আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

ঈশ্বরগঞ্জে রূপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে রাক্ষুসে পিরানহা

হাটে বিক্রি হচ্ছে পিরানহা

অনেকটা রূপচাঁদা মাছের মতো দেখতে রাক্ষুসে মাছ পিরানহা। সরকার পিরানহা উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করলেও ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রকাশ্য হাটে রূপচাঁদা বলে বিক্রি হচ্ছে এই মাছ।

ঈশ্বরগঞ্জের সোহাগী বাজারে গত কয়েকদিন ধরে রূপচাঁদা বলে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি করা হচ্ছে। মাছটি সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা জ্ঞাত না থাকায় না বুঝেই তারা মানুষকে রূপচাঁদা বলে বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছে।

সোহাগী এলাকার তরুণ শামীম আনোয়ার বলেন, রাক্ষুসে মাছটি সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দিলেও প্রকাশ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে। রূপচাঁদা বলে মানুষের কাছে নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এএসএম সানোয়ার রাসেল বলেন, নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি হচ্ছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ পিরানহা বিক্রি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের জলজ পরিবেশের সঙ্গে পিরানহা সংগতিপূর্ণ নয়। এগুলো রাক্ষুসে স্বভাবের। অন্য মাছ ও জলজ প্রাণীদের খেয়ে ফেলে। দেশীয় প্রজাতির মাছ তথা জীববৈচিত্রের জন্য এগুলো হুমকিস্বরূপ। এ কারণে সরকার ও মৎস্য অধিদপ্তর পিরানহা মাছের পোনা উৎপাদন, চাষ, উৎপাদন, বংশ বৃদ্ধিকরণ, বাজারে ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পিরানহার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু চক্র রাক্ষুসে এ মাছ গোপনের চাষ ও রূপচাঁদা বলে মানুষের কাছে বিক্রি করছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

বাংলাদেশ

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে একের পর এক হামলা

প্রভাবশালী লোকজনের ছত্রচ্ছায়ায় চলছে মা ইলিশ নিধন। অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বরিশালে মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে গিয়ে একের পর এক হামলার ঘটনায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে অসহায় হয়ে পড়েছেন মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা। ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ার পর গত এক সপ্তাহে অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর তিনটি পৃথক হামলার ঘটনায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চন্দ্রমোহন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড-সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। মা ইলিশ ধরার খবর পেয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (দক্ষিণ) জাকারিয়া রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্যামতসহ বন্দর থানার পুলিশের ১০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় অভিযানে যায়। সেখানে পৌঁছামাত্র একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। হামলার মুখে আত্মরক্ষায় অভিযান পরিচালনাকারী সদস্যরা পিছু হটেন। হামলায় পুলিশের দুই সদস্য এবং তাঁদের বহনকারী একটি স্পিডবোটের চালক আহত হন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মেঘনার দেবুয়া এলাকায় নৌ পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের দুই সদস্য আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত রোববার মেহেন্দীগঞ্জের দুজন প্রভাবশালী ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকারী দলের ওপর আরও একটি হামলার ঘটনা ঘটে।

মৎস্য বিভাগ বলছে, হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা, বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন-সংলগ্ন এলাকার কীর্তনখোলা নদী ইলিশের ষষ্ঠ অভয়াশ্রমের অংশ হওয়ায় প্রজননের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব এলাকায় মা ইলিশের বিচরণ বেশি হওয়ায় অসাধু জেলেরা সেখানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মাছ ধরেন। প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার সময় স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলেরা রাতের আঁধারে নদীর এসব অংশে ব্যাপক হারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত রাখেন। এঁদের নিবৃত্ত করতে গেলেই নদীতে হামলার শিকার হচ্ছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, হিজলা উপজেলার হরিণাথপুর, শাওরা সৈয়দখালী, চরকিল্লা, অন্তর্বাম, দেবুয়া, কাইসমা, ধুলখোলা, আবুপুর, গঙ্গাপুর, নাছোকাঠি-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধন। একই সঙ্গে বরিশাল সদরের চন্দ্রমোহন-সংলগ্ন নদীতে রাতের জোয়ারে প্রতিনিয়ত অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে ইলিশ শিকার করে আসছে স্থানীয় একটি চক্র। এঁরা পেশাদার জেলে না হলেও প্রভাবশালীদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাছ ধরেন। তাঁদের ইঙ্গিতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।

মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, মেহেন্দীগঞ্জের চারদিকে মেঘনার শাখা-প্রশাখা, যেখানে ব্যাপক মা ইলিশের বিচরণ। এই এলাকায় প্রভাবশালী মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে শিশুদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাচ্ছেন। শিশুদের দণ্ড দেওয়ার বিধান না থাকায় তাঁরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছেন। এমনকি তিনিও অভিযানে গিয়ে জেলেদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন।

নৌ পুলিশ সূত্র জানায়, ওই এলাকার বিশাল মেঘনা নদীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নৌ পুলিশের ১৩ জন সদস্য রয়েছেন। কিন্তু এত স্বল্পসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে অবস্থা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। হিজলা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বেল্লাল হোসেন বলেন, অবস্থা বিবেচনায় এখানে পুলিশের আরও ৩৪ জন সদস্য যুক্ত হচ্ছেন। তাঁদের দুটি এলাকায় ভাগ করে ২৪ ঘণ্টা হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আওতাধীন মেঘনার পাহারায় নিযুক্ত করা হবে।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনিচুর রহমান বলেন, বিভাগীয় কমিশনার ও বরিশাল জেলা প্রশাসককে পরিস্থিতি জানানো হলে দুই উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

৭ দিনে ৩৩৬ জনের কারাদণ্ড

এবার ১৪ অক্টোবর থেকে ২২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা, বেচাকেনা, পরিবহন, বিপণন ও বাজারজাতকরণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ। মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, ১৪ অক্টোবর থেকে গতকাল বুধবার সকাল পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ৭৭০টি অভিযান পরিচালিত হয়। পাশাপাশি ৩৫০টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়। অভিযানের সময় ৩৬৭টি মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযানে আটক লোকজনের কাছ থেকে ৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩৩৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ২৮ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ইলিশ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

শুক নদে মাছ ধরার সুখ

নদীর বাঁধজুড়ে মানুষের ঢল। কেউ দাঁড়িয়ে বাঁধের ধারে, আবার কেউ কোমরসমান পানিতে। চারপাশে জলের ঝপাৎ-ঝপাৎ শব্দ। নানা বয়সের মানুষ জাল ফেলে মাছ ধরছে। এই চিত্র ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার শুক নদের বুড়ির বাঁধ (জলকপাট) এলাকার। দুই দিন ধরে সেখানে মাছ ধরা চলছে।

শুক্রবার রাতে খুলে দেওয়া হয় জলকপাটের দরজা। পানি কমে গেলে শনিবার ভোরে হাতে হাতে ফিকা জাল নিয়ে পানিতে নেমে পড়েন স্থানীয় লোকজন। শুরু হয়ে গেছে মাছ ধরার উৎসব। মাছ ধরার এ উৎসব ঘিরে এলাকাটি পরিণত হয়েছে মিলনমেলায়। প্রতিবছর দু-তিন দিন ধরে এখানে মাছ ধরার উৎসব চলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে কৃষিজমিতে সেচসুবিধার জন্য শুক নদের ওপর বুড়ির বাঁধ নামে একটি জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণকাজ শেষ হয় ১৯৮২ সালে। জলকপাটে আটকে থাকা পানিতে প্রতিবছর মৎস্য অধিদপ্তর বিভিন্ন জাতের মাছের পোনা ছাড়ে। এসব পোনা যাতে কেউ ধরতে না পারেন, তা দেখভাল করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ। অক্টোবরের শেষের দিকে সেখানে মাছ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। জলকপাট নির্মাণের পর থেকে সেখানে মাছ ধরার উৎসব চলে আসছে। এতে যোগ দেন আশপাশের গ্রাম ও শহর থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার ভোরে বুড়ির বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে, আবার কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে জাল ফেলে মাছ ধরছেন। ভিড়ের কারণে একজনের জাল অন্যজনের জালের ওপরে পড়ছে। আর তা নিয়ে চলছে হাসি-তামাশা। এসব দেখে সদর উপজেলার আখানগর গ্রামের মহসিন আলী বললেন, ‘এইঠে যতলা লোক মাছ মারছে বাঁধের পানি ফাঁকা পাওয়া জাসেনি। জাল ফেলাবা গেলেই অন্যের জালের ওপরত পড়ছে।’

এসব বিড়ম্বনা এড়াতে অনেকে আবার কলার ভেলায় ঘুরে ঘুরে মাছ ধরছেন। বাঁধের ওপরে বসেছে খাবার, ফল ও খেলনার দোকান। বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেল নিরাপদে রাখার জন্য তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী গ্যারেজ। সেখানে প্রতিটি বাইসাইকেলের জন্য ১৫ ও মোটরসাইকেল রাখতে ৩০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইয়াসিন আলী বলেন, ‘প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।’

অনেক ব্যবসায়ী মাছ কিনে বাঁধের ওপর বিক্রি করছেন। শহর থেকে আসা মানুষজন সেসব মাছ কিনে নিচ্ছেন। আবার অনেকে এখান থেকে মাছ কিনে শহরের বাজারে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বনাথ দাস নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময়ে মাছ কিনতে চলে আছি। আজ ১৬ হাজার টাকার ছোট মাছ কিনেছি। এগুলো শহরের বাজারে নিয়ে যাব।’

প্রতিবছর আমরা এই দিনের জন্য অপেক্ষা করি। সকালে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তিন কেজি ছোট মাছ ধরতে পেরেছি। তবে এবার পানিতে কচুরিপানা থাকায় জাল ফেলতে সমস্যা হচ্ছে।

পুরোনো ঠাকুরগাঁওয়ের বাসিন্দা মো. ইউসুফ জানালেন, এই বাঁধের পানিতে বোয়াল, বাইম, শোল, ট্যাংরা, খলসে, পুঁটি, টাকি, মলা, চিংড়িসহ বিভিন্ন জাতের দেশি মাছ বেশি পাওয়া যায়। তবে অনেকের জালে আবার রুই-কাতলা ধরা পড়ে।

প্রতিবছর এ সময় ঠাকুরগাঁও শহরের আশ্রমপাড়া এলাকা থেকে জাল হাতে এখানে চলে আসেন মনিরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘মাছ ধরার এই উৎসবে অনেক দিন দেখা নেই—এমন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। আমরা এটাকে মিলনমেলাও বলে থাকি।’

সদর উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান অরুণাংশু দত্ত বলেন, ‘পানি ছেড়ে দিলে বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরা উৎসবে পরিণত হয়। আমরা যুগের পর যুগ এ উৎসব ধরে রাখতে চাই।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সারাদেশে গ্রেফতার ১৪২

মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১৬টি অভিযান পরিচালনা করেছে নৌপুলিশ। অভিযানে ৪৭ লাখ ২২ হাজার ৫৯০ মিটার কারেন্ট জাল ও ৭৮৭ কেজি মা ইলিশ জব্দ ও ১৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়। সোমবার (১৯ অক্টোবর) নৌপুলিশের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত জালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হজার টাকা।\

মাছের মূল্য প্রায় তিন লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা টাকা। এসব মাছ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ এবং জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে মা ইলিশ ধরায় চারটি ট্রলার এবং একটি স্পিডবোট জব্দ করেন নৌপুলিশ সদস্যরা।

মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, অভিযান শেষে আটটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া চার জেলেকে ২১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও ১০ জনকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মা-ইলিশ শিকারে কৌশলী জেলে বেপরোয়া ব্যবসায়ী

চাঁদপুরে প্রশাসনের অভিযানের পরও বন্ধ হয়নি মা-ইলিশ শিকার। সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রজনন মৌসুমে একশ্রেণির অসাধু জেলে প্রতিনিয়ত নদীতে মাছ শিকারে নামছেন। আইন অমান্য করার প্রবণতার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালী মহলের তৎপরতায় মা-ইলিশের নিধনযজ্ঞ চলছেই। ফলে এ বছর পর্যাপ্ত ইলিশ প্রাপ্তি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা ১৪ থেকে ১৮ অক্টোবর পযর্ন্ত মোট ৬৬টি অভিযান চালিয়ে ১০০ জেলেকে আটক করে। এদের মধ্যে ৮৪ জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। বাকি ১৬ জনকে মোট ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ৭০৯ কেজি ইলিশ ও ১৬.৬১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় মোট ২৬টি মামলা হয়েছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুম হিসেবে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ নিষিদ্ধ করা হয়। কেউ আইন অমান্য করলে এক থেকে দুই বছরের কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে। জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে জেলা টাস্কর্ফোসের ১০টি টিম নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার আশপাশের চরাঞ্চলে যেন মাছ ধরার উৎসব শুরু হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলেরা। জেল-জরিমানা এমনকি সরকারি নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই অবাধে চলছে ইলিশ নিধন। জেলেরা দিন-রাত পালাক্রমে ইলিশ শিকার করছে। অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা কৌশলে গ্রামের বিভিন্ন ঝোপ-জঙ্গলে কিংবা হাট-বাজারে অবাধে বিক্রি করছে ইলিশ। অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ব্যবসায়ীরাও। আইনি ঝামেলা এড়াতে মা-ইলিশ বিক্রি ও ধরার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের।

রোববার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আনন্দবাজার, সফরমালি, খেরুদিয়া, বাংলাবাজার, বিষ্ণুপুর, রাজরাজেস্বরসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে জাটকা ও মা-ইলিশ। এদিন নদীতে ১৬টি অভিযান চালিয়ে ১১৮ কেজি মা-ইলিশসহ ৪৭ জেলেকে আটক করা হয়। এসময় ৯.০৪ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। আটকদের মধ্যে ৩৯ জন জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বাকি আট জেলেকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের নেতৃত্বে পদ্মা-মেঘনায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান চলাকালে চাঁদপুর পুরান বাজার রনাগোয়াল এলাকার কাছে এলে জেলা প্রশাসনের স্পিডবোট লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু হয়। এছাড়া অসাধু জেলেরা নৌকায় করে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয়। একপর্যায়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে সেখান থেকে চলে আসে অভিযানকারী দল।

এলাকাবাসী জানিয়েছে, রাতভর ইলিশ শিকার হচ্ছে প্রজনন এলাকাজুড়ে। অনেক এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ইলিশ শিকারে নতুন পন্থা নিয়েছে অসাধু জেলেরা। জেল-জরিমানা থেকে বাঁচতে ইলিশ শিকারে এখন তারা শিশুদের ব্যবহার করছে। কারণ বয়সের বিবেচনায় শিশুদের দণ্ড দিতে পারছে না প্রশাসন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী জানান, বিচ্ছিন্ন কয়েকটি স্থানে কিছু অসাধু জেলে মাছ শিকার করছে। নদীতে সর্বদাই কাজ করছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। এছাড়া কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত নদীতে অভিযান চালিয়ে ৮৪ জেলেকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিদিন জেলা টাস্কর্ফোসের ১০টি টিম নদীতে পালাক্রমে অভিযান পরিচালনা করছে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, পানি বেশি থাকায় খুব সহজেই নদীতে নামা জেলেরা চরের ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে পড়ছে। এছাড়া তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে শুরু করে। বেপরোয়া জেলেরা এখন হামলা করতেও দ্বিধা করছে না। আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে একটু বাড়তি দায়িত্ব পালন করলে মা-ইলিশ নিধন বন্ধ করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা, বরিশালে সরকারি চাল পাচ্ছেন ৪৭ হাজার জেলে

দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ইলিশের মোকাম বরিশাল নগরীর পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। এখানে শতাধিক ছোট-বড় মাছের আড়ত আছে। সারা দেশ থেকে পাইকাররা এখানে আসেন। স্বাভাবিক সময়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছ উঠানো-নামানো ও পরিবহন এবং ক্রেতাদের আনাগোনায় জমজমাট থাকে ইলিশ মোকাম।

তবে এখন উল্টো চিত্র। মোকাম সংলগ্ন খালে বাধা সারি সারি ট্রলার। নেই কর্মব্যস্ততা, নেই ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাক। জেলে, শ্রমিক আর ফড়িয়ারা বেকার বসে আছেন। আড়তগুলো প্রায় জনশূন্য। কাজ না থাকায় আড়ত ছেড়ে আড্ডা দিয়ে, লুডু খেলে সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

কারণ মা ইলিশকে নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে দেয়ার জন্য বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে আগামী ২২ দিন সাগর ও নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ। তাই এখানকার আড়তদার-মহাজন, মৎস্যজীবী ও মোকামের কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মহীন।

ইলিশ শিকারের নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন বুধবার ইলিশ মোকাম ছিল জনশূন্য। পোর্ট ইলিশ মোকামে প্রায় ৪০ বছর ধরে শ্রমিকের কাজ করেন মো. হারুন (৫৫)। আড়তে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে তার চার সদস্যের সংসার চলে।

মো. হারুন বলেন, আগামী ২২ দিন বেকার সময় কাটাতে হবে। সরকার নিষেধাজ্ঞার কারণে জেলেদের বিশেষ খাদ্য-সহায়তা দিলেও শ্রমিকদের সহায়তা দেয় না। এজন্য দুশ্চিন্তায় আছি। আগামী ২২ দিন ধারদেনা করে চলতে হবে।

ইলিশ মোকামের দাস ব্রাদার আড়তের শ্রমিক মো. হোসেন সরদার (৫২) বলেন, প্রায় তিন যুগ ধরে মাছের আড়তে কাজ করছি। বছরের এ সময়টা আমার পরিবারের খুব খারাপ কাটে। আমার একার উপার্জনে সংসার চলে। কাজ না থাকায় পরিবারের ছয় সদস্যের দু’বেলা খাবার জোগাড় করতে অনেক ধারদেনা হয়ে যায়। সরকার যদি এসময় আমাদের একটু সহায়তা করতো তাহলে দুশ্চিন্তা হতো না।

শ্রমিক মো. হোসেন সরদার বলেন, পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে আমার মতো প্রায় তিন হাজার শ্রমিক আছেন। সবার একই অবস্থা। নিষেধাজ্ঞার কারণে কাজ হারিয়ে সবাই বেকার। পরিবার-পরিজন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি সবাই।

বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের হবিনগর এলাকার বাসিন্দা জেলে মো. খোরশেদ মুন্সি বলেন, ৩০ বছর ধরে নদীতে ইলিশ মাছ ধরছি। গত কয়েক বছর ধরে বছরের এ সময় মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। এই সময়টা আমাদের বেকার থাকতে হয়। আগে সর্বোচ্চ ১৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয়েছে। এখন সেটা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২২ দিন। কিন্তু খাদ্য-সহায়তা বাড়ানো হয়নি। ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার কর্মসূচি সফল করতে শুধু খাদ্য সহায়তা দিলে হবে না, জেলেদের নগদ সহায়তা দিতে হবে।

বরিশাল পোর্ট রোড আড়ৎদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অজিত কুমার দাস মনু বলেন, ইলিশের বংশ বিস্তারে সবার নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা উচিত। এবার প্রচুর ইলিশ জেলেদের জালে ধরা পড়েছে। পোর্ট রোড মোকামে গত এক মাসে গড়ে প্রতিদিন দেড় হাজার থেকে দু’হাজার মণ ইলিশ আমদানি হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় বেশি ছিল। এবার ইলিশের চাহিদাও ভালো ছিল। ভারতে রফতানি হয়েছে। জেলে ও ইলিশ ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়েছেন।

মৎস্য অধিদফতরের বরিশাল জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তা (ইলিশ) ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, এ বছর সাগর নদ-নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়েছে। যার অধিকাংশ বড়। অনুকূল পরিবেশ পেলে ইলিশের ওজন আর সংখ্যা যে বাড়াবে তাতে সন্দেহ নেই। মা-ইলিশের সুরক্ষা ও ডিম পাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারায় এ সফলতা এসেছে। পাশাপাশি আছে সরকারের জাটকা নিধন বন্ধ অভিযান। এই দুই কর্মসূচির সফলতা ইলিশের সংখ্যা বাড়তে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ড. বিমল চন্দ্র দাস বলেন, মা ইলিশ রক্ষা করে প্রজনন নিশ্চিত করার জন্য সব ধরনের প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৫ দিন ধরে এ বিষয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের জন্য জেলেদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন এবং লিফলেট বিতরণ করেছে মৎস্য অধিদফতর।

জেলায় ৭৮ হাজার নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন। এর মধ্যে ৪৭ হাজার জেলের মাঝে বিতরণের জন্য চাল পাওয়া গেছে। আগামী দু’একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ শুরু হবে। কর্মসূচি সফল করতে কর্তৃপক্ষ মৎস্য বিভাগের কমকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। মৎস্য বিভাগের অন্য জোন থেকে ২৯ জন কর্মকর্তাকে বরিশাল বিভাগে আনা হয়েছে ২২ দিন দায়িত্ব পালনের জন্য।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com