আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

ইসলাম

বয়কট ফ্রান্স আন্দোলন: ইসলাম নিয়ে এমানুয়েল ম্যাক্রঁর মন্তব্যে বাংলাদেশে কি ফরাসীদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে?

নবীর কার্টুন এবং মুসলিমদের নিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের পেশোয়ারে এক বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা পোড়ানো হচ্ছে, অক্টোবর ২৬, ২০২০
নবীর কার্টুন এবং মুসলিমদের নিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের পেশোয়ারে এক বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা পোড়ানো হচ্ছে, অক্টোবর ২৬, ২০২০

ফ্রান্সে সম্প্রতি ক্লাসরুমে ইসলামের নবীর কার্টুন দেখানোর সূত্রে একজন স্কুল শিক্ষকের শিরচ্ছেদের ঘটনার পর ইসলাম ধর্ম নিয়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রঁর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে জর্ডান ও কুয়েতসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

অনেক দোকান থেকে ফরাসী পণ্য সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।

বাংলাদেশেও সেই ক্ষোভের আঁচ পড়েছে। রোববার সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক বিক্ষোভ সমাবেশের পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে একটি ইসলামপন্থী দল মঙ্গলবার ঢাকায় ফরাসী দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছে।

এই দলের আমীর সৈয়দ রেজাউল করিম বিবিসি বাংলাকে বলেন, তার এসব মন্তব্যের জন্য প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁকে মুসলমানদের কাছে নি:শর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, এবং বাংলাদেশ সরকারকে সংসদে প্রস্তাব এনে ফ্রান্সের নিন্দা করতে হবে।

ফ্রান্সে নবীকে ‘অপমানের‘ প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ
ফ্রান্সে নবীকে ‘অপমানের‘ প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ

তিনি বলেন, “ফ্রান্সে মুসলমানদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চলছে, নবীর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। নবীকে অপমান করা হচ্ছে। আমরা চুপ করে বসে থাকতে পারিনা।“

এর আগে, গতকাল (রোববার) সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে, এবং সংবাদমাধ্যম ও সোশাল মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, সেখানে নানা মত-পথের ছাত্র সংগঠনের অংশগ্রহণ ছিল। সমাবেশে ফরাসী প্রেসিডেন্টের নিন্দা করা হয়েছে যে তিনি মত প্রকাশের স্বাধীনতার নামে ইসলাম বিদ্বেষকে উস্কে দিচ্ছেন।

ফ্রান্সের ইমেজে কি আঘাত পড়বে?

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামের নবীর কার্টুন নিয়ে নতুন এই বিতর্ক এবং ইসলাম নিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের মন্তব্য-বিবৃতির প্রতিক্রিয়া কতদূর গড়াতে পারে বাংলাদেশে?

ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। ইসলাম সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে
ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। ইসলাম সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে

সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে উদার ও অগ্রসর দেশ হিসাবে ফ্রান্সের যে ভাবমূর্তি বাংলাদেশে রয়েছে তাতে কি বড় কোন আঘাত পড়বে?

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের শিক্ষক ড. আব্দুর রব খান মনে করেন এই ক্ষোভ ‘সাময়িক।‘

তিনি বিবিসিকে বলেন, “ইসলাম নিয়ে বাংলাদেশে স্পর্শকাতরতা রয়েছে, ফ্রান্সে যা হচ্ছে তা নিয়ে হয়ত আগামী কিছুদিনে আরও বিচ্ছিন্নভাবে কিছু প্রতিবাদ দেখা যাবে – কিন্তু এ নিয়ে যে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হবে বা ফ্রান্স নিয়ে বাংলাদেশের জনমনে বড় কোনো বিরূপ মনোভাব জন্ম নেবে তা বলার সময় এখনো আসেনি।“

ড. খানের কথা, মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে তার সাথে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁকে নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের কিছু আক্রমণাত্মক কথার সম্পর্ক রয়েছে।

ঢাকায় ম্যাক্রঁ-বিরোধী বিক্ষোভ।
ঢাকায় ম্যাক্রঁ-বিরোধী বিক্ষোভ।

মি. এরদোয়ান দু’দিন আগে ফরাসী প্রেসিডেন্টকে ইসলাম এবং মুসলিম বিদ্বেষী বলে বর্ণনা করে মন্তব্য করেন যে “মি ম্যাক্রঁর এখন মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।“

ড. আব্দুর রব খানের মতে, মি. এরদোয়ানের এসব বিবৃতির সাথে আন্তর্জাতিক কিছু ইস্যুতে ফ্রান্স এবং তুরস্কের ক্রমবর্ধমান রেষারেষির কিছু সম্পর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেনও মনে করেন না যে নবীর কার্টুন বিতর্ক এবং প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁর কিছু মন্তব্য নিয়ে বাংলাদেশে ফ্রান্সের ভাবমূর্তিতে বড় কোনো ধস নামবে।

তিনি এ প্রসঙ্গে ২০০৫ সালে ডেনমার্কের একটি পত্রিকায় নবীর কার্টুন ছাপার প্রসঙ্গ টানেন। তখনও বাংলাদেশে বিক্ষোভ হয়েছে, ডেনিশ পণ্য বর্জনের ডাক দেয়া হয়েছিল, সরকারের পক্ষ থেকে ডেনমার্কের সরকারে কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হয়েছিল।

মি. হোসেন বলেন, “তখনও সেগুলো ছিল তাৎক্ষণিক ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। এ নিয়ে ডেনমার্কের সাথে সম্পর্ক খারাপ বা ডেনমার্কের ভাবমূর্তি যে স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে গেছে তা হয়নি।“

তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফ্রান্সের বিরৃদ্ধে সমাবেশ।
তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফ্রান্সের বিরৃদ্ধে সমাবেশ।

তৌহিদ হোসেন বলেন, ফ্রান্স নিয়ে মুসলিম বিশ্বের কোথাও কোথাও নতুন করে যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তার সাথে ‘সাংস্কৃতিক ভিন্নতা‘র একটি সম্পর্ক রয়েছে। “নবীর কোনো অপমান মুসলিমদের কাছে খুবই স্পর্শকাতর বিষয়, কিন্তু ফরাসীরা মনে করে যে কোনো কিছু এবং যে কাউকে নিয়ে কথা বলার অধিকার তাদের রয়েছে।“

তবে, মি হোসেনের মতে, মত প্রকাশের যে যুক্তি ফ্রান্স দেয় তার ভেতর অনেক স্ব-বিরোধিতা রয়েছে।

“নাৎসিদের সমর্থনে আপনি সেখানে কিছু বলতে পারবেননা, আইন করে তা নিষিদ্ধ। আর্মেনিয়ায় গণহত্যা অস্বীকার করা আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা কি তাতে থাকে?“

তুরস্ক-ফ্রান্স ‘পাওয়ার গেম‘

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এবং তার সরকার নিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ফ্রান্স।

ফরাসী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোববার বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান মুসলিম বিশ্বের ফ্রান্সের বিরুদ্ধে ঘৃণা উস্কে দিচ্ছেন। ফ্রান্স তুরস্ক থেকে তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে এনেছে।

ড. আব্দুর রব খান মনে করেন, মি. এরদোয়ান ফ্রান্স বা ফরাসী প্রেসিডেন্টকে নিয়ে যেসব বক্তব্য বিবৃতি দিচ্ছেন, তা সাথে সাথে এই দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া ‘পাওয়ার গেমের‘ (ক্ষমতার রেষারেষি) সম্পর্ক রয়েছে।

পূর্ব ভূমধ্যসাগরে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান নিয়ে তুরস্ক ও গ্রীসের মধ্যে যে রেষারেষি চলছে সেখানে ফ্রান্স সরাসরি গ্রীসকে সমর্থন যোগাচ্ছে।

লিবিয়ায় তুরস্কের সামরিক হস্তক্ষেপের তীব্র বিরোধিতাও করেছে ফ্রান্স। আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সংঘাতে তুরস্কের ভূমিকার সমালোচনা করছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ — এগুলো মি. এরদোয়ানের একবারেই পছন্দ নয়।

সেইসাথে, সৌদি আরব এবং মিশরকে হটিয়ে ইসলামী বিশ্বের নেতৃত্ব নেওয়ার একটা অভিলাষ তৈরি হয়েছে তুরস্কের মধ্যে, এবং অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন সে কারণে মুসলিমদের স্পর্শকাতরতা নিয়ে – তা ফিলিস্তিনী সংকট, রোহিঙ্গা সমস্যা বা কাশ্মীর সমস্যা হোক বা ফ্রান্সে মুসলিম বিদ্বেষ হোক- মি. এরদোয়ান খুবই সোচ্চার।

কতদূর গড়াতে পারে?

তৌহিদ হোসেন মনে করেন, ফ্রান্স-বিরোধী মনোভাব বাংলাদেশ বা মুসলিম বিশ্বে কতটা শক্তভাবে দানা বাঁধবে বা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা অনেকটাই নির্ভর করবে ওআইসি‘র মত মুসলিম দেশগুলোর বড় যেসব প্লাটফর্ম রয়েছে তাদের ভূমিকার ওপর।

তিনি বলেন, “তারা যদি এ বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু করে, বিবৃতি দেয়- তাহলে হয়তো মুসলিম বিশ্বে আরো বেশি ফ্রান্স বিরোধী মনোভাব বিস্তার লাভ করতে পারে।“

তবে সৌদি আরব বা মিশর মি. এরদোয়ানের সুরে সুর মেলাবেন – সে সম্ভাবনা এখন খুবই কম। তাদের কাছে ফ্রান্সের চেয়ে তুরস্কের এরদোয়ান সরকার এখন অনেক বড় শত্রু।

একইসাথে, অনেক পর্যবেক্ষক বলছেন, মুসলিম বিশ্বে তৈরি হওয়া অসন্তোষকে কতটা গুরুত্ব প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ দেন বা ভবিষ্যতে তিনি কি বলেন বা করেন – তার ওপর ফ্রান্স নিয়ে মুসলিমদের প্রতিক্রিয়ার গতি-প্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

ফ্রান্সে গত পাঁচ বছরে একের পর সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দু’শরও বেশি মানুষ মারা গেছে। ফলে, কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর কাছে থেকে চাপে পড়েছেন মি. ম্যাক্রঁ।

তৌহিদ হোসেন এবং আরো অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইসলাম নিয়ে বা ইসলামী কট্টরপন্থা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ যেসব স্পর্শকাতর কথাবার্তা বলছেন তার সাথে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সম্পর্ক রয়েছে।

সামনের বছর ফ্রান্সে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে মি ম্যাক্রঁ দেখাতে চাইছেন তিনি কট্টর ইসলাম এবং সন্ত্রাস দমনে কঠোর হতে দ্বিধা করবেন না।

  • তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফ্রান্সের বিরৃদ্ধে সমাবেশ।

    তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফ্রান্সের বিরৃদ্ধে সমাবেশ।

  • ঢাকায় ম্যাক্রঁ-বিরোধী বিক্ষোভ।

    ঢাকায় ম্যাক্রঁ-বিরোধী বিক্ষোভ।

  • ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। ইসলাম সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে

    ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। ইসলাম সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে

  • ফ্রান্সে নবীকে ‘অপমানের‘ প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ

    ফ্রান্সে নবীকে ‘অপমানের‘ প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ

  • নবীর কার্টুন এবং মুসলিমদের নিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের পেশোয়ারে এক বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা পোড়ানো হচ্ছে, অক্টোবর ২৬, ২০২০

    নবীর কার্টুন এবং মুসলিমদের নিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের পেশোয়ারে এক বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা পোড়ানো হচ্ছে, অক্টোবর ২৬, ২০২০

  • তুরস্কে ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফ্রান্সের বিরৃদ্ধে সমাবেশ।
  • ঢাকায় ম্যাক্রঁ-বিরোধী বিক্ষোভ।
  • ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ। ইসলাম সম্পর্কে তার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে
  • ফ্রান্সে নবীকে ‘অপমানের‘ প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ-সমাবেশ
  • নবীর কার্টুন এবং মুসলিমদের নিয়ে ফরাসী প্রেসিডেন্টের কিছু মন্তব্যের প্রতিবাদে পাকিস্তানের পেশোয়ারে এক বিক্ষোভে ফ্রান্সের পতাকা পোড়ানো হচ্ছে, অক্টোবর ২৬, ২০২০
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

প্রিয় নবী মেহমানের সঙ্গে যেমন ব্যবহার করতেন

আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) মেহমানদেরকে খুব গুরুত্ব দিতেন। তিনি ছিলেন অতিথি পরায়ণ। অতিথিদের সামনে তিনি সদা হাস্যোজ্জ্বল থাকতেন। যে কোনো মেহমানকেই জানাতেন সাদর আমন্ত্রণ ও উষ্ণ অভ্যর্থনা। ধর্ম-বর্ণ ও শত্রু-মিত্রের পার্থক্য তিনি করেননি কখনোই।

অতিথিদের কাছ থেকে কোনো অসৌজন্যতা প্রকাশ পেলেও ধৈর্য ধরতেন। আদর-আপ্যায়নের যেন কোনো ত্রুটি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতেন।

বিদায়বেলায় মেহমানের হাতে তুলে দিতেন উপহার-উপঢৌকন। তার আন্তরিক আতিথেয়তায় অতিথিরা মুগ্ধ-বিস্মিত হতো। সেই মুগ্ধতা অনেক মেহমানকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করেছে।

আতিথেয়তার ফজিলত
আতিথেয়তার ফজিলত বর্ণনা করে রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখে সে যেন তার মেহমানের সমাদর করে। (মুসলিম, হাদিস : ৭৯)

সালমান ফারসি (রা.) বলেন, একবার আমি রাসূল (সা.) এর কাছে এলাম। একটি বালিশে হেলান দিয়ে তিনি বসা ছিলেন। আমাকে দেখে তিনি বালিশটি আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। বললেন, ‘সালমান, যখন কোনো মুসলমান তার ভাইয়ের কাছে আসে তখন তার সম্মানে যদি একটি বালিশও সে এগিয়ে দেয়, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।’ (হায়াতুস সাহাবা, পৃষ্ঠা : ৪৪৬)

সর্বজনীন আতিথেয়তা
রাসূল (সা.) এর আতিথেয়তায় শর্তের কোনো বেড়াজাল ছিল না। ধনী-দরিদ্রের তফাত ছিল না। মুসলিম-অমুসলিমের তারতম্য ছিল না। শত্রু-মিত্রের কোনো ফারাক ছিল না। রাসূল (সা.) বলেন, ‘যে অলিমায় শুধু ধনীদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং গরিবদের বাদ দেয়া হয়, তা সবচেয়ে নিকৃষ্ট খাবার।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৭৯৯)

সাহাবি রুশদ ইবনে আবদুর রহমান বলেন, ‘ইসলাম গ্রহণের আগে আমি রাসূল (সা.) এর মেহমান হয়েছিলাম। তিনি আমার খোঁজখবর নিলেন। তার কাছে আমাকে বসালেন। যতক্ষণ আমি তার কাছে ছিলাম ততক্ষণ তার আতিথেয়তায় মুগ্ধ হলাম। তার এই অসাধারণ আতিথেয়তায় সন্তুষ্ট হয়ে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম।’ (হায়াতুস সাহাবা, পৃষ্ঠা : ৪৪৭)

শত্রু যখন অতিথি
আরবের মুহারিব গোত্র খুবই উগ্র ছিল। কট্টর ইসলামবিরোধী ছিল। ইসলামের মাধুর্যে মুগ্ধ হয়ে যখন মানুষ দলে দলে মদিনায় আসতে লাগল তখন মুহারিব গোত্রেরও ১০ জন লোক মদিনায় এলো। রাসূল (সা.) তাদের অভ্যর্থনা-আপ্যায়নের জন্য বেলাল (রা.) কে দায়িত্ব দেন। সকাল-বিকাল তাদের আহারের সুব্যবস্থা করেন। এতে তারা মুগ্ধ-বিস্মিত হলো এবং ইসলাম গ্রহণ করে নিজ দেশে ফিরে গেল। (আসাহহুস সিয়ার, পৃষ্ঠা : ৪৪৪)

অতিথির অসৌজন্যতায় ধৈর্য ধারণ
অতিথিদের নানা দুর্ব্যবহারে তিনি সহনশীলতার পরিচয় দিতেন। তাদের অসৌজন্যতা নীরবে সয়ে যেতেন। ক্ষমার চাদরে ঢেকে দিতেন তাদের। একটু কটুবাক্যও তিনি কখনো বলতেন না। অন্যদেরও কঠোরভাবে নিষেধ করতেন। এক গ্রাম্য লোক নবিজি (সা.) এর কাছে এলো। হঠাৎ সে মসজিদ-ই-নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করতে লাগল। সাহাবায়ে কেরাম তাকে বাধা দিতে গেলে রাসূল (সা.) বললেন, ‘তাকে ছেড়ে দাও এবং তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও। তোমরা কঠোর হওয়ার জন্য নয়, বরং নম্র ব্যবহারের জন্য প্রেরিত হয়েছ। ‘ (বুখারি, হাদিস : ২২০)

মেহমানের খাতির-যত্ন ও আপ্যায়ন
অতিথির আদর-আপ্যায়ন ও খাতির-যত্নে রাসূলের কোনো সংকোচবোধ ছিল না। তিনি মেহমানের সঙ্গে একই পাত্রে বসে খেতেন। মেহমান তৃপ্তিসহকারে খেয়ে না ওঠা পর্যন্ত তিনি উঠতেন না। বসে থাকতেন। ভালো খাবারগুলো মেহমানের দিকে এগিয়ে দিতেন। নিজের পরিবারকে অভুক্ত রেখে তিনি
মেহমানদের খাওয়াতেন।

আসহাবুস সুফফা ছিলেন রাসূল (সা.) এর নিত্য মেহমান। তিনি তাদের খাতির-যত্নের কোনো কমতি রাখেননি। অন্য মেহমানদের তিনি আসহাবুস সুফফার সঙ্গে মসজিদ-ই-নববীতে থাকার ব্যবস্থা করতেন। তা ছাড়া দুই নারী সাহাবি রামলা ও উম্মে শরিক (রা.) এর ঘরেও মেহমানদের থাকার বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। (শারহুল মাওয়াহিবিল লাদুন্নিয়্যাহ, খন্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ৮০)

এতেও সংকুলান না হলে তিনি সাহাবাদের মধ্যে মেহমানদের বণ্টন করে দিতেন। তাদের খাতির-যত্নের তাগিদ দিতেন। সাহাবারাও তাদের সমাদর করতেন।

মক্কা বিজয়ের পর মদিনায় অতিথির কোনো অভাব ছিল না। রাসূল (সা.) নিজেই তাদের খেদমত আঞ্জাম দিতেন। আর সাহাবি বেলাল (রা.) কে রাষ্ট্রীয় মেহমানদের বিশেষ তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিযুক্ত করেন। (সীরাতুন নবী, খন্ড: ২, পৃষ্ঠা: ৫০৪)

বিদায়কালে উপহার দেয়া
বিদায়কালে রাসূল (সা.) মেহমানদের পথখরচ ও উপহার দিতেন। কখনো পর্যাপ্ত উপহার দিতে না পারলে অল্প হলেও দিতেন এবং মেহমানের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করতেন। কখনো বিশেষ সাহাবিকে বলে দিতেন, যাতে তিনি তাদের পথখরচ দিয়ে দেন। অন্যান্য উপহার তো থাকতই। বিশেষত যখন কেউ তার কাছে উপহার নিয়ে আসত তখন তিনি তা গ্রহণ করতেন এবং তাকে বিদায়কালে নিজের পক্ষ থেকে অবশ্যই উপহার দিতেন। হারিস ইবনে আউফের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল রাসূলের মেহমান হলো। বিদায়কালে রাসূল (সা.) তাদের প্রত্যেককে ১০ উকিয়া পরিমাণ রুপা দিলেন। সাহাবি হারিসকে দিলেন ১২ উকিয়া পরিমাণ। (আসাহহুস সিয়ার, পৃষ্ঠা : ৪৪৩)

প্রিয় নবিজি (সা.) এর আতিথেয়তা মুসলমানদের অনুপম আদর্শ। আধুনিক যুগেও এসব সুন্নাহই আভিজাত্যের নিদর্শন। এসব সুন্নাহ থেকে মুসলমানরা নিত্য দূরে সরে যাচ্ছে। তাই আসুন, মেহমানের সমাদর করি। তাদের খাতির-যত্নে ও আদর-আপ্যায়নে সুন্নতের অনুসরণ করি। ইসলামের সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিই পৃথিবীময়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

শুকরিয়া সিজদা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হয়?

লেখক

শুকরিয়া সিজদা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হয়?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ৬৬৯তম পর্বে শুকরিয়া সিজদা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হয়, সে বিষয়ে ফেনী থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন তাহমিদা। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : শুকরিয়া সিজদার নিয়ম কী? এটা দাঁড়িয়ে না বসে দিতে হবে?

উত্তর : শুকরিয়া সিজদা হচ্ছে, একটি সিজদা দেওয়ার নাম। দাঁড়ানো অবস্থায় এই সিজদা দেওয়া উত্তম। যদি কেউ বসে থাকেন, তাহলে তিনি বসে থেকেও দিতে পারবেন। একটি সিজদা দেবেন এবং এই সিজদাতে আপনি দোয়াও করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

সন্তানরা মায়ের সম্পত্তির ভাগ কীভাবে পাবে?

লেখক

সন্তানরা মায়ের সম্পত্তির ভাগ কীভাবে পাবে?

নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত, পরিবার, সমাজসহ জীবনঘনিষ্ঠ ইসলামবিষয়ক প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠান ‘আপনার জিজ্ঞাসা’। জয়নুল আবেদীন আজাদের উপস্থাপনায় এনটিভির জনপ্রিয় এ অনুষ্ঠানে দ‍র্শকের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ।

আপনার জিজ্ঞাসার ৬৬৯তম পর্বে সন্তানরা মায়ের সম্পত্তির ভাগ কীভাবে পাবে, সে বিষয়ে মিরপুর থেকে টেলিফোনে জানতে চেয়েছেন মাহমুদা। অনুলিখন করেছেন জান্নাত আরা পাপিয়া।

প্রশ্ন : ছেলেমেয়েরা বাবার সম্পত্তি দুই ভাগ আর একভাগ পায় কিন্তু মায়ের সম্পত্তি কীভাবে ভাগ হবে?

উত্তর : বাবার সম্পত্তি যেভাবে ভাগ হবে, মায়ের সম্পত্তিও সেভাবে ভাগ হবে। দুই সম্পত্তির মধ্যে আলাদা কোনো বিধান নেই। ২:১ এভাবে ছেলেরা দুইভাগ এবং মেয়েরা একভাগ পাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

রমজানের শেষ দশদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে মসজিদে নববী

আসন্ন রমজান উপলক্ষে তারাবির নামাজের আধাঘণ্টা পর মসজিদে নববী বন্ধ করা হবে এবং ফজরের নামাজের ২ ঘণ্টা আগে পুনরায় খোলা হবে। তবে রমজানের শেষ দশ দিন ২৪ ঘণ্টা মসজিদ খোলা থাকবে। 

মুসল্লিরা মসজিদের ভিতরে, মাঠে এবং মসজিদের ছাদে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এসব কাজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছে হারামাইন শরিফাইন পরিচালনা কমিটি।  করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একসাথে ৬০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মসজিদের ভেতরে এবং মাঠে একই পরিমাণ মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করবেন। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

জমজমের পানি বিতরণ শুরুর উদ্যোগ সৌদি আরবের

মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে সৌদি আরবে জমজমের পানি বিতরণ কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) থেকে আবারও মক্কার কুদাই এলাকায় অবস্থিত কিং আবদুল্লাহ প্রজেক্ট থেকে জমজমের পানি বিতরণ করা হবে। খালিজ টাইমস এ খবর প্রকাশ করেছে। 

জাতীয় পানি বিতরণ সংস্থা মঙ্গলবার থেকে গ্রাহকদের জন্য তাদের দ্বার উন্মুক্ত করে দেবে। রমজান মাসে জমজমের পানির চাহিদা বেড়ে যায়, সেজন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রজেক্টের উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান শায়খ আবদুল রহমান আল সুদাইস জানিয়েছেন,শুক্রবার ছাড়া অন্য সব দিন দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জমজম কূপের পানি বিতরণ করা হবে।

ভ্যাটসহ পাঁচ লিটার জমজমের একটি বোতল ৫ দশমিক ৫ রিয়ালে পাওয়া যাবে। ১৫ দিন পর পর যে কেউ সর্বোচ্চ চার বোতল পানি সংগ্রহ করতে পারবেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com