আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

মৎস্য

ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে জলমহালে মাছ শিকার

সুনামগঞ্জের ধরমপাশা উপজেলার কাঞ্জার হাওর গ্রুপ জলমহালটির ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে সেখান থেকে দেড় মাস ধরে অবৈধভাবে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এ ছাড়া জলমহালটির সীমানার বাইরেও স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরতে দেওয়া হচ্ছে না। এতে পাঁচটি গ্রামের তিন শতাধিক জেলে পরিবার বিপাকে পড়েছে।

উপজেলার সুখাইড় শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মাসুদ মিয়ার নির্দেশে বেআইনিভাবে এ মাছ শিকার চলছে। ইতিমধ্যে কয়েক লাখ টাকার মাছ শিকার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জেলেরা।বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর ইউনিয়নের জানিয়ারচর গ্রামের সামনে কাঞ্জার হাওর গ্রুপ জলমহালটির অবস্থান। এটি জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনাধীন। এর আয়তন ৬১ একর ৩৪ শতক। ১৪২৮ বঙ্গাব্দ (২০২১ সালের ১৪ এপ্রিল) থেকে ৫ বছরের জন্য সুখাইড় শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এই জলমহাল ইজারা পায়। এ জন্য তাদের বছরে ১২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সুখাইড় শাপলা সমিতি এ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি।

জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কাঞ্জার হাওর গ্রুপ জলমহালে ইজারা মূল্যের একটি টাকাও এখনো ইজারাদার পরিশোধ করেনি। পাওনা পরিশোধের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজন বলেন, ইজারা মূল্য পরিশোধ না করেই আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি সময়ে ওই সমিতির লোকজন জলমহালটি নিয়ন্ত্রণে নেন। সমিতির লোকজন বাঁশ ও গাছের ডালপালা ভেঙে ফেলেন এবং তিনজন পাহারাদার নিয়োগ করেন। দেড় মাস ধরে সেখানে মাছ শিকার চলছে। আশপাশের রাজধরপুর, জানিয়ারচর, দেওলা, মহদীপুর ও কুড়ের পাড়—এই পাঁচ গ্রামের তিন শতাধিক জেলে এ জলমহালের ওপর নির্ভরশীল। এ জলমহালের সীমানার বাইরে মাছ শিকার করতে গেলেও ইজারাদারের লোকজন তাঁদের বাধা দিচ্ছেন।

মহদীপুর ও রাজধরপুর গ্রামের তিনজন জেলে বলেন, সমিতির সভাপতি মাসুদ মিয়ার লোকজন দেড় মাস ধরে খনা জাল, কারেন্ট জাল দিয়ে জলমহালটি থেকে এই পর্যন্ত কয়েক লাখ টাকার মাছ শিকার করিয়েছেন। এ ছাড়া জলমহালের নিয়োজিত পাহারাদারেরা তাঁদের জলমহালের সীমানার বাইরেও মাছ ধরতে দিচ্ছেন না।

জলমহালের ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে সেখান থেকে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। জলমহালের কোনো অংশ কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না।

মো. মুনতাসির হাসান, ইউএনও, ধরমপাশা

জেলেরা অভিযোগ করেন, জলমহালের কোনো অংশ বিক্রি করার নিয়ম না থাকলেও দুরগুল্লা (একটি বড় ডোবা) অংশটি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে জানিয়ারচর গ্রামের শফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা শিগগিরই এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন।

শফিকুল ইসলাম বলেন, জলমহালটি যারা ইজারা পেয়েছে, তাদের কাছ থেকে তিনি কাঞ্জার দুরগুল্লা অংশটি কিনেছেন। জলমহাল নিয়ে কোনো সমস্যা হলে সমিতির লোকজন তাঁর টাকা ফেরত দেবেন বলে জানিয়েছেন।

সুখাইড় শাপলা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মাসুদ মিয়া বলেন, তাঁরা মাছ শিকার করছেন না। জলমহালের সীমানায় যাতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারে, সে জন্য পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। সীমানার বাইরে কাউকে মাছ ধরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আর তিনি কারও কাছে জলমহালটির কোনো অংশ বিক্রি করেননি। জলমহালটির খাজনা পরিশোধের জন্য তিনি দুটি চিঠি পেয়েছেন। কিন্তু সমিতির আর্থিক সমস্যা থাকায় জলমহালটির খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না।বিজ্ঞাপন

ইউএনও মো. মুনতাসির হাসান বলেন, জলমহালের ইজারা মূল্য পরিশোধ না করে সেখান থেকে মাছ শিকার করা সম্পূর্ণভাবে বেআইনি। জলমহালের কোনো অংশ কারও কাছে বিক্রি করা যাবে না। এটি জলমহালের নীতিমালা পরিপন্থী। এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বিজন কুমার সিংহ বলেন, যেসব জলমহালের ইজারা মূল্য এখনো পরিশোধ করা হয়নি, সেগুলোর ইজারা বাতিল করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ

তাড়াশে ড্রামের ভেলায় চড়ে মাছ চাষ

তাড়াশে প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে পুকুরের মাছের খাবার দেওয়ার কাজে লাগাচ্ছেন চাষিরা। ডিঙ্গি নৌকার পরিবর্তে ড্রামের ভেলার প্রচলন দিনকে দিন বেড়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, আরঙ্গাইল গ্রামীণ সড়কের সঙ্গের একটি পুকুরে ড্রামের ভেলায় বসে মাছের খাবার দিচ্ছেন একজন মাছচাষি। নাসির উদ্দিন নামের ঐ মাছচাষি বলেন, ডিঙ্গি নৌকার কাঠ এক থেকে দুই বছরে নষ্ট হয়ে যায়। পুকুরে মাছ চাষের জন্য ড্রামের ভেলার ব্যবহার অতি সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী একটি মাধ্যম। এ ভেলা টিকেও বহুদিন। বর্তমানে আমার মতো অধিকাংশ মাছচাষি পুকুরে ড্রামের ভেলা ব্যবহার করে মাছ চাষ করছেন।

জানা গেছে, চারটি প্লাস্টিকের ফাঁকা ড্রামের ওপর বাঁশের মাচা দিয়ে ড্রামের ভেলা বানানো হয়। এর পর সেই ভেলা পুকুরে ভাসিয়ে লাইলন সুতা ধরে মাছের খাবার দেওয়া হয়। যেমন করে গুণ টেনে নৌকা চালানো হয়। এ প্রসঙ্গে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মসগুল আজাদ বলেন, ডিঙ্গি নৌকার তুলনায় ড্রামের ভেলার ব্যবহার মাছচাষিদের জন্য সাশ্রয়ী।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

পরিবেশ

কুমিল্লায় পদুয়ার মাছের হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম

লেখক

শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমিল্লার পদুয়ার বাজার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত বাজারটির কাঁচাবাজার ও মাছবাজার অংশ প্রায় সোয়া এক কিলোমিটার দীর্ঘ। এ বাজারের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছবাজার। সপ্তাহের রোব ও বৃহস্পতিবারে বসে এটি।


বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিন সারিতে বসেছেন মাছ ব্যবসায়ীরা। তাজা মাছ লাফাচ্ছে বিক্রেতার ঢালার ওপরে। বড় সাইজের মাছ দেখতে ও কিনতে বেশি ভিড় দেখা যায়। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখর চারপাশ। কুমিল্লার শাকতলা, জাঙ্গালিয়া, কচুয়া চৌমুহনী, রাজাপাড়া, দিশাবন্দ, নোয়াগাঁও, মোস্তফাপুর, বেলতলি, কোটবাড়ি,  সুয়াগাজী, মিয়াবাজার, চৌয়ারা, কালিকাপুর, লালমাই, বাগমারা, বিজয়পুর, বিজরা, মুদাফফরগঞ্জ, পিপুলিয়া গ্রাম ও এর আশেপাশের সৌখিন ক্রেতারা মাছ কিনতে আসেন এখানে। সড়কের পাশে গাড়ি রেখে মাছ কিনেন অনেকে। বিয়ে, জন্মদিনসহ বড় অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার ও জেলার অভিজাত রেস্তোরাঁগুলো পাইকারিতে মাছ সংগ্রহ করেন পদুয়ার বাজার থেকে।
ব্যবসায়ীদের সূত্র জানায়, এখানে প্রতিদিন আড়াই শ’ দোকান বসে। দৈনিক ১০০ মেট্রিক টন মাছ বিক্রি হয় পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে। টাকার অংকে যা আড়াই কোটি টাকার বেশি। সপ্তাহে দুদিন করে মাসে আট থেকে দশটি বাজার বসে পদুয়ায়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় রুই, কাতলা, তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, মৃগেল, গ্রাসকার্প, সিলভার কার্প, বিগহেড ও কমনকার্প মাছ। বিক্রি হওয়া মাছের ৫০ শতাংশই এগুলো। অন্যান্য মাছের মধ্যে ২০ শতাংশ ইলিশ, ১০ শতাংশ দেশি ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ। রুই, কাতলা, মৃগেল ও কার্প জাতীয় মাছগুলো সংগ্রহ করা হয় কুমিল্লার দাউদকান্দি, মেঘনা ও তিতাস উপজেলার প্লাবন ভূমিখ্যাত জলাশয় থেকে। ইলিশ আসে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে। সামুদ্রিক মাছের বেশিরভাগ সংগ্রহ করা হয় চট্টগ্রাম থেকে। কিছুসংখ্যক মাছ আনা হয় কক্সবাজার থেকে।
সামুদ্রিক মাছের মধ্যে রয়েছে চাপিলা, লইট্যা, সুরমা, কোরাল, টুনা, রূপচাঁদা, বাটা, বাইলা ও চিংড়ি। সামুদ্রিক কাঁকড়াও বিক্রি হয় এখানে। দেশি মাছ আসে কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন উপজেলা থেকে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিং, মাগুর, কৈ, টাকি, শোল, টেংরা, পাবদা, পুঁটি, কাচকি, বোয়াল, আইড়, বাইন, গজার প্রভৃতি।

মাছ বিক্রেতাদের মধ্যে বেশিরভাগের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, ঢাকার কারওয়ান বাজারের মৌসুমী ব্যবসায়ী, পদুয়ার বাজারের নিকটবর্তী অঞ্চল, বৃহত্তর কুমিল্লার বেশিরভাগ উপজেলার মাছ ব্যবসায়ীরা মাছ বিক্রি করতে আসেন এ বাজারে।  ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম খুব সহজ হয়। ব্যবসায়ীরা জানান, সপ্তাহের দুইদিন বাজার বসে।  দ্রুত সব মাছ বিক্রি হয়ে যায়। তাছাড়া আড়তদারের কোনো ঝামেলা নেই। ব্যবসা যা-ই হয়, তাতে লোকসানের মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে না। ক্রেতারাও বেশ খুশি। যাতায়াত সহজ, হাতের নাগালে পাওয়া যায় সব রকমের মাছ। দাউদকান্দির সুমন বিক্রি করেন রুই-কাতলাসহ কার্প জাতীয় মাছ। তিনি জানান, দাউদকান্দির প্লাবনভূমি থেকে মাছ সংগ্রহ করি। প্রতি বাজারে দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। দাউদকান্দির রায়পুর থেকে আসা কবির নামে এক বিক্রেতা জানান, দৈনিক গড়ে দেড় লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয় তার। চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ী তসলিম মিয়া জানান, ২০ বছর ধরে চাঁদপুর থেকে ইলিশ সংগ্রহ করে এ বাজারে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ৫৫-৬০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয় তার। বরুড়ার সুমন জানান, দেশি শিং ও চিংড়ি মাছ বিক্রি করি। গড়ে ৪০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হয়। ঢাকার কারওয়ান বাজার থেকে আসা ব্যবসায়ী আরমান জানান, ঢাকায় মাছ বিক্রির পাশাপাশি সপ্তাহে দুইদিন কুমিল্লায় চলে আসি। এখানে মাছ বিক্রি করা লাভজনক, বিক্রি অনেক বেশি। আলী আকবর নামের এক ক্রেতা জানান, চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার থেকে অনেক সময় মাছ কিনতে আসি। বাড়ি ২০ কিলোমিটার দূরে হলেও মহাসড়ক দিয়ে আসতে বেশি সময় লাগে না। পছন্দের সব তাজা মাছ পাওয়া যায়। ফারুক আহমেদ নামের অপর এক ক্রেতা জানান, আমাদের বাড়ি পদুয়ার বাজার এলাকাতেই। বাবা-চাচারা মাছ কিনতেন এ বাজার থেকে। আমরাও কিনছি। ঘরের কাছে এমন মাছের মেলা দেখতে বেশ লাগে।


বাজার কমিটির সভাপতি রোটারিয়ান আব্দুল মালেক ভূঁইয়া বাসসকে বলেন, ফুট ওভারব্রিজ থেকে শুরু করে বিএডিসি ভবন পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে মাছবাজারটি বসত। এখন আঞ্চলিক মহাসড়কে ফোরলেনের কাজ চলায় বাজারটি কিছুটা সংকীর্ণ করা হয়েছে। মাছবাজারটি কুমিল্লার সর্ববৃহৎ। আড়তদারের কোনো ঝামেলা নেই বলে ব্যবসায়ীরা খুব স্বাচ্ছন্দ্যে মাছ বিক্রি করেন। কুমিল্লার ব্যবসায়ীরা ছাড়াও চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকার ব্যবসায়ীরা এখানে মাছ বিক্রি করেন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

বাংলাদেশ

মাছের টিকা উদ্ভাবন করলেন সিকৃবি শিক্ষক ড. মামুন

দেশে মাছের রোগ প্রতিরোধী প্রথম টিকা উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন। টিকাটি মাছের রোগ প্রতিরোধে ৮৪ শতাংশ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই মৎস্যবিজ্ঞানী। টিকাটি শরীরে পুশ করে নয় খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মাছকে খাওয়াতে হবে।

মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মামুনের উদ্ভাবিত টিকাটি মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত একাধিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করবে। এছাড়া মাছের মৃত্যুহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়াবে।

এমন আশার কথা জানিয়ে টিকার উদ্ভাবক জাগো নিউজকে বলেন, ২০১৬ সাল থেকে মাছের টিকা উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছিলেন তিনি। ২০২১ সালে এসে তিনি এর সফলতার মুখ দেখেন।

ড. মামুন জানান, এরোমোনাস হাইড্রোফিলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মাছের ক্ষত রোগ, পাখনা পচাসহ বিভিন্ন রোগ দেখা দেয়। এতে প্রতি বছর প্রচুর মাছ মারা যায়। তবে এই উপমহাদেশে মাছের টিকা নিয়ে তেমন কাজ হয়নি।আব্দুল্লাহ আল মামুন তার উদ্ভাবিত এই টিকার নাম দিয়েছেন বায়োফ্লিম।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে কিছু পাঙ্গাশ মাছের শরীরে এই টিকা প্রবেশ করিয়ে ৮৪ শতাংশ সফলতা পেয়েছি। এরপর মাঠপর্যায়ে এটি প্রয়োগ করা হবে।

‘আগামী মার্চ থেকে সিলেটের বিভিন্ন পুকুরের মাছের শরীরে এই টিকা প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে কয়েকটি পুকুরও নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফলতা মিললেই বাণিজ্যিক উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

ড. মামুন বলেন, এই টিকা ব্যাপকভাবে উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের নেই। আমাদের যে সক্ষমতা আছে তাতে প্রতি মাসে ১০০ মিলিলিটার উৎপাদন করতে পারবো। এই পরিমাণ টিকা এক কেজি মাছের খাবারের সঙ্গে মেশানো যাবে।

‘এই গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগকে মাছের ক্যান্সার হিসাবে দেখা হয়। প্রতি বছর অনেক মাছ ক্ষত রোগে মারা যায় বা পচে নষ্ট হয়।

তিনি বলেন, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে মাছের শরীরে টিকা প্রয়োগ করা হলেও বাংলাদেশে এখনও শুরু হয়নি। ক্ষত রোগ থেকে মাছ মুক্ত রাখতে আমরা সাধারণত জলাশয়ে চুন ও লবণ ব্যবহার করে থাকি। মাছের টিকাটি উদ্ভাবন পুরোপুরি সফল হলে মাছের উৎপাদন অনেক বাড়বে।

সিকৃবির মৎস্য অনুষদ সূত্রে জানা যায়, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, চিলিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের জন্য ২৮ ধরনের টিকা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এ ধরনের টিকা উদ্ভাবন হলো। স্বাদু পানিতে চাষযোগ্য মাছে এই টিকা প্রয়োগ করা যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার জানান, মাছের এই টিকা তৈরিতে গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এই টাকায় আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আশা করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত টিকা মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ করবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৪০ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়। মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে বিভিন্ন রোগের কারণে প্রচুর পরিমাণ মাছ মারা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

মাগুর মাছ চাষ করে বিপুল অর্থ উপার্জন করুন

দেশি মাগুর মাছ সুস্বাদু ও উপাদেয়। দেশের প্রায় সব শ্রেণির মানুষের পছন্দের মাছ। এছাড়া পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবেও সর্বত্র দেশি মাগুরের চাহিদা রয়েছে। সর্বোপরি, মাগুর একটি জিওল মাছ | অতিরিক্ত শ্বাসযন্ত্রের উপস্থিতির ফলে এই মাছ জলের বাইরে অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে এবং বাতাস থেকে সরাসরি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। তাই এই ধরণের মাছগুলিকে জিওল মাছ বলা হয়। এই মাছগুলির বাজারে মূল্য এবং চাহিদাও বেশি | তাই, মাগুর চাষ করে কৃষকরা আর্থিক দিক থেকে লাভবান হয়ে থাকেন

পুকুর নির্মাণ(Pond preparation):

মাছ চাষের প্রথমেই সঠিকভাবে পুকুর নির্বাচন করতে হবে | পুকুরের আয়তন ১০ শতাংশ থেকে ৩৩ শতাংশ এবং গভীরতা ৮০ থেকে ১২০ সেন্টিমিটার (৩ ইঞ্চি থেকে ৪ ফুট) হতে হবে। অধিক গভীরতা উৎপাদনের জন্য অসুবিধাজনক। কারণ মাগুর মাছকে শ্বাস নেওয়ার জন্য সবসময় উপরে আসতে হয়। এতে অতিরিক্ত শক্তিক্ষয়ের কারণে মাছের বৃদ্ধি প্রতিক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটে।

তবে, অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে পাড়ের ঊর্ধ্বসীমা অবশ্যই সর্বোচ্চ বন্যার লেভেল থেকে ৩০ সেন্টিমিটার (১ ফুট) উপরে রাখতে হবে। এতে বৃষ্টির সময় মাছ বুকে হেঁটে বাইরে যেতে পারে না। আবার বাইরে থেকে সাপ-ব্যাঙ ইত্যাদি মৎস্যভুক প্রাণিও পুকুরে প্রবেশের সুযোগ পায় না। এছাড়া পুকুরের চারদিকের পাড়ের ওপর ৩০ সেন্টিমিটার উঁচু নেটের বেড়া দেওয়া বাঞ্ছনীয়।

চুন প্রয়োগ:

পুকুরের তলদেশ শুকিয়ে হাল্কাভাবে চাষ দিয়ে তলার মাটির পিএইচ পরীক্ষা করে প্রতি শতাংশে ১ থেকে দেড় কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে। চুন প্রয়োগের পর পুকুরে ১৫ সেন্টিমিটার (৬ ইঞ্চি) পরিমাণ জল ঢুকিয়ে সপ্তাহ খানিক ধরে রাখা প্রয়োজন।

সার প্রয়োগ(Fertilizer):

জৈব সার প্রয়োগের ৭ দিন পর জলের উচ্চতা ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বজায় থাকা অবস্থায় প্রতি শতাংশ ২০০ গ্রাম ইউরিয়া ১০০ গ্রাম টিএসপি ও ২০ গ্রাম এমপিও সার ব্যবহার করতে হবে। জলের  রং বাদামি সবুজ, লালচে বাদামি, হাল্কা সবুজ, লালচে সবুজ অথবা সবুজ থাকাকালীন অজৈব সার প্রয়োগের কোনো প্রয়োজন নেই।

পোনা মজুদ:

পুকুরে ৫-৮ সেন্টিমিটার দৈর্ঘের সুস্থ-সবল পোনা প্রতি বর্গমিটারে ৫০ থেকে ৮০টি ছাড়া যেতে পারে। মে-জুন মাসে মাগুরের পোনা ছাড়ার যথার্থ সময়।

খাদ্য ব্যবস্থাপনা(Food):

মাগুর মূলত জলাশয়ের তলদেশের খাদ্য খেয়ে জীবন ধারণ করে। প্রাকৃতিক এই খাদ্যগুলো হচ্ছে জলাশয়ের তলায় আমিষ জাতীয় পচনশীল দ্রব্যাদি। প্রাণি প্লাঙ্কটন ও কেঁচো জাতীয় ক্ষুদ্রাকার প্রাণি ইত্যাদি।

খাদ্য সরবরাহ:

অধিক ঘনত্বে চাষের ক্ষেত্রে পুকুরে সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে। সহজলভ্য দেশীয় উপকরণের মাধ্যমে সম্পূরক খাদ্য প্রস্তুত করা যায়। এ ক্ষেত্রে চালের কুড়া ৪০ শতাংশ, তৈলবীজের খোল ৩০ শতাংশ ও শুঁটকি ৩০ শতাংশ মিশিয়ে গোলাকার বল তৈরি করে মাছকে সরবরাহ করা যেতে পারে। তাছাড়া শামুক ও ঝিনুকের মাংস মাগুরের অত্যন্ত প্রিয় খাবার। পুকুরে মজুদকৃত মাছের মোট ওজনের ৫-১০ শতাংশ হারে দৈনিক খাদ্যের এক-চতুর্থাংশ সকালে এবং বাকি তিন-চতুর্থাংশ সন্ধ্যায় প্রয়োগ করতে হয়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

মৎস্য

আগামী ৫ বছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন বাড়বে ১৬ শতাংশ

দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য অধিদপ্তর ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের জুন মাসে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

[৩] প্রকল্পটির পরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ২৪৬ কোটি ২৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা খরচ হবে। এ পর্যন্ত প্রকল্পের শতকরা ২০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের সব কাজ শেষ হবে।

[৪] প্রকল্পের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ এবং নবায়নযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় ও আমিষ সরবরাহে ইলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ (প্রায় ১১ ভাগ) এবং জিডিপিতে অবদান ১শতাংশ। উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকার প্রধান উৎস হচ্ছে ইলিশ।

[৫] প্রায় ৫ লাখ লোক ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। বিশ্বে ইলিশ আহরণকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে। সারা বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশ আহরিত হয় এ দেশের নদ-নদী থেকে।

[৬] এক সময় দেশের প্রায় সব নদ-নদী এবং নদীগুলোর শাখা ও উপনদীতেও প্রচুর পরিমান ইলিশ মাছ পাওয়া যেত। বন্যা বা প্লাবনের বছরে নদীর সঙ্গে সংযোগ আছে এমন সব বিল ও হাওরেও ইলিশ মাছ কখনও কখনও পাওয়া যেত। গুরুত্বপূর্ণ এ মৎস্য সম্পদ আশির দশকে সংকটে পড়ে। আশির দশকের আগে মোট মৎস্য উৎপাদনের ২০শতাংশ ছিল ইলিশের অবদান।

[৭] ২০০২-২০০৩ সালে ইলিশের অবদান দাঁড়ায় জাতীয় উৎপাদনের মাত্র ৮শতাংশ (১.৯৯ টন)। ইলিশ উৎপাদনের গতিধারায় লক্ষ্য করা যায় যে, বিগত ২০০০-২০০১ সালে ইলিশের উৎপাদন ২.২৯ টন থাকলেও ২০০১-০২ ও ২০০২-০৩ সালে তা ক্রমান্বয়ে কমে যথাক্রমে ২.২০ টন এবং ১.৯৯ টনে পৌঁছে। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট উভয় কারণেই ইলিশের উৎপাদন কমেছিলো।

[৮] এর অন্যতম কারণ হলো অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের পরিবেশগত পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে বিভিন্ন নদ-নদীতে অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ ও কালভার্ট বা ব্রিজ নির্মাণের কারণে এবং উজান হতে পরিবাহিত পলি জমার জন্য পানি প্রবাহ ও নদ-নদীর নাব্য কমছে এবং জলজ পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়ছে। ফলে ইলিশ মাছের পরিভ্রমণ পথ, প্রজননক্ষেত্র, বিচরণ ও চারণক্ষেত্র (ফিডিং এবং নার্সারি গ্রাউন্ড) দিন দিন পরিবর্তিত ও বিনষ্ট হচ্ছে এবং অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে ইলিশ মাছের উৎপাদন কমছে।

[৯] এছাড়াও বর্তমানে ক্রমাগত বর্ধিত জনসংখ্যার চাপ, কর্মসংস্থানের অভাব, অতি কার্যকরী একতন্তু বিশিষ্ট ফাঁস জাল এবং মাছ আহরণের উন্নত পদ্ধতির প্রবর্তন ও নৌকা যান্ত্রিকীকরণের ফলে সামুদ্রিক জলাশয়ে ইলিশ মাছের আহরণ মাত্রা বেড়েছে।

[১০] দেশের ইলিশ সম্পদ ধ্বংসের এবং উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম কারণটি হচ্ছে নির্বিচারে ক্ষতিকর জাল ও সরঞ্জাম দিয়ে জাটকা ও মা ইলিশ আহরণ। ইলিশের জন্য খ্যাত এক সময়ের পদ্মা, ধলেশ্বরী, গড়াই, চিত্রা, মধুমতি ইত্যাদি নদীতে বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে ইলিশ মাছ প্রায় পাওয়া যায় না বলা যেতে পারে।

[১১] এসব কারণের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নির্বিচারে অবৈধ কারেন্ট জাল, বেহুন্দি জাল, বেড় জাল, চর ঘড়া জাল, মশারী জাল, পাইজাল ইত্যাদির ব্যবহার। যদি এই ক্ষতিকর অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম নির্মূল না করা যায় তাহলে ইলিশের কাংখিত উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে।

[১২] তাই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করা। এই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নদী, মাছ বাজার, মাছ ঘাট, হাট, আড়ৎ ইত্যাদিতে অভিযান পরিচালনা করা অপরিহার্য।

[১৩] ইলিশ ও জাটকাসহ অন্যান্য ছোট মাছ, পোনা মাছ নির্বিচারে ধ্বংসের অপতৎপরতায় কেবল ইলিশ সম্পদ বিনষ্ট হচ্ছে তা নয়, উপকূলীয় ইকোসিস্টেম প্রতিকূল অবস্থায় পড়েছে এবং ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ইলিশ জেলেদের এক বিরাট অংশ বেকার হয়ে পড়ছে, তাদের পরিবার পরিচালনা কঠিন হচ্ছে। ইলিশ সম্পদ কমার কারণে এর আহরণ কমে যাওয়ায় জীবন ধারণ করাই কঠিন হয়ে পড়ছে।

[১৪] মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের আবাসস্থল দূরে ও দূর্গম হওয়ায় সরকারের সেবামূলক কার্যক্রম এবং সম্প্রসারণ কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহণ খুবই সীমিত। এছাড়াও এ অঞ্চলের জনসাধারণকে প্রায় প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয় অনেক জীবন ও সম্পদের বিনিময়ে।

[১৫] প্রাকৃতিক ঝুঁকি হ্রাসকরণ এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধান তথা আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে তাদের যৌথ উদ্যোগ বা প্রচেষ্টা খুবই দরকার। এভাবে ইলিশ সম্পদ স্থায়িত্বশীল হবে এবং উপকূলীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের অধিক ক্ষমতায়ন ঘটবে। জাতীয় মাছ ইলিশ উৎপাদনের পরিমাণ ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থায়িত্বশীল আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের ইলিশসমৃদ্ধ ২৯ জেলার ১৩৪টি উপকূলীয় উপজেলায় ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

[১৬] সমাজে জেলেদের স্থান দারিদ্র্যস্তরের অনেক নীচে। প্রতিদিন তিনবেলা খাবার জোগাড় করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য। আর যখন জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষার সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখা হয় তখন তাদের কষ্ট চরম শিখরে পৌঁছে। এই দারিদ্র্য নিরসনে প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

[১৭] প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এলাকার ৩০ হাজার জেলে পরিবার স্বাবলম্বী হবে এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য বিকল্প অয়ের পথ খুঁজে পাবে যা তাদের দারিদ্র্য কমাবে। সেই সঙ্গে জেলেসহ অন্যান্য পেশাজীবী জনসাধারণের প্রায় ৪ লাখ সুফলভোগী ইলিশ ও জাটকা রক্ষা কার্যক্রমের সুফল সম্পর্কে সচেতন হবে।

[১৮] অর্থাৎ প্রকল্প হতে দরিদ্র জেলেরা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয় প্রকারে উপকৃত হবে। ফলে প্রকল্পটি ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমিষের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।

[১৯] প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী বলেন, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ; দক্ষতা বৃদ্ধিপূর্বক জাটকা ও মা ইলিশ আহরণকারী ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং জেলেদের ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি।

[২০] প্রকল্পের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মোট ১০ হাজার জেলে পরিবারকে বৈধ জাল সরবরাহ এবং ৩০ হাজার ইলিশ ও জাটকা জেলে পরিবারকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিকল্প কর্মসংস্থানের উপকরণ বিতরণ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য কমানো হবে।

[২১] দেশের ২৯ জেলার ১৩৪ উপজেলায় প্রকল্পের এলাকা বিস্তার লাভ করায় পদ্মাসহ অন্যান্য নদীতে ইলিশের পরিমাণ বাড়বে। জেলে, মৎস্যজীবী, বিক্রেতা, আড়তদার, মাছ পরিবহনকারী অর্থাৎ ইলিশ আহরণ ও বাজারজাতকরণে সম্পৃক্ত সবাই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবে।

[২২] প্রকল্পের ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি জানান, মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়ন এবং ইলিশ জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং পদ্মা নদীসহ অন্যান্য নদীতেও ইলিশের প্রাপ্যতা বাড়বে।

[২৩] জাটকা আহরণকারী জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। জাটকা ও ইলিশ জেলেদের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টি হবে। ইলিশ অভয়াশ্রম ব্যবস্থাপনায় সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ জনবল গড়ে উঠবে এবং দেশে মাছের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং জাটকা ও ইলিশ জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে।

[২৪] মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে প্রয়োজন এক হাজার ৭২টি জনসচেতনতা সভা ও ৬০টি কর্মশালা আয়োজন; জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণে ১৬ হাজার ৬১৬টি অভিযান বা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা; মা ইলিশ সংরক্ষণে ১ হাজার ২৭৮টি সম্মিলিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা; প্রকল্প মেয়াদে ৬টি জেলার ২৩টি উপজেলার ১৫৪ টি ইউনিয়ন সংলগ্ন ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রম পরিচালনা; ৩০ হাজার জাটকা জেলে পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি; জেলে পরিবারের বিকল্প কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১৮ হাজার জন জেলেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া; প্রকল্প মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন এলাকার ৪ লাখ জেলেসহ অন্যান্য পেশাজীবী জনসাধারণের মাঝে জাটকা সংরক্ষণের গুরত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com