আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ঈদুল আজহা: দূর হোক অন্তরের পশুত্ব

সমগ্র বিশ্ব এক বিশেষ সময় অতিবাহিত করছে। মহামারি করোনা মানুষের সাধারণ গতি পাল্টে দিয়েছে। এরই মধ্যে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ দ্বিতীয় বারের মত ঈদুল আজহা উদযাপন করছে। ঈদ আনন্দে ধনী-গরীব সবারই আশা থাকে পরিবারের লোকদের নিয়ে আনন্দময় সময় অতিবাহিত করার। কিন্তু এবারও হয়তো সাধারণ খেটে খাওয়া ও দরিদ্র শ্রেণির পক্ষে সম্ভব হবে না ঈদে পরিবারের জন্য বাড়তি কিছু করার।

হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কুরবানির অনুসরণে মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর ১০ই যিলহাজ তারিখে পশু কুরবানি করে থাকে। ইসলামে এই যে কুরবানির শিক্ষা তা কি কেবল একটি পশু কুরবানির মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হয়ে যায়? আসলে পশু কুরবানি করাটা হচ্ছে একটা প্রতীকীমাত্র। গরীব অসহায়দের সাথে নিয়ে যে আনন্দ উদযাপন করা হয় তাই মূলত আল্লাহপাকের কাছে গ্রহণীয় হয়ে থাকে।

 আল্লাহপ্রেমিক বান্দারা ঘরে বসেই তার বান্দাদের কষ্ট দূর করার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। যারা তার বান্দার কষ্টের সময় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আল্লাহপাক তাদেরকে তার বন্ধু বানিয়ে নেন। দয়াময় সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের সবিনয় প্রার্থনা, হে আল্লাহ! বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর এ কুরবানি তুমি গ্রহণ করে বিশ্বকে কর করোনা মুক্ত, আমিন। 

এবারের কুরবানির ঈদকে আমরা আরো আনন্দময় করতে পারি যদি গরীব ও সাধারণ খেঁটে খাওয়া মানুষদের সাথে নিয়ে উদযাপন করি। বাজারে গেলে দেখা যায় কার চেয়ে কে বড় পশু ক্রয় করবে তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতা হয়। অথচ আল্লাহর কাছে এর রক্ত এবং মাংসের কোনই মূল্য নেই। তিনি তো মানুষের হৃদয় দেখেন। এই কুরবানির মাধ্যমে আমি কতটা নিজেকে পরিবর্তন করেছি, এটা হল মূল বিষয়। আসলে আমরা যদি নিজেদের পশুসূলভ হৃদয়কে কুরবানি দিয়ে একে অপরের জন্য হয়ে যাই তাহলে কতই না উত্তম হত।

এছাড়া আল্লাহ তাআলাও চান মানুষ যেন তার পশুসুলভ হৃদয়কে কুরবানি করে, তার আমিত্বকে কুরবানি করে আর সেই সাথে তার নিজের সমস্ত চাওয়া-পাওয়াকে আল্লাহর খাতিরে কুরবানি করে দেয়। হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালামও ও তার পুরো পরিবারের কুরবানি এমনই ছিল। তারা ব্যক্তি স্বার্থকে কেবলমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ত্যাগ করেছিলেন।

আল্লাহর সাথে প্রেমবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য তিনি কুরবানি চান আর এ কুরবানির অর্থ কেবল পশু জবেহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এ কুরবানি কারো জন্য নিজ প্রাণের কুরবানিও হতে পারে আবার কারো নিজ পশুত্বের কুরবানিও হতে পারে। আমরা যদি মনের পশুকে কুরবানি করতে পারি তাহলেই আমরা আল্লাহ তাআলার প্রিয়দের অন্তর্ভুক্ত হতে পারব।

কুরবানির ঈদ-পালনের মাধ্যমে বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহর প্রিয় বান্দা ও নবী হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালামএর অতুলনীয় আনুগত্য এবং মহান ত্যাগের পুণ্যময় স্মৃতি বহন করে। আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম উম্মাহ প্রতি বছর পশু কুরবানি করে থাকে। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে নির্দেশ দিচ্ছেন, ‘অতএব আপনি আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্যে নামাজ পড়ুন এবং কুরবানি করুন।’ (সুরা কাউসার, আয়াত ২)

কুরবানি একটি প্রতীকী ব্যাপার। এখানে পশু কুরবানির মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জানমাল থেকে শুরু করে সবকিছুই কুরবানি করতে প্রস্তুত। হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম ও তার পুরো পরিবারের নজিরবিহীন কুরবানির ইতিহাস মানুষকে যে ত্যাগের শিক্ষা দেয় তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে একজন মুমিন তার সবকিছুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত থাকে।

হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম এবং মা হাজেরার আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশগুলো আল্লাহ তাআলা হজের অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন। আল্লাহ তাআলা হজরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম কে স্বপ্নে দেখালেন, তিনি তার পুত্রকে জবাহ করছেন (সুরা সাফ)।

যেভাবে কুরবানি কবিতায় কবি নজরুল বলেছেন: এই দিনই মিনা ময়দানে, পুত্র-স্নেহের গর্দানে, ছুরি হেনে খুন ক্ষরিয়ে নে, রেখেছে আব্বা ইব্রাহিম সে আপনা রুদ্র পণ! ছি ছি! কেঁপো না ক্ষুদ্র মন! আজ জল্লাদ নয়, প্রহ্লাদ-সম মোল্লা খুন-বদন! ওরে হত্যা নয় আজ সত্যগ্রহ শক্তির উদ্বোধন।’

পিতা ইব্রাহিম স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গেলে আল্লাহ বললেন, হে ইব্রাহিম! তুমি তোমার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছ। আমি তোমাকে নিজ পুত্রকে আমার পথে উৎসগ করতে বলেছি, হত্যা করতে নয়। তোমার পুত্র সারাজীন লোকদেরকে বুঝাবে আল্লাহ এক-অদ্বিতীয়। প্রশ্ন হলো, তাহলে কেন দুম্বা বা ছাগল জবাই করলেন? এর উত্তর হলো: যদি সেদিন এই ঘটনা না ঘটতো তাহলে তৎকালীন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী কোন কোন জাতিতে প্রভুকে বা দেব-দেবীদেরকে খুশি করার জন্য নরবলি তথা মানুষ কুরবানি চলমান থাকতো। অতএব আল্লাহ মানবজাতিকে শিক্ষা দিলেন, মানুষ জবাহ করার জিনিস নয়, জবাহ যদি করতে হয় তাহলে পশু জবাহ করো।

ইতিহাস পাঠে জানা যায়, হজরত মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শ্রদ্ধেয় পিতা একবার অসুস্থ হলে তার দাদা একশত উট জবাহ করেছিলেন (সিরাতে নববী)। এ থেকে প্রতীয়মান হয়, পশু জবাই করা মহানবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রচলন করেন নি বরং পূর্বেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করা হতো। পশু কুরবানির আরো একটি উৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। কুরআনে মুসা আলাইহিস সালাম এর জাতিকে আল্লাহ শিক্ষা দিয়েছেন, ‘তোমরা যে গাভীকে পুজা করো, সে পুজনীয় নয় বরং আমি পুজনীয়, অতএব সেটাকে জবাহ করো।’ (সুরা আল বাকারা, রুকু ৮)

অর্থাৎ গরু আমাদের উপকারার্থে সৃষ্টি করা হয়েছে, আমরা যেন এর দুধ পান করতে পারি এবং এর গোশত খেতে পারি এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য উপকার সাধন করতে পারি। মূল উদ্দেশ্য হলো, আমাদের হৃদয়ে যদি কোন পশু থাকে সেই পশুকে হত্যা করা, সেটাকে জবাই করা।

হাদিসে আছে, পশু জবাই আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের একটি মাধ্যম তবে তা ঐ ব্যক্তির জন্য যে নিষ্ঠার সাথে কেবল আল্লাহ তাআলার ভালোবাসায়, তার ইবাদাতের উদ্দেশ্যে ঈমান সহকারে পশু জবাই করে এমন কুরবানিকে আরবিতে ‘নুসক’ বলা হয়েছে, যার আরেকটি অর্থ অনুগত।

আসলে আল্লাহ মানুষের অন্তর দেখেন, কে কোন উদ্দেশ্যে কুরবানি করছে তা তিনি ভাল করেই জানেন। মূলত মানুষের মধ্যে সকল লোভ লালসা দূর করে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সকল পশুত্বকে বিসর্জনের শিক্ষাই হলো কুরবানির শিক্ষা। তাই কুরবানির অন্যতম ধর্মীয় উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষের মধ্যে পশুত্বকে হত্যা করে মনুষ্যত্বকে জাগিয়ে তোলা।

কাজী নজরুল ইসলাম তার এক কবিতায় বিষয়টি এভাবে তুলে ধরেছেন- ‘মনের পশুরে কর জবাই/পশুরাও বাঁচে বাঁচে সবাই।’ এই পশু কুরবানি সম্পূর্ণ রূপক। আল্লাহর পথে ত্যাগই ঈদের আসল শিক্ষা। আল্লাহর নামে পশু কুরবানি করে তা মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার মানে দান নয়, তা ত্যাগ। তাই তো কবি নজরুল ‘ঈদজ্জোহা’ কবিতায় লিখেছেন, ‘চাহি নাকো দুম্বা-উট, কতটুকু দান? ও দান ঝুট। চাই কুরবানি, চাই না দান।’

আমাদের পুণ্যকর্মগুলোর মূল উদ্দেশ্য যদি হয়ে থাকে আল্লাহপাকের সন্তুষ্টি তাহলে তিনি হয়তো আমাদের আমল গ্রহণ করবেন। এবার যেহেতু একদিকে করোনা আর অপর দিকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে, এক্ষত্রে যাদেরকে আল্লাহ সামর্থ্য দিয়েছেন তারা ইচ্ছা করলে কুরবানি ঈদের বাজেটের একটি অংশ গরীবদের জন্য ব্যয় করতে পারেন।

করোনাকালীন এ ঈদে আল্লাহ যাদের সামর্থ্য দিয়েছেন তাদের অনেক দায়িত্ব রয়েছে। তাদের উচিত হবে সাধারণ খেঁটে খাওয়া ও দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো। ঈদের আনন্দে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া। আসলে অসহায়দের সাহায্য করাই ধর্মের শিক্ষা। আর এর মাধ্যমেই আল্লাহপাক বান্দার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আল্লাহপ্রেমিক বান্দারা ঘরে বসেই তার বান্দাদের কষ্ট দূর করার মাধ্যমে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। যারা তার বান্দার কষ্টের সময় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে আল্লাহপাক তাদেরকে তার বন্ধু বানিয়ে নেন। দয়াময় সৃষ্টিকর্তার কাছে আমাদের সবিনয় প্রার্থনা, হে আল্লাহ! বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর এ কুরবানি তুমি গ্রহণ করে বিশ্বকে কর করোনা মুক্ত, আমিন।

সকলকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কুমিল্লায় আউশ আবাদে ব্যস্ত কৃষক

লেখক

জেলার বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে আউশ আবাদের ধুম পড়ে গেছে। লাভের আশায় কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন চাষিরা। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতেই মাঠে মাঠে আউশ রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্থানীয় চাষিরা জানান, টানা বর্ষণ আর গত কয়েকদিনর বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলেন অনেক চাষি। সেই সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যই ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা আশায় বুক বেঁধেছেন আউশ আবাদে। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আউশের ফলন অনেক ভালো হবে বলে মনে করছেন চাষিরা। তাই বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে আউশ ধান রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা নিয়েও সন্তুষ্ট চাষিরা।


কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আউশ চাষি কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, লাভবান হওয়ার আশায় ১৮০ শতাংশ জমিতে আউশের আবাদ করেছি, এখন পর্যন্ত ক্ষেতের অবস্থা ভালো।
কৃষক আবদি মিয়া বলেন, গত বছর আউশ আবাদে আমার অনেক লাভ হয়েছে, আশা করছি এবারও লাভের মুখ দেখতে পারবো। কৃষক তোফায়েল ও করিমসহ অন্যরা জানান, জমিনে রোপা আউশের বয়স ৮/১০ দিন হয়েছে, এবার ফলন অনেক ভালো হবে। আগে যাদের ক্ষতি হয়েছে তারা এবার পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। অনেকে এখনো আউশ রোপণ করছেন, কেউ আবার ক্ষেত পরিচর্চা শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এ বছর জেলার ১৫ উপজেলায় ১৩ হাজার ২২৫ হেক্টর জমিতে স্থানীয় ও উফশি জাতের আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যার ৬৫ ভাগ ধান ইতোমধ্যে রোপণ শেষ হয়েছে। মোট আবাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৫১১ মেট্রিক টন চাল।
কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বাসসকে বলেন, কৃষকদের আউশ ধান আবাদে উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে করে কৃষকরা বাড়তি আউশ আবাদ করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে। বর্তমানে ধানের দাম ভালো থাকায় অনেকেই আউশ আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন, আমরাও তাদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সব জমি যেন কৃষি আবাদের আওতায় আসে সে লক্ষ্যে কুমিল্লাতে কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৪ হাজার ৩২০ জন কৃষককে সবজি বীজও দেওয়া হচ্ছে, যাতে এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে। বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় এখনো আউশ আবাদ করছেন চাষিরা। আমরাও তাদের উৎসাহ দিচ্ছি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কৃষি কাজের যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাচ্ছে : কৃষিমন্ত্রী

লেখক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষি কাজে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়ে কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে। কৃষিমন্ত্রী রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের’ জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: আসাদুল্লাহর সভাপতিত্বে কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো: মেসবাহুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মো: হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব ওয়াহিদা আক্তার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো: হামিদুর রহমান, বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মো: বখতিয়ার, ব্রির মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক বেনজীর আলম।


আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ত্বরান্বিত করতে দক্ষ জনবল তৈরিতে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কৃষি প্রকৌশলীর ২৮৪টি পদ সৃজন করা হয়েছে। ফলে, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের দিকে যাচ্ছে ও যান্ত্রিকীকরণের সুফল পাওয়া যাচ্ছে। এ বছরে বোরোতে ধান কাটার যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার বেশি ব্যবহৃত হওয়ায় দ্রুততার সাথে সফলভাবে ধান ঘরে তোলা সম্ভব হয়েছে।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলভেদে ৫০%- ৭০% ভর্তুকিতে কৃষকদেরকে কৃষিযন্ত্র দেয়া হচ্ছে। এটি সারা বিশ্বের একটি বিরল ঘটনা। এ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষিতে নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। এর মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সময় ও শ্রম খরচ কমবে। কৃষক লাভবান হবে। বাংলাদেশের কৃষিও শিল্পোন্নত দেশের কৃষির মতো উন্নত ও আধুনিক হবে।

কৃষি যন্ত্রের প্রাপ্তি, ক্রয়, ব্যবহার ও মেরামত সহজতর করতে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে স্থানীয়ভাবে কৃষিযন্ত্র তৈরি করতে চাই। বর্তমানে বেশির ভাগ যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তা আমরা কমিয়ে আনতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা ইয়ানমার, টাটাসহ অনেক কোম্পানির সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে অনুরোধ করেছি যাতে তারা বাংলাদেশে কৃষিযন্ত্র তৈরির কারখানা স্থাপন করে।
তিনি বলেন, ভর্তুকি পাওয়ার পরও যাতে কৃষক কৃষিযন্ত্র কিনতে পারে, সেজন্য কৃষককে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। কৃষি যন্ত্র সরবরাহকারীদেরকে যন্ত্রের মেইনটেন্যান্সে সহায়তা ও বিক্রয়োত্তর সেবা দিতে হবে। এছাড়া, কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণে জোর দেয়া হচ্ছে- যাতে তারা নিজেরাই যন্ত্র চালনা ও মেরামত করতে পারে। এ সময় কৃষিযন্ত্র প্রস্তুতকারী, নির্মাতা ও আমদানিকারকদের দেশে কৃষিযন্ত্র তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

ভোলায় এক লাখ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

লেখক

জেলায় চলতি মৌসুমে ৯৯ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।এর মধ্যে উফশী ৮৩ হাজার ৫২০ ও স্থানীয় জাত ১৫ হাজার ৯৭০ হেক্টর। ইতোমধ্যে প্রায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে আবাদ শুরু হয়ে চলতি সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত জমি থেকে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ৯২৭ মে:টন চাল উৎপাদনের টার্গেট গ্রহণ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুক’লে থাকলে এ অঞ্চলে আউশের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনার রয়েছে।


উপ-সহকারী উদ্বিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: হুমায়ুন কবির বাসস’কে জানান, বাংলাদেশে আউশ ধান আবাদে ভোলা প্রথম স্থানে রয়েছে। প্রতি বছরই এ জেলায় আউশের আবাদি জমির পরিমান বাড়ছে। এবছর হেক্টর প্রতি উফশীতে চাল উৎপাদন ধরা হয়েছে ২ শমিক ৬ মে:টন ও স্থানীয়তে ১ দশমিক ৪ মে:টন করে। শুরুর দিকে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় আউশ আবাদে বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে মাটি নরম হওয়াতে এখন আবাদ কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আউশ আবাদে কৃষকদের উৎসাহিত করতে জেলায় ১৫ হাজার ৮০০ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে উন্নত বীজ এবং সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। খরিপ-১/২০২১-২০২২ মৌসুমে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সরকারিভাবে ১২ হাজার কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি উচ্চফলনশীল জাতের বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৩ হাজার ৮০০ কৃষককে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিটিউটের বীজ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ৫ কেজি করে বীজ দেওয়া হয়েছে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবু মো: এনায়েতউল্লাহ বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা’র প্রভাবে যাতে দেশে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয় সে কারণে এবার আবাদি জমির পরিমান বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গত বছর আউশ আবাদ হয়েছে ৯৮ হাজার ৭৫৫ হেক্টা জমিতে। এ বছর আশা করা হচ্ছে আবাদ আরো বাড়বে। আগষ্টের শেষের দিকে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলবেন। আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। চারা রোপণ, সুসম মাত্রায় সার প্রয়োগসহ সব ধরনের পরামর্শ কৃষকদের দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নীলফামারীতে বীজআলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ শুরু

লেখক

জেলার ডোমার উপজেলায় আজ মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদন, সংরক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে দুইদিন ব্যাপি প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে এ প্রশিক্ষণ শুরু হয়।
বিএডিসির মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ প্রকল্প’র আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে বিএডিসির রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ৩০জন কর্মকর্তা অংশ গ্রহন করছেন।


ভার্চ্যুয়ালি এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন বিএডিসির চেয়ারম্যান (গ্রেড-১) ড. অমিতাভ সরকার।
এসময় বিএডিসির মহাব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহীম হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএডিসির পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডোমার ভিত্তি বীজআলু উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক মো. আবু তালেব মিঞা প্রমুখ।
আগামীকাল শনিবার বিকালে সমাপ্ত হবে ওই প্রশিক্ষণ।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

দেয়ালের ড্যাম্প দূর করার সহজ উপায়

বর্ষায় ঘরের দেয়ালের পঁলেস্তার খসে পড়ে। দেয়ালে ড্যাম্প ধরার কারণে এটি হয়ে থাকে। এর ফলে দেয়ালে দেখা দেয় বিশ্রী কালচে ছোপ। সেইসঙ্গে দেয়ালের রংও চটে যায়।

ভেজা দেয়াল শুকিয়ে গেলে আবার পঁলেস্তার ফুলে ওঠে এবং ধীরে ধীরে ঝরে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে অনেকের ঘরেই এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখলে খুব সহজেই দেয়ালের ড্যাম্প দূর করা সম্ভব। জেনে নিন উপায়-

প্রথমে ঘরের দেয়ালের যেসব স্থানে ড্যাম্প ধরেছে তা চিহ্নিত করুন। অনেক সময় দেখা যায়, কোনো এক স্থান থেকে ক্রমাগত পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ওই ভেজা অংশ থেকেই ড্যাম্প ছড়াতে থাকে।

ঘরের ভেন্টিলেশনের দিকে নজর রাখুন। অনেক সময় সেখান থেকেও পানি চুঁইয়ে দেয়াল নষ্ট হতে পারে। তাই বর্ষার আগেই ব্যবস্থা নিন।

অনেক সময় বাড়ির ছাদে বা দেয়ালে ফাটল ধরে পানি চুঁইয়ে পড়ার কারণে ঘরের ভিতরে ছাদের অংশে বা দেয়ালে ড্যাম্প ধরে। এক্ষেত্রে দ্রুত ওই ফাটল মেরামত করা প্রয়োজন।

দীর্ঘদিন যদি কোনো ওয়ালমেট বা আসবাব দেয়ালের সঙ্গে লাগানো অবস্থায় থাকে; ওই স্থানে ড্যাম্প ধরে। তাই কিছুদিন পরপর আসবাবপত্রের জায়গা পরিবর্তন করুন।

চেষ্টা করুন ঘর খেলামেলা রাখতে। দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরে যদি আলো-বাতাস খেলা করে; তাহলে দেয়ালে ড্যাম্প ধরবে না। অন্যদিকে বদ্ধ ঘরে অতিরিক্ত জলীয়বাষ্প বা আর্দ্রতা জমে দেয়ালে ড্যাম্প পড়ার আশঙ্কা থাকে।

দেওয়ালের যে স্থানে ড্যাম্প ধরেছে সেখানে জিপসাম প্লাস্টার ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে বাজারে উপলব্ধ ‘মোল্ড রেজিস্ট’ রং বা জিপসাম প্লাস্টার পাওয়া যায়। এগুলো ঘরের দেয়ালকে ড্যাম্প পড়ার হাত থেকে দীর্ঘদিন রক্ষা করে।

ঘরের কোনো দেয়ালে বা মেঝেতে যদি শেওলা হয়, তাহলে স্থানটিতে সাদা ভিনেগার স্প্রে করে কিছুক্ষণ রেখে শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত মুছে ফেলতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com