আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

পরিবেশ

ইতিহাসের সাক্ষী: দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
শকুন

শকুন মানুষের কাছে মোটেই পছন্দের কোন পাখি নয়। কিন্তু ভীষণ উপকারী। মৃত পশুর দেহ হচ্ছে শকুনের প্রধান খাদ্য। পাখি হিসেবে শকুন মোটেই আদৃত না হলেও শবদেহ খেয়ে যেভাবে তারা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখে, সেজন্যে তাদের উপযোগিতা ভালোভাবেই স্বীকৃত।

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়া থেকে শকুন প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছিল ১৯৯০ এর দশকে। হঠাৎ করে কেন এই শকুনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাচ্ছিল, সেটা কেউ বুঝতে পারছিল না।

মুনির ভিরানি তখন এক তরুণ রিসার্চ বায়োলজিস্ট, শকুন নিয়ে তার বিশেষ আগ্রহ। কাজ পেয়েছেন পেরিগ্রিন ফান্ড বলে একটি প্রতিষ্ঠানে, এখন তিনি যে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিকারি পাখি সংরক্ষণ প্রকল্প চালায় এই প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলছিলেন, “তখন এই শকুনের সংখ্যা যে হারে কমছিল, তা আসলেই ভয়াবহ। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে গেল যে, লোকজন যেন হঠাৎ চারিদিকে তাকিয়ে টের পেল, আকাশ একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে, কোথাও আর শকুন নেই।”

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
হাজারে হাজারে শকুন মারা যাচ্ছিল মৃত গরুর মাংস খেয়ে

উপদ্রব না উপকারী?

শকুন এই পৃথিবীতে আছে অনেক আগে থেকে, প্রায় ২৬ লক্ষ বছর ধরে। শকুনের সাধারণ একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এদের মাথায় পালক নেই, তাদের চঞ্চু খুব ধারালো, এরা ময়লার ভাগাড় থেকে খাবার খুঁজে খায়। অনেক উপর থেকে এরা মৃত পশুর দেহ দেখতে পায়, তারপর সেখানে নেমে আসে, তারপর সেই মৃত পশুর দেহ দ্রুত সাবাড় করে। তাদের পাকস্থলীর জারণ ক্ষমতা অসাধারণ। মৃত পশুর দেহ তো বটেই, তাদের হাড় পর্যন্ত হজম করে ফেলতে পারে শকুন।

১৯৭০ এবং ১৯৮০র দশকে শকুনের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে, ভারত বা পাকিস্তানের মতো দেশে শকুনকে একটা উপদ্রব বলে গণ্য করা হতো, এগুলোকে যে সংরক্ষণ করা দরকার, সেটার কথা কারও মাথাতেই ছিল না।

সেই সময়ে এরা বড় ধরণের উপদ্রব হয়ে দেখা দিয়েছিল। সেসময় সারা পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি দেখা যেত ওরিয়েন্টাল হোয়াইট রাম্পড ভালচার বা প্রাচ্যদেশীয় সাদা পাকা শকুন। ধারণা করা হয়, ৭০ এর দশকের শুরুর দিকে ভারতের জয়পুর-আগ্রা এবং দিল্লির মধ্যবর্তী অঞ্চলেই কেবল ৪ কোটি এরকম শকুন ছিল।

ভারতের হিন্দুরা গরুকে পবিত্র বলে মনে করে এবং এর মাংস খায় না। কাজেই যখন গরু মারা যায়, তখন সেই মৃত গরুর একটা ব্যবস্থা করতে হয়। এই সমস্যার সমাধানে শকুন একটি খুবই প্রাকৃতিক এবং দক্ষ ভূমিকা পালন করতো।

মুনির ভিরানি বলেন, “যখন গরু মারা যায়, তখন এগুলোর মৃতদেহ কোথাও ফেলে আসতে হয়। কাজেই গরু মারা যাওয়ার পর একটি ভাগাড়ে তার দেহ ফেলে দেয়া হয়। সেই ভাগাড়ে থাকে শত শত শকুন। এটি খুবই পরিবেশ সম্মত এক সমাধান। কারণ এখানে আপনাকে কাঠ জ্বালিয়ে গরুর দেহ পোড়াতে হচ্ছে না, আপনি কোন কার্বন দূষণ ঘটাচ্ছেন না। আপনি একটি প্রাণীর দেহ দান করছেন আরেকটি প্রাণীকে। সেই প্রাণী আপনার সব কাজ করে দিচ্ছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই সেবা আপনি পাচ্ছেন একেবারে বিনামূল্যে।”

আকাশে কবর

আর শুধু পশুর মৃতদেহ নয়, বৌদ্ধ এবং জরোয়াসথ্রিয়ান ধর্মের অনুসারীরা তাদের কেউ মারা গেলে সেই দেহও ফেলে দেয় শকুনের জন্য। শকুন এসে এই দেহ খেয়ে ফেলে।

মুনির ভিরানি জানান, এই রীতিকে সেখানে আকাশে কবর দেয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

“উঁচু পার্বত্য এলাকা, যেমন ধরুন হিমালয় অঞ্চলে মৃতদেহ কবর দেয়া কিংবা দাহ করার মতো জ্বালানি কাঠ পাওয়া বেশ কঠিন। কাজেই সেখানে সহজ কাজ হচ্ছে মৃতদেহ এভাবে শকুনের জন্য ফেলে দেয়া। এসব ধর্মীয় রীতিতে প্রিয়জনের মরদেহ শকুনের খাদ্য হিসেব দান করার কাজটিকে বেশ পবিত্র বলেও গণ্য করা হয়। তাদের ধর্ম অনুযায়ী, শকুন যখন দেহটি খেয়ে ফেলবে, তখন আত্মা দেহ থেকে মুক্তি পাবে।”

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
আসামে একটি মৃত মহিষের মাংস খাচ্ছে শকুন

শকুন উধাও

কাজেই সবকিছু বেশ নিয়মমতোই চলছিল। কিন্তু একজন ভারতীয় শকুন বিশেষজ্ঞ ডঃ ভিবু প্রকাশ একদিন খেয়াল করলেন, শকুনের সংখ্যা যেন আগের মতো নেই।

১৯৯৬ সালে তিনি ভারতের একটি ন্যাশনাল পার্কে গিয়ে খুব কম শকুনই সেখানে দেখতে পেলেন। অনেক শকুন মরে পড়ে ছিল। তারপর তিনি আশে-পাশের গ্রামে যাওয়ার পর গ্রামবাসীরা তাকে জানালেন, পুরো অঞ্চল থেকে শকুন উধাও হয়ে যাচ্ছে।

মুনির ভিরানি যখন ২০০০ সালে ভারত সফরে গেলেন, তখন পরিস্থিতি আরও গুরুতর।

“ততদিনে শকুন প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এবং আমার মনে আছে, আমি দেখেছিলাম গাছে গাছে মরা শকুন ঝুলছে। খুবই বিচলিত হওয়ার মতো এক দৃশ্য। এটা বলা যেতে পারে তাদের সংখ্যা ৯৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল।”

দক্ষিণ এশিয়ায় শকুন বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে বলে একটা আশংকা তৈরি হলো। মুনির ভিরানি এবং পেরেগ্রিন ফান্ডে তার অন্য সহকর্মীরা তখন এর কারণ খোঁজার চেষ্টা শুরু করলেন। তখন শকুনের সংখ্যা কমে যাওয়ার জন্য অদ্ভুত সব কারণের কথা বলা হচ্ছিল।

“এমন কথা বলা হচ্ছিল যে বিমানবন্দরগুলোর কর্তৃপক্ষ গুলি করে শকুন মারছে, অথবা এর কারণ পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা। কেউ বলছিল জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে শকুনের মস্তিষ্কের একটা এনজাইম পরিবর্তিত হচ্ছিল, সে কারণেই তারা মারা যাচ্ছিল।”

এর কারণ অনুসন্ধানের জন্য তদন্তকারীরা ভারতে তাদের কাজ শুরু করলেন। কিন্তু তখন ভারতে শকুনের সংখ্যা এত কমে গেছে যে তাদের এই অনুসন্ধান কাজের জন্য প্রতিবেশী পাকিস্তানে যেতে হলো। কিন্তু সেখানেও গবেষণার জন্য শকুন খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছিল।

মুনির ভিরানি বলেন, “আমরা হয় মরা শকুন পাচ্ছিলাম, নয়তো একেবারে সুস্থ শকুন পাচ্ছিলাম। কোন অসুস্থ শকুন খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছিল।”

শকুন মরার রহস্যভেদ

এরপর এই গবেষক দল শকুন মারা যাওয়ার একটা অভিন্ন সূত্র খুঁজে পেলেন।

মুনির ভিরানি বলেন, “এসব পাখি আসলে মারা যাচ্ছিল কিডনি বিকল হয়ে। আমরা যখন এই শকুনের দেহ ব্যবচ্ছেদ করলাম, তখন দেখলাম, তাদের পাকস্থলী, ফুসফুস, কিডনি, লিভার- এগুলো চকের মতো সাদা আঠালো পিণ্ডে আবৃত। এটি আসলে ইউরিক এসিড। কিডনি থেকে তা বেরিয়ে এসেছিল। কাজেই আমাদের কাছে এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে, এই শকুন আসলে কি খাচ্ছে, সেটা আমাদের দেখতে হবে। আমরা এমন কিছুর সন্ধান করছিলাম, যেটা সহজলভ্য, সস্তা, যেটা হয়তো দোকানে গিয়েই কেনা যায়, যেটা সর্বত্র আছে, এবং যার কারণে পাখির কিডনি বিকল হতে পারে। আমরা দেখলাম, এটা আসলে ডাইক্লোফেনাক।”

ডাইক্লোফেনাকের নাম হয়তো অনেকে শোনেনিই নি, কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় যারা গবাদিপশু পালে, তাদের কাছে এটা খুব পরিচিত নাম।

ডাইক্লোফেনাক খুব কার্যকর একটি ব্যথানাশক। ১৯৯০ এর দশকের শুরুর দিকে এটি পেটেন্ট করা হয় । এটি ছিল খুবই সস্তা। দোকানে গিয়েই কেনা যেত। এক বোতল ঔষধ মাত্র দশ সেন্টে পাওয়া যেত। এটা গবাদিপশুর ওপর নির্বিচারে ব্যবহার করা হতো।

মুনির ভিরানি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় গবাদিপশু দিয়ে লাঙ্গল টানা হয়, ক্ষেতের ফসল বাজারে নেয়া হয়। কোন গবাদিপশু যখন একটু খোঁড়াতে থাকে, তখন তার শরীরে এই ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশন দেয়া হয়।

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
মৃত গরুর মাংস খেয়ে মারা গেছে অনেক শকুন

“কৃষকরা দেখছিল, এতে তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া যায়। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, এটি দিয়ে রোগ নিরাময় করা যায় না, এটা কেবল ব্যথা কমায়। কাজেই যখন পশুটা মরে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে, তখন তার সমস্ত শরীরে কিন্তু ডাইক্লোফেনাকের অবশেষ থেকে যাচ্ছে। যখন শকুন এই পশুর মৃতদেহ খেতে আসছে, তখন সেটি যেন একটা আত্মহত্যার ভোজ উৎসব হয়ে উঠছে। এটি ছিল খুবই সস্তা।”

তাদের অনুমান যে আসলে সঠিক, সেটি যাচাই করার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি মহিষের শরীরে ডাইক্লোফেনাক ইনজেকশন দিলেন। তারপর এটির লিভার তারা বদ্ধ জায়গায় কিছু শকুনকে খেতে দিলেন।

“আমরা শকুনের মৃত্যুর সঙ্গে ডাইক্লোফেনাকের একটা সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পেলাম। এটা ছিল আমাদের জন্য একটি ইউরেকা মুহূর্ত। আমরা বুঝতে পারলাম, এটাই কারণ। আমরা ভারত, নেপাল এবং পাকিস্তান থেকে সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে আনলাম। আমরা তাদেরকে আমাদের ফল দেখালাম। এবং আমরা তাদেরকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিলাম, তারা যদি কিছু না করে, ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে সব শকুন অদৃশ্য হয়ে যাবে।”

শকুন রক্ষার আন্দোলন

কাজেই মুনির এবং তার গবেষক দল অন্যান্য সংরক্ষণবাদীদের সঙ্গে মিলে শকুন রক্ষার আন্দোলন শুরু করলেন।

ইতিহাসের সাক্ষী : দক্ষিণ এশিয়ার বিপন্ন শকুন যেভাবে বাঁচানো হয়েছিল
ভারতের বিলুপ্তপ্রায় একটি প্রজাতির শকুন

“এর কৃতিত্ব আমাদের সঙ্গে কাজ করেছে এমন সব সংগঠনের। বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি, আরএসপিবি এবং নেপাল ও পাকিস্তানের অন্যান্য সংগঠন। এরা সবাই যার যার দেশে গবাদিপশুর জন্য এই ঔষধের ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে সরকারগুলোকে রাজি করালো।”

কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় ডাইক্লোফানাকের বিরাট মজুত ছিল। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এটার ব্যবহার এরপরও তাই অব্যাহত ছিল। তবে তারপরও অবস্থার উন্নতি হলো।

“সেসময় থেকে আমরা ভারত , নেপাল এবং পাকিস্তানে শকুনের সংখ্যার ওপর নজর রাখছিলাম। আমাদের জরিপে দেখা যায়, এরপর শকুনের সংখ্যা স্থিতিশীল হতে শুরু করে, এবং কিছু কিছু জায়গায় তাদের সংখ্যা বাড়তেও শুরু করে।”

তবে এরকম একটা আশংকা আছে যে নতুন কোন ঔষধ হয়তো আবার শকুনের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মুনির ভিরানি বলছেন, শকুন এখনো বিপদমুক্ত নয়। কারণ বাজারে নতুন নতুন ঔষধ আসছে, যেগুলো পরীক্ষা করে দেখা দরকার, এগুলো শকুনের কোন ক্ষতি করে কিনা। তিনি বলছেন, এই লড়াইটা অনেক দীর্ঘ, শকুন রক্ষার এই প্রচেষ্টা অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালাতে হবে।

দক্ষিণ এশিয়ায় শকুনের সংখ্যা যেভাবে কমে গিয়েছিল, কোন প্রজাতির প্রাণীর সংখ্যা এত দ্রুত কমে যাওয়ার নজির আর নেই। তবে শকুন যে কত উপকারী এক প্রাণী, এই সংকট তা মানুষকে উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে।

“আমার মনে হয় এশিয়ায় শকুনকে ঘিরে এই সংকটের সবচেয়ে ইতিবাচক একটা দিক হচ্ছে, এই বিরাট সচেতনতা, শকুন যে আমাদের জন্য কত গুরুত্বপূর্ণ। কোন সন্দেহ নেই যে, আমাদের গ্রহে শকুন হচ্ছে সবচেয়ে বিপন্ন মেরুদণ্ডী প্রাণী। আমাদের সহানুভূতি, আমাদের ভালোবাসা তাদের দরকার। যাতে তারা আকাশে উড়ে বেড়াতে পারে।”

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

পরিবেশ

কৃষক ঠকে ভোক্তাও ঠকে, লাভ শুধু মধ্যস্বত্বভোগীদের

লেখক

নোয়াখালীর উপকূলীয় সুবর্ণচরের চরনঙ্গলিয়ার কৃষক আব্দুল আজিজ এবার বাড়ির আঙিনায় এক একর জমিতে শিম, করলা, শসাসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করেছেন। শীতের আগাম সবজি শিম এর মধ্যেই বাজারে চলে এসেছে। পাইকারদের কাছে তিনি প্রতি কেজি শিম বিক্রি করেছেন ৪৫ টাকায়। অথচ গতকাল শুক্রবার রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হতে দেখা গেছে ১০০ টাকায়।

রাজধানীর কাছের জেলা মানিকগঞ্জ ‘সবজির এলাকা’ নামে সুপরিচিত। এখানকার সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি এলাকার শরীফ মিয়া এবার ৬৫ শতাংশ জমিতে আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি ও লাউ চাষ করেছেন। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে তার। সম্প্রতি এসব সবজি বিক্রি শুরু হয়েছে। প্রতিটি লাউ তিনি বিক্রি করেছেন ১৫-২০ টাকায়। এই লাউ গতকাল কারওয়ান বাজারে আড়তদারের মাধ্যমে ব্যাপারীরা (পাইকারি) বিক্রি করেছেন ৩০-৩৫ টাকা। আর খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকায়।

শুধু শিম ও লাউ নয়- টমেটো, গাজর, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বেগুন, মুলা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ প্রায় সব কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেই কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের এমন তফাত রয়েছে। রেকর্ড উৎপাদনেও বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। আবার মাঠ পর্যায়ে কৃষক দাম পান না। আলুসহ কিছু পণ্য ভোক্তা সস্তায় পেলেও ঠকেন কৃষক। কৃষিকাজ করে সিংহভাগ কৃষক পরিবার সচ্ছলতার মুখ দেখতে পারে না। অধিক উৎপাদনের পরও বাজার নিয়ন্ত্রণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও সুলভমূল্যে নিরাপদ খাবার ভোক্তার কাছে পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। করোনা মহামারিকালে চাকরি হারানো ও আয় কমে যাওয়াসহ নানা সমস্যায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় আজ ১৬ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে খাদ্য দিবস। এবার এ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো : ‘আমাদের কর্মই আমাদের ভবিষ্যৎ- ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’। দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরতে কৃষি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে।

আজ শনিবার সকালে দিবসের প্রথমভাগে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজন করা হয়েছে আন্তর্জাতিক সেমিনারের। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন। একই দিন বিকেলে খাদ্য নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে একটি কারিগরি অধিবেশন হবে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির বাণীতে বলা হয়েছে, মানুষের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে অপচয় কমিয়ে সুষম পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেছেন, সরকারের গৃহীত কৃষিবান্ধব নীতি ও কার্যক্রমে দানাদার খাদ্য, মাছ, মাংস ও ডিম উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতার দ্বারপ্রান্তে।

উৎপাদন পরিস্থিতি: দেশে ধারাবাহিকভাবে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বেড়েছে। করোনাকালেও খাদ্য উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেকর্ড বোরো উৎপাদন হয়েছে দুই কোটি টনেরও বেশি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গত বছরের তুলনায় এ বছর সব ফসলের উৎপাদনই বেড়েছে। মোট চালের উৎপাদন হয়েছে তিন কোটি ৮৬ লাখ টন, গম ১২ লাখ টন, ভুট্টা প্রায় ৫৭ লাখ টন, আলু এক কোটি ছয় লাখ টন, শাকসবজি এক কোটি ৯৭ লাখ টন, তেল ফসল ১২ লাখ টন ও ডাল ফসল ৯ লাখ টন। ২০০৯ সালের তুলনায় ২০২০ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চালের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩%, গমের ৪৫%, ভুট্টার ৬৭৫%, আলুতে ১০১%, ডালে ৩৭৫%, তৈলবীজে ৪২% এবং সবজির ক্ষেত্রে ৫৭৮%।

তবুও বাজার ঊর্ধ্বমুখী: পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে মাথাপিছু চাল ভোগের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৪১৬ গ্রাম। সেই হিসাবে দেশে চালের চাহিদা দুই কোটি ৫৮ লাখ টন। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে এর চেয়ে অনেক বেশি। তার পরও দাম বেড়েছে। চালে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কথা বলা হলেও সরকারি গুদামে মজুদ বাড়াতে এবং বাজারে দাম কমাতে এখন চাল আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) হিসাবে, বর্তমানে বাজারে সরু চাল ৫৮ থেকে ৬৮ টাকা এবং মোটা চাল ৪৬ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ, বড় কোম্পানিগুলো চালের ব্যবসায় যুক্ত হয়েছে। বড় মিলগুলোতে যে পরিমাণ ধান বা চালের মজুদ থাকে, তাতে চাইলেই তারা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

এদিকে মুরগির দামও বেড়েছে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে এখন বেশিরভাগ সবজির দাম ৬০ টাকা কেজির ওপরে। এর মধ্যে নিত্য ব্যবহূত সাধারণ কয়েকটি সবজির দাম ১০০ টাকার বেশি।

ঠকছেন কৃষক: কৃষকরা সবচেয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন ধানের দাম নিয়ে। গত বোরো মৌসুমে তারা ধানের দাম কম পেয়েছেন। দেশে আলুর চাহিদা ৯০ লাখ টন। কিন্তু গত মৌসুমে পরিবেশ অনুকূলে থাকায় উৎপাদন হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ টন। সে হিসাবে আলু উদ্বৃত্ত হয়েছে ২৪ লাখ টন।

উৎপাদিত আলু থেকে দেশের ৪০০ হিমাগারে ৪০ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। করোনায় হোটেলসহ সবকিছু বন্ধ থাকায় ৬৫ শতাংশ আলুই বিক্রি হয়নি। দাম না পেয়ে প্রায়ই সবজি গরুকে খাওয়াতে অথবা ফেলে দিতে বাধ্য হন চাষিরা। পোলট্রি খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়াসহ নানা সংকটে মুরগি ও ডিমের হাজার হাজার ছোট খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এবার কোরবানির ঈদে ২৯ লাখ পশু অবিক্রীত থেকে গেছে। দাম পাননি খামারিরা।

খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের (খানি) সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম মাসুদ বলেন, উৎপাদিত পণ্যের মূল্য পান না কৃষক। কৃষককে লাভবান করার জন্য কোনো কৌশল নেই। মার্কেটের ওপর কৃষকের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কম মূল্যে পণ্য বিক্রি করেন। পৃথিবীর বহু দেশে সরকার কৃষককে মূল্য সহায়তা দেয়। বাংলাদেশে কোনো কৃষি মূল্য কমিশনও নেই। কৃষি বিপণন অধিদপ্তর একটি অকার্যকর প্রতিষ্ঠান। তাদের লোকবল নেই, তাদের ওয়েবসাইটে আপডেট তথ্যও নেই।

কৃষি মূল্য কমিশন গঠনের ওপর জোর দিয়ে এ গবেষক বলেন, মূল্য কমিশনে কৃষক, ভোক্তা, সরকারের প্রতিনিধি থাকবে। তারা কোনো ফসল উঠলে মূল্য নির্ধারণ করবে। তখন কৃষক দাম পাবেন। কৃষকের সরকারের কাছে কোনো বিষয় নিয়ে দরকষাকষির জায়গা নেই। ফলে বাজারে একটি মধ্যস্বত্বভোগী চক্র শক্তিশালীভাবে সক্রিয় রয়েছে।

নিরাপদ খাদ্যের অভাব: কৃষি উৎপাদন বাড়লেও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা বাংলাদেশের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ মাছে রয়েছে মাইক্রোপ্লাস্টিক বা প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। কৃষিতে অতিমাত্রায় কীটনাশকের ব্যবহারও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। খামারের মাছ-মুরগিকে অ্যান্টিবায়োটিক আর ক্ষতিকর উপাদানযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে। খাদ্যচক্রে আরও দূষণের ঝুঁকি আছে। খাদ্য উৎপাদনে সঠিক জ্ঞান ও অসাধুতা এবং বাজারজাতকরণ ও বিপণনে দক্ষ ব্যবস্থাপনার অভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য জোগানে অনেক পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

খাদ্য উৎপাদন, বাজার পরিস্থিতি, কৃষকের সমস্যা ও খাদ্য নিরাপত্তায় চ্যালেঞ্জসহ নানা বিষয় কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বেশি দামে চাল কিনতে হলেও আয় বেড়ে যাওয়ায় জনগণের মধ্যে কোনো অস্বস্তি নেই। সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বাজার ব্যবস্থাপনার দায় রয়েছে। যেখানে ফুলকপি চাষ হচ্ছে, সেখানে তা বেচাকেনা চলছে ১০-১৫ টাকায়। কিন্তু ঢাকায় আনার পর একই জিনিসের দাম হয়ে যায় ৪০-৫০ টাকা। কারণ রাস্তায় চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেটের দখলে। তাই হাত ঘুরে ঘুরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ক্ষেত থেকে খাবারের টেবিল পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, চাহিদা এবং উৎপাদনের তথ্য-উপাত্তে বিভ্রাট এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সংকট বলে তিনি মনে করছেন। এসব সংকট নিরসনে সরকার তৎপর রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। 

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

নকল সার মজুত করায় ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় নকল সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে নয়ন আহম্মেদ (৪০) নামের এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ তাঁকে জরিমানা করেন।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দত্তাইল গ্রামের মেসার্স নয়ন ট্রেডার্সের মালিক নয়ন আহম্মেদ দীর্ঘদিন ধরে সার ও কীটনাশকের ব্যবসা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে নকল সার ও কীটনাশক বিক্রির অভিযোগ ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছিল।

শনিবার রাতে নয়ন আহম্মেদ কয়েকটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধুতে করে বিএডিসির বস্তাভর্তি টিএসপি সারের বড় একটি চালান গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর তা দোকানে না রেখে নিজের বাড়িতে এবং ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বাড়ির গোয়ালঘরে মজুত করেন।

শনিবার রাতে নয়ন আহম্মেদ কয়েকটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যান আলমসাধুতে করে বিএডিসির বস্তাভর্তি টিএসপি সারের বড় একটি চালান গ্রামে নিয়ে আসেন। এরপর তা দোকানে না রেখে নিজের বাড়িতে এবং ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির বাড়ির গোয়ালঘরে মজুত করেন। সারের এই চালান ও মজুত নিয়ে কয়েকজন কৃষকের সন্দেহ হয়। এর মধ্যে একজন কৃষক শনিবার রাতেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানান।

ওই ফোন পেয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) তায়েফুজ্জামানের নেতৃত্বে সরোজগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা দত্তাইল গ্রামে গিয়ে নয়ন আহম্মেদের বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় তাঁরা ৭৩ বস্তা নকল সার জব্দ এবং নয়ন আহম্মেদকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক পরীক্ষা করে ওই সব বস্তায় নকল সার থাকার বিষয়ে নিশ্চিত হন।বিজ্ঞাপন

পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি রোববার সকালে সদর উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম ভুইয়ার সঙ্গে পরামর্শ করে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ সরোজগঞ্জে যান।

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দত্তাইল গ্রামে  নকল সার মজুত করার অপরাধে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে (মাঝে) রোববার এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দত্তাইল গ্রামে নকল সার মজুত করার অপরাধে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে (মাঝে) রোববার এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয় 

সেখানে যাওয়ার পর নকল সার মজুত ও বিক্রির অপরাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। পরে পুলিশ নয়ন আহম্মেদকে ছেড়ে দেয়।

এ বিষয়ে সার ব্যবসায়ী নয়ন আহম্মেদ বলেন, বিএডিসির বস্তায় টিএসপি সার হিসেবে জব্দ করা সারগুলো নকল। এগুলো ঝিনাইদহের শৈলকুপা এলাকার সার ব্যবসায়ী নাজমুল হকের কাছ থেকে তিনি কিনে এনেছেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সজল আহমেদ বলেন, নয়ন আহম্মেদ সচেতনভাবে নকল সার বিক্রি করে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। বিষয়টি স্বীকার করায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সালের ৪১ ধারায় নয়ন আহম্মেদকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তালহা জুবাইর মাসরুর বলেন, বর্তমানে শস্য উৎপাদনের ভরা মৌসুমে সার ও কীটনাশকের চাহিদা বেড়েছে। এই সুযোগে প্রতারক চক্র নকল সার ও কীটনাশক সরবরাহ করতে পারে, এ আশঙ্কায় কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। কৃষক সচেতন হয়েছেন বলেই নকল সার বিক্রির ঘটনায় জড়িত ব্যবসায়ীকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তায় কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী

লেখক

কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বর্তমান সরকার সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। সেজন্য ফসলের ভালে উৎপাদনের জন্য প্রচেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে উত্তম কৃষি চর্চা মেনে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটি মেনে ফসল উৎপাদিত হলে খাবারের পুষ্টিমান যেমন অক্ষুণ্ন থাকবে তেমনি পরিবেশেরও ক্ষতি হবে না।

শনিবার বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে ‘ভালো উৎপাদনে ভালো পুষ্টি, আর ভালো পরিবেশেই উন্নত জীবন’ শীর্ষক কারিগরি সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষি মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা(এফএও) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

মন্ত্রী বলেন, দেশে পুষ্টিকর খাবারের অভাব নেই কিন্তু সমস্যা হলো বেশিরভাগ মানুষ তা কিনতে পারে না। কারণ, মানুষের আয় সীমিত। সেজন্য সাধারণ মানুষের আয় বাড়াতে হবে।

এফএওর মহাপরিচালক কিউ দোংয়ু ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বব্যাপী মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি রেজিলিয়েন্ট, ইনক্লুসিভ ও সাসটেইনেবল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন খাদ্যসচিব ড. নাজমানারা খানুম, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার ও এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি রবার্ট ডি. সিম্পসন প্রমুখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের ( গেইন) নির্বাহী পরিচালক ড. লরেন্স হাদ্দাদ। প্রবন্ধে বলা হয়, কোভিডের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অপুষ্টি, দারিদ্র্য ও খাদ্য পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। করোনার কারণে অপুষ্টিতে ২০২২ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন খর্বাকৃতি শিশু ও ১৩ মিলিয়ন কৃশকায় শিশু যুক্ত হতে পারে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

অনলাইনে এলো প্যাকেটবন্দি কাঁঠাল

লেখক

পারিবারিক রেওয়াজ অনুসারে পূজায় দেবীর নৈবেদ্যের থালায় দিতে হবে কাঁঠাল। কিন্তু এই করোনাকাল আর অসময়ে কাঁঠাল পাওয়া দুষ্কর। উপায় না পেয়ে অনলাইনে অর্ডার দিলেন কাঁঠালের। অবশেষে অর্ডার করা সেই কাঁঠাল এসে পৌঁছেছে। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম শহরের। খবর আনন্দবাজারের।  

আনন্দবাজার জানায়,  ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবায় সেন পরিবার পূজায় নৈবেদ্যের থালায় কাঁঠালের প্রয়োজন হয়। ১৯৪ বছরের পারিবারিক পূজায় অতি প্রয়োজনের কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছিল না। উপায় না পেয়ে অনলাইনে অর্ডার করা হয়। পরে এক বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্যাকেটবন্দি হয়ে সেই কাঁঠাল এসে পৌঁছায় সেন পরিবারে। 

সেন পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১২৩৫ বঙ্গাব্দে পূর্ববঙ্গের ময়মনসিংহে র আকুয়াপাড়ায় পুজাটি শুরু করেছিলেন অনেক সম্পতির মালিক রামরতন সেন শর্মা।  পারিবারিক পেশা কবিরাজি হলেও রামরতন ছিলেন ময়মনসিংহের মহারাজা সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরীর দেওয়ান। সেই সময় পারিবারিক পূজায় নৈবেদ্যের থালায় সব সময় কাঁঠাল থাকতো।  সেই ঐতিহ্যে ছেদ পড়ে দেশভাগের পর। রামরতনের উত্তরসূরীরা চলে যান ঝাড়গ্রামে।  পঞ্চাশের দশকের গোড়ায় ঝাড়গ্রামে পূজা শুরু হয়।

সেন পরিবারের তরুণ সদস্য দেবব্রত সেন জানান, অকাল বোধনের পুজায় অসময়ের ফল কাঁঠাল দেওয়ার রীতি রয়েছে। কিন্তু আশ্বিন মাসে ঝাড়গ্রামের বাজারে কাঁঠাল পাওয়া যায় না। আগে কলকাতা থেকে কাঁঠাল আনানো হত। করোনা কারণে গত বছর কাঁঠাল পেতে খুবই সমস্যা হয়েছিল। তাই এবার আগে ভাগে অনলাইনে বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থার কাছ থেকে কাঁঠাল কেনা হয়েছে। অষ্টমীতে দেবীর নৈবেদ্যের থালায় আম ও নবমীতে কাঁঠাল দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

শিমুলের তৈরি টাইলস ছড়িয়ে যাচ্ছে সারাদেশে

ঠাকুরগাঁও শহরের শান্তিনগর এলাকায় ছোটো আকারে গড়ে ওঠা উদ্যোক্তা মোস্তাফিজুর রহমান শিমুলের তৈরি ব্লক পার্কিং টাইলসের কারখানাটি উঁকি দিচ্ছে বিরাট সম্ভাবনার। বর্তমানে নিজ জেলার গণ্ডি পেরিয়ে শিমুলের তৈরি এই পার্কিং টাইলস ছড়িয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ইত্তেফাককে শিমুল জানান, ২০১১ সালে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে তিন বছর চাকরির পেছনে ছুটেও লাভ হয়নি। এরকম শিক্ষিত বেকার থাকাটাই নিজের কাছে নিজেকে বোঝা বলে মনে হচ্ছিল। শেষে হতাশ হয়ে ২০১৬ সালে প্রবাসে পারি জমান তিনি। শিমুল কাতারের একটি পার্কিং টাইলসের কোম্পানিতে চাকরি করতেন।

শিমুল বলেন, কাতারের সেই টাইলসের কোম্পানিতে আমি প্রায় তিন বছর কাজ করেছি। সে সময় খেয়াল করি, কারখানায় তৈরিকৃত পার্কিং টাইলসে ব্যবহৃত প্রধান কাঁচামাল সিমেন্ট, বালু ও নুড়ি পাথর যা আমাদের দেশ তথা নিজ এলাকাতেই বেশ সহজলভ্য। ছোটো আকারে শুরু করতে পুঁজিও তেমন লাগছে না। তখনি দেশে ফিরে এমন একটি কারখানা গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেই।

No description available.

তিনি আরও বলেন, ২০২০ থেকে কারখানা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করি। এরপর মাত্র দুই লক্ষ টাকা পুঁজি নিয়ে ২০২১ এর ১ জানুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করি পার্কিং টাইলসের। প্রথম থেকেই নিজ জেলায় ব্যাপক সাড়া পাই। আস্তে আস্তে পার্শ্ববর্তী জেলায় যাওয়া শুরু করে আমার পণ্য। তবে এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার পাচ্ছি।

তার কারখানায় বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ হওয়াটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার বলে মনে করছেন এই উদ্যোক্তা। এ বিষয়ে তিনি জানান, প্রথমে ১জন শ্রমিককে কাজ শিখিয়ে তাকে নিয়ে পথচলা শুরু করলেও এখন তার কারখানায় ১৭জন শ্রমিক কাজ করছেন। সরকারি সহযোগীতা পেলে এই কারখানাটি আরও বড় করার পরিকল্পনা আছে। তখন ১৫০/২০০ শ্রমিকের কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব বলে মনে করেন এই উদ্যোক্তা।

শিমুলকে সরকারিভাবে সহযোগীতা করে তার কাজে উৎসাহ দেওয়া উচিত বলে জানান ঠাকুরগাঁও চেম্বার অফ কমার্সের পরিচালক মামুনুর রশিদ। তিনি জানান, শিমুলের মাধ্যমে বৃহত্তম কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ রয়েছে। তার সফলতা অন্যান্য তরুণদেরকে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করবে।

No description available.

ঠাকুরগাঁও বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক মো. নূরেল আলম জানান, আমরা চাই ভালো ভালো উদ্যোক্তা সৃষ্টি হোক। শিমুলের উদ্যোগ বেশ সম্ভাবনাময়। তার যেকোনো সহযোগিতায় আমরা পাশে থাকবো।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁয়ের জেলা প্রশাসক মাহবুব আলম বলেন, বর্তমান সরকার উদ্যোক্তা তৈরিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা শিমুলের তৈরি টাইলস কারখানা সম্পর্কে অবগত হয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা তার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে শিমুলকে সহযোগীতা করব।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com