আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন

আল-আকসা মসজিদ বা বাইতুল মুকাদ্দাস নামে পরিচিত। জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত। ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র স্থান। মসজিদটিতে ২টি বড় এবং ১০টি ছোট গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজগুলো স্বর্ণ, সীসা ও পাথর দ্বারা নির্মিত। এর আয়তন ১ লাখ ৪৪ হাজার বর্গমিটার। ৭৪৬ সাল এবং ১০৩৩ সালে ভূমিকম্পের কারণে মসজিদটি দুইবার ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

আলোকিত স্থাপনা: আল-আকসা মসজিদ
আলোকিত স্থাপনা: আল-আকসা মসজিদ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন

অনুগ্রহ করে মন্তব্য করতে লগ ইন করুন লগ ইন

Leave a Reply

ইসলাম

কন্যাশিশুকে যে ৬ গুণে গড়ে তোলা জরুরি

নারীর জন্য ৬টি গুণ খুবই জরুরি। শিশু বয়স থেকে ধীরে ধীরে এ গুণগুলোর প্রতি আকৃষ্ট করানো বা সুশিক্ষা দেওয়া পরিবারের সদস্যদের একান্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ কন্যাশিশুকে ছোট বয়স থেকে বিশ্বনবির উপদেশ মোতাবেক ৬ গুণে গড়ে তুলতে পারলেই তারা আদর্শ নারীতে পরিণত হবে।

নারীর আত্ম-মর্যাদাবোধ ও শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুন্ন রাখতে ৬টি গুণের ভূমিকা খুব বেশি। যে গুণগুলো অর্জনে উপকৃত হবে পুরো পরিবার। পরিবার থেকে সমাজ। সমাজ থেকে পুরো দেশ ও বিশ্ব। কন্যাশিশু ও নারীদের জন্য অবস্থানগত কারণের এ উপদেশগুলো অর্জন করাও খুব সহজ। সেই গুণগুলো কী?

কন্যাশিশুর জন্ম অপমানের নয় বরং সম্মান ও মর্যাদার। তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও সম্মানের ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বনবি। তাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণে নারীর প্রতি সুবিচার করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ‘তোমরা নারীদের কল্যাণের ব্যাপারে অসিয়ত (নির্দেশ) গ্রহণ করো।’ নারী জাতির জন্য প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে বিশেষ নসিহত হলো-

১. তাকওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা

তাকওয়া মানে আল্লাহর ভয়। কন্যাশিশু বুঝার বয়সে উপনীত হলে তাকে তাকওয়া বা আল্লাহকে ভয় করার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কন্যাশিশুর অন্তরে তাকওয়া বা আল্লাহর গুণ অর্জিত হলে উপকৃত হবে পুরো পরিবার। তাকওয়ার গুণে কন্যাশিশু থাকবে নিরাপদ।

আল্লাহকে ভয় করলেই নারীরা জীবনের যাবতীয় স্খলন ও প্ররোচনা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবে। তাকওয়ার গুণই নারীরা শৃঙ্খলাপূর্ণ আদর্শ জীবনে অনুপ্রাণিত হয়। আল্লাহর ভয়ে যাবতীয় পাপ-অনাচার, অন্যায়-অবিচার ও মন্দ-নিন্দনীয় কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের তাকওয়া অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, ‘হে আয়েশা! তোমার জন্য আবশ্যক হলো- আল্লাহর ভয় অর্জন করা।’ (তিরমিজি)

তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়ের ভিত্তিতেই ইসলামে মানুষের গুণ ও মর্যাদা নির্ধারিত হয়। এ সম্পর্কে একাধিক আয়াতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন-

یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنَّا خَلَقۡنٰکُمۡ مِّنۡ ذَکَرٍ وَّ اُنۡثٰی وَ جَعَلۡنٰکُمۡ شُعُوۡبًا وَّ قَبَآئِلَ لِتَعَارَفُوۡا ؕ اِنَّ اَکۡرَمَکُمۡ عِنۡدَ اللّٰهِ اَتۡقٰکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰهَ عَلِیۡمٌ خَبِیۡرٌ

 ‘হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি । পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে; যাতে তোমরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি মর্যাদাসম্পন্নযে আল্লাহকে বেশি ভয় করে।  আল্লাহ সবকিছু জানেনসব কিছুর খবর রাখেন। ‘ (সুরা হুজরাত : আয়াত ১৩)

وَ مَا تَفۡعَلُوۡا مِنۡ خَیۡرٍ یَّعۡلَمۡهُ اللّٰهُ ؕؔ وَ تَزَوَّدُوۡا فَاِنَّ خَیۡرَ الزَّادِ التَّقۡوٰی ۫ وَ اتَّقُوۡنِ یٰۤاُولِی الۡاَلۡبَابِ

‘তোমরা যে সৎকাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। তোমরা পাথেয় অর্জন করো। নিশ্চয়ই সর্বোত্তম পাথেয় তাকওয়া বা আল্লাহর ভয়। তোমরা আমাকে ভয় করো হে জ্ঞানী ব্যক্তিগণ!’ (সুরা বাকারাহ : আয়াত : ১৯৭)

গুনাহ থেকে বিরত রাখা

জন্মের পর থকে সব শিশুর পরিচর্যাই করে পরিবার। সময়ের পরিক্রমায় বাবা, ভাই, স্বামী ও পুত্রই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করে থাকে। সব নারীর জন্যই তাদের বাবা, ভাই, স্বামী ও পুত্রের কাছ জিম্মায় থাকা বৈধ। যদি না কোনো কারণে তা নিজ থেকে হারাম করে না নেয়।

নারীরা শিশু বয়স থেকে জীবনের শেষ পর্যন্ত সময়ের পরিক্রমায় সব সময় হালাল রিজিক খায়। আর তাতে নারীরা নিজে যেমন গুনাহমুক্ত থাকে তেমনি নারীদের মাধ্যমে যারা লালিত-পালিত হয় তারাও গুনাহমুক্ত জীবন পায়। এ কারণেই পুরুষের তুলনায় নারীদের মুক্তি ও সফলতা সহজ। তাই কন্যাশিশুকে ছোট বয়স থেকেই ছোট ছোট মন্দ স্বভাব ও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখার পাশাপাশি গুনাহের কাজের ব্যাপারে নিরুৎসাহিত করা জরুরি।

নারীদের পরচর্চা, পরশ্রীকাতরতা ও হিংসার প্রবণতা, সময় ও অর্থ অপচয়, টিভি ও সিরিয়ালের মতো অর্থহীন কাজে নারীরা সবচেয়ে বেশি আসক্ত। ছোট বয়স থেকে এই বদগুণ থেকে বিরত রাখতে পারলে পরিণত বয়সে নারীর জন্য গুনাহমুক্ত জীবন কাটানো সহজ।

এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশনা ও উপদেশ হলো- যেসব ছোট ছোট মন্দ অভ্যাস ও পাপকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যেগুলোর পরিণতি খুবই ভয়াবহ। কন্যাশিশুকে ওই বয়স থেকে ছোট ছোট গোনাহগুলো পরিহার অভ্যস্ত করানো জরুরি।’ এসেছে-

> হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হে আয়েশা, আমল বিনষ্টকারী বিষয় (ছোট গুনাহ) থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আল্লাহ তাআলা তা প্রত্যাশা করেন।’ (ইবনে মাজাহ)

> হজরত আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘আজ তোমরা কোনো কোনো কাজকে চুলের চেয়ে ছোট (তুচ্ছ অর্থে) মনে করো, অথচ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগে তাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ মনে করতাম।’ (বুখারি)

৩. নামাজে অভ্যস্ত করা

ঘরকে মসজিদে রূপান্তর করার অন্যতম হাতিয়ার নারী। কন্যাশিশুকে তার মা নামাজে অভ্যস্ত করালে বড় হয়ে সে নিজ ঘরকে নামাজের পরিবেশে পরিণত করতে সক্ষম হবে। ঘরকে মসজিদে রূপান্তর করতে পারবে। শুধু প্রয়োজন নারীর ইচ্ছা শক্তি। এ কারণেই ইসলাম নারীকে ঘরে যথা সময়ে নামাজ আদায়ে উৎসাহিত করেছে। হাদিসে এসেছে-

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন নারী যদি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেরমজানের রোজা রাখেইজ্জত-আব্রু রক্ষা করেস্বামীর নির্দেশ মান্য করেতবে জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করতে পারবে।’ (ইবনে হিব্বান)

৪. সংযত চলাফেরায় অভ্যাস করানো

কন্যাশিশুকে ছোটবেলা থেকেই শালীন ও মার্জিত চলাফেরায় অভ্যস্ত করানো খুবই জরুরি। তবেই বড় হলে সে শালিন ও মার্জিতভাবে জীবন পরিচালনা করবে। চলাফেরায় সংযত হবে। এ কারণেই নারীর নিজস্ব ভূবন ছাড়া ঘরের বাইরে নারীসুলভ সৌন্দর্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। ইসলামের নির্দেশনাও এমন।

তাই শিশু বয়স থেকে অশ্লীল পোশাক ও চাল-চলন পরিহার করা নারীর জন্য আবশ্যক। শুধু ইসলাম নয়, পৃথিবীর সব ধর্মই নারীকে শালীন ও সংযত পোশাক পরার নির্দেশ দেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি এ মর্মে আয়াত নাজিল হয়েছে-

وَ قَرۡنَ فِیۡ بُیُوۡتِکُنَّ وَ لَا تَبَرَّجۡنَ تَبَرُّجَ الۡجَاهِلِیَّۃِ الۡاُوۡلٰی وَ اَقِمۡنَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتِیۡنَ الزَّکٰوۃَ وَ اَطِعۡنَ اللّٰهَ وَ رَسُوۡلَهٗ ؕ اِنَّمَا یُرِیۡدُ اللّٰهُ لِیُذۡهِبَ عَنۡکُمُ الرِّجۡسَ اَهۡلَ الۡبَیۡتِ وَ یُطَهِّرَکُمۡ تَطۡهِیۡرًا

আর তোমরা নিজ ঘরে অবস্থান করবে এবং প্রাচীন জাহেলী যুগের প্রদর্শনীর মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না। আর তোমরা সালাত কায়েম কর, যাকাত প্ৰদান কর এবং আল্লাহ ও তার রাসূলের অনুগত থাক। হে নবি-পরিবার! আল্লাহ তো শুধু চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করতে।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৩৩)

وَ قُلۡ لِّلۡمُؤۡمِنٰتِ یَغۡضُضۡنَ مِنۡ اَبۡصَارِهِنَّ وَ یَحۡفَظۡنَ فُرُوۡجَهُنَّ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنۡهَا وَ لۡیَضۡرِبۡنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلٰی جُیُوۡبِهِنَّ ۪ وَ لَا یُبۡدِیۡنَ زِیۡنَتَهُنَّ اِلَّا لِبُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اٰبَآئِهِنَّ اَوۡ اٰبَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآئِهِنَّ اَوۡ اَبۡنَآءِ بُعُوۡلَتِهِنَّ اَوۡ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اِخۡوَانِهِنَّ اَوۡ بَنِیۡۤ اَخَوٰتِهِنَّ اَوۡ نِسَآئِهِنَّ اَوۡ مَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُهُنَّ اَوِ التّٰبِعِیۡنَ غَیۡرِ اُولِی الۡاِرۡبَۃِ مِنَ الرِّجَالِ اَوِ الطِّفۡلِ الَّذِیۡنَ لَمۡ یَظۡهَرُوۡا عَلٰی عَوۡرٰتِ النِّسَآءِ ۪ وَ لَا یَضۡرِبۡنَ بِاَرۡجُلِهِنَّ لِیُعۡلَمَ مَا یُخۡفِیۡنَ مِنۡ زِیۡنَتِهِنَّ ؕ وَ تُوۡبُوۡۤا اِلَی اللّٰهِ جَمِیۡعًا اَیُّهَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ لَعَلَّکُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ

‘বিশ্বাসী নারীদের বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে। তারা যা সাধারণত প্রকাশ থাকে তা ব্যতিত তাদের সৌন্দর্য যেন প্রদর্শন না করে; তারা তাদের বুক যেন মাথার কাপড় দ্বারা ঢেকে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী পিতা, শ্বশুর, ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে,বোনের ছেলে ও তাদের নারীগণ, নিজ অধিকারভুক্ত দাস, যৌনকামনা রহিত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্বন্ধে অজ্ঞ বালক ব্যতিত কারও কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। আর তারা যেন এমন জোরে চলাফেরা না করে, যাতে তাদের গোপন আভরণ প্রকাশ পেয়ে যায়। হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার ‘ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

৫. অল্পে সন্তুষ্টি

ছোটবেলা থেকে অল্পে সন্তুষ্টির গুণ অর্জন করা সবার জন্য জরুরি। আর নারীর অল্পে সন্তুষ্টির অন্যতম একটি দিক হলো, সামর্থ্য ও চেষ্টার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করা। কোনো কন্যাশিশুর ছোটবেলায় এ গুণ অর্জিত হলে বড় হয়ে মুমিন নারী স্বামীর আন্তরিকতা ও চেষ্টাকে সম্মান করবে। তার প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করবে। হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ওই নারীর প্রতি আল্লাহ তাআলা রহমতের দৃষ্টিতে তাকান নাযে নারী স্বামীর কৃতজ্ঞতা আদায় করে না। অথচ সে তার প্রতি মুখাপেক্ষী।’ (নাসাঈ)

বর্তমান সময়ে এমন অনেক ঘটনাও সংঘটিত হয়ে যে, কোনো কোনো নারী সমাজের অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে স্বামীর ব্যাপারে দুঃখ ও হতাশা প্রকাশ করে। অনেক সময় তাদের অন্যায় চাহিদা পূরণের জন্য স্বামীকে সুদ-ঘুষসহ অন্যায় পথে, পাপ কাজে জড়াতে বাধ্য করা হয়।

মনে রাখা জরুরি

সুখী জীবনের মূলমন্ত্র অল্পে সন্তুষ্ট থাকা। ইসলাম প্রত্যেককেই অল্পে সন্তুষ্ট থাকার শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষাও এমনই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাগতিক বিষয়ে নিম্নস্তরের দিকে, পরকালীন বিষয়ে উচ্চস্তরের দিকে তাকিয়ে অনুপ্রাণিত হতে বলেছেন। তাই এসব ক্ষেত্রে নারীকে সহনশীল, অল্পে সন্তুষ্টি ও ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ দেয় ইসলাম। এ কারণে ইসলামের সোনালী যুগের নারীরা তাদের স্বামীদের বলতেন-

তোমরা হারাম উপার্জন থেকে বেঁচে থাকো। কেননা আমরা ক্ষুধার যন্ত্রণা সহ্য করতে পারবকিন্তু জাহান্নামের আগুন সহ্য করতে পারব না।’ (ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন)

৬. সুখ-দুঃখের অংশীদারের শিক্ষা

সুখ যেমন নারীর জন্য খুব জরুরি তেমনি দুঃখ ছাড়া সুখ প্রকাশ পায় না। ছোটবেলা থেকেই সব শিশুকেই সুখ ও দুঃখের বাস্তবতার শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক। তবেই পরিণত বয়সে নিজের কিংবা অন্যের সুখ-দুঃখের মূল্যয়ন করতে পারবে। তবে নারীদের জন্য সুখ-দুঃখের শিক্ষা গ্রহণ সবচেয়ে বেশি জরুরি। যেন তারা পুরো পরিবারের পরস্পরের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়। স্বামীর সংকটে স্ত্রী, স্ত্রীর সংকটে স্বামী পাশে থাকবে, এটাই ইসলামের নির্দেশনা। এর অনন্য দৃষ্টান্ত প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং আম্মাজান খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহা।

আম্মাজান হজরত খাদিজাতুল কুবরা রাদিয়াল্লাহু আনহা স্বামীর সুখে-দুঃখে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণেই তাঁর মৃত্যুর পরও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কৃতজ্ঞতাচিত্তে তাঁর কথা বেশি বেশি স্মরণ করতেন। এমনকি তাঁর জীবদ্দশায় কাউকে বিয়েও করেননি। তাঁর মৃত্যুর পরও তিনি তাঁর সন্তানদের প্রতি পরিপূর্ণ মমতা ও ভালোবাসা বজায় রেখেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আম্মাজন খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আহা মৃত্যুর পর তাঁর কথা এত বেশি স্মরণ করতেন যে, অন্য স্ত্রীরা ঈর্ষাকাতর হয়ে যেতেন।

একবার হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা ঈর্ষা প্রকাশ করলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বলেন, ‘মানুষ যখন আমাকে অস্বীকার করেছিল তখন সে আমার প্রতি ঈমান এনেছেমানুষ যখন আমাকে মিথ্যাবাদী বলেছে তখন সে আমাকে সত্যাবাদী বলেছেমানুষ যখন আমাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছে তখন সে আমাকে তার সম্পদ দিয়ে সহযোগিতা করেছে। আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাকে সন্তান দান করেছেন।’ (ফাতহুল বারি)

সুতরাং প্রতিটি পরিবারের দায়িত্বশীলদের উচিত, নিজেদের পরিবারের সব শিশুকেই উল্লেখিত ৬টি গুণে অভ্যস্ত করানো। বিশেষ করে এ ৬ গুণ অর্জনে কন্যাশিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। কারণ নারীরাই একটি আদর্শ জাতি গড়ার কারিগর।

আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার সব বয়সের নারী-পুরুষকে কোরআন-সুন্নাহর উপদেশ ও গুণগুলো নিজেদের মধ্যে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

অর্থ-উচ্চারণসহ সুরা আল-কাউছারের ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য

সুরা আল-কাউছার। কোরআনুল কারিমের সবচেয়ে ছোট সুরা। আর এ সুরা নাজিলে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হৃদয়ের আনন্দ মুখের হাসিতে ফুটে ওঠে। তিন আয়াতের ছোট্ট সুরাটিতে নেয়ামতের ঘোষণা, কৃতজ্ঞতায় নামাজ ও কোরবানির নির্দেশ এবং তার সঙ্গে শত্রুতা পোষণকারীদের অবস্থা তুলে ধরা হয়েছে। সুরাটি ছোট হলেও এর ফজিলত ও বৈশিষ্ট্য অনন্য।

উচ্চারণ ও অর্থসহ সুরা আল-কাউছার

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ

ইন্না আ’ত্বাইনাকাল কাওছার।

নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউছার দান করেছি।

فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ

ফাসাল্লি লিরাব্বিকা ওয়ানহার।

অতএব (কৃতজ্ঞতা প্রকাশে) আপনার রবের জন্য নামাজ পড়ুন এবং কোরবানি করুন।

إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ

ইন্না শানিআকা হুওয়াল আবতার।

নিশ্চয়ই আপনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই হলো- (লেজকাটা) নির্বংশ।

সুরা আল-কাউছার পবিত্র নগরী মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সুরাটির আয়াত সংখ্যা ৩। সুরাটিতে রয়েছে মহা পুরস্কারে ঘোষণা। তাইতো সুরাটির নামকরণ করা হয়েছে ‘কাউছার’। যার অর্থ প্রভূত কল্যাণ। সুরাটিতে ‘নাহার’ও বলা হয়। ছোট এই সুরাটির তেলাওয়াতে অসংখ্য সাওয়াব ও ফজিলত রয়েছে।

সুরাটির বৈশিষ্ট্য ও মূল বক্তব্য

আল্লাহ তাআলা যখন সুরা কাউছার নাজিল করেন ওই মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক আনন্দিত হন। সাহাবায়ে কেরাম তাঁর পবিত্র চেহারা মোবারকে নূরানি হাসির ঝলক দেখতে পান।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনেক বেশি কল্যাণ দানের ঘোষণা এসেছে এ সুরায়। আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করেছেন। কেয়ামতের দিন তাঁকে হাউজে কাউছার দান করার কথা বিশেষভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ হাউজে কাউছারের পানীয় হবে দুধেরচেয়ে সাদা এবং মধুরচেয়ে অধিকতর মিষ্ট। একবার যে হাউজে কাউছারের পানীয় পান করবে; সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।

আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে প্রিয় নবির প্রতি নামাজ আদায় করার এবং কোরবানি করার নির্দেশও এসেছে এ সুরায়।

এছাড়া হজরত রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছেলে সন্তানের ইন্তেকালের পর অবিশ্বাসীরা তাঁর প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণ ও মন্তব্য করার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ শেষ আয়াতে ঘোষণা করেছেন, ‘হে রাসুল! আপনার শত্রুরা হবে নির্বংশ, লেজকাটা। তারা ধ্বংস হবে; তাদের নাম-নিশানাও থাকবে না।

সুরা কাউছারের শানে নুজুল

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনো করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মাঝে বসা ছিলেন। তিনি কিছুক্ষণ তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। এরপর তিনি মুচকি হাসলেন।

আমরা আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনার মুচকি হাসার/খুশি হওয়ার কারণ কী?

তিনি বললেন, এই মাত্র আমার প্রতি একটি সুরা নাজিল হয়েছে। তারপর তিনি বিসমিল্লাহ পড়ে সুরাটি তেলাওয়াত করলেন। এরপর বললেন, ‘তোমরা কি জান কাউছার কী?

তখন আমরা বললাম, আল্লাহ এবং তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। তখন তিনি বললেন-

‘কাউছার’ হলো জান্নাতের একটি নহর। এতে অনেক কল্যাণ আছে। যা আল্লাহ তাআলা আমাকে দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেয়ামতের দিন ঐ হাউজে কাউছারের পাশেই আমার উম্মত অবতরণ করবে। হাউজে কাউছারের পাত্রের সঙখ্যা হবে আসমানের নক্ষত্রের সমান। কোনো কোনো বান্দাকে হাউজে কাউছার থেকে টেনে সরিয়ে দেওয়া হবে; তখন আমি আরজ করবো, হে পরওয়াদেগার! এ ব্যক্তি আমার উম্মত। তখন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে হুকুম হবে, হে রাসুল! আপনি অবগত নন যে, আপনার পরে এ ব্যক্তি দ্বীনে কী কী নতুন বিষয় (বেদাআত) বের করেছে।’ (মুসলিম)

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘কাউছার’ সেই অজস্র কল্যাণ যা আল্লাহ তাআলা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করেছেন। কাউছার জান্নাতের একটি প্রস্রবণের নাম। এটি একটি নহর যা বেহেশতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দান করা হবে।’

সুরা আল-কাউছার তেলাওয়াতের অন্যতম একটি ফজিলত হচ্ছে- এটি তেলাওয়াত করলে শত্রুর অনিষ্টতা থেকে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষকে রক্ষা করবেন। নামাজের সঙ্গে পড়ার লক্ষ্যেও ছোট এই সরা শিখে নেয়া অনেক সহজ।

সুরা কাউছারের আমল

সুরা কাউছার যদি কেউ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এক হাজার বার তেলাওয়াত করে এবং এক হাজার বার দরূদ পড়ে; তবে আশা করা যায়; স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জেয়ারত পেয়ে ধন্য হবে মুমিন।’ (তাফসিরে নুরুল কোরআন)

স্বপ্নে সুরা কাউছারের তেলাওয়াতের তাবির

যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখবে যে, সে সুরা কাউছার তেলাওয়াত করছে; তবে সে নেক আমল করা পছন্দ করবে এবং অধিকাংশ সম নেক আমলেই রত থাকবে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে অর্থসহ সঠিক উচ্চারণে সুরাটি শিখে নেওয়ার তাওফিক দান করুন। সুরার বৈশিষ্ট্য, সুসংবাদ, ফজিলত ও আমলগুলোর উপকারিতা পাওয়ার তাওফিক দান করুন। কোরআন অনুযায়ী জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মুমিনের জন্যই আল্লাহর সাহায্য সুনিশ্চিত

আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সাহায্য পাওয়ার জন্য আল্লাহর বিধানের হেফাজতের বিকল্প নেই। মানুষ যখনই আল্লাহর বিধান মেনে চলবে, তার কাছে সাহায্য চাইবে, তার সন্তুষ্টি কামনা করবে ঠিক তখনই আল্লাহ মানুষকে সাহায্য করবেন। মানুষের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক হাদিসে তাঁর এক প্রিয় সাহাবিকে জীবন ঘনিষ্ঠ এমন উপদেশ দিয়েছেন। যা উম্মতে মুসলিমার জন্য খুবই জরুরি। জীবন ঘনিষ্ঠ উপদেশ সমৃদ্ধ হাদিসটি কী?

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আমি একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে (আরোহী অবস্থায়) ছিলাম। তিনি বললেন– হে বালক! আমি তোমাকে কিছু কালেমা শিখিয়ে দিচ্ছি। (তাহলো)-

১. ‌আল্লাহর বিধানের হেফাজত করবে। তাহলে তিনি তোমার হেফাজত করবেন।

২. আল্লাহর সন্তুষ্টির ব্যাপারে সব সময় খেয়াল রাখবে। তাহলে তুমি (সমস্যার সমাধানে) আল্লাহকে তোমার সামনে পাবে।

৩. আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবে; যখন (তোমার) সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

( কারণ, গোটা দুনিয়ার) সব লোক যদি তোমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয়তবে আল্লাহ তাআলা তোমার তকদিরে যা লিখে রেখেছেন; সে টুকু ছাড়া অন্য কোনো (বেশি) উপকার কেউই করতে পারবে না।

আর যদি সব লোক একত্রিত হয়ে তোমার ক্ষতি করার চেষ্টা করে, তাতেও আল্লাহ তাআলা তোমার তকদিরে যা নির্ধারণ করে রেখেছেনতার বেশি কোনো ক্ষতিও করতে পারবে না। কেননা কলম উঠিয়ে নেয়া হয়েছেকাগজগুলো শুকিয়ে গেছে। (তিরমিজি)

হাদিসের আলোচনা থেকে এ বিষয়টি সুস্পষ্ট যে, মহান আল্লাহর ভয় যার মধ্যে যতবেশি হবে; সে ততবেশি সফল হবে। হাদিসের আলোকে জীবন পরিচালনা করতে পারলেই আল্লাহর সাহায্য সুনিশ্চিত। তাইতো কবি গেয়ে ওঠেছেন-

‘যাদের হৃদয়ে আছে আল্লাহর ভয়, তারা কভু পথ ভুলে যায়; আল্লাহর প্রেম ছাড়া এই দুনিয়ায় কারো কাছে কোনো কিছু চায় না।’

সুতরাং ভয় করতে হবে আল্লাহকে। আল্লাহর বিধান অনুযায়ী চলতে হবে। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজ করতে হবে। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। আল্লাহর প্রেম ও ভালোবাসাই হবে বান্দার প্রধান কাজ। তবেই বান্দা দুনিয়া ও পরকালে হবে সফল।

মনে রাখতে হবে

কোনোভাবেই কোনো বিষয়ে কারো মুখাপেক্ষী হওয়ার সুযোগ নেই। সব বিষয়ে সব সময় মহান আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে। আর তিনিই সব মানুষকে সব সময় নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। তিনিই সব বিষয়ের উপর সর্বশক্তিমান।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ হাদিসের উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। নিজেদের জীবনে কুরআনের বিধানের হেফাজত ও তা বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

মুহাম্মাদ (সা.)-এর বিশেষ স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য

মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আল্লাহ তাআলা অন্য সব নবি-রাসুল আলাইহিমুস সালাম থেকে তাঁকে বিশেষ ২ স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য দান করেছেন। যা আর কোনো নবি-রাসুলকে দেওয়া হয়নি। কী সেই বিশেষ ২ স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য?

আল্লাহ তাআলা কোরআনুল কারিমে তাঁর দুইটি বিশেষ স্বাতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেছেন। যা অন্য কোনো নবি-রাসুলকে দেওয়া হয়নি। তাহলো- তিনি ‘খাতামুন নাবিয়্যিন’। আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমেই ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে নবুয়ত ও রেসালাতের ধারাকে সমাপ্ত করেছেন। কোরআনুল কারিমে মহান আল্লাহ তাআলা তা এভাবে তুলে ধরেছেন-

১. খাতামুন নাবিয়্যিন

مَا کَانَ مُحَمَّدٌ اَبَاۤ اَحَدٍ مِّنۡ رِّجَالِکُمۡ وَ لٰکِنۡ رَّسُوۡلَ اللّٰهِ وَ خَاتَمَ النَّبِیّٖنَ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ بِکُلِّ شَیۡءٍ عَلِیۡمًا

‘মুহাম্মাদ (সা.) তোমাদের কোনো পুরুষের বাবা নয়; বরং তিনি আল্লাহর রাসুল ও সর্বশেষ নবি। আর আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৪০)

২. রাহমাতুললিল আলামিন

 وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا رَحۡمَۃً لِّلۡعٰلَمِیۡنَ

‘আর আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ১০৭)

শুধু এ দুইটি বিশেষ গুণ বা বৈশিষ্ট্যেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং আল্লাহ তাআলা তাকে বিশ্বমানবতার জন্য সর্বশেষ সতর্ককারী ভয়প্রদশণকারী ও সুসংবাদদাতা হিসেবে পৃথিবীতে পাঠিয়েছিলেন। সে কথাও ওঠে এসেছে কোরআনে-

وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنٰکَ اِلَّا کَآفَّۃً لِّلنَّاسِ بَشِیۡرًا وَّ نَذِیۡرًا وَّ لٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ

‘আর আমি তো কেবল আপনাকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছিকিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না।’ (সুরা সাবা : আয়াত ২৮)

এ ঘোষণার সত্যয়নসহ তাঁর রেসালাতের শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টিও মহান আল্লাহ তাআলা অন্য আয়াতে ঘোষণা করেছেন এভাবে-

১. قُلۡ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اِنِّیۡ رَسُوۡلُ اللّٰهِ اِلَیۡکُمۡ جَمِیۡعَۨا الَّذِیۡ لَهٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ۚ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ یُحۡیٖ وَ یُمِیۡتُ ۪ فَاٰمِنُوۡا بِاللّٰهِ وَ رَسُوۡلِهِ النَّبِیِّ الۡاُمِّیِّ الَّذِیۡ یُؤۡمِنُ بِاللّٰهِ وَ کَلِمٰتِهٖ وَ اتَّبِعُوۡهُ لَعَلَّکُمۡ تَهۡتَدُوۡنَ

‘(হে রাসুল! আপনি) বলে দিন, ‘হে মানুষ! আমি তোমাদের সবার প্রতি সেই আল্লাহর (প্রেরিত) রাসুল, যার রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি জীবন দান করেন এবং মৃত্যু দেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর এবং তাঁর প্রেরিত উম্মি নবির প্রতি; যে আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি বিশ্বাস রাখে। আর তোমরা তার অনুসরণ কর, আশা করা যায়, তোমরা হেদায়াত পাবে।’ (সুরা আরাফ : আয়াত ১৫৮)

২. تَبٰرَکَ الَّذِیۡ نَزَّلَ الۡفُرۡقَانَ عَلٰی عَبۡدِهٖ لِیَکُوۡنَ لِلۡعٰلَمِیۡنَ نَذِیۡرَا

‘কত প্রাচুর্যময় তিনি (আল্লাহ); যিনি তাঁর দাসের (মুহাম্মাদ সা.) প্রতি ফুরকান (কোরআন) অবতীর্ণ করেছেন। যাতে সে বিশ্বজগতের জন্য সতর্ককারী হতে পারে।’ (সুরা ফুরকান : আয়াত ১)

আগের নবি-রাসুলদেরকে বিশেষ একটি জাতির কাছে পাঠানো হতো। কিন্তু হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে সব মানুষের নবি করে পাঠানো হয়েছে। এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাধিক হাদিসে ঘোষণা করেছেন-

১. ‘আমাকে সাদা-কালো সবার প্রতি নবি বানিয়ে পাঠানো হয়েছে।’ (মুসলিম)

২. অন্য এক হাদিসে এসেছে, ‘আমি লাল ও কালো সবার জন্য প্রেরিত হয়েছি।’ (মুসলিমঃ)

হাদিসে লাল ও কালো থেকে অনেকে জ্বিন ও মানুষ উদ্দেশ্য নিয়েছেনআবার অনেকে আরবি ও অনারবি উদ্দেশ্য নিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি সব জাতির নবি হিসেবেই দুনিয়াতে আগমন করেছেন।

৩. ‘আগের নবিকে বিশেষ একটি জাতির কাছে পাঠানো হতো। আর আমাকে সব মানুষের জন্য নবি হিসাবে পাঠানো হয়েছে।’ (বুখারি, মুসলিম)

৪. কোরআনের দাওয়াত এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রেসালাত কোনো একটি দেশের জন্য নয় বরং সারা দুনিয়ার জন্য এবং কেবল তাঁর যুগের জন্য নয় বরং (আগামী) ভবিষ্যতের সব যুগের জন্য। তাইতো তিনি বলেছেন-

‘আমাকে সমস্ত সৃষ্টির কাছে পাঠানো হয়েছে এবং আমার আগমনে নবিদের আগমনের ধারাবাহিকতা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’ (মুসলিম)

এ দুই বিশেষ স্বাতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণেই হজরত মুহাম্মাদু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন আছেন এবং থাকবেন সবার চেয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনিই বিশ্ববাসীর জন্য রহমত এবং তিনি সর্বশেষ নবি ও রাসুল।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে খাতামুন নাবিয়িন ও রাহমাতুললিল আলামিন হজরত মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শকে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

ইসলাম

জুমার নামাজ কি ফরজ?

ইয়াওমুল জুমআ তথা শুক্রবার জোহরের সময় যে নামাজ পড়া হয় তাই জুমার নামাজ। সবার জানা আছে যে, জোহরের নামাজ ৪ রাকাত কিন্তু জুমা পড়া হয় ২ রাকাত। তাহলে জুমার নামাজ কি ফরজ? এ সম্পর্কে হাদিসের দিকনির্দেশনা কী?

হ্যাঁ, জুমার দিন জোহরের সময় ২ রাকাত নামাজ পড়া ফরজ। এটি মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের বিশেষ দিনের ফরজ ইবাদত। এ নামাজ পড়তে দ্রুত আসার নির্দেশ দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ। কোরআনে এসেছে-

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰهِ وَ ذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ

‘হে মুমিনগণ! যখন জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। আর বেচা-কেনা বন্ধ কর। এটাই তোমাদের জন্য সর্বোত্তম, যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমআ : আয়াত ৯)

কোরআনের এ নির্দেশনা এবং হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী জুমার নামাজ ফরজ। হাদিসে পাকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেছেন-

হজরত জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, ‘হে মানবমন্ডলী! তোমরা মরে যাওয়ার আগেই আল্লাহর কাছে তওবা করো এবং কর্মব্যস্ত হয়ে পড়ার আগেই সৎ কাজের দিকে দ্রুত ধাবিত হও। তাঁর অধিক জিকিরের মাধ্যমে তোমাদের রবের সঙ্গে তোমাদের সম্পর্ক স্থাপন করো এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে অধিক পরিমাণে দান-খয়রাত করো, এজন্য তোমাদের রিজিক বাড়িয়ে দেওয়া হবে, সাহায্য করা হবে এবং তোমাদের অবস্থার সংশোধন করা হবে।

তোমরা জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার এই স্থানে আমার এই দিনে, আমার এই মাসে এবং আমার এই বছরে তোমাদের উপর কেয়ামতের দিন পর্যন্ত জুমার নামাজ ফরজ করেছেন। অতএব যে ব্যক্তি আমার জীবদ্দশায় বা আমার ইন্তেকালের পরে, ন্যায়পরায়ণ অথবা জালেম শাসক থাকা সত্ত্বেও জুমার নামাজকে তুচ্ছ মনে করে বা অস্বীকার করে তা বর্জন করবে, আল্লাহ তার বিক্ষিপ্ত বিষয়কে একত্রে গুছিয়ে দেবেন না এবং তার কাজে বরকত দান করবেন না।

সাবধান! তার নামাজ, যাকাত, হজ, রোজা এবং অন্য কোনো নেক আমল গ্রহণ করা হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে। যে ব্যক্তি তওবা করে, আল্লাহ তাআলা তার তওবা কবুল করেন। সাবধান! নারী পুরুষের, বেদুইন মুহাজিরের এবং পাপাচারী মুমিন ব্যক্তির ইমামতি করবে না। তবে স্বৈরাচারী শাসক তাকে বাধ্য করলে এবং তার তরবারি ও চাবুকের ভয় থাকলে স্বতন্ত্র কথা।’ (ইবনে মাজাহ)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা থেকে মদিনায় আসার আগেই এ দিন জুমার নামাজ পড়া হতো। হজরত আবু উমামাহ আসআদ ইবনু যুরারাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর নেতৃত্বে বনু বাইয়াদার প্রস্তরময় সমতল ভূমিতে অবস্থিত ‘নাকিউল খাযামাত’-এ জুমার নামাজ পড়া শুরু হয়। ৪০ জন মুসল্লিসহ মদিনায় সর্ব প্রথম জুমার নামাজ পড়া হয়। সে সময় থেকে শুরু করে আজও তা অব্যাহত আছে। এ প্রসঙ্গে অন্য হাদিসে এসেছে-

হজরত আবদুর রহমান ইবনু কাব ইবনু মালিক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেন, আমার বাবা অন্ধ হয়ে গেলে আমি ছিলাম তার পরিচালক। আমি তাকে নিয়ে যখন জুমার নামাজ আদায় করতে বের হতাম; তিনি আজান শুনলেই আবু উমামাহ আসআদ ইবনু যুরারাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন এবং দোয়া করতেন। আমি তাকে ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করতে শুনে কিছুক্ষণ থামলাম, এরপর মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! কি বোকামী! তিনি জুমার আজান শুনলেই আমি তাকে আবু উমামাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়া করতে শুনি, অথচ আমি তাকে এ ক্ষমা প্রার্থনা ও দোয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করিনি? আমি তাকে নিয়ে (প্রতি জুমায়) যেমন বের হতাম, তদ্রূপ একদিন তাকে নিয়ে জুমার উদ্দেশে বের হলাম।

তিনি যখন আজান শুনলেন তখন তার অভ্যাস মাফিক ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, হে বাবা! জুমার আজান শুনলেই আমি কি আপনাকে দেখি না যে, আপনি আসআদ ইবনু যুরারাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তা কেন? তিনি বলেন, প্রিয় বৎস! রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মক্কা থেকে (মদিনায়) আসার আগে তিনিই সর্বপ্রথম বনু বাইয়াদার প্রস্তরময় সমতল ভূমিতে অবস্থিত ‘নাকিউল খাযামাত’-এ আমাদের নিয়ে জুমার নামাজ পড়েন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা তখন কতজন ছিলেন? তিনি বলেন, চল্লিশজন পুরুষ।’ (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)

সুতরাং জুমার দিন জোহরের সময় ২ রাকাত জুমার নামাজ পড়া ফরজ। মুসলিম উম্মাহ এদিন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক জুমার ফরজ নামাজ পড়তে দ্রুত মসজিদে ধাবিত হয়। ইসলামের দিকনির্দেশনাও এটি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জুমার দিন আজান হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত জুমা আদায়ে মসজিদে যাওয়ার তাওফিক দান করুন। জুমার ফরজ নামাজ যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সম্পূর্ণ খবরটি পড়ুন

শীর্ষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। দা এগ্রো নিউজ, ফিশ এক্সপার্ট লিমিটেডের দ্বারা পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান। ৫১/এ/৩ পশ্চিম রাজাবাজার, পান্থাপথ, ঢাকা -১২০৫
ফোন: ০১৭১২-৭৪২২১৭
ইমেইল: info@theagronews.com, theagronewsbd@gmail.com