আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

বিশ্বজুড়ে উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক হিসেবে পরিচিত এবং আরও অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন।

‘বাংলাদেশ জনমিতি স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৭-১৮’-এর হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চার জনের একজন উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যায় ভুগে থাকেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব বলছে, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগে থাকেন বিশ্বের প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ। আর এই সমস্যায় সারা বিশ্বে প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ প্রতি বছর মারা যায়।

উচ্চ রক্তচাপ কী?

হৃৎপিণ্ডের ধমনীতে রক্ত প্রবাহের চাপ অনেক বেশি থাকলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

দু’টি মানের মাধ্যমে এই রক্তচাপ রেকর্ড করা হয় – যেটার সংখ্যা বেশি সেটাকে বলা হয় সিস্টোলিক প্রেশার, আর যেটার সংখ্যা কম সেটা ডায়াস্টলিক প্রেশার।

প্রতিটি হৃৎস্পন্দন অর্থাৎ হৃদপিণ্ডের সংকোচন ও সম্প্রসারণের সময় একবার সিস্টোলিক প্রেশার এবং একবার ডায়াস্টলিক প্রেশার হয়।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ থাকে ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি।

কারও ব্লাড প্রেশার রিডিং যদি ১৪০/৯০ বা এর চেয়েও বেশি হয়, তখন বুঝতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে।

অন্যদিকে রক্তচাপ যদি ৯০/৬০ বা এর আশেপাশে থাকে, তাহলে তাকে লো ব্লাড প্রেশার হিসেবে ধরা হয়।

যদিও বয়স নির্বিশেষে রক্তচাপ খানিকটা বেশি বা কম হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ হলে কী সমস্যা তৈরি হয়?

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অঙ্গে জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ থেকে হৃদযন্ত্রের পেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং এর ফলে দুর্বল হৃদযন্ত্র রক্ত পাম্প করতে না পেরে ব্যক্তির হৃতপিণ্ড কাজ বন্ধ করতে পারে বা হার্ট ফেল করতে পারে।

এছাড়া, এমন সময় রক্তনালীর দেয়াল সঙ্কুচিত হয়ে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও থাকে।

উচ্চ রক্তচাপের কারণে কিডনি নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, মস্তিষ্কে স্ট্রোক বা রক্তক্ষরণও হতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে।

আর বিশেষ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণে রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয়ে একজন মানুষ অন্ধত্বও বরণ করতে পারেন।

ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক আফরোজা আনোয়ার জানান যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপের কারণ নির্দিষ্ট করে জানা যায় না।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, “যাদের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ নির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হয় না, তাদের ক্ষেত্রে সেটিকে প্রাইমারি বা এসেনশিয়াল ব্লাড প্রেশার বলা হয়ে থাকে।”

“উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে ভয়ের বিষয় হলো, অনেক সময়ই উচ্চ রক্তচাপের কোনো প্রাথমিক লক্ষ্মণ দেখা যায় না। লক্ষ্মণ না থাকলেও দেখা যায় শরীরের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে এবং রোগী হয়তো বুঝতেই পারেন না যে তার মারাত্মক শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে।”

অপেক্ষাকৃত বয়স্ক মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা বেশি দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে বয়স ৪০ হওয়ার পর থেকে কয়েক মাস অন্তর ব্লাডপ্রেশার মাপা দরকার বলে মন্তব্য করেন মিজ আনোয়ার।

আর যারা দীর্ঘ দিন ধরে রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন, তাদের প্রতি সপ্তাহে একবার প্রেশার মেপে দেখা উচিত।

তবে একবার রক্তচাপ বেশি দেখা গেলেই যে কারও উচ্চ রক্তচাপ আছে, সেটা বলা যাবে না।

পর পর তিন মাস যদি কারও উচ্চ রক্তচাপ দেখা যায়, তখনই বলা যাবে যে তার উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে।

লক্ষণ

উচ্চ রক্তচাপের একেবারে সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ সেভাবে প্রকাশ পায় না। তবে সাধারণ কিছু লক্ষণের মধ্যে রয়েছে:

  • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করা, মাথা গরম হয়ে যাওয়া এবং মাথা ঘোরানো
  • ঘাড় ব্যথা করা
  • বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
  • অল্পতেই রেগে যাওয়া বা অস্থির হয়ে শরীর কাঁপতে থাকা
  • রাতে ভালো ঘুম না হওয়া
  • মাঝে মাঝে কানে শব্দ হওয়া
  • অনেক সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলা

এসব লক্ষণ দেখা দিলে নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করতে এবং ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

  • সাধারণত মানুষের ৪০ বছরের পর থেকে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে
  • অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা
  • পরিবারে কারও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম না করলে
  • প্রতিদিন ছয় গ্রাম অথবা এক চা চামচের বেশি লবণ খেলে
  • ধূমপান বা মদ্যপান বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন জাতীয় খাদ্য/পানীয় খেলে
  • দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা হলে
  • শারীরিক ও মানসিক চাপ থাকলে

উচ্চ রক্তচাপ হলে কী করবেন

জীবনযাপনে পরিবর্তন আর নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য কয়েকটি বিষয়ে মনোযোগী হতে হবে:

  • খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়া – লবণের সোডিয়াম রক্তের জলীয় অংশ বাড়িয়ে দেয়, ফলে রক্তের আয়তন ও চাপ বেড়ে যায়।
  • ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করা – ধূমপান শরীরে নানা ধরণের বিষাক্ত পদার্থের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ধমনী ও শিরার নানারকম রোগ-সহ হৃদরোগ দেখা দিতে পারে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণ করা – শরীরের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের অতিরিক্ত পরিশ্রম হয়। বেশি ওজনের মানুষের মধ্যে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা যায়।
  • নিয়মিত ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করা – নিয়মিত ব্যায়াম ও শারীরিক পরিশ্রম করলে হৃৎপিণ্ড সবল থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। যার ফলে রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কম করা – রাগ, উত্তেজনা, ভীতি অথবা মানসিক চাপের কারণেও রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘসময় ধরে মানসিক চাপ অব্যাহত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হতে পারে।
  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা – মাংস, মাখন বা তেলে ভাজা খাবার, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার খেলে ওজন বৃদ্ধি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া অতিরিক্ত কোলেস্টোরেল যুক্ত খাবার খাওয়ার কারণেও রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। কারণ, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টোরেল রক্তনালীর দেয়াল মোটা ও শক্ত করে ফেলে। এর ফলেও উচ্চ রক্তচাপ দেখা যেতে পারে।

এছাড়া উচ্চ রক্তচাপ হলে অতিরিক্ত কোলেস্টরেল জাতীয় খাবার পরিহার করে ফলমূল শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

  • উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

    উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

  • উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

    উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

  • উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

    উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

  • উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন
  • উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন
  • উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেশার: নীরব এই ঘাতক থেকে বাঁচতে আপনি যা যা করবেন

দৈনন্দিন

যেসব খাদ্যশস্য ওজন কমাতে সহায়ক

রাতে ভাতের পরিবর্তে খেতে পারেন কম কর্বোহাইড্রেইট সমৃদ্ধ শস্য।

ওজন কমাতে না খেয়ে নয় বরং উপযুক্ত খাবার খেয়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করতে হয়।

অনেকেই রাতে কম খেয়ে দেহের বাড়তি ওজন কমানোর চেষ্টা করেন। যা বেশিরভাগ সময় কার্যকর হয় না। কারণ পরে ক্ষুধা লাগে। যে কারণে বেশি খেয়ে ফেলার সম্ভাবনা বাড়ে।

এই সমস্যা এড়াতে কম কার্বোহাইড্রেইট সমৃদ্ধ শস্য বেছে নেওয়া উপকারী।

পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে রাতে যেসব শস্য খাওয়া ওজন কমাতে সহায়তা করে সে সম্পর্কে জানানো হল।

ওটস: ওটস বেটা-গ্লুকেন নামক আঁশ সমৃদ্ধ। এটা প্রচুর পরিমাণে পানি শোষণ করে। ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ওটস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ যা ‘অ্যাভিনানথ্রামাইড’ হিসেবে পরিচিত। এটা হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাধারণত পুষ্টিবিদেরা ওজন কমাতে চাইলে এই শস্য খাওয়ার পরামর্শ দেন।

বার্লি: উচ্চ আঁশ সমৃদ্ধ যা হজমে সাহায্য করে ও পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। বার্লিতে থাকা বিটা গ্লুকোন্স পিত্তের অ্যাসিডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ‘খারাপ’ এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। এছাড়াও, এটা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ও ইন্সুলিনের নিঃসরণ বাড়াতে সাহায্য করে।

ভুট্টা: ভুট্টা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এতে ভিটামিন বি, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস থাকে। ভুট্টাতে ক্যালরির পরিমাণ কম। তাই ক্ষুধার্ত অবস্থায় যেকোনো সময়েই এটা খাওয়া যেতে পারে।

রাতের খাবারে সহজেই ভুট্টার চাট তৈরি করা যেতে পারে।

ভুট্টা সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে একটা বাটিতে সংরক্ষণ করুন। এরপর পেয়াঁজ কুচি, শসা ও টমেটো যোগ করে নিন। স্বাদ বাড়াতে লবণ, কালো গোলমরিচ, চাট মসলা মিশিয়ে পরিবেশন করতে পারেন।

বাদামি চাল: ভাত খেতে পছন্দ করে না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া কঠিন। আর আপনি ভাত একেবারেই বাদ দিতে না পারেন তবে বাদামি চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।

সাদা চালের তুলনায় বাদামি চাল কম স্টার্চ সমৃদ্ধ। এতে আছে ফাইটিক অ্যাসিড ও পলিফেনল যা রক্তের শর্করার মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।

রাতের খাবার হিসেবে অল্প পরিমাণে বাদামি চাল সবজির তরকারির সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ওজন কমাতে রাতের খাবারের সঠিক সময়

ওজন কমাতে চাইলে রাতের খাবার সঠিক সময়ে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সকালের নাস্তা, দুপুরের ও রাতের খাবার ওজন কমানোর যাত্রায় ইতিবাচক অবদান রাখে। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে ওজন কমাতে রাতের খাবার খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে জানানো হল।  

গবেষণা অনুযায়ী, যে ক্যালরি আমরা খরচ করতে পারি না তা চর্বি হিসেবে শরীরে জমা থাকে। আর রাতের খাবার খাওয়ার পরেই ঘুমিয়ে পড়া শরীরের কার্যকারিতা কমায় ও কার্যক্রমের ওপর প্রভাব ফেলে। 

ঘুমানোর কাছাকাছি সময়ে রাতের খাবার খাওয়া হলে তা রক্তে শর্করা ও ইন্সুলিনের মাত্রা বাড়ায়, যা রাতে ঘুমের ব্যঘাত ঘটায়। তাই বলা হয়, ‘নাস্তা হবে রাজার মতো, দিনের খাবার হবে রাজপুত্রের মতো আর রাতের খাবার হবে ভিখারির মতো।’

রাতের খাবার দিনের সবশেষ খাবার। তাই সেটা সবচেয়ে হালকা হওয়া উচিত। আর অবশ্যই রাতে ঘুমাতে যাওয়ার কম পক্ষে তিন ঘণ্টা আগে খাওয়া উচিত। বেশি রাতে খাবার খাওয়া ওজন বৃদ্ধি করে।

ওজন কমাতে সহায়ক এমন দুটি কৌশল

– রাতের খাবার দিনের সবচেয়ে হাল্কা খাবার হবে।

– রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ মুহূর্তে খাবার খাওয়া ঠিক নয়। কমপক্ষে তিন ঘন্টা আগে রাতের খাবার খাওয়া উচিত। 

রাতে দেরিতে খাবার খাওয়ার ছয়টি ক্ষতিকর দিক

– রাতে দেরিতে খাওয়া ‘সার্কাডিয়ান’ বা ঘুম চক্রে ব্যাঘাত তৈরি করে। আর রাতে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বাড়ায়। 

– দেরিতে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। এটা এক ধরনের বদভ্যাসও বটে।

– রাতে মিষ্টি খেলে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

– মেলাটনিন নামক হরমোন আরাম অনুভূত হতে সহায়তা করে। এর মাত্রা কমে গেলে রাতে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

বগুড়ায় বর্ষাকালে নৌকা তৈরির ধুম

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বর্ষাকালকে কেন্দ্র করে গ্রামে গ্রামে নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগররা যেন দম ফেলানোর সময় পাচ্ছে না। কেউ আবার পুরাতন নৌকায় আলকাতরা ও জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করে যোগাযোগের উপযোগী করে তুলছেন। বন্যায় অনেকেই শুধু নিজ পরিবারের লোকদের চলাচলের জন্য নৌকা তৈরি করছেন।

স্থানীয়রা জানান, যমুনা ও বাঙ্গালী নদী বেষ্টিত সারিয়াকান্দি উপজেলা বর্ষাকালে বিশাল এলাকা জুড়ে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পানিতে অনেকেই জীবন-জীবিকার তাগিদে মাছ শিকার করে থাকেন। পণ্য পরিবহনে নৌকা প্রধান বাহন হয়। এক চর থেকে অন্য চরে চলাচল করা ছাড়াও খেয়া পারাপারের ক্ষেত্রে প্রধান বাহন হিসাবে কাজ করে নৌকা।রকমভেদে এই নৌকা তৈরিতে খরচ পড়ে ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত। এরই মধ্যে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এ জন্য নৌকার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে ব্যাপক হারে। সে জন্য নদী পারের মানুষেরা নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। ১০ হাত লম্বা থেকে ৭০ হাত পর্যন্ত লম্বা নৌকা তৈরি করছেন এ এলাকার বাসিন্দারা।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের ইন্দুর মারা চরের বাসিন্দা আলমগীর জানান, এবার আমি ২৪ হাত একটি নৌকা তৈরি করিয়ে নিচ্ছি। তিনি ছাড়াও উপজেলার অনেকেই নতুন নৌকা তৈরি করছেন আগামী বর্ষায় ব্যবহার করার জন্য। নৌকা তৈরির সাথে জড়িত নান্দিয়ার পাড়া গ্রামের সাজু মিস্ত্রী বলেন, আমি ১০ হাত নৌকা তৈরি করে ১১ হাজার টাকায় বিক্রয় করি। গত বর্ষা মৌসুমে ৭০ থেকে ৭৫টি নৌকা তৈরি করেছিলাম।

এবারও সেরকম নৌকা তৈরি ও মেরামত করার অর্ডার পেয়েছি। পর্যায়ক্রমে এগুলো তৈরি করব। এজন্য আমাকে দিনরাত কাজ করতে হবে। ছোট নৌকা বেশির ভাগই যমুনা নদীতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করার জন্য নেয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, কৃষি পণ্য আনা নেয়া করার জন্য বর্ষাকালে নৌকা ব্যবহার করা হয়। নৌকা ছাড়া নদী পাড়ের মানুষের চলাচল অসম্ভব। তাই এ অঞ্চলের মানুষের মাঝে এখন পুরাতন নৌকা মেরামত ও নতুন নৌকা তৈরির ধুম পড়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দাঁত ব্রাশের পরপরই যা করা উচিত না

ব্রাশ করার পরপরই মাউথওয়াশ ব্যবহার করা দাঁতের জন্য ক্ষতিকর।

দাঁতের সুস্থতায় ব্রাশ করার পরপরই মাউথওয়াশ ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করেন দাঁত বিশেষজ্ঞরা। 

লন্ডন-ভিত্তিক দাঁতের চিকিৎসক আনা পিটারসনের একটি টিকটক ভিডিও সম্প্রতি ‘ভাইরাল’ হয়েছে।

কারণ তিনি পরামর্শ দিতে গিয়ে ওই ভিডিওতে বলেছেন, “দাঁত ব্রাশ করার পরপরই যারা মাউথওয়াশ ব্যবহার করেন, তারা ভুল রুটিন অনুসরণ করছেন।”

বেস্টলাইফ ডটকম’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তার উদ্ধৃতি দিয়ে আরও জানানো হয়, ব্রাশ করার আগে বা খাওয়ার পরে মাউথওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা উচিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল হেল্থ সার্ভিস (এনএইচএস)’ অনুযায়ী, “ফ্লোরাইড সমৃদ্ধ মাউথওয়াশ ব্যবহার দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে সহায়ক। কিন্তু ব্রাশ করার পরপরই মাউথওয়াশ সরাসরি ব্যবহার ঠিক নয়।”

দাঁত ব্রাশের পরপরই মাউথওয়াশ ব্যবহার করলে ফ্লোরাইড উঠে যায়

এনএইচএস’য়ের মতে, “দাঁত ব্রাশ করার পরপরই মাউথওয়াশ ব্যবহার খারাপ অভ্যাস। কারণ এর ফলে দাঁতে লেগে থাকা টুথপেস্টর ফ্লোরাইড ধুয়ে যায়।”

পিটারসন বলেন, “মাউথওয়াশে থাকা ফ্লোরাইডের পরিমাণ টুথপেস্টের চেয়ে কম। মাউথওয়াশে থাকা ফ্লোরাইড খাবার বা পানীয়তে থাকা চিনির কারণে হওয়া দাঁতের ক্ষতি কমানোর জন্য যথেষ্ট না।”

তাই, দাঁত ব্রাশ করার পরে সরাসরি মাউথওয়াশ ব্যবহার করা মানে হল কম ফ্লোরাইডের যৌগ দিয়ে বেশি যৌগের ফ্লোরাইড ধুয়ে ফেলা।

ফ্লোরাইড দাঁতের জন্য উপকারী তাই তা ধুয়ে ফেলা ঠিক নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেল্থলাইন’ অনুযায়ী, ফ্লোরাইড দাঁতের দুর্বল এনামেল পুনর্গঠনে সহায়তা করে। দাঁতের এনামেলের খনিজের ক্ষয় ধীর করে। দাঁতের ক্ষয় কমায়। আর ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়ার বৃদ্ধি প্রতিহত করে।   

মাউথওয়াশ সবার জন্য প্রয়োজনীয় নয়

পিটারসনের মতে, “সকলের মাউথওয়াশ ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে উপযুক্ত সময়ে তা ব্যবহার করা উপকারী।”

শিকাগো’র ‘ওয়েস্ট অ্যান্ড ডেন্টাল’ ক্লিনিকের তথ্যানুসারে, নিয়মিত মাউথওয়াশ ব্যবহার দাঁতের সাময়িক সমস্যা, ক্যাভিটি কমায় ও দুর্গন্ধ দূর করতে সাহায্য করে।

দাঁত বিশেষজ্ঞদের মতে, মাউথওয়াশ ব্যবহার দাঁতের সংবেদনশীলতা, মুখের শুষ্কতা কমাতে কার্যকর। 

মাউথওয়াশ ব্যবহারের ৩০ মিনিটের মধ্যে কিছু খাওয়া ঠিক না

‘এনএইচএস’ নির্দেশনা দেয়, খাবার খাওয়া বা পানি পানের ৩০ মিনিটের মধ্যে ফ্লোরাইডযুক্ত মাউথওয়াশ ব্যবহার করা ঠিক না।

আর দাঁত বিশেষজ্ঞরা খাওয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যে দাঁত ব্রাশ করা নিষেধ করেন।

নিউ ইয়র্ক’য়ের ‘রিজিউভেনেইশন ডেন্টিসট্রি’র ডেন্টাল সার্জন জিনি গ্রেকো বলেন, “হজম মুখ থেকেই শুরু হয় এবং অ্যাসিডিক পরিবেশ তৈরি করে। তাই খাওয়ার পরপরই দাঁত মাজা ক্ষতির কারণ হতে পারে।”

টেক্সাস’য়ের ‘হার্সট পেডিয়াট্রিক ডেন্টিস্ট্রি’র কর্ণধার মালিক ডেন্টাল মেডিসিনের চিকিৎসক জিন লিন ব্যাখ্যা করেন, “চিনি বা সাধারণ শর্করা সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার সময় মুখের ব্যাক্টেরিয়া সেখান থেকে নিজের খাবার সংগ্রহ করে অ্যাসিড উৎপাদন করে।”

উচ্চ অম্লীয় পরিবেশ দাঁতের এনামেল দুর্বল করে খনিজের ঘাটতি দেখা দেয়। এমন দুর্বল অবস্থায় দাঁত মাজা ভবিষ্যতে আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

কলা অবহেলা করার ক্ষতিকর দিক

সহজলভ্য কলা থেকে মেলে এমন সব পুষ্টি উপাদান যা শরীর সু্স্থ রাখতে সহায়তা করে।

সস্তা, সহজলভ্য, খেতে ঝামেলা কম এবং খাওয়ার উপায়ও অনেক। পুষ্টিগুণের হিসেব বাদ দিলেও এই বিষয়গুলোর দিক থেকে কলা অন্যান্য ফলের তুলনায় এগিয়ে।

আর অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মধ্যে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আর ভিটামিন সি’য়ের যে যোগান এই ফল থেকে মেলে তা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

তবে সহজেই যা পাওয়া যায় তার মূল্যায়ন কমে যায়, কলার ক্ষেত্রেও এর ব্যাতিক্রম নেই। তাই কলা খাওয়াকে যারা অবহেলা করে অন্যান্য দামি ফল বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা স্বাস্থ্যগত কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারেন।

খাদ্য ও পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হলো সেই বিষয়ে বিস্তারিত। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা: বিশেষত কাঁচা কলা ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’য়ের দারুণ উৎস। এই উপাদানে আছে ‘প্রিবায়োটিক ইফেক্ট’। মানে হলো উপাদানটি হজমতন্ত্রে থাকা স্বাস্থ্যকর ও উপকারী ব্যাক্টেরিয়াকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি যোগায়। তাই স্বভাবতই খাদ্যাভ্যাস থেকে কলা বাদ দিলে অন্ত্রের ওই উপকারী ব্যাক্টেরিয়া বঞ্চিত হবে। ফলে তাদের সংখ্যা কমবে।

২০১৩ সালে ‘ফ্রন্টিয়ারস ইন ইমিউনোলজি’তে প্রকাশিত গবেষণাভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘শরীরে পর্যাপ্ত ‘প্রিবায়োটিক ফাইবার’ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করে। কলার মতো ‘প্রিবায়োটিক ফাইবার’ সরবরাহকারী ফল খাদ্যাভ্যাসে না থাকলে উপাদানটির ঘাটতি দেখা দেবে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হবে দুর্বল এবং বাড়বে রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি।

শরীরচর্চার ধকল: শরীরচর্চার জন্য শরীরের জোর বাড়াতে ‘প্রোটিন বার’ কিংবা বিভিন্ন ‘স্পোর্টস ড্রিংকস’য়ের পরিবর্তে কলা বেছে নেওয়া সহজ, সস্তা এবং পুষ্টিকর। মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৫১৭ মি.লি. গ্রাম পটাশিয়াম থাকে, যা এই খনিজের দৈনিক চাহিদার ১১ শতাংশ। পটাশিয়ামের অভাবে পেশিতে ব্যথা হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা।

২০১২ সালে ‘পিএলওএস ওয়ান’য়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন দাবি করে, ব্যায়ামের পর শরীরের ধকল পুষিয়ে নিতে কলা অত্যন্ত উপকারী। যেকোনো কার্বোহাইড্রেইট ভিত্তিক পানীয়র তুলনায় অনেক বেশি ‘ডোপামিন’ তৈরি করতে সক্ষম কলা কিংবা তা দিয়ে বানানো স্মুদি। অর্থাৎ কলা না খেলে শরীরচর্চার ধকল সামলাতে বেশি সময় লাগতে পারে।

ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ: ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে খাদ্যাভ্যাস থেকে যারা কলা বাদ দিয়েছেন তারা হয়ত হিতে বিপরীতের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন।

‘জার্নাল অফ ফাংশনাল ফুড’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলে, কাঁচা কলা খাওয়া কারণে শরীরে যাওয়া ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ ওই দিনে গ্রহণ করা ক্যালরির মাত্রা কমাতে পারে ১৪ শতাংশ পর্যন্ত। তবে পাকা কলা খেলে আবার এই প্রভাব দেখা যায় না।

মৌসুমি রোগের ঝুঁকি: প্রতি বছরই যদি মৌসুমি সর্দিজ্বরে আক্রান্ত হন। তবে কলা না খাওয়া তার একটা সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

এই ফরে রয়েছে এক ধরনের ‘সুগার-বাইন্ডিং ফাইবার’ যার নাম ‘লেকটিন’। এই উপাদানের ভাইরাসনাশক গুনাবলী আছে যা কয়েক ধরনের ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা’ ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দেয়।

তবে এটাও ঠিক যে ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য শুধু কলা যথেষ্ট নয়। তাই হাত পরিষ্কার রাখা ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করার কোনো বিকল্প নেই।

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি: রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখার জন্য জরুরি উপাদান পটাশিয়াম। যে খাবারগুলোতে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, তাদের রক্তচাপ কমানোর ক্ষমতা অনেকটা পটাশিয়াম ক্লোরাইড’য়ের মতো। রক্তচাপ কমানোর চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত উপাদান এই পটাশিয়াম ক্লোরাইড।

স্ট্রোকের ঝুঁকি: উচ্চ রক্তচাপ স্ট্রোকের অন্যতম কারণ। আর পটাশিয়াম যেহেতু এই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, তাই পরোক্ষভাবে পটাশিয়ামে ভরপুর কলা খাদ্যাভ্যাসে থাকলে তা স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com