণাক্ততা, ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তাপমাত্রা, সারা বছরে ৪.০ থেকে ৫.০ পিপিএমের জল পিএইচ মান ৭.৫ থেকে ৮.৫ ডিগ্রি অক্সিজেন (ডিও) সহ মানের জল প্রয়োজন | পুকুরের মাটি বেলে বা  কাদামাটি হতে হবে। বাজারে পৌঁছানোর জন্য মিল্কফিশ চাষের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহও প্রয়োজনীয়।

মিল্কফিশের জন্য বীজ সংগ্রহ(Seed collection):

মিল্কফিশ পুকুর এবং সীমাবদ্ধ জলে প্রজনন করে না; হ্যাচারি প্রযুক্তির উন্নয়ন কঠিন ছিল। যদিও এই প্রজাতিতে প্ররোচিত প্রজনন সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে, চূড়ান্ত বেঁচে থাকার হার কম হয়েছে এবং হ্যাচারি অপারেশনগুলি অর্থনৈতিক নয়। ভারতে ওড়িশা, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, কেরালা এবং কর্ণাটক উপকূলে ২ থেকে ৭ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের মিল্কফিশের বীজ দেখা যায়। শান্ত উপকূলীয় জলের প্রয়োজন যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ২৩  থেকে ২৫  ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং লবণাক্ততা ১০ থেকে ৩২ পিপিটির মধ্যে পরিবর্তিত হয়।

জল সরবরাহ ও হ্যাচারি উৎপাদন(Water supply):

ফিশপন্ড সাইটের উপযুক্ততার জন্য জল সরবরাহ হ’ল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় | সাধারণত, জল সরবরাহ একটি নদী, সমুদ্র, বা খাঁড়ি থেকে আসে। এটি অবশ্যই সারা বছর ধরে পুকুরের প্রয়োজনীয়তার গুণমান এবং পরিমাণ পূরণ করতে হবে। যদি জলের উৎস দূষিত হয় এবং আয়তন অপর্যাপ্ত হয় তবে মাছ চাষ করা ব্যৰ্থ হবে |

হ্যাচারি অপারেশনগুলি আধা-নিবিড় (কম মজুদ ঘনত্ব, ন্যূনতম জল বিনিময়, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, মিশ্র খাদ্যের সাথে খাওয়ানো) বা নিবিড় (উচ্চ স্টকিং ঘনত্ব, উচ্চ ভলিউম ট্যাঙ্ক, দৈনিক খাওয়ানো এবং জল বিনিময়) সিস্টেম ব্যবহার করে, যার গড় বেঁচে থাকার হার ৩০% (মজুদ করা সদ্য-ফুটে থাকা লার্ভা থেকে)। ডিম ছাড়ার পর, লার্ভা আদর্শভাবে ৫০/লিটারে হ্যাচারি ট্যাঙ্কে রাখা হয় (ফাইবারগ্লাস, কংক্রিট, ক্যানভাস, অথবা পলিপ্রোপিলিন-আচ্ছাদিত মাটির ট্যাঙ্ক) ক্লোরেলার সাথে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোটিফার খাওয়ানো হয় এবং পরবর্তীতে মোট চিংড়ি দিয়ে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ।

মাছ সংগ্রহ(Harvest):

পুকুরগুলি সম্পূর্ণ নিষ্কাশন করা বা পুরো নেট খাঁচার কাঠামো বন্ধ করে দেওয়া, সাইনিং বা কলমে গিলনেটের ব্যবহার)। এই পর্যায়ে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের মাছ পাওয়া যায় |

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com