আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি

গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি
গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় খামার ও বাসাবাড়িতে কোরবানিযোগ্য প্রায় ৯ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে করোনা ও বন্যা দুর্যোগের কারণে পশুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে বিভাগের দেড় লাখ খামারি সংশয়ে আছেন। অনেকেই কম দামে গরু বিক্রি করছেন।

এ অবস্থায় খামারিদের লোকসান ঠেকাতে অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেই সঙ্গে হাট-বাজারগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে পশু বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অঞ্চল ভেদে পশু পরিবহনের সু-ব্যবস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো সড়কের পাশাপাশি রেলপথকেও বেছে নেয়া হয়েছে।

এত কিছুর পরও পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে খামারিরা সংশয়ে আছেন। করোনা ও বন্যার প্রভাব পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের হাটগুলোতে। সেই সঙ্গে রয়েছে গরুর লাম্পিং স্কিন ডিজিজ। গরু কেনায় তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। হাটে সাধারণ ক্রেতাদেরও নেই ভিড়।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খটখটিয়া এলাকার বাসিন্দা জোবেদা লাইভস্টক কমপ্লেক্সের পরিচালক রেজওয়ানুল হক টফি জানান, শিক্ষিত হয়ে দেশে কোনো চাকরি জোটেনি তার ভাগ্যে। সংসারের বোঝা না হয়ে পাড়ি জমান বিদেশে। সেখানে ৫ বছর থাকার পর বাড়িতে এসে শুরু করেন গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প। তার খামারে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের ১৫টি গরু আছে। প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন তার খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। গেল বছর পশু খাদ্যের দাম কম থাকলেও এ বছর করোনা ও বন্যার কারণে খাদ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি গরুর দাম। এখন পযর্ন্ত অনেকেই খামারে এসে গরুর দাম বললেও তাতে তার গরু কেনা ও লালন-পালনের দাম উঠবে না বলে তিনি দাবি করেন।

গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি
গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি

একই এলাকার খামারি সাইফুল ইসলাম গত এক দশক ধরে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প করে আসলেও এবারের ঈদে পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন না জেনে অনেক আগেই কম দামে গরু বিক্রি করেছেন। বুক ভরা আশা নিয়ে তার মতো অনেকেই গরু লালন-পালন করলেও এ বছরও শঙ্কায় আছেন বিভাগের এক লাখ ৫৫ হাজার ৮০২ জন খামারি।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের উপ-পরিচালক ডা. হাবিবুল হক জানান, চলতি বন্যা ও লাম্পিং ডিজিজের প্রভাব পড়বে না কোরবানির পশুতে। বিভাগের আট জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা সাড়ে ছয় লাখ হলেও কোরবানিযোগ্য পশু মজুত আছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৮৮১টি।

এর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ চার লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৪টি, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য দুই লাখ ৭১ হাজার ২৩৩টি এবং গৃহপালিত পশু আছে এক লাখেরও বেশি। তাই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পশু যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এজন্য সড়ক পথের পাশাপাশি নতুন সংযোজন হিসেবে রেলপথকেও বেছে নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদের যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে সহজে পশু কেনার সু-ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে গোটা বিভাগে প্রায় ৪০০ কোরবানির পশুর হাটে কেনাবেচার ব্যাবস্থা করছে জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নিরাপদে পশু কেনাবেচা করতে পারেন সেজন্য সব ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রতিটি পশুর হাটে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাসহ জালটাকা শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর থাকবে।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, দেশীয় শিল্প রক্ষায় ভারতীয় গরুর প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে নিরাপদে পশু পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
1 Comment

1 Comment

  1. Pingback: গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি – Farmers' Online Marketplace

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

লাইভস্টক

‘তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার কৃষি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে’

লেখক

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেছেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিক কৃষিতথ্য কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষিতে অনেক বেশি সুফল আসবে। তথ্যপ্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করতে পারলে কৃষি অর্থনীতির চাকা আরও গতিশীল হবে।

বুধবার রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি তথ্য সার্ভিসের কনফারেন্স রুমে ‘করোনাকালীন কৃষিতে তথ্যপ্রযুক্তি বিস্তারে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এই সিনিয়র সচিব বলেন, ‘কৃষিতে আমাদের ব্যাপক সফলতা রয়েছে। কৃষির এ সফলতা এখন সর্বজনীন স্বীকৃত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সবুজ বিপ্লব ডাক দেওয়ার ফলেই আজ কৃষির এ সফলতা উন্নীত করতে পেরেছি। কৃষিতে নানামুখী চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের খাদ্য উৎপাদন চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার করোনকালীন কৃষি উন্নয়নের অগ্রগতির ধারাকে অব্যাহত রাখতে নানামুখী প্রণোদনা কার্যক্রম চালু রেখেছে। সরকারের সক্ষমতা পরিবর্তন হচ্ছে, মধ্যম আয়ের দেশ অর্জন হয়েছে। ২০৪১ সালে উন্নত রাষ্ট্রে উপনীত হওয়ার কার্যক্রমও বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

কৃষি তথ্য সার্ভিসকে আরও শক্তিশালীকরণের বিষয়ে মো. মেসবাহুল ইসলাম বলেন,  ‘কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষি মন্ত্রণালয় অন্যান্য সংস্থা থেকে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী। এটি আরও উন্নত ও আধুনিক হবে। কৃষিতে আধুনিক তথ্য ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে কৃষি টিভি, কমিউনিটি রেডিও স্থাপন প্রকল্প এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রিভিজিট বাস্তবায়ন করে কৃষি তথ্য সার্ভিসকে আরও আধুনিকায়ন করা হবে- যাতে করে কৃষকের দোরগোড়ায় দ্রুততম সময়ে তথ্যসেবা পৌঁছে যেতে পারে।’ 

কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং কৃষিকে স্মার্ট করতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সব সংস্থার  সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের পরিচালক কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশন মাটি ও মানুষের উপস্থাপক মো. রেজাউল করিম সিদ্দিক। মূল প্রবন্ধের ওপর আলোচক ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের এপিএ পুলের সদস্য ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো. হামিদুর রহমান। 

এতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর সংস্থার মিডিয়া ফোকাল পয়েন্টবৃন্দ, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

মাশরুমের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে প্রকল্প আসছে: কৃষিমন্ত্রী

লেখক

সম্ভাবনাময় মাশরুম চাষ সারাদেশে সম্প্রপ্রসারণে প্রকল্প গ্রহণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, মাশরুমের উন্নত জাত ও চাষের প্রযুক্তি উদ্ভাবন হয়েছে। এখন কৃষক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে দেওয়া দরকার।

রোববার সাভারে মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে মাশরুম চাষি ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।


কৃষিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও নানা প্রণোদনার ফলে গত ১২ বছরে কৃষিতে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন হয়েছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের এখন লক্ষ্য কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ, লাভজনক ও পুষ্টিসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে মাশরুমের সম্ভাবনা অনেক। এটির চাষ বাড়লে দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। তৈরি হবে আন্তর্জাতিক বাজার।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুলল্গাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব (সল্ফপ্রসারণ) মো. হাসানুজ্জামান কলেল্গাল, সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মঞ্জরুল আলম রাজিব, পৌর মেয়র আব্দুল গণি।

বাংলাদেশে মাশরুম চাষের প্রয়োজনীয়তা, সুযোগ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক ফেরদৌস আহমেদ। প্রবন্ধে বলা হয়, মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বিদেশ থেকে মাশরুমের ১৬২টি জাত এনে দেশে চাষের উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। দেশের পাহাড়ি ও বনাঞ্চল থেকেও ১৪০টি জাত সংগ্রহ করা হয়। মাননিয়ন্ত্রণ ও মাননিশ্চিতে ইনস্টিটিউটে রয়েছে আধুনিক ল্যাব। দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মাশরুম উৎপাদন হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৮শ কোটি টাকা। দেড় লাখ মানুষ মাশরুম উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

মুক্তা চাষে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে মুক্তা চাষে সফলতা পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম। এরই মধ্যে তার মুক্তা চাষের সফলতার গল্প ছড়িয়ে পড়েছে গোটা জেলা জুড়ে। নুরুল ইসলামের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই এখন মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সরকারি বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে মুক্তা চাষের মাধ্যমে উম্মোচিত হতে পারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে আহরিত মুক্তা

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে আহরিত মুক্তা

জুয়েলারি, ওষুধ শিল্পে, কসমেটিক্স, পেইন্টস ফরমুলেসনে মুক্তা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দেশে হাওড় ও বিলে প্রাকৃতিকভাবে মুক্তা পাওয়া গেলেও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। তাই এটি চাষের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হলে দেশীয় চাহিদা পুরনের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাও অজর্ন করা সম্ভব। সেই সঙ্গে আর্থিকভাবে সফলতা তো রয়েছেই।  প্রাকৃতিক জলাশয়ে মুক্তা চাষ

প্রাকৃতিক জলাশয়ে মুক্তা চাষ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার কেলতাবাড়িয়া গ্রামে ব্রাইট এগ্রো নামের একটি কৃষি খামার স্থাপন করেন অবসারপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম। এতে পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগীতা করেন তার আপন ছোট ভাই টেকসই উপকূলীয় মেরিন ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম। এই এগ্রো ফার্মেই ২০১৯ সালে মাছের পাশাপাশি ঝিনুকের মুক্তা চাষের প্রকল্প হাতে নেয় নুরুল ইসলাম। গড়ে তোলে একটি প্রদর্শনী খামার। প্রথমে মুক্তাচাষের প্রদর্শনী খামার গড়ে তুললেও এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষে আগ্রহী তিনি। তবে নুরুল ইসলামসহ আগ্রহী চাষিরা বলছেন মুক্তা চাষ করতে প্রয়োজন সরকারি সহায়তা। বরগুনায় মুক্তা চাষে সফলতা

বরগুনায় মুক্তা চাষে সফলতা

খামারটিতে প্রাকৃতিক জলাধার থেকে মানসম্পন্ন ঝিনুক সংগ্রহ করে ঝিনুকের মুখ ফাঁক করে ঝিনুকের খোসার গুড়া ও ২ ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যের সংমিশ্রণে বিভিন্ন ধরনের ডাইচ ভেতরে স্থাপন করা হয়। এরপর মান্ডেল টিস্যুর সাহায্যে নেটে আটকিয়ে দেড় ফিট পানির নিচে ৩ ফিট দূরত্বে ফ্লুডের মাধ্যমে ৪৫দিন পানিতে ভাসিয়ে রাখতে হয়। 

৪৫ দিনের মধ্যেই ইমেজটি ঝিনুকের খোলসের সঙ্গে আটকে যায়। ৪৫ দিন পরে নেটের ভেতরে মাটির প্রশস্ত বাসন জাতীয় পাত্রের ওপর আটকিয়ে রেখে খাদ্য হিসেবে প্লাংটন উৎপাদনের জন্য গোবর প্রয়োগ করার পর ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে ঝিনুকের ভেতরে মুক্তা আহরণের উপযুক্ত হয়। 

আর এসব কাজে ঝিনুক প্রতি ব্যয় হয় সর্বোচ্চ ১০০ টাকা। বাড়ির পাশে পুকুর ও জলাধারে এরকম মুক্ত চাষ সম্ভব্য ব্যায়ের পরিমাণও কম। উৎপাদিত মুক্তা প্রতিটি গড়ে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বিক্রি হয়। প্রতিটি ঝিনুকের মধ্যে ৪ থেকে ৬টি মুক্তা উৎপাদন সম্ভব।  বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মুক্তা চাষ

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মুক্তা চাষ

মুক্তা চাষের উদ্যোক্তা মো. নুরুল ইসলাম বলেন, পুকুর বা জলাশয়ে এক সঙ্গে মুক্তা এবং মাছ চাষ করে যেকোনো পরিবার অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। ব্রাইট এগ্রোর মুক্তা চাষ প্রকল্প দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসছে । ব্রাইট এগ্রোর পক্ষ থেকে হাতে কলমে আগ্রহীদের ধারণা দেয়া হচ্ছে ঝিনুকের মুক্তা চাষের, পদ্ধতি কৌশল দেয়া ও পরিচর্যার বিষয়। 

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ঝিনুক থেকে উৎপাদিত হয় ৪টি মুক্তা। বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি মুক্তা উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে গ্রীসে অবস্থানরত বাঙালিরা মুক্তা সংগ্রহের ব্যাপারে যোগাযোগ করছেন। আগামী মাসে গ্রীসে প্রবাসী বাঙালিদের চাহিদা মতো ১ হাজার পিস মুক্তা পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মুক্তা চাষ

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয়ে মুক্তা চাষ

মুক্তা চাষে আগ্রহী লতবাড়িয়া গ্রামের আবদুস সোবাহান বলেন, আমাদের প্রচুর প্রাকৃতিক জলাধার রয়েছে। জলাধারগুলোতে প্রচুর ঝিনুক পাওয়া যায়। আমরা নুরুল ইসলামের প্রদর্শনী খামার দেখেছি। আমরা নিজেরাও মুক্তা চাষ করতে আগ্রহী। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটা বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ সম্ভব। 

একই এলাকার সহিদুল ইসলাম বলেন, আমিও মুক্তাচাষ শুরু করেছি। কিন্তু সরকারি সহায়তা পেলে এটা আরো ব্যাপক পরিসরে করা সম্ভব। সেই সঙ্গে অনেক মানুষের কর্মসংস্থানও সম্ভব। 

বরগুনা পাবলিক পলিসি ফোরামের আহ্বায়ক মো. হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলে প্রচুর প্রাকৃতিক জলাধার রয়েছে। যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঝিনুক পাওয়া যায়। এই ঝিনুক সংগ্রহ করে মুক্তাচাষের আওতায় নিয়ে আসলে বরগুনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে মুক্তা চাষ

বরগুনায় প্রাকৃতিক জলাশয় থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে মুক্তা চাষ

এ বিষয়ে বরগুনার ডিসি হাবিবুর রহমান বলেন, সরেজমিনে ঝিনুকের মুক্তা চাষের প্রকল্পটি পরিদর্শন করেছি। বরগুনার মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় মুক্তা চাষ একটি লাভজনক প্রকল্প। এই মুক্তাচাষ প্রকল্পটি প্রসারে এবং আগ্রহী কৃষকদের সহযোগীতা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বরগুনার এই উপকূলীয় এলাকায় এ ধরনের উদ্যোক্তার প্রয়োজন। তার এই উদ্যোগ দেখে আমি খুবই আনন্দিত। এলাকার বেকার যুবকরা একটু উদ্যোগী হলে মুক্তা চাষ প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে । 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

কুমিল্লায় জনপ্রিয় হচ্ছে ‘সুপার ফুড’ মাশরুম

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে মাশরুমের ভূমিকা কতটা? তা কারো অজানা নেই। এ কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পাশাপাশি কুমিল্লায় করোনা পরিস্থিতিতে বেড়েছে মাশরুমের চাহিদা। তবে উৎপাদন কম হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী মাশরুম পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে কুমিল্লায় প্রচুর মাশরুম উৎপাদন হলেও চাহিদা ছিল না। প্রচারণা না থাকায় মানুষ মাশরুম খেতে চাইত না। এখন মাশরুম খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছে না। প্রতিদিনই মাশরুম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে ঝুঁকছেন ক্রেতারা।

কুমিল্লা সদর উপজেলার ছত্রখিল গ্রামের চন্দন কুমার সাহা ১৫ বছর ধরে মাশরুম চাষ করেন। তিনি বলেন, ৫-৬ বছর আগে কুমিল্লায় ১০০ জনের বেশি মাশরুম চাষি ছিল। বর্তমানে টিকে আছে ৫-৬ জন। তবে তরুণরা উদ্বুদ্ধ হলে জেলায় মাশরুমের উৎপাদন কিছুটা বাড়বে।

চন্দন সাহা আরো বলেন, আমার খামারে ২-৩ কেজি মাশরুম হয়। কিন্তু বর্তমানে চাহিদা ১০০ কেজির বেশি। আগে উৎপাদন ছিল, ক্রেতা ছিল না। এখন চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

কৃষিবিদ গোলাম সারোয়ার ভূঁইয়া বলেন, পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মাশরুমকে সুপার ফুড হিসেবে বিবেচনা করেন। নিয়মিত মাশরুম খাওয়ার অভ্যাস আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আগে কুমিল্লায় মাশরুম উন্নয়ন ও জোরদারকরণ প্রকল্প ছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভাটা নেমে এসেছে।

মাশরুম উন্নয়ন ও জোরদারকরণ প্রকল্প কুমিল্লার সাবেক কর্মকর্তা, ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে এখানে স্থবিরতা নেমে আসে। ইচ্ছে করলে সেই উদ্যম ধরে রাখা যেত। মানুষের প্রয়োজনে মাশরুম চাষ জনপ্রিয় করা প্রয়োজন।

হর্টিকালচার সেন্টার কুমিল্লার উপ-পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাশরুম একটি পুষ্টিকর খাবার। এটি কম জায়গায় অল্প পুঁজিতে চাষ করা যায়। প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। এ সংক্রান্ত বড় বরাদ্দ পাওয়া গেলে আরো বেশি মানুষের মাঝে মাশরুম চাষ ছড়িয়ে দেয়া যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

লাইভস্টক

গাভি পালন করে পাইকগাছায় মোহাম্মদ আলীর সফলতা

খুলনার পাইকগাছায় উন্নত জাতের গাভি পালন করে সফলতা পেয়েছেন যুবক মোহাম্মদ আলী গাজী। বর্তমানে তার খামার থেকে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ কেজি দুধ উৎপাদন হচ্ছে। মোহাম্মদ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড গোপালপুর গ্রামের মৃত আমির আলী গাজীর ছেলে। ২ বছর আগে সে লামিয়া ডেইরি ফার্ম নামে উন্নত জাতের গাভি পালন শুরু করে। খামারের জন্য নিজ বসতবাড়ির সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পাকা ঘর নির্মাণ করে। সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়ে ৩টি গাভি কিনে খামারের যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে তার খামারে ২৫টি গাভি রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি দুধ দেয় এবং বাকিগুলো প্রজননসম্পন্ন গাভি। গাভি পালনের জন্য সে সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে উন্নত জাতের ঘাসের চাষ করেছে। গাভিগুলো থেকে সে সকাল এবং বিকালে দুধ সংগ্রহ করে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় দেড়শ কেজি দুধ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত দুধের বেশির ভাগ আকিজ কোম্পানির দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্রে বিক্রয় করে থাকে। খামারটি নিজে এবং নিজের পরিবার সার্বক্ষণিক শ্রম দিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি ৩ জন শ্রমিক রয়েছে, যারা বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে খামারটির জন্য ওষুধ এবং ঘাসের বীজ সরবরাহ করে থাকেন। গাভি পালন করে সফলতা পেলেও রয়েছে নানান সমস্যা। এ ব্যাপারে মোহাম্মদ আলী জানান, গাভি পালন বেকারত্ব দূরীকরণসহ অনেক লাভজনক একটি পেশা। তবে খামারটির পরিসর বাড়ানোর জন্য ব্যাংক ঋণ অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের ঋণ সহায়তা পেলে আগামীতে আরও বড় করে খামারটি করতে চাই।

উৎপাদিত দুধ বিক্রয় নিয়েও অনেক সমস্যা রয়েছে। নিকটস্থ কোনো প্রক্রিয়াজাত কেন্দ্র নাই। ফলে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে দুধ বিক্রি করতে যেতে হয়। দুধের চেয়েও গোখাদ্যের দাম অনেক বেশি। এসব সমস্যা সমাধান হলে গাভি পালন অনেক লাভজনক হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com