আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

লাইভস্টক

গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি

গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি
গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় খামার ও বাসাবাড়িতে কোরবানিযোগ্য প্রায় ৯ লাখ পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে করোনা ও বন্যা দুর্যোগের কারণে পশুর প্রত্যাশিত দাম পাওয়া নিয়ে বিভাগের দেড় লাখ খামারি সংশয়ে আছেন। অনেকেই কম দামে গরু বিক্রি করছেন।

এ অবস্থায় খামারিদের লোকসান ঠেকাতে অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। সেই সঙ্গে হাট-বাজারগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে পশু বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অঞ্চল ভেদে পশু পরিবহনের সু-ব্যবস্থা হিসেবে প্রথমবারের মতো সড়কের পাশাপাশি রেলপথকেও বেছে নেয়া হয়েছে।

এত কিছুর পরও পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়া নিয়ে খামারিরা সংশয়ে আছেন। করোনা ও বন্যার প্রভাব পড়েছে দেশের উত্তরাঞ্চলের হাটগুলোতে। সেই সঙ্গে রয়েছে গরুর লাম্পিং স্কিন ডিজিজ। গরু কেনায় তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। হাটে সাধারণ ক্রেতাদেরও নেই ভিড়।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম খটখটিয়া এলাকার বাসিন্দা জোবেদা লাইভস্টক কমপ্লেক্সের পরিচালক রেজওয়ানুল হক টফি জানান, শিক্ষিত হয়ে দেশে কোনো চাকরি জোটেনি তার ভাগ্যে। সংসারের বোঝা না হয়ে পাড়ি জমান বিদেশে। সেখানে ৫ বছর থাকার পর বাড়িতে এসে শুরু করেন গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প। তার খামারে ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের ১৫টি গরু আছে। প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন তার খরচ হচ্ছে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। গেল বছর পশু খাদ্যের দাম কম থাকলেও এ বছর করোনা ও বন্যার কারণে খাদ্যের দাম বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি গরুর দাম। এখন পযর্ন্ত অনেকেই খামারে এসে গরুর দাম বললেও তাতে তার গরু কেনা ও লালন-পালনের দাম উঠবে না বলে তিনি দাবি করেন।

গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি
গরুর দাম কম, দুশ্চিন্তায় উত্তরের দেড় লাখ খামারি

একই এলাকার খামারি সাইফুল ইসলাম গত এক দশক ধরে গরু মোটাতাজাকরণ প্রকল্প করে আসলেও এবারের ঈদে পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন না জেনে অনেক আগেই কম দামে গরু বিক্রি করেছেন। বুক ভরা আশা নিয়ে তার মতো অনেকেই গরু লালন-পালন করলেও এ বছরও শঙ্কায় আছেন বিভাগের এক লাখ ৫৫ হাজার ৮০২ জন খামারি।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের উপ-পরিচালক ডা. হাবিবুল হক জানান, চলতি বন্যা ও লাম্পিং ডিজিজের প্রভাব পড়বে না কোরবানির পশুতে। বিভাগের আট জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা সাড়ে ছয় লাখ হলেও কোরবানিযোগ্য পশু মজুত আছে ৭ লাখ ৭২ হাজার ৮৮১টি।

এর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ চার লাখ ৯৮ হাজার ৫৩৪টি, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য দুই লাখ ৭১ হাজার ২৩৩টি এবং গৃহপালিত পশু আছে এক লাখেরও বেশি। তাই স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে পশু যাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এজন্য সড়ক পথের পাশাপাশি নতুন সংযোজন হিসেবে রেলপথকেও বেছে নেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদের যৌথ উদ্যোগে অনলাইনে সহজে পশু কেনার সু-ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে গোটা বিভাগে প্রায় ৪০০ কোরবানির পশুর হাটে কেনাবেচার ব্যাবস্থা করছে জেলা প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কে এম তারিকুল ইসলাম জানান, ক্রেতা-বিক্রেতারা যাতে নিরাপদে পশু কেনাবেচা করতে পারেন সেজন্য সব ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রতিটি পশুর হাটে মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধাসহ জালটাকা শনাক্তকরণ মেশিন থাকবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর থাকবে।

পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য জানান, দেশীয় শিল্প রক্ষায় ভারতীয় গরুর প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির পাশাপাশি পুলিশও শক্ত অবস্থানে রয়েছে। সড়ক-মহাসড়কে নিরাপদে পশু পরিবহনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বাংলাদেশ

ডিমের চমকদার চার

ডিম দিয়ে কত যে পদ করা যায়, তার ইয়ত্তা নেই। বিশ্ব ডিম দিবসে এমনই চারটি অন্য রকম রেসিপি দিয়েছেন বিশিষ্ট রন্ধনশিল্পী আলপনা হাবিব

স্লাইসড বিফ র‌্যাপড ইন অমলেট

উপকরণ

গরুর মাংস পাতলা স্লাইস করে চীনা কায়দায় ভেলভেটিং করা ১ কাপ, দেশি পেঁয়াজ অর্ধেক কেটে ভাঁজখোলা ১ কাপ, আদাকুচি ১ চা–চামচ, রসুনকুচি ১ চা–চামচ, শুকনা মরিচ ২টি, ওয়েস্টার সস ১ টেবিল চামচ, সয়া সস ১ চা–চামচ, চিলি ব্যাক বিন সস ১ টেবিল চামচ, সেসামি অয়েল ২ চা–চামচ, চিনি ৩ চা–চামচ, হাঁসের ডিম ২টি, রান্নার তেল ২ কাপ, অ্যারারুট ৬ চা–চামচ, লবণ আধা চা–চামচ।

প্রণালি
০১. ভেলভেটিং করা মাংসে ২ চা–চামচ অ্যারারুট, ১ চা–চামচ লবণ, ১ চা–চামচ চিনি মাখান।
০২. কড়া আঁচে ১ কাপ রান্নার তেল গরম করুন। মাংস ডোবা তেলে হালকা ভাজুন। বেশি ভেজে মচমচে করবেন না, গোলাপি রং চলে গেলেই তুলে ফেলুন।
০৩. কড়া আঁচে আরেকটি কড়াইয়ে ৩ টেবিল চামচ তেল গরম করুন। তেলে শুকনা মরিচ ছিঁড়ে দিন। একটু ভাজা হলে আদাকুচি ও রসুনকুচি দিয়ে ভাজুন। ভাঁজখোলা পেঁয়াজ দিন।
০৪. পেঁয়াজ একটু নরম হলে মাংস দিন। ওয়েস্টার সস, চিলি ব্যাক বিন সস, সয়া সস, লবণ ও চিনি দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট নাড়ুন। গরম হয়ে উঠলে আধা কাপ পানিতে ৩ চা–চামচ অ্যারারুট গুলে নিন। গোলানো অ্যারারুট মাংসে ঢালুন।
০৫. ঝোল ফুটে ঘন হয়ে এলে ২ চা–চামচ সেসামি অয়েল দিয়ে নাড়ুন ও পরিবেশন পাত্রে রাখুন।
০৬. হাঁসের ডিম, ১ চা–চামচ অ্যারারুট ও আধা চা–চামচ লবণ একসঙ্গে ফেটান।
০৭. কড়া আঁচে বড় ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করুন। তেলের পরিমাণ এমন হবে যেন অমলেট আধা ডোবা তেলে ভাজা হয়। আধা ডোবা তেলে অমলেট ভাজুন। ভাজা অমলেটটি রান্না করা মাংসের ওপর বসিয়ে দিন।
০৮. কড়া আঁচে আলাদা কড়াইয়ে ১ টেবিল চামচ রান্নার তেল গরম করুন। ১ চা–চামচ অয়েস্টার সস, ১ চা–চামচ চিলি ব্যাক বিন সস, কোয়ার্টার চা–চামচ লবণ, আধা চা–চামচ চিনি দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট নাড়ুন।
০৯. এবার ১ টেবিল চামচ অ্যারারুট কোয়ার্টার কাপ পানিতে গুলে কড়াইয়ে দিন। ঝোল ফুটে ঘন হলে বাকি সেসামি অয়েল ঢেল দিন।
১০. এই ঝোল মাংস ঢেকে রাখা ডিমের ওপর ছড়িয়ে দিন। গরম গরম পরিবেশন করুন।

অমলেটের পাকোড়া

উপকরণ
অমলেটের জন্য: ডিম ৪টি, পেঁয়াজকুচি আধা কাপ, কাঁচা মরিচকুচি ১ টেবিল চামচ, টমেটো, ক্যাপসিকামকুচি আধা কাপ, পানিতে গোলানো অ্যারারুট ২ টেবিল চামচ, লবণ ১ চা–চামচ (বা স্বাদমতো), ইতালিয়ান সিজনিং আধা চা–চামচ, পানি আধা কাপ, গরুর কিমা আধা কাপ।

গার্লিক মেয়োনেজের জন্য: মেয়োনেজ ৪ টেবিল চামচ, পানি আধা কাপ, রসুনবাটা আধা চা–চামচ।

মূল রান্নার জন্য: ময়দা ১ কাপ, লবণ আধা চা–চামচ (বা স্বাদমতো), ঘি ১ টেবিল চামচ, পানি আধা কাপ, সুইট চিলি সস আধা কাপ, গার্লিক মেয়োনেজ, রান্নার তেল ২ কাপ

প্রণালি
০১. সব উপকরণ ফেটে অমলেটের গোলা তৈরি করুন।
০২. কড়া আঁচে তেল গরম করুন। গোল চামচ দিয়ে আধা কাপ পরিমাণ ডিমের গোলা ঢেলে ছড়িয়ে আঁচ কমিয়ে দিন।
০৪. আঁচে কিছুক্ষণ ভাজা হলে অমলেট মাঝখানে কেটে দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতি টুকরা করুন। এবার প্রতিটি টুকরা একপাশ থেকে মুড়িয়ে রোল করে নিন। এভাবে রোল করাই সুবিধাজনক, কারণ, আস্ত অমলেট মোড়াতে গেলে ভেঙে যায়। একটি অমলেট থেকে দুটি রোল হয়। প্রতিটি রোল দুই টুকরা করে মোট ৪ টুকরা অমলেট ভেজে তুলুন। এভাবে বাকি ডিমের গোলা দিয়ে অমলেট বানান।
০৪. সব উপকরণ একসঙ্গে ফেটে নিন।
০৫. ময়দার সঙ্গে লবণ ও ঘি মাখিয়ে ঝুরঝুরা করুন। এবার ধীরে ধীরে পানি যোগ করে ঘন গোলা

এগস ইন ককটেল সস

উপকরণ

ককটেল সসের জন্য: মেয়োনেজ আধা কাপ, পানি আধা কাপ, গুঁড়া দুধ কোয়ার্টার কাপ, টমেটো কেচাপ ১ টেবিল চামচ, চিনি ১ চা–চামচ, রসুন বাটা আধা চা–চামচ, লেবুর রস ২ টেবিল চামচ।

মূল রান্নার জন্য: ডিম সেদ্ধ ৪টি, শসার পিকেলের কুচি ১ চা–চামচ, টমেটোকুচি বিচি ফেলে ১ চা–চামচ, পেঁয়াজের কলির কুচি ১ চা–চামচ, পার্সলেকুচি ১ চা–চামচ, কাঁচা মরিচকুচি আধা চা–চামচ।

প্রণালি
ককটেল সসের জন্য
০১. সবকিছু একসঙ্গে ফেটে নিন।

মূল রান্নার জন্য
০২. সেদ্ধ ডিম অর্ধেক করে কেটে একটি প্লেটে সাজিয়ে নিন।
০৩. ডিমের কুসুম বের করে নিয়ে কুচি করে নিন।
০৪. এবার বাকি সব উপকরণ এবং ২ টেবিল চামচ ককটেল সস ডিমের কুসুমের সঙ্গে মিশিয়ে নিন।
০৫. এবার সেদ্ধ ডিমের মাঝখানে কুসুমের ফাঁকা জায়গায় উঁচু করে ডিমের কুসুমের মিশ্রণটি ভরে দিন। এবার প্রতিটি অর্ধেক ডিমের ওপর ১ টেবিল চামচ ককটেল সস ঢেলে ঢেকে দিয়ে পরিবেশন করুন।

ডিম পনির পাকোড়া

উপকরণ

ডিম সেদ্ধ ও আড়াআড়ি ৪ টুকরা করা ৩টি, দেশি পনির ১ ইঞ্চি x দেড় ইঞ্চি চৌকা করে কাটা ১২ টুকরা, ময়দা ১ কাপ, লবণ পরিমাণমতো, ঘি ২ টেবিল চামচ, রান্নার তেল ৩ কাপ।

প্রণালি
০১. ময়দা, লবণ ও ঘি দিয়ে ময়ান দিন। পানি দিয়ে ঘন গোলা তৈরি করুন। গোলার ঘনত্ব ক্ষীরের মতো হবে।
০২. কড়া আঁচে তেল গরম করুন। এবার আঁচ মাঝারি করুন।
০৩. সেদ্ধ ডিমের একটি টুকরা গোলায় ডুবিয়ে তার ওপর এক টুকরা পনির বসান।
০৪. এবার ডিমের টুকরা ও পনিরের টুকরা একসঙ্গে ধরে গোলায় ডুবিয়ে তুলে তেলে ছেড়ে দিন। একে একে অন্য ডিমের টুকরা ও পনির টুকরা তেলে ছাড়ুন।
০৫. পাকোড়া সোনালি করে ভাজা হলে তুলে তেল ঝরিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ডিমের বিকল্প ডিম

ডিম। আমাদের কাছে পরিচিত আদর্শ খাদ্য বা সুপার ফুড হিসেবে। প্রায় প্রয়োজনীয় সব কটি পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান আছে ডিমে। একটি সাধারণ আকৃতির ডিমে ৭০-৮০ গ্রাম ফ্যাট ছাড়াও আছে ভিটামিন এ, বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি, ই এবং কে। ফলেট, ক্যালসিয়াম, জিংক, ফসফরাস, সেলেনিয়ামও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে।

ডিমে আছে কোলেস্টেরল। তবে তা আমাদের রক্তের ভালো কোলেস্টেরল, অর্থাৎ এইচডিএল বাড়াতে সাহায্য করে। কোলিন ডিমের একট গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা আমাদের মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। বিশেষ করে শিশুদের মস্কিষ্কের সিগন্যাল মলিকিউলকে সতেজ করে। ডিমে থাকা লুটেইন ও জিজেনজিন অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। এ ছাড়া দৃষ্টি উন্নত করতে এতে রয়েছে ভিটামিন এ।

ডিমকে মূলত আদর্শ প্রোটিন বা আদর্শ খাদ্য বলা হয়। কারণ, এতে আছে প্রয়োজনীয় সব কটি অ্যামিনো অ্যাসিড। ডিম আমাদের ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডিম সফল ভূমিকা রাখে স্থূল ব্যক্তির ওজন কমাতে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দৈনিক দুটি ডিম খেতে পারেন, একটি কুসুমসহ ও একটি কুসুম ছাড়া। তবে অবশ্যই তা যথেষ্ট তাপ দিয়ে প্রস্তুত করা জরুরি। দুই বছর বয়স থেকে একটি শিশু যার ডিমজনিত এলার্জি নেই, তার খাদ্যতালিকায় প্রতিদিন এক-দুটি ডিম রাখা যায়। ঠিক একইভাবে ৮০ বছরের বৃদ্ধও তাঁর খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন ডিম।

কিডনি রোগী যাদের ডায়ালাইসিস চলছে, তাদের দৈনিক ডিমের চাহিদা থাকে ন্যূনতম তিন থেকে চারটি। পুড়ে যাওয়া রোগী দৈনিক পাঁচ-সাতটি ডিম খেতে পারবে। কারণ, তার পোড়ার ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক হয় ডিম। জটিল অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, দীর্ঘদিনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ইত্যাদি কারণে শরীরের ক্যাটাবলিজমের মাত্রা বেড়ে গেলে ডিম দিয়ে খুব সহজেই দেহের প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা যায়, যা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাংসপেশি, হাড়ের গঠন ও পূণর্গঠনে সহায়তা করে।

চলমান বৈশ্বিক মহামারিতে আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে ডিম অতুলনীয়। এ ছাড়া যাঁরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং রিহ্যাবিলিটেশনে আছেন, তাঁদের জন্য আদর্শ প্রোটিন তালিকায় প্রথমেই রয়েছে ডিম। চুল ও ত্বকের সুস্থতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিমের ভিটামিন এ ও ফ্যাটি অ্যাসিড। স্কুলের কিশোর-কিশোরীদের দৈনিক প্রোটিন চাহিদার অন্তত এক তৃতীয়াংশ পূরণ করতে হবে ডিম দিয়ে। প্রসূতি ও গর্ভবতী মায়েদের দৈনিক ডিমের চাহিদা এক-দুটি।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ডিম সহজলভ্য এবং কোনো রকম আনুষঙ্গিক উপাদান ছাড়াই একে খাদ্যোপোযোগী করে তোলা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মুরগি দিবসের শুভেচ্ছা

চিকেন ডে তথ্য
• অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার প্রতিবছর চিকেন ডে পালন করা হয়।
• মুরগির মাংসের বিভিন্ন ধরনের রেসিপি শেয়ার এবং রান্না করে খাওয়া হয় এই দিনে।
• কোনো কারণ ছাড়াই দিনটি পালন করা হয় বলে জানা যায়।
• মুরগির নামে বিভিন্ন ধরনের দিবস প্রচলিত আছে পৃথিবীতে।
• আন্তর্জাতিক মুরগি দিবস পালন করা হয় প্রতিবছর মে মাসের ৬ তারিখ।

অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় বৃহস্পতিবার, আজ বিশ্ব মুরগি দিবস। পৃথিবীতে বহু দিবসের মধ্যে এটি একটি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, মুরগা দিবস নাই কেন? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর জানা নেই। কিন্তু আজ মুরগি দিবস, ওয়ার্ল্ড চিকেন ডে।

এটা ঠিক যে অভিজাত মানুষদের দেশি মুরগির মাংস ছাড়া রুচিতে কুলায় না। আমি ব্যক্তিগতভাবে সব সময় অভিজাত হতে চেয়েছি, কিন্তু বউয়ের জন্য পারিনি। তিনি নাকি দেশি মুরগির শক্তপোক্ত মাংস খেতে পছন্দ করেন না। কী আর করা যাবে, বলেন। অভিজাত হবার বাসনা বাদ দিয়েছি

কিন্তু ছোটবেলায় দেখা রংবেরঙের পালকওয়ালা, লাল ঝুঁটির শক্তপোক্ত গড়নের মুরগার কথা ভুলতে পারি না আজও। কী স্মার্ট মাইরি! মাথা উঁচু করে যখন ভোরবেলা দীর্ঘস্বরে কুক্কুরু কু বলে ঘুম থেকে উঠতে বলত, বিরক্ত হলেও ঘুম থেকে উঠতেই হতো। হেমন্তের বিষণ্ন দুপুরে সেই লাল ঝুঁটি মুরগার দীর্ঘস্বরের ডাকে নিস্তব্ধতা খান খান হয়ে ভেঙে গেলে মনে হতো, চরাচরে জীবনের স্পন্দন আছে। ধীরে ধীরে আমাদের জীবন থেকে হারিয়ে গেল বিষণ্নতা ভোলানো লাল ঝুঁটির দেশি মুরগা। আহা!

যখন বড় হলাম, খুঁজে দেখতে দেখতে পেয়ে গেলাম একদিন। সেই লাল ঝুঁটির স্মার্ট মুরগা আমাদের একেবারে দেশীয় জাতের মুরগা। তার ভালো নাম রেড জঙ্গল ফাউল, সোজা কথায় বনমোরগ। বনে থাকা এই স্বাধীন মুরগা কেন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা মানুষের পোষ মেনেছিল, সে ভেবে চোখে জল আসে আমার। ঠিক যেভাবে আমার পোষা এক লাল ঝুঁটি মুরগাকে চোখের সামনে অসুখে ভুগে মরে যেতে দেখে বুক ফেটে কান্না এসেছিল।

এই স্মার্ট মুরগার আরেক জাতভাই আছে। প্রায় একই রকম দেখতে হলেও তার ঝুঁটি কিছুটা ভোঁতা আর ঢ্যাঙা ঠ্যাং দুখানা হলুদ হলুদ। এর নাম আচিল বা আসিল। মানে অজ্জিনিয়াল অর্থাৎ খাঁটি বঙ্গদেশীয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় এ জাতের মুরগির জন্ম বলে জানা যায়। এখনো পাওয়া যায়।

এই দুই জাতের মুরগি ছাড়াও এক জাতের দেশি মুরগির কথা মনে পড়ে খুব। সে মুরগিকে দেখেই আমরা কোনো কোনো বন্ধুর নাম দিয়েছিলাম ‘গলা ছিলা’। ও মা, পরে দেখি সে মুরগির নামই আসলে ন্যাকেড নেক। পরিষ্কার বাংলা ভাষায় যাকে বলে গলা ছিলা। মাথায় লাল ঝুঁটি থাকলেও এটাকে কেন যেন অতটা ভালো লাগত না। কে জানে, কেন। গলা ছিলা বলেই হয়তো। কিন্তু সেটাও দেশি জাতের মুরগি।

দেশি জাতের মুরগির কথাই যখন বলছি তখন বলে রাখি বেশ স্মার্ট বনমোরগ, কিছুটা স্মার্ট আচিল এবং গলা ছিলা ছাড়াও কয়েক জাতের দেশি মুরগি আছে আমাদের। এগুলো হলো সিলেটের পাহাড়ি এলাকার হিলি, ফ্রিজেল বা উল্টা পালক, কাদাকনাথ বা কালা মাসি। তবে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা জানিয়েছেন, কাদাকনাথ বা কালা মাসি মুরগির উৎপত্তি ভারতের মধ্যপ্রদেশে হলেও এ দেশে এর অস্তিত্ব ছিল অতীতে।

একসময় গ্রামবাংলায় মুরগির মাংস বলা হতো না। বলা হতো, মুরগা খাইছি। মুরগি কম খাওয়ার কারণ ছিল সম্ভবত, তা থেকে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন করা। গত শতকের আশি বা নব্বইয়ের দশকে যারা গ্রামে বড় হয়েছে, তারা জানেন, মুরগি ছিল গ্রামীণ অর্থনীতির একটা অংশ। বাড়িতে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুরগি পালন করার চল ছিল গ্রামে। সে মুরগি এবং তার ডিম বিক্রি করে আয় করত গ্রামের মানুষ। কিন্তু পোলট্রিশিল্পের অগ্রগতির হাত ধরে ধীরে ধীরে সে অবস্থা হারিয়ে গেছে।

যা–ই হোক, পৃথিবীতে কয়েক শ প্রজাতির মুরগি আছে। তবে ধারণা করা হয়, গৃহপালিত মুরগির পূর্বপুরুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উদ্ভূত লাল বুনো মুরগি। খাদ্যের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী বন্য বুনো মুরগি শিকারের পর মানুষ সম্ভবত চার হাজার বছরের অনেক আগে মুরগিকে গৃহপালিত করে। সম্ভবত তখন পূর্ব-এশিয়ার মধ্য দিয়ে মুরগি বিস্তার লাভ করে এবং খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় এক হাজার বছর আগে পারস্যে পৌঁছায় (বাংলাপিডিয়া)।

মুরগি নিয়ে কথার কোনো শেষ নাই, মুরগির কথা বলা বৃথা তাই। এখন এই আধুনিক যুগে আমাদের জীবন ফার্মের মুরগিময়। কোনো দিন যদি বিকেলবেলা মুরগি ছাড়া অন্য কোনো মুখরোচক খাবারের খোঁজে বাইরে বের হন, তাহলে হতাশ হতে হবে। পাড়ার গলি থেকে শুরু করে বড় রাস্তার মোড় কিংবা ঝাঁ–চকচকে শপিং মল অথবা বাহারি নামের রেস্তোরাঁ—সবখানেই মুরগি আর মুরগি। রাস্তায় বের হলেই পোড়া মুরগির সুগন্ধ নাকে লাগে। এখন সম্ভবত বাঙালির জাতীয় খাবারই হয়ে গেছে, গ্রিল মুরগির ওপর সস্তার মেয়নেজ দিয়ে তন্দুর রুটি।

যাক গে সেসব কথা। আপনাদের রাজশাহী অঞ্চলের একটি মুরগির মাংসের রেসিপি দিয়ে রাখি। বাড়িতে রান্না করতে পারেন। রেসিপিটি দিয়েছেন নাজমা হুদা এবং এ রান্নার নাম মুরগি–নারকেলের নাড়ু।

দেশি মুরগি ১টি, নারকেল কোরানো ১টি, ময়দা ২ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুচি পৌনে এক কাপ, লবণ স্বাদমতো, এলাচি ২-৩টি, দারুচিনি ২ টুকরা, আদাবাটা ১ টেবিল চামচ, রসুনবাটা ১ টেবিল চামচ, জিরাবাটা ১ চা-চামচ, ধনেবাটা আধা চা-চামচ, মরিচবাটা ১ টেবিল চামচ, হলুদগুঁড়া ১ চা-চামচ, তেজপাতা ২টি, নাড়ু ভাজার জন্য তেল ২ কাপ।

নারকেল কুরে মিহি করে বেটে নিতে হবে। এবার এতে ময়দা, লবণ ও সামান্য এলাচির গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে চেপে চেপে গোল করে নাড়ু বানাতে হবে। তেল গরম হলে নাড়ু ছেড়ে হালকা বাদামি করে ভেজে নিতে হবে। এবার প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ভেজে সব মসলা দিয়ে ভালোমতো কষাতে হবে। এরপর মুরগি দিয়ে কষাতে হবে, এবার এক কাপ পানি দিয়ে অল্প আঁচে সেদ্ধ করতে হবে। পানি শুকালে আবার ভালো করে কষাতে হবে। আবার ১ কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করে পানি কমে এলে নাড়ুগুলো ওপর দিয়ে বিছিয়ে দিতে হবে। এরপর ১০ মিনিট দমে রেখে দিতে হবে। তেল ওপরে উঠে এলে এবং অল্প ঝোল থাকতে নামিয়ে নিতে হবে।

শেষ করার আগে, শেষ করার আগে বলে রাখি। যা–ই করুন না কেন, কাউকে মুরগি বানাবেন না। তাতে মুরগির অপমান হয়। তিনি কষ্ট পান।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

সাগর কিংবা নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়লে, বাড়ে মানুষের আশা

সাগর কিংবা নদীতে ইলিশের প্রাচুর্য বাড়লে, বাড়ে মানুষের আশা

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ৩০ লাখ লিটার পানিতে কোটি টাকার মাছ

বায়োফ্লক পদ্ধতিতে ৩০ লাখ লিটার পানিতে কোটি টাকার মাছ

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

রোহিঙ্গা সংকট: রাতের আঁধারে কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো নিয়ন্ত্রণ করে কারা?

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

উত্তর কোরিয়া নতুন ‘বিশাল আকৃতির‘ ক্ষেপণাস্ত্রের কতটা জানা যাচ্ছে

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার 'ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি' হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধ: আজারবাইজানের সাথে যুদ্ধে আর্মেনিয়ার ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে, বলছেন আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

নাগোর্নো-কারাবাখ: নতুন যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক মিনিটের মাথায় ভঙ্গ, পরস্পরকে দোষারোপ করছে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

মা হওয়ার পরে যে কাজগুলো করবেন

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

শিশু কথা শোনে না? জেনে নিন করণীয়

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

সরিষার তেলের ৫টি অবিশ্বাস্য উপকারিতা

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

খাওয়ার পরে টক দই খেলে কী হয়

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

শেভিং ক্রিমের কিছু অজানা ব্যবহার

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

মিষ্টি কুমড়ার খোসা ভর্তার সহজ রেসিপি

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com