আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

বাংলাদেশ

ইলিশ ধরা থেকে বিক্রি সিন্ডিকেটের হাতে

এক লাখ টাকার ইলিশ ধরা হলে

  • অর্ধেক পাবেন জাল ও ট্রলারের মালিক।
  • ১৪ শতাংশ পাবেন সারেং বা মাঝি।
  • ট্রলারের সঙ্গে যুক্ত অন্যরা পাবেন ৪ শতাংশ।
  • জেলেরা পাবেন মাত্র ২ শতাংশ।
  • ৩০ শতাংশ ট্রলারের খরচ।

কারওয়ান বাজারের রেললাইন ঘেঁষে গড়ে ওঠা পাইকারি মাছের বাজারে সামনের ফুটপাতে জনা বিশেক বিক্রেতা ডালায় ইলিশ সাজিয়ে বসে আছেন। রুপালি ইলিশের গায়ে সূর্যের আলো পড়ে চিকচিক করছে। চলছে ক্রেতা-বিক্রেতার দর-কষাকষি। বিক্রেতা ইলিশের দর হাঁকছেন প্রতি কেজি এক হাজার ৫০ টাকা। তা শুনে ক্রেতা ক্ষুব্ধ, ‘আরে ভাই, আল্লাহর দরিয়ার মাছের এত দাম!’

করোনাকালের প্রলম্বিত লকডাউনের সুফল দেশের নদ-নদীও পেয়েছে। ঘোলা পানির নদী এখন অনেকটা পরিষ্কার। শিল্পকারখানা কিছুদিন বন্ধ থাকার সুবাদে নদীর দূষণ কমেছে। তাই সাগর থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ বুক ভরে অক্সিজেন নিতে নদীতে ঢুকেছে, জেলেদের জালে ধরাও পড়ে। বাজারে তাই ইলিশের সমারোহ। তবে একেক বাজারে একেক রকম দাম।

যে দামে বাজারে ইলিশ বিক্রি হয়, তার অর্ধেক দাম পেলে জেলেদের জীবন বদলে যেত।

ইলিশের দাম বেশি হওয়ার পেছনে রয়েছে মাফিয়া চক্রের হাত। এই চক্রের জাল বঙ্গোপসাগর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ছড়ানো। জেলেদের জিম্মি করে বছরের পর বছর তারা ইলিশের দরদাম ঠিক করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।

ইলিশ নিয়ে গবেষণার জন্য চাঁদপুরে ‘মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামে সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান আছে। প্রতিষ্ঠানটির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মূল আবাস বঙ্গোপসাগরে হলেও দেশের ৪০টির বেশি নদীতে ইলিশ আসে। প্রতিবছর পাঁচ লাখ টনের বেশি ইলিশ ধরা পড়ে। ধরা পড়ার পরিমাণ অনুযায়ী উৎপাদনে হিসাব-নিকাশও ঠিক করা হয়। সেই হিসাবে গেল বছর ৫ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদিত হয়েছে। আর এ বছরে তা সাড়ে পাঁচ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে। ইলিশের দাম ন্যূনতম পাঁচ শ টাকা কেজি হিসাব করা হলে উৎপাদিত ইলিশের বাজারমূল্য ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি। দেশে মোট মাছ উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ ১১ শতাংশ আর জিডিপিতে জাতীয় মাছের অবদান ১ শতাংশের বেশি।

দেশের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৬৬ ভাগের জোগান দেয় বরিশাল বিভাগের জেলাগুলো। সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরা পড়ে ভোলা ও বরগুনায়। ইলিশের সবচেয়ে বড় মোকাম হলো চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, পাথরঘাটা। এসব মোকাম থেকে বিভিন্ন হাত ঘুরে ইলিশ যায় ঢাকাসহ সারা দেশের পাইকারি ও খুচরা বাজারে। ইলিশ কেনাবেচার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রথম আলোকে বলেছেন, যে দামে বাজারে ইলিশ বিক্রি করা হয়, তার অর্ধেক দামও যদি জেলেরা পেতেন, তাহলে তাঁদের জীবন বদলে যেত।

সব ধাপেই মধ্যস্বত্বভোগী

ইলিশ কেনাবেচার হদিস জানতে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরের জেলে, নৌকার মাঝি, ট্রলারমালিক, দাদনদাতা, আড়তদার ও ইলিশ রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলা হয়। সবার কথায় যা বেরিয়ে আসে তা হলো, সাগরে ইলিশ ধরা থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে সুবিধাভোগীরা। রাতারাতি এই বাধা ভাঙা দুরূহ ব্যাপার। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখার মৌসুমে সরকার জেলেদের যে সহায়তা দেয়, তা আসলে তাঁদের খুব একটা কাজে লাগে না। এই জেলেরা মূলত জাল-নৌকাবিহীন দিনমজুর। ‘লাভের গুড়ের পিঁপড়া’ হলেন তাঁরা, যাঁরা ইলিশ ধরা ও কেনার কাজে টাকা লগ্নি করেন।

ইলিশ ধরা থেকে বাজারজাতের বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশ ধরা জেলেদের সঙ্গে স্থানীয় আড়তের ব্যবসায়ীদের চুক্তি থাকে। সে অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা অমৌসুমে জেলেদের অর্থসহায়তা দেন। ইলিশ ধরার জাল ও খরচ দেন। শর্ত থাকে, ধরে আনা ইলিশ শুধু ব্যবসায়ীদের কাছেই বিক্রি করতে হবে। এই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবার ঢাকার পাইকারি ইলিশ বিক্রেতাদের যোগাযোগ থাকে। অনেক সময় ঢাকার বড় পাইকারি বিক্রেতা ও রপ্তানিকারকেরা আড়তমালিকদের আগাম অর্থ দেন। পুরো প্রক্রিয়াটি যেহেতু আগাম অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে হয়, সে কারণে ইলিশ কেনাবেচাও বাজারের দামের চেয়ে কিছুটা কম হয়।

ইলিশ মাছ ধরায় খরচ কেমন, তা জানতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরের মাছ ব্যবসায়ী ও ট্রলারমালিকদের সঙ্গে কথা হয়। তাঁদের একজন কক্সবাজারের নুনিয়াছটার ট্রলারমালিক গিয়াস উদ্দিন জানান, ইলিশ ধরার কাজে তাঁর পাঁচটি ট্রলার নিয়োজিত আছে। প্রতিটি ট্রলারের বিপরীতে বিনিয়োগ প্রায় কোটি টাকা। একটি ট্রলারে জেলে আছেন ১৮ থেকে ২২ জন। গিয়াস উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, গত দুই মাসে তাঁর পাঁচটি ট্রলার গভীর সাগরে গিয়ে চার দফা ইলিশ ধরেছে। প্রতিটি ট্রিপে সময় লেগেছে ১০-১২ দিন। আহরিত ইলিশ বিক্রি থেকে তিনি আয় করেছেন তিন কোটি টাকা। মালিক হিসেবে তিনি পেয়েছেন দেড় কোটি টাকা। বাকি টাকা কীভাবে ভাগ হয়, তার হিসাবটাও জানা গেল তাঁর কাছ থেকেই। বললেন, যদি এক লাখ টাকার ইলিশ ধরা হয়, তাহলে অর্ধেক পাবেন জাল ও ট্রলারের মালিক। ১৪ শতাংশ টাকা পাবেন ট্রলারের সারেং বা মাঝি। ট্রলার চালানোর সঙ্গে যুক্ত অন্যরা পাবেন ৪ শতাংশ। আর জেলেরা পাবেন মাত্র ২ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ টাকা ট্রলারের খরচ হিসেবে ধরা হয়। ইলিশ ধরার কাজে দৈনিক ভিত্তিতে মজুরি দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

দাদনের চোরা ফাঁদ

বরগুনার একজন ট্রলারমালিক প্রথম আলোকে বলেন, সমুদ্রগামী একটি ট্রলারকে সাগরে যাত্রা করতে জ্বালানি, বরফ, বাজার-সদাইসহ আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়। আবার মৌসুমের শুরুতে জাল, ট্রলার মেরামত ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ট্রলারমালিকদের তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে একটি ট্রলার সাগরে ভাসতে ৬ থেকে ১০ লাখ টাকা আগাম খরচ লাগে। এই পুরো টাকা লগ্নি করেন আড়তদারেরা। মূলত এটাই হলো দাদন।

বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়তদার বাবুরাম কর্মকার প্রথম আলোকে বলেন, ট্রলারমালিক তাঁদের কাছ থেকে ট্রলারপ্রতি অন্তত ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত দাদন নেন। যত দিন ট্রলারের ব্যবসা থাকবে, তত দিন ওই ট্রলার আড়তে মাছ দেবে। প্রতিবছর দাদনের টাকা বাড়ানো হয়। এই দাদনের বদলে অর্থ না দিয়ে মাছ দিতে হয়। যেসব ট্রলারমালিক দাদন নেন, তাঁরা আর কোনো দিনই জাল ছিঁড়ে বের হতে পারেন না। শর্ত থাকে, মাছ ধরার পর তা আড়তদারের কাছেই বেঁধে দেওয়া দরে বিক্রি করতে হবে। আড়তদার তা পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন কেটে নেন।

দাম ঠিক করে অদৃশ্য হাত

ভোলায় প্রধানত দুটি পদ্ধতিতে মাছ কেনাবেচা হয়। একটি পদ্ধতি হচ্ছে জেলে তাঁর আহরিত মাছ আড়তদারের ডালা বা ঝুড়িতে ফেললে উপস্থিত ক্রেতারা দর হাঁকবেন নিলাম ডাকার মতো। যিনি বেশি দর হাঁকবেন, তিনি মাছ পাবেন। আরেকটি পদ্ধতি হলো আড়তদার ও ফড়িয়ারা সলাপরামর্শ করে একটি দর ঠিক করেন। তবে দর হয় গ্রেড অনুসারে। ওজন ও আকার অনুসারে ইলিশকে চারটি ভাগে ভাগ করে দাম ঠিক করা হয়।

চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এত দিন ইলিশ নিয়ে নানা গবেষণা হলেও দাম নিয়ে কেউ মাথায় ঘামাননি। তবে দাম নিয়ন্ত্রণ করা হলে সাধারণ জেলেরা এর সুফল পাবেন। তাঁদের জীবনও বদলে যাবে।

ফোনেই বাজার নিয়ন্ত্রণ

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, বরিশাল ও চাঁদপুরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইলিশের দাম ওঠানামা করে ঢাকার বাজারদরের ওপর ভিত্তি করে। ঢাকায় ইলিশের দাম কমে গেলে ঘাটেও দাম কমে যায়। আবার ঢাকায় বাড়লে সেখানেও বাড়ে। সবই হয় মুঠোফোনে।

বিভিন্ন স্থান থেকে ইলিশ মাছ সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রি করেন, এমন একজন উদ্যোক্তা প্রবীর কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, যেসব স্থানে ইলিশ ধরা পড়ে, সেখানে একটা ‘সিন্ডিকেট’ আছে। এর বাইরে গিয়ে ইলিশ কেনাবেচা করা যায় না। ঢাকায় যেসব ইলিশ পাওয়া যায়, তার একটা বড় অংশ আসে কোল্ডস্টোরেজ থেকে, যেগুলো সাধারণত ঈদের সময় সস্তায় কিনে রাখা হয়।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের অধীনে প্রায় ৪০ হাজার জেলে রয়েছেন। পতেঙ্গা থেকে সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর পর্যন্ত এই জেলেদের বসবাস। এই সমিতির সভাপতি লিটন দাস প্রথম আলোকে বলেন, মৌসুমের শুরুতে জেলেরা দাদন নেন। অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাগরে যান। তাঁদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হয়। আবার মাছ ধরে আসার পর ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করা হয়। দুই হাত বদল হয়ে পরে তা ভোক্তার কাছে যায়। হাত ঘোরার কারণে দাম বাড়ে।

ভোলার আড়তদারেরা জানান, সরাসরি মাছ বিক্রি করলে দাম ভালো পাওয়া যায়। কিন্তু চাঁদপুর ও বরিশাল মোকামে মাছ বিক্রি করলে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে হয়।

চোরাই পথে ইলিশ যাচ্ছে ওপারে

কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ভোলা, বরিশাল, চাঁদপুর, সাতক্ষীরা, বেনাপোল, যশোরের মোকামে যেসব ইলিশ যায়, তা কি দেশের বাজারে বিক্রি হয়? এমন প্রশ্নের জবাব খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, যশোর, সাতক্ষীরা, বেনাপোল দেশের বড় কোনো মাছের মোকাম নয়। তাহলে পাথরঘাটা, বরিশাল, পটুয়াখালীর মহীপুরের ইলিশ মোকামের আড়তদারেরা এই তিন মোকামে কেন ইলিশ পাঠাতে বেশি আগ্রহী।

জানা গেল, এই তিন মোকাম থেকেই চোরাই পথে একশ্রেণির ব্যবসায়ী পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ইলিশ পাচার করেন। প্রথমে দেশের বড় মোকাম থেকে এই তিন এলাকায় ইলিশ নিয়ে সংরক্ষণ করার পর নিজেদের সুবিধামতো তা ধীরে ধীরে সীমান্ত পার করেন সেখানের ব্যবসায়ীরা। কলকাতার মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এই অঞ্চলের দাদনদাতা ও আড়তদারদের গোপন যোগাযোগ রয়েছে। মূলত কলকাতার কিছু মাছ ব্যবসায়ী কয়েক হাত ঘুরে দেশীয় আড়তদারদের মাধ্যমে প্রতিবছর ইলিশ মৌসুম ঘিরে বিপুল অর্থ লগ্নি করেন।

বরিশাল পোর্ট রোড আড়তদার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী দাবি করেন, কলকাতায় কিছু মাছ যায় এখান থেকে। অবৈধ পথে যায় কি না, সেটা তাঁর জানা নেই।

জানতে চাইলে নৌ পুলিশের প্রধান আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ইলিশ সিন্ডিকেট শুধু বাজারই নিয়ন্ত্রণ করে না, তারা কারেন্ট জাল তৈরি ও অবৈধভাবে মাছ ধরার সঙ্গেও যুক্ত। বিভিন্ন সময় তাদের বিরুদ্ধে অভিযানও হয়েছে। এই চক্র খুবই শক্তিশালী।

ইলিশ ব্যবসায়ী, ট্রলারমালিক, আড়তদার ও ফড়িয়াদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জীবন বাজি রেখে সাধারণ জেলেরা সাগর ও নদ-নদী থেকে ইলিশ মাছ ধরে আনলেও বাজারের নিয়ন্ত্রণ তাঁদের হাতে নেই। জেলেদের কষ্টের ফসলের নিয়ন্ত্রণ অদৃশ্য মহাজনদের হাতে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম প্রথম আলোকে বললেন, এটা ঠিক যে ইলিশের বাজার সিন্ডিকেটের হাতে। কিন্তু সেই চক্র থেকে কীভাবে বের হওয়া যাবে, তার পথ তিনি খুঁজবেন। মন্ত্রী মনে করেন, বাজার সিন্ডিকেটমুক্ত হলেই ইলিশের দাম কমে যাবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

এগ্রোবিজ

বানেশ্বর বাজারে ৪৮ কেজিতে আমের মণ আর হবে না

দেশের উত্তরাঞ্চলের একটি বড় ব্যবসাকেন্দ্র রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজার। এখান থেকে সারা দেশে কৃষিপণ্য যায়। এই বাজারের ছিল নিজস্ব ওজনরীতি। সারা দেশে ৪০ কেজিতে মণ ধরা হলেও বানেশ্বর বাজারে আমের মণ ধরা হতো ৪৮ কেজিতে। পেঁয়াজের মণ ৪২ ও রসুনের ৪১ কেজিতে।

এই বাজারের ব্যবসায়ীরা এক মণের দামে ৪০ কেজির ওপরে যেটুকু বেশি নেন, তার নাম দিয়েছেন ‘ঢলন’। বাজারের রীতি অনুযায়ী, কৃষক ‘ঢলন’ দিতে বাধ্য থাকেন। শুক্রবার স্থানীয় প্রশাসন এক বৈঠকে ব্যবসায়ীদের ‘ঢলনপ্রথা’ বাতিল করেছেন। ফলে এই বাজারে আর আমের মণ ৪৮ কেজিতে হবে না। ব্যবসায়ীরা এত দিন কৃষকদের বুঝিয়েছিলেন কৃষিপণ্যের ওজন পরে কমে যায়। সে কারণে এই ‘ঢলন’ দিতেই হবে। এভাবে বানেশ্বর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এই ঢলনপ্রথা চালু আছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন চাষিরা।

শুক্রবার সকালে বানেশ্বর বাজার বণিক সমিতির কার্যালয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী, চাষি, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় নতুন এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সাংসদ মুনসুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম হিরা বাচ্চু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমানা আফরোজ ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামসুন নাহার ভূঁইয়া। সভাপতিত্ব করেন বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান গাজী সুলতান। সভায় স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।বিজ্ঞাপন

সভায় চাষিরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের এক মণে অতিরিক্ত কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীদের দিতে হতো। দিতে না চাইলে তাঁদের পণ্য বিক্রি হতো না। তাঁরা আড়তদারদের কাছে জিম্মি ছিলেন। এতে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছেন। তাঁরা এই ঢলনপ্রথা দীর্ঘদিন ধরে বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

পুঠিয়া উপজেলার শাহাবাজপুরের কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, সারা দেশে ৪০ কেজিতে মণ হলেও তিনি ৪২ কেজির মণ ধরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। মাড়িয়া গ্রামের কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, তিনি রসুন বিক্রি করেছেন ৪১ কেজিতে মণ হিসেবে।

ব্যবসায়ী বাবর আলী বলেন, বানেশ্বর বাজারে তিনি ৩৬ বছর ধরে ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর আমের আড়ত আছে। প্রতিবছর আমের মণ নির্ধারণ করা হয়। দুই বছর আগে ৪৫ কেজিতে মণ ছিল। এবার ব্যবসায়ীরা বসে ঠিক করেছিলেন ৪৮ কেজিতে মণ। তিনি বলেন, কাঁচামাল ঢাকায় নেওয়ার পথে পচে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। এ জন্যই ঢলন নেওয়া হয়।বিজ্ঞাপন

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, ব্যবসায়ীরা বানেশ্বর বাজার থেকে কৃষকের কাছ থেকে ঢলন নেন, কিন্তু রাজশাহীর বাইরে গিয়ে তাঁদের আর ঢলন দিয়ে বিক্রি করতে হয় না। এখানে ৪৮ কেজিতে মণ ধরে তাঁরা আম কিনেছেন। কিন্তু ঢাকায় তাঁরা ৪০ কেজিতে মণ হিসেবেই বিক্রি করেছেন। যেহেতু তাঁরা ঢাকায় গিয়ে ঢলন দেন না। এই যুক্তিতে তাঁদের বাধ্য করা হয়েছে যে তাঁরা বানেশ্বরেও ৪০ কেজিতে মণ ধরে সব কৃষিপণ্য কিনবেন। তিনি বলেন, অল্প দিন আগেই তিনি পুঠিয়ায় যোগ দিয়েছেন। সেখানে গিয়েই চাষিদের কাছ থেকে এই অভিযোগ শোনেন। চাষিরা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাঁকে অনুরোধ করেন। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক, কৃষি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপরই এ সভার আয়োজন করা হয়।

ইউএনও নূরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ আরও বলেন, সারা দেশে ৪০ কেজিতে এক মণ। ব্যতিক্রম ছিল বানেশ্বর বাজার। অথচ এই বাজারেই রাজশাহীর মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট বসে। এখানে চাষিরা বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছিলেন। এই ওজন নিশ্চিত করতে শনিবার থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে। পুঠিয়ার সব বাজারেই যাতে এই ওজন ঠিক থাকে, সে বিষয়ে নজরদারি করা হবে। রাজশাহী জেলার অন্যান্য বাজারে যেহেতু ৪০ কেজিতে মণ, সে জন্য তিনি এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে নিয়েছেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

ভোজ্য তেলের দাম কমানোর ঘোষণা, কেজি-লিটার নিয়ে বিভ্রান্তি

মিলগেটে খোলা ভোজ্যতেলের দাম ২ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন মিলমালিকেরা। আজ বৃহস্পতিবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে এক বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

তরল পদার্থের মাপের একক লিটার হলেও দেশের খোলা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল কেজি দরে কেনাবেচা হয়। বর্তমান দাম অনুযায়ী কেজি ও লিটারের ক্ষেত্রে প্রায় ৮ টাকার একটি পার্থক্য রয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, এখন থেকে মিলগেটে খোলা সয়াবিন তেল ৯০ ও পাম তেল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হবে। তবে এ দরটি কেজি না লিটারের, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বলছে, দরটি হবে কেজিতে। ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা লিটারের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

তরল পদার্থের মাপের একক লিটার হলেও দেশের খোলা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে ভোজ্যতেল কেজি দরে কেনাবেচা হয়। বর্তমান দাম অনুযায়ী কেজি ও লিটারের ক্ষেত্রে প্রায় ৮ টাকার একটি পার্থক্য রয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সভা শেষে তিনটি কোম্পানির প্রতিনিধি প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা লিটারে ৯০ টাকার বিষয়ে আলোচনা করে এসেছেন। ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আলবেরুণী প্রথম আলোকে বলেন, দাম হবে কেজিতে। বিজ্ঞাপন

সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৯২ থেকে ৯৭ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা এক বছর আগের তুলনায় লিটারপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি।

কয়েক দফার ফোনালাপের পর সর্বশেষ দফায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা লতিফ বকশী প্রথম আলোকে বলেন, ব্যবসায়ীরা বিদ্যমান দরটি ২ টাকা কমানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। সেটা লিটারে হতে পারে, কেজিতেও হতে পারে।


পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা প্রথম আলোকে জানান, আজ সেখানে খোলা সয়াবিন তেলের সরবরাহ আদেশ (এসও) লেনদেন হচ্ছে লিটারপ্রতি ৮৪ থেকে ৮৫ টাকার মধ্যে।

সাধারণ মানুষ বেশি কেনে বোতলের তেল। সেখানে কোনো প্রভাব পড়বে না।

ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা

দেশে গত কয়েক মাসে ভোজ্যতেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা এ জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করছিলেন। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, ঢাকার খুচরা বাজারে এখন খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ৯২ থেকে ৯৭ টাকা দরে বিক্রি হয়, যা এক বছর আগের তুলনায় লিটারপ্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা বেশি।

টিসিবির হিসাবে, বাজারে এখন পাম তেলের দাম লিটারপ্রতি ৮২ থেকে ৮৪ টাকা। এক বছর আগে যা ৫৮ থেকে ৬৫ টাকার মধ্যে ছিল।

ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণ মানুষ বেশি কেনে বোতলের তেল। সেখানে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

দু-তিন দিনের মধ্যে আলুর দাম কমবে, আশাবাদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

খুচরা বাজারে আলুর দাম আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে সরকার–নির্ধারিত দামের নিচে নেমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামীর সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি মন্ত্রণালয় আলুর দামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল (বুধবার) আলুর দাম কোল্ড স্টোরেজে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি ছিল। সেটা আজ ২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। যেটা ২৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমরা আশাবাদী, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে খুচরা বাজারে আলুর দাম সরকার–নির্ধারিত মূল্যের নিচে নেমে আসবে।’

আলুর বাজার অস্থির হয়েছে, দাম কমানোর চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না, এটা কৃষি মন্ত্রণালয় নিয়ন্ত্রণ করে। ভোক্তাদের সহযোগিতার জন্যই আমরা টিসিবির মাধ্যমে ২৫ টাকা দরে বাজারে আলু ছেড়েছি।’বিজ্ঞাপন

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই। আমরা চাই তাদের সাথে সম্পর্ক আরও ভালো হোক। এখন পৃথিবীটা ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে। তাই আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারতের অংশীদার হতে চাই।’

পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায় বাংলাদেশ

পেঁয়াজের জন্য ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আগামী তিন বছরের মধ্যে আমরা পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চাই। পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে চাই। ভারত নিজেদের প্রয়োজনে যেকোনো সময় পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করতে পারে। তবে আমরা তাদের কাছে অনুরোধ করেছি, বন্ধের এক মাস আগে যেন অন্তত আমাদের জানায়। এখন আমরা সেলফ সার্ভিসে নজর দেব।’

অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমদানিকৃত পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত আনতে খরচ পড়ে প্রতি কেজি ৪৫ টাকা। সেটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকার নিচে খুচরা বাজারে বিক্রি করা যাবে না। আমার ধারণা, আগামী বছর পর্যন্ত পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজির নিচে দাম হবে না।’

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

এগ্রোবিজ

মিল্ক ভিটা ও রূপালী ব্যাংকের চুক্তি, দুগ্ধ খামারিরা ঋণ পাবেন ৪ শতাংশ সুদে

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত কৃষি-প্রণোদনার সুফল প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পৌঁছে দেওয়া, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুগ্ধ খামারিদের সহায়তার লক্ষ্যে ৪ শতাংশ হারে ঋণ বিতরণ, দেশকে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণকরণ এবং যুবক ও যুব-নারীদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে মিল্ক ভিটা ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ এবং মিল্ক ভিটার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও যুগ্ম সচিব অমর চান বণিক নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। বৃহস্পতিবার রূপালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন, এমপি এবং মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু।

মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বলেন, করোনা পরিস্থিতি শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে কৃষকদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করে গুঁড়া দুধ প্রস্তুত করেছে মিল্ক ভিটা। এসব গুঁড়া দুধ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ত্রাণ মন্ত্রণালয় কিনে নিয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতেও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। করোনা মহামারি শুরু হলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমাকে ফোন দিয়ে বলেন-আমরা আপনাদের পাশে থাকতে চাই। মিল্ক ভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে। খামারিদের দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পর্ষদকে ধন্যবাদ জানান মিল্ক ভিটা চেয়ারম্যান।

শেখ নাদির বলেন, মিল্ক ভিটার জন্য গ্রাহকেরা এখনো ৭০ টাকায় প্রতি লিটার দুধ কিনতে পারছেন। মিল্ক ভিটা না থাকলে বেসরকারি কোম্পানিগুলো একচেটিয়া ব্যবসা করত এবং গ্রাহককে আরও বেশি দামে প্রতি লিটার দুধ কিনে খেতে হতো।


রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মনজুর হোসেন বলেন, অতীতে অনেক সমবায় প্রকল্প এসেছিল। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠা করা প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটা পঁচাত্তর পরবর্তী সরকারগুলোর সময় অবহেলিত অবস্থায় ছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে মিল্ক ভিটার মাধ্যমে দুগ্ধ খাতের বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে। রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মতিঝিল এলাকায় মিল্ক ভিটার আউটলেট খোলার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন

মিল্ক ভিটার মাধ্যমে রূপালী ব্যাংক খামারিদের টাকা দিতে চায় যাতে তারা দুধ ফেলে না দিয়ে তা দিয়ে ঘি বানাতে পারে।

রূপালী ব্যাংকের মো. ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, করোনাকালে দুধ বিক্রি করতে না পেরে খামারিদের সংকটে পড়ার অবস্থা হলে আমরা ‘করোনাকালে দুধ না ফেলে ঘি বানান, দুগ্ধ খাতে জাগুক প্রাণ’-স্লোগান সামনে রেখে দুগ্ধ চাষিদের পাশে দাঁড়ালাম। দুধ থেকে ঘি বানানোর জন্য ৪ শতাংশ সুদে খামারিদের মাঝে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত সমবায়ী দুগ্ধ প্রতিষ্ঠান মিল্ক ভিটাকে প্রস্তাব দেই আমি।

অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়াল সংযুক্ত ছিলেন পরিচালক অরিজিৎ চৌধুরী। রূপালী ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, খন্দকার আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জিএম অশোক কুমার সিংহ রায়, মো. শফিকুল ইসলাম, গোলাম মর্তুজাসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের উর্ধতন নির্বাহী কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কৃষি ও পল্লী ঋণ বিভাগের জিএম মো. মজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে টুঙ্গিপাড়ার মুন্সি রফিকুল ইসলাম, খুলনার ইউনুস গাজী ও সিরাজগঞ্জের জিন্নাহ সরকারের মাঝে ঋণের চেক বিতরণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

ধর্ষণ: বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ধর্ষিত ছেলেদের সুবিচার পাওয়ার সুযোগ কতটা আছে

পরিণত বয়সে আসার পর অনেকে পুরুষই এখন শিশু অবস্থায় তার উপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলছেন।
পরিণত বয়সে আসার পর অনেকে পুরুষই এখন শিশু অবস্থায় তার উপর যৌন নির্যাতনের বিষয়ে মুখ খুলছেন।

বাংলাদেশে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডের বিধানকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করে আইন পরিবর্তন করলেও আইনের ‘অস্পষ্টতা’ এবং বিচার প্রক্রিয়ার সাথে জড়িতদের ‘অজ্ঞতা’র কারণে পুরুষ ধর্ষণের বিচার হয় না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশে নারী বা মেয়ে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বর্তমানে আগের চেয়ে বেশি সংখ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জানানো হলেও পুরুষ বা ছেলে শিশু ধর্ষণের ঘটনার অধিকাংশই কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয় না।

বাংলাদেশের আইনে ‘ধর্ষণ’এর সংজ্ঞায় অস্পষ্টতা থাকার পাশাপাশি সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণেও এটিকে শুধু নারীর বিরুদ্ধে হওয়া যৌন অপরাধ মনে করা হয়, যার ফলে ধর্ষণের শিকার পুরুষরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রচলিত আইনের অস্পষ্টতা

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন নিয়ে কাজ করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমিন। তিনি মনে করেন, যথাযথ গবেষণা এবং কেস স্টাডি পর্যালোচনার মাধ্যমে আইনে ‘ধর্ষণ’এর সংজ্ঞা পরিবর্তন না করলে ছেলেদের ধর্ষণের বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে ধর্ষণকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ধর্ষণের শিকার হতে পারে শুধু একজন ‘নারী’, এবং (তা ঘটবে) একজন পুরুষের মাধ্যমে (দণ্ডবিধি ধারা-৩৭৫)। শুধু তাই নয়, দণ্ডবিধির সংজ্ঞাটি বলছে, ধর্ষণের ক্ষেত্রে যৌন সঙ্গম বিবেচনা করার জন্য ‘পেনিট্রেশন’-ই (প্রবিষ্ট করা) যথেষ্ট।”

“অথচ সংজ্ঞাটিতে কোথাও ‘পেনিট্রেশন’-এর ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।”

হাইকোর্ট বিভাগ এক রায়ে ছেলে শিশুর ধর্ষণের ব্যাপারে অস্পষ্ট ধারনা থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে।
হাইকোর্ট বিভাগ এক রায়ে ছেলে শিশুর ধর্ষণের ব্যাপারে অস্পষ্ট ধারনা থাকার বিষয়টি ইঙ্গিত করে।

তাসলিমা ইয়াসমিন মনে করেন, সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা না থাকার কারণে অনেক সময়ই মামলায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে এমন মামলা রুজু করা হয় যেটির গুরুত্ব এবং শাস্তি অপেক্ষাকৃত কম।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ধরেই নেয়া হয় ‘পেনিট্রেশন’ মানে নারীর যৌনাঙ্গে পুরুষের যৌনাঙ্গ প্রবেশ করানো। আর আইনে এই বিষয়ের সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দেয়া থাকায় অনেকক্ষেত্রেই ধর্ষণ প্রমাণ করা সম্ভব হয় না।”

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে ২০০০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছিল ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’। এই আইনটিতে ‘শিশু’র যে সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে, তাতে কোন লিঙ্গ বিশেষে নয় বরং ১৬-বছরের কম বয়সী যে কোন শিশুই এই আইনে বিচার পাওয়ার কথা।

মিজ ইয়াসমিন বলছেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে এরকম ক্ষেত্রে মামলার এফআইআর রুজু হয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায়, যেটি সমকামিতাসহ ‘প্রাকৃতিক’ নিয়মের বিরুদ্ধে করা যৌন সঙ্গমকে দণ্ডনীয় করেছে।

আবার অনেকসময় এই ধরণের মামলায় অভিযোগ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারা-৯ এর অধীনে না করে ধারা-১০ এর অধীনে করায় ধর্ষণের বদলে যৌন সহিংসতার মামলা করা হয় এবং শাস্তিও অপেক্ষাকৃত কম হয়।

“অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে যে শিশুদের যৌনাঙ্গে নির্যাতনকারীরা কলম, বোতল বা লাঠির মত বস্তু প্রবেশ করানো হয়। বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী চাইলে এরকম ঘটনার ক্ষেত্রে ‘ধর্ষণ হয়নি’ বলে প্রমাণ করতে পারবেন।”

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পরিবর্তন আনার কথা বলছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক তাসলিমা ইয়াসমীন।

“সেক্ষেত্রে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ধারা-৯ এর অধীনে না ফেলে ধারা-১০ এর অধীনে ফেলা যায়, যেটি আইনের ভাষায় ‘যৌন পীড়ন’ হিসেবে চিহ্নিত হবে এর শাস্তিও ধারা-৯ এর শাস্তির চেয়ে কম”, বলেন তাসলিমা ইয়াসমিন।

ধারা ৯ বলছে, ১৬ বছরের নীচে যে কোন শিশুর সাথে যৌন সঙ্গমকেই ধর্ষণ বলা হবে এবং শিশুর সম্মতি ছিল কিনা, তা বিচার্য হবে না।

আইনের ফাঁকফোকরের পাশাপাশি ছেলে ধর্ষণ বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও বিচার বিভাগের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যেও ভুল ধারণা এবং বিচক্ষণতা ও দক্ষতার অভাবের কারণে বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মনে করেন তিনি।

“একটা ধর্ষণের ঘটনাস্থল থেকে কী কী আলামত সংগ্রহ করতে হবে, সেসব আলামত কীভাবে সংরক্ষণ করতে হবে, ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে – এসব বিষয়ে প্রশিক্ষণ বা ধারণা যেমন খুব কম পুলিশের আছে, তেমনি বিচারকদের মধ্যে অনেকেই এই ধরণের মামলার বিচারকাজ চালানোর ব্যাপারে অভিজ্ঞ নন।”

এছাড়া ধর্ষণ প্রমাণ করা না গেলে মামলা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে না গিয়ে ফৌজদারি আদালতে যায়, যেসব ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়ে ভুক্তভোগীর বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা আরো ক্ষীণ হয়।

কই বিষয়ে বিবিসির একটি ভিডিও প্রতিবেদন:

সতর্কবাণী: তৃতীয়পক্ষের কন্টেন্টে বিজ্ঞাপন থাকতে পারে

তবে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন ২০০০-এর অধীনে ১৬-বছরের কম বয়সী ছেলে শিশুদের বিরুদ্ধে হওয়া ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের বিচার হওয়ার সুযোগ থাকলেও ১৬ বছরের বেশি বয়সী পুরুষের ধর্ষণের বিচারের কোনো সুযোগ বাংলাদেশের আইনে নেই।

তাসলিমা ইয়াসমিন বলেন, “আমাদের ফৌজদারি দণ্ডবিধিতে যৌন সহিংসতার সাথে সম্পৃক্ত যতগুলো ধারা আছে, সেগুলোতে পরিষ্কার বলা রয়েছে ‘যখন একজন পুরুষ একজন নারীর’ বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতামূলক আচরণ করেন। অর্থাৎ ধরেই নেয়া হয়েছে যে একজন পুরুষ নিজে যৌন আক্রমণের শিকার হতে পারেন না।”

এরকম ক্ষেত্রে ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতন হলে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় মামলা হতে পারে। অথবা ভুক্তভোগী শারীরিকভাবে আঘাত পাওয়ার অভিযোগ করতে পারেন।”

যার ফলে বাংলাদেশে ১৬-বছরের বেশি বয়সী একজন পুরুষ তার বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা হলেও তার অভিযোগ নিয়ে আইনগতভাবে সুবিচার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com