আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

দৈনন্দিন

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা কমাতে কী করবেন?

অনেকেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যায় ভোগেন। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এক জটিল সমস্যা। শরীরে এই অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে গেলে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়। এমনকি কিডনি অকেজো হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। সাধারণত অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার কারণে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এ ছাড়া কারও কারও ক্ষেত্রে জিনগত সমস্যার কারণেও এটা হতে পারে।

ইউরিক অ্যাসিড এমন এক ধরণের রাসায়নিক, যা খাবার হজম করার সময় শরীরে উৎপন্ন হয়। ইউরিক অ্যাসিডে ‘পিউরিনস’ নামে এক ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে যা কিছু কিছু খাবারের মধ্যে পাওয়া যায়। ইউরিক অ্যাসিড রক্তের সঙ্গে মিশে কিডনিতে পরিশোধিত হয়ে প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কিন্তু মাঝেমধ্যে শরীর এত বেশি পরিমাণের ইউরিক অ্যাসিড উৎপাদন করে যে তা ঠিক মতো পরিশোধিত হতে পারে না। তখন নানা সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমাতে বা বাড়াতে কিছু কিছু খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণে ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। সেই সঙ্গে জীবনযাপন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। যেমন-

১. রান্নায় তেল মসলা কম দিন। এছাড়া বড় মাছ, রেড মিট, দুধ, বেকন, কলিজা, চিনি এড়িয়ে চলুন। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা হলে সামুদ্রিক মাছও এড়িয়ে চলুন।

২. ফ্যাট ফ্রি দুধ খাওয়া শুরু করুন। এছাড়া পিনাট বাটার, ফল, শাকসবজি বেশি পরিমাণে খান। শস্যদানা, রুটি, আলু খেতে পারেন। এছাড়া দুধ ও চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

৩. অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে দূরে থাকুন।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম করুন। এ জন্য হাঁটা বা সাঁতার বেছে নিতে পারেন। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, হৃদরোগ থাকলে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ফলে সবসময় নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হোন।

৫. বাজারে পাওয়া জুস, কোমল পানীয়, লাচ্ছি খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এতে বিপাকে সমস্যা হয়।

৬. চায়ের বদলে কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ কালো কফি খেলে শরীর ভালো থাকে। তবে এতে যাতে কিডনির সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৭. খাদ্য তালিকায় ভিটামিন সি রাখুন। নিয়মিত লেবু বা ভিটামিন সি-যুক্ত ফল খান। ভিটামিন সি ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে।

৮. প্রোটিন হজমের পর শরীর অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে। এর থেকেও ইউরিক অ্যাসিড সৃষ্টি হয়। তাই অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ বন্ধ করুন। যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা পরিশ্রমসাধ্য কাজ করেন তারা সামান্য বেশি প্রোটিন খেতে পারেন।

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা কমাতে খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার যোগ করতে পারেন। যেমন-

১. চর্বিহীন মাংস। এক্ষেত্রে ছোট মুরগির মাংস খেতে পারেন। এছাড়া মাছ, কুসুম ছাড়া ডিম পরিমাণ মতো খাওয়া যেতে পারে।

২. বেশি আঁশযুক্ত ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় খাবার খেতে পারেন। এর জন্য লেবু চা, ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল (পেয়ারা, আমলকী, কমলা, মাল্টা), গ্রিন টি ইত্যাদি খেতে পারেন।

৩. প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন লিটার পানি পান করুন।

দৈনন্দিন

একই ছাদের নিচে থাকার স্বপ্ন

গুলশানের এক বাড়ির বারান্দায় একটা বিদেশি খাঁচা। খাঁচার ভেতর এক জোড়া টিয়াপাখি। মেয়ে টিয়াটার নাম টুকি, ছেলেটার নাম টাকি। অনেক দিন থেকেই তারা এক খাঁচার বাসিন্দা। প্রতিদিনের মতো আজও ঘুম থেকে উঠে টুকি দেখল, খাঁচার শিকগুলো কামড়ে বাঁকা করার চেষ্টা করছে টাকি।

একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে টুকি বলল, ‘ওগুলো লোহার শিক। জানোই তো নাড়াতে পারবে না। তাও রোজ টানাটানি করো কেন?’
: তোমার মুখের দিকে তাকিয়েই তো বের হওয়ার চেষ্টা করি।
: সত্যি? তুমি আমাকে নিয়ে এত ভাবো?
: হ্যাঁ। তোমাকে দেখলেই মনে হয়, এই মেয়ের সঙ্গে এখানে আর এক মুহূর্তও নয়। তখনই শিক ধরে টানাটানি করি। যদি কিছু হয়।
: আমার জায়গায় অন্য কোনো মেয়ে হলে বহু আগেই তোমাকে ছেড়ে চলে যেত।
: অন্য কোনো মেয়ে হলে কি খাঁচার মালিক খাঁচা খুলে দিত? তাই তো বলি, তোমার জন্যই এই খাঁচায় আটকে আছি!
: উফ! অসহ্য! আমার মরণ হয় না কেন?
: আমিও তো তা-ই ভাবি। সমস্যাটা কোথায়?
: তুমি আমার সঙ্গে আর একটা কথা বলবে না। নো টক।
ফলে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল টুকি-টাকির কথা। দুজনেই ভাবছে, ‘ও যদি আগে কথা না বলে তাহলে আমি বলব না।’ এরই মাঝে একবার খাঁচার দরজা খুলে খাবার দিয়ে গেল একজন। মরিচ খেতে খেতে টুকি বলল, ‘কেউ একজন দেখুক, খাবার দেওয়া হয়েছে।’ জবাবে খাঁচার অন্য পাশ থেকে বিকট শব্দে গান শুরু করল টাকি। টুকিও কম যায় না। সবগুলো মরিচ একাই সাবাড় করে চুপচাপ কান ঢেকে বসে রইল সে। একটু পর টাকি খাবার খেতে এসে দেখে, একটা মরিচও নেই! বিজ্ঞাপন

ওদের পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বার্ডসবুকে। এক ঘুঘু স্ট্যাটাসে লিখেছিল, ‘আজকালকার টিয়াগুলা বেয়াদব। মুরব্বি মানে না।’ কমেন্টে এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিল টাকি। তাকে সমর্থন দিচ্ছিল টুকি। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে টুকি-টাকি দুজনকেই ব্লক করে দেয় সেই ঘুঘু। তারপর আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে টুকি-টাকি। রাত জেগে চ্যাটিং, কত কথা…

দ্বিতীয় পর্বের খাবার আসতে এখনো অনেক দেরি। এদিকে ব্যাপক খিদে পেয়েছে টাকির। কিন্তু কিছু বলছে না। হঠাৎ পুরোনো কথা মনে পড়ে গেল তার।
: টুকি, সেই দিনগুলোর কথা তোমার মনে পড়ে?’

টুকিও আবেগে আপ্লুত হয়ে বলল, ‘হ্যাঁ। সেসব দিন আমার মনে এখন কচকচে ছোলার মতোই নতুন, টাটকা।’
: মনে আছে, আমাদের প্রথম দেখার কথা?
‘হ্যাঁ’ বলেই টুকি চোখের সামনেই দেখতে পেল সেই সব ঘটনা। ওদের পরিচয় হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম বার্ডসবুকে। এক ঘুঘু স্ট্যাটাসে লিখেছিল, ‘আজকালকার টিয়াগুলা বেয়াদব। মুরব্বি মানে না।’ কমেন্টে এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিল টাকি। তাকে সমর্থন দিচ্ছিল টুকি। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে টুকি-টাকি দুজনকেই ব্লক করে দেয় সেই ঘুঘু। তারপর আস্তে আস্তে ঘনিষ্ঠ হতে থাকে টুকি-টাকি। রাত জেগে চ্যাটিং, কত কথা। বর্তমান পাখি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়, দোয়েল ভালো গান গায়, নাকি কোকিল? পক্ষী সমাজের উন্নয়নে টিয়াদের করণীয় এসব নিয়ে আলোচনা তো ছিলই, ছিল নিজেদের সুখ-দুঃখের কথাও। একপর্যায়ে দুজনই বুঝতে পারে, তারা একে অপরকে ভালোবাসে।
ওদের আর আটকে রাখবে কে? দুজন একসঙ্গে উড়ে বেড়ায়। মরিচ-খেতে বসে মরিচ খায়। কত আনন্দ তাদের মনে! একদিন, এক গাছের নিচে পেয়ারা পড়ে থাকতে দেখে ছুটে গেল দুজনে। পেয়ারা খেতে খেতে টুকি বলল, ‘আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি টাকি।’
: আমিও।
: ইশ্, কবে যে আমরা দুজন এক ছাদের নিচে থাকতে পারব!
: চিন্তা কোরো না। খুব বেশি দেরি নেই।
সঙ্গে সঙ্গে ঝুপ করে একটা শব্দ হলো। টুকি-টাকি হতভম্ব হয়ে দেখল, তারা জালে আটকে আছে। সেই থেকে তারা দুজন একই খাঁচায় বন্দী।

একই ছাদের নিচে থাকার স্বপ্ন

স্মৃতিচারণা শেষে দীর্ঘশ্বাস ফেলল দুজনই। টুকি ডানার অগ্রভাগ দিয়ে চোখের জল মুছে বলল, ‘তোমার জন্যই আজ আমার এই অবস্থা। এসব কিছুর জন্য তুমি দায়ী। তুমিই আমাকে পেয়ারাগুলো দেখিয়েছিলে।’
: ও তাই! পেয়ারা দেখালেই খেতে হবে? ‘চলো পেয়ারা খাই’ এ কথা কে বলেছিল? তুমি! ইউ! তুমিই দায়ী।
: ইশ্, তোমার মতো বেকারের সঙ্গে না ঘুরে ওই জ্যোতিষীর টিয়ার প্রস্তাব মেনে নিলে আজ কত সুখে থাকতাম। কার ভাগ্যে কী আছে না আছে সেই খাম বাছতাম।
: আমিও যদি তোমার সঙ্গে না জড়িয়ে সার্কাসের দলে যোগ দিতাম! কত মানুষ খেলা দেখে তালি দিত! আহা, মীনা কার্টুনে মিঠু চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাবটাও তোমার জন্য ফিরিয়ে দিলাম। বিগ মিসটেক! বড় ভুল।
: তোমাকে ভালোবেসে আমিও ভুল করেছি। তোমার জন্যই আমি বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব ছেড়ে এই খাঁচায় বন্দী! কত দিন ঠোঁটে লিপস্টিক, নখে নেইলপলিশ দিয়ে বাইরে ঘুরি না!
: ভুলে যেয়ো না, তুমিই কিন্তু এক ছাদের নিচে থাকতে চেয়েছিলে। তার মানে তোমার মনে আগে থেকেই এই ষড়যন্ত্র ছিল। সব তোমার দোষ।
: তোমার।
: না তোমার।
: বেরিয়ে যাও এখান থেকে।
: তুমি বেরিয়ে যাও।
: আমার সঙ্গে কথা বলবে না। নো টক।
ফলে আবারও সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেল টুকি-টাকির কথা। বাইরে থেকে ওদের ঝগড়া দেখছিল এক তরুণ আর এক তরুণী। তরুণীটি বলল, ‘দেখেছ, ওরা কত কিউট! কি সুইট করে নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। পরস্পরকে খুব ভালোবাসে ওরা।’
: আসলেই। আমরা কবে ওদের মতো এক ছাদের নিচে থাকব?
: চিন্তা কোরো না। খুব বেশি দেরি নেই।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

ফুলের গন্ধে আসে না ক্রেতা

শারমিনের তিন মেয়ে। বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর। সবচেয়ে ছোট মেয়ের ১১ মাস। ছোট মেয়ে জন্মানোর পরই শারমিনের স্বামী কিছু না জানিয়ে কোথায় যেন চলে গেছেন। তিন মেয়েকে নিয়ে শারমিন এখন তাঁর মায়ের সংসারে আশ্রয় নিয়েছেন।

পেট চালাতে শারমিন রাজধানীর বিজয় সরণির উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে ফুল বিক্রি করেন। ক্রিসেন্ট লেকের কোনায় শারমিনের বসার জায়গা। পুরোনো একটি সিমেন্টের বস্তা বিছিয়ে ফুল নিয়ে বসেন। রজনীগন্ধার সঙ্গে গোলাপের পাপড়ি মিলিয়ে মালা গাঁথেন। পাশে বসিয়ে রাখেন তিন মেয়েকে। লেকে বেড়াতে আসা লোকজন, পথচলতি ব্যক্তি ও গাড়ির যাত্রীরা শারমিনের ফুলের ক্রেতা।

গত ১৯ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে তিনটা। বেশ কিছু মালা গাঁথা হয়েছে। ট্রাফিকসিগন্যালে বেশ কিছু গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। এক হাতে মালা, আরেক হাতে ছোট মেয়ে ফাতেমাকে কোলে নিয়ে শারমিন ছুটলেন। গাড়ির জানালার কাচে টোকা দিয়ে যাত্রীদের ফুল কেনার অনুরোধ জানালেন। কিন্তু জানালার কাচ নামে না, অনুরোধে সাড়াও মেলে না।বিজ্ঞাপন

ফুল বিক্রেতা শারমিন
ফুল বিক্রেতা শারমিন

মেয়েকে ফুটপাতে বসিয়ে শারমিন আবার মালা গাঁথতে শুরু করেন। ফুল বিক্রি না হওয়ার জন্য করোনাকে দোষারোপ করে বলতে থাকেন, ‘আগের মতো ফুল বিক্রি হয় না। করোনার লাইগা কেউ জানলাই খুলে না। ২০টা মালা বেচতে বেচতেই রাত হয়ে যায়। করোনার আগে সন্ধ্যার মধ্যে ৩০-৪০টা মালা বেচা হইত।’

শারমিনের মা রোজিনা ও ছোট বোন হাসিও বিজয় সরণিতে ফুল বিক্রি করেন। হাসি আগে স্কুলে যেত। এখন আর পড়ালেখা করে না। শারমিনরা আদাবরে থাকেন। এক কক্ষের ভাড়া ৩ হাজার টাকা। আগারগাঁওয়ের পাইকারি ফুলের বাজার থেকে কেজি দরে রজনীগন্ধা আর শ হিসেবে গোলাপ কিনে আনেন। করোনার আগে দিনে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় হলেও এখন তা ৪০০-৫০০ টাকায় নেমে এসেছে।

শারমিনদের পাশেই গোলাপ ফুল নিয়ে বসে ছিলেন শাহিনুর বেগম। শাহিনুরের মেয়ে লিমা আকতারের বয়স ১০ বছর। লিমা স্বদেশ মৃত্তিকা আদর্শ বিদ্যানিকেতনে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছে। এখন মায়ের সঙ্গে ফুল বিক্রি করে। শাহিনুর বেগমের পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। শেরেবাংলা নগরে আনিসের বস্তিতে থাকেন।

শাহিনুর বলেন, ‘জামাই একলা সংসার চালাইতে পারে না। তাই উভয় পক্ষ কাম করি। আগে উদ্যানের (চন্দ্রিমা) ভেতরে বিক্রি করতাম। এখন রাস্তায় বিক্রি করি। ফুলের ব্যবসার কোনো ঠিক নাই। কোনো দিন মোটামুটি লাভ হয়। কোনো দিন ফুল থেকে যায়।’

আগে ঢাকার পথেঘাটে হরহামেশাই ভ্রাম্যমাণ ফুল বিক্রেতা চোখে পড়ত। ইদানীং বিজয় সরণি ছাড়া আসাদগেটের আড়ং ক্রসিং, শহীদ মিনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেই ভ্রাম্যমাণ ফুল বিক্রেতা বেশি দেখা যায়। এই ফুল বিক্রেতাদের অধিকাংশই নারী ও মেয়েশিশু। নিয়মিত গোলাপ ও রজনীগন্ধা আর কালেভদ্রে কাঠগোলাপ, দোলনচাঁপা, কদমের মতো ফুল বিক্রি করেন।

নিশিরা তিন বোন ও দুই ভাই। নিশিদের বাবা আবার বিয়ে করে আলাদা থাকেন। বড় দুই ভাইয়েরও আলাদা সংসার। মা ও নিশিরা তিন বোন থাকে শনির আখড়ার জাপানি বাজার ৫ নম্বর বস্তিতে। ১৫ বছরের নিশি শহীদ মিনার এলাকায় ফুল বিক্রি করে। আর নিশির ছোট বোন ১১ বছরের বৈশাখী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকা ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ফুল বিক্রি করে।

নিশি একসময় স্কুলে যেত। পড়ালেখা বন্ধ করার পরে কিছুদিন তৈরি পোশাক কারখানাতেও কাজ করেছে। ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে নিশির সঙ্গে কথা হয়। সে বলছিল, ‘গার্মেন্টসের লোক ভালো না। তাই ছেড়ে দিছি। আগে বিক্রি ভালো ছিল। এখন খরচ বাদ দিয়ে কোনো দিন ২০০ টাকাও থাকে না।’বিজ্ঞাপন

নিশির বান্ধবী তিশা। হাড় লিকলিকে, অপুষ্ট শরীর দেখে তিশার বয়স বোঝার উপায় নেই। তবে তার বয়সও ১৫ বছর। তিন বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে তিশা বড়। বাবা রিকশাচালক। কামরাঙ্গীরচরের চান মসজিদ এলাকার বস্তিতে থাকেন। প্রতিদিন সকালে তিশার মা সানোয়ারা তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় চলে আসেন।

সানোয়ারা ছোট ছেলে নাহিদকে নিয়ে শহীদ মিনার এলাকায় বসে থাকেন। আর তিশা ও তার ছোট বোন লিপি ফুল বিক্রিতে নামে। দিন শেষে আবার তিশার বাবা তাদের নিয়ে ঘরে ফেরেন। আগের দিন কেনা ৫০টি ফুলের মধ্যে ২০টি ফুলই অবিক্রীত রয়ে গেছে। তিশা বলছিল, ‘করোনা আইসা আমাদের পেটে লাথি দিছে। কেউ ফুল কিনতে চায় না।’ করোনা যেন ঢুকে গেছে ফুলের সুগন্ধেও।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হানবলেন, অতিক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা করোনায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকের পুঁজি শেষ হয়ে গেছে। যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাঁদের দ্রুত সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। যাঁরা কাজ হারিয়েছেন বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

নানা গুণের ফুলকপি

নানা গুণের ফুলকপি

ফুলকপি। শীতে সহজলভ্য এই সবজিকে যদি বলা হয় এটি শর্ষে পরিবারভুক্ত, অনেকেই পাগল ভেবে বসবেন। এই সত্যি শুনে একটু অবাক হওয়ারই কথা। তবে এটি মূলত ব্রাসিকা বংশের একটি প্রজাতি। যার নাম ব্রাসিকা ওলারেসা। এটি আবার ‘কোল’ ফসলেরও অন্তর্ভুক্ত। প্লিনি তার উন্নত উদ্ভিদের বর্ণনা ‘ন্যাচারাল হিস্ট্রি’তে সবজিটিকে অভিহিত করে করেছেন এভাবে: ‘এক্স অমনিবাস ব্রাসিক জেনারিবাস সুভিসিমা ইস্ট সাইমা’। সাইমা নামেই প্লিনি একে তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, যা বাঁধাকপির বংশের মধ্যে সবচেয়ে সুস্বাদু।বিজ্ঞাপন

মধ্যযুগে ফুলকপির আদি রূপ সাইপ্রাস দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত ছিল এমনটাই ধারণা করা হয়। ফুলকপির এই জাতটি আবার পশ্চিম ইউরোপেও বিস্তার লাভ করেছিল, যা কখনো কখনো সাইপ্রাস কোলওভার্ট নামেও পরিচিতি পায়। ইতালিয়ানরা একে ডাকত কলি-ফাইরি নামে। চমৎকার স্বাদের জন্য এটি বাগানে বিশেষ মর্যাদা পেতে লাগল। তবে চতুর্থ লুইয়ের সময় পর্যন্ত ফুলকপি সাধারণত গ্র্যান্ড টেবিল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি। আর ভারতে তথা ভারতীয় উপমহাদেশে আসে ব্রিটিশদের হাত ধরে ১৮২২ সালে। এই হলো ফুলকপির মোটামুটি ইতিহাস।

দৃষ্টিনন্দন এই সবজিটির রয়েছে বিবিধ উপকারী গুণ
দৃষ্টিনন্দন এই সবজিটির রয়েছে বিবিধ উপকারী গুণ

কলিফ্লাওয়ার বা ফুলকপির নামটি এসেছে ইতালীয় ক্যাভলফিয়োর থেকে। যার অর্থ ‘ক্যাবেজ ফ্লাওয়ার’ বা ‘বাঁধাকপি ফুল’। তবে নামের অরিজিন কিন্তু ভিন্ন। লাতিন শব্দ কুলিস মানে বাঁধাকপি ও ফ্লাস মানে ফুল থেকে মূল শব্দটি এসেছে। আর এখন এই মৌসুমি সবজিটি নানা স্বাদে, নানা ঢঙের রান্নায় আমাদের খাবার টেবিলে পরিবেশিত হচ্ছে। ফুলকপির সাধারণ তরকারি ছাড়াও ফুলকপি ক্রাস্ট পিৎজা, ফুলকপির কোরমা, কারি মসলাদার ফুলকপি, গার্লিক পার্মেজান ফুলকপি এমন নানা বাহারি নামে খাবার হয়ে আমাদের রসনায় স্বাদ জুগিয়ে চলেছে। দৃষ্টিনন্দন এই সবজিটির রয়েছে বিবিধ উপকারী গুণও।

একনজরে ফুলকপি

  • শত শত ঐতিহাসিক ও বর্তমানে বাণিজ্যিক জাতের ফুলকপি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়। নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে প্রায় ৮০টি নর্থ আমেরিকান জাতের একটি বিস্তৃত তালিকা রয়েছে।
  • রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) থেকে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ফুলকপিকে ‘পাওয়ার হাউস অব ফ্রুটস অ্যান্ড ভেজিটেবল’ তালিকায় ২৪তম স্থানে রাখা হয়েছে।
  • সাধারণত সাদা ফুলকপিই আমরা দেখি ও খেয়ে থাকি। কিন্তু রঙের দিক থেকেও এর বিভিন্নতা আছে। কমলা, সবুজ এমনকি বেগুনি রঙের ফুলকপিও পৃথিবীতে রয়েছে।
  • রং যা-ই হোক না কেন, স্বাদ প্রায় একই। হালকা, সামান্য মিষ্টি আবার কিছুটা বাদামের মতো স্বাদেরও হয়ে থাকে। ফুলকপি হলো ক্রসিফেরাস ভেজিটেবল, যাতে প্রাকৃতিকভাবেই ফাইবার ও ভিটামিন বি অধিক পরিমাণে থাকে।

গুণাগুণ

এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ফুলকপির একটি গ্রুপ রয়েছে, যা গ্লুকোসিনোলেটস নামে পরিচিত। যখন এটি চিবানো হয় এবং হজম হয়, তখন এই পদার্থগুলো এমন যৌগে বিভক্ত হয়ে যায়, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে—এগুলো কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল প্রভাবও রয়েছে।

ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে
ফুলকপির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট ক্যানসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখে

ওজন কমানো ও হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য ফাইবার রয়েছে, কোলাইন যা স্মৃতিশক্তির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানে পূর্ণ এই ফুলকপি।

এতে বিদ্যমান উপাদানগুলো হাড়কে মজবুত করতে ও কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে উন্নত করতে সহায়তা করে।

ফুলকপি পানি ও ফাইবারের ভালো উৎস। উভয় উপাদানই কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ, সুস্থ পরিপাকতন্ত্র বজায় রাখা এবং কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়েটারি ফাইবারগুলো প্রতিরোধক্ষমতা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তাই এটি কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও স্থূলত্বের মতো প্রদাহজনিত অবস্থার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

এর উচ্চ ফাইবার গ্রহণের ফলে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাস করতে, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে এবং স্থূলতাজনিত লোকের ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ফুলকপির উচ্চ ফাইবার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে
ফুলকপির উচ্চ ফাইবার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে

ফুলকপিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সেলুলারের রূপান্তর রোধ করতে এবং ফ্রি র‌্যাডিক্যালগুলো থেকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করতে সহায়তা করে।

এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলোর মধ্যে একটি হলো ইনডোল-৩-কার্বিনল বা আইথ্রিসি, সাধারণত ক্রসিফেরাস শাকগুলোতে যেমন বাঁধাকপি, ব্রোকলি ও ফুলকপিতে পাওয়া যায়। এটি পুরুষ ও মহিলাদের স্তন এবং প্রজনন ক্যানসারের ঝুঁকি হ্রাস করতে কার্যকর।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

জানতে হবে পাকস্থলীর ক্যানসার সম্পর্কেও

বিশ্বব্যাপী মরণব্যাধিগুলোর মধ্যে একটি হলো ক্যানসার। আর পাকস্থলীর ক্যানসার তার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশেও এটি মৃত্যুহারের জন্য দায়ী রোগসমূহের তালিকায় রয়েছে। তাই এ ক্যানসার যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রতিরোধ করা যায়, সে জন্য এর উপসর্গ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখতে হবে। কারণ পাকস্থলীর ক্যানসার খুবই মারাত্মক। তবে আশার কথা হলো, প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করলে জটিলতা এড়ানো যায়। আর এর জন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান (ডানে) ও ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (বামে)
ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলামের সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান (ডানে) ও ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (বামে)

এই লক্ষ্যে এসকেএফ অনকোলজি নিবেদিত ‘বিশ্বমানের ক্যানসার চিকিৎসা এখন বাংলাদেশে’ অনুষ্ঠানের চতুর্দশ পর্বে অতিথি হিসেবে যোগ দেন ডা. এ টি এম কামরুল হাসান, এমডি (মেডিকেল অনকোলজি), ক্যানসার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা এবং ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, এমডি (মেডিকেল অনকোলজি), সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী, ঢাকা। এ অনুষ্ঠানের আলোচ্য বিষয়: পাকস্থলীর ক্যানসার।

অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রথম আলো ও এসকেএফের ফেসবুক পেজে সম্প্রচারিত হয়। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মো. শাহরিয়ার ইসলাম।বিজ্ঞাপন

ডা. মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিসংখ্যান অনুযায়ী আমাদের দেশে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোতে ৬৮-৭০ বছর বয়সে ক্যানসার দেখা দেয় এবং আমাদের দেশে ৫০-৫২ বছর বয়সেই তা দেখা দেয়। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে, তবে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি। পৃথিবীর সব দেশে এর ব্যাপ্তি সমান নয়, ঝুঁকির ক্ষেত্রেও তারতম্য রয়েছে। বিভিন্ন দেশের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার ভিন্নতার কারণে এটি ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে আশার কথা হলো, পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর হার আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে।

পাকস্থলীর ক্যানসার আর্লি স্টেইজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাসিম্পটমেটিক হয়ে থাকে। অর্থাৎ তেমন একটা উপসর্গ প্রকাশ পায় না। অথবা উপসর্গ থাকলেও সেটি খুব সামান্য হয়ে থাকে। মূলত পেটে ব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, গলা জ্বলা, বমি বমি ভাব কিংবা অ্যাসিডিটি হতে পারে। এ ছাড়া অ্যাডভান্সড স্টেজে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ধীরে ধীরে ওজন কমে যাওয়া। এ ছাড়া ক্ষুধামান্দ্য, অল্প খেলেই ভরপেট অনুভূত হওয়া, বমিভাব বা বমি হওয়া, বমির সঙ্গে রক্ত আসা, মলের সঙ্গে কালচে রক্ত আসা প্রভৃতি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। আর ক্যানসার যদি লিভারে ছড়িয়ে যায় সে ক্ষেত্রে জন্ডিস হতে পারে। আবার পেটের ভেতরে পানি আসতে পারে। অনেকের ক্যানসার ফুসফুসেও ছড়িয়ে যায়। তখন কাশি হতে পারে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এটি হাড় কিংবা মস্তিষ্কেও ছড়িয়ে যেতে পারে।

আমাদের দেশে রোগীরা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে এ-জাতীয় রোগকে অবহেলা করে থাকেন। অনেকেই ঠিকমতো অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ না করে কাছাকাছি কোনো ফার্মেসি থেকে অনুমান করে কোনো ওষুধ খাচ্ছেন, যার ফলে রোগ আরও জটিল হতে থাকে। তবে বর্তমানে আমাদের দেশেও পাকস্থলীর ক্যানসারের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তাই উপসর্গ দেখামাত্রই দ্রুত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে।

ডা. এ টি এম কামরুল হাসান বলেন, ক্যানসার পুরোপুরিভাবে প্রতিরোধ করা না গেলেও এর ঝুঁকির কারণগুলো জানা থাকলে আমরা সচেতন হতে সক্ষম হব। ফলে এর ঝুঁকি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পেতে পারব। এর মধ্যে কিছু রয়েছে যার ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ নেই, আবার কিছু রয়েছে যেগুলো আমরা জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিবর্তন করতে পারি। সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষেরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস্ট্রিক আলসারে আক্রান্ত হওয়া এবং ওষুধ সেবন করা এর অন্যতম কারণ। এসব রোগীদের পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে। জেনেটিক কারণে এ ক্যানসার হতে পারে।

এছাড়া একটি বড় কারণ ধূমপান। এ ছাড়া পান, জর্দা খেলেও এ রোগের ঝুঁকি থাকে। কারও পাকস্থলীর অর্ধেক অংশ কোনো রোগের কারণে কেটে ফেলা হলে রোগীর পাকস্থলীতেও ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া অতিরিক্ত মদ্যপানে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। ক্যানসারের সঙ্গে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন যেমন- প্রসেসড ফুডের পরিহার করে তাজা ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং নিয়মমাফিক চলাফেরার মাধ্যমে ক্যানসার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

দৈনন্দিন

শীতের দিনে গোসলে গরম পানি

শীতের দিনে গোসলে গরম পানি

দিনের পর দিন গোসল না করে থাকা লোকের সংখ্যা বাড়ে শীতে। পানিকে ভয় পেয়ে কেউ কেউ ঠিকমতো মুখটাও ধুতে চান না। গরমকালে ফ্রিজের চেম্বার ভরা ঠান্ডা পানি না পেয়ে যিনি পুরো বাড়ি মাথায় তুলে ফেলেন, তিনিও শীতে এড়িয়ে চলেন ঠান্ডা পানি। তবে শীতকালে যাঁরা নিয়মিত গোসল করেন, তাঁরা অনেকেই ঠান্ডার সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে নেন।

কিন্তু শীতে গরম পানিতে গোসল করা কি ঠিক? এই প্রশ্ন থাকে অনেকের মনে। ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক আফজালুল করিম বলছেন, ‘শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলে সমস্যা নেই। তবে সেটা খুব গরম না। যারা গরম পানিতে গোসল করবে, তারা অবশ্যই কুসুম গরম পানি নেবে। বেশি গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের চামড়ার ওপর তার প্রভাব পড়বে। ত্বক হয়ে পড়বে খসখসে। তাই গোসলের পর ব্যবহার করতে হবে লোশন।’

নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে
নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে

গরম পানিতে গোসলের সময় আর্দ্রতাযুক্ত সাবান ব্যবহার করলে ত্বক স্বাভাবিক থাকবে। নিয়মিত গরম পানি মাথায় দিলে চুল রুক্ষ হওয়ার ভয় থাকে। তাই গোসলের সময় আর্দ্রতাযুক্ত শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুলে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। চুল থাকবে ঝরঝরে।বিজ্ঞাপন

ঢাকার ইগলস জিমের ফিটনেস বিশেষজ্ঞ শিমুল হাসান বলেন, শীতের দিনে দুপুরে গোসল করতে পারলে অনেকের কাছেই শীতের প্রকোপ কিছুটা কম অনুভূত হয়। এখন যাঁরা শরীরচর্চা করেন, তাঁদের ঠান্ডা পানিতে গোসল না করাই ভালো। কেননা বেশি ঠান্ডা পানিতে পেশি (মাসল) সংকুচিত হয়ে যায়। শরীরচর্চার পর গরম পানিতে গোসল করে নিলে পেশি ঠিক থাকবে। অনেক পারলার বা জিমে স্টিম বাথ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সময়ে স্টিম বাথ দারুণ আরামদায়ক। শীতে নানা ধরনের চর্মরোগ দেখা দেয়। বাতাসের ধুলাবালু শরীরে লেগে থাকলেও ত্বকের ক্ষতি হয়। স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।

শীতে স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।
শীতে স্টিম বাথ নিলে ত্বক থাকবে মোলায়েম, কোমল।

শীতের দিনে গরম পানিতে গোসলের আরও কিছু পরামর্শ দিলেন শিমুল হাসান:
* শরীরচর্চার ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানিতে গোসল করবেন।
* গরম পানিতে গোসলে আরাম পেয়ে বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না।
* স্নানঘরে গিজারের সুবিধা থাকলে ৩০ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার পানিতে গোসল সেরে নিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন
বিজ্ঞাপন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com